অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
কম খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো একদম সম্ভব, শুধু একটু চিন্তা আর সৃজনশীলতা লাগবে। আজকের এই লেখায় আমি আপনাদের সাথে সবকিছু শেয়ার করবো-ধাপে ধাপে, বাস্তব উদাহরণ দিয়ে। অনেকেই বলবেন-"এত কম খরচে এত সুন্দর ঘর কীভাবে সম্ভব!"
পেজ সূচিপত্রঃ অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
- অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
- দেয়ালের রং আর ডিজাইন দিয়ে ঘরকে একদম নতুন লুক দেওয়া
- সস্তায় আলো ব্যবস্থা করে রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি
- বিছানা আর বালিশ সাজিয়ে ঘরকে কমফর্টেবল ও সুন্দর করার টিপস
- পুরনো জিনিসপত্র রিইউজ করে সুন্দর DIY ডেকোর বানানো
- ঘরে গাছপালা রেখে ফ্রেশ ও ন্যাচারাল ভাইব আনা
- কার্পেট, কার্টেন আর ছোট অ্যাকসেসরিজের ম্যাজিক
- ফার্নিচারগুলোকে স্মার্টলি সাজিয়ে স্পেস বাড়ানো
- ঘর পরিষ্কার রাখার সহজ স্টোরেজ আইডিয়া
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো আসলে খুব সহজ যদি একটু সৃজনশীলতা আর ধৈর্য নিয়ে এগোন। পুরনো জামাকাপড় বা পর্দা দিয়ে শুরু করুন, যেমন সুন্দর কুশন কভার সেলাই করে বিছানায় ছড়িয়ে দিন বা দেওয়ালে হালকা কাপড় ঝুলিয়ে হেডবোর্ডের মতো লুক তৈরি করুন। এতে ঘরটা একদম নতুন লাগবে আর খরচ বলতে শুধু সুতা আর সময়। দেওয়ালে পুরনো ছবি বা কাগজের কোলাজ লাগিয়ে আর্টওয়ার্ক বানান, রং চটকদার হলে তো কথাই নেই। আলোর ব্যবস্থাটা একটু চেঞ্জ করলে পুরো মেজাজ বদলে যায়।
বাজার থেকে সস্তায় পাওয়া ফেয়ারি লাইট বা পুরনো ল্যাম্পশেডে নতুন কাপড় জড়িয়ে দিন, সন্ধ্যায় জ্বালালে ঘরটা রোমান্টিক আর আরামদায়ক হয়ে ওঠে। ছোট ছোট গাছপালা যেমন মানি প্ল্যান্ট বা স্নেক প্ল্যান্ট রাখুন জানালার কাছে, এগুলো শুধু অক্সিজেন দেয় না, ঘরের লুকও ফ্রেশ করে। আর যদি আয়না থাকে তাহলে সেটা স্ট্র্যাটেজিক জায়গায় রাখুন যাতে আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘর বড় দেখায়। শেষে রঙের সমন্বয় আর ছোট ছোট ডিটেলস মাথায় রাখুন।
বিছানার চাদর আর কুশন একই টোনের রাখলে সবকিছু মিলে যায়, আর পুরনো বইয়ের তাক বা কাঠের বাক্স দিয়ে স্টোরেজও তৈরি করা যায়। এভাবে ধাপে ধাপে সাজালে কোনো বড় খরচ ছাড়াই আপনার শোবার ঘরটা নিজের মতো করে সুন্দর হয়ে উঠবে। তবে মনে রাখবেন, সাজানোর সময় নিজের পছন্দটাই সবচেয়ে বড়, তাহলেই ঘরটা সত্যি আরামের জায়গা হয়ে যাবে।
