OrdinaryITPostAd

আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম

আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম জানতে চান? অনেকেই ছোট্ট একটি ভুলের কারণে ব্যাটারির আয়ু নিজের অজান্তেই কমিয়ে ফেলেন। অথচ কয়েক মিনিট সময় নিয়ে সঠিক নিয়ম মেনে কাজ করলে ব্যাটারি অনেক দিন ভালো থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে।
আইপিএস-এর-ব্যাটারিতে-পানি-দেওয়ার-সঠিক-নিয়ম
এই আর্টিকেলে কখন পানি দিতে হবে, কতটুকু দিতে হবে, কোন ধরনের পানি ব্যবহার করবেন এবং কোন ভুলগুলো কখনো করা উচিত নয়-সবকিছু সহজ ভাবে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পড়ুন-ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর কিছু অজানা টিপস জানবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম

আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম

আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম জানা না থাকলে অনেক সময় শখের আইপিএসটাই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন, নতুন কেনা ব্যাটারি প্রথম কয়েক মাস দারুণ ব্যাকআপ দেয়, তারপর হঠাৎ করেই যেন তার শক্তি কমে যেতে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর পেছনে একটাই কারণ থাকে আর তা হলো পানি দেওয়ার নিয়মটা ঠিকমতো মানা হয়নি। প্রথমেই একটা কথা স্পষ্ট করে নেওয়া দরকার। আইপিএসের ব্যাটারিতে যেকোনো পানি দিলেই চলবে না, একদম না। কল বা টিউবওয়েলের সাধারণ পানি ব্যবহার করলে ব্যাটারির প্লেটে জমাট বাঁধতে শুরু করে, যাকে আমরা সালফেশন বলি। এতে ব্যাটারির আয়ু কমে যায় দ্রুত, আর ব্যাকআপও কমতে থাকে ধীরে ধীরে।

তাহলে কী পানি দেবেন? উত্তরটা সহজ-শুধু ডিস্টিলড ওয়াটার বা ডিমিনারেলাইজড ওয়াটার ব্যবহার করুন। এই পানিতে কোনো খনিজ পদার্থ থাকে না বলে ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক বিক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। বাজারে ছোট ছোট বোতলে এই পানি সহজেই পাওয়া যায়, দামও খুব বেশি না। এবার আসি কতটুকু পানি দেবেন সেই প্রসঙ্গে। ব্যাটারির প্রতিটি সেলের ঢাকনা খুললে ভেতরে একটা প্লাস্টিকের রিং বা লেভেল ইন্ডিকেটর দেখতে পাবেন। পানি ঠিক ততটুকুই দেবেন যতটা সেই লেভেল পর্যন্ত পৌঁছায়, তার বেশি একদম না। বেশি পানি দিলে চার্জ করার সময় তা উপচে পড়ে এসিড লিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
আইপিএস-এর-ব্যাটারিতে-পানি-দেওয়ার-সঠিক-নিয়ম
কখন পানি দেবেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। ব্যাটারি চার্জ করার আগে পানি দেওয়া সবচেয়ে ভালো অভ্যাস, কখনো চার্জ অবস্থায় বা সঙ্গে সঙ্গে চার্জিং শেষ হওয়ার পর দেবেন না। গরম অবস্থায় পানি দিলে ভেতরের তরল প্রসারিত হয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই ব্যাটারি ঠান্ডা হওয়ার জন্য একটু সময় দিন, তারপর কাজ শুরু করুন। কত দিন পরপর পানি চেক করবেন, এই নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। সাধারণত মাসে একবার পানির লেভেল দেখে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে গরমকালে এই অভ্যাসটা আরও জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ তাপে পানি বাষ্প হয়ে দ্রুত কমে যায়, আর আপনি টেরই পান না কখন লেভেল নিচে নেমে গেছে।

