ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে বসানো
ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে বসানো এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ।
ধাপে ধাপে সেটআপ, দরকারি সেটিংস এবং সাধারণ ভুল এড়ানোর সহজ উপায় এখানে তুলে ধরা
হয়েছে। সেটআপ ও প্রয়োজনীয় টিপস এখানেই পাবেন।
অনলাইন অর্ডার বাড়াতে এবং গ্রাহকদের দ্রুত পেমেন্ট সুবিধা দিতে এই গাইডটি হতে
পারে আপনার সেরা সহায়ক। আপনার ই-কমার্স সাইটে বিকাশ যুক্ত করে বিক্রি বাড়ানোর
কার্যকর কৌশল জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন।
পেজ সূচিপত্রঃ ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে বসানো
- ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে বসানো
- বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে নিন
- API কী সেটআপ করুন সহজে
- ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন দিয়ে যোগ করুন
- কোড দিয়ে ইন্টিগ্রেশনের টিপস
- টেস্ট মোডে পেমেন্ট চেক করুন
- নিরাপত্তা চেকলিস্ট ফলো করুন
- সাধারণ এরর ফিক্স করার উপায়
- কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স স্মুথ করুন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে বসানো
আপনি কি কখনো ভেবেছেন, আপনার ওয়েবসাইটে অর্ডার আসছে ঠিকই কিন্তু পেমেন্টের সময়
কেন কাস্টমার হারিয়ে যাচ্ছে? সমস্যাটা আসলে পেমেন্ট অপশনে। বাংলাদেশে এখন
বেশিরভাগ মানুষ বিকাশে পেমেন্ট করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই চেকআউট পেজে বিকাশ
না থাকলে, আপনি প্রতিদিন কিছু না কিছু সেল মিস করছেন। বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে
বসানোর আগে আপনাকে প্রথমে বিকাশের অফিশিয়াল মার্চেন্ট পোর্টালে গিয়ে একটি
মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এটা একদম সহজ, শুধু আপনার ব্যবসার কিছু বেসিক
তথ্য আর ট্রেড লাইসেন্স লাগবে। আসুন দেখে নেই ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে বিকাশ
পেমেন্ট গেটওয়ে বসানো ধাপগুলো।
ধরুন নিচের ইমেজ এর মত আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে কিন্তু ওয়েবসাইটের চেকআউট
এর কোন পেজ নেই। এখানে বামপাশে দেখানো পেমেন্ট গেটওয়েগুলি আপনিও আপনার পেজে
সেট আপ করে নিতে পারবেন সহজেই।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
প্রথমে আপনার ওয়ার্ডপ্রেসে গিয়ে আপনার পেজের জন্য একটি প্লাগিন ডাউনলোড করতে হবে।
মূলত উপরের ইমেজে দেখানো ওয়েবসাইটি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এখানে
বামপাশের মেনু থেকে "Plugin" সিলেক্ট করে "Add new Plugin" এ ক্লিক করুন।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
তারপর নিচের ইমেজ এর মত "Payment" ট্যাবটি আসবে না আসলে "WooCommerce" থেকে
"Settings" অপশনে গেলে "Payment" ট্যাবটি দেখতে পাবেন।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
এখানে "Payment" অপশনে যাওয়ার পর "Method" সেকশনে পেমেন্ট গেটওয়েগুলো দেখতে
পাবেন। এখানে "Bikash" ও "Nagad" ও "Rocket" এর মত পেমেন্ট গেটওয়েগুলো পাবেন,
যেগুলো আপনার ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে লাগবে।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
এবার এখানে যে পেমেন্ট মেথডটি আপনি আপনার ওয়েবসাইটে দিতে চাচ্ছেন সেটির বাটন
"Enable" করে নিন।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