দেয়ালের রং আর ডিজাইন দিয়ে ঘরকে একদম নতুন লুক দেওয়া
দেয়ালের রং আর ডিজাইন দিয়ে ঘরকে একদম নতুন লুক দেওয়া আসলে সবচেয়ে সহজ আর
কার্যকরী উপায়, কারণ দেওয়ালগুলোই তো ঘরের মূল চরিত্র তৈরি করে পুরো ঘর রং করতে
গেলে যে খরচ হবে সেটা এড়িয়ে একটা বা দুটো দেওয়ালকে অ্যাকসেন্ট করে নিলেই চেহারা
বদলে যায় একেবারে। আমি যখন আমার ছোট ঘরটায় এটা করেছিলাম তখন শুধু হেডবোর্ডের
পেছনের দেওয়ালটা একটা হালকা ধূসর রঙে রাঙিয়ে দিয়েছিলাম, বাকি তিনটা দেওয়াল সাদা
রেখে দিয়েছি যাতে ঘরটা চাপা না লাগে, আর সত্যি বলছি রংটা কিনতে মাত্র চারশো টাকা
খরচ হয়েছিল কারণ লোকাল দোকান থেকে সস্তার এমালশন পেইন্ট নিয়েছি যেটা এক কোটেই কাজ
হয়ে যায়।
হালকা সবুজ বা নীল রং বেছে নিলে ঘরটা শান্ত আর ফ্রেশ লাগে, বিশেষ করে যাদের ঘর
ছোট তাদের জন্য এই রংগুলো স্পেস বাড়িয়ে দেয়, আর বড় ঘরে গাঢ় রং দিলে কোয়েজি আর
আরামদায়ক ভাইব আসে কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন রং করার আগে দেওয়াল ভালো করে
পরিষ্কার করে নাও, নাহলে পুরনো দাগ বেরিয়ে এসে সব মাটি করে দেবে। আর যদি পুরোপুরি
রং করতে না চান তাহলে ডিজাইনের দিকে ঝুঁকতে পারেন যেটা আরও কম খরচে হয়, যেমন সস্তা
ওয়াল স্টিকার বা ম্যাক্রামে হ্যাঙ্গিং দিয়ে দেওয়ালগুলোকে জীবন্ত করে তোলা।
আমার এক বন্ধু পুরনো কাপড়ের টুকরো দিয়ে ছোট ছোট ফ্রেম বানিয়ে দেওয়ালে ঝুলিয়ে
দিয়েছিল, দেখতে যেন কোনো বুটিক স্টোরের মতো লাগছিল আর খরচ হয়েছিল মাত্র দুশো
টাকা। পুরনো ম্যাগাজিনের ছবি কেটে কোলাজ বানানো যায় বা ইউটিউব থেকে সস্তা
ডিআইওয়াই আইডিয়া নিয়ে নিজের হাতে কিছু বানিয়ে নিলে ঘরটা একদম নিজস্ব হয়ে যায়, কেউ
কপি করতে পারবে না। ছোট ঘরে হালকা ডিজাইন রাখুন যাতে ভারী না লাগে, আর বড় ঘরে বড়
বড় প্যাটার্ন দিলে ঘরটা আরও প্রাণবন্ত হয় শেষমেশ এই ছোট ছোট চেঞ্জগুলোই ঘরকে এমন
লুক দেয় যে মনে হয় যেন নতুন করে সাজিয়েছি পুরোপুরি।
সস্তায় আলো ব্যবস্থা করে রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি
সস্তায় আলো ব্যবস্থা করে রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি করাটা আসলে ঘর সাজানোর সবচেয়ে
মজার আর সবচেয়ে সস্তা অংশ, কারণ দামি ল্যাম্প কিনতে না গিয়ে পুরনো জিনিসপত্র আর
কয়েকটা ফেয়ারি লাইটস দিয়েই রাতের বেলা ঘরটা যেন জাদুর মতো লাগে। অল্প খরচে নিজের
শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো যায় এই আলোর ব্যবস্থা করে, যেমন আমি মার্কেট থেকে
