জুম মিটিংয়ে স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম
জুম মিটিংয়ে স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম জানলে কয়েক মিনিটেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। নতুন ব্যবহারকারী হলেও চিন্তা নেই, ধাপে ধাপে অনুসরণ করলেই কাজ হবে।
শিক্ষকরা কেন এই ফিচারটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, সেটাও জানবেন। নতুন ব্যবহারকারী হলেও চিন্তা নেই, ধাপে ধাপে সবকিছু সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
পেজ সুচিপত্রঃ জুম মিটিংয়ে স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম
- জুম মিটিংয়ে স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম
- ক্লাসের আগে মাইক সেটিং ঠিক করার উপায়
- মাইক খোলা রাখলে কী সমস্যা হয়
- হোস্ট হিসেবে মাইক কন্ট্রোলের সহজ উপায়
- স্টুডেন্টদের মাইক মিউট নিয়ম বোঝানো
- ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ কমানোর টিপস
- ছোট বাচ্চাদের মাইক ম্যানেজমেন্ট
- রেকর্ডিংয়ের সময় মাইক স্ট্যাটাস
- প্রশ্ন করার সময় মাইক আনমিউটের নিয়ম
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
জুম মিটিংয়ে স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম
জুম মিটিংয়ে স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম না জানলে অনলাইন ক্লাসে
বিশৃঙ্খলা অনিবার্য। একটু ভাবুন-৪০ জন স্টুডেন্ট একসাথে মাইক অন রেখে বসে আছে।
কেউ কাশছে, কেউ পাশের ঘর থেকে আসা টিভির শব্দ নিয়ে ঢুকছে, কেউবা অজান্তেই নিজের
কীবোর্ডের ক্লিক শব্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে পুরো ক্লাসে। শিক্ষকের কথা? সেটা কোথাও
হারিয়ে যাচ্ছে এই শব্দের ভিড়ে।এই সমস্যাটা আসলে নতুন না।
অনলাইন ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকেই শিক্ষকরা এই একটা জায়গায় বারবার হোঁচট
খেয়েছেন। সমাধান আছে, কিন্তু সেটা ঠিকমতো প্র্যাকটিস করা হয় না। মাইক মিউট
রাখার নিয়মটা ছোট মনে হলেও, এটাই পুরো ক্লাসের পরিবেশ ঠিক রাখে। চলুন জেনে নেই
কয়েকটি ছোট ছোট স্টেপ ফলো করেই আপনি পারটিসিপেন্ট মিউট করার পদ্ধতি যেনে যাবেন।
প্রথমেই আপনার জুম অ্যাপ এ লগিন করে নিন।
এরপর নিচের ইমেজ এর মত "New Metting" এ ক্লিক করুন ও মিটিং এ প্রবেশ করুন।
এরপর মিটিং উইন্ডো তে থাকা অবস্থায় একটু বামের দিকে নিচে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন
"Participants" লেখা আছে ওখানে ক্লিক করবেন।
এখানে ডানের দিকে একটি উইন্ডো ওপেন হবে দেখতে পাবেন নিচের মত । এখানে কে কে মিটিং
এ আছে সেটির লিস্ট দেখা যাবে। এবার নিচের দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন "Mute All"
অপশন আসছে এখানে ক্লিক করুন।
এবার মিউট এ ক্লিক করার পর আপনার সামনে নিচের ইমেজ এর মত একটি পপ আপ উইন্ডো আসবে।
এখানে "Allow participants to unmute themselves" এইটিতে চেক বা টিক দিয়ে রাখলে
আপনার স্টুডেন্ট বা পার্টিসিপেন্ট নিজেরাই তাদের মাইক্রোফোন আনমিউট করতে পারবে।
