সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
কোন পিএইচ মান কোন ফসলের জন্য ভালো, কখন পরীক্ষা করবেন এবং কী ভুল এড়িয়ে
চলবেন-সবই ধাপে ধাপে জানতে পারবেন। কৃষক, বাগানপ্রেমী বা নতুন চাষি-যেই হোন না
কেন, এই তথ্য আপনার সময়, পরিশ্রম ও খরচ বাঁচাতে সাহায্য করবে। মাটি বুঝে সঠিক
সিদ্ধান্ত নিন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
- সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
- মাটির পিএইচ লেভেল কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
- মাটির পিএইচ পরীক্ষা করার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে
- সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির নমুনা সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি
- ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল কীভাবে পরীক্ষা করা হয়
- মাটির পিএইচ রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন
- পিএইচ লেভেল কম বা বেশি হলে কী সমস্যা হতে পারে
- মাটির পিএইচ ঠিক রাখতে কার্যকর করণীয়
- টেস্টিং ল্যাবে সয়েল টেস্টিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
মাটির পিএইচ মাপা নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই একটা কথা মনে পড়ে-"মাটি মানেই
সোনা, কিন্তু সোনার দাম পাওয়া যায় ঠিকমতো পরিচর্যা করলেই।" আর সেই পরিচর্যার
প্রথম ধাপ হলো জানা, আপনার মাটির পিএইচ কত। সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ
লেভেল মাপার নিয়ম-এই বিষয়টা শুনতে কঠিন লাগলেও আসলে খুবই সোজা। আজ আমি আপনাকে
গল্পের মতো করে বলব, কীভাবে একটা ল্যাবে মাটির পিএইচ মাপা হয়, আর কেন এটা এত
গুরুত্বপূর্ণ।
- মাটির পিএইচ মানে হলো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের পরিমাণ। যদি পিএইচ ৭-এর নিচে হয়, মাটি অম্লীয়। ৭-এর উপরে হলে ক্ষারীয়। কৃষকের জন্য এই সংখ্যাটা জানা মানে ফসলের ভবিষ্যৎ জানা। ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী, বেশিরভাগ আধুনিক ল্যাব এখন দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করে-একটা পানিতে মিশিয়ে, আরেকটা ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণে। দ্বিতীয়টা বেশি স্থিতিশীল ফল দেয়।
- ল্যাবে কাজ শুরু করার আগে মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে হয়। আপনি যেখান থেকে মাটি নেবেন, সেখানকার এক এক জায়গায় এক এক রকম মাটি থাকতে পারে। তাই ভালো ফল পেতে হলে একই জমির বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকটি নমুনা নিয়ে মিশিয়ে একটা 'কম্পোজিট স্যাম্পল' তৈরি করতে হবে। কমপক্ষে পাঁচটা জায়গা থেকে নমুনা নিন। মাটি শুকিয়ে, পাথর আর ঝোপঝাড় সরিয়ে, ২ মিমি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এই ছাঁকা মাটিই পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়।