বাটন "Enable" করার পরই চাইলে আপনি আপনার ওয়েবসাইট রিলোড দিয়ে দেখে নিতে পারেন যে
প্লাগিন টি ঠিকমত কাজ করছে কিনা।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
এরপর নিচের মত "Bkash" সিলেক্ট করে "Finish" অপশনে ক্লিক করুন।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
এবার নিচের মত পেজ আসবে সেখানে আপনার বিকাশ একাউন্ট এর তথ্যগুলো দিন।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
তারপর নিচের দিকে আর একটু স্ক্রোল করে আপনার বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে বা
একাউন্টের নাম্বার ও একাউন্টের তথ্যগুলো ফিলাপ করুন ও "Save" এ ক্লিক করুন।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
এবার নিচের ইমেজ এর মত আপনার দেওয়া বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে এর সেট করা তথ্যগুলো
দেখা যাবে এবং সহজেই ক্রেতারা আপনার বিকাশ নাম্বারে পেমেন্ট পাঠাতে পারবে।
|
| সোর্সঃ https://www.youtube.com/watch?v=Ywn7ZfyCElU |
এভাবেই খুব সহজেই আপনার নিজের ওয়েবসাইটে আপনি বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে বা অন্যান্য
মার্চেন্ট গেটওয়ে গুলি সেট করে নিতে পারবেন।
বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে নিন
সবকিছুর শুরু এখান থেকেই। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে বিকাশ পেমেন্ট চালু করতে
চান, তাহলে প্রথম কাজ হলো একটি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা। এটা কোনো জটিল
বিষয় না, তবে একটু গুছিয়ে না করলে পরে ঝামেলায় পড়তে পারেন। মার্চেন্ট
অ্যাকাউন্ট খুলতে আপনাকে বিকাশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে মার্চেন্ট
রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে। এখানে আপনার ব্যবসার নাম, ধরন, যোগাযোগের তথ্য
এবং কিছু বেসিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটা অনলাইনেই হয়, তাই
আলাদা করে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই।
ফর্ম পূরণের পাশাপাশি কিছু কাগজপত্রও লাগবে। ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র,
আর ব্যবসার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সাথে রাখুন। এগুলো আগে থেকে স্ক্যান করে
রেডি রাখলে আবেদন করতে মাত্র কয়েক মিনিট লাগবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিকাশের
টিম সেটা যাচাই করবে এবং সাধারণত কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে অ্যাপ্রুভাল পাওয়া
যায়। অ্যাপ্রুভ হলে আপনি একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা পাবেন এবং আপনার মার্চেন্ট
ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করার সুযোগ মিলবে। এখান থেকেই আসল যাত্রা শুরু।
API কী সেটআপ করুন সহজে
মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হওয়ার পরেই আপনি আপনার ড্যাশবোর্ডে দুটো
গুরুত্বপূর্ণ জিনিস দেখতে পাবেন-একটি App Key আর একটি App Secret। এই দুটো আসলে
আপনার ওয়েবসাইট আর বিকাশের সার্ভারের মধ্যে পরিচয়পত্রের কাজ করে। এগুলো ছাড়া
কোনো লেনদেনই সম্ভব না। এই Key দুটো পাওয়ার পর আপনাকে সেগুলো আপনার ওয়েবসাইটের
ব্যাকএন্ডে বসাতে হবে। যদি আপনি WooCommerce ব্যবহার করেন, তাহলে বিকাশ প্লাগইনের
সেটিংসে গিয়ে নির্দিষ্ট ঘরে Key দুটো পেস্ট করলেই কাজ শেষ। ওয়েবসাইটের চেকআউট
পেজে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে বসানোর এই ধাপটাই আসলে পুরো ইন্টিগ্রেশনের মূল
