পুরানো জামাকাপড় দিয়ে সুন্দর কুশন কভার সেলাই করা
অনেকেই ফেলে দেন যে কাপড়, সেটাই হতে পারে আপনার পরবর্তী সুন্দর হোম ডেকর প্রজেক্ট। আজকের এই পোস্টে জামাকাপড় দিয়ে কুশন কভার সেলাই করার পুরো প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে বলব, যাতে নতুনরাও সহজেই করে ফেলতে পারেন। চলুন, শুরু করি!
পেজ সূচিপত্রঃ পুরানো জামাকাপড় দিয়ে সুন্দর কুশন কভার সেলাই করা
- পুরানো জামাকাপড় দিয়ে সুন্দর কুশন কভার সেলাই করা
- পুরানো কাপড় দিয়ে কুশন কভার বানানো কেন এত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে
- কোন কোন জামাকাপড় বেছে নেবেন এই কাজের জন্য
- শুরু করতে কী কী জিনিসপত্র লাগবে ঘরে থাকলে
- কাপড়গুলো প্রস্তুত করে কাটার সহজ টেকনিক
- সেলাই মেশিনে বা হাতে ধাপে ধাপে কুশন কভার বানানো
- সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের আইডিয়া যা দেখলে মুগ্ধ হয়ে যাবেন
- ঠিকঠাক মাপে কভার তৈরি করার ছোট ছোট ট্রিক
- শেষে ফিনিশিং দিয়ে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
পুরানো জামাকাপড় দিয়ে সুন্দর কুশন কভার সেলাই করা
পুরানো জামাকাপড় দিয়ে সুন্দর কুশন কভার সেলাই করা খুব সহজ আর মজার কাজ। এতে ঘর সাজানোর পাশাপাশি পুরনো কাপড়েরও নতুন ব্যবহার হয়। নিচে ধাপে ধাপে সবকিছু বিস্তারিত করে লিখলাম, যাতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহজে করতে পারেন। সেলাই মেশিন থাকলে ভালো, না থাকলে হাতেও চলে যাবে।
- প্রথমে উপকরণ জোগাড় করুন-পুরনো জামা বা কাপড় যেগুলোর রঙ আর প্রিন্ট সুন্দর লাগে সেগুলো বেছে নিন, কুশনের সাইজ অনুযায়ী মাপ নিন (সাধারণত ১৬×১৬ বা ১৮×১৮ ইঞ্চি), সুতা, সেলাই মেশিন বা সুচ, কাঁচি, মাপার টেপ আর যদি চান তাহলে বোতাম বা ফিতা।
- কাপড় ধুয়ে শুকিয়ে নিন যাতে পরে সাইজ ছোট না হয়, তারপর কুশনের সামনের অংশের জন্য একটা বড় টুকরো কাটুন-কুশনের সাইজের চেয়ে প্রতিদিকে ১ ইঞ্চি বেশি রাখুন সেলাইয়ের জন্য।
- পিছনের অংশের জন্য দুটো ছোট টুকরো কাটুন যাতে এনভেলপ স্টাইল হয়-প্রতিটা টুকরো কুশনের সাইজের অর্ধেকের চেয়ে ৩-৪ ইঞ্চি বেশি লম্বা রাখুন, যেন একটা অংশ অন্যটার উপরে চাপা পড়ে কভার খোলা-বন্ধ করা যায়।
- এবার সব কাটা টুকরোর প্রান্তগুলো জেগেট করে নিন যাতে কাপড় ছিঁড়ে না যায়, তারপর সামনের টুকরোর সাথে পিছনের দুটো টুকরো মিলিয়ে ভিতরের দিকটা বাইরে করে সেলাই শুরু করুন।
- তিনদিক সেলাই করে নিন (দুই পাশ আর নিচ), উপরের দিকটা খোলা রাখুন-সেলাইয়ের সময় ১ ইঞ্চি মার্জিন ছেড়ে দিন, যাতে শক্ত হয়।