- এবার আসি মাপার মূল কাজে। ল্যাব টেকনিশিয়ান প্রথমে ১৫ গ্রাম ছাঁকা মাটি একটা প্লাস্টিকের টিউবে নেয়। তারপর সেখানে ৩০ মিলি পরিষ্কার পানি ঢালে। মাটি আর পানির অনুপাতটা ১:২ হতে হবে। অনেক ল্যাব ১:১ অনুপাতও ব্যবহার করে। পানি দেওয়ার পর টিউবটা ঢেকে কয়েক সেকেন্ড ঝাঁকিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে। তারপর ঢাকনা খুলে কমপক্ষে ৩০ মিনিট রেখে দেয়, যাতে মাটি ঠিকমতো বসে যায় আর দ্রবণটা ঘরের তাপমাত্রায় আসে।
- ৩০ মিনিট পর টেকনিশিয়ান পিএইচ মিটারটি ক্যালিব্রেট করে। দুটি স্ট্যান্ডার্ড বাফার সলিউশন ব্যবহার করে-একটা পিএইচ ৭, আরেকটা পিএইচ ৪। মিটারটা ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা, তা এই দুটি বাফার দিয়ে যাচাই করা হয়। ক্যালিব্রেশন ঠিক না থাকলে পুরো পরীক্ষাটাই ভুল হতে পারে। তাই এই ধাপটা কখনোই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। প্রতি ১০-১২টি নমুনা পরীক্ষার পর আবার ক্যালিব্রেশন চেক করা হয়।
- ক্যালিব্রেশন শেষে ইলেক্ট্রোডটা মাটির দ্রবণে ডোবানো হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, ইলেক্ট্রোডটা মাটির তলায় ঠেলে দেওয়া যাবে না। দ্রবণের মধ্যে ধীরে ধীরে ঘোরাতে হবে, যাতে সঠিক রিডিং আসে। পিএইচ মিটারের পর্দায় যে সংখ্যা ভেসে ওঠে, সেটাই আপনার মাটির পিএইচ। দশমিকের পর দুই ঘর পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। দুটি আলাদা নমুনা থেকে দুটি রিডিং নেওয়া হয়, যাতে ফলটা নির্ভরযোগ্য হয়।
- অনেক ল্যাব এখন শুধু পানি ছাড়া আরেকটা পদ্ধতি ব্যবহার করে-০.০১ মোলার ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণ। এই পদ্ধতিতে পিএইচ রিডিং সবসময় একটু কম আসে, প্রায় ০.৬ থেকে ০.৭ ইউনিট। কিন্তু সুবিধা হলো, এই রিডিং বছরের পর বছর একই রকম থাকে। কারণ পানিতে মাপলে মাটির লবণের পরিমাণ বদলালে পিএইচও ওঠানামা করে। ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণ সেই সমস্যাটা দূর করে দেয়
- ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, USDA-র CEMA ২১৬ প্রোটোকল বলছে-ল্যাবগুলোকে দুটি পদ্ধতির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। প্রথম পছন্দ হলো ১:১ পানি দ্রবণে মাপা। বিকল্প হিসেবে ০.০১ মোলার CaCl₂ ব্যবহার করা যায়। দুটোই সঠিক, তবে কৃষকের পরামর্শ দেওয়ার সময় কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটা জানা জরুরি।
- মাটির পিএইচ মাপার সময় তাপমাত্রার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ইলেক্ট্রোড আর মিটার ঠিকমতো কাজ করতে হলে ঘরের তাপমাত্রায় পরীক্ষা করতে হয়। যদি মাটির দ্রবণটা ঠান্ডা থাকে, রিডিং ভুল আসতে পারে। তাই ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার সময়টা কখনো কমানো যাবে না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলেই সঠিক ফল পাওয়া যায়। এই নিয়মটা অনেক নতুন টেকনিশিয়ান ভুলে যায়।
- প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার পর ইলেক্ট্রোডটা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। মাটির কণা ইলেক্ট্রোডের গ্লাস টিপে লেগে থাকলে পরবর্তী রিডিং ভুল হতে পারে। কোনো কাগজ দিয়ে মুছবেন না, শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ঝেড়ে ফেলবেন। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই পার্থক্য গড়ে দেয় একজন ভালো টেকনিশিয়ান আর একজন গড়পড়তা টেকনিশিয়ানের মধ্যে।
