বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক পদ্ধতি
বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক পদ্ধতি জানতে চান? নতুন হোন বা
অভিজ্ঞ ডিজাইনার, সঠিকভাবে পোর্টফোলিও সাজালেই আপনার প্রথম ইমপ্রেশন তৈরি হয়।
অনেকেই ছোট কিছু ভুল করে ফলে যার জন্য কাঙ্ক্ষিত রিচ পাওয়া যাই না।
এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে কীভাবে আকর্ষণীয় প্রজেক্ট উপস্থাপন করবেন
এবং প্রোফাইলকে আরও পেশাদার দেখাবেন। ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে এবং সম্ভাব্য
ক্লায়েন্টের নজর কাড়তে আজকেই জেনে নিন কার্যকর কৌশলগুলো।
পেজ সূচিপত্রঃ বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক পদ্ধতি
- বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক পদ্ধতি
- বিহ্যান্স প্রোফাইল সেটআপ ও অপটিমাইজেশন
- প্রজেক্ট প্রস্তুতির টিপস
- বিহ্যান্স প্রজেক্ট তৈরি ও আপলোড পদ্ধতি
- ছবি ভিডিও আপলোডের সঠিক নিয়ম
- প্রজেক্ট টাইটেল ডেসক্রিপশন লেখার কৌশল
- ট্যাগ ক্যাটাগরি ব্যবহার করে ভিজিবিলিটি বাড়ানো
- কেস স্টাডি মুডবোর্ড যোগ করার উপায়
- পোর্টফোলিও পাবলিশ ও প্রমোশন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক পদ্ধতি
ধরুন আপনি অনেক কষ্ট করে একটা ডিজাইন বানালেন। রাত জেগে, চা খেতে খেতে, বারবার
ঠিক করতে করতে। তারপর সেটা বিহ্যান্সে আপলোড করলেন-কিন্তু কেউ দেখল না। কোনো
Appreciation নেই, কোনো ক্লায়েন্ট নেই। হতাশ লাগছে? সমস্যাটা আপনার কাজে না।
সমস্যাটা হলো-কাজটা ঠিকমতো উপস্থাপন করেননি। Behance শুধু কাজ দেখার জায়গা না,
এটা আপনার প্রফেশনাল পরিচয়ের মঞ্চ। আর মঞ্চে উঠতে হলে সাজতে হয়। এজন্য এই
আর্টিকেলে আমি আপনার জন্য বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক
পদ্ধতি সম্পর্কে ধাপে ধাপে আলচনা করেছি। চলুন দেখে নেই স্টেপ বাই স্টেপ।
প্রথমে আপনার বিহ্যান্স একাউন্টে লগিন করে আপনার প্রোফাইল থেকে "Share Your Wrok"
থেকে "Project" এ ক্লিক করুন।
এরপর নিচের ইমেজ এর মত "Add content" বক্স এর ভিতরে "Image" অপশনটি সিলেক্ট করুন।
এরপর আপনার পোর্টফোলিও এর জন্য আপনি যে কাজে এক্সপার্ট সেটির কিছু ইমেজ সেট আপলোড
করুন। যেমনঃ আর্ট, স্কেচ ইত্যাদি।
এরপর নিচের ইমেজ এর মত আপনি যে প্রজেক্ট এ কাজ করে এক্সপার্ট সেগুলোর ট্যাগ গুলো
সেট করে দিন
এরপর নিচের ইমেজ এর মত ইনসার্ট মোড এ গিয়ে টেক্সট এ ক্লিক করুন।
এখানে আপনার আপলোড করা প্রত্যেক সাম্পল ইমেজগুলির নিচের ইমেজ এর মত হেডার করে
লিখে দিতে হবে । ফলে বাইয়াররা আপনার কাজের সাম্পল দেখে আগ্রহ করবে আপনার সাথে কাজ
করতে।
এভাবে সবগুলো আপলোড করা ইমেজগুলিতে এক এক করে প্রফেশনাল নাম দিন। এরপর "Continue"
তে ক্লিক করুন।
এরপর প্রজেক্ট এর ১০ টি ট্যাগ দিবেন আপনার কাজের প্রফেশন অনুযায়ী ও আপনি কি
টুলসগুলি অর্থাৎ কি সফটওয়্যার ইউস করেন সেগুলো বসিয়ে দিবেন।
এরপর প্রজেক্টগুলো ক্যাটেগোরাইজ করে "Visibility" অন করে দিবেন। এটি না করলে কেউ
আপনার পোর্টফোলিও দেখতে পাবে না।
তারপর সবকিছু একবার ভালোভাবে দেখে নিয়ে "Publish" বাটনে ক্লিক করুন।
"Publish" বাটনে ক্লিক করার পর নিচের মত "Publish Your Project" পপ আপ মেসেজ
আসবে।
তারপর আপনার প্রোফাইলে ক্লিক করলে আপনি আপনার "Publish" করা "Project" দেখতে
পাবেন। কত ভিউ ও লাইক আসছে সেটিও দেখতে পাবেন।
বিহ্যান্সে-এ সফল হওয়া মানে এক রাতের কাজ না। তবে একটু বুদ্ধি করে কাজ করলে
ফলাফল আসবেই। কাজ ভালো করুন, সেটাকে আরও ভালোভাবে দেখান-ব্যস, এটুকুই। আর মনে
রাখবেন-প্রতিটা বড় ডিজাইনার একসময় শূন্য থেকেই শুরু করেছিলেন। আপনিও পারবেন।
বিহ্যান্স প্রোফাইল সেটআপ ও অপটিমাইজেশন
Behance-এ আসার আগে একটা কথা মাথায় রাখুন-এখানে শুধু কাজ না, আপনার পরিচয়টাও
বিক্রি হয়। বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক পদ্ধতি জানলে একটা
সাধারণ প্রোফাইলও হয়ে উঠতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় ক্লায়েন্ট-ম্যাগনেট।
প্রোফাইল ছবি থেকে শুরু করে Bio পর্যন্ত-প্রতিটা জায়গায় আপনাকে বলতে হবে, "আমি
কে এবং আমি কী করি।" এটা ঠিকমতো না করলে ভালো কাজও অন্ধকারে পড়ে থাকে। প্রোফাইল
সেটআপের সময় সবচেয়ে বড় ভুল যেটা মানুষ করে-Bio-তে লেখে "I am a Graphic
Designer" আর শেষ।
এতটুকু দিয়ে কেউ বুঝবে না আপনি আসলে কী পারেন, কোন ধরনের ক্লায়েন্টের জন্য কাজ
করেন, বা কেন আপনাকেই বেছে নেওয়া উচিত। আপনার Bio হওয়া উচিত এমন-"UI/UX
Designer specializing in SaaS products | Helping startups build clean,
conversion-focused interfaces." এই একটা লাইনেই ক্লায়েন্ট বুঝে যাবে আপনি তার
কাজের মানুষ কিনা। যত স্পষ্ট, তত ভালো। প্রোফাইল অপটিমাইজেশন মানে শুধু তথ্য
দেওয়া না-এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।
নতুন কাজ করলে প্রোফাইল আপডেট করুন, নতুন স্কিল যোগ হলে সেটা যুক্ত করুন, এবং
আপনার Featured Projects সেকশনে সবসময় সেরা কাজটাই রাখুন। Behance-এর অ্যালগরিদম
সক্রিয় প্রোফাইলকে বেশি প্রাধান্য দেয়-তাই মাসে অন্তত একবার প্রোফাইলে হাত দিন।
একটা জীবন্ত প্রোফাইলই পারে আপনাকে ঘুমের মধ্যেও নতুন সুযোগ এনে দিতে।
প্রজেক্ট প্রস্তুতির টিপস
বিহ্যান্সে-একটা প্রজেক্ট আপলোড করার আগে সেটাকে ঠিকমতো তৈরি করা-এই কাজটাই আসলে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ফাইনাল ডিজাইনের স্ক্রিনশট দিলেই হয় না, বরং পুরো
চিন্তার প্রক্রিয়াটা দেখাতে হয়-মুড বোর্ড থেকে শুরু করে কালার প্যালেট,
টাইপোগ্রাফি চয়েস, এবং ফাইনাল আউটপুট পর্যন্ত। আপনি যখন এই পুরো যাত্রাটা দেখান,
তখন ক্লায়েন্ট বুঝতে পারে আপনি শুধু একজন এক্সিকিউটর না-আপনি একজন চিন্তাশীল
ডিজাইনার। আর এই পার্থক্যটাই আপনাকে বাকিদের থেকে আলাদা করে তোলে।
আরো পড়ুনঃ স্টুডেন্ট লাইফে ইনকাম এর উপায়
প্রজেক্ট প্রস্তুত করার সময় ইমেজের কোয়ালিটিতে কোনো আপোষ করবেন না-ব্লার বা
পিক্সেলেটেড ছবি দেখলে ক্লায়েন্ট আর এগোয় না। প্রতিটা ইমেজ হাই-রেজোলিউশনে
এক্সপোর্ট করুন এবং Mockup ব্যবহার করে দেখান কাজটা বাস্তবে কেমন দেখাবে-একটা
লোগো টি-শার্টে বা বিজনেস কার্ডে কেমন লাগছে সেটা দেখানো অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।
আপনার প্রজেক্ট যত বেশি "real world ready" মনে হবে, ক্লায়েন্টের চোখে আপনার
বিশ্বাসযোগ্যতা তত বেশি বাড়বে।
বিহ্যান্স প্রজেক্ট তৈরি ও আপলোড পদ্ধতি
বিহ্যান্সে একটা প্রজেক্ট তৈরি করা মানে শুধু ফাইল আপলোড করা না-এটা একটা গল্প
বলার সুযোগ। বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে
আপনার প্রতিটা প্রজেক্ট হয়ে ওঠে একটা পূর্ণাঙ্গ কেস স্টাডি, যেটা দেখে
ক্লায়েন্ট নিজেই আপনার কাছে আসতে চাইবে। প্রজেক্ট শুরু করতে আপনার Behance
অ্যাকাউন্টে লগইন করুন, তারপর উপরের "Create" বাটনে ক্লিক করে "New Project"
সিলেক্ট করুন। এখান থেকেই শুরু হয় আপনার প্রফেশনাল উপস্থাপনার যাত্রা।
প্রজেক্ট এডিটরে ঢোকার পর প্রথমেই একটা শক্তিশালী Cover Image সেট করুন, কারণ
এটাই ফিডে সবার আগে দেখা যায়। ছবির সাইজ ১২০০ × ৭৫০ পিক্সেল রাখুন এবং এমন একটা
ভিজ্যুয়াল বেছে নিন যেটা এক সেকেন্ডেই মানুষের দৃষ্টি আটকে দেয়। Cover Image
দুর্বল হলে ভেতরের কাজ যতই ভালো হোক, কেউ ক্লিক করবে না-তাই এখানে সময় দিন,
পরিশ্রম দিন। একটা ভালো Cover Image মানেই বেশি ভিউ, বেশি ভিউ মানেই বেশি সুযোগ।
এরপর প্রজেক্টের ভেতরে ইমেজগুলো একটা নির্দিষ্ট ক্রমে সাজান-প্রথমে সমস্যা বা
Context, তারপর প্রক্রিয়া, এবং সবশেষে ফাইনাল আউটপুট। প্রতিটা ইমেজের মাঝে
সংক্ষিপ্ত টেক্সট ব্লক যোগ করুন যেখানে আপনি ব্যাখ্যা করবেন কেন এই সিদ্ধান্ত
নিলেন, কোন চিন্তা থেকে এই ডিজাইনটা এলো। এই ছোট ছোট ব্যাখ্যাগুলোই আপনার
প্রজেক্টকে একটা সাধারণ ইমেজ গ্যালারি থেকে আলাদা করে তোলে এবং আপনাকে একজন
চিন্তাশীল ডিজাইনার হিসেবে উপস্থাপন করে।
সব কিছু সাজানো হলে Title, Description এবং Tags-এই তিনটা জায়গায় মনোযোগ দিন।
Title হোক স্পষ্ট ও কীওয়ার্ড-সমৃদ্ধ, Description-এ লিখুন প্রজেক্টের পেছনের
গল্প, এবং Tags-এ দিন ৫ থেকে ১০টা প্রাসঙ্গিক শব্দ। সব ঠিক হলে "Publish" বাটনে
ক্লিক করুন-তবে পাবলিশ করার সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে ভুলবেন না,
কারণ প্রথম কয়েক ঘণ্টার এনগেজমেন্টই বিহ্যান্স অ্যালগরিদমে আপনার প্রজেক্টকে
সামনে নিয়ে আসে।
ছবি ভিডিও আপলোডের সঠিক নিয়ম
বিহ্যান্সে-এ ছবি আপলোড করার সময় সবচেয়ে বড় ভুল যেটা হয়-কম রেজোলিউশনের ছবি
দেওয়া। প্রতিটা ইমেজ কমপক্ষে ১৫০০ পিক্সেল চওড়া হওয়া উচিত এবং ফরম্যাট হিসেবে
JPG বা PNG ব্যবহার করুন, কারণ এই দুটো ফরম্যাট Behance-এ সবচেয়ে ভালো রেন্ডার
হয়। ফাইল সাইজ ৫০ MB-এর মধ্যে রাখুন, তবে কোয়ালিটিতে যেন কোনো আপোষ না হয়।
একটা ব্লার বা পিক্সেলেটেড ছবি আপনার পুরো প্রজেক্টের প্রফেশনালিজম নষ্ট করে দিতে
পারে।
ভিডিও আপলোডের ক্ষেত্রে Behance সরাসরি ভিডিও ফাইল সাপোর্ট করে, তবে সবচেয়ে ভালো
উপায় হলো Vimeo বা YouTube-এ আপলোড করে সেখান থেকে Embed করা। ভিডিও রেজোলিউশন
১০৮০p রাখুন এবং দৈর্ঘ্য ১ থেকে ২ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করুন,
কারণ দর্শক বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখে না। ভিডিওতে আপনার ডিজাইন প্রক্রিয়া বা
Mockup অ্যানিমেশন দেখালে প্রজেক্টটা অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং
ক্লায়েন্টের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
প্রজেক্ট টাইটেল ডেসক্রিপশন লেখার কৌশল
একটা প্রজেক্টের টাইটেল হলো আপনার প্রথম কথা-এটা দিয়েই ক্লায়েন্ট সিদ্ধান্ত
নেয় ভেতরে যাবে কিনা। বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক পদ্ধতিতে
টাইটেল লেখার সময় সবসময় স্পষ্ট ও কীওয়ার্ড-সমৃদ্ধ শব্দ বেছে নেওয়া জরুরি। "My
Logo Project" না লিখে লিখুন "Modern Minimalist Logo Design for a Organic Food
Brand"-এই টাইটেলটা দেখলেই ক্লায়েন্ট বুঝতে পারবে আপনি কী করেছেন এবং এটা তার
কাজে লাগবে কিনা। টাইটেল যত নির্দিষ্ট, সার্চে আসার সম্ভাবনা তত বেশি। ডেসক্রিপশন
লেখার সময় মনে রাখবেন-এটা একটা গল্প বলার জায়গা, শুধু তথ্য দেওয়ার না।
আরো পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড কি জেনে নিন
শুরু করুন প্রজেক্টের পেছনের সমস্যা বা ক্লায়েন্টের চাহিদা দিয়ে, তারপর বলুন
আপনি কীভাবে সেই সমস্যার সমাধান করলেন এবং কোন টুলস বা পদ্ধতি ব্যবহার করলেন।
ডেসক্রিপশন ৫ থেকে ৮ লাইনের মধ্যে রাখুন-খুব বেশি লম্বা হলে কেউ পড়বে না, আবার
খুব ছোট হলে অসম্পূর্ণ মনে হবে। একটা ভালো ডেসক্রিপশন আপনার কাজকে শুধু দেখার
জিনিস থেকে অনুভব করার জিনিসে পরিণত করে।
ট্যাগ ক্যাটাগরি ব্যবহার করে ভিজিবিলিটি বাড়ানো
বিহ্যান্সে-ট্যাগ হলো আপনার প্রজেক্টের দিকনির্দেশক-সঠিক ট্যাগ না দিলে আপনার কাজ
সার্চে আসবেই না, যতই ভালো হোক। ট্যাগ দেওয়ার সময় শুধু সাধারণ শব্দ না দিয়ে
একটু নির্দিষ্ট করুন-"Design" না লিখে লিখুন "Brand Identity Design" বা "Mobile
UI Design", কারণ নির্দিষ্ট ট্যাগ সঠিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়। ৫ থেকে ১০টা
প্রাসঙ্গিক ট্যাগই যথেষ্ট, অপ্রাসঙ্গিক ট্যাগ দিলে উল্টো ক্ষতি হয়। মনে রাখবেন,
সঠিক ট্যাগ মানে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো-আর সেটাই আসল লক্ষ্য। ক্যাটাগরি
সিলেকশনের বিষয়টা অনেকে হালকাভাবে নেন, কিন্তু এটা আসলে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।
আপনার প্রজেক্ট যে ক্যাটাগরিতে পড়ে-যেমন Graphic Design, UI/UX, Illustration বা
Photography-সেটা সঠিকভাবে সিলেক্ট করুন, কারণ Behance এই ক্যাটাগরি অনুযায়ী
প্রজেক্ট ফিচার করে এবং সংশ্লিষ্ট দর্শকদের কাছে দেখায়। ভুল ক্যাটাগরিতে দিলে
