স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি অনেকেই শুরুতে বুঝতে পারেন না,
আর সেই ভুল থেকেই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। কখন বাজার হঠাৎ নিচে নেমে যায়
বা উপরে উঠে, তা আগে থেকেই জানা খুব জরুরি। একটু ভুল সিদ্ধান্তেই পুরো টাকা শেষ।
এই আর্টিকেলে সহজ ভাষায় এমন কিছু বাস্তব ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে যা নতুন ও পুরোনো
দুই ধরনের ইনভেস্টরদেরই জানা দরকার। ইনভেস্ট করার আগে যেসব বিষয় না জানলেই নয়,
সেগুলো জানুন এখনই এবং নিজের অর্থকে রাখুন আরও নিরাপদ।
পেজ সূচিপত্রঃ স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
- স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
- বাজারের উঠা-নামায় টাকা কোথায় হারিয়ে যায়
- কোম্পানি না চিনে শেয়ার কেনার বিপদ
- দেশের অর্থনীতি টালমাটাল হলে কী হয় শেয়ারবাজারে
- গুজব আর ভিড়ের সাথে দৌড়ানোর ফাঁদ
- প্রতারণা ও দাম কারসাজির শিকার হওয়া
- সরকারি নিয়ম বদলালে ইনভেস্টরদের কপালে কী
- ধার-দেনা করে শেয়ার কিনলে যে দুর্দশা
- সব টাকা এক জায়গায় লাগানোর মূর্খামি
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি তেমন কেও আমলে নেই না। কারণ শেয়ার বাজারের ইনভেস্ট বিষয়টা অনেকের কাছেই বেশ আকর্ষণীয় মনে
হয়। কারণ এখানে ভালো রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে আসলে এটা কোনো সহজ বা
ঝুঁকিমুক্ত কাজ নয়। প্রথম যে ঝুঁকিটা সবচেয়ে বড়, সেটা হলো পুরো মার্কেটের
ঝুঁকি। অর্থাৎ অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিলে, রাজনৈতিক অস্থিরতা হলে বা বিশ্বজুড়ে
কোনো বড় সংকট দেখা দিলে পুরো বাজার একসাথে নেমে যেতে পারে। তখন আপনার সব
শেয়ারের দাম একযোগে পড়বে এবং চাইলেও লোকসান কমিয়ে বিক্রি করতে পারবেন না।
দ্বিতীয় বড় ঝুঁকি হলো কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব সমস্যা। যদি সেই
কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট খারাপ হয়, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে বা হঠাৎ কোনো
স্ক্যান্ডাল বের হয়, তাহলে তার শেয়ারের দাম একেবারে তলানিতে চলে যেতে পারে।
এমনকি ভালো কোম্পানির ক্ষেত্রেও এমনটা হঠাৎ ঘটতে পারে। আপনি যত ভালোভাবে গবেষণা
করুন না কেন, সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এরপর আসে লিকুইডিটির ঝুঁকি।
অনেক শেয়ারের ক্ষেত্রে যখন আপনি বিক্রি করতে চান, তখন ক্রেতা পাওয়া যায় না।
বিশেষ করে ছোট কোম্পানি বা অস্থির বাজারে এটা খুব সাধারণ ঘটনা। ফলে দাম আরও
নেমে যায় অথবা আপনি আটকে যান।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলো ইনফ্লেশন আর সুদের হারের প্রভাব। যদি আপনার
ইনভেস্টমেন্ট ইনফ্লেশনের চেয়ে কম রিটার্ন দেয়, তাহলে আসলে আপনি লোকসানেই
থাকবেন। সুদের হার বাড়লে ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট আরও আকর্ষক হয়ে ওঠে, ফলে
শেয়ারের দাম পড়ে যায়। আরেকটা বড় ব্যাপার হলো মানসিক বা আবেগের ঝুঁকি। বাজার পড়ে