মাত্র আড়াইশো টাকায় ফেয়ারি লাইটস কিনে বিছানার মাথায় আর জানালার ধারে লাগিয়ে
দিয়েছিলাম, রাতে যখন জ্বালাই তখন মনে হয় কোনো রোমান্টিক ক্যাফেতে বসে আছি।
দিনের বেলায় জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিন যাতে ঘরটা ফ্রেশ লাগে,
আর রাতে উষ্ণ হলুদ আলো ব্যবহার করুন যেটা চোখে আরাম দেয় আর মেজাজটাও শান্ত করে,
পুরনো বোতল বা কাচের জার নিয়ে ভিতরে ছোট লাইট ঢুকিয়ে DIY টেবিল ল্যাম্প বানিয়ে
নিলে খরচ আরও কমে যায়, আমার একবার পুরনো কাঠের বাক্সে লাইট লাগিয়ে নাইটস্ট্যান্ড
বানিয়েছিলাম যেটা দেখতে এত সুন্দর লেগেছিল যে বন্ধুরা জিজ্ঞেস করতো কোথায়
কিনলি।
খেয়াল রাখুন লাইটগুলো যেন খুব উজ্জ্বল না হয়, নরম আলোই রোমান্টিক ভাইব আনে, আর
তারের গুছিয়ে লুকিয়ে রাখলে ঘরটা অগোছালো লাগে না এই ছোট ছোট ট্রিকস দিয়ে ঘরটা
শুধু সুন্দর নয়, প্রতি রাতে ফিরে আসার ইচ্ছা হয় এমন একটা জায়গা হয়ে ওঠে।
বিছানা আর বালিশ সাজিয়ে ঘরকে কমফর্টেবল ও সুন্দর করার টিপস
বিছানা আর বালিশ সাজিয়ে ঘরকে কমফর্টেবল ও সুন্দর করার টিপস আসলে সবচেয়ে সহজ আর
সবচেয়ে কার্যকরী উপায়, কারণ বিছানাটাই তো ঘরের মূল আকর্ষণ নতুন চাদর কিনতে গেলে
অনেক টাকা চলে যায়, কিন্তু সুতির সস্তা চাদর আর কয়েকটা রঙিন কুশন কভার দিয়ে যে
ম্যাজিক হয় সেটা দেখলে অবাক লাগে। আমি যখন প্রথমবার এটা করেছিলাম তখন মার্কেট
থেকে মাত্র তিনশো টাকায় দুটো সাদা-নীল চেকড চাদর কিনে নিয়েছিলাম, আর পুরনো শাড়ির
টুকরো দিয়ে দুটো কুশন কভার সেলাই করে নিয়েছিলাম যেটা দেখতে একদম ইউনিক
লেগেছিল।
বিছানার উপর চার-পাঁচটা বালিশ আর কুশন সাজিয়ে রাখলে ঘরটা যেন আলিঙ্গন করে রাখে,
কিন্তু অগোছালো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হয় বড় বালিশগুলো পেছনে, ছোট কুশনগুলো
সামনে রাখলে দেখতে সুন্দর আর বসতে আরামদায়ক হয়, আর এতে ঘরটা ছোট হলেও বড় আর
আমন্ত্রণমূলক লাগে। আর যদি ভাড়া বাড়িতে থাকো তাহলে এই টিপসগুলোই সবচেয়ে নিরাপদ,
কারণ কোনো দেওয়াল বা ফ্লোরে পরিবর্তন করতে হয় না, শুধু বিছানা সাজালেই পুরো ঘরের
লুক বদলে যায়।
আমার এক বন্ধু পুরনো লেপের কভার থেকে কুশন কভার বানিয়ে নিয়েছিল আর বিভিন্ন রঙের
ছোট ছোট কুশন একসাথে রেখে দিয়েছিল যাতে ঘরটা যেন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, রাতে শুতে
গেলে মনে হয় কোনো হোটেলের বেডে শুয়ে আছি, আর সকালে উঠে দেখলে মনটা ফ্রেশ হয়ে যায়।
খেয়াল রাখুন চাদরগুলো যেন নিয়মিত ধোয়া হয় আর বালিশের কভারগুলো ম্যাচিং রঙের হয়,
