অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/03/sadinota.html

স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা - স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য

আপনি কি স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য। আজ আমরা আলোচনা করব স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে।

তাহলে চলুন জেনে নেই স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা কি ছিল।

আরও পড়ুনঃ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা প্রেরণ করেন কে?

পেজ সূচিপত্রঃ স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য - স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা

স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য

নিচে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য দেওয়া হলঃ

প্রত্যেকটি জাতির কাছে স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগের বিষয়। এমনি এমনি প্রত্যেকটি দেশের স্বাধীনতা আসে নি। কোন না কোন জাতির কাছ থেকে প্রত্যেকটি জাতিকে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়েছে। অনেক রক্ত, নিপীড়ন এবং শাসনের ইতিহাস অর্জিত আছে সেই স্বাধীনতার পেছনে। সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা। কারণ বাঙালিরা দুইটি উপনিবেশের কাছ থেকে তুই বাকস্বাধীনতা অর্জন করেছিল।

ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ থেকে চলে যায়। এই উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর  থেকে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এই উপমহাদেশ। ব্রিটিশরা জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে দুটি আলাদা ভূখণ্ডের জন্ম দিয়ে গেছে উপমহাদেশকে হিন্দু এবং মুসলিম বসবাস করার জন্য। যার একটি পাকিস্তান ও অন্যটি হিন্দুস্তান বা বর্তমান ভারত। কিন্তু দুটি অংশে বিভক্ত করে দেওয়া হয় পাকিস্তানকে। যার একটি পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমান বাংলাদেশে নামে ও অপরটি পশ্চিম পাকিস্তান যা বর্তমানে পাকিস্তান নামে পরিচিত।

এই দুইটি আলাদা প্রদেশের মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটার ব্যবধান ছিল পাকিস্তানের। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সেই সময়েও অর্জিত হয়নি যখন পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে । পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাংলাদেশকে উপনিবেশিক রাষ্ট্রে পরিণত করে যার কারণ পাকিস্তানের শাসনযন্ত্র পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাতে ছিল। তারা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের মানুষের উপর শোষণ-নিপীড়ন করে। তারা সর্বপ্রথম আঘাত হানে বাংলাদেশের ভাষা সংস্কৃতি ইত্যাদির উপর। এর ফলস্বরূপ ভাষা আন্দোলন শুরু হয় ১৯৫২ সালে। এরপর ৬ দফা আন্দোলন ১৯৬৬ সালে, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, এবং ৭০ এর নির্বাচন শুরু হয়। আমাদের ইতিহাসের সাথে যার সবকিছুই জড়িত।

পাকিস্তান প্রদেশ ১৯৭০ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা না দিয়ে পাকিস্তানের শাসক বাহিনী বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। তারা বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ জারি করে আন্দোলনকে স্তিমিত করার জন্য এছাড়াও এদেশের মানুষকে গণহারে হত্যা শুরু করে। এর ফলে  7 ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণে ফুলে-ফেঁপে ওঠে তৎকালীন ৭ কোটি মানুষ এবং জীবন দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য।

আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতা দিবস রচনা প্রতিযোগিতা ২০২২

পাকিস্তানি বাহিনী এদেশের নিরীহ মানুষের উপর এক নৃশংস গণহত্যা চালায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ওই দিনে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধ প্রায় নয় মাস চলমান থাকে। এদেশের ৩০ লক্ষ মানুষ যুদ্ধে শহীদ হন এবং  স্বাধীনতা অর্জিত হয় আরও ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে। বাংলার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল সেদিন। সেদিন স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি বাঙালি হাতের মুঠোয় নিজের জীবনকে  নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অবশেষে ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলার স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য উদিত হয়।

এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস রচিত হয়েছিল যা বাংলাদেশের এই স্বাধীনতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই দেখা যায়। সেদিন এদেশের জ্ঞানীগুণী বুদ্ধিজীবীরা ও মুক্তিবাহিনীরা রাজাকার, আলশামস, ও আলবদর বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয়েছিল। তারা বাড়ি থেকে বাংলার জ্ঞানীগুণী এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্বিচারে গুলি করে মেরে ফেলতো। তাই বাংলার মানুষ এই রক্ত ক্ষয় সংগ্রামের কথা সারাজীবন মনে রাখবে । তাই কবি ভাষায় বলতে গেলে।

"যতদিন রবে পদ্মা ,মেঘনা, যমুনা, গৌরি বহমান

ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান"

আরেকটি কথা সবার প্রথমে বলা উচিত যা স্বাধীনতার তাৎপর্য কে ধরে রাখে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা স্বাধীনতার মহানায়কের আত্মত্যাগের কথা। এই মানুষটি দেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য, এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছে। ১৯৭১ সালে এই মানুষটি এইদেশের স্বাধীনতা রক্তিম সূর্য ছিনিয়ে আনে তার মহান নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে।