একটা কথা না বললেই নয়। মাটির পিএইচ জানা মানে শুধু একটা সংখ্যা জানা নয়। এই
সংখ্যাটা বলে দেয় আপনার জমিতে কী ফসল হবে, কী সার দিতে হবে, কীভাবে মাটির
উর্বরতা বাড়বে। একটা ছোট ল্যাব টেস্ট আপনার পুরো বছরের কৃষিকাজের দিকনির্দেশনা
দিতে পারে। তাই মাটি পরীক্ষার খরচটাকে খরচ না ভেবে বিনিয়োগ ভাবুন। "জমি ভালো
থাকলে ফসল ভালো হয়"-এই কথাটা আজও ঠিক। আপনার জমির মাটি পরীক্ষা করাতে চাইলে
স্থানীয় কৃষি অফিসে যান। তারা জানাবে কোন ল্যাবে নমুনা পাঠাতে হবে। কিছু কিছু
জায়গায় মোবাইল সয়েল টেস্টিং ভ্যানও আসে। সেখানেই আপনার সামনে পরীক্ষা করে ফল
দেয়। সময় বাঁচে, আর আপনি নিজের চোখে দেখতে পান কীভাবে কাজটা হয়। এটা অনেক
কৃষকের জন্য বেশি আস্থার জায়গা।
মাটির পিএইচ লেভেল কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
মাটির পিএইচ লেভেল মানে হলো মাটিতে অ্যাসিড আর ক্ষারের ভারসাম্য। ০ থেকে ১৪
স্কেলে এটা মাপা হয়। ৭-এর নিচে অম্লীয়, ৭-এর উপরে ক্ষারীয়। আপনার মাটি কতটা
অম্লীয় বা ক্ষারীয়, তা জানা মানে জানা আপনার ফসলের ভবিষ্যৎ। কারণ প্রতিটি
গাছের একটা নির্দিষ্ট পিএইচ রেঞ্জ থাকে যেখানে সে ভালো জন্মায়। ধরুন টমেটো চাষ
করতে চান, তাহলে পিএইচ ৬ থেকে ৬.৮ লাগবে। যদি মাটি বেশি অম্লীয় হয়, গাছের
শিকড় খাবার শোষতে পারবে না। ফলে পাতা পোড়া, ফল ঝরে পড়া, ফলন কমে যাওয়া-এসব
সমস্যা দেখা দেবে। আবার বেশি ক্ষারীয় হলেই কিন্তু লোহা, জিংক, ম্যাঙ্গানিজের
মতো পুষ্টি উপাদান গাছের কাছে পৌঁছায় না। তাই মাটির পিএইচ জানা মানে হলো জমির
ভাষা বোঝা। আর সেই ভাষা বোঝার জন্যই ল্যাবের দরজায় টোকা দিতে হয়।
এবার চলুন দেখি, সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম কীভাবে কাজ
করে। প্রথমে মাটির নমুনা সংগ্রহ। একই জমির বিভিন্ন স্থান থেকে কমপক্ষে পাঁচটা
নমুনা নিয়ে মিশিয়ে একটা কম্পোজিট স্যাম্পল তৈরি করতে হবে। মাটি শুকিয়ে, পাথর
আর ঝোপঝাড় সরিয়ে, ২ মিমি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এই ছাঁকা মাটিই পরীক্ষার
জন্য ব্যবহার করা হয়। তারপর ল্যাব টেকনিশিয়ান ১৫ গ্রাম ছাঁকা মাটি একটা
প্লাস্টিকের টিউবে নেয় আর ৩০ মিলি পরিষ্কার পানি ঢালে। অনুপাতটা ১:২ হতে হবে।
পানি দেওয়ার পর টিউবটা ঢেকে কয়েক সেকেন্ড ঝাঁকিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে। তারপর
ঢাকনা খুলে কমপক্ষে ৩০ মিনিট রেখে দেয়, যাতে মাটি ঠিকমতো বসে যায় আর দ্রবণটা
ঘরের তাপমাত্রায় আসে।
৩০ মিনিট পর পিএইচ মিটার ক্যালিব্রেট করা হয় পিএইচ ৭ আর পিএইচ ৪ বাফার দিয়ে।
ক্যালিব্রেশন ঠিক না থাকলে পুরো পরীক্ষাটাই ভুল হতে পারে। তারপর ইলেক্ট্রোডটা
দ্রবণে ডোবানো হয়। মাটির তলায় ঠেলে দেওয়া যাবে না। ধীরে ধীরে ঘোরাতে হবে।
পিএইচ মিটারের পর্দায় যে সংখ্যা ভেসে ওঠে, সেটাই আপনার মাটির পিএইচ। দশমিকের পর
দুই ঘর পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। দুটি আলাদা নমুনা থেকে দুটি রিডিং নেওয়া হয়,
যাতে ফলটা নির্ভরযোগ্য হয়। অনেক ল্যাব এখন ০.০১ মোলার ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