ভিত্তি। একটু মনোযোগ দিয়ে করলে পুরো বিষয়টা আসলে অনেক সহজ।
আরো পড়ুনঃ ০৮ উপায়ে ওয়েবসাইট খুলে টাকা আয়
একটা কথা মাথায় রাখবেন-এই Key দুটো কখনো কারো সাথে শেয়ার করবেন না। এমনকি কোনো
পাবলিক গিটহাব রিপোজিটরিতেও এগুলো আপলোড করবেন না ভুলেও। এটা অনেকটা আপনার ব্যাংক
অ্যাকাউন্টের পিনের মতো, একবার ফাঁস হলে বড় ক্ষতি হতে পারে। সবচেয়ে নিরাপদ
উপায় হলো Key দুটো আপনার সার্ভারের Environment Variable-এ রাখা। এতে করে কোড আর
Key আলাদা থাকে, আর সাইটের নিরাপত্তাও অনেকটা নিশ্চিত হয়। একজন ভালো ডেভেলপার এই
কাজটা মিনিট দশেকেই করে দিতে পারবে।
ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন দিয়ে যোগ করুন
আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন, তাহলে সত্যি বলতে আপনার ভাগ্য ভালো। কারণ
এখানে বিকাশ পেমেন্ট যোগ করার জন্য আলাদা করে কোনো কোড লেখার দরকার নেই। শুধু
সঠিক প্লাগইনটা খুঁজে নিলেই কাজের অর্ধেক শেষ। ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাশবোর্ডে গিয়ে
Plugins অপশনে ক্লিক করুন, তারপর Add New-তে গিয়ে সার্চবারে "bKash WooCommerce"
লিখে সার্চ করুন। কয়েকটা প্লাগইন আসবে, তবে যেটার রিভিউ ভালো আর আপডেট নিয়মিত
হয় সেটাই বেছে নিন। ইন্সটল করে Activate করলেই প্লাগইন আপনার সাইটে যুক্ত হয়ে
যাবে।
এরপর প্লাগইনের সেটিংসে গিয়ে আপনার App Key আর App Secret বসানোর জায়গা পাবেন।
আগের ধাপে বিকাশ ড্যাশবোর্ড থেকে যে Key দুটো নিয়েছিলেন, সেগুলো এখানে বসিয়ে
দিন। সেভ করলেই আপনার WooCommerce চেকআউট পেজে বিকাশ পেমেন্টের অপশন দেখা যাবে।
তবে শুধু বসিয়ে দিলেই হবে না, একটু চেক করে নিন সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা।
একটি টেস্ট অর্ডার দিন, পেমেন্টের ধাপে যান আর দেখুন বিকাশের অপশন আসছে কিনা। সব
ঠিক থাকলে আপনার কাস্টমাররাও একই অভিজ্ঞতা পাবে, আর আপনার সেল মিস হওয়ার চান্স
অনেকটাই কমে যাবে।
কোড দিয়ে ইন্টিগ্রেশনের টিপস
আপনার ওয়েবসাইট যদি কাস্টম বিল্ড হয়, মানে কোনো রেডিমেড প্ল্যাটফর্ম ছাড়া
নিজস্বভাবে তৈরি, তাহলে কোড দিয়ে ইন্টিগ্রেশন করাটাই একমাত্র পথ। এটা শুনতে কঠিন
মনে হলেও আসলে অতটা ভয়ের না। বিকাশ তাদের অফিশিয়াল ডকুমেন্টেশনে সবকিছু ধাপে
ধাপে লিখে রেখেছে, শুধু মনোযোগ দিয়ে পড়লেই বুঝতে পারবেন। ইন্টিগ্রেশন
শুরু করার আগে বিকাশের API-এর তিনটি মূল ধাপ বুঝে নিন-Create Payment, Execute
Payment, আর Query Payment।
প্রথমে আপনি একটি পেমেন্ট রিকোয়েস্ট তৈরি করবেন, কাস্টমার সেটা কনফার্ম করবে,
তারপর আপনি সেটা Execute করে নিশ্চিত করবেন। ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে বিকাশ
পেমেন্ট গেটওয়ে বসানোর সময় এই তিনটি ধাপ সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করাটা সবচেয়ে
জরুরি কাজ। একটা ধাপ বাদ পড়লে পুরো পেমেন্ট প্রক্রিয়া ভেঙে পড়বে। কোড লেখার
সময় একটা কাজ অবশ্যই করবেন-প্রতিটি API রেসপন্স ভালো করে লগ করুন। মানে পেমেন্ট
সফল হোক বা ব্যর্থ, সব তথ্য আপনার সার্ভারে সেভ রাখুন।
পরে কোনো সমস্যা হলে এই লগ দেখেই বুঝতে পারবেন কোথায় গণ্ডগোল হয়েছে। আর সবশেষে
Error Handling-এর দিকে বিশেষ নজর দিন। ধরুন কাস্টমার পেমেন্টের মাঝপথে ইন্টারনেট
চলে গেল, তখন কী হবে? এই পরিস্থিতিগুলো আগে থেকে ভেবে কোডে সঠিক মেসেজ আর ফলব্যাক
রাখুন। কাস্টমার বিভ্রান্ত না হলে আপনার ব্যবসার উপর তার আস্থা আরো বাড়বে।
টেস্ট মোডে পেমেন্ট চেক করুন
