OrdinaryITPostAd

শপিফাই স্টোরে নতুন প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করা

শপিফাই স্টোরে নতুন প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করা অনেকের কাছেই প্রথমে একটু কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু সঠিক ধাপগুলো জানলে পুরো কাজটি কয়েক মিনিটেই শেষ করা যায়।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
এই আর্টিকেলে সহজ ভাষায় প্রতিটি স্টেপ দেখানো হয়েছে, যাতে নতুনরাও সহজে অনুসরণ করতে পারে। প্রোডাক্টের ছবি, দাম, বিবরণ এবং ইনভেন্টরি যোগ করার কার্যকর কৌশলও জানতে পারবেন।

পেজ সুচিপত্রঃ শপিফাই স্টোরে নতুন প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করা

শপিফাই স্টোরে নতুন প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করা

শপিফাই স্টোর খুলেছেন, কিন্তু প্রোডাক্ট কীভাবে যোগ করবেন বুঝতে পারছেন না? চিন্তা নেই। এটা আসলে যতটা কঠিন মনে হচ্ছে, ততটা না। একবার শিখে ফেললে আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন-"আরে, এত্ত সহজ"। তাহলে চলুন আর দেরি না করে দেখে নেই কিভাবে শপিফাই স্টোরে নতুন প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করা যাই।

আপনার স্টোরের ড্যাশবোর্ডে গেলে বাম পাশে একটা মেনু দেখবেন। সেখানে "Products" অপশনটা খুঁজে নিন। এটাই আপনার প্রোডাক্ট জগতের দরজা। এখানে ক্লিক করলেই আপনার সব প্রোডাক্টের তালিকা দেখতে পাবেন।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
"Add product" ওটাতে ক্লিক করুন। এখানে ক্লিক করলেই একটা নতুন পেজ খুলবে, যেখানে আপনাকে প্রোডাক্টের সব তথ্য দিতে হবে। এখানে প্রোডাক্ট এর টাইটেল, ডেসক্রিপশন ও অন্যান্য তথ্যগুলো দিতে হবে।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
তারপর নিচের দিকে স্ক্রল করে প্রোডাক্ট এর ছবি, ক্যাটেগরি, প্রাইজ এগুলো লিখে দিন।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
এরপর ডান সাইডে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন আরও কিছু তথ্য দেওয়ার জাইগা আছে ওখানে আপনার প্রোডাক্ট এর "Status" অবশ্যই "Active" রাখবেন এবং "Product organaization" সেকশন এ প্রোডাক্ট এর তথ্যগুলো দিবেন।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
এরপর নিচের দিকে আবার স্ক্রল করবেন এখানে "Inventory" তে "Tracker On" রাখবেন ও প্রোডাক্ট এর "Quantity" এবং "Shiping" তথ্যগুলো ভালোভাবে ফিলাপ করবেন।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
এরপর প্রোডাক্ট এর ক্যাটেগরিগুলো প্রোডাক্ট এর ধরণ অনুযায়ী লিখে দিন।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
এরপর নিচের দিকে আপনার প্রোডাক্ট এর একটা লিংক দেখতে পাবেন এটা অটোমেটিকালি তৈরি হয়ে যাই। তারপর সব কিছু চেক করে নিয়ে "Save" বাটোনে ক্লিক করুন।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
এরপর আপনার প্রোডাক্টি ইনভেন্টরি তে অ্যাড হয়ে গেলে এর একটি কনফার্মেশন দেখাবে। এখানে আপনি যে প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করলেন তার একটি প্রভিউ দেখতে পাবেন "Preview" বাটনে ক্লিক করলে।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
এরপর আপনার ম্যানুয়ালি আপলোড করা প্রোডাক্ট পেজ দেখাবে ঠিক নিচের মত
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা

এভাবেই খুব সহজেই শপিফাই স্টোরে প্রোডাক্ট আপলোড করা যাই।

Shopify অ্যাডমিনে প্রোডাক্টস সেকশনে যাওয়া

প্রথম কাজ হলো আপনার Shopify অ্যাকাউন্টে লগইন করা। ব্রাউজার খুলুন, myshopify.com এ যান, আপনার ইমেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে পড়ুন। লগইন হয়ে গেলে আপনাকে সরাসরি অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডে নিয়ে যাবে-এটাই আপনার স্টোরের কন্ট্রোল রুম। ড্যাশবোর্ডে ঢোকার পর বাম পাশে একটা মেনু বার দেখবেন। সেখানে উপর থেকে নিচে বেশ কিছু অপশন সাজানো আছে। একটু নজর দিলেই "Products" লেখাটা চোখে পড়বে। ওটাতে ক্লিক করুন-এটাই আপনার প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের শুরু।

"Products" এ ক্লিক করতেই একটা নতুন পেজ খুলবে। এখানে আপনার স্টোরে এখন পর্যন্ত যত প্রোডাক্ট আছে, সব একসাথে দেখতে পাবেন। যদি নতুন স্টোর হয়, তাহলে পেজটা ফাঁকাই থাকবে-কিন্তু ঘাবড়াবেন না, এই ফাঁকা জায়গাটাই আপনি ধীরে ধীরে ভরে তুলবেন। এই পেজের উপরের ডান কোণায় একটা বাটন দেখবেন-"Add product"। এটাই আপনার পরবর্তী গন্তব্য। কিন্তু তার আগে একটু চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিন। ফিল্টার অপশন, সার্চ বার, স্ট্যাটাস-এই জিনিসগুলো পরে অনেক কাজে আসবে, এখন শুধু চিনে রাখুন।

নতুন প্রোডাক্ট অ্যাড করার বাটনে ক্লিক করা

শপিফাই স্টোরে নতুন প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করা শুরু হয় ঠিক এই ছোট্ট একটা ক্লিক থেকে। Products পেজে ঢোকার পর আপনার চোখ সরাসরি চলে যাবে উপরের ডান কোণায়-সেখানে একটা বাটন আছে, লেখা "Add product"। এটাই আপনার যাত্রার আসল শুরু, এখান থেকেই সব কিছু গড়ে উঠবে। বাটনটায় ক্লিক করতেই একটা নতুন পেজ খুলে যাবে আপনার সামনে। পেজটা দেখে হয়তো প্রথমে একটু বেশি মনে হবে-এত কিছু! কিন্তু ঘাবড়ানোর কিছু নেই, প্রতিটা সেকশন আসলে খুবই সহজ এবং গুছানো। একটু ধৈর্য নিয়ে এগোলে দেখবেন সব কিছু নিজেই মিলে যাচ্ছে।
এই পেজে মূলত আপনাকে প্রোডাক্টের নাম, বিবরণ, ছবি, দাম-এই বিষয়গুলো একে একে পূরণ করতে হবে। শপিফাই পুরো ফর্মটা এমনভাবে সাজিয়েছে যেন আপনি ধাপে ধাপে এগোতে পারেন। উপর থেকে নিচে নামতে থাকুন, কোনো ধাপ বাদ দেবেন না। একটা কথা মাথায় রাখবেন-এই পেজে আসার মানেই হলো আপনি এখন স্টোরের আসল কাজে হাত দিয়েছেন। অনেকে এই পেজে এসে থমকে যান, ভাবেন কোথা থেকে শুরু করবেন। সহজ উত্তর হলো-একদম উপর থেকে, মানে প্রোডাক্টের নাম লেখা থেকেই শুরু করুন। বাকিটা এমনিই এগিয়ে যাবে।

প্রোডাক্টের নাম ও ডেসক্রিপশন লেখা

প্রোডাক্ট পেজে ঢোকার পর সবার আগে যেটা দেখবেন সেটা হলো "Title" বক্স। এখানে আপনার প্রোডাক্টের নাম লিখতে হবে-সহজ, পরিষ্কার এবং সরাসরি। নাম লেখার সময় একটাই কথা মাথায় রাখবেন, একজন কাস্টমার যখন কিছু খোঁজে, সে ঠিক কোন শব্দ টাইপ করে? সেই শব্দগুলোই আপনার প্রোডাক্টের নামে থাকা উচিত।

নামের ঠিক নিচেই পাবেন "Description" বক্স। এটা আসলে আপনার প্রোডাক্টের গল্প বলার জায়গা। কাস্টমার প্রোডাক্টটা হাতে নিয়ে দেখতে পারছে না, গন্ধ নিতে পারছে না, ছুঁয়ে বুঝতে পারছে না-তাই আপনার লেখাই তার একমাত্র অভিজ্ঞতা। যত ভালো লিখবেন, কাস্টমার তত বেশি আগ্রহী হবে। ডেসক্রিপশন লেখার সময় শুধু প্রোডাক্টের বৈশিষ্ট্য লিস্ট করলেই হবে না। আপনাকে বলতে হবে এটা কাস্টমারের জীবনে কী পরিবর্তন আনবে, কোন সমস্যা সমাধান করবে। মানুষ আসলে প্রোডাক্ট কেনে না-মানুষ কেনে সমাধান, অনুভূতি আর সুবিধা। এই কথাটা মাথায় রেখে লিখুন।

একটা ছোট টিপস দিই-ডেসক্রিপশন লেখার পর একবার নিজেই পড়ুন। পড়তে গিয়ে যদি মনে হয় বোরিং লাগছে বা কঠিন মনে হচ্ছে, তাহলে বুঝবেন কাস্টমারেরও একই অনুভূতি হবে। সহজ ভাষায়, প্রাণবন্ত করে লিখুন-যেন একজন বন্ধু আরেকজন বন্ধুকে প্রোডাক্টটার কথা বলছে।

ছবি আপলোড ও ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করা

ডেসক্রিপশন লেখা হয়ে গেলে এবার আসুন ছবির কথায়। প্রোডাক্ট পেজের ডান দিকে বা নিচের দিকে "Media" নামে একটা সেকশন পাবেন। এখানে আপনি ড্র্যাগ করে বা ক্লিক করে সরাসরি ছবি আপলোড করতে পারবেন-পুরো ব্যাপারটা একদম ঝামেলামুক্ত। ছবি আপলোডের সময় একটু সতর্ক থাকবেন। শুধু একটা ছবি দিলেই হবে না, কমপক্ষে ৩ থেকে ৫টা ছবি দেওয়ার চেষ্টা করুন-সামনে থেকে, পেছন থেকে, পাশ থেকে, ব্যবহারের সময়। কাস্টমার যত বেশি দেখতে পাবে, তত বেশি আস্থা রাখবে। আর আস্থা মানেই বিক্রি।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
ছবির মান নিয়েও ছাড় দেবেন না, কারণ শপিফাই স্টোরে নতুন প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করা মানে শুধু তথ্য দেওয়া না-পুরো একটা অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ঝাপসা বা অন্ধকারে তোলা ছবি দেখলে কাস্টমার সরাসরি পেজ বন্ধ করে দেয়। ভালো আলোতে, পরিষ্কার ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা ছবি আপনার প্রোডাক্টকে কয়েকগুণ আকর্ষণীয় করে তোলে।

এবার আসুন ভ্যারিয়েন্টের কথায়। আপনার প্রোডাক্ট যদি বিভিন্ন সাইজে বা রঙে আসে, তাহলে "Variants" সেকশনটা আপনার জন্যই তৈরি। এখানে "Add variant" অপশনে ক্লিক করে আপনি আলাদা আলাদা সাইজ, রঙ বা ধরন যোগ করতে পারবেন। প্রতিটা ভ্যারিয়েন্টের জন্য আলাদা দাম আর স্টক সংখ্যাও দিতে পারবেন-এতে কাস্টমার নিজের পছন্দমতো অপশন বেছে নিতে পারবে।

দাম, স্টক ও শিপিং সেটিংস ঠিক করা

ছবি আপলোড হয়ে গেলে এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে আসুন-দাম নির্ধারণ। "Pricing" সেকশনে গিয়ে "Price" বক্সে আপনার প্রোডাক্টের মূল দাম বসান। পাশেই "Compare at price" বলে একটা অপশন আছে, সেখানে আগের বা বেশি দামটা দিলে কাস্টমার বুঝতে পারে সে ছাড়ে কিনছে-এই ছোট্ট কৌশলটা বিক্রি বাড়াতে দারুণ কাজ করে। দামের পরেই আসে স্টক ম্যানেজমেন্ট। "Inventory" সেকশনে আপনার কাছে এখন কতটা প্রোডাক্ট আছে সেই সংখ্যাটা দিন। এখানে একটা অপশন পাবেন "Track quantity"-এটা চালু রাখুন। এতে করে স্টক শেষ হয়ে গেলে শপিফাই নিজেই আপনাকে জানাবে, আর কাস্টমারকেও দেখাবে প্রোডাক্টটা "Out of stock"।
SKU আর Barcode-এই দুটো অপশনও এই সেকশনেই পাবেন। ছোট স্টোরের জন্য এখনই এগুলো না দিলেও চলবে। তবে আপনার প্রোডাক্টের সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে, তাহলে পরে SKU দেওয়ার অভ্যাস করুন-এটা ইনভেন্টরি ট্র্যাক করতে অনেক সাহায্য করে। এবার শিপিং সেটিংসে আসুন। "Shipping" সেকশনে প্রোডাক্টের ওজন আর মাপ দিন-কেজি বা গ্রামে। শপিফাই স্টোরে নতুন প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করা মানে শুধু তথ্য ভরা না, বরং প্রতিটা সেটিংস সঠিকভাবে দেওয়া যাতে পরে কোনো ঝামেলায় না পড়তে হয়। ভুল ওজন দিলে শিপিং চার্জ গরমিল হয়, আর সেই ক্ষতি কিন্তু আপনার পকেট থেকেই যায়।

একটা শেষ কথা-শিপিং সেকশনে "This is a physical product" অপশনটা চেক করা আছে কিনা দেখুন। যদি আপনার প্রোডাক্ট ডিজিটাল হয়, তাহলে এটা আনচেক করুন। ছোট এই বিষয়গুলো অনেকে এড়িয়ে যান, কিন্তু পরে অর্ডার প্রসেস করার সময় এগুলোই বড় সমস্যা তৈরি করে।

প্রোডাক্টের SEO অপটিমাইজ করা

প্রোডাক্টের সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে এবার একটু নিচে স্ক্রোল করুন। সেখানে পাবেন "Search engine listing" নামে একটা সেকশন। এটাই আপনার SEO-র মূল জায়গা। এখানে ক্লিক করলে তিনটা বক্স খুলবে-Page title, Meta description আর URL handle। "Page title" বক্সে আপনার প্রোডাক্টের নাম এবং মূল কিওয়ার্ড দিয়ে একটা আকর্ষণীয় টাইটেল লিখুন। এটা গুগলে সার্চ করলে সবার আগে দেখায়, তাই এটা যত স্মার্ট হবে তত বেশি ক্লিক পাবেন। সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ অক্ষরের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন-এর বেশি হলে গুগল কেটে দেয়।

"Meta description" হলো সেই ছোট্ট বিবরণ যেটা গুগলে টাইটেলের নিচে দেখায়। এখানে ১৫০ থেকে ১৬০ অক্ষরের মধ্যে আপনার প্রোডাক্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটা তুলে ধরুন। মনে রাখবেন, এই কয়েকটা লাইনই ঠিক করে দেয় কাস্টমার আপনার লিংকে ক্লিক করবে কি করবে না। "URL handle" সেকশনে আপনার প্রোডাক্টের URL টা পরিষ্কার আর সহজ রাখুন। শপিফাই নিজেই একটা URL তৈরি করে দেয়, কিন্তু সেটা অনেক সময় বড় আর জটিল হয়। সেটা এডিট করে ছোট, সহজ আর কিওয়ার্ড সমৃদ্ধ করুন-যেমন "cotton-t-shirt-white" এই ধরনের। পরিষ্কার URL গুগলও পছন্দ করে, কাস্টমারও।

ম্যানুয়াল প্রোডাক্ট আপলোডের সাধারণ ভুল এড়ানো

সবচেয়ে বড় ভুল যেটা প্রায় সবাই করেন সেটা হলো তাড়াহুড়ো করে প্রোডাক্ট আপলোড করা। নাম ঠিক আছে, ছবি দেওয়া হয়েছে-ব্যস, Save করে দিলাম। কিন্তু ডেসক্রিপশন অর্ধেক লেখা, দাম ভুল দেওয়া, শিপিং সেটিংস ফাঁকা-এই ছোট ছোট ভুলগুলোই পরে বড় মাথাব্যথা তৈরি করে। আরেকটা খুব কমন ভুল হলো ছবির মান নিয়ে উদাসীন থাকা। অনেকে মোবাইলে তোলা ঝাপসা ছবি সরাসরি আপলোড করে দেন। কাস্টমার কিন্তু প্রথমেই ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়-প্রোডাক্টটা কিনবে কি কিনবে না। খারাপ ছবি মানে কাস্টমার চলে যাওয়া, এটা মাথায় গেঁথে রাখুন।
শপিফাই-স্টোরে-নতুন-প্রোডাক্ট-ম্যানুয়ালি-আপলোড-করা
স্টক সংখ্যা না দেওয়া বা ভুল দেওয়াটাও একটা বড় সমস্যা। অনেকে ভাবেন এটা পরে ঠিক করা যাবে। কিন্তু এর মাঝেই যদি কেউ অর্ডার করে ফেলে আর আপনার কাছে স্টক না থাকে, তাহলে কাস্টমারের বিশ্বাস একবারেই ভেঙে যায়। আর হারানো বিশ্বাস ফিরে পাওয়া কঠিন। SEO সেকশন ফাঁকা রেখে দেওয়াটাও একটা বড় ভুল, যেটা অনেকেই করেন। Page title আর meta description না লিখলে গুগল আপনার প্রোডাক্ট খুঁজে পাবে না। শপিফাই স্টোরে নতুন প্রোডাক্ট ম্যানুয়ালি আপলোড করা মানে শুধু পেজ ভরা না-এটা মানে আপনার প্রোডাক্টকে সঠিকভাবে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরা।

সবশেষে একটা পরামর্শ-প্রোডাক্ট Save করার আগে একবার পুরো পেজটা Preview করুন। কাস্টমারের চোখ দিয়ে দেখুন, মনে করুন আপনি নিজেই একজন ক্রেতা। যদি দেখে মনে হয় কিছু একটা মিসিং বা অস্বস্তিকর লাগছে, তাহলে সেটা ঠিক করুন। নিজে সন্তুষ্ট না হলে কাস্টমারও সন্তুষ্ট হবে না।

প্রোডাক্ট সেভ করার পর চেক করা

প্রোডাক্ট Save করলেই কাজ শেষ-এই ভুল ধারণাটা এখনই মাথা থেকে বের করে দিন। Save করার পর সবার আগে "View" বাটনে ক্লিক করুন, যেটা পেজের উপরেই থাকে। এতে আপনি সরাসরি দেখতে পাবেন কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট পেজটা ঠিক কেমন দেখছে-এটা একটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলুন। পেজ খোলার পর প্রথমে ছবিগুলো ঠিকমতো লোড হচ্ছে কিনা দেখুন। তারপর নাম, দাম আর ডেসক্রিপশন পড়ুন-একজন কাস্টমারের মতো করে, তাড়াহুড়ো ছাড়া। কোথাও বানান ভুল আছে কিনা, দাম ঠিক আছে কিনা, ভ্যারিয়েন্টগুলো সঠিকভাবে দেখাচ্ছে কিনা-এই বিষয়গুলো একটু মনোযোগ দিয়ে যাচাই করুন।
মোবাইলে একবার চেক করুন-এটা অনেকেই ভুলে যান। বেশিরভাগ কাস্টমার এখন মোবাইল থেকে শপিং করে, তাই ডেস্কটপে ভালো দেখালেই হবে না। মোবাইলে পেজটা খুলুন, ছবি ঠিকমতো দেখাচ্ছে কিনা, লেখা পড়া যাচ্ছে কিনা, "Add to Cart" বাটন সহজে ক্লিক করা যাচ্ছে কিনা-এগুলো নিজে পরীক্ষা করুন। সব ঠিকঠাক মনে হলে একটা কাজ করুন-প্রোডাক্ট পেজের লিংকটা কপি করে কোনো বিশ্বস্ত মানুষকে পাঠান। বন্ধু হোক বা পরিবারের কেউ, তাদের জিজ্ঞেস করুন পেজটা দেখে কেমন লাগছে। বাইরের চোখ অনেক সময় এমন ভুল ধরে ফেলে যেটা আপনি নিজে দেখতে পাননি-এই ছোট্ট অভ্যাসটা আপনার স্টোরকে অনেক এগিয়ে রাখবে।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

সত্যি বলতে, শপিফাইতে প্রথমবার প্রোডাক্ট আপলোড করতে বসলে একটু অদ্ভুত লাগে। এত অপশন, এত সেকশন-মনে হয় কোথা থেকে শুরু করব। কিন্তু একবার হাত দিয়ে করে ফেললে বুঝবেন, পুরো ব্যাপারটা আসলে বেশ সহজ। আমি চাই আপনি আজকেই একটা প্রোডাক্ট আপলোড করে দেখুন-পারফেক্ট হওয়ার দরকার নেই। প্রথমবার ভুল হবে, কিছু জিনিস মিস হবে, পরে ঠিক করতে হবে। এটাই স্বাভাবিক। শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো করতে করতে শেখা।

একটা কথা মনে রাখবেন-আপনার প্রতিটা প্রোডাক্ট পেজ আসলে একজন নীরব বিক্রেতা। আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও সে কাজ করে, কাস্টমারের সাথে কথা বলে, বিক্রি করার চেষ্টা করে। তাই সময় নিয়ে প্রতিটা পেজ যত্ন করে তৈরি করুন।

শেষমেশ এটুকুই বলব-শপিফাই আপনাকে সব টুল দিয়ে রেখেছে, বাকিটা আপনার হাতে। একটু ধৈর্য, একটু মনোযোগ আর নিয়মিত চর্চা-এই তিনটা জিনিস থাকলে আপনার স্টোর একদিন না একদিন ঠিকই সফল হবে। শুভকামনা রইল। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url