শপিফাই দিয়ে ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায়
শপিফাই দিয়ে ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায় জানলে আপনি ধাপে ধাপে নিজের
অনলাইন স্টোর লঞ্চ করতে পারবেন প্রোডাক্ট যোগ করা থেকে শুরু করে পেমেন্ট সেটআপ
পর্যন্ত সবকিছু সহজভাবে।
আজকের এই আর্টিকেলে ঠিক সেই সহজ উপায়টা শেয়ার করব যাতে তুমি বাসায় বসে মোবাইল বা
ল্যাপটপ নিয়েই শপিফাই দিয়ে পুরোপুরি প্রফেশনাল ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করতে
পারো। শুধু একটু ধৈর্য আর স্মার্ট কাজ করার মানসিকতা।
পেজ সূচিপত্রঃ শপিফাই দিয়ে ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায়
- শপিফাই দিয়ে ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায়
- শপিফাই কেন ড্রপশিপিং ব্যবসার জন্য সবচেয়ে স্মার্ট চয়েস?
- ড্রপশিপিং শুরু করার আগে যে কয়েকটা জিনিস না জানলে পস্তাবেন
- শপিফাই অ্যাকাউন্ট খুলে স্টোর সেটআপ করার ধাপে ধাপে গাইড
- আকর্ষক থিম সিলেক্ট করে স্টোরকে প্রফেশনাল লুক দেওয়া
- প্রোডাক্ট রিসার্চ করে সঠিক আইটেম বেছে নেওয়ার টিপস
- DSers, CJDropshipping বা AutoDS অ্যাপ দিয়ে সাপ্লায়ার কানেক্ট করা
- পেমেন্ট গেটওয়ে, শিপিং আর ডোমেইন সেটআপ (বাংলাদেশের জন্য বিশেষ টিপস)
- স্টোর লঞ্চ করে মার্কেটিং শুরু করার বাস্তব কৌশল
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
শপিফাই দিয়ে ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায়
শপিফাই দিয়ে ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায় আসলে এতটাই সোজা যে আপনি আজই
বাসায় বসে ল্যাপটপ বা মোবাইল নিয়ে শুরু করে দিতে পারবেন, যদি ধাপে ধাপে ফলো করেন।
প্রথমে shopify.com ডট কমে গিয়ে সরাসরি "Start free trial" বাটনে ক্লিক করুন, আপনার
ইমেইল আর একটা স্ট্রং পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুন এখনো ২০২৬ সালেও তারা
৩ দিনের ফ্রি ট্রায়াল বা কখনো এক মাসের অফার দিচ্ছে, তাই শুরুতে কোনো টাকা লাগবে
না।
অ্যাকাউন্ট খোলার পরপরই আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে স্টোরের নাম কী হবে, এখানে একটা
ইউনিক আর মনে রাখার মতো নাম দিন যেমন glowifybd তারপর ব্যবসার
টাইপ হিসেবে dropshipping সিলেক্ট করে নেক্সট করুন।
এরপর আপানার সামনে মূল ড্যাসবোর্ড খুলে যাবে যা দেখেতে এমন, এখানে ডান দিকে মূল মেনু দেখতে পাবেন যা পরবর্তিতে প্রয়োজন হবে।
বামের ড্যাসবোর্ডে "Produtcs" অপশন থেকে "Add Product" এখানে ক্লিক করেও আপনি ম্যানুয়ালি প্রোডাক্ট লিস্টিং করতে পারবেন।
"Products" অপশনে যাওয়ার পর নিচের ইমেজ এর মত প্রোডাক্ট এর টাইটেল, পাবলিশিং, ডেস্ক্রিপশন, প্রোডাক্ট অর্গানাইজেশন, ক্যাটেগরি ইত্যাদি তথ্য ম্যানুয়ালি সেট করে দিতে হয়।