তাহলে ঘরটা শুধু সুন্দর নয়, প্রতিদিন ফিরে আসার ইচ্ছা জাগায় এই ছোট ছোট
পরিবর্তনগুলোই অল্প খরচে ঘরকে নিজের করে তোলে।
পুরনো জিনিসপত্র রিইউজ করে সুন্দর DIY ডেকোর বানানো
পুরনো জিনিসপত্র রিইউজ করে সুন্দর DIY ডেকোর বানানো আসলে সবচেয়ে মজার আর সবচেয়ে
সন্তুষ্টিদায়ক অংশ, কারণ ঘরে যা পড়ে আছে সেগুলোই নতুন করে ব্যবহার করলে টাকা তো
বাঁচে, সাথে ঘরটা একদম নিজের মতো হয়ে ওঠে। অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে
সাজানো যায় এই DIY আইডিয়াগুলো দিয়ে, যেমন আমি একবার পুরনো ম্যাগাজিনের পাতা কেটে
কোলাজ বানিয়েছিলাম আর সেটাকে সস্তা কার্ডবোর্ডের ফ্রেমে ভরে দেওয়ালে ঝুলিয়ে
দিয়েছিলাম, দেখতে যেন কোনো আর্ট গ্যালারির মতো লাগছিল।
পুরনো জামার টুকরো দিয়ে ম্যাক্রামে ওয়াল হ্যাঙ্গিং বানানো যায় বা কাঠের ছোট টুকরো
জোড়া দিয়ে ছোট ছোট শেল্ফ তৈরি করে নিলে গাছ বা বই রাখার জায়গা হয়ে যায়, আর
ইউটিউবে সার্চ করে "waste material DIY" দেখলে হাজারো আইডিয়া পাবে যেগুলো একদম
বাস্তব আর সহজ। খেয়াল রাখুন রং বা গ্লু যেন সস্তা আর নিরাপদ হয়, আর নিজের হাতে
বানানো বলে কেউ কপি করতে পারবে না - এই ছোট ছোট প্রজেক্টগুলো করতে গিয়ে ঘরটা শুধু
সুন্দরই হয় না, মনটাও ভরে যায় যে নিজের সৃজনশীলতায় কিছু করতে পেরেছি।
ঘরে গাছপালা রেখে ফ্রেশ ও ন্যাচারাল ভাইব আনা
ঘরে গাছপালা রেখে ফ্রেশ ও ন্যাচারাল ভাইব আনা আসলে সবচেয়ে সস্তা আর সবচেয়ে
জাদুকরী উপায়, কারণ কয়েকটা ছোট গাছ ঘরের ভিতরে এনে দিলেই মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজে
এসে বসে আছে। আমি যখন প্রথমবার এটা করেছিলাম তখন মার্কেট থেকে মাত্র দুশো টাকায়
দুটো মানি প্ল্যান্ট আর একটা স্নেক প্ল্যান্ট কিনে এনেছিলাম, জানালার কাছে আর
বিছানার পাশের টেবিলে রেখে দিয়েছিলাম যাতে সকালের আলো পায় আর রাতে শুয়ে দেখলেই
মনটা শান্ত হয়ে যায়, আসল গাছগুলো না শুধু দেখতে সুন্দর লাগে বরং বাতাসও ফ্রেশ করে
আর ঘরের ভিতরে একটা ন্যাচারাল সুগন্ধ ছড়ায়।
আরো পড়ুনঃ দুশ্চিন্তা দূর করার কার্যকরী ২০ উপায়
কৃত্রিম গাছ নিলে খরচ আরও কম হয় আর যত্নও কম লাগে, কিন্তু আসল গাছের মতো জীবন্ত
ভাইব কখনো আসে না, তাই ছোট ঘর হলে এক-দুটোই যথেষ্ট আর বড় ঘরে তিন-চারটে রাখলে
পুরো জায়গাটা যেন বন হয়ে ওঠে। খেয়াল রাখুন গাছগুলোকে সপ্তাহে একবার পাতা মুছে ধুলো
সাফ করতে, পানি দিতে ভুলো না কিন্তু বেশি দিলে শিকড় পচে যাবে, আর জানালার কাছে
