OrdinaryITPostAd

কপিরাইট ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম

কপিরাইট ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম জানতে চান, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না? এই গাইডে সরকারি ফি, আবেদন করার ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।
কপিরাইট-ট্রেডমার্ক-রেজিস্ট্রেশন-করার-সরকারি-ফি-ও-নিয়ম
আপনি ব্যবসার নাম, লোগো বা নিজের সৃষ্টিকর্ম সুরক্ষিত করতে চাইলে এই তথ্যগুলো আপনার জন্য সত্যিই কাজে আসবে। শেষ পর্যন্ত পড়লে আবেদন খরচ, জরুরি বিষয় ও ঝামেলা এড়ানোর সহজ উপায় একসাথে জেনে যাবেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু প্রয়োজনীয় তথ্যই পাবেন।

পোস্ট সুচিপত্রঃ কপিরাইট ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম

কপিরাইট ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম

কপিরাইট ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম নিয়ে আজকাল অনেকেই খোঁজ করছেন, বিশেষ করে যারা নিজের ব্র্যান্ড বা সৃষ্টিকর্মকে আইনি সুরক্ষা দিতে চান। ব্যাপারটা শুনতে জটিল লাগলেও, একটু গুছিয়ে বুঝলে আসলে খুব একটা কঠিন কিছু না। চলুন, পুরো বিষয়টা একদম সহজ ভাষায় ধরি। প্রথমেই বলি ট্রেডমার্কের কথা। আপনার ব্যবসার নাম, লোগো বা স্লোগান-এসব কেউ যদি নকল করে ফেলে, তখন কিন্তু আপনার হাতে খুব বেশি কিছু থাকে না, যদি না সেটা আগে থেকে নিবন্ধিত থাকে। বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের দায়িত্বে আছে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর, সংক্ষেপে DPDT। পুরো প্রক্রিয়াটা অনলাইনে করা যায় এবং সাধারণত চারটি ধাপে শেষ হয়, যেখানে প্রায় দেড় থেকে দুই বা তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

হ্যাঁ, সময়টা একটু বেশিই মনে হবে, কিন্তু ধৈর্য ধরে এগোলে ফলাফল পাওয়া যায়। প্রথমেই বলি ট্রেডমার্কের কথা। আপনার ব্যবসার নাম, লোগো বা স্লোগান-এসব কেউ যদি নকল করে ফেলে, তখন কিন্তু আপনার হাতে খুব বেশি কিছু থাকে না, যদি না সেটা আগে থেকে নিবন্ধিত থাকে। বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের দায়িত্বে আছে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর, সংক্ষেপে DPDT। পুরো প্রক্রিয়াটা অনলাইনে করা যায় এবং সাধারণত চারটি ধাপে শেষ হয়, যেখানে প্রায় দেড় থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। হ্যাঁ, সময়টা একটু বেশিই মনে হবে, কিন্তু ধৈর্য ধরে এগোলে ফলাফল পাওয়া যায়। এরপর আসে পরীক্ষার ধাপ। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যাচাই করে দেখেন আপনার মার্কের সাথে কারো মিল আছে কিনা।

কোনো আপত্তি এলে নোটিশ পাঠানো হয়, আর তার জবাব দিতে ৪০০০ টাকা প্লাস ভ্যাট খরচ হয়, আর এই ধাপ সাধারণত ছয় থেকে আঠারো মাসের মধ্যে শুরু হয়। সময়টা বেশ লম্বা, তাই ধৈর্য রাখাটা এখানে বাধ্যতামূলক বলা যায়। পরীক্ষা পাশ হয়ে গেলে গেজেটে প্রকাশ করা হয়, যাতে অন্য কেউ আপত্তি জানানোর সুযোগ পায়। এই ধাপে গেজেট ফি ৩০০০ টাকা প্লাস ভ্যাট, আর সময় লাগে ছয় থেকে নয় মাস। দুই মাসের মধ্যে কেউ আপত্তি না জানালে আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন পরের ধাপে। শেষ ধাপে এসে নিবন্ধন ফি বাবদ ২০০০০ টাকা প্লাস ভ্যাট দিতে হয়, আর প্রায় এক মাসের মধ্যে সার্টিফিকেট হাতে পাওয়া যায়। এই সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই কিন্তু আপনি ® চিহ্ন ব্যবহারের অধিকার পান, TM নয়।
কপিরাইট-ট্রেডমার্ক-রেজিস্ট্রেশন-করার-সরকারি-ফি-ও-নিয়ম
সব মিলিয়ে হিসাব করলে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫০০০ টাকা, সাথে ভ্যাট বাবদ আরও ৫২৫০ টাকা যোগ হয়। আর একবার নিবন্ধন করে ফেললেই যে ঝামেলা শেষ, তা কিন্তু না। প্রথমবার সাত বছর পর নবায়ন করতে হয়, তারপর থেকে প্রতি দশ বছর অন্তর নবায়ন বাধ্যতামূলক। এটা মাথায় রাখবেন, নাহলে হুট করে আপনার ব্র্যান্ড সুরক্ষা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। এবার আসা যাক কপিরাইটের কথায়। বই, গান, সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট কনটেন্ট, ফটোগ্রাফ, ইউটিউব ভিডিও-এসব কিছুই কপিরাইটের আওতায় পড়ে। মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে কপিরাইট আসলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তৈরি হয়, নিবন্ধন ছাড়াই। তাহলে প্রশ্ন আসে, নিবন্ধন করার দরকার কী? উত্তরটা হলো আইনি প্রমাণ।