তারপর ড্যাশবোর্ড থেকে থিম সেকশনে গিয়ে ফ্রি থিমগুলোর মধ্যে Dawn বা অন্য
কোনো সিম্পল থিম বেছে ইন্সটল করে নিন
এরপর "Edit Theme" এ গিয়ে আপনার ব্যান্ডের লোগো এবং কালার স্কিম সেট করে নিন।
বামের "Home page" এ অবস্থিত "Header section" থেকে "Add Section" এ ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটের About Us, Contact Us, Shipping Policy, Refund Policy ইত্যাদি পেজ তৈরি করে নিন
এরপর Shopify app স্টোর থেকে বা সাইটের উপরে সার্চ বারে DSers বা CJDropshipping টাইপ করে অ্যাপ ইনস্টল করে নিন, এগুলো
দিয়ে এক ক্লিকে AliExpress থেকে প্রোডাক্ট ইমপোর্ট করতে পারবেন।
সার্চ বারে DSers বা CJDropshipping টাইপ করে খুজে বের করে নিচের দেওয়া ইমেজ অনুযায়ী ইন্সটল বাটনে ক্লিক করে খুব সহজেই অ্যাপটি ইন্সটল করে নিন
শেষে একটা কাস্টম ডোমেইন Namecheap থেকে কিনে কানেক্ট করে নিন, তারপর সবকিছু
চেক করে প্রিভিউ দেখে লাইভ করে দিন। পুরো প্রসেসটা যদি ফোকাস করে করেন তাহলে
সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে আপনার স্টোর পুরোপুরি রেডি হয়ে যাবে, আর তখন মনে
হবে এটা কোনো রকেট সায়েন্স ছিল না, শুধু একটু ধৈর্য আর স্মার্ট প্ল্যানিং লাগে।
শপিফাই কেন ড্রপশিপিং ব্যবসার জন্য সবচেয়ে স্মার্ট চয়েস?
শপিফাই কেন ড্রপশিপিং ব্যবসার জন্য সবচেয়ে স্মার্ট চয়েস এটা আমি যখন প্রথমবার
বুঝতে পেরেছিলাম তখন থেকেই মনে হয়েছে এটা আসলে কোনো অপশন নয়, এটা একটা
নির্ভরযোগ্য সঙ্গী যেটা আপনার পুরো ব্যবসাটাকে অনেক সহজ করে দেয়। দেখো, অন্য
প্ল্যাটফর্ম যেমন ওয়ার্ডপ্রেস বা বিগকমার্সে গেলে প্রথমেই প্লাগিন ইনস্টল করা,
থিম কাস্টমাইজ করা, হোস্টিং ম্যানেজ করা এসব ঝামেলায় পড়ে যেতে হয়, কিন্তু
শপিফাইয়ে সবকিছু এক জায়গায় রেডিমেড, কোনো কোডিং লাগে না।
ইন্টারফেসটা এতটাই সহজ যে একদম নতুন কেউও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে স্টোর সেটআপ করে
ফেলতে পারেন। থিমগুলো মোবাইল রেসপনসিভ, লোডিং স্পিড দারুণ, আর ড্রপশিপিং অ্যাপ
যেমন DSers বা CJDropshipping এক ক্লিকে অ্যাড হয়ে যায় যাতে AliExpress থেকে
প্রোডাক্ট ইমপোর্ট করা, প্রাইস অ্যাডজাস্ট করা আর অর্ডার অটোমেটিক প্লেস করা হয়ে
যায় এতে আপনার সময় বাঁচে, ভুলের চান্স কমে।
২০২৬ সালে শপিফাই কালেকটিভ ফিচারটা তো আরও লেভেল আপ করে দিয়েছে, সরাসরি
সাপ্লায়ারদের সাথে কানেক্ট হয়ে শিপিং আরও দ্রুত হয়, কাস্টমাররা তাড়াতাড়ি
প্রোডাক্ট পান বলে রিটার্ন কমে আর রিভিউ ভালো আসে। আর বাংলাদেশ থেকে যারা শুরু
করেন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কমিউনিটি বিশাল, সাপোর্ট টিম সাড়া দেয়
দ্রুত, আর পেমেন্ট গেটওয়ে ইন্টিগ্রেশনও অনেক সোজা হয়েছে PayPal বা থার্ড পার্টি
অপশন দিয়ে।
আমি নিজে যখন WooCommerce থেকে শপিফাইয়ে সুইচ করেছিলাম তখন দেখেছি যে একই পরিমাণ
অ্যাডস বাজেটে শপিফাইয়ে কনভার্শন রেট অনেক বেশি, কারণ স্টোরটা দেখতে প্রফেশনাল
লাগে আর লোডিং স্পিড ফাস্ট থাকায় কাস্টমার ঝামেলা করেন না।
এটা শুধু সহজ না, এটা স্কেলেবলও ছোট থেকে শুরু করে যখন ব্যবসা বড় হবে তখন
অটোমেশন, অ্যানালিটিক্স, মাল্টি-চ্যানেল সেলস সবই এক জায়গায় পেয়ে যাবেন, ফলে লং
টার্মে মাথাব্যথা কমে আর প্রফিট বাড়ে। তাই যদি আপনি সিরিয়াসলি ড্রপশিপিং করতে
চান, তাহলে শপিফাই ছাড়া আর কিছু ভাবার দরকার নেই, এটা আপনার ব্যবসার জন্য
সত্যিকারের স্মার্ট আর নিরাপদ চয়েস।
ড্রপশিপিং শুরু করার আগে যে কয়েকটা জিনিস না জানলে পস্তাবেন
ড্রপশিপিং শুরু করার আগে যে কয়েকটা জিনিস না জানলে পস্তাবেন সেগুলো আসলে খুবই
জরুরি, কারণ অনেকে উত্তেজনায় পড়ে সোজা স্টোর বানিয়ে ফেলেন পরে দেখেন যে ব্যবসাটা
টিকছে না বা লস হয়ে যাচ্ছে। শপিফাই দিয়ে ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায়
শুরু করার আগে প্রথমে আপনার নিশটা খুব ভালো করে বেছে নিন, মানে কোন ক্যাটাগরিতে
কাজ করবেন ফ্যাশন, গ্যাজেট, হোম ডেকোর নাকি বিউটি প্রোডাক্ট, কারণ নিশে গেলে
কম্পিটিশন কম থাকে আর কাস্টমার খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
তারপর টার্গেট কাস্টমার ঠিক করুন, অর্থাৎ আপনার প্রোডাক্ট কাদের জন্য USA এর
যুবকরা নাকি বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত, কারণ দেশভেদে মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি আর শিপিং
খরচ আলাদা হয়। বাজেটের হিসাবটা আগে থেকে করুন, অ্যাডসে প্রথম মাসে অন্তত ৫০০ থেকে
১০০০ ডলার রাখুন কারণ টেস্টিং ছাড়া কোনো প্রোডাক্ট চলে কি না বোঝা যায় না, আর মনে
রাখুন প্রথম ৩০ দিন লস হতেই পারে কিন্তু সেটা লার্নিং খরচ।
সাপ্লায়ার রিসার্চ করুন খুব ভালো করে, AliExpress বা CJDropshipping এ গিয়ে
প্রোডাক্টের রিভিউ, শিপিং টাইম আর কোয়ালিটি চেক করুন, না হলে কাস্টমার অর্ডার
দিয়ে খারাপ জিনিস পেলে রিফান্ডের ঝামেলায় পড়বেন। কম্পিটিশন অ্যানালাইসিস করতে
ভুলবেন না, Google Trends আর TikTok এ দেখুন কোন প্রোডাক্ট ট্রেন্ডিং কিন্তু
স্যাচুরেটেড না, আর লিগ্যাল দিকগুলো যেমন ট্যাক্স, প্রাইভেসি পলিসি আর রিটার্ন
পলিসি আগে থেকে সেট করে রাখুন যাতে পরে কোনো আইনি ঝামেলায় না পড়েন।
আমি যখন প্রথম শুরু করেছিলাম তখন এই স্টেপগুলো না মানার কারণে প্রথম স্টোরটা তিন
মাস পর বন্ধ করে দিতে হয়েছিল, কিন্তু এখন যারা আমার কাছে আসেন তাদের বলি এগুলো না
জানলে পস্তাতে হবে, তাই ধৈর্য ধরে একটা একটা করে সব ঠিক করে নিন, তাহলে শপিফাইয়ের
পুরো সিস্টেমটা আপনার জন্য সত্যিকারের সহজ আর লাভজনক হয়ে উঠবে।
শপিফাই অ্যাকাউন্ট খুলে স্টোর সেটআপ করার ধাপে ধাপে গাইড
শপিফাই অ্যাকাউন্ট খুলে স্টোর সেটআপ করার ধাপে ধাপে গাইড আসলে খুবই সহজ আর সোজা
প্রক্রিয়া, যেটা আপনি প্রথমবার করলেও কোনো ঝামেলায় পড়বেন না যদি ধৈর্য ধরে একটা
একটা স্টেপ ফলো করেন। দেখুন প্রথমে আপনার ব্রাউজার খুলে shopify.com এ চলে যান,
সেখানে উপরের দিকে বড় করে "Start free trial" বা "Get started" লেখা বাটনে ক্লিক
করুন, তারপর আপনার একটা অ্যাকটিভ ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে একটা মনে রাখার মতো শক্ত
পাসওয়ার্ড সেট করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফেলুন।
এখনো ২০২৬ সালে তারা নতুনদের জন্য ৩ দিনের ফ্রি ট্রায়াল দিচ্ছে, তাই শুরুতে কোনো
কার্ডের তথ্য বা টাকা লাগবে না। অ্যাকাউন্ট খোলার পরপরই শপিফাই আপনাকে জিজ্ঞাসা
করবে আপনার স্টোরের নাম কী হবে, এখানে একটা আকর্ষক আর ইউনিক নাম চিন্তা করে দিন
যেমন glowhubbd.myshopify.com বা আপনার ব্র্যান্ডের সাথে মানানসই কিছু, তারপর
ব্যবসার ধরন সিলেক্ট করতে বলবে সেখানে "Dropshipping" বা "Online store" অপশন
বেছে নিন।
এরপর কয়েকটা সিম্পল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যেমন আপনার ব্যবসা কোথায় অবস্থিত,
কোন কারেন্সি ব্যবহার করবেন, কী ধরনের প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন ইত্যাদি সব সত্যি
তথ্য দিয়ে পূরণ করে দিন, কারণ এগুলো পরে স্টোরের সেটিংসে সাহায্য করে। সবকিছু
পূরণ করার পর সরাসরি আপনাকে শপিফাই ড্যাশবোর্ডে নিয়ে যাবে, যেখানে সবকিছু
পরিষ্কারভাবে সাজানো থাকে আর বাম দিকে মেনুতে সব অপশন দেখা যায়।
ড্যাশবোর্ডে ঢুকেই প্রথম কাজ হলো Settings সেকশনে গিয়ে বেসিক জিনিসগুলো ঠিক করে
নেওয়া বিলিং ইনফরমেশন, ট্যাক্স সেটিংস, শিপিং জোন, কারেন্সি আর স্টোর অ্যাড্রেস
চেক করুন, কারণ এই অংশটা ঠিক না থাকলে পরে অর্ডার বা পেমেন্টে সমস্যা হতে পারে।
আমি যখন প্রথমবার এই স্টেপটা করেছিলাম তখন খুবই নার্ভাস ছিলাম কিন্তু দেখলাম
পুরোটা এতটাই গাইডেড আর ইউজার ফ্রেন্ডলি যে কোনো টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই ৩০ থেকে
৪০ মিনিটের মধ্যে বেসিক স্টোর সেটআপ হয়ে গিয়েছিল। মোটকথা, এই ধাপটা যদি মনোযোগ
দিয়ে শেষ করতে পারেন তাহলে বাকি সবকিছু একদম সহজ হয়ে যাবে।
আকর্ষক থিম সিলেক্ট করে স্টোরকে প্রফেশনাল লুক দেওয়া
আকর্ষক থিম সিলেক্ট করে স্টোরকে প্রফেশনাল লুক দেওয়া আসলে আপনার শপিফাই স্টোরের
প্রথম ইমপ্রেশন তৈরির সবচেয়ে বড় অস্ত্র, কারণ কাস্টমার যদি প্রথম দেখাতেই
স্টোরটাকে সুন্দর আর বিশ্বস্ত মনে না করে তাহলে সে দ্বিতীয়বার চিন্তাও করবে না।
শপিফাই দিয়ে ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায় এখানে সত্যি সহজ হয়ে যায় যখন
আপনি ড্যাশবোর্ড থেকে Online Store > Themes সেকশনে চলে যান, সেখানে ফ্রি
থিমগুলোর মধ্যে Dawn থিমটা প্রথমে ট্রাই করুন কারণ এটা সিম্পল, ফাস্ট লোডিং আর
মোবাইল রেসপনসিভ।
তারপর Customize বাটনে ক্লিক করে লোগো আপলোড করুন, কালার স্কিম চেঞ্জ করুন যাতে
আপনার ব্র্যান্ডের সাথে মানায়, হেডারে একটা ক্লিয়ার মেসেজ দিন যেমন "Free
Shipping on Orders Over $50" বা "Quality Products at Best Price", ফন্ট সাইজ আর
স্টাইল অ্যাডজাস্ট করুন যাতে পড়তে সহজ লাগে। এরপর প্রোডাক্ট পেজগুলোতে গিয়ে হাই
কোয়ালিটি ইমেজ, শর্ট ভিডিও আর রিভিউ সেকশন যোগ করুন, কারণ এগুলো না থাকলে
কাস্টমারের আস্থা তৈরি হয় না, আর যদি বাজেট থাকে তাহলে Theme Store থেকে ৩০০ থেকে
৫০০ ডলারের একটা প্রিমিয়াম থিম কিনে নিতে পারেন যেটা আরও অ্যাডভান্সড ফিচার
দেয়।
আমি যখন প্রথম স্টোর বানিয়েছিলাম তখন Dawn থিম দিয়েই শুরু করেছিলাম আর দেখেছি যে
সঠিক কাস্টমাইজেশন করলে স্টোরটা এত প্রফেশনাল লাগে যে কাস্টমার নিজে থেকেই
কনভার্ট হয়ে যায়, তাই এই স্টেপটা মনোযোগ দিয়ে করুন, ছোট ছোট ডিটেইলস যেমন বাটনের
কালার, হোমপেজের লেআউট আর ফুটারে ট্রাস্ট ব্যাজ যোগ করলে পুরো স্টোরটা একদম লেভেল
আপ হয়ে যাবে।
প্রোডাক্ট রিসার্চ করে সঠিক আইটেম বেছে নেওয়ার টিপস
প্রোডাক্ট রিসার্চ করে সঠিক আইটেম বেছে নেওয়ার টিপস আসলে শপিফাই ড্রপশিপিংয়ের
পুরো সাফল্যের চাবিকাঠি, কারণ ভুল প্রোডাক্ট বেছে নিলে অ্যাডসে হাজার হাজার টাকা
ঢেলেও কোনো অর্ডার আসবে না আর স্টোরটা মরে যাবে। আমি যখন প্রথমবার এই কাজটা শুরু
করেছিলাম তখন শুধু আন্দাজে কয়েকটা জিনিস অ্যাড করে বসেছিলাম আর পরে দেখি সব ফেল,
কিন্তু এখন যেভাবে করি সেটা আপনি ফলো করলে অনেকটা ঝুঁকি কমবে।
প্রথমে TikTok Creative Center আর Google Trends এ ঘুরে দেখুন কোন কোন প্রোডাক্ট
এখন ট্রেন্ডিং, যেমন সার্চ ভলিউম বেশি কিন্তু কম্পিটিশন এখনো কম এরপর AliExpress
বা CJDropshipping-এ গিয়ে সেই প্রোডাক্টগুলো খুঁজে বের করুন, চেক করুন যে
সাপ্লায়ারের রিভিউ কত তারা, শিপিং টাইম কতদিন লাগে আর প্রোডাক্টের কোয়ালিটি ছবিতে
কেমন লাগছে।
তারপর মার্জিন হিসাব করুন খুব ভালো করে, আমি সাধারণত ১৫ থেকে ২০ ডলারে কিনে ৪৫
থেকে ৬০ ডলারে বিক্রি করি যাতে অ্যাডস খরচ বাদেও লাভ থাকে, আর প্রোডাক্ট যেন
লাইটওয়েট হয় কারণ হেভি জিনিস শিপিং খরচ বাড়িয়ে দেয় আর কাস্টমার অর্ডার দিতে চান
না। কম্পিটিটর অ্যানালাইসিস করতে ভুলবেন না, SpyFu বা SimilarWeb-এ দেখুন অন্য
স্টোরগুলো কীভাবে সেল করছে আর তাদের থেকে কী আলাদা করতে পারেন আপনি।
প্রথমে ১০ থেকে ১৫টা প্রোডাক্ট অ্যাড করুন স্টোরে, তার মধ্যে যেগুলোতে ছোট অ্যাডস
চালিয়ে দেখুন কনভার্শন আসছে কি না সেগুলোকে রেখে বাকিগুলো ডিলিট করে দিন, এভাবে
ধাপে ধাপে টেস্ট করে যান। আমার অভিজ্ঞতায় যারা এই রিসার্চটা সিরিয়াসলি করেন তারাই
মাসে লাখ টাকার ওপর প্রফিট করেন, আর যারা তাড়াহুড়ো করে প্রোডাক্ট বেছে নেন তারা ২
থেকে ৩ মাস পর স্টোর বন্ধ করে দেন। তাই ধৈর্য ধরে এই স্টেপটা করুন, প্রতিদিন ১
থেকে ২ ঘণ্টা ট্রেন্ড চেক করার অভ্যাস গড়ে তুলুন, তাহলে দেখবেন আপনার শপিফাই
স্টোরটা আস্তে আস্তে সত্যিকারের মানি মেকিং মেশিন হয়ে উঠছে।
DSers, CJDropshipping বা AutoDS অ্যাপ দিয়ে সাপ্লায়ার কানেক্ট করা
DSers, CJDropshipping বা AutoDS অ্যাপ দিয়ে সাপ্লায়ার কানেক্ট করা আসলে শপিফাই
স্টোরকে পুরোপুরি অটোমেটেড করে তোলার ম্যাজিক স্টেপ, কারণ এই অ্যাপগুলো ছাড়া
প্রতিটা অর্ডার ম্যানুয়ালি প্লেস করতে গেলে আপনার ঘুম হারাম হয়ে যাবে। শপিফাই
দিয়ে ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায় এখানে সত্যি সহজ হয়ে যায় যখন আপনি
ড্যাশবোর্ড থেকে Apps সেকশনে চলে যান, সেখানে সার্চ করে DSers অ্যাপটা প্রথমে
ইনস্টল করুন কারণ এটা শপিফাইয়ের অফিসিয়াল পার্টনার এবং AliExpress-এর সাথে সবচেয়ে
ভালো কানেক্ট হয়।
ইনস্টল করার পর আপনার AliExpress অ্যাকাউন্ট লগইন করে সরাসরি প্রোডাক্ট ইমপোর্ট
করুন, প্রাইস অ্যাডজাস্ট করে রাখুন যাতে আপনার মার্জিন থাকে, স্টক সিঙ্ক চালু
করুন আর অর্ডার আসলেই অটোমেটিক প্লেস হয়ে যায়। যদি আরও দ্রুত শিপিং চান তাহলে
CJDropshipping অ্যাপটা ইনস্টল করুন, এখানে সাপ্লায়ারদের নেটওয়ার্ক বড়, প্রোডাক্ট
কোয়ালিটি চেক করার অপশন আছে আর শিপিং টাইম অনেক কম, এক ক্লিকে কানেক্ট হয়ে
যায়।
আর যদি আপনি একদম হাই-লেভেল অটোমেশন চান তাহলে AutoDS অ্যাপটা নিন, এটা একসাথে
একাধিক সাপ্লায়ার কানেক্ট করে, প্রাইস মনিটরিং করে, ইনভেন্টরি আপডেট করে আর এমনকি
লস লিডিং প্রোডাক্টও অটোমেটিক রিপ্লেস করে দেয়। আমি যখন প্রথম DSers দিয়ে শুরু
করেছিলাম তখন দেখেছি যে ১০ থেকে ১৫টা প্রোডাক্ট ইমপোর্ট করতে মাত্র ২০ মিনিট
লেগেছিল, আর তারপর থেকে অর্ডার এলে কোনো হাত লাগাতে হয় না সব অটো হয়ে যায়, শুধু
কাস্টমারের ট্র্যাকিং নম্বরটা শপিফাই থেকে অটোমেটিক পাঠিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ থেকে করলে মনে রাখুন ভিপিএন চালিয়ে অ্যাপগুলো সেটআপ করলে কোনো ইস্যু হয়
না, আর প্রতিটা অ্যাপের ফ্রি প্ল্যান দিয়েই শুরু করা যায়, পরে ব্যবসা বড় হলে পেইড
প্ল্যানে যাবেন। এই স্টেপটা যদি সঠিকভাবে করেন তাহলে আপনার স্টোরটা একদম হাতে
চালানোর মতো সহজ হয়ে যাবে, কোনো গোডাউন বা স্টকের টেনশন থাকবে না, শুধু মার্কেটিং
করে যান আর প্রফিট দেখুন।
পেমেন্ট গেটওয়ে, শিপিং আর ডোমেইন সেটআপ (বাংলাদেশের জন্য বিশেষ টিপস)
পেমেন্ট গেটওয়ে, শিপিং আর ডোমেইন সেটআপ (বাংলাদেশের জন্য বিশেষ টিপস) আসলে আপনার
শপিফাই স্টোরকে পুরোপুরি লাইভ আর টাকা কামানোর মতো অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার শেষ বড়
ধাপ, কারণ এগুলো ঠিক না করলে অর্ডার আসলেও পেমেন্ট আটকে যাবে বা কাস্টমাররা
ডেলিভারি না পেয়ে রাগ করে রিভিউ খারাপ দিয়ে দেবেন। আমি যখন প্রথমবার বাংলাদেশ