রাখলে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস পেয়ে গাছগুলোও সুস্থ থাকে আর ঘরটা প্রতিদিন নতুন করে
ফ্রেশ লাগে এই ছোট ছোট গাছপালাই অল্প খরচে ঘরকে এমন ন্যাচারাল আর আরামদায়ক করে
তোলে যে বাইরে থেকে ফিরে আসার পর মনে হয় যেন নিজের ছোট্ট স্বর্গে ঢুকলাম।
কার্পেট, কার্টেন আর ছোট অ্যাকসেসরিজের ম্যাজিক
কার্পেট, কার্টেন আর ছোট অ্যাকসেসরিজের ম্যাজিক আসলে ঘর সাজানোর সেই ছোট ছোট
জিনিস যেগুলো দিয়ে পুরো লুকটা একেবারে বদলে যায় আর খরচও থাকে নামমাত্র। অল্প খরচে
নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো যায় এই কার্পেট কার্টেন আর অ্যাকসেসরিজ দিয়ে,
যেমন আমি পুরনো কার্টেন বদলে মাত্র পাঁচশো টাকায় একটা হালকা সুতির কার্টেন লাগিয়ে
দিয়েছিলাম যেটা জানালা দিয়ে আলো ঢুকতে দেয় আর ঘরটা যেন নরম নরম লাগে।
পুরনো চাদর বা মাদুর দিয়ে কার্পেটের কাজ চালিয়ে নিলে মেঝেটা নরম আর উষ্ণ হয়ে ওঠে,
ছোট ছোট জিনিস যেমন মোমবাতি, ছবির ফ্রেম বা একটা সস্তা আয়না দেওয়ালে ঝুলিয়ে দিলে
ঘরটা দ্বিগুণ বড় দেখায় আর প্রাণবন্ত হয়ে যায়, আমার একবার একটা ছোট আয়না কিনে
বিছানার উল্টোদিকে লাগিয়েছিলাম যাতে সকালের আলো প্রতিফলিত হয়ে পুরো ঘর আলোকিত
লাগে।
খেয়াল রাখুন অ্যাকসেসরিজগুলো যেন রঙে ম্যাচ করে আর অগোছালো না হয়, কয়েকটা মোমবাতি
বা ছোট ফুলদানি যোগ করলে রোমান্টিক ভাইব আসে, আর এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই ঘরকে
শুধু সুন্দর নয়, প্রতিদিন ফিরে আসার মতো আরামদায়ক জায়গা করে তোলে যেখানে মনটা
সবসময় শান্ত থাকে।
ফার্নিচারগুলোকে স্মার্টলি সাজিয়ে স্পেস বাড়ানো
ফার্নিচারগুলোকে স্মার্টলি সাজিয়ে স্পেস বাড়ানো আসলে ঘর সাজানোর সেই চাবিকাঠি
যেটা কোনো নতুন জিনিস কিনতে হয় না অথচ পুরো ঘরটাকে অনেক বড় আর খোলামেলা করে দেয়।
অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো যায় এই ফার্নিচার অ্যারেঞ্জমেন্ট
দিয়ে, যেমন আমি আমার ছোট ঘরে বিছানাটা দেওয়ালের সাথে লাগিয়ে দিয়ে মাঝখানের
জায়গাটা খালি করে নিয়েছিলাম আর দেখলাম ঘরটা যেন দ্বিগুণ বড় লাগছে।
পুরনো আলমারি বা চেয়ারগুলোকে একটু সরিয়ে সরিয়ে পরীক্ষা করে দেখো কোন
অ্যারেঞ্জমেন্টে সবচেয়ে বেশি স্পেস পাওয়া যায়, ছোট ঘরে মাল্টিপারপাস ফার্নিচার
ব্যবহার করুন যেমন একটা পুরনো চেয়ারকে নাইটস্ট্যান্ড বানিয়ে নেওয়া আমি ঠিক এটাই
করেছিলাম, রং করে নতুন লুক দিয়ে দিয়েছিলাম যাতে কাজও হয় আবার দেখতেও সুন্দর
লাগে।