কেউ যদি আপনার কাজ চুরি করে বসে, তখন আদালতে লড়াইয়ের সময় নিবন্ধিত সার্টিফিকেটটাই আপনার সবচেয়ে শক্ত হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়াও খুব একটা জটিল না। আবেদন ফরম পূরণ করে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে, সরকারি ফি পরিশোধ করে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দাখিল করতে হয়। এরপর যাচাই ও আপত্তি জানানোর একটা সময়কাল থাকে, তারপর সার্টিফিকেট ইস্যু হয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে, তবে সঠিক ডকুমেন্ট থাকলে সময়টা কমেও যেতে পারে। সরকারি ফি এখানে তুলনামূলক অনেক কম, কাজের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়, তাই আবেদনের আগে অফিসিয়াল ফি তালিকাটা একবার যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

বলে রাখা ভালো, কপিরাইটের মেয়াদ কিন্তু আজীবনের জন্য না, তবে অনেক লম্বা সময় ধরে থাকে।কাজের মূল মালিক বেঁচে থাকা অবস্থায় এবং তাঁর মৃত্যুর পর আরও ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইটের সুরক্ষা চালু থাকে। আর বিদেশি নাগরিকও চাইলে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে বাংলাদেশে কপিরাইট নিবন্ধন করতে পারেন-এটা অনেকেই জানেন না। ট্রেডমার্ক আর কপিরাইট-দুটোই আপনার পরিশ্রমের ফসল রক্ষা করার হাতিয়ার। শুধু নাম বা লোগো নিয়ে ব্যবসা শুরু করেই বসে থাকবেন না, নিবন্ধনের কাগজটাও গুছিয়ে রাখুন। কারণ যেদিন কেউ আপনার ব্র্যান্ড নকল করে বাজারে নামবে, সেদিন এই কাগজটাই হবে আপনার প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা। দেরি না করে আজই এক কপি ফি জমার রসিদ কেটে ফেলুন-ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়াতে এটাই সবচেয়ে সহজ পথ।

কপিরাইট ও ট্রেডমার্কের মধ্যে পার্থক্য কী?

কপিরাইট ও ট্রেডমার্কের মধ্যে পার্থক্য কী? এই প্রশ্নটা আমার কাছে প্রায়ই আসে। অনেকেই দুটোকে এক জিনিস মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এদের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত আছে। চলুন, একটু গল্পের ছন্দে বুঝে নেওয়া যাক। কপিরাইট মূলত আপনার সৃজনশীল কাজকে সুরক্ষা দেয়। আপনি একটা গান লিখলেন, ছবি আঁকলেন, বই লিখলেন, বা ওয়েবসাইটের জন্য কনটেন্ট তৈরি করলেন-সবই কপিরাইটের আওতায় পড়ে। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়। মানে আপনি লিখলেই আপনার কপিরাইট। তবে নিবন্ধন করলে আইনি লড়াইয়ে সুবিধা মেলে। ট্রেডমার্ক আবার অন্য রকম। এটা আপনার ব্যবসার পরিচয়কে সুরক্ষা দেয়। আপনার দোকানের নাম, লোগো, স্লোগান-এসব ট্রেডমার্কের কাজ। 

