অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/08/15-aug-pic.html

১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল - ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবি

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এটি বাংলাদেশ ও পৃথিবীর ইতিহাসের জন্য সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাকান্ড। এটি বাংলাদেশের জন্য আরও একটি কালো রাত। এই রাতে ঘাতকদের মূল উদ্দেশ্যি ছিল বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকলকে হত্যা করা। আজকের এই পোস্টে ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল ও ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবি নিয়ে আলোচনা করা হল।
চলুন আর দেরি না করে ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল - ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

পেজ সূচিপত্রঃ ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল - ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবি

১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল?

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশে জন্য আরও একটি কাল রাত। এই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও তার পরিবার সহ মোট ২৬ জনকে হত্যা করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ২ কন্যা শেখ রেহানা ও শেখ হাসিনা জার্মানিতে থাকার কারণে তারা দুইজন বেঁচে যান।

১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস নিয়ে আরো পোস্ট


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার অর্ধাঙ্গী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তার পুত্র শেখ কামাল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের কর্নেল জামিল, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক সহ বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি। 
এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় ঘাতককারীরা হামলা করে এবং সেখানে আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার কন্যা বেবী, নাতি সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত ও তাদের একজন নিকটস্থ আত্নীয় বেন্টু খানকে হত্যা করে ঘাতকবাহীনি।

১৫ আগস্ট নিহতদের ছবি | ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল

১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল? তাদের ছবি নিচে দেওয়া হল। ১৫ আগস্ট যাদের হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে কিছু জনের ছবি নিচে দেওয়া হল-
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব
শেখ কামাল
সুলতানা কামাল
শেখ জামাল
রোজী জামাল
শেখ রাসেল

১৫ আগস্টের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন | ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে যখন বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর আলাউদ্দিন আহমেদ এসিছিলেন ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়িতে। তিনি ইংরেজীতে তার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছিলেন। নিচে তা বাংলায় বলা হল-
১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট রাত ৩ টায় মেজর আলাউদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িতে এসেছিল। সেখানে এসে তিনি দেখেন স্টেশন কমান্ডার আগেই সেখানে পৌছে গেছেন। দেখেন সেখানে মেজর বজলুল হুদা ও তার সকল লোকজন বাড়িটি পাহারা দিচ্ছেন। মেজর বজলুল হুদা প্রথমে মেজর আলাউদ্দিন আহমেদকে বাড়িটিতে ঢুকতে বাঁধা দিচ্ছিলেন কিন্তু পরে ঢুকার অনুমতি দেন।

মেজর আলাউদ্দিন আহমেদ ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়িতে গিয়ে দেখেন সব গুলো লাশকে নিচে আনা হয়েছে এবং কাঠের কফিনে রাখা হয়। লাশগুলোতে বরফ দেওয়া হচ্ছিল। রক্ত, মগজ, হাড়ের গুড়া সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ঘরের মেঝে, জানালার কাচ, দেয়াল ও বাড়ির ছাদ। দেখেই বুঝা যাচ্ছিল সকলকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। গুলি করার ফলে বাড়ির দেয়ালগুলো ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল, ভেঙ্গে গিয়েছিল বাড়ির জানালার কিছু কাচ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বাড়ির সকল জিনিসপত্র এমনকি পবিত্র কোরআন শরীফও মেঝেতে পড়ে ছিল।

শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় যে ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের লাশগুলো কোথায় কোথায় পাওয়া গিয়েছিল তা নিম্নরূপ-
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছিল প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে যে সমতল ভূমি আছে তার ৩-৪ ধাপ উপরে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর চশমার ভাঙ্গা কাঁচ ও তামাকের পাইপ সিঁড়িতে পরে ছিল।
  • শেখ কামাল - শেখ কামালকে অভ্যর্থনাকক্ষে পাওয়া যায়। শেখ কামালকেও বুকে ও তলপেটে বুলেট মেরে ঝাঁঝরা করা হয়।
  • টেলিফোন অপারেটর - টেলিফোন অপারেটরকে নিচের রুমে খুন করা হয় এবং তার লাশ সেখানেই পাওয়া যায়।
  • শেখ নাসের - শেখ নাসেরকে নিচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে পাওয়া যায়। গুলিতে তার পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে ছিল এবং তার একটি হাত উড়ে গিয়েছিল।
  • বেগম ফজিলাতুন্নেসা  - বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবকে মূল বেডরুমের সামনে পাওয়া যায়। সেদিন তিনি একটি সুতি শাড়ি ও কালো ব্লাউজ পড়ে ছিলেন। তার মুখে গুলি করা হয়। তিনি একটি সোনার হাড় পরেছিলেন। তার হাতে ছিল একটি ছোট সোনার আংটি।
  • সুলতানা কামাল - সুলতানা কামালকে মূল বেডরুমে পাওয়া যায়। তাকে বুকে ও তলপেটে গুলি করা হয়।
  • শেখ জামাল - শেখ জামালকে মূল বেডরুমে পাওয়া যায়। তার মাথা চিবুকের নিচ থেকে উড়ে গেছিল। তার হাতে একটি মুক্তার আংটি ছিল। সম্ভবত এটি বিয়ের আংটি ছিল। 
  • রোজী জামাল - রোজী জামালকে মূল বেডরুমে পাওয়া যায়। তার মাথা, বুক ও তলপেটে গুলি করা হয়েছিল। তার মাথার একাংশ উড়ে গেছিল। 
  • শিশু রাসেল - শিশু শেখ রাসেলকে মূল বেডরুমে, তার দুই ভাবির মাঝখানে পাওয়া যায়। তার পা সম্ভবত আগুনে পুড়ে গেছিল ও মাথা উড়ে গেছিল।

শেষ কথাঃ ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল - ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবি

বন্ধুরা, আজ আমরা ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল - ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবি নিয়ে একটি পোস্ট লিখেছি। আমাদের এই পোস্টে ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল - ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশাকরি, আমাদের এই ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল - ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবি পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং আপনারা উপকৃত হবেন। ১৫ আগস্ট কতজন মারা গিয়েছিল এই ধরনের আরও সুন্দর সুন্দর পোস্ট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন, ধন্যবাদ।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?