বড় ঘরে ফার্নিচারগুলোকে কোণায় কোণায় সাজিয়ে মাঝখানটা খোলা রাখলে চলাফেরা সহজ হয়
আর ঘরটা আরও প্রশস্ত মনে হয়, খেয়াল রাখুন ফার্নিচারগুলো যেন অগোছালো না হয়ে একটা
ফ্লো তৈরি করে, এই স্মার্ট ট্রিকস দিয়ে অল্প খরচেই ঘরটা এমন হয়ে ওঠে যে মনে হয়
যেন নতুন বাড়িতে উঠেছি।
ঘর পরিষ্কার রাখার সহজ স্টোরেজ আইডিয়া
সবকিছু গুছিয়ে নিই, বাঁশের ঝুড়ি বা পুরনো কার্ডবোর্ডের বাক্সগুলোকে রং করে
স্টোরেজ বানিয়ে নিয়েছি যাতে জামাকাপড়, বই আর ছোট ছোট জিনিসপত্র সব আলাদা আলাদা
করে রাখা যায়, বিছানার নিচে বড় প্লাস্টিকের বাক্স রেখে সিজনাল জিনিস যেমন লেপ ও
তোশক বা অতিরিক্ত চাদর লুকিয়ে রাখি যাতে ঘরের মেঝেটা ফাঁকা থাকে আর চলাফেরা করতে
সুবিধা হয়। পুরনো আলমারির ভিতরে ছোট ছোট ডিভাইডার বানিয়ে নিলে জিনিসপত্র আরও
গুছিয়ে যায়, আর দেওয়ালের সাথে হুক লাগিয়ে ব্যাগ বা বেল্ট ঝুলিয়ে রাখলে মেঝেতে
কিছু পড়ে থাকে না।
এই সহজ আইডিয়াগুলো করতে কোনো বড় খরচ হয় না, শুধু একটু সময় আর সৃজনশীলতা লাগে,
কিন্তু ফলাফলটা অসাধারণ সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরে ঢুকলেই মনে হয় যেন নতুন করে
সাজিয়েছি, মনটা ফ্রেশ থাকে আর অতিথি এলে লজ্জা পেতে হয় না। শেষমেশ এই স্টোরেজ
টিপসগুলোই ঘরকে সবসময় টিপটপ আর আমন্ত্রণমূলক করে রাখে যাতে সাজানোর সৌন্দর্যটা
দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
শেষ কথায় বলবো যে, আপনি যদি আজ থেকেই শুরু করেন, হয়তো প্রথমে একটা দেওয়াল রং করবেন বা একটা গাছ রাখবেন, তারপর দেখবে্ন ধীরে ধীরে পুরো ঘরটা বদলে যাচ্ছে, আর সবচেয়ে ভালো
লাগার বিষয় হলো এই পরিবর্তনগুলো নিজের হাতে করা বলে ঘরটা একদম নিজের হয়ে যায়, কেউ
কপি করতে পারবে না। আমি তোমাদের বলবো, ভয় পেয়ো না, ছোট ছোট ধাপে এগোও, আর যদি
কোনো টিপস আপনার সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে তাহলে কমেন্টে জানাবেন, ছবি তুলে শেয়ার করুন ্তাহলে আমিও দেখে খুশি হবো।
শেষমেশ এই সাজানোর যাত্রাটা আপনাকে শেখাবে যে সৌন্দর্য টাকায় হয় না, সেটা হয়
সৃজনশীলতা আর আন্তরিকতায়, তাই আজই শুরু করে দিন, দেখবে এক মাস পর আপনার ঘরটা আপনার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হয়ে উঠেছে। শুভ সাজানো, আর সবসময় হাসিমুখে থাকবেন।
এমন আরো টিপস পেতে আমাদের পেজ অর্ডিনারি আইটিকে ফলো দিয়ে রাখতে ভুলবেন না। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন ধন্যবাদ। 260416






অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url