দ্রবণেও মাপে। এই পদ্ধতিতে রিডিং একটু কম আসে, কিন্তু বছরের পর বছর একই রকম থাকে।
২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, USDA-র CEMA ২১৬ প্রোটোকল বলছে-ল্যাবগুলোকে দুটি
পদ্ধতির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।
প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার পর ইলেক্ট্রোড পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হয়। মাটির
কণা লেগে থাকলে পরবর্তী রিডিং ভুল হতে পারে। তাপমাত্রার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
ঘরের তাপমাত্রায় পরীক্ষা করতে হয়। ঠান্ডা দ্রবণে রিডিং ভুল আসতে পারে। শেষে
একটা কথা-মাটির পিএইচ জানা মানে শুধু একটা সংখ্যা জানা নয়। এই সংখ্যাটা বলে দেয়
আপনার জমিতে কী ফসল হবে, কী সার দিতে হবে। একটা ছোট ল্যাব টেস্ট আপনার পুরো বছরের
কৃষিকাজের দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তাই মাটি পরীক্ষার খরচটাকে খরচ না ভেবে
বিনিয়োগ ভাবুন। "জমি ভালো থাকলে ফসল ভালো হয়"-এই কথাটা আজও ঠিক।
মাটির পিএইচ পরীক্ষা করার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে
মাটির পিএইচ পরীক্ষা করার আগে কিছু প্রস্তুতি না নিলে ফলটা ভুল আসবে। আর ভুল ফল
মানে ভুল সিদ্ধান্ত। তাই আগে থেকে একটু সময় দিন, পরে লাভ হবে বহুগুণ। প্রথমে
জমির মানচিত্র মাথায় রাখুন। একই জমিতে উঁচু জায়গা আর নিচু জায়গার মাটি এক রকম
হয় না। তাই বিভিন্ন জোনে ভাগ করে নমুনা নিন। প্রতিটি জোন থেকে কমপক্ষে পাঁচটা
স্থানে মাটি তুলুন। মাটি তোলার সময় খাড়া করে ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি গভীরে যান। শুধু
উপরের মাটি নিলে হবে না, গাছের শিকড় যেখানে যায় সেই পর্যন্ত যেতে হবে। প্রতিটি
স্থান থেকে একই পরিমাণ মাটি নিন, যাতে কোনোটাই বেশি প্রভাব না ফেলে। নমুনা তোলার
পর সব মাটি একটা বালতিতে মিশিয়ে ফেলুন।
ভালো করে হাত দিয়ে মাখুন, যাতে সব মাটি একসাথে মিশে যায়। তারপর সেই মিশ্রণ থেকে
এক কেজির মতো মাটি বেছে নিন। এই এক কেজি মাটিই আপনার কম্পোজিট স্যাম্পল। বাকি
মাটি ফেলে দিন। কম্পোজিট স্যাম্পলটা একটা পরিষ্কার পলিথিন ব্যাগে ভরে মুখ ভালো
করে বাঁধুন। ব্যাগের উপর কাগজে লিখে রাখুন-কোন জমির মাটি, কবে নমুনা নিয়েছেন,
কোন ফসল চাষ করতে চান।
এই তথ্যগুলো ল্যাব টেকনিশিয়ানকে সঠিক পরামর্শ দিতে সাহায্য করে। মাটি পরীক্ষার
আগে শুকানোর দরকার নেই। তাজা মাটিই ভালো। কিন্তু যদি ভেজা থাকে, একটু হাওয়ায়
শুকিয়ে নিন। রোদে শুকাবেন না, তাহলে মাটির রাসায়নিক বদলে যেতে পারে। ছাঁকনি
দিয়ে ছেঁকে নিন, যাতে পাথর, ঝোপঝাড় আর বড় কণা বের হয়ে যায়। শুধু মিহি মাটিই
ল্যাবে পাঠান।
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির নমুনা সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি
মাটির নমুনা সংগ্রহ মানে হলো জমির রক্ত পরীক্ষা করা। ভুল নমুনা মানে ভুল রিপোর্ট,
আর ভুল রিপোর্ট মানে ফসলের ক্ষতি। তাই প্রথম থেকেই ঠিকমতো করতে হবে। প্রথমে
জমিটাকে ছোট ছোট জোনে ভাগ করুন। একই জমিতে উঁচু জায়গা, নিচু জায়গা, আর
ছায়া-রোদের জায়গা এক রকম হয় না। প্রতিটি জোন আলাদা করে পরীক্ষা করতে হবে।