আপনার ওয়েবসাইট যদি কাস্টম বিল্ড হয়, মানে কোনো রেডিমেড প্ল্যাটফর্ম ছাড়া
নিজস্বভাবে তৈরি, তাহলে কোড দিয়ে ইন্টিগ্রেশন করাটাই একমাত্র পথ। এটা শুনতে কঠিন
মনে হলেও আসলে অতটা ভয়ের না। বিকাশ তাদের অফিশিয়াল ডকুমেন্টেশনে সবকিছু ধাপে
ধাপে লিখে রেখেছে, শুধু মনোযোগ দিয়ে পড়লেই বুঝতে পারবেন। ইন্টিগ্রেশন শুরু করার
আগে বিকাশের API-এর তিনটি মূল ধাপ বুঝে নিন-Create Payment, Execute Payment, আর
Query Payment।
প্রথমে আপনি একটি পেমেন্ট রিকোয়েস্ট তৈরি করবেন, কাস্টমার সেটা কনফার্ম করবে,
তারপর আপনি সেটা Execute করে নিশ্চিত করবেন। ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে বিকাশ
পেমেন্ট গেটওয়ে বসানোর সময় এই তিনটি ধাপ সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করাটা সবচেয়ে
জরুরি কাজ। একটা ধাপ বাদ পড়লে পুরো পেমেন্ট প্রক্রিয়া ভেঙে পড়বে।
কোড লেখার সময় একটা কাজ অবশ্যই করবেন-প্রতিটি API রেসপন্স ভালো করে লগ করুন।
মানে পেমেন্ট সফল হোক বা ব্যর্থ, সব তথ্য আপনার সার্ভারে সেভ রাখুন। পরে কোনো
সমস্যা হলে এই লগ দেখেই বুঝতে পারবেন কোথায় গণ্ডগোল হয়েছে।
আর সবশেষে Error Handling-এর দিকে বিশেষ নজর দিন। ধরুন কাস্টমার পেমেন্টের মাঝপথে
ইন্টারনেট চলে গেল, তখন কী হবে? এই পরিস্থিতিগুলো আগে থেকে ভেবে কোডে সঠিক মেসেজ
আর ফলব্যাক রাখুন। কাস্টমার বিভ্রান্ত না হলে আপনার ব্যবসার উপর তার আস্থা আরো
বাড়বে।
নিরাপত্তা চেকলিস্ট ফলো করুন
পেমেন্ট গেটওয়ে বসানো মানে শুধু টাকা লেনদেনের ব্যবস্থা করা না, এর সাথে আপনার
কাস্টমারের আস্থাও জড়িয়ে আছে। একটা ছোট নিরাপত্তার ফাঁক আপনার পুরো ব্যবসার
সুনাম নষ্ট করে দিতে পারে। তাই এই বিষয়টাকে কখনো হালকাভাবে নেবেন না। সবার আগে
নিশ্চিত করুন আপনার ওয়েবসাইটে SSL সার্টিফিকেট আছে কিনা। মানে আপনার সাইটের URL
যেন "https" দিয়ে শুরু হয়, "http" দিয়ে না। বিকাশসহ যেকোনো পেমেন্ট গেটওয়ে
SSL ছাড়া কাজ করে না, আর কাস্টমারও এটা দেখে বুঝতে পারে সাইটটা নিরাপদ কিনা।
এরপর আপনার API Key গুলো কোথায় রাখছেন সেটা নিয়ে সতর্ক থাকুন। কোডের ভেতরে
সরাসরি Key লিখে রাখা একটা বড় ভুল যেটা অনেকেই করে ফেলেন। সবসময় Environment
Variable ব্যবহার করুন, আর গিটহাবে কোড পুশ করার আগে দুইবার চেক করুন Key ফাঁস
হচ্ছে কিনা। পেমেন্ট সফল হওয়ার পর বিকাশ আপনার সার্ভারে একটি নোটিফিকেশন পাঠায়,
যেটাকে IPN বা Instant Payment Notification বলে।
এই নোটিফিকেশন যাচাই না করে কখনো অর্ডার কনফার্ম করবেন না। কারণ কেউ চাইলে নকল
নোটিফিকেশন পাঠিয়ে বিনা পেমেন্টে অর্ডার নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, আর এই একটা
যাচাই সেই ঝুঁকি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
সাধারণ এরর ফিক্স করার উপায়
বিকাশ ইন্টিগ্রেশন করতে গিয়ে এরর আসবেই, এটা একদম স্বাভাবিক। ঘাবড়ানোর কিছু
নেই, কারণ বেশিরভাগ এরর আসলে খুব ছোট ছোট কারণে হয়। একটু ধৈর্য ধরে খুঁজলেই
সমাধান পেয়ে যাবেন। সবচেয়ে বেশি যে এরর দেখা যায় সেটা হলো "Invalid
Credentials"-মানে App Key বা App Secret ভুল বসানো হয়েছে। এই এরর দেখলে প্রথমেই
বিকাশ ড্যাশবোর্ডে গিয়ে Key দুটো আবার কপি করুন এবং খেয়াল রাখুন কপি করার সময়
আগে বা পরে কোনো ফাঁকা স্পেস ঢুকে যাচ্ছে কিনা। এই ছোট্ট স্পেসটাই অনেক সময় বড়
মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো পেমেন্ট Sandbox থেকে Live-এ নেওয়ার সময় কিছু সেটিং
বদলাতে ভুলে যাওয়া। অনেকেই Live Key বসান কিন্তু API-এর URL পরিবর্তন করতে ভুলে