একটা ছোট্ট সতর্কতার কথাও বলে রাখি। পানি দেওয়ার সময় হাতে গ্লাভস পরে নেওয়া ভালো, কারণ ব্যাটারির ভেতরের এসিড ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। আর ভুলেও দুই হাতের মধ্যে চোখ মুছবেন না বা মুখে হাত দেবেন না, ছোট্ট এই সাবধানতা বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করে। আইপিএসের ব্যাটারি অনেকটা আপনার শরীরের মতোই নিয়মিত যত্ন নিলে দীর্ঘদিন ভালো সার্ভিস দেয়, অবহেলা করলে অকালেই বিদায় নেয়। তাই মাসে একটা দিন বের করে পানির লেভেল দেখে নেওয়ার অভ্যাসটা গড়ে তুলুন, এতে আপনার ব্যাটারি যেমন টিকবে বেশিদিন, তেমনি অযথা টাকাও নষ্ট হবে না।

আইপিএস ব্যাটারিতে কখন পানি দিতে হয় বুঝবেন যেভাবে

আইপিএস ব্যাটারিতে কখন পানি দিতে হয়, এই প্রশ্নটা প্রায় সবার মনেই আসে কিন্তু সঠিক উত্তর অনেকেই জানেন না। আসলে আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম বোঝার আগে জানা দরকার কখন এটা প্রয়োজন হয়, নাহলে অকারণে বারবার ঢাকনা খুলে ঝামেলা বাড়ানোর কোনো মানে হয় না। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো চোখে দেখে বোঝা। প্রতিটি সেলের ভেতরে যে প্লাস্টিকের লেভেল ইন্ডিকেটর থাকে, পানি সেই লাইনের নিচে নেমে গেলেই বুঝবেন এখন পানি দেওয়ার সময় হয়েছে। এই লেভেল চেক করতে বেশি সময় লাগে না, মাসে একবার একটু কষ্ট করে দেখে নিলেই চলে।

ব্যাকআপ টাইম হঠাৎ কমে গেলেও সেটা একটা বড় ইঙ্গিত। আগে যেখানে দুই-তিন ঘণ্টা ব্যাকআপ পেতেন, এখন যদি এক ঘণ্টাও না টেকে তাহলে বুঝে নিন পানির লেভেল নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। যদিও এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে, তবু পানি চেক করাটা প্রথম কাজ হওয়া উচিত। চার্জ হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগলেও সাবধান হওয়া দরকার। পানি কমে গেলে ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঠিকমতো হয় না, ফলে চার্জিং ধীর হয়ে যায়। আপনি যদি খেয়াল করেন যে চার্জার আগের চেয়ে বেশিক্ষণ ধরে সবুজ বাতি দেখাচ্ছে না, তাহলে ব্যাটারি খুলে দেখে নিন।
গরমকালে এই চেকআপের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। প্রচণ্ড তাপে ব্যাটারির ভেতরের পানি বাষ্প হয়ে দ্রুত কমতে থাকে, শীতকালের তুলনায় এই হার অনেক বেশি। তাই গরমের সময় মাসে একবারের বদলে তিন-চার সপ্তাহ পরপর একবার লেভেল দেখে নেওয়া ভালো অভ্যাস। ব্যাটারি থেকে অস্বাভাবিক গরম ভাব বা হালকা গন্ধ পেলেও অবহেলা করবেন না। পানি কমে গেলে প্লেটগুলো বাতাসের সংস্পর্শে চলে আসে, তখন ভেতরে ঘর্ষণ বেড়ে গরম হতে শুরু করে। 

এমন লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন, তারপর পানির লেভেল যাচাই করুন। একটা ছোট্ট টিপস দিয়ে শেষ করি। ব্যাটারির গায়ে একটা ছোট নোট বা স্টিকার লাগিয়ে রাখুন, যেখানে শেষবার পানি দেওয়ার তারিখটা লেখা থাকবে। এতে বারবার মনে করার ঝামেলা থাকবে না, আর সময়মতো যত্ন নেওয়াটাও সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য।

ব্যাটারিতে পানি কমে যাওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো কী কী