প্রতি জোন থেকে কমপক্ষে পাঁচটা স্থান বেছে নিন। সেই স্থানগুলো যেন জোনের মধ্যে
সমান দূরত্বে থাকে। এক জায়গায় সব নমুনা নিলে হবে না। মাটি তোলার সময় খাড়া করে
৬ থেকে ৮ ইঞ্চি গভীরে যান। শুধু উপরের মাটি নিলে হবে না, গাছের শিকড় যেখানে
খাবার শোষণ করে সেই স্তর পর্যন্ত যেতে হবে।
প্রতিটি স্থান থেকে একই পরিমাণ মাটি তুলুন। কোনো জায়গা থেকে বেশি, কোনো জায়গা
থেকে কম নিলে ফলটা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যাবে।সব মাটি একটা বালতিতে মিশিয়ে ফেলুন।
হাত দিয়ে ভালো করে মাখুন, যাতে সব মাটি একসাথে মিশে যায়। তারপর সেই মিশ্রণ থেকে
এক কেজির মতো মাটি বেছে নিন। এই এক কেজি মাটিই আপনার কম্পোজিট স্যাম্পল। বাকি
মাটি ফেলে দিন। কম্পোজিট স্যাম্পলটা একটা পরিষ্কার পলিথিন ব্যাগে ভরে মুখ ভালো
করে বাঁধুন। ব্যাগের উপর কাগজে লিখে রাখুন-কোন জমির মাটি, কবে নমুনা নিয়েছেন,
কোন ফসল চাষ করতে চান। এই তথ্যগুলো ল্যাবকে সঠিক পরামর্শ দিতে সাহায্য করে।
নমুনা তোলার পর শুকানোর দরকার নেই। তাজা মাটিই ভালো। তবে যদি অনেক ভেজা থাকে,
একটু হাওয়ায় শুকিয়ে নিন। রোদে শুকাবেন না, তাহলে মাটির রাসায়নিক বদলে যেতে
পারে। ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন, যাতে পাথর, ঝোপঝাড় আর বড় কণা বের হয়ে যায়।
শুধু মিহি মাটিই ল্যাবে পাঠান। নমুনা তোলার সঠিক সময় হলো ফসল লাগানোর আগে।
অর্থাৎ বর্ষার আগে বা শীতকালীন ফসলের আগে। তখন রিপোর্ট হাতে পেলে ঠিকমতো সার আর
চুন প্রয়োগ করতে পারবেন। পরে গিয়ে পরীক্ষা করলে ফসলের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
তাই সময় মতো নমুনা তুলুন, ফসল ভালো হবে।
ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল কীভাবে পরীক্ষা করা হয়
প্রথমে ল্যাব টেকনিশিয়ান ছাঁকা মাটি নেয়। ১৫ গ্রাম মাটি একটা পরিষ্কার
প্লাস্টিকের টিউবে ঢালে। তারপর সেখানে ৩০ মিলি পরিষ্কার পানি ঢালে। মাটি আর পানির
অনুপাতটা ১:২ হতে হবে। অনেক ল্যাব ১:১ অনুপাতও ব্যবহার করে। পানি দেওয়ার পর
টিউবটা ঢেকে কয়েক সেকেন্ড ঝাঁকিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে। তারপর ঢাকনা খুলে কমপক্ষে
৩০ মিনিট রেখে দেয়, যাতে মাটি ঠিকমতো বসে যায় আর দ্রবণটা ঘরের তাপমাত্রায় আসে।
৩০ মিনিট পর পিএইচ মিটার ক্যালিব্রেট করা হয়। দুটি স্ট্যান্ডার্ড বাফার ব্যবহার
করে-একটা পিএইচ ৭, আরেকটা পিএইচ ৪। মিটারটা ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা, তা এই দুটি
বাফার দিয়ে যাচাই করা হয়। ক্যালিব্রেশন ঠিক না থাকলে পুরো পরীক্ষাটাই ভুল হতে
পারে।
তাই এই ধাপটা কখনোই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। প্রতি ১০-১২টি নমুনা পরীক্ষার পর
আবার ক্যালিব্রেশন চেক করা হয়। ক্যালিব্রেশন শেষে ইলেক্ট্রোডটা মাটির দ্রবণে
ডোবানো হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, ইলেক্ট্রোডটা মাটির তলায় ঠেলে দেওয়া যাবে না।
দ্রবণের মধ্যে ধীরে ধীরে ঘোরাতে হবে, যাতে সঠিক রিডিং আসে। পিএইচ মিটারের পর্দায়
যে সংখ্যা ভেসে ওঠে, সেটাই আপনার মাটির পিএইচ। দশমিকের পর দুই ঘর পর্যন্ত রেকর্ড
