অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/03/sadhinotar.html

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে? কে প্রথম প্রচার করেন?

আপনি কি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে ও কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন তা জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য। আজ আমরা আলোচনা করব বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে ও কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন তা নিয়ে।

চলুন আর দেরি না করে জেনে নেই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে ও কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন।

আরও পড়ুনঃ ২৫ মার্চ গনহত্যা দিবস রচনা

পেজ সূচিপত্রঃ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে - কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে থেকে ২৭শে মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান পাঠ করেন।

কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন | বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে

আওয়ামী লীগের নেতা এম এ হান্নান ২৬ মার্চ ১৯৭১ সন্ধ্যে ৭.৪০মিনিট, এবং তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেজর ও পরবর্তিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে প্রথমে নিজে এবং পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

বঙ্গবন্ধুর 3স্বাধীনতার ঘোষণাটি কি ছিল? | বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে

পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর কাছে এরেস্ট হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষনা দেয়। তাই বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়। 

সারা বিশ্বের মানুষকে জানাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনাটি ইংরেজিতে দিয়েছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতার ঘোষণাটির বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনাটি ছিল নিম্নরূপ - 

ইংরেজিঃ "Maybe this is my last message. Bangladesh is independent from today. I urge the people of Bangladesh to be ready wherever they are, whatever they have and to resist the Pakistani aggressors with all their might. Continue fighting until the last Pakistani troops are expelled from the land of Bengal and the final victory of this Bengal is achieved".

বাংলা অনুবাদঃ "হয়ত এটাই আমার শেষ বার্তা। বাংলাদেশ আজ থেকে স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগনকে আমি আহব্বান দিচ্ছি যে, যেখানে যে আছে, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হও এবং পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ কর। এই বাংলার মাটি থেকে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর সর্বশেষ সৈন্যটিকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং লড়ায় চালিয়ে যাও সেই পর্যন্ত যতক্ষন পর্যন্ত এই বাংলার চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হয়"

আরও পড়ুনঃ ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা স্ট্যাটাস বাংলাদেশ

তারপর পরই আরও একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল যেটা ছিল- 

ইংরেজিঃ «Bangladesh today is a sovereign and independent state. The West Pakistani armed forces on Thursday night launched a surprise attack on the EPR headquarters and Rajarbagh in Dhaka's Peelkhana. Many innocent and unarmed people have been killed in Dhaka city and other parts of Bangladesh. Violent clashes between police and East Pakistan Rifles on the one hand and armed forces and Pindi on the other. The Bengalis are fighting for an independent Bangladesh with great courage against the enemy. Resist treacherous enemies from every corner of Bangladesh. May Allah Almighty help us in our fight for freedom. "Joy Bangla".

বাংলা অনুবাদঃ «বাংলাদেশ আজ একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র। পশ্চিম পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে ইপিআর সদর দপ্তরে এবং ঢাকার পিলখানার রাজারবাগে হামলা চালায়। অনেক নিরপরাধ ও নিরস্ত্র মানুষ ঢাকা শহর এবং বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানে নিহত হয়েছে। একদিকে পুলিশের এবং পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ এবং অন্যদিকেথেকে সশস্ত্র বাহিনীর ও  পিন্ডির  মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ চলছে।  অত্যন্ত সাহসের সাথে শত্রুর সাথে বাঙালিরা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লড়াই করছে। বিশ্বাসঘাতক শত্রুদের বাংলাদেশের প্রতিটি কোণা থেকে প্রতিরোধ করুন। মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা স্বাধীনতার জন্য আমাদের লড়াইয়ে সাহায্য করুন। "জয় বাংলা"»

দুটি ঘোষণায় প্রচার করা হয়েছিল বাংলায় অনুবাদ করে যার কারণে প্রাপ্ত ঘোষণাগুলোর বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে কিছুটা শাব্দিক তারতম্য দেখা দেয়। পূর্বপ্রস্তুতকৃত এই ঘোষণাগুলো এবং টেপ করে রাখা হয়েছিল অনেক আগেই বলে ধারণা করা হয়।

স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন কে | বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার স্বপ্ন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নানা অত্যাচার নিপীড়নে বাঙালির হৃদয়ে দানা বাধতে থাকে। তাই মুক্তিকামী বাঙালি মার্চ থেকেই ফুঁসে ওঠে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া পার্লামেন্টারি পার্টিগুলোর নেতাদের সঙ্গে ৩ মার্চ ঢাকায় এক গোলটেবিল বৈঠক আহবান করেন। কিন্তু সে প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিকালে পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল ছাত্র জনসভা যার সভাপতিত্ব করেছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী। এ সভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার বঙ্গবন্ধুর সামনে পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ। আর এই ইশতেহারে বলা হয়েছে- সাত কোটি মানুষের জন্য ৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গ মাইল বিস্তৃত ভৌগোলিক আবাসভূমির নাম হবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম বাংলাদেশ।

নিম্নলিখিত তিনটি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে আমাদের এই দেশ গঠনেঃ 

  1. পৃথিবীর বুকে একটি বলিষ্ঠ বাঙালি জাতি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে সৃষ্টি ও বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি বিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। 
  2. বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করে অঞ্চলে অঞ্চলে, ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বৈষম্য নিরসনকল্পে কৃষক শ্রমিক রাজনীতি কায়েম করতে হবে। 
  3. ব্যক্তি, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ নির্ভেজাল গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে।

এছাড়া কর্মপন্থা ঘোষণা করা হয় বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলন পরিচালনা করার জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একই সঙ্গে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয় ওই সভায়। ওই সভায় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলনের এ পর্যায়ে নিম্নলিখিত জয়ধ্বনি ব্যবহৃত হবে বলে উল্লেখ করা হয় - ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, দীর্ঘজীবী হউক’; ‘স্বাধীন কর স্বাধীন কর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’; ‘স্বাধীন বাংলার মহান নেতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’; ‘গ্রামে গ্রামে দুর্গ গড়, মুক্তিবাহিনী গঠন কর’; ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ ; ‘মুক্তি যদি পেতে চাও, বাঙালিরা এক হও’।

এই ইশতেহারটি ঘোষণার পর প্রচন্ড করতালির মধ্যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পল্টন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ও প্রস্তাব গৃহীত হয়। ছাত্রলীগের তৎকালীন দফতর সম্পাদক এম এ রশীদ প্রস্তাবটি লিখেছিলেন।

৭ মার্চে রেসকোর্সের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সেই ঐতিহাসিক জনসভার ঘোষণা আসে ৩ মার্চের ওই জনসভাতেই। বাঙালি জাতির মহান পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেখান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তবে অবস্থা আয়ত্বে আনার জন্য ওইদিনই সান্ধ্য আইন জারি করে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই জনতার বিক্ষোভ ও মিছিল অব্যাহত থাকে।

আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ৫০ বছর রচনা

শেষ কথাঃ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে - কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন

বন্ধুরা আজ আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে ও কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের এই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে ও কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন পোস্টটিতে স্বাধীনতার সকল তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করে হয়েছে। আশা করি আমাদের এই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন কে ও কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন পোস্টটি আপনার ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।

আপনার জন্য এই ধরণের আরো কিছু পোস্ট

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?