মনে করুন, "প্রাণ" বা "রূপচাঁদা"। এগুলো কি শুধু নাম? না, এগুলো এক-একটা পরিচয়। কেউ যদি একই নামে ব্যবসা করে, আপনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এখন আসি মূল পার্থক্যে। কপিরাইট সৃজনশীলতার প্রতিরক্ষা দেয়। ট্রেডমার্ক ব্যবসায়িক পরিচয়ের প্রতিরক্ষা দেয়। একটা গান কপিরাইট হতে পারে। কিন্তু সেই গানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ট্রেডমার্ক হবে। দুটো আলাদা জগত, দুটো আলাদা উদ্দেশ্য। বুঝতে পারছেন? কপিরাইটের মেয়াদ আপনার জীবনকাল পর্যন্ত চলে। মৃত্যুর পর আরও পঞ্চাশ বছর। মানে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা। ট্রেডমার্কের ক্ষেত্রে প্রতি দশ বছর পরপর নবায়ন করতে হয়। নবায়ন না করলে সেটা মুক্ত হয়ে যায়।
অন্য কেউ তখন সেই নাম ব্যবহার করতে পারে। তাই ট্রেডমার্ক মালিকদের সতর্ক থাকতে হয়। আরেকটা বড় পার্থক্য হলো-কপিরাইট স্বয়ংক্রিয়। আপনি কিছু তৈরি করলেই এটা আপনার। কিন্তু ট্রেডমার্ক স্বয়ংক্রিয় নয়। আপনাকে আবেদন করতে হবে। সরকারি অফিসে যেতে হবে। ফি দিতে হবে। তারপর অনুমোদন পেলেই আপনার। এটা একটা প্রক্রিয়া, একটা যাত্রা। সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কথা বলি। কপিরাইট অফিস ঢাকার তেজগাঁওয়ে। ট্রেডমার্ক অফিস শাহবাগে। দুটো আলাদা জায়গা, আলাদা নিয়ম। কপিরাইটের ফি কম। ট্রেডমার্কের ফি একটু বেশি। কপিরাইট পেতে সময় কম লাগে। ট্রেডমার্কে একটু ধৈর্য ধরতে হয়। 

দুটোর জন্যই অনলাইন আবেদনের সুযোগ আছে এখন। আপনি যদি একজন লেখক হন, কপিরাইট আপনার জন্য। আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হন, ট্রেডমার্ক আপনার জন্য। কিন্তু অনেক সময় দুটোই একসাথে দরকার পড়ে। মনে করুন, আপনি একটা বই লিখলেন। বইটার কপিরাইট আপনার। আবার বইটা প্রকাশ করলেন "স্বপ্নপুরী প্রকাশনী" নামে। সেই নামটা ট্রেডমার্ক হতে পারে। দুটো মিলেই সম্পূর্ণ সুরক্ষা।

আমি দেখেছি, অনেক নতুন উদ্যোক্তা শুধু ব্যবসা শুরু করেন। ট্রেডমার্কের কথা ভাবেন না। পরে যখন ব্র্যান্ড বড় হয়, তখন অন্য কেউ সেই নামে ব্যবসা শুরু করে। ঝামেলা শুরু হয়। আদালত, খরচ, মানসিক চাপ-সব মিলিয়ে একটা যুদ্ধ। আগে থেকে একটু খরচ করে ট্রেডমার্ক করলে এই যুদ্ধ এড়ানো যায়। কথাই বলে, "প্রতিরোধই সেরা প্রতিকার।"

আবার কপিরাইট নিয়েও অনেকের ভুল ধারণা। মনে করেন, ইন্টারনেটে যা পাবেন সবই ফ্রি। একটা ছবি ডাউনলোড করে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করলেন। পরে মূল মালিক কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলা করলে পুরো ব্যবসাই থমকে যেতে পারে। তাই কপিরাইট সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। নিজের কাজ সুরক্ষা করুন, আর অন্যের কাজও সম্মান করুন।

কোন ব্যবসা বা পণ্যের জন্য ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন?

আপনি যদি কোনো পণ্য তৈরি করেন, ট্রেডমার্ক আপনার জন্য। মনে করুন, আপনি হাতে তৈরি সাবান বানান। আপনার সাবানের নাম "ফুলবাগান"। এই নামটা যদি অন্য কেউ নিয়ে নেয়, আপনার বিক্রি কমতে শুরু করবে। ট্রেডমার্ক করলে এই নাম শুধু আপনার। কেউ ছোঁতে পারবে না। সহজ কথায়, আপনার পণ্যের পরিচয়টা আপনারই থাকে। সেবা ভিত্তিক ব্যবসার কথা বলি। আপনার একটা রেস্তোরাঁ আছে। নাম দিয়েছেন "ভাতঘর"। মানুষ এই নামে আপনাকে চিনে। একদিন অন্য জায়গায় "ভাতঘর" নামে আরেকটা দোকান খুললে কী হবে? গ্রাহক কনফিউজড হয়ে যাবেন। ট্রেডমার্ক থাকলে আপনি আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন। সেবাও যে পণ্যের মতোই মূল্যবান, সেটা ট্রেডমার্ক বুঝিয়ে দেয়।

ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসায় ট্রেডমার্ক একদম মাস্ট। আপনার ফেসবুক পেজের নাম, ওয়েবসাইটের নাম, অ্যাপের নাম-সবই ট্রেডমার্ক হতে পারে। অনলাইনে নকল পেজ খুলে বসা খুব সহজ। একদিন দেখবেন, আপনার নামে আরেকটা পেজ বানিয়ে লোকজনকে ঠকাচ্ছে। ট্রেডমার্ক থাকলে ফেসবুক বা গুগলকে রিপোর্ট করতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। এটা একটা শক্তিশালী অস্ত্র। ফ্যাশন বা কসমেটিকসের ব্যবসায় ট্রেডমার্ক আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার লোগো, ব্র্যান্ড নাম, প্যাকেজিং ডিজাইন-সবই কাস্টমারের মনে জায়গা করে নেয়। একটা সুন্দর লোগো মানে একটা গল্প। সেই গল্পটা যদি অন্য কেউ চুরি করে, আপনার ব্র্যান্ডের মূল্য কমে যায়। 

ট্রেডমার্ক সেই গল্পটাকে আপনার কবজায় রাখে। কথাই বলে, "নামেই বড় কথা।" টেকনোলজি বা সফটওয়্যার কোম্পানির জন্য ট্রেডমার্ক প্রায় জীবন-মরার প্রশ্ন। আপনার অ্যাপের নাম, স্লোগান, আইকন-সবই ট্রেডমার্ক হতে পারে। "বিকাশ" বা "পাঠাও" ভাবুন। এগুলো শুধু নাম নয়, এক-একটা বিশ্বাস। কেউ যদি একই নামে অ্যাপ বানায়, ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হবেন। ট্রেডমার্ক সেই বিশ্বাসটাকে সুরক্ষিত রাখে। টেক জগতে এই বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় সম্পদ।

ফ্রিল্যান্সার বা ক্রিয়েটরদের জন্যও ট্রেডমার্ক কাজে লাগে। আপনার একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে। নাম দিয়েছেন "গল্পগুচ্ছ"। এই নামটা যদি অন্য কেউ নিয়ে নেয়, আপনার দুই বছরের পরিশ্রম বিফলে যেতে পারে। ট্রেডমার্ক করলে আপনার চ্যানেলের নাম আইনিভাবে আপনার। ব্র্যান্ড ডিল, স্পনসরশিপ-সবকিছুতেই এটা কাজে লাগে। নিজের পরিচয়টা নিজের রাখুন।

বাংলাদেশে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

বাংলাদেশে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?-প্রশ্নটা অনেকেই জানতে চান। কেউ বলেন দশটা কাগজ লাগে, কেউ বলেন পাঁচটা। আসলে ব্যাপারটা এত জটিল না। আমি আজ আপনাকে ঠিক যা লাগে, তাই বলব। কোনো গুজব নয়, শুধু বাস্তব কথা। প্রথমে চাই আবেদনপত্র। কপিরাইট অফিসের নির্ধারিত ফর্মে পূরণ করতে হবে। এই ফর্মে আপনার নাম, ঠিকানা, কাজের বিবরণ-সব লিখতে হয়। একটা ছোট ভুলও বড় ঝামেলা পাকাতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে পূরণ করুন। কলমের কালি যেন না মুছে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। আমি দেখেছি, অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ভুল করেন।

আপনার কাজের দুই কপি জমা দিতে হবে। বই হলে দুই কপি বই। সফটওয়্যার হলে সিডি বা ইউএসবিতে কপি। ছবি হলে প্রিন্ট কপি। মূল কাজ আর তার প্রমাণ-দুটোই চাই। কপিরাইট অফিস একটা রেখে দেয়, আরেকটা যাচাই করে। এটাই নিয়ম, এটাই প্রক্রিয়া। কাজের মান যেন ভালো থাকে, সেটাও দেখা হয়। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি লাগবে। পাসপোর্ট সাইজের ছবিও দুই কপি। যদি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আবেদন করেন, তাহলে ট্রেড লাইসেন্স বা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ। সব কাগজ একসাথে রাখুন। কাগজ ঘাটতি হলে আবেদন ঝুলে যায়। আমি জানি, কাগজপত্রের কাজ মাথা ঘোরায়। কিন্তু একবার ঠিকমতো করলে, পরে আর সমস্যা নেই।
কপিরাইট-ট্রেডমার্ক-রেজিস্ট্রেশন-করার-সরকারি-ফি-ও-নিয়ম
কপিরাইট ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম জানা থাকলে কাগজপত্র তৈরি করা সহজ হয়। ফি জমা দেওয়ার রসিদও জমা দিতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট বা চালানের কপি রাখুন। কখন কোন কাগজ লাগবে, সেটা আগে থেকে জেনে নিন। অনলাইনে আবেদন করলে স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। সব কাগজ পরিষ্কার হতে হবে, ঝাপসা নয়।