গেলে অনেকে ভয়ে তাড়াহুড়ো করে বিক্রি করে ফেলেন। আবার উঠলে FOMO-তে কিনে বসেন।
এতে লোকসান আরও বেড়ে যায়। যদি আপনি লিভারেজ বা মার্জিন ট্রেডিং করেন, তাহলে তো
ঝুঁকি আরও অনেক গুণ বেড়ে যায়-সামান্য পড়লেই পুরো পুঁজি শেষ হয়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল বাজারে রেগুলেটরি পরিবর্তন, মার্কেট
ম্যানিপুলেশন আর খবরের ভিত্তিতে হুড়োহুড়ি তো প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। সব মিলিয়ে
বলতে গেলে, শেয়ার বাজারে টাকা রাখলে সবসময়ই একটা সম্ভাবনা থাকে যে আপনি আপনার
মূলধন হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই শুরু করার আগে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য ভালো
করে বুঝে নিন। ডাইভার্সিফাই করুন, দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করুন এবং শুধুমাত্র যে
টাকা হারালে আপনার ঘুমের সমস্যা হবে না, সেই টাকাটাই ইনভেস্ট করুন। এটা কোনো
রাতারাতি ধনী হওয়ার রাস্তা নয়, বরং শেখার এবং সতর্ক থাকার জায়গা।
বাজারের উঠা-নামায় টাকা কোথায় হারিয়ে যায়
শেয়ার বাজারে টাকা হারানোর সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো এই উঠা-নামা। একদিন শেয়ারের
দাম ১০ টাকা বেড়ে গেল, আপনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে ভাবলেন এবার লাভের পাহাড়, পরের
দিনই হয়তো ১৫-২০ টাকা কমে গেল। এটাকে বলে ভোলাটিলিটি। আপনি যদি মনে করেন এটা
শুধু খবরের কাগজে লেখা কথা, তাহলে বড় ভুল করবেন। ২০১০ সালের সেই বিখ্যাত
ক্র্যাশটা এখনো অনেকের মনে আছে। তখন অনেকে সারা জীবনের সঞ্চয় শেয়ারে ঢেলে দিয়ে
রাতারাতি সব হারিয়ে রাস্তায় বসেছিলেন। এখনো ২০২৬ সালে দেখছি, বিদেশি
বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ করে বিক্রি শুরু করলেই পুরো বাজার নড়ে যায় আর সাধারণ
ইনভেস্টরদের টাকা কোথায় যে উবে যায়, বোঝাই যায় না।
আপনি যদি শর্ট টার্মে খেলতে চান, তাহলে এই উঠা-নামাই আপনার ঘুম কেড়ে নেবে।
প্রতিদিন দামের ওঠানামা দেখে মনের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। আর যদি লং টার্মে
থাকতে চান, তাহলেও ধৈর্যের খুব দরকার। মাঝপথে ভয় পেয়ে বিক্রি করে দিলে লোকসান
গুনতে হবে। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, যারা শান্ত মাথায় না থেকে আবেগের
বশে সিদ্ধান্ত নেন, তারাই সবচেয়ে বেশি টাকা হারান। তাই আগে থেকে বুঝে নিন,
বাজারের এই খেলায় টাকা হারিয়ে যাওয়াটা খুব সহজ, কিন্তু ফেরত আনাটা অনেক কঠিন।
কোম্পানি না চিনে শেয়ার কেনার বিপদ
অনেকেই শেয়ার কেনার সময় শুধু দাম বাড়ছে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তাড়াহুড়ো
করে কিনে ফেলেন। স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি এখানে
সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করে, কারণ কোম্পানির ব্যালেন্স শিট, ম্যানেজমেন্টের
যোগ্যতা, ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বা আর্থিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কিছুই না জেনে
টাকা লাগানো খুবই বিপজ্জনক। আমার এক বন্ধু ঠিক এই ভুল করে একটি সিমেন্ট
কোম্পানির শেয়ারে অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।
আরো পড়ুনঃ ড্রপশিপিং বিজনেস থেকে ইনকাম করার উপায়
তিনি শুধু দেখেছিলেন দাম বাড়ছে, কিন্তু পরে জানতে পারেন কোম্পানির ঋণের বোঝা
অত্যধিক, লাভের চেয়ে লোকসান বেশি এবং ম্যানেজমেন্টও দুর্বল। ফলে শেয়ারের দাম
ধীরে ধীরে অনেক নেমে যায় এবং তিনি এখনো সেই লোকসান থেকে বের হতে পারেননি। এজন্য
কোম্পানিকে ভালোভাবে না চিনে শেয়ার কেনাকে অনেকেই জুয়া খেলার সাথে তুলনা করেন।
দেশের অর্থনীতি টালমাটাল হলে কী হয় শেয়ারবাজারে
বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আসলে দেশের অর্থনীতির আয়নার মতো। যদি দেশের অর্থনীতি
কোনো কারণে টালমাটাল হয়ে যায়, তাহলে শেয়ারের দামও সঙ্গে সঙ্গে নড়ে যায়। ধরুন
ডলারের দাম হঠাৎ বেড়ে গেল, জ্বালানির দাম বাড়ল কিংবা মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেল-এসব
কিছুই কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে তাদের লাভ কমে, আর
শেয়ারের দামও নেমে আসে। আপনি যদি ভাবেন শুধু কোম্পানির খবর দেখলেই চলবে, তাহলে
ভুল করবেন। পুরো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে আপনার ইনভেস্টমেন্টও নিরাপদ
থাকে না।
১৯৯৬ সালের সেই বিখ্যাত ক্র্যাশটা এখনো অনেকে মনে করে। তখন দেশের অর্থনীতির
অবস্থা একদম খারাপ ছিল, ফলে বাজার একেবারে ধসে পড়েছিল। এখনো ২০২৬ সালে যদি কোনো
বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিশ্বব্যাপী কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আপনার
শেয়ারের দামও কমতে শুরু করবে। আপনি একা কিছু করতে পারবেন না, কারণ পুরো
সিস্টেমই নড়বড়ে হয়ে যাবে। তাই অর্থনীতির খবর না জেনে শেয়ারবাজারে টাকা লাগানো
মানে অন্ধকারে ঢিল ছোড়া।
গুজব আর ভিড়ের সাথে দৌড়ানোর ফাঁদ
ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রায়ই একটা উত্তেজক খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ
লিখে দেয় এই কোম্পানি বড় কোনো অর্ডার পেয়েছে বা শেয়ারের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি এখানে সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়
কারণ মানুষ না যাচাই করে শুধু হুজুগে পড়ে কিনতে শুরু করে। যারা এভাবে ভিড়ের
সাথে দৌড়ায় তারা প্রায়ই পরে বুঝতে পারেন যে খবরটা পুরোপুরি মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত
ছিল। দাম কয়েকদিন বেড়ে যায় ঠিকই, কিন্তু তারপর হঠাৎ করে পড়তে শুরু করে।
আমি দেখেছি অনেক নতুন ইনভেস্টর এই ফাঁদে পড়ে তাদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়েছেন।
এই ধরনের গুজব আর ভিড়ের সাথে চলার অভ্যাস থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিজে
রিসার্চ করতে হবে। কোনো খবর শুনলেই অন্ধের মতো ছুটবেন না। নিজের মাথা ঠান্ডা
রেখে সিদ্ধান্ত নিলে তবেই এই ঝুঁকি থেকে অনেকটা বাঁচা যায়।
প্রতারণা ও দাম কারসাজির শিকার হওয়া
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি এখানে সবচেয়ে বড় আকার ধারণ
করে যখন বাজারে কিছু অসাধু লোক শেয়ারের দাম নিয়ে খেলা শুরু করে। তারা হঠাৎ করে
দাম বাড়িয়ে দেয়, যাতে সাধারণ ইনভেস্টররা লোভে পড়ে কিনে ফেলেন। পরে যখন অনেকে
কিনে নেয়, তখন তারা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে দাম কমিয়ে দেয় এবং সরে পড়ে। ফলে
ছোট ছোট ইনভেস্টররা বড় লোকসানের মুখে পড়েন। বাংলাদেশের বাজারে এই দাম কারসাজি
খুবই সাধারণ একটা ঘটনা।
অনেক সময় দেখা যায় কোনো একটা কোম্পানির শেয়ারের দাম কয়েকদিনের মধ্যে
অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, কিন্তু পেছনে কোনো বাস্তব খবর থাকে না। যারা এই ফাঁদে
পা দেন তারা পরে বুঝতে পারেন যে পুরোটাই একটা সাজানো খেলা ছিল। আমি নিজে অনেকের
গল্প শুনেছি যারা এভাবে প্রতারিত হয়ে সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়েছেন।
আরো পড়ুনঃ ব্যাংক লোন পাওয়ার জন্য অনলাইন ফর্ম পূরণ
২০১০ সালের ক্র্যাশে তো এই ধরনের কারসাজির কারণে হাজার হাজার ইনভেস্টর সবকিছু
হারিয়েছিলেন। তাই না বুঝে বা কোনো যাচাই না করে শেয়ার কেনা মানে সরাসরি এই
প্রতারণার শিকার হওয়া। আপনি যদি সতর্ক না হন তাহলে এই ফাঁদ থেকে বের হওয়া খুব
কঠিন হয়ে যায়। নিজের রিসার্চ আর সতর্কতাই একমাত্র রক্ষাকবচ।
সরকারি নিয়ম বদলালে ইনভেস্টরদের কপালে কী
দেখুন, শেয়ারবাজারে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে একটা হলো সরকারি
নিয়মকানুন হঠাৎ বদলে যাওয়া। একদিন সরকার ঘোষণা করল মার্জিন লোনের নিয়ম শক্ত করা
হচ্ছে, পরের দিন হয়তো শেয়ারের ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে দিল-সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাজার
নেমে যায়। আপনি কিছুই করতে পারবেন না, কারণ এটা আপনার হাতের বাইরে। বাংলাদেশের
বাজারে এই ধরনের রেগুলেটরি পরিবর্তন খুবই সাধারণ। অনেক সময় দেখা যায়, নতুন নিয়ম
আসার আগে কেউ জানতেও পারে না, আর যখন জানে ততক্ষণে দাম অনেকটা পড়ে গেছে।
এই নিয়ম বদলের কারণে ছোট ইনভেস্টরদের কপালে যে দুর্দশা হয়, সেটা বলে শেষ করা
যায় না। যারা ধার করে শেয়ার কিনেছিলেন, তারা লোন শোধ করতে গিয়ে আরও বেশি
লোকসানে পড়েন। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, তারা বলেন যে বাজারে টাকা
লাগানোর আগে সরকারি নীতির খবর রাখা খুব জরুরি। নইলে একটা ছোট্ট নোটিফিকেশনেই
আপনার সঞ্চয়ের বড় অংশ উবে যেতে পারে। তাই যারা বাজারে আছেন বা ঢুকতে চান, তাদের
উচিত নিয়মিত বিএসইসি বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপডেটগুলো নজরে রাখা।
ধার-দেনা করে শেয়ার কিনলে যে দুর্দশা
অনেক নতুন ইনভেস্টর শেয়ার কেনার সময় নিজের টাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে মার্জিন লোন
নিয়ে বা ধার-দেনা করে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করেন। স্টক মার্কেট বা শেয়ার
বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি এখানে অনেকগুণ বেড়ে যায় কারণ বাজার যদি একটু নামতে
শুরু করে তাহলে লোনের চাপে পড়ে সবকিছু নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যায়। দাম কমে
গেলে শুধু শেয়ারের লোকসান নয়, লোনের সুদসহ পুরো টাকা শোধ করতে হয়।
এতে অনেকে বাড়ি-জমি, গয়না বা অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য হন। আমি এমন
অনেকের গল্প শুনেছি যারা ধার করে শেয়ার কিনে জীবনের সব সঞ্চয় হারিয়ে একেবারে
সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। তাই যারা এখনো নতুন, তাদের জন্য আমার স্পষ্ট
পরামর্শ-কখনো ধার-দেনা করে শেয়ারবাজারে ঢোকবেন না।
সব টাকা এক জায়গায় লাগানোর মূর্খামি
অনেক ইনভেস্টর একটা কোম্পানির শেয়ার দেখে মনে করেন এটাই সেরা, তাই সব টাকা
এখানে ঢেলে দেন। তারা ভাবেন যে এই একটা জায়গায় সবকিছু লাগালে বড় লাভ হবে।
কিন্তু এটা আসলে বড় মূর্খামি। যদি সেই কোম্পানির ব্যবসায় কোনো সমস্যা হয়,
ম্যানেজমেন্ট খারাপ হয়ে যায় বা বাজারে হঠাৎ কোনো খারাপ খবর আসে, তাহলে পুরো
টাকাটাই একসঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়। আমি দেখেছি অনেকে এভাবে সারা জীবনের সঞ্চয় একটা
জায়গায় লাগিয়ে পরে আফসোস করেছেন, কারণ একটা ভুল সিদ্ধান্ত সবকিছু শেষ করে
দেয়।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশী ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম
তাই স্মার্ট উপায় হলো টাকা ছড়িয়ে রাখা, অর্থাৎ বিভিন্ন কোম্পানি এবং বিভিন্ন
সেক্টরে ছোট ছোট করে বিনিয়োগ করা। একটা কোম্পানি খারাপ চললেও অন্যগুলো ভালো
চললে সামগ্রিক লোকসান অনেক কম হয়। এতে ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ে এবং আপনার পোর্টফোলিও
অনেকটা নিরাপদ থাকে। আমি যাদের সঙ্গে কথা বলি তারা বলেন, শুরু থেকেই এই অভ্যাস
করলে পরে আর চিন্তা করতে হয় না। তাই এক জায়গায় সব টাকা না লাগিয়ে বুদ্ধি করে
ছড়িয়ে রাখুন, তাহলে শেয়ারবাজারের এই ঝুঁকি থেকে অনেকটা বাঁচা যায়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
শেষ কথা হলো, স্টক মার্কেট অথবা শেয়ার বাজারে টাকা ইনভেস্ট করার ঝুঁকি একেবারে
এড়ানো যায় না, কিন্তু সঠিক জ্ঞান, সতর্কতা আর ধৈর্যের মাধ্যমে এটাকে অনেকটাই
কমিয়ে আনা সম্ভব। আপনি যদি আগে ভালোভাবে শিখে নেন, ছোট ছোট করে শুরু করেন,
নিজে রিসার্চ করে সিদ্ধান্ত নেন এবং আবেগের বশে কোনো কাজ না করেন, তাহলে একদিন
লাভের মুখ দেখতে পারবেন। কিন্তু না জেনে-বুঝে হুজুগে পড়ে ঢুকলে পরে আফসোস করা
ছাড়া আর কিছু থাকবে না, তাই সাবধানে চলুন এবং টাকা হারিয়ে জীবনটা খারাপ করবেন
না। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টে জানাবেন, আমি সাধ্যমতো উত্তর দেওয়ার
চেষ্টা করব। এমন আরো নিত্যনতুন কন্টেন্ট পেতে অর্ডিনারি আইটির পেজ ফলো দিয়ে
রাখুন। সবাইকে শুভকামনা। 260416




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url