করা হয়। দুটি আলাদা নমুনা থেকে দুটি রিডিং নেওয়া হয়, যাতে ফলটা নির্ভরযোগ্য
হয়। অনেক ল্যাব এখন শুধু পানি ছাড়া আরেকটা পদ্ধতি ব্যবহার করে-০.০১ মোলার
ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণ।
এই পদ্ধতিতে পিএইচ রিডিং সবসময় একটু কম আসে, প্রায় ০.৬ থেকে ০.৭ ইউনিট। কিন্তু
সুবিধা হলো, এই রিডিং বছরের পর বছর একই রকম থাকে। কারণ পানিতে মাপলে মাটির লবণের
পরিমাণ বদলালে পিএইচও ওঠানামা করে। ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণ সেই সমস্যাটা দূর
করে দেয়। সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম অনুযায়ী, দুটি
পদ্ধতির মধ্যে যেকোনো একটি ব্যবহার করা যায়। তবে কৃষককে পরামর্শ দেওয়ার সময়
কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটা জানা জরুরি।
প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার পর ইলেক্ট্রোডটা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হয়।
মাটির কণা ইলেক্ট্রোডের গ্লাস টিপে লেগে থাকলে পরবর্তী রিডিং ভুল হতে পারে। কোনো
কাগজ দিয়ে মুছবেন না, শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ঝেড়ে ফেলবেন। তাপমাত্রার দিকেও
খেয়াল রাখতে হবে। ঘরের তাপমাত্রায় পরীক্ষা করতে হয়। ঠান্ডা দ্রবণে রিডিং ভুল
আসতে পারে। তাই ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার সময়টা কখনো কমানো যাবে না। ধৈর্য ধরে
অপেক্ষা করলেই সঠিক ফল পাওয়া যায়।
মাটির পিএইচ রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন
মাটির পিএইচ রিপোর্ট হাতে পেলে প্রথমে দেখবেন সেখানে একটা সংখ্যা লেখা আছে। সেই
সংখ্যাটাই আপনার মাটির পিএইচ। সাধারণত দশমিকের পর দুই ঘর পর্যন্ত দেওয়া হয়,
যেমন ৬.৫০ বা ৫.৮০। এই সংখ্যাটা বুঝতে পারলেই বুঝে যাবেন আপনার মাটি কী চাইছে।
পিএইচ ৭ মানে নিরপেক্ষ। এর নিচে অম্লীয়, এর উপরে ক্ষারীয়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ
মাটি অম্লীয় হয়। পিএইচ ৫.৫-এর নিচে হলে বুঝবেন মাটি বেশি অম্লীয়। তখন চুন
প্রয়োগ করতে হবে। পিএইচ ৬ থেকে ৬.৮ হলে সোনার হরিন। এই রেঞ্জে বেশিরভাগ ফসল ভালো
জন্মায়। পিএইচ ৭.৫-এর উপরে হলে ক্ষারীয়। তখন গাছের শিকড় খাবার শোষণ করতে পারে
না।
রিপোর্টে দেখবেন কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। পানিতে মাপলে এক রকম ফল আসে,
ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডে মাপলে আরেক রকম। দুটোর মধ্যে প্রায় ০.৬ থেকে ০.৭ ইউনিট
পার্থক্য থাকে। তাই কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটা মাথায় রাখবেন।
রিপোর্টে অনেক সময় নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়ামের মানও থাকে। পিএইচের সাথে
সাথে এই উপাদানগুলো দেখবেন। কারণ পিএইচ ঠিক না থাকলে গাছ এই পুষ্টি শোষণ করতে
পারে না। একসাথে দেখলেই পুরো ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
পিএইচ লেভেল কম বা বেশি হলে কী সমস্যা হতে পারে
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম জানা মানে শুধু একটা সংখ্যা
জানা নয়, এই সংখ্যাটা আপনার পুরো জমির ভবিষ্যৎ বলে দেয়। পিএইচ যদি ঠিক না থাকে,