যান, ফলে পেমেন্ট কাজ করে না। Sandbox আর Live-এর API এন্ডপয়েন্ট আলাদা, তাই
দুটো আলাদাভাবে চেক করে নিন।
পেমেন্ট মাঝপথে আটকে গেলে বা "Transaction Failed" দেখালে সরাসরি আপনার সার্ভার
লগ চেক করুন।
বিকাশ প্রতিটি রিকোয়েস্টের বিপরীতে একটি রেসপন্স কোড পাঠায়, সেই কোড দেখলেই
বুঝতে পারবেন সমস্যাটা ঠিক কোথায়। বিকাশের ডকুমেন্টেশনে এই কোডগুলোর মানে
বিস্তারিত লেখা আছে, একবার দেখে নিলে সমাধান খুঁজে পেতে বেশি সময় লাগবে না।
কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স স্মুথ করুন
শুধু পেমেন্ট গেটওয়ে কাজ করলেই হবে না, কাস্টমার যেন পুরো অভিজ্ঞতাটা উপভোগ করে
সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। একজন কাস্টমার চেকআউটে এসে যদি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে,
তাহলে সে অর্ডার না করেই চলে যাবে। আর একবার চলে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনা কিন্তু
বেশ কঠিন। পেমেন্টের ধাপগুলো যতটা সম্ভব সহজ আর কম রাখুন। কাস্টমারকে যদি
পাঁচ-ছয়টা স্ক্রিন পার করে পেমেন্ট করতে হয়, তাহলে মাঝপথেই বিরক্ত হয়ে যাবে।
চেকআউট পেজে বিকাশের লোগো স্পষ্টভাবে দেখান, যাতে কাস্টমার এক নজরেই বুঝতে পারে
এখানে বিকাশে পেমেন্ট করা যাবে।
পেমেন্ট প্রসেস হওয়ার সময় একটি লোডিং স্ক্রিন বা স্পিনার দেখান। অনেক সময়
পেমেন্ট কনফার্ম হতে কয়েক সেকেন্ড লাগে, আর এই ফাঁকে কাস্টমার যদি কিছু না দেখে
তাহলে ভাবে পেজ হ্যাং করে গেছে। ওয়েবসাইটের চেকআউট পেজে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে
বসানোর পর এই ছোট্ট ডিটেইলটা কাস্টমারের মনে অনেক বড় আস্থা তৈরি করে। একটু
চিন্তা করলেই বুঝবেন, অভিজ্ঞতা ভালো হলে কাস্টমার বারবার ফিরে আসে।
পেমেন্ট সফল হলে কাস্টমারকে একটি সুন্দর কনফার্মেশন পেজ দেখান এবং সাথে সাথে
এসএমএস বা ইমেইলে অর্ডার কনফার্মেশন পাঠান। এতে কাস্টমার নিশ্চিত হয় যে তার টাকা
সঠিক জায়গায় গেছে এবং অর্ডারটি প্রসেস হচ্ছে। এই একটা ছোট কাজ আপনার
ব্র্যান্ডের প্রতি কাস্টমারের বিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
সত্যি বলতে, এই পুরো প্রক্রিয়াটা প্রথমবার দেখলে একটু জটিল মনে হয়। কিন্তু
একবার হাত দিলেই বুঝবেন, এটা আসলে তেমন কঠিন কিছু না। ধাপগুলো গুছিয়ে করলে পুরো
কাজটা এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। আমি যখন প্রথমবার বিকাশ
ইন্টিগ্রেশন নিয়ে কাজ করি, তখন অনেক ছোট ছোট জায়গায় আটকে গিয়েছিলাম। তখন মনে
হচ্ছিল এটা বুঝি কখনো হবে না কিন্তু একটু ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে
যায়। আপনার ক্ষেত্রেও একই হবে, বিশ্বাস রাখুন।
বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজার এখন দ্রুত বাড়ছে, আর এই বাজারে টিকে থাকতে হলে
কাস্টমারের সুবিধামতো পেমেন্ট অপশন রাখাটা এখন আর বিলাসিতা না, এটা একটা
প্রয়োজনীয়তা। বিকাশ এখন কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ, তাই এটাকে আপনার
ওয়েবসাইটে যোগ করা মানে আপনি কাস্টমারের কাছে আরো একধাপ এগিয়ে যাচ্ছেন।
তাই আর দেরি না করে আজই শুরু করুন। মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলুন, API সেটআপ করুন,
আর আপনার চেকআউট পেজকে আরো শক্তিশালী করে তুলুন। প্রথম সফল পেমেন্ট নোটিফিকেশনটা
আসলে নিজেই বুঝবেন-এই কাজটা করাটা কতটা দরকার ছিল। 260416















অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url