আপনার কাজ যদি প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে প্রকাশনার প্রমাণ দিন। বই হলে প্রকাশনীর চিঠি। গান হলে রেকর্ডিং লেবেলের চিঠি। সফটওয়্যার হলে ডেভেলপমেন্টের প্রমাণ। কাজটা আপনারই, সেটা প্রমাণ করতে হবে। কপিরাইট অফিস এটা দেখতে চায়। ন্যায্য অধিকার রক্ষায় এটা জরুরি। কথাই বলে, "প্রমাণ ছাড়া বিচার হয় না।"

ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা

ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা এই বিষয়টা নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন মন্তব্য করেন। কেউ বলেন দশটা কাগজ লাগে, কেউ বলেন বিশটা। আসলে ব্যাপারটা এত জটিল না। কপিরাইট ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম জানা থাকলে কাগজপত্র তৈরি করা সহজ হয়। আমি আজ আপনাকে ঠিক যা লাগে, তাই একে একে সাজিয়ে দিচ্ছি।

  • ট্রেডমার্ক আবেদনপত্র (TM-1 ফর্ম)-ডিপিআইটি ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে পূরণ করুন। হাতের লেখা স্পষ্ট হতে হবে, কোনো কাটাকাটি নয়।
  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি-ব্যক্তিগত আবেদনের ক্ষেত্রে। প্রতিষ্ঠান হলে ট্রেড লাইসেন্স বা ইনকর্পোরেশন সনদ লাগবে।
  • ট্রেডমার্কের ছবি বা লোগো-আট কপি কালো-সাদা এবং চার কপি রঙিন। সাইজ ১০ সেন্টিমিটার বাই ১০ সেন্টিমিটারের মধ্যে হতে হবে।
  • পণ্য বা সেবার বিবরণী-কোন ক্লাসের আবেদন করছেন, সেটা স্পষ্টভাবে লিখুন। ভুল ক্লাসে আবেদন করলে পরে ঝামেলা।
  • ফি জমাদানের রসিদ-ব্যাংক ড্রাফট বা চালানের কপি। কপিরাইট ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম অনুযায়ী ঠিকমতো ফি দিন।
  • প্রক্সি বা মনোনয়নপত্র (যদি প্রতিনিধির মাধ্যমে করান)-আইনজীবী বা এজেন্টের ক্ষেত্রে। স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হবে।
  • ব্যবহারের প্রমাণ (ঐচ্ছিক কিন্তু শক্তিশালী)-আপনার ট্রেডমার্ক কোথায় ব্যবহার করছেন, তার ছবি বা বিজ্ঞাপন। এটা থাকলে আবেদন আরও মজবুত হয়।
  • প্রাধিকার দাবির দলিল (যদি থাকে)-আগে কোনো দেশে আবেদন করলে সেই সার্টিফিকেট। কনভেনশনের সুবিধা নিতে চাইলে এটা লাগে।
কাগজপত্র একবার ঠিকমতো তৈরি করলে, অর্ধেক কাজ শেষ। বাকিটা অপেক্ষা। ঢাকার শাহবাগে ডিপিআইটি অফিসে জমা দিন। অনলাইনেও করা যায় এখন। সময় লাগে প্রায় এক বছর। কিন্তু ধৈর্য ধরুন। একদিন সেই সার্টিফিকেট হাতে পাবেন। নিজের ব্র্যান্ডের আইনি স্বীকৃতি-এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে?

কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের সরকারি ফি কত?

কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের সরকারি ফি কত? কেউ বলেন লাখ লাখ টাকা লাগে, কেউ বলেন হাজার হাজার। আসলে ব্যাপারটা এত ভয়াবহ না। আমি আজ আপনাকে ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য দেব। কোনো গুজব নয়, শুধু সরকারি হিসাব। কপিরাইটের ফি নিয়ে আসি প্রথমে। বাংলাদেশে কপিরাইট নিবন্ধনের জন্য সরকারি ফি মাত্র কয়েকশ টাকা থেকে শুরু। সাধারণত প্রতিটি সৃজনশীল কাজের জন্য আলাদা ফি নির্ধারিত আছে। বইয়ের জন্য এক রকম, সফটওয়্যারের জন্য অন্য রকম। কপিরাইট অফিসের ওয়েবসাইটে গেলে সবচেয়ে নতুন ফি তালিকা পাবেন। মধ্যস্থতাকারী না নিয়ে নিজেই করলে টাকা বাঁচে। আমি দেখেছি, অনেকেই এখানেই বেশি খরচ করে ফেলেন।
ট্রেডমার্কের ফি একটু বেশি। এক ক্লাসের ট্রেডমার্কের জন্য সরকারি ফি প্রায় তিন হাজার টাকার মতো। কিন্তু ক্লাস বাড়লে ফিও বাড়ে। পণ্য ও সেবা-দুই ভাগে ক্লাসগুলো ভাগ। আপনার ব্যবসা কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে, সেটা আগে ঠিক করুন। ভুল ক্লাসে আবেদন করলে পরে ঝামেলা। আর নবায়নের সময় আলাদা ফি লাগে। প্রতি দশ বছর পরপর নবায়ন করতে হয়। ফি বছরে বছরে একটু একটু বাড়তে পারে। তাই সরকারি ওয়েবসাইট চেক করে নিন। অনলাইন আবেদনে একই ফি লাগে? কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেই। শুধু ব্যাংক চার্জ কাটে। কিন্তু মধ্যস্থতাকারী বা আইনজীবী নিলে তাদের ফি আলাদা। কখনো কখনো সরকারি ফির চেয়ে দ্বিগুণ খরচ হয়। আমার পরামর্শ-নিজেই করার চেষ্টা করুন।