বা নিচের ইমেজ এর মত এই অপশনটিকে আনচেক বা টিক মার্ক তুলে দিলে আপনি আপনার পছন্দমত পারটিসিপেন্ট কে বা স্টুডেন্টদের মিউট বা আনমিউট করতে পারবেন। ফলে আপনার স্টুডেন্টরাও নিজেদের আর আনমিউট করতে পারবে না।
এরপর "Mute All" এ ক্লিক করুন।
নিচের ইমেজে আপনার মিটিং এ থাকা সব পারটিসিপেন্ট দের সাথে সাথেই তাদের মাইক্রোফোন মিউট হয়ে যাবে।
পরবর্তীতে আপনি যদি চান তাহলে এক এক করে আনমিউট বাটনে ক্লিক করেও মিউট এবং আনমিউট
করতে পারবেন।
অনলাইন ক্লাস মানেই একটা চ্যালেঞ্জ-নেটওয়ার্ক, ডিভাইস, মনোযোগ সব কিছুতেই একটু
বেশি কষ্ট করতে হয়। তার মধ্যে মাইক মিউট রাখার এই ছোট্ট অভ্যাসটা পুরো
ক্লাসটাকে অনেক সহজ করে দেয়। আপনি মিউটে থাকলে শিক্ষক ভালো পড়াতে পারেন,
বাকিরা ভালো শুনতে পারে-আর শেষ পর্যন্ত লাভটা আপনারই।
ক্লাসের আগে মাইক সেটিং ঠিক করার উপায়
ক্লাস শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মাইক নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করাটা আসলে বেশ
বিরক্তিকর। আপনি কি জানেন, বেশিরভাগ সমস্যা তৈরি হয় শুধুমাত্র আগে থেকে সেটিং না
দেখার কারণে? জুম খুলে Settings> Audio-তে গেলেই দেখবেন সব অপশন সাজানো আছে।
জুম মিটিংয়ে স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম মানাটা অনেক সহজ হয়ে যায়
যদি আপনি ক্লাসের আগেই মাইকটা একবার টেস্ট করে নেন। Zoom-এর Audio Settings-এ
ঢুকলে "Test Mic" বলে একটা অপশন পাবেন। সেখানে ক্লিক করে একটু কথা বলুন-রেকর্ড
হবে, তারপর প্লেব্যাক হবে। নিজেই বুঝতে পারবেন শব্দ ঠিকঠাক আসছে কিনা। এই ছোট্ট
কাজটা না করলে ক্লাসের মাঝখানে গিয়ে আবিষ্কার করবেন মাইক কাজ করছে না।
"Suppress Background Noise" অপশনটা High রাখুন সবসময়। এটা চালু থাকলে আশেপাশের
ফ্যানের শব্দ, রাস্তার গোলমাল বা ঘরের ভেতরের সাধারণ আওয়াজ অনেকটাই ফিল্টার হয়ে
যায়। আপনি কথা না বললে মাইক থেকে কোনো শব্দ যাবে না-এটা নিশ্চিত করতে পারলেই
পুরো ক্লাস অনেক বেশি গোছানো থাকে।
একটা কাজ আরও করতে পারেন-"Automatically join audio by computer" অপশনটা চালু
রাখুন। এতে প্রতিবার ক্লাসে ঢোকার সময় আলাদা করে অডিও কানেক্ট করতে হবে না। আর
যদি হেডফোন ব্যবহার করেন, তাহলে তো আরও ভালো-ইকো কমে, শব্দ পরিষ্কার হয়, ক্লাসের
পুরো অভিজ্ঞতাটাই বদলে যায়।
মাইক খোলা রাখলে কী সমস্যা হয়
একটু ভাবুন-৩০ জন স্টুডেন্ট একসাথে মাইক খোলা রেখে জুম ক্লাসে বসে আছেন। কেউ চা
বানাচ্ছেন, কেউ পাশের ঘর থেকে আসা টিভির শব্দ নিয়ে ঢুকছেন, কেউবা অজান্তেই
নিঃশ্বাসের শব্দ ছড়িয়ে দিচ্ছেন পুরো ক্লাসে। শিক্ষকের কণ্ঠস্বর এই শব্দের ভিড়ে
কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে-আর বাকি স্টুডেন্টরা বুঝতেই পারছেন না আসলে কী পড়ানো
হচ্ছে। শুধু শব্দদূষণই না, মাইক খোলা থাকলে ইকো সমস্যাও তৈরি হয়। একজনের স্পিকার
থেকে বের হওয়া শব্দ আরেকজনের মাইক ধরে ফেলে-আর সেটা আবার ঘুরে আসে। এই ইকো লুপে
পুরো ক্লাস এলোমেলো হয়ে যায়, শিক্ষককে বারবার থামতে হয়। মনোযোগ ধরে রাখাটা তখন
সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে।
এর বাইরেও একটা সমস্যা আছে যেটা অনেকে খেয়াল করেন না। মাইক খোলা থাকলে ইন্টারনেট
ব্যান্ডউইথ বেশি খরচ হয়। মানে আপনার নেট স্লো হয়ে যেতে পারে শুধুমাত্র
অপ্রয়োজনীয় অডিও ট্রান্সমিট হওয়ার কারণে। বাংলাদেশের মতো জায়গায় যেখানে
নেটের গতি এমনিতেই একটু অনিশ্চিত, সেখানে এই ছোট্ট অভ্যাসটা না মানলে ক্লাসের
মাঝখানে কানেকশন ড্রপ করার ঝুঁকি থাকে।
হোস্ট হিসেবে মাইক কন্ট্রোলের সহজ উপায়
আপনি যদি ক্লাসের হোস্ট হন, তাহলে মাইক কন্ট্রোলের ব্যাপারটা আপনার হাতেই থাকে-আর
এটা সত্যিই একটা বড় সুবিধা। Participants প্যানেল খুললেই দেখবেন প্রতিটা
স্টুডেন্টের নামের পাশে মাইকের আইকন আছে। যেকোনো একজনকে মিউট করতে চাইলে শুধু সেই
আইকনে ক্লিক করুন-কাজ শেষ। আর পুরো ক্লাসকে একসাথে মিউট করতে চাইলে "Mute All"
বাটনটা একবার চাপলেই হয়।
ক্লাস শুরুর আগেই "Mute Participants Upon Entry" অপশনটা চালু রাখুন। এটা চালু
থাকলে কেউ ক্লাসে ঢোকামাত্র তার মাইক অটোমেটিক মিউট হয়ে যায়-আপনাকে আলাদা করে
কিছু করতে হয় না।
তবে একটা কথা মনে রাখবেন, হোস্ট চাইলে যেকোনো স্টুডেন্টকে মিউট করতে পারেন,
কিন্তু জোর করে আনমিউট করার অধিকার নেই। আনমিউট করার সিদ্ধান্ত সবসময়
স্টুডেন্টের নিজের। "Allow Participants to Unmute Themselves" অপশনটাও একটু বুঝে
ব্যবহার করুন। বড় ক্লাসে এটা বন্ধ রাখলে শৃঙ্খলা ভালো থাকে-স্টুডেন্ট শুধু
"Raise Hand" করবে, আপনি অনুমতি দিলে তারপর কথা বলবে। ছোট ক্লাসে অবশ্য খোলা
রাখলেও সমস্যা নেই, বরং আলোচনাটা তখন আরও প্রাণবন্ত হয়। কোন ক্লাসে কোন সেটিং
দরকার সেটা একটু বুঝে নিলেই পুরো ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
স্টুডেন্টদের মাইক মিউট নিয়ম বোঝানো
নিয়ম বললেই অনেকে একটু গুটিয়ে যান-মনে হয় যেন কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। কিন্তু
মাইক মিউটের বিষয়টা আসলে কড়াকড়ি না, এটা একটা সহজ সমঝোতা। আপনি যদি
স্টুডেন্টদের প্রথম দিনেই বুঝিয়ে বলেন কেন এই নিয়মটা দরকার, তাহলে পরে আর
বারবার মনে করিয়ে দিতে হয় না। মানুষ তখনই নিয়ম মানে, যখন সে বোঝে নিয়মটা আসলে
তার নিজের জন্যই। ক্লাসের শুরুতে একটু সময় নিন। সরাসরি বলুন-"আমরা সবাই মিউটে
থাকব, প্রশ্ন থাকলে হাত তুলব।"
এটুকু বললেই যথেষ্ট। জটিল ব্যাখ্যা দিতে যাবেন না, কারণ সহজ কথা মাথায় বেশি
থাকে। স্টুডেন্টরা একবার অভ্যাস করে ফেললে নিজেরাই একে অপরকে মনে করিয়ে দেয়-এটা
আপনি একটু পরেই টের পাবেন। নতুন স্টুডেন্টদের জন্য একটা ছোট্ট গাইড বানিয়ে রাখতে
পারেন-স্ক্রিনশট দিয়ে দেখিয়ে দিন মাইক কোথায়, হাত তোলার বাটন কোথায়। জুম
মিটিংয়ে স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম অনেকের কাছে প্রথমবার একটু
অপরিচিত লাগে, তাই ভিজ্যুয়াল গাইড থাকলে দ্বিধাটা কমে যায়। এই ছোট্ট
প্রস্তুতিটা পুরো সেমিস্টারের ক্লাসগুলো অনেক মসৃণ করে দেয়।
একটা কথা সবসময় মাথায় রাখবেন-বকাঝকা করে নিয়ম মানানো যায় না, বোঝালেই মানে।
স্টুডেন্ট যদি ভুলে মাইক খোলা রাখে, রাগ না করে শান্তভাবে বলুন। এই ছোট্ট মানবিক
ব্যবহারটাই ক্লাসের পরিবেশ তৈরি করে-আর সেই পরিবেশেই শেখাটা ঠিকমতো হয়।
ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ কমানোর টিপস
ক্লাস শুরুর আগে একটু চারপাশটা দেখুন-ফ্যান কি সরাসরি মাইকের দিকে ঘুরছে, জানালা
দিয়ে রাস্তার শব্দ আসছে কিনা, পাশের ঘরে টিভি চলছে কিনা। এই ছোট ছোট জিনিসগুলো
আগে থেকে ঠিক করে নিলে ক্লাসের মাঝখানে আর বিব্রত হতে হয় না। একটু সচেতনতাই পুরো
পরিবেশটা বদলে দেয়। Zoom-এর Settings> Audio-তে গিয়ে "Suppress Background
Noise" অপশনটা High-এ রাখুন-এটা একাই অনেক কাজ করে। হেডফোন ব্যবহার করুন, সম্ভব
হলে। ইয়ারফোন বা হেডসেট থাকলে স্পিকারের শব্দ মাইকে ঢোকার সুযোগ পায় না, ফলে
ইকো তৈরি হয় না।
বাইরের শব্দও অনেকটা কমে যায়। এটা হয়তো ছোট একটা পরিবর্তন মনে হচ্ছে, কিন্তু
ক্লাসের মান আসলে এই ছোট্ট জিনিসটাতেই অনেকখানি নির্ভর করে। কথা না বললে মাইক
মিউটে রাখুন-এটাই সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়। আপনার ঘরে যত শব্দই হোক, মিউট
থাকলে সেটা আর ক্লাসে যাবে না। আর যদি দেখেন Zoom-এর নয়েজ সাপ্রেশন যথেষ্ট না,
তাহলে Krisp বা NVIDIA RTX Voice-এর মতো থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করতে
পারেন-এগুলো রিয়েল টাইমে ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ কেটে দেয়, একদম চুপচাপ পরিবেশ
তৈরি করে।
ছোট বাচ্চাদের মাইক ম্যানেজমেন্ট
জুম মিটিংয়ে স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম বড়দের জন্য যতটা সহজ, ছোট
বাচ্চাদের জন্য ঠিক ততটাই চ্যালেঞ্জিং। একটা বাচ্চাকে বলুন "মাইক মিউট রাখো"-সে
হয়তো মাথা নাড়বে, কিন্তু পাঁচ মিনিট পরেই ভুলে যাবে। এটা তার দোষ না, এটাই
বাচ্চাদের স্বভাব। তাই এই বয়সে নিয়মটা একটু অন্যভাবে শেখাতে হয়। বাচ্চাদের
সাথে খেলার ছলে শেখান। বলুন-"মাইক মিউট মানে তুমি গোপন মিশনে আছো, কেউ তোমার শব্দ
শুনতে পাবে না!" এই ছোট্ট গল্পটা বাচ্চার মাথায় গেঁথে যায়। কথা বলার সময় হলে
বলুন "এখন মিশন শেষ, কথা বলো।" একটু মজার করে উপস্থাপন করলে বাচ্চারা নিজেই
আগ্রহী হয়ে নিয়ম মানতে শুরু করে।
অভিভাবকদের ভূমিকাটাও এখানে অনেক বড়। ক্লাস চলাকালীন যদি কেউ পাশে থেকে একটু নজর
রাখতে পারেন, তাহলে মাইক খোলা থাকলে সাথে সাথে ঠিক করে দেওয়া যায়। শিক্ষকের
একার পক্ষে ২০ জন বাচ্চার মাইক সামলানো সত্যিই কঠিন। বাড়ি থেকে একটু সহযোগিতা
পেলে ক্লাসটা অনেক বেশি গুছিয়ে চলে। হোস্ট হিসেবে শিক্ষক চাইলে পুরো ক্লাসকে
মিউট করে রাখতে পারেন এবং একজন একজন করে সুযোগ দিতে পারেন কথা বলার। এই পদ্ধতিতে
ক্লাসে শৃঙ্খলা থাকে, বাচ্চারাও একটা ছন্দ বুঝতে পারে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাসটা
তাদের মধ্যে গড়ে উঠলে পরের ক্লাসগুলো আপনাআপনিই সহজ হয়ে যায়।
রেকর্ডিংয়ের সময় মাইক স্ট্যাটাস
ক্লাস রেকর্ড হচ্ছে-এটা জানলে অনেকে একটু সতর্ক হয়ে যান, কিন্তু মাইকের
ব্যাপারটা তখনও ভুলে যান। রেকর্ডিং চলাকালীন যদি কেউ মাইক খোলা রাখেন, তাহলে তার
ঘরের যাবতীয় শব্দ রেকর্ডে ঢুকে যায়। পরে সেই রেকর্ডিং দেখতে বসলে শিক্ষকের কথার
চেয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ বেশি শোনা যায়। এটা শুধু বিরক্তিকর না, পুরো