তাহলে সমস্যার শুরু হয়ে যায়। পিএইচ কম মানে মাটি বেশি অম্লীয়। তখন
অ্যালুমিনিয়াম আর ম্যাঙ্গানিজ বিষাক্ত হয়ে ওঠে। গাছের শিকড় পুড়ে যায়। পাতা
হলুদ হয়ে পড়ে। ফল ঝরে যায়। ফসলের growth থমকে যায়। ক্যালসিয়াম,
ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস গাছের কাছে পৌঁছায় না। চাষী ভাবে সার দিচ্ছি, কিন্তু গাছ
খেতে পারছে না। টাকা পানিতে যায়। পিএইচ বেশি মানে মাটি ক্ষারীয়। তখন লোহা,
জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, বোরন গাছের কাছে অলভ্য হয়ে যায়। পাতায় হলুদ ছোপ পড়ে। ফুল
কম আসে।
ফল ছোট হয়। গাছ দুর্বল হয়ে যায়। রোগবালাই আক্রমণ করে সহজে। কিছু কিছু ফসল
একেবারেই জন্মায় না। পিএইচ ৫.৫-এর নিচে হলে ব্যাকটেরিয়া কম কাজ করে। জৈব সার
পচতে সময় লাগে। মাটিতে মাইক্রোবিয়াল কার্যক্রম মন্দা হয়। মাটির কাঠামো নরম
হয়ে যায়। পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। এক কথায়, মাটি মরে যেতে শুরু করে।
পিএইচ ৮-এর উপরে হলে ফসফরাস, লোহা, জিংক বন্দি হয়ে যায়। গাছের শিকড় সাদা হয়ে
যায়। নাইট্রোজেন কম কাজ করে। মাটিতে ক্রাস্ট তৈরি হয়। পানি নিচে নামতে পারে না।
জমি পাথুরে হয়ে ওঠে। তাই পিএইচ ঠিক রাখা মানে হলো মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখা। আর
মাটি সুস্থ থাকলে ফসল ভালো হয়। "মাটি মা, মাটি ধন"-এই কথাটা এখানেই সত্যি হয়।
মাটির পিএইচ ঠিক রাখতে কার্যকর করণীয়
মাটির পিএইচ ঠিক রাখতে হলে প্রথমে জানতে হবে এখন কত। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে কী
করবেন। অন্ধভাবে কিছু করলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। পিএইচ কম থাকলে চুন
প্রয়োগ করুন। কৃষি অফিস বা ল্যাব জানাবে কত চুন দিতে হবে। সাধারণত প্রতি একরে
৫০০ গ্রাম থেকে ২ কেজি চুন লাগে। চুন শুকনো মৌসুমে দিতে হবে। বর্ষার আগে দিলে
বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে। চুন দেওয়ার পর মাটি ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। তবেই চুন সব
জায়গায় মিশবে। পিএইচ বেশি থাকলে জিপসাম বা সালফার ব্যবহার করুন। জৈব সার, যেমন
গোবর, কম্পোস্ট, পাতাপচা দিলেও পিএইচ কমতে সাহায্য করে। এগুলো মাটিতে অ্যাসিড
তৈরি করে। ধানের খোসা পচা মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারেন।
ধীরে ধীরে পিএইচ নামতে শুরু করবে। জৈব সার নিয়মিত দিন। এটা মাটির পিএইচ
স্থিতিশীল রাখে। মাটিতে কীটনাশক কম দিন। রাসায়নিক সারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।
বেশি ইউরিয়া দিলে মাটি অম্লীয় হয়ে যায়। এমন সার বেছে নিন যা মাটির পিএইচের
সাথে মানায়। প্রতি বছর মাটি পরীক্ষা করান। একবার পরীক্ষা করে বসে থাকলে হবে না।
মাটির অবস্থা বদলায়। ফসল বদলালে পিএইচও বদলাতে পারে। নিয়মিত চেক করলেই সময় মতো
ব্যবস্থা নেওয়া যায়। ক্রপ রোটেশন করুন। একই ফসল বারবার লাগালে মাটির পিএইচ
একদিকে ঝুঁকে যায়। ধানের পর ডাল, ডালের পর তৈলবীজ-এভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চাষ
করুন। মাটির পুষ্টি ভারসাম্য ঠিক থাকে। পিএইচও ঠিক থাকে।
শেষে একটা কথা-ধৈর্য ধরুন। পিএইচ একদিনে ঠিক হয় না। চুন বা জৈব সার দিলে ধীরে