অনলাইনে কপিরাইট-ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন

প্রথমে কপিরাইটের কথা বলি। বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল পোর্টালে গেলেই ফর্ম পাবেন। আবেদনপত্র পূরণ করুন, কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড দিন। ফি অনলাইনেই জমা হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সার্টিফিকেট হাতে পাবেন। মনে রাখবেন, ছবি আর কাগজ স্পষ্ট হতে হবে। ঝাপসা হলে আবেদন ঝুলে যায়। আমি দেখেছি, অনেকেই এখানেই ভুল করেন। ট্রেডমার্কের অনলাইন প্রক্রিয়া একটু ভিন্ন। ডিপিআইটি ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হয়। একাউন্ট খুলতে হবে প্রথমে। তারপর TM-1 ফর্ম পূরণ করুন। লোগো আপলোড দিন, ক্লাস ঠিক করুন। ফি অনলাইন ব্যাংকিং দিয়ে দিন। কিন্তু ট্রেডমার্কে সময় লাগে বেশি। প্রায় এক বছর। ধৈর্য ধরতে হবে।
কপিরাইট-ট্রেডমার্ক-রেজিস্ট্রেশন-করার-সরকারি-ফি-ও-নিয়ম
আবেদনের স্ট্যাটাস ওয়েবসাইটে চেক করতে পারবেন। মনে হয় না, কিন্তু চোখ রাখুন। আপনার কি জানেন, অনলাইনে করলে অফিসে যাওয়ার ঝামেলা কমে? ঢাকার বাইরে থাকলে এটা বড় সুবিধা। কিন্তু প্রথমবার একটু ঘাটাঘাটি লাগে। ফর্মে কোথায় কী লিখবেন, বুঝতে সময় লাগে। আমার পরামর্শ-একবার অফিসিয়াল গাইডলাইন পড়ে নিন। ইউটিউবে টিউটোরিয়ালও আছে। একটু সময় দিন, পরে সব সহজ মনে হবে। কথাই বলে , "প্রথম কষ্ট, পরে মিষ্টি।" অনলাইন বা অফলাইন-দুইয়েই একই ফি। কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেই। শুধু ব্যাংক চার্জ কাটে। তাই ভয় পাবেন না। নিজের পায়ে দাঁড়ান। ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম জেনে নিলে অনলাইনে আবেদন একদম সহজ। সুরক্ষা করুন নিজের, এগিয়ে যান ডিজিটাল পথে।

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হতে কতদিন সময় লাগে

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হতে এক এক জন এক এক রকম মন্তব্য করেন। কেউ বলেন এক মাস, কেউ বলেন পাঁচ বছর। আসলে ব্যাপারটা এত ভয়াবহ না। কপিরাইট ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম জানা থাকলে সময়ের হিসাবও সহজ হয়। আমি আজ আপনাকে ঠিক কতদিন লাগে, সেটাই বলব। কপিরাইটের ক্ষেত্রে সময় কম লাগে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাথমিক যাচাই হয়। এরপর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সার্টিফিকেট হাতে পাবেন। সাধারণত এক থেকে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়। কিন্তু কাগজপত্র ঠিকমতো জমা দিলে। কোনো ত্রুটি থাকলে ফেরত আসে। তখন সময় বাড়ে। আমি দেখেছি, অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ভুল করেন। তারপর অপেক্ষায় বসে থাকেন।

ট্রেডমার্কের ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রায় এক বছর সময় লাগে। কেন? কারণ প্রতিটি আবেদন খুব সাবধানে যাচাই করা হয়। আগে কেউ একই নাম ব্যবহার করছে কিনা, সেটা দেখা হয়। তারপর গেজেটে প্রকাশিত হয়। কেউ আপত্তি না জানালে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটা একটু ধীর। কিন্তু ন্যায্য। কথাই বলে, "ধীরে সুস্থিরে।"
আপনার কি জানেন, অনলাইন আবেদন করলেও সময় একই? কোনো শর্টকাট নেই। কিন্তু স্ট্যাটাস চেক করা সহজ। ওয়েবসাইটে গেলেই দেখতে পারবেন আপনার আবেদন কোন ধাপে আছে। অপেক্ষা করতে হয়, এটাই সত্যি। কিন্তু অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়। একদিন সেই সার্টিফিকেট হাতে পাবেন। নিজের ব্র্যান্ড বা সৃজনশীলতার আইনি স্বীকৃতি এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে?

আবেদন করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলা উচিত

প্রথম ভুল হলো তাড়াহুড়ো করা। অনেকে ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে নাম বা ঠিকানা ভুল লিখে দেন। একটা অক্ষরের ভুলেও আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। আমি দেখেছি, একজন লেখক তার বইয়ের নামে একটা বানান ভুল করেছিলেন। পরে কপিরাইট অফিস থেকে ফেরত এসেছিল। সময় গেল, কষ্ট হলো। তাই ধৈর্য ধরে পূরণ করুন। কলমের কালি না মুছে যাওয়া দেখুন।

দ্বিতীয় ভুল হলো কাগজপত্র অসম্পূর্ণ জমা দেওয়া। কেউ ভাবেন, পরে বাকি কাগজ দিয়ে দেবেন। কিন্তু অফিসে এটা চলে না। একবারেই সব কাগজ দিতে হবে। কপিরাইটের ক্ষেত্রে দুই কপি কাজ, আইডি কার্ড, ছবি-সব একসাথে। ট্রেডমার্কের ক্ষেত্রে লোগোর কপি, ট্রেড লাইসেন্স, ফি রসিদ-কিছুই বাদ দেওয়া যাবে না। কাগজ ঘাটতি হলে আবেদন ঝুলে যায়। মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। কথাই বলে, "আগে ভালো, পরে মন্দ।"

তৃতীয় ভুল হলো ভুল ক্লাসে ট্রেডমার্ক আবেদন করা। অনেকে জানেন না তাদের পণ্য বা সেবা কোন ক্লাসে পড়ে। ধরুন, আপনার একটা কফি শপ আছে। আপনি খাবারের ক্লাসে আবেদন করলেন, কিন্তো সেবার ক্লাসে করলেন না। পরে ঝামেলা হলো। আগে ঠিক করে নিন আপনার ব্যবসা কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে। সরকারি ওয়েবসাইটে ক্লাসের তালিকা আছে। একটু সময় দিয়ে পড়ে নিন। ভুল ক্লাস মানে ভুল সুরক্ষা।

চতুর্থ ভুল হলো মধ্যস্থতাকারীর উপর অন্ধভরসা করা। অনেকে ভাবেন, এজেন্ট নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু অনেক এজেন্ট নিজেই ভুল করেন। আবার কিছু এজেন্ট অতিরিক্ত টাকা নিয়ে বসেন। আমার পরামর্শ-প্রথমবার নিজেই করার চেষ্টা করুন। অনলাইনে গাইডলাইন পড়ুন। ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখুন। নিজের কাজ নিজে করলে মনে শান্তি থাকে। টাকাও বাঁচে। কথাই বলে, "নিজের হাতে নিজের ভাগ্য।"

পঞ্চম ভুল হলো আগে থেকে সার্চ না করা। ট্রেডমার্কের ক্ষেত্রে আগে কেউ একই নাম ব্যবহার করছে কিনা, সেটা দেখা জরুরি। অনেকে এটা এড়িয়ে যান। পরে দেখা যায়, তাদের নামে আগেই অন্য কেউ রেজিস্ট্রেশন করেছে। তখন আবেদন বাতিল হয়। সময় নষ্ট হয়, টাকা নষ্ট হয়। সরকারি ওয়েবসাইটে ফ্রি সার্চ অপশন আছে। একটু সময় দিয়ে খুঁজে নিন। পরে ঝামেলা এড়ানো যাবে।
কপিরাইট-ট্রেডমার্ক-রেজিস্ট্রেশন-করার-সরকারি-ফি-ও-নিয়ম
ষষ্ঠ ভুল হলো ফি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি। অনেকে মনে করেন, একবার ফি দিলেই চিরকালের জন্য। কিন্তু ট্রেডমার্কের ক্ষেত্রে প্রতি দশ বছর পরপর নবায়ন করতে হয়। নবায়নের আলাদা ফি লাগে। অনেকে এটা জানেন না। পরে সার্টিফিকেট মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। তখন আবার শুরু করতে হয়। ফি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি ফি ও নিয়ম জেনে নিলে এই ভুল হয় না।

সপ্তম ভুল হলো ঝাপসা কাগজপত্র জমা দেওয়া। স্ক্যান কপি অনলাইনে আপলোড করতে গিয়ে অনেকে ঝাপসা ছবি দেন। অফিসে পড়া যায় না। ফেরত আসে। আবার হাতের লেখা অস্পষ্ট হলেও একই সমস্যা। পরিষ্কার কাগজ, স্পষ্ট ছবি, পড়া যায় এমন লেখা-এগুলো মাস্ট। একটু যত্ন নিলে পরে অনেক ঝামেলা এড়ানো যায়।

অষ্টম ভুল হলো প্রক্সি বা মনোনয়নপত্র ঠিকমতো না করা। যদি আইনজীবী বা এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করেন, তাহলে সঠিক প্রক্সি দিতে হবে। স্বাক্ষরসহ। অনেকে এটা ভুলে যান। পরে দেখা যায়, আপনার প্রতিনিধির কোনো ক্ষমতাই নেই। আবেদন বাতিল। তাই প্রক্সি ঠিকমতো তৈরি করুন। কাগজে স্বাক্ষর দিন। তারিখ লিখুন। কোনো ফাঁক রাখবেন না।

নবম ভুল হলো অপেক্ষা না করে ধৈর্য হারানো। অনেকে এক মাস পরেই ফোন করতে শুরু করেন। কপিরাইট অফিস বা ডিপিআইটিতে বারবার ফোন করেন। এটা কাজের ব্যাঘাত ঘটায়। প্রক্রিয়াটা সময় নেয়, এটাই স্বাভাবিক। কপিরাইটে কয়েক সপ্তাহ, ট্রেডমার্কে এক বছর। এই সময়টা মেনে নিন। স্ট্যাটাস অনলাইনে চেক করতে পারেন। বারবার ফোন করলে উল্টো বিরক্তি তৈরি হয়। ধৈর্য ধরুন। ফল মিষ্টি হবে।

দশম ভুল হলো রেজিস্ট্রেশনের পর কোনো রেকর্ড না রাখা। অনেকে সার্টিফিকেট পেয়ে রেখে দেন। কিন্তু কোথায় রেখেছেন, মনে থাকে না। পরে দরকার পড়লে খুঁজে পান না। আমার পরামর্শ-সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি কম্পিউটারে রাখুন। ক্লাউড স্টোরেজে ব্যাকআপ দিন। মূল কাগজ একটা নিরাপদ জায়গায় রাখুন। ট্রেডমার্কের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মনে রাখুন। নবায়নের সময় সেটা কাজে লাগবে। কথাই বলে, "সাবধানের মার নেই।"

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

এই লেখাটা লিখতে গিয়ে আমার নিজের অনেক পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল। কয়েক বছর আগে এক বন্ধু তার ছোট ব্যবসার নাম নিয়ে ঝামেলায় পড়েছিল। কেউ একই নামে আরেকটা দোকান খুলে বসেছিল। টাকা খসাতে হয়েছিল, মানসিক চাপও সইতে হয়েছিল। তখন যদি ট্রেডমার্ক করে রাখত, এই দুঃখ হতো না। আমি দেখেছি, অনেকেই এই ভুল করে। ভাবেন, "আমার তো ছোট ব্যবসা, কার কী যায় আসে?" কিন্তু বড় হলেই ঝামেলা শুরু হয়।

আপনার কি জানেন, আমি নিজেও একবার কপিরাইট নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় ঘোরাফেরা করেছিলাম। কাগজপত্র নিয়ে অফিসে গিয়েছিলাম। প্রথমবার একটু হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু পরে বুঝলাম, একটু ধৈর্য আর যত্নই যথেষ্ট। আজ আমি বলব, নিজের কাজের মূল্য নিজেই দিন। সুরক্ষা করুন। কারণ এই সুরক্ষা শুধু আইনি নয়, মানসিকও। মনে শান্তি থাকে। জানেন, "নিজের ঘর নিজে সাজালে, মনটাই ভালো থাকে।"

শেষে একটা কথা বলি। আপনি যদি এই লেখাটা পড়ে একটু হলেও উপকৃত হন, তাহলে আমার লেখা সার্থক। কিন্তু শুধু পড়লেই হবে না, করতে হবে। আজই একটা পদক্ষেপ নিন। কপিরাইট অফিসের ওয়েবসাইট খুলুন। ডিপিআইটির পোর্টাল দেখুন। একটা ফর্ম পূরণ করুন। প্রথমবার একটু কষ্ট হবে। কিন্তু পরে মনে হবে, "কী ভালোই তো করেছিলাম!" সুরক্ষা করুন নিজের, সুরক্ষা করুন ভবিষ্যৎ। কারণ সময় যেমন চলে যায়, সুযোগও হাতছাড়া হয়। আর হাতছাড়া হওয়া সুযোগ ফেরত আসে না। এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url