রেকর্ডিংটাই অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়। রেকর্ডিং শুরু হলে Zoom স্ক্রিনে একটা লাল
বিন্দু দেখা যায়-এটাই সংকেত যে সব কিছু রেকর্ড হচ্ছে। এই মুহূর্তে আপনার মাইক
মিউট আছে কিনা একবার চেক করুন।
অনেকে ভাবেন রেকর্ডিংয়ের সময় মাইকের বিষয়টা কম গুরুত্বপূর্ণ, আসলে ঠিক
উল্টো-এই সময়ে মাইক স্ট্যাটাস আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হোস্ট যদি ক্লাউড রেকর্ডিং
ব্যবহার করেন, তাহলে অডিও কোয়ালিটি আরও বেশি চোখে পড়ে। ক্লাউড রেকর্ডিংয়ে
প্রতিটা অংশগ্রহণকারীর অডিও আলাদাভাবে সেভ হওয়ার সুযোগ থাকে। জুম মিটিংয়ে
স্টুডেন্টদের মাইক্রোফোন মিউট করার নিয়ম এই জায়গায় এসে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক
হয়ে ওঠে, কারণ একটা পরিষ্কার রেকর্ডিং পরবর্তীতে রিভিশনের সময় অনেক কাজে
আসে।
রেকর্ডিং শেষ হওয়ার পর ফাইলটা একবার শুনে দেখুন। কোথাও অপ্রয়োজনীয় শব্দ ঢুকে
গেছে কিনা বুঝতে পারবেন। পরের ক্লাসে সেই অনুযায়ী স্টুডেন্টদের আগে থেকে বলে
দিন। একটু সচেতনতা আর একটু অভ্যাস-এই দুটো মিলিয়েই রেকর্ডিংয়ের মান অনেকটা ভালো
হয়ে যায়।
প্রশ্ন করার সময় মাইক আনমিউটের নিয়ম
প্রশ্ন করতে চাইলে সরাসরি মাইক খুলে কথা বলা শুরু করবেন না-এটা ক্লাসের স্বাভাবিক
ছন্দটা ভেঙে দেয়। আগে Zoom-এর "Raise Hand" বাটনটা চাপুন, শিক্ষক সুযোগ দিলে তখন
মাইক আনমিউট করুন, প্রশ্ন করুন, শেষ হলে আবার মিউট করে হাত নামিয়ে দিন। এই চারটা
ধাপ একবার অভ্যাস হয়ে গেলে আর মনে করিয়ে দিতে হয় না, নিজেই স্বাভাবিকভাবে হয়ে
যায়। Raise Hand বাটনটা সাধারণত Reactions প্যানেলে পাবেন-একবার খুঁজে নিন, পরে
আর খুঁজতে হবে না।
আরো পড়ুনঃ সেরা ২০টি উইন্ডোজ ১০ টিপস জেনে নিন
কথা বলার সময় একটু খেয়াল রাখুন-মাইক আনমিউট করার পর এক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন,
তারপর কথা শুরু করুন। কারণ মাইক খোলার সাথে সাথে কথা বললে প্রথম শব্দটা অনেক সময়
কেটে যায়, অন্যরা বুঝতে পারে না। এই ছোট্ট বিরতিটা আপনার প্রশ্নটাকে আরও
পরিষ্কারভাবে সবার কাছে পৌঁছে দেয়। প্রশ্ন শেষ হলে "ধন্যবাদ" বলে মাইক মিউট
করুন-এটা শুনতে সামান্য মনে হলেও ক্লাসের পরিবেশে একটা সুন্দর ভদ্রতা তৈরি করে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
সত্যি বলতে, মাইক মিউট রাখাটা খুব বড় কোনো বিষয় না-কিন্তু এই ছোট্ট অভ্যাসটাই
অনলাইন ক্লাসের পুরো অভিজ্ঞতাটা বদলে দেয়। শিক্ষক ভালো পড়াতে পারেন,
স্টুডেন্টরা মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারেন, রেকর্ডিং পরিষ্কার থাকে। এত কিছু শুধু
একটা বাটন চাপার উপর নির্ভর করছে-ভাবলে একটু অবাকই লাগে।
অনলাইন শিক্ষা এখন আর বিকল্প না, এটা একটা বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে
হলে ছোট ছোট নিয়মগুলো মেনে চলাটা জরুরি। আপনি যদি আজ থেকেই এই অভ্যাসটা শুরু
করেন, আশেপাশের মানুষগুলোও একসময় অনুসরণ করবে। পরিবর্তন সবসময় একজন থেকেই শুরু
হয়। 260416












অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url