থেকে স্টোর সেটআপ করেছিলাম তখন এই অংশটায় একটু সময় লেগেছিল কিন্তু এখন যেভাবে করি
সেটা আপনি স্টেপ বাই স্টেপ ফলো করলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটেই শেষ হয়ে যাবে।
প্রথমে পেমেন্ট গেটওয়ে সেটআপ করুন শপিফাই পেমেন্টস বাংলাদেশে এখনো অ্যাভেলেবল না,
তাই Settings > Payments সেকশনে গিয়ে PayPal অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করুন (যদি
পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে বিজনেসে আপগ্রেড করে নিন), স্ট্রাইপ যদি ভিপিএন
দিয়ে চালাতে চান তাহলে তাও চেষ্টা করতে পারেন কিন্তু সবচেয়ে সেফ হলো Payoneer বা
অন্য থার্ড পার্টি গেটওয়ে অ্যাপ ইনস্টল করা, আর যদি লোকাল কাস্টমার টার্গেট করেন
তাহলে bKash বা Nagad ইন্টিগ্রেশনের জন্য কিছু থার্ড পার্টি অ্যাপ যেমন
SSLCommerz বা ShurjoPay ব্যবহার করুন যাতে টাকা সরাসরি ব্যাংকে আসে।
এরপর শিপিং সেটআপ করুন Shipping and delivery সেকশনে গিয়ে shipping zones তৈরি
করুন, আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের জন্য ডিফল্ট রেট সেট করুন যাতে কাস্টমার আগে থেকেই
জানেন ৭ থেকে ১৫ দিন লাগতে পারে, প্রোডাক্ট ওয়েট অনুযায়ী রেট অ্যাডজাস্ট করুন আর
ফ্রি শিপিং অফার দিলে কোন অর্ডার অ্যামাউন্টের ওপর সেটা উল্লেখ করে রাখুন, কারণ
বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল শিপিং করলে কাস্টমারকে স্বচ্ছ তথ্য না দিলে
রিটার্নের ঝামেলা বাড়ে।
সবশেষে ডোমেইন সেটআপ করুন Namecheap বা GoDaddy থেকে একটা সুন্দর .com ডোমেইন
কিনে নিন (প্রথম বছর ৮ থেকে ১২ ডলারের মধ্যে পাওয়া যায়), তারপর Shopify-এর DNS
settings-এ গিয়ে A record আর CNAME যোগ করে কানেক্ট করুন, এতে আপনার স্টোরটা
glowifybd.com এর মতো প্রফেশনাল লুক পাবে আর myshopify.com সাবডোমেইনটা লুকিয়ে
যাবে।
বাংলাদেশের জন্য বিশেষ টিপস হলো সবকিছু করার সময় VPN চালিয়ে রাখুন যাতে কোনো
রেস্ট্রিকশন না আসে, ট্যাক্স সেটিংসে বাংলাদেশের VAT বা ট্যাক্স রুলস মেনে চলুন,
আর শিপিং প্রোফাইলে কাস্টমারকে স্পষ্ট করে লিখে দিন যে ইন্টারন্যাশনাল ডেলিভারিতে
কাস্টমস চার্জ কাস্টমারকে বহন করতে হতে পারে।
আমার অভিজ্ঞতায় এই তিনটা জিনিস ঠিকমতো সেটআপ করলে অর্ডার আসার পর আর কোনো হেডেক
থাকে না, টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে চলে আসে আর স্টোরটা একদম প্রফেশনাল
লাগে, তাই এই অংশটা একটু মনোযোগ দিয়ে শেষ করুন তাহলে বাকি সবকিছু অনেক সহজ হয়ে
যাবে।
স্টোর লঞ্চ করে মার্কেটিং শুরু করার বাস্তব কৌশল
স্টোর লঞ্চ করে মার্কেটিং শুরু করার বাস্তব কৌশল হলো সেই আসল খেলা যেখানে আপনার
শপিফাই স্টোরটা আর শুধু একটা ওয়েবসাইট থাকে না, বরং টাকা কামানোর মেশিনে পরিণত
হয়, কিন্তু এখানে তাড়াহুড়ো করলে প্রথম অর্ডারগুলোই হারিয়ে যেতে পারে। শপিফাই দিয়ে
ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সহজ উপায় এখানে সত্যি সহজ হয়ে যায় যখন আপনি সবকিছু
ডাবল চেক করে লঞ্চ বাটনে ক্লিক করেন প্রথমে প্রিভিউ মোডে পুরো স্টোর ঘুরে দেখুন
যে থিম ঠিক আছে কি না, প্রোডাক্ট ইমেজ লোড হচ্ছে কি না, চেকআউট প্রসেস স্মুথ কি
না, তারপর Password protection বন্ধ করে স্টোর লাইভ করে দিন।
আর ফেসবুক পিক্সেল, Google Analytics আর TikTok Pixel সব কানেক্ট করে নিন যাতে
ট্র্যাকিং শুরু হয়। লঞ্চের পরপরই মার্কেটিং শুরু করুন ছোট বাজেট দিয়ে প্রথমে
Facebook Ads এ ১০ থেকে ২০ ডলার দিয়ে টেস্ট অ্যাড চালান, টার্গেট অডিয়েন্সকে খুব
ন্যারো করে রাখুন যেমন ১৮ থেকে ৩৫ বছরের USA বা UK এর লোক যারা আপনার নিশের
ইন্টারেস্ট ফলো করে, ক্রিয়েটিভ হিসেবে রিয়েল প্রোডাক্ট ভিডিও বা বেফোর-আফটার ছবি
ব্যবহার করুন যাতে ক্লিক রেট ভালো আসে।
একইসাথে TikTok Ads চালান কারণ এখানে ভাইরাল হওয়ার চান্স অনেক বেশি, Instagram
Reels আর Pinterest এ অর্গানিক পোস্ট করে ট্রাফিক আনুন, আর Klaviyo অ্যাপ দিয়ে
ইমেইল মার্কেটিং সেটআপ করে প্রথম কাস্টমারদের ওয়েলকাম ডিসকাউন্ট দিন। আমি যখন
প্রথম স্টোর লঞ্চ করেছিলাম তখন প্রথম সপ্তাহে শুধু ৫০ ডলারের অ্যাডস চালিয়ে ৩টা
অর্ডার পেয়েছিলাম, কিন্তু যেগুলো চলছিল সেগুলোকে স্কেল করে পরের মাসে বাজেট
বাড়িয়ে দিয়েছিলাম, আর যেগুলো চলছিল না সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে লস কমিয়েছিলাম।
বাংলাদেশ থেকে করলে VPN চালিয়ে অ্যাড অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করুন, প্রতিদিন
অ্যানালিটিক্স চেক করুন যাতে ROAS ৩ থেকে ৪ এর ওপর থাকে, আর কনটেন্ট মার্কেটিং
চালিয়ে যান YouTube এ প্রোডাক্ট রিভিউ ভিডিও আপলোড করুন বা ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার
করুন যাতে অর্গানিক ট্রাফিকও আসে। এভাবে ধাপে ধাপে করলে দেখবেন প্রথম মাসেই কিছু
সেল আসতে শুরু করবে, আর ধৈর্য ধরে ২ থেকে ৩ মাস চালিয়ে গেলে স্টোরটা নিজে থেকে
চলতে শুরু করবে, তাই লঞ্চের পর মার্কেটিংকে কখনো থামিয়ে দিয়েন না, বরং ডেটা দেখে
স্মার্টভাবে অপটিমাইজ করে যান এটাই আসল সিক্রেট যা অনেকে বোঝেন না।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
ড্রপশিপিং কোনো রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন নয়, কিন্তু সঠিক পথে ধৈর্য আর স্মার্ট
কাজ করলে এটা আপনার জীবনটা সত্যিই বদলে দিতে পারে। আজই ছোট একটা পদক্ষেপ নিন
শপিফাই অ্যাকাউন্ট খুলুন, প্রথম স্টেপটা শেষ করুন। আপনার মধ্যে যে সম্ভাবনা আছে,
সেটাকে বিশ্বাস করুন। এমন আরো তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে অর্ডিনারি আইটিকে ফলো দিয়ে
রাখুন। শুভকামনা রইল আপনার সফলতার জন্য!


.webp)
.webp)
.webp)










অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url