ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদনের নিয়ম
কোন কাগজপত্র লাগবে, কোথায় আবেদন করবেন এবং আবেদন করার সময় কী ভুল এড়িয়ে চলবেন,
সব তথ্য এক জায়গায় পাবেন। আবেদন করার আগে এই আর্টিকেলটি দেখে নিলে আপনার সময় ও
ঝামেলা দুটোই বাঁচবে।
পেজ সূচিপত্রঃ ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদনের নিয়ম
- ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদনের নিয়ম
- এই আইডি কার্ডটা আসলে কেন দরকার পরে
- আবেদন করার আগে কোন কোন কাগজপত্র জোগাড় করে রাখবেন
- freelancers.gov.bd সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার সহজ উপায়
- ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে সাধারণত কোন জায়গায় আটকে যাই
- আয়ের প্রমাণ হিসেবে কী কী আপলোড করবেন
- আবেদন জমা দেওয়ার পর কতদিন অপেক্ষা করতে হয়
- আবেদন অনুমোদন না হলে, কী করবেন
- আইডি কার্ড পেয়ে গেলে কী কী সুবিধা পাবেন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদনের নিয়ম
আপনি কি ফ্রিল্যান্সিং করেন? তাহলে একটা কথা জিজ্ঞেস করি-আপনার কাছে কি সরকারি
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড আছে? নেই তো? বেশিরভাগেরই নেই। কারণ অনেকে জানেই না যে
এটা আসলে কী, কীভাবে পাওয়া যায়, বা আদৌ কোনো কাজে লাগে কিনা। সত্যি বলতে, এই
আইডি কার্ডটা এখন বেশ জরুরি হয়ে উঠছে। ব্যাংকে গিয়ে ডলার তুলতে গেলে, ভিসার
আবেদনে পেশা প্রমাণ করতে গেলে, বা কোনো সরকারি সুবিধা নিতে গেলে-এই কার্ড আপনার
পরিচয় দেবে। বলবে, "হ্যাঁ, এই মানুষটা সত্যিকারের ফ্রিল্যান্সার।"
চলুন, ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদনের নিয়মগুলো ধাপে ধাপে জেনে
নেই। এবং এটি শুরু করতে কি জিনিসগুলো হাতের কাছে রাখবেন সেটিও জেনে নেই।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)ঃ এটা ছাড়া আবেদনই করা যাবে না। আপনার NID নম্বর এবং কার্ডের তথ্য ঠিকঠাক থাকতে হবে।
- গত ১২ মাসের আয়ের প্রমাণঃ অন্তত ১,০০০ ডলার আয় করতে হবে-মানে প্রায় এক লাখ টাকার মতো। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, Payoneer বা Wise-এর ট্রানজেকশন হিস্ট্রি, বা Upwork/Fiverr-এর পেমেন্ট হিস্ট্রি-এসব দিয়ে প্রমাণ করা যাবে।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবিঃ একটা ভালো, পরিষ্কার ছবি রাখুন। ঝাপসা বা পুরনো ছবি দিলে সমস্যা হতে পারে।
- একটি সক্রিয় ইমেইল এবং মোবাইল নম্বরঃ OTP যাচাইয়ের জন্য এই দুটো লাগবেই।
আসুন এবার ইমেজ বাই ইমেজ দেখে নেই অনলাইনে আবেদনের নিয়মগুলি।
প্রথমে নিচের ইমেজ এর মত গগুলে সার্চ বারে সার্চ করে প্রথম ওয়েবসাইটে ক্লিক করে
প্রবেশ করুন।
বা এই
https://www.freelancers.gov.bd/
লিংকে ক্লিক করেও সরাসরি ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারবেন।
তারপর নিচে ওয়েবসাইটি ওপেন হবে, এখানে "Apply Now" তে ক্লিক করুন।
নিচের ইমেজে নিউ ইউজার এর পাশে "Creat New Account" এ ক্লিক করুন
এবার নিচের মত আপনার আপনার নাম (অবশ্যই NID অনুযায়ী), ইমেইল ঠিকানা, মোবাইল
নম্বর, একটা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড (কমপক্ষে ৮ অক্ষর)। এগুলো সেট করুন।
নিচের মত রেজিস্ট্রেশন সাকসেসফুল দেখাবে এবং আপনার মেইলে একটি ভেরিফিকেশন লিংক
আসবে
এখানে নিচের মত যে কোন একটি লিংকে ক্লিক করুন।
এবার নিচের মত "Apply Now" তে ক্লিক করুন
এবার নিচে দেখাবে আবেদনের জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগবে। পুরো লেখাটি ভালো করে পরে
নিন তারপর "Apply Now" তে ক্লিক করুন।
এখানে আপনার নাম, NID নম্বর, এবং ফোন নম্বর দিতে হবে। NID দিলে সিস্টেম নিজেই
আপনার তথ্য যাচাই করে নেবে। তাই নামটা হুবহু NID অনুযায়ী দিন, একটু এদিক-ওদিক
হলেই ঝামেলা।
এখানে দিতে হবে আপনি কী ধরনের কাজ করেন-গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট,
কন্টেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, যাই হোক। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-গত ১২
মাসে কত আয় করেছেন সেটা দিতে হবে। তারপর এখানে আপনার ছবি এবং আয়ের প্রমাণ
আপলোড করতে হবে। ফাইল ফরম্যাট সাধারণত JPG বা PDF। আপলোড করার আগে ফাইলগুলো
একটু চেক করে নিন-সাইজ যেন খুব বড় না হয়।
সব তথ্য ঠিকঠাক দেওয়া হলে "সাবমিট" করুন।
আবেদন জমা হলে একটা কনফার্মেশন মেসেজ পাবেন।
এরপর DoICT-এর ২৯ জন প্রকৌশলী এবং ৪ জন সাপোর্ট এক্সপার্ট মিলে আপনার আবেদন যাচাই
করবে। যাচাই শেষে আইডি কার্ড অনুমোদিত হলে ইমেইলে জানানো হবে। সর্বোচ্চ ৭
কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বা তার আগেও হয়ে যেতে পারে। "Approved" হয়ে গেলে
নিচের মত দেখাবে এখানে "Download ID Card" এ ক্লিক করলেই কার্ডটি পেয়ে যাবেন।
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড দেখেতে এমন হবে
আইডি কার্ডের মেয়াদ থাকবে তিন বছর। তারপর নবায়ন করা যাবে। অনেকে আবেদন করতে
গিয়ে ছোট ছোট ভুল করে ফেলে, যেগুলোর কারণে আবেদন আটকে যায়। প্রথমত, নামের
বিষয়ে সাবধান। NID-তে যেভাবে নাম লেখা আছে, হুবহু সেটাই দিতে হবে। "Mohammed" আর
"Mohammad"-এই পার্থক্যটাও সিস্টেম ধরবে। দ্বিতীয়ত, আয়ের প্রমাণ যদি না থাকে বা
কম থাকে, তাহলে আবেদন অনুমোদন পাবেন না। তাই আগে নিশ্চিত হন যে আপনার কাছে ১২
মাসের লেনদেনের রেকর্ড আছে। তৃতীয়ত, ছবি যদি অস্পষ্ট বা ঝাপসা হয়, সেটা রিজেক্ট
হতে পারে। একটা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে পরিষ্কার ছবি দিন।
এই আইডি কার্ডটা আসলে কেন দরকার পরে
আপনি যখন ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করেন, তখন অনেক সময় প্রমাণ দেখাতে হয় যে আপনি
আসলেই একজন ফ্রিল্যান্সার। এই আইডি কার্ডটি সেই সরকারি স্বীকৃতি দেয়। ফলে আপনার
পেশাগত পরিচয় আরও শক্তিশালী হয়। ভবিষ্যতে এটি অনেক জায়গায় কাজে আসে। ব্যাংকে
ফ্রিল্যান্সার অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে এই কার্ডটি বড় সাহায্য করে। আপনি সহজেই লোন
বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনেক ব্যাংক এখন ফ্রিল্যান্সারদের
জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। এতে আপনার আর্থিক লেনদেন অনেক সহজ হয়ে যায়।
আর্থিক সুবিধা আর প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে এই কার্ডটি খুব কাজে দেয়। আপনি সরকারের
বিভিন্ন স্কিমের আওতায় আসতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে
আবেদনের নিয়ম জেনে নিলে আপনি এসব সুবিধা সহজেই পাবেন। এতে আপনার ক্যারিয়ার আরও
এগিয়ে যাবে। ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করার সময় এই আইডি কার্ড আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা
বাড়ায়। আপনি প্রমাণ করতে পারবেন যে আপনি একজন নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার।
অনেক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও এটি সাহায্য করে। ফলে আপনার কাজের সুযোগ আরও
বাড়ে। ভবিষ্যতে যখন আপনি বড় প্রজেক্ট নেবেন, তখন এই কার্ডটি অনেক কাজে লাগবে। এটি
আপনার পেশাকে প্রাতিষ্ঠানিক করে তোলে। নিয়মিত রিনিউ করে রাখলে সব সুবিধা চালু
থাকবে। তাই আগে থেকেই আবেদন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
আবেদন করার আগে কোন কোন কাগজপত্র জোগাড় করে রাখবেন
আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ হলো আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র। আপনার NID
কার্ডের সামনের আর পিছনের দুই পাশের স্পষ্ট ছবি তুলে রাখুন। ফাইলের সাইজ সর্বোচ্চ
৫০০ কেবি এর মধ্যে রাখতে হবে। PNG বা JPG ফরম্যাটে সেভ করে রাখুন যাতে আপলোডের
সময় কোনো সমস্যা না হয়। আয়ের প্রমাণ হিসেবে আপনাকে ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্ম থেকে
স্ক্রিনশট বা ডকুমেন্ট দিতে হবে। আপনি Upwork, Fiverr বা অন্য কোনো সাইট থেকে গত
বারো মাসের আয়ের প্রমাণ সংগ্রহ করুন। ফাইল সাইজ সাধারণত দুই মেগাবাইটের নিচে রাখা
ভালো। এতে আপনার আবেদন দ্রুত যাচাই হয় এবং অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ে।
আপনার সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রস্তুত করে রাখুন। এটি স্পষ্ট,
সাম্প্রতিক এবং সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা হওয়া জরুরি। কিছু ক্ষেত্রে e-TIN
সার্টিফিকেটের কপিও লাগতে পারে। সবকিছু আগে থেকে স্ক্যান করে একটা ফোল্ডারে রাখলে
পরে সময় বাঁচবে। ফাইলগুলো সঠিক ফরম্যাটে সেভ করে রাখুন যাতে আপলোডের সময় কোনো
সমস্যা না হয়। আপনি ছবিগুলো একত্রিত করে একটা ফাইলে রাখতে পারেন। ভুল ফরম্যাট বা
বড় সাইজের ফাইল আবেদন রিজেক্ট করতে পারে। তাই আগে থেকে চেক করে নিন এবং প্রয়োজনে
ছবির সাইজ কমিয়ে নিন।
freelancers.gov.bd সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার সহজ উপায়
প্রথমে আপনার ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে
freelancers.gov.bd লিখে সাইটে প্রবেশ
করুন। সেখানে Apply Now বাটনটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। এটিতে ক্লিক করলেই
রেজিস্ট্রেশন পেজ খুলে যাবে। সবকিছু সহজ বাংলায় লেখা থাকায় আপনি কোনো সমস্যা
ছাড়াই এগিয়ে যেতে পারবেন। এরপর আপনার পুরো নাম, ইমেইল ঠিকানা, মোবাইল নম্বর আর
একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের
জন্য অনলাইনে আবেদনের নিয়ম অনুসরণ করে আপনি সাইটে রেজিস্ট্রেশন শুরু করুন। একবার
অ্যাকাউন্ট তৈরি হলে ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন লিংক চলে আসবে। সেটিতে ক্লিক করে
আপনার অ্যাকাউন্ট অ্যাকটিভ করে নিন।
এরপর লগইন করে ব্যক্তিগত তথ্য পূরণের ফর্মে যান। আপনার NID নম্বর, জন্ম তারিখ আর
ঠিকানা সঠিকভাবে দিন। এরপর প্রস্তুত করে রাখা NID ছবি আর আয়ের প্রমাণ আপলোড করুন।
সব তথ্য দুবার চেক করে নিন যাতে পরে কোনো ভুল না হয়। সবকিছু পূরণ শেষ হলে Submit
বাটনে ক্লিক করুন। আপনার আবেদন জমা হয়ে যাবে এবং একটি রেফারেন্স নম্বর পাবেন। এই
নম্বর দিয়ে পরে আবেদনের স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন। নিয়মিত ইমেইল চেক করুন
কারণ ভেরিফিকেশনের আপডেট সেখানে আসবে।
ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে সাধারণত কোন জায়গায় আটকে যাই
যখন আপনি NID ছবি আপলোড করতে যান, তখন সবচেয়ে বেশি আটকে যান সাইজ আর ফরম্যাট
নিয়ে। অনেকে ৫০০ কেবির বেশি বড় ফাইল আপলোড করেন বা ভুল ফরম্যাটে সেভ করেন। সামনের
আর পিছনের ছবি আলাদা আলাদা দিলে সিস্টেম সমস্যা দেখায়। একটা ফাইলে দুই পাশ
একত্রিত করে PNG বা JPG ফরম্যাটে সেভ করে রাখুন যাতে সহজে আপলোড হয়। আয়ের প্রমাণ
আপলোডের সময়ও অনেকে সমস্যায় পড়েন। আপনি যদি শুধু একটা স্ক্রিনশট দেন আর তাতে আয়ের
পরিমাণ স্পষ্ট না হয়, তাহলে আবেদন আটকে যায়।
গত বারো মাসের আয়ের ডকুমেন্ট স্পষ্টভাবে দেখানো দরকার। ফাইল সাইজ দুই মেগাবাইটের
নিচে রাখুন এবং স্ক্রিনশটগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে নিন। ব্যক্তিগত তথ্য পূরণের সময়
নাম, NID নম্বর আর ঠিকানায় ছোটখাটো ভুল হয় অনেকের। আপনি সব তথ্য NID কার্ডের সাথে
মিলিয়ে দুবার চেক করুন। ইমেইল আর মোবাইল ভেরিফিকেশন স্টেপে আটকে গেলে ইমেইল চেক
করুন বা নতুন করে ভেরিফাই করুন। সবকিছু সঠিকভাবে পূরণ করলে আবেদন সহজেই জমা হয়ে
যায়।
আয়ের প্রমাণ হিসেবে কী কী আপলোড করবেন
আয়ের প্রমাণ হিসেবে আপনাকে ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্ম থেকে স্ক্রিনশট দিতে হবে।
Upwork, Fiverr বা অন্য কোনো সাইট থেকে গত বারো মাসের আয়ের রেকর্ড দেখানো দরকার।
স্ক্রিনশটে মোট আয়ের পরিমাণ স্পষ্টভাবে দেখা যাওয়া উচিত। একাধিক স্ক্রিনশট দিলে
ভালো হয় যদি একটা ছবিতে সব না আসে। স্ক্রিনশটগুলো পরিষ্কার ও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
আপনি ডেট রেঞ্জ সিলেক্ট করে গত বারো মাসের আয় দেখান। ব্লারি বা অস্পষ্ট ছবি আপলোড
করলে আবেদন আটকে যেতে পারে। PDF ফাইলেও আপলোড করা যায় যদি প্ল্যাটফর্ম থেকে
স্টেটমেন্ট ডাউনলোড করেন।
ফাইল সাইজ সাধারণত দুই মেগাবাইটের নিচে রাখুন। আপনি স্ক্রিনশটগুলো একত্রিত করে
একটা ফাইলে রাখতে পারেন। সবকিছু স্পষ্ট ও সঠিক সময়ের হলে যাচাই দ্রুত হয়।
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদনের নিয়ম অনুসরণ করে আপনি সঠিক
ডকুমেন্ট আপলোড করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর কতদিন অপেক্ষা করতে হয়
আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি রেফারেন্স নম্বর পাবেন। এই নম্বর দিয়ে আপনি পরে
স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। সিস্টেম আপনার তথ্য প্রাথমিকভাবে যাচাই করে। তারপর
ICT ডিভিশনের টিম আপনার ডকুমেন্ট রিভিউ শুরু করে। সাধারণত সাত থেকে পনেরো দিনের
মধ্যে আপনার আবেদন প্রসেস হয়। আপনি ইমেইলে নোটিফিকেশন পাবেন যখন রিভিউ শেষ হবে।
অনেক সময় আবেদনের সংখ্যা বেশি হলে সময় একটু বেশি লাগতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে
অপেক্ষা করুন এবং নিয়মিত ইমেইল চেক করুন। অপেক্ষার সময় আপনি নিয়মিত ইমেইল চেক
করুন।
যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে যায় তাহলে সাপোর্ট টিমের সাথে যোগাযোগ করতে
পারেন। আবেদন অনুমোদিত হলে ডিজিটাল আইডি কার্ড ডাউনলোডের লিংক ইমেইলে চলে আসবে।
এভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং আপনি আইডি কার্ড পেয়ে যান।
আবেদন অনুমোদন না হলে, কী করবেন
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদনের নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করলেও
কখনো কখনো অনুমোদন না হতে পারে। আপনি ইমেইলে যে কারণ দেখানো হয়েছে তা ভালোভাবে
পড়ুন। সাধারণত ডকুমেন্টের সমস্যা বা তথ্যের অমিলের জন্য এমন হয়। কারণ বুঝে নিয়ে
পরের ধাপে যান। আপনি NID ছবির সাইজ, ফরম্যাট বা আয়ের প্রমাণের অস্পষ্টতার জন্য
রিজেক্ট হতে পারেন। এই সমস্যাগুলো ঠিক করে নতুন করে আবেদন করার চেষ্টা করুন। অনেক
সময় শুধু একটা ছোট ভুল সংশোধন করলেই অনুমোদন হয়ে যায়।
তাই ইমেইলের নির্দেশনা অনুসরণ করে ডকুমেন্টগুলো আবার প্রস্তুত করুন। যদি সমস্যা
বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে সাপোর্ট টিমের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনি তাদের ইমেইল বা
হেল্পলাইনে কারণ জানিয়ে সাহায্য চাইতে পারেন। সবকিছু ঠিক করে আবার আবেদন করলে
সাধারণত অনুমোদন পাওয়া যায়। ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যান।
আইডি কার্ড পেয়ে গেলে কী কী সুবিধা পাবেন
আইডি কার্ড পেয়ে গেলে আপনি সহজে ব্যাংকে ফ্রিল্যান্সার অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।
অনেক ব্যাংক এখন এই কার্ড দেখিয়ে লোন আর ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা দেয়। আপনার আয়ের
প্রমাণ হিসেবেও এটি কাজ করে। ফলে আর্থিক লেনদেন অনেক সহজ হয়ে যায় এবং আপনি দরকারি
সময়ে সাপোর্ট পান। এছাড়া আপনি সরকারি প্রশিক্ষণ আর বিভিন্ন স্কিমের সুবিধা পাবেন।
পেশাগতভাবে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে এবং ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করা সহজ হবে।
ভবিষ্যতে বড় প্রজেক্ট নেওয়ার সময় এই স্বীকৃতি অনেক সাহায্য করবে। তাই এই কার্ড
আপনার ক্যারিয়ারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করেন এবং যোগ্যতা পূরণ করেন, তাহলে আজই
freelancers.gov.bd সাইটে গিয়ে আবেদন
করে ফেলুন। এই আইডি কার্ড আপনার পেশাগত জীবনে অনেক সুবিধা নিয়ে আসবে। প্রক্রিয়াটা
সহজ এবং বিনামূল্যে। তাই দেরি না করে শুরু করুন এবং নিজের ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ
করুন। আমি আশা করি এই ধাপে ধাপে গাইড আপনাকে সাহায্য করেছে। আপনি সঠিক ডকুমেন্ট
প্রস্তুত করে আবেদন করলে সফল হবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের এই সরকারি স্বীকৃতি আপনার
ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য। 260416




















অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url