ধীরে ফল পাবেন। এক বছরে একটু, দু বছরে একটু-এভাবে ঠিক হয়। তাড়াহুড়ো করলে মাটির
ক্ষতি হয়। "ধীরে ধীরে রে বাবা, তুমি ধীরে সই"-এই প্রবাদটা এখানেই মানায়।
টেস্টিং ল্যাবে সয়েল টেস্টিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
মাটির পিএইচ পরীক্ষা করতে গেলে কিছু সতর্কতা মাথায় রাখতে হয়। নাহলে রিপোর্ট ভুল
আসবে, আর ভুল রিপোর্ট মানে ভুল চিকিৎসা। সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল
মাপার নিয়ম অনুসরণ করতে গেলে প্রথমেই নমুনা সংগ্রহের দিকে খেয়াল দিতে হবে। একই
জমির বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা নিন। কমপক্ষে পাঁচটা জায়গা থেকে মাটি তুলুন।
প্রতিটি স্থান থেকে একই পরিমাণ নিন। শুধু এক জায়গা থেকে নিলে পুরো জমির ছবি
পাবেন না। নমুনা তোলার সময় পাথর, ঝোপঝাড়, প্লাস্টিক, কাগজ কিছুই মাটিতে মিশাবেন
না। এই জিনিসগুলো পরীক্ষার ফল বদলে দিতে পারে। মাটি শুকানোর সময় রোদে দেবেন না।
হাওয়ায় শুকান। রোদে দিলে মাটির রাসায়নিক বদলে যায়।
ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। শুধু মিহি মাটিই ল্যাবে পাঠান। ল্যাবে নমুনা দেওয়ার আগে
ব্যাগের মুখ ভালো করে বাঁধুন। ভেজা মাটি ব্যাগ ছিঁড়ে যেতে পারে। ব্যাগের উপর
লিখে রাখুন-কোন জমি, কবে নমুনা নিয়েছেন, কী ফসল চাষ করতে চান। এই তথ্য ছাড়া
ল্যাব সঠিক পরামর্শ দিতে পারে না। পরীক্ষার সময় ল্যাব টেকনিশিয়ানকে দেখবেন
ক্যালিব্রেশন ঠিকমতো করছে কিনা। পিএইচ মিটার প্রতি ১০-১২টি নমুনা পরীক্ষার পর
আবার ক্যালিব্রেট করতে হয়।
যদি দেখেন টেকনিশিয়ান সেটা করছে না, তাহলে সাহস করে জিজ্ঞেস করুন। আপনার ফসলের
কথা, আপনার টাকার কথা। রিপোর্ট হাতে পেলে কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়েছে, সেটা
দেখবেন। পানিতে মাপলে এক রকম ফল, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডে মাপলে আরেক রকম। দুটোর
মধ্যে ০.৬ থেকে ০.৭ পার্থক্য থাকে। তাই রিপোর্ট বোঝার সময় পদ্ধতিটা মাথায়
রাখবেন।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
এই লেখাটা পড়তে পড়তে হয়তো আপনার মনে হচ্ছে, এত কিছু মনে রাখব কীভাবে? আসলে
কঠিন কিছু নয়। মূল কথা হলো একটাই-মাটি আপনার বন্ধু, আর বন্ধুর মন বোঝা জরুরি।
আমি নিজে কয়েকবার ল্যাবে গিয়েছি। প্রথমবার ভেবেছিলাম, একটা সংখ্যার এত দাম? পরে
বুঝলাম, ওই সংখ্যাটাই আমার জমির ভাষা। সেই ভাষা না বুঝলে ফসলের সাথে কথা বলা যায়
না। আর ফসলের সাথে কথা না বললে ভালো ফলন আসে না।
আজকাল অনেক কৃষক মোবাইল অ্যাপ দিয়ে মাটি পরীক্ষা করতে চান। সহজ, দ্রুত। কিন্তু
আমি বলব, প্রথমবার একটা ভালো ল্যাবে গিয়ে করান। নিজের চোখে দেখুন কীভাবে কাজ
হয়। হাতে কলমে শিখুন। পরে অ্যাপ ব্যবহার করলেও ভিত্তিটা শক্ত থাকবে। শেষে একটা
কথা বলি-মাটি পরীক্ষা করানো মানে হার মানা নয়। বরং এটা জেতার প্রস্তুতি। যে কৃষক
জমিকে বোঝে, সেই কৃষকই ফসলকে বোঝে। আর যে ফসলকে বোঝে, সে বছর শেষে হাসে। "মাটির
সেবা করলে মাটি আপনার সেবা করে"-এই কথাটা আমার দাদু বলতেন। আজও ঠিক। 260416





অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url