আপনার কাজ ভুল মানুষের ফিডে যাবে, যারা আসলে আপনার সম্ভাব্য ক্লায়েন্টই না। তাই
এই একটা সিদ্ধান্তে একটু সময় নিন-এটা আপনার পুরো ভিজিবিলিটি বদলে দিতে পারে।
কেস স্টাডি মুডবোর্ড যোগ করার উপায়
একটা প্রজেক্টে শুধু ফাইনাল ডিজাইন দেখালে ক্লায়েন্ট বুঝতে পারে না আপনি কতটা
গভীরভাবে চিন্তা করেন। কেস স্টাডি যোগ করুন-সমস্যা কী ছিল, আপনি কীভাবে সেটা
বিশ্লেষণ করলেন, এবং কোন পথে সমাধানে পৌঁছালেন সেটা ধাপে ধাপে দেখান। এই পুরো
গল্পটা বলতে পারলে আপনি আর শুধু একজন ডিজাইনার থাকেন না-হয়ে ওঠেন একজন সমস্যা
সমাধানকারী। আর বিহ্যান্সে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও আপলোড করার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ
করে এই কেস স্টাডি উপস্থাপন করলে আপনার প্রজেক্ট অন্য সবার থেকে আলাদাভাবে চোখে
পড়বে।
মুডবোর্ড যোগ করা অনেকের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, কিন্তু এটা আসলে আপনার
ডিজাইন চিন্তার জানালা। মুডবোর্ডে রাখুন আপনার ইন্সপিরেশন, কালার প্যালেট,
টাইপোগ্রাফি চয়েস এবং রেফারেন্স ইমেজ-যেগুলো দেখে বোঝা যায় আপনি ডিজাইনটা কোথা
থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করেছিলেন। Canva বা Figma দিয়ে সহজেই একটা সুন্দর
মুডবোর্ড বানাতে পারবেন এবং সেটা প্রজেক্টের শুরুতেই রাখুন। এই একটা অংশ আপনার
প্রজেক্টকে অনেক বেশি পরিপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
পোর্টফোলিও পাবলিশ ও প্রমোশন
প্রজেক্ট পাবলিশ করেই বসে থাকলে চলবে না-পাবলিশ করার সাথে সাথে সেটা সোশ্যাল
মিডিয়ায় শেয়ার করুন, কারণ প্রথম কয়েক ঘণ্টার ভিউ আর এনগেজমেন্টই Behance
অ্যালগরিদমকে সংকেত দেয় যে আপনার কাজটা মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। LinkedIn,
Instagram, এবং Facebook-এ শেয়ার করুন এবং প্রজেক্টের একটা আকর্ষণীয় ক্যাপশন
লিখুন যেটা মানুষকে ক্লিক করতে বাধ্য করে। ডিজাইন কমিউনিটির গ্রুপগুলোতেও শেয়ার
করুন, কারণ সেখানে আপনার সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট এবং কোলাবোরেটর দুজনেই থাকতে পারেন।
মনে রাখবেন, ভালো কাজ নিজে থেকে ছড়ায় না-আপনাকেই সেটা ছড়িয়ে দিতে হয়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
Behance শুধু একটা পোর্টফোলিও সাইট না-এটা আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে শক্তিশালী
হাতিয়ার হতে পারে, যদি আপনি সেটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। এখানে সফলতা
রাতারাতি আসে না, কিন্তু প্রতিটা ভালো প্রজেক্ট, প্রতিটা সঠিক ট্যাগ, আর প্রতিটা
সক্রিয় দিন আপনাকে একটু একটু করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই হতাশ না হয়ে
লেগে থাকুন-কারণ যে লেগে থাকে, সাফল্য তার কাছেই আসে। 260416
















অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url