- কভারটা উল্টিয়ে বাইরের দিকটা বের করে নিন, তারপর যদি চান তাহলে কোণাগুলোতে ছোট ছোট ফিতা বা লেস লাগিয়ে সুন্দর করে নিন-এতে দেখতে আরও আকর্ষক লাগবে।
- শেষে কুশনের ভিতরের প্যাডটা ভরে নিন, পিছনের এনভেলপ অংশটা চাপিয়ে বন্ধ করুন-চাইলে বোতাম লাগিয়ে আরও সুন্দর করে ফেলতে পারেন।
- শেষ ধাপে কভারটা ইস্ত্রি করে নিন যাতে ভাঁজ না থাকে, আর ঘরের সোফায় বা বিছানায় লাগিয়ে দেখুন কেমন লাগছে।
এভাবে করলে আপনার কভারটা দেখতে দোকানের মতোই সুন্দর হবে, আর আপনি নিজেই অবাক
হয়ে যাবেন কত সহজে পুরানো জিনিস নতুন রূপ পেল।
পুরানো কাপড় দিয়ে কুশন কভার বানানো কেন এত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে
আজকাল সবাই তো লক্ষ্য করছেন যে পুরানো কাপড় দিয়ে কুশন কভার বানানো কেন এত
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম আর ইউটিউবে ঘুরতে ঘুরতে দেখি,
প্রতিদিনই নতুন নতুন পোস্ট আসছে যেখানে মানুষজন তাদের ঘরের পুরানো জামা-কাপড় থেকে
বানানো রঙিন কভারের ছবি শেয়ার করছেন। কারণটা খুব সহজ খরচ একদম কম, প্রায় শূন্য
বললেই চলে। একটা নতুন কুশন কভার বাজার থেকে কিনতে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা লাগে, কিন্তু
ঘরের আলমারিতে পড়ে থাকা শার্ট বা শাড়ি দিয়ে বানালে সেই টাকাটা পকেটে থেকে যায়।
তার ওপর এটা পরিবেশবান্ধবও, কারণ আমাদের দেশে কাপড়ের বর্জ্য প্রচুর, সেগুলো ফেলে
না দিয়ে রিসাইকেল করলে ল্যান্ডফিলের চাপ কমে।
আমার এক বন্ধু তো বলেছিল, "আমার সোফার সব কভার এখন পুরানো কুর্তির টুকরো দিয়ে
তৈরি, ঘরটা যেন নতুন করে সেজেছে।" এভাবে শুধু সাজানো নয়, মনের মধ্যেও একটা তৃপ্তি
আসে যে কিছু নষ্ট করিনি বরং নতুন করে ব্যবহার করেছি। আরেকটা বড় কারণ হলো এই কাজটা
একদম ব্যক্তিগত আর ইউনিক হয়ে যায়, যা বাজারের একঘেয়ে ডিজাইনের সাথে মেলে না। আপনি
চাইলে পুরানো জিন্সের সাথে ফুল প্রিন্টের কটন মিক্স করে একটা মডার্ন লুক দিতে
পারেন, বা শাড়ির পাড় লাগিয়ে ঐতিহ্যবাহী স্টাইল তৈরি করতে পারেন প্রত্যেকটা কভারই
আপনার নিজস্ব সৃষ্টি।
আরো পড়ুনঃ মানসিক টেনশন ও চাপ দূর করার উপায়
আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যারা প্রথমবার চেষ্টা করেন তারা পরে আসক্ত হয়ে পড়েন, কারণ
এটা শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়, বরং সৃজনশীলতা প্রকাশেরও একটা মাধ্যম। বিশেষ করে
এই মুহূর্তে যখন সবাই হোম ডেকোর নিয়ে পাগল, তখন এই ট্রেন্ডটা আরো জনপ্রিয় হয়েছে।
নতুনরাও সহজেই শিখে নিতে পারেন, আর শেষে যখন বন্ধুরা জিজ্ঞেস করে "কোথায় কিনলে?"