আমরা এই স্বাধীনতা পেয়েছি বহুৎ ত্যাগ এবং সংগ্রামের বিনিময়ে। আমরা কতটুকু স্বাধীনতার স্বাদ লাভ করতে পারছি স্বাধীনতার এই ৫২ বছরে? আমরা এখনো পিছিয়ে আছি অনেক ক্ষেত্রে। আমাদের উন্নতি করতে হবে এইসব ক্ষেত্রে। একত্রিত হয়ে দেশ এবং জাতি গঠনে এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণকে। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন স্বপ্ন দেখে গেছেন এদেশের মানুষ কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না ও কেউ অনাহারে, অন্ধকারে থাকবে না। এদেশের মানুষ কখনো বেকার থাকবে না। একটি সোনার বাংলায় বঙ্গবন্ধুর এদেশকে পরিণত করতে এগিয়ে আসুন। জয় বাংলা, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। এটাই ছিল স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য।

স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা | স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য

আমাদের জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। পরাশক্তির কাছে মাথা নত না করে কিছু ছিনিয়ে নেওয়াই হচ্ছে স্বাধীনতা। একটি বিদ্রোহ, বিপ্লব ও সংগ্রামের নাম ১৯৭১। নিজের দেশের সম্মান রক্ষা করার রাজপথ কাপানো মিছিল, স্লোগান, আন্দোলন ও মায়ের ভাষায় কথা হল ‘স্বাধীনতা দিবস’।

বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা এই দিনে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর কবল থেকে তাদের বুকের তাজা রক্তে পিচ ঢালা রাজপথে সিক্ত করে মায়ের সম্মান ও দেশের মানুষের অধিকার আদায় করেছে। এদেশের জাতীয় জীবনে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ একটি স্মরণীয় ও কালরাত। বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৭১ সালের মার্চ মাসকে কেন্দ্র করে এবং এদেশ ও জাতি শোষণ ও পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত হয়।

সম্মানিত সুধিবৃন্দ, 

বিভিন্ন কারণে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বাংলা নামক এই দেশটি। ভাষার জন্য সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বিপ্লব প্রথম এবং অন্যতম কারণ যা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে সংঘটিত হয়নি। প্রত্যেক জাতিই স্বাধীনভাবে কথা বলে এবং মনের ভাব প্রকাশ করে জন্মগত ভাবেই তাদের প্রাপ্ত ভাষায় যেটা ইতিহাস বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়।

ভাষার স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার যদি ভৌগলিক স্বাধীনতা নাও থাকে কিন্তু বিশ্ববাসী বিষ্ময়বিভুতচিত্তে তা অবলোকন করেছে। মায়ের ভাষায় কথা বলা আমাদের জন্মগত অধিকার। মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলার ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, কৃষক, মজুর, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের লোক সহ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ অসংখ্য তাজা প্রাণ তাদের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছে। বাংলা মায়ের বুক রক্তের বন্যায় সিক্ত হয়েছে।

ভারত বর্ষ ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হয় ১৯৪৭ সালে এবং পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান নামে দুটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদ্বয় ঘটে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে ছিল দুই পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থা। তারা বৈষম্য নীতি, শাসন ও শোষণ শুরু করে পূর্ব পাকিস্তানের উপর।

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জনসভায় পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে ঘোষণা দেন এবং কার্জন হলের অনুষ্ঠানেও ২৪ মার্চ তিনি  এ ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকার এক জনসভায়  উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে, সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

“ তমদ্দুন মজলিস” ও “ ভাষা সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয়। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলার আকাশ বাতাস সর্বস্তরের বাঙালির অংশগ্রহণে মিছিল, মিটিং স্লোগানে মুখরিত হয় এবং তা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা অর্জিত হয় অনেক রক্ত, অনেক প্রাণের বিনিময়ে। বাংলা কে শেষ পর্যন্ত শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।

এখানেই ইতিহাস শেষ হয়নি। বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের প্রচেষ্টা  শুরু হয় একুশকে কেন্দ্র করেই। একুশকে কেন্দ্র করেই ৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন, ৬২ সালের ছাত্র অভ্যুত্থান, ৬৬ সালের ৬ দফা ভিত্তিক আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭০- এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালির অভাবনীয় সফলতা অর্জন হয়েছে। মূলত বাঙালি সংগঠিত হয়েছে আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার আদায়ের কৌশল রপ্ত করেছে একুশকে কেন্দ্র করে। যার ফলে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে।

আরও পড়ুনঃ বঙ্গবন্ধু কখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন

শেষ কথাঃ স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য - স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা

বন্ধুরা আজ আমরা স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের এই স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে লিখা পোস্টটিতে সকল তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আমাদের এই স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে লিখা পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।

আপনার জন্য এই ধরণের আরো কিছু পোস্ট

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?