ব্যাটারিতে পানি কমে যাওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো কী কী, এটা জানা থাকলে বড় বিপদ আসার আগেই আপনি সতর্ক হতে পারবেন। অনেকেই ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার পর বুঝতে পারেন যে আগে থেকেই কিছু সংকেত পাচ্ছিলেন, কিন্তু গুরুত্ব দেননি। চলুন দেখি কোন কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন পানি কমে গেছে। সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো ব্যাকআপ টাইম কমে যাওয়া। আগে যেই আইপিএস তিন-চার ঘণ্টা চলত, সেটা যদি এক ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বুঝে নিন কিছু একটা ঠিক নেই। এই পরিবর্তনটা হঠাৎ করে হয় না, ধীরে ধীরে হতে থাকে বলে অনেকেই প্রথমদিকে খেয়াল করেন না। চার্জিং টাইম বেড়ে যাওয়াও একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত। পানি কমে গেলে ব্যাটারির প্লেটগুলো ঠিকমতো রাসায়নিক বিক্রিয়া করতে পারে না, ফলে চার্জ হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে। 

চার্জার সবুজ বাতি দেখাতে দেরি করলে সেটাকে হালকাভাবে নেবেন না। ব্যাটারি থেকে অস্বাভাবিক গরম ভাব বের হওয়াটাও লক্ষ্য করার মতো একটা বিষয়। পানির লেভেল কমে গেলে প্লেটগুলো বাতাসের সংস্পর্শে চলে আসে, আর তখন ভেতরে ঘর্ষণ বেড়ে গিয়ে তাপ উৎপন্ন হতে থাকে। হাত দিয়ে ছুঁলে যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম মনে হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেখে নেওয়া উচিত। কখনো কখনো হালকা পোড়া বা রাসায়নিক গন্ধও পাওয়া যায়। 

এই গন্ধ মূলত আসে যখন প্লেট আর অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটে, যেটা পানির অভাবেই হয়ে থাকে। এমন গন্ধ পেলে দেরি না করে ব্যাটারি খুলে ভেতরে দেখে নিন। চোখে দেখেও বোঝা যায় বিষয়টা। সেলের ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের লেভেল ইন্ডিকেটরের নিচে পানি নেমে গেলে সরাসরি বুঝে যাবেন, আর কোনো অনুমানের দরকারই পড়বে না। মাসে একবার এই ঢাকনা খুলে দেখাটা তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

লাইট বা ইন্ডিকেটরে অস্বাভাবিক ব্লিংকিংও একটা সংকেত হতে পারে। কিছু আইপিএসে লো ওয়াটার লেভেলের জন্য আলাদা সতর্কবার্তা থাকে, যেটা জ্বলতে শুরু করলে অবহেলা না করাই ভালো। আপনার আইপিএসের ম্যানুয়ালে এই ইন্ডিকেটরগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা থাকে, একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।

আইপিএস ব্যাটারিতে কোন ধরনের পানি ব্যবহার করা উচিত

আইপিএস ব্যাটারিতে কোন ধরনের পানি ব্যবহার করা উচিত, এই প্রশ্নটা নিয়ে অনেকের মনেই বিভ্রান্তি থাকে। কেউ ভাবেন বিশুদ্ধ খাবার পানি দিলেই হবে, কেউ আবার ফোটানো পানি ব্যবহার করেন। কিন্তু আসল উত্তরটা এতটা জটিল না, শুধু একটু সঠিক তথ্য জানা থাকলেই চলে। সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ বিকল্প হলো ডিস্টিলড ওয়াটার। এই পানি বিশেষ প্রক্রিয়ায় বাষ্পীভূত করে তৈরি করা হয় বলে এতে কোনো খনিজ পদার্থ বা অমেধ্য থাকে না। ফলে ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক বিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, কোনো বাধা তৈরি হয় না। ডিমিনারেলাইজড ওয়াটার বা ডিএম ওয়াটারও ব্যবহার করতে পারেন, এটাও একইরকম কার্যকর।
আইপিএস-এর-ব্যাটারিতে-পানি-দেওয়ার-সঠিক-নিয়ম
বাজারে বিশেষ করে ব্যাটারির দোকানগুলোতে এই পানি সহজেই পাওয়া যায়, দামও খুব বেশি না। এক লিটারের বোতল কিনে রাখলে অনেকদিন ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু কল বা টিউবওয়েলের সাধারণ পানি ব্যবহার করা একদম উচিত না। এই পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা খনিজ পদার্থ মিশে থাকে, যা ব্যাটারির প্লেটে জমে গিয়ে সালফেশন তৈরি করে। এতে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, আর আয়ুও কমে যায় অনেকটা। মিনারেল ওয়াটার বা বোতলজাত পানীয় জলও এড়িয়ে চলা দরকার। শুনতে অবাক লাগলেও এই পানিতেও বিভিন্ন খনিজ যোগ করা থাকে, যেগুলো শরীরের জন্য ভালো হলেও ব্যাটারির জন্য একদম না। 

তাই "বিশুদ্ধ" নাম দেখেই ভরসা করবেন না, লেবেলে ডিস্টিলড লেখা আছে কিনা সেটা যাচাই করে নিন। ফোটানো পানি নিয়েও একটা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন পানি ফুটিয়ে নিলেই তা বিশুদ্ধ হয়ে যায়, কিন্তু আসলে ফোটালে জীবাণু মরে ঠিকই, খনিজ পদার্থ কিন্তু থেকেই যায়। তাই এই পানি ব্যাটারির জন্য ততটা নিরাপদ না, যতটা মনে হয়। একটা ছোট্ট পরামর্শ দিয়ে রাখি। পানি কেনার সময় বোতলের গায়ে "distilled water" বা "battery grade water" লেখা আছে কিনা ভালো করে দেখে নিন। কিছু অসাধু বিক্রেতা সাধারণ পানি বোতলে ভরে বিক্রি করে, তাই পরিচিত দোকান থেকে কেনাই নিরাপদ।

ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন, সেগুলো জানা না থাকলে সামান্য ভুলেই বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। অনেকেই তাড়াহুড়া করে পানি ঢেলে দেন, ফলে উল্টো সমস্যা তৈরি হয়। তাই কাজে নামার আগে কয়েকটা ছোট বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। সবার আগে দেখে নিন ব্যাটারি ঠান্ডা আছে কিনা। চার্জ করার ঠিক পরপরই বা চার্জ অবস্থায় পানি দেবেন না, কারণ গরম অবস্থায় ভেতরের তরল প্রসারিত হয়ে ঝামেলা তৈরি করতে পারে। কমপক্ষে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে তারপর কাজ শুরু করুন। হাতে গ্লাভস আর চোখে সুরক্ষা চশমা পরে নেওয়াটাও ভুলবেন না। ব্যাটারির ভেতরের এসিড ত্বক বা চোখে লাগলে বেশ ক্ষতি হতে পারে, তাই এই সাবধানতা অবহেলা করার সুযোগ নেই।

আশেপাশে বাচ্চারা থাকলে তাদের একটু দূরে রাখুন। শুধু ডিস্টিলড ওয়াটার ব্যবহার করবেন, কল বা সাধারণ পানি একদম না। সাধারণ পানিতে থাকা খনিজ পদার্থ ব্যাটারির প্লেটে জমে গিয়ে ধীরে ধীরে ক্ষতি করে। কেনার সময় বোতলের লেবেল ভালো করে দেখে নেওয়া ভালো অভ্যাস। পানি দেওয়ার আগে প্রতিটি সেলের লেভেল ইন্ডিকেটর ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। কতটুকু পানি প্রয়োজন সেটা বুঝে নিয়ে তারপর ঢালা শুরু করুন, আন্দাজে বেশি দিয়ে ফেলবেন না। 

এতে চার্জের সময় পানি উপচে পড়ার আশঙ্কা কমে যায় অনেকটা। আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম মানতে গেলে ফানেল বা ড্রপারের মতো কোনো সঠিক যন্ত্র ব্যবহার করাও জরুরি, হাত থেকে সরাসরি ঢেলে দিলে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কাজ শেষে ঢাকনাগুলো ভালোভাবে লাগিয়ে দিন, যাতে ধুলাবালি বা ময়লা ভেতরে ঢুকতে না পারে।

ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার ধাপে ধাপে সহজ পদ্ধতি

ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার ধাপে ধাপে সহজ পদ্ধতি জানা থাকলে কাজটা মোটেও কঠিন মনে হবে না। অনেকেই ভয় পান যে ভুল করে ফেলবেন, কিন্তু সঠিক ধাপগুলো অনুসরণ করলে পুরো প্রক্রিয়াটা দশ মিনিটেই শেষ হয়ে যায়। চলুন এক এক করে দেখে নিই কীভাবে করবেন। প্রথম ধাপে ব্যাটারি বন্ধ করে ঠান্ডা হওয়ার জন্য একটু সময় দিন। চার্জ করার সঙ্গে সঙ্গে পানি দিলে ভেতরের তরল প্রসারিত হয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হলে এই অপেক্ষাটুকু মেনে চলা জরুরি, কমপক্ষে আধা ঘণ্টা সময় দিন। দ্বিতীয় ধাপে হাতে গ্লাভস পরে নিন, চোখেও চশমা থাকলে ভালো।
ব্যাটারির ভেতরের এসিড ত্বকের জন্য ক্ষতিকর, তাই এই সুরক্ষা এড়িয়ে যাবেন না। কাজের জায়গাটাও ভালো করে বাতাস চলাচল করে এমন হওয়া উচিত। তৃতীয় ধাপে প্রতিটি সেলের ঢাকনা সাবধানে খুলুন। ভেতরে তাকালে একটা প্লাস্টিকের লেভেল ইন্ডিকেটর দেখতে পাবেন, পানি কতটুকু কমেছে সেটা এখান থেকেই বোঝা যায়। কোনো সেলে পানি বেশি কমে গেলে সেটা আলাদাভাবে খেয়াল রাখুন। চতুর্থ ধাপে ডিস্টিলড ওয়াটার নিয়ে একটা ফানেল বা ড্রপার দিয়ে আস্তে আস্তে ঢালুন। 

লেভেল ইন্ডিকেটরের ঠিক ওপর পর্যন্ত পানি দিন, তার বেশি কখনোই না। বেশি দিলে চার্জের সময় উপচে পড়ে এসিড লিক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পঞ্চম ধাপে প্রতিটি সেল একই নিয়মে পূরণ করুন, একটাও যেন বাদ না পড়ে। সব সেলে সমান লেভেল রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ, নাহলে ব্যাটারির পারফরম্যান্সে তারতম্য দেখা দিতে পারে। কাজ শেষে ঢাকনাগুলো ভালোভাবে বন্ধ করে দিন।

বেশি পানি দিলে আইপিএস ব্যাটারির কী ক্ষতি হতে পারে

বেশি পানি দিলে আইপিএস ব্যাটারির কী ক্ষতি হতে পারে, এই বিষয়টা অনেকেই গুরুত্ব দেন না। মনে করেন, পানি তো ভালো জিনিস, বেশি দিলে ক্ষতি কী! কিন্তু বাস্তবে এই ভুল ধারণাই ব্যাটারির বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো চার্জের সময় পানি উপচে পড়া। ব্যাটারি চার্জ হওয়ার সময় ভেতরে তাপ তৈরি হয়, আর লেভেলের বেশি পানি থাকলে সেটা প্রসারিত হয়ে সেলের বাইরে চলে আসে। এতে শুধু পানি না, সাথে এসিডও বেরিয়ে আসতে পারে। এই লিক হওয়া এসিড ব্যাটারির বাইরের অংশ আর আশেপাশের ধাতব জিনিসপত্র ক্ষয় করে দেয়। আপনার ব্যাটারি রাখার স্ট্যান্ড বা তারগুলোতে যদি এসিড লেগে যায়, সেগুলোও ধীরে ধীরে নষ্ট হতে শুরু করে।
আইপিএস-এর-ব্যাটারিতে-পানি-দেওয়ার-সঠিক-নিয়ম
পরিষ্কার না করলে এই ক্ষতি বাড়তেই থাকে। বেশি পানি দিলে ব্যাটারির ভেতরের এসিডের ঘনত্বও কমে যায়। এসিড আর পানির যে অনুপাত থাকা দরকার, সেটা নষ্ট হয়ে গেলে ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমতে থাকে। ফলে যতই যত্ন নিন না কেন, ব্যাকআপ টাইম আগের চেয়ে কম পাবেন। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে প্লেটগুলোতেও সমস্যা দেখা দেয়। ঘনত্ব কমে যাওয়া এসিডের কারণে প্লেটের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঠিকমতো হয় না, ফলে প্লেট ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। 

একবার প্লেট নষ্ট হয়ে গেলে সেটা আর ঠিক করার উপায় থাকে না। এসিড লিক হওয়ার আরেকটা ঝুঁকি হলো নিরাপত্তার দিক থেকে। ঘরের মেঝে বা আশেপাশে এসিড পড়লে সেটা শুধু জিনিসপত্র না, মানুষের ত্বকের জন্যও ক্ষতিকর। বাসায় বাচ্চা বা পোষা প্রাণী থাকলে এই ঝুঁকিটা আরও গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।

ব্যাটারির পানি কতদিন পর পর পরীক্ষা করা প্রয়োজন

ব্যাটারির পানি কতদিন পর পর পরীক্ষা করা প্রয়োজন, এটি জানা থাকলে আপনি অনেক বড় ঝামেলা এড়িয়ে যেতে পারবেন। আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম মানার পাশাপাশি নিয়মিত চেক করার অভ্যাসটাও সমান জরুরি, নাহলে সব যত্নই বৃথা যায়। সাধারণভাবে মাসে একবার পানির লেভেল দেখে নেওয়াই যথেষ্ট। এতে বেশি সময়ও লাগে না, মাত্র কয়েক মিনিটের কাজ। কিন্তু এই কয়েক মিনিট নিয়মিত দিলে ব্যাটারির আয়ু অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। গরমকালে এই নিয়মটা একটু বদলে নেওয়া দরকার। প্রচণ্ড তাপে ব্যাটারির ভেতরের পানি বাষ্প হয়ে দ্রুত কমতে থাকে, শীতের তুলনায় এই হার অনেক বেশি। তাই গরমের সময় তিন থেকে চার সপ্তাহ পরপর একবার চেক করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

নতুন ব্যাটারি হলে প্রথম কয়েক মাস একটু বেশি খেয়াল রাখা ভালো। প্রথমদিকে কতটা পানি কমছে সেটা বুঝে নিলে পরবর্তীতে নিজের ব্যাটারির জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক করে ফেলতে পারবেন। প্রতিটা ব্যাটারির পানি কমার হার একটু আলাদা হতে পারে। আপনি যদি ঘন ঘন লোডশেডিং এলাকায় থাকেন, তাহলে চেক করার সময়টা আরেকটু ঘন ঘন করে নেওয়া উচিত। বেশি ব্যবহার হওয়া মানে বেশি চার্জ-ডিসচার্জ সাইকেল, আর তাতে পানিও কমে দ্রুত। এমন পরিস্থিতিতে তিন সপ্তাহ পরপর দেখে নেওয়াই ভালো। ব্যাকআপ টাইম কমে যাওয়া বা চার্জিং সময় বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখলে নির্ধারিত সময়ের আগেই চেক করে নিন। এই ধরনের ইঙ্গিত পেলে অপেক্ষা করার দরকার নেই, সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা খুলে দেখে ফেলুন সমস্যা কোথায়।

আইপিএস ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর কার্যকর কিছু টিপস

আইপিএস ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর কার্যকর কিছু টিপস জানা থাকলে বছরের পর বছর একই ব্যাটারি দিয়ে চালিয়ে নেওয়া যায়। অথচ একটু অবহেলাতেই অনেকের ব্যাটারি দুই-তিন বছরেই নষ্ট হয়ে যায়। চলুন দেখি কোন কোন অভ্যাস আপনার ব্যাটারিকে দীর্ঘদিন সচল রাখতে পারে। সবার আগে নিয়মিত পানির লেভেল চেক করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মাসে অন্তত একবার ডিস্টিলড ওয়াটার দিয়ে লেভেল ঠিক রাখলে প্লেটগুলো ভালো অবস্থায় থাকে। এই ছোট্ট কাজটাই আসলে ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর সবচেয়ে বড় রহস্য। ব্যাটারিকে বারবার পুরোপুরি ডিসচার্জ হতে দেবেন না। শূন্য পর্যন্ত নামিয়ে ফেলার অভ্যাস প্লেটের ক্ষতি করে দ্রুত, তাই চেষ্টা করুন চার্জ শেষ হওয়ার আগেই লাইন ফিরে আসুক বা সংযোগ দিন। গভীর ডিসচার্জ যত কম হবে, ব্যাটারি তত বেশিদিন ভালো থাকবে।
ব্যাটারি রাখার জায়গাটাও গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। খুব গরম বা রোদ পড়ে এমন জায়গায় ব্যাটারি রাখলে ভেতরের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্রুত হয়ে আয়ু কমে যায়। ঠান্ডা, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ব্যাটারি রাখাই সবচেয়ে ভালো। সঠিক চার্জার ব্যবহার করাও ভুলে যাওয়া চলবে না। ভুল ভোল্টেজের চার্জার বা লোকাল কোম্পানির নিম্নমানের চার্জার ব্যবহার করলে ব্যাটারিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়। যে কোম্পানির ব্যাটারি, তাদের নির্ধারিত চার্জার ব্যবহার করাই নিরাপদ। ব্যাটারির টার্মিনাল বা কানেক্টর নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। ধুলাবালি বা মরিচা জমলে সংযোগ দুর্বল হয়ে যায়, ফলে চার্জিং আর ব্যাকআপ দুটোতেই সমস্যা দেখা দেয়। একটা শুকনো কাপড় দিয়ে মাঝে মাঝে মুছে নিলেই এই সমস্যা এড়ানো যায়।

অতিরিক্ত লোড দেওয়া থেকেও বিরত থাকুন। আইপিএসের ক্যাপাসিটি যতটুকু, তার চেয়ে বেশি যন্ত্রপাতি একসাথে চালালে ব্যাটারির ওপর চাপ বেড়ে যায়। কোন কোন যন্ত্র জরুরি, সেগুলো আলাদা করে রাখুন, বাকিগুলো লোডশেডিংয়ের সময় বন্ধ রাখুন। শেষে বলি, এই টিপসগুলো একসাথে মেনে চললে আপনার ব্যাটারি সহজেই পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত ভালো সার্ভিস দিতে পারে। একটু সচেতনতা আর নিয়মিত যত্নই আসলে টাকা আর সময় দুটোই বাঁচিয়ে দেয় দীর্ঘমেয়াদে।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

আইপিএস ব্যাটারির যত্ন নিয়ে এতক্ষণ যা যা বললাম, তার সবটাই আসলে একটাই বার্তা দেয়-একটু সচেতন থাকলে টাকা আর সময় দুটোই বাঁচে। ব্যাপারটা মোটেও কঠিন কিছু না, শুধু নিয়মিত একটু নজর রাখাই যথেষ্ট। আমি নিজেও একটা সময় এই বিষয়গুলো জানতাম না। ভুল পানি দিয়ে, সময়মতো চেক না করে নিজের ব্যাটারিটাই নষ্ট করে ফেলেছিলাম বছর দুয়েকের মধ্যে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছি, ছোট ছোট এই যত্নগুলোর মূল্য আসলে কতটা।

আপনি যদি এই লেখাটা এতক্ষণ পড়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন আইপিএসের ব্যাটারিও একটু ভালোবাসা আর নিয়মিত খেয়াল চায়। ডিস্টিলড ওয়াটার ব্যবহার করুন, লেভেল দেখে পরিমাণ মতো দিন, আর মাসে একবার একটু সময় বের করে চেক করে নিন।  এই সহজ অভ্যাসগুলোই আপনার ব্যাটারিকে বছরের পর বছর সচল রাখবে। আশা করি এই লেখাটা আপনার কাজে লাগবে, আর পরের বার যখন ব্যাটারির ঢাকনা খুলবেন, তখন আর দ্বিধায় থাকবেন না কী করতে হবে। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url