তখন হেসে বলা যায় "ঘরের পুরানো কাপড় থেকে!" এতে ঘর সাজানোর সাথে সাথে একটা ভালো
অভ্যাসও গড়ে ওঠে যা পরিবারের সবাইকে উৎসাহিত করে।
কোন কোন জামাকাপড় বেছে নেবেন এই কাজের জন্য
এখন আসল কথায় আসি কোন কোন জামাকাপড় বেছে নেবেন এই কাজের জন্য সেটা আসলে পুরো
কাজটার সাফল্য নির্ভর করে অনেকাংশে। পুরানো জামাকাপড় দিয়ে সুন্দর কুশন কভার
সেলাই করা যখন করবেন, তখন মোটা এবং টেকসই ধরনের কাপড়গুলোই সবচেয়ে ভালো কাজ দেয়।
আমি নিজে সাধারণত পুরানো কুর্তি, জিন্সের প্যান্ট, শার্ট বা শাড়ির পাড়ের অংশ
ব্যবহার করে থাকি। জিন্সের কাপড় নিলে কভারটা খুব মজবুত এবং দীর্ঘদিন টেকে, আবার
হালকা কটনের কাপড় নিলে নরম এবং আরামদায়ক লাগে।
রঙিন প্রিন্ট বা ফুলের ডিজাইনযুক্ত জামা বেছে নিলে কুশন কভারগুলো দেখতে অনেক
জীবন্ত এবং আকর্ষক হয়। তবে ছিঁড়ে যাওয়া, খুব পাতলা বা অতিরিক্ত নরম কাপড় একদম
এড়িয়ে চলুন, কারণ সেলাই করার পর সেগুলো সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আপনার বাড়ির
আলমারি একবার ভালো করে ঘুরে দেখুন, নিশ্চয়ই এমন কিছু পুরানো ও জামাকাপড় পেয়ে যাবেন
যা এখনো ভালো অবস্থায় আছে। সঠিক কাপড় বাছাই করতে পারলে সেলাইয়ের কাজটা অনেক সহজ
হয় এবং শেষ ফলাফলও সুন্দর হয়ে ওঠে।
শুরু করতে কী কী জিনিসপত্র লাগবে ঘরে থাকলে
শুরু করতে কী কী জিনিসপত্র লাগবে ঘরে থাকলে সেটা আগে থেকে ভালো করে জেনে নিলে
কাজটা অনেক সহজ আর ঝামেলামুক্ত হয়ে যায়। আমি যখন প্রথমবার এই কাজটা শুরু
করেছিলাম, তখন সবকিছু এক জায়গায় সাজিয়ে রেখে কাজে লেগেছিলাম সেলাই মেশিন থাকলে তো
কথাই নেই, তবে না থাকলে সাধারণ হাতের সেলাইও চলে যায়। মূল জিনিসগুলোর মধ্যে আছে
ভালো মানের সুতা (কাপড়ের রঙের সাথে মিলিয়ে), ধারালো কাঁচি যাতে কাপড় কাটতে
অসুবিধা না হয়, মাপার টেপ বা রুলার, চক বা সাদা পেন্সিল যাতে লাইন টেনে কাটা যায়।
আর জিপার বা বোতাম যদি কভারটা খোলা-বন্ধ করার সুবিধা চান। ঘরে যদি পুরানো লেস,
রিবন বা ফিতা থাকে, সেগুলো দিয়ে পরে ডেকোরেশন করা যায়, যা কভারটাকে আরো আকর্ষক
করে তোলে। এসব জিনিস আগে থেকে জোগাড় করে রাখলে মাঝপথে উঠে বাজারে ছোটাছুটি করতে
হয় না, আর কাজটা মসৃণভাবে এগোয়। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, কুশনের ভেতরের ফিলিং যদি
পুরানো হয় তাহলে সেটাও রিফিল করে নেওয়া যায়, নয়তো নতুন ফোম বা তুলো কিনে নিতে হয়
তবে সেটা খুব বেশি খরচের নয়, ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই হয়ে যায়।
আপনারা যদি নতুন হন তাহলে ছোট সাইজের কুশন দিয়ে শুরু করুন, যাতে ভুল হলেও বড়
ক্ষতি না হয়। সবকিছু একটা ট্রে বা টেবিলে সাজিয়ে রাখলে মনোযোগ থাকে আর কাজটা
দ্রুত শেষ হয়। এভাবে প্রস্তুতি নিলে শুধু সময় বাঁচে না, মনটাও ফুরফুরে থাকে যে
সবকিছু হাতের কাছেই আছে।
কাপড়গুলো প্রস্তুত করে কাটার সহজ টেকনিক
কাপড়গুলো প্রস্তুত করে কাটার সহজ টেকনিক জানা থাকলে পুরো কাজটা অনেক সহজ আর
ঝামেলামুক্ত হয়ে যায়, আর ফলাফলও একদম প্রফেশনাল লাগে। পুরানো জামাকাপড় দিয়ে
সুন্দর কুশন কভার সেলাই করা যখন করবেন, তখন প্রথমেই জামাগুলো ভালো করে ধুয়ে
শুকিয়ে নিন যাতে কোনো ধুলো, দাগ বা পুরানো গন্ধ না থাকে। আমি সাধারণত ঠান্ডা
পানিতে হালকা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুই, তারপর ছায়ায় ভালো করে শুকাতে দিই। কাটার আগে
অবশ্যই মাপ নিয়ে নিন; যেমন কুশনটা যদি ১৬ ইঞ্চি হয়, তাহলে কাপড় কাটুন ১৭ থেকে ১৮
ইঞ্চি করে যাতে সিম অ্যালাউয়েন্সের জন্য জায়গা থাকে।
আরো পড়ুনঃ সামনের ফাঁকা দাঁত ঠিক করার ১৮টি উপায়
এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলো ঠিকমতো না করলে পরে কভারটা হয় ঢিলা নয়তো টাইট হয়ে যায়।
আমি সবসময় চক বা সাদা পেন্সিল দিয়ে লাইন টেনে কাটি, যাতে কোনো ভুল না হয় আর কাপড়
নষ্ট না হয়। পুরানো জিন্স বা মোটা কাপড় হলে একটু সাবধানে কাটুন, কারণ সেলাই করতে
গেলে সুতা ছিঁড়ে যেতে পারে। আর যদি টুকরো টুকরো কাপড় থাকে, তাহলে প্যাচওয়ার্ক
স্টাইলে জোড়া দিয়ে কাটতে পারেন দেখতে একদম ইউনিক লাগে। এই ধাপে একটু ধৈর্য ধরলে
পরের সেলাইয়ের কাজটা অনেক সুন্দর হয়ে ওঠে, আর আপনার নিজের হাতে তৈরি কভারটা দেখে
মনে হয় যেন দোকান থেকে কেনা।
সেলাই মেশিনে বা হাতে ধাপে ধাপে কুশন কভার বানানো
সেলাই মেশিনে বা হাতে ধাপে ধাপে কুশন কভার বানানোটা আসলে পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে
মজার এবং সন্তোষজনক অংশ, যেখানে আপনার হাতের ছোঁয়ায় পুরানো কাপড়গুলো একদম নতুন
রূপ পায়।
পুরানো জামাকাপড় দিয়ে সুন্দর কুশন কভার সেলাই করা যখন করবেন, তখন মেশিন থাকলে
তো সোনায় সোহাগা প্রথমে তিন দিক সেলাই করে একদিক খোলা রাখুন যাতে কুশন সহজে
ঢোকানো যায়। আমি সাধারণত এনভেলপ স্টাইল পছন্দ করি, যেখানে পিছনের দিকে দুটো
ওভারল্যাপিং পিস রেখে সেলাই করি, ফলে জিপার বা বোতাম লাগানোর ঝামেলা একদম কমে
যায়।
প্রত্যেক ধাপে থেমে থেমে চেক করুন যাতে কোনো ভুল না হয়, আর কোণগুলো গোল করে সেলাই
করলে দেখতে আরো নিখুঁত লাগে। আর যদি মেশিন না থাকে তাহলে হাতে সেলাই করাও একদম
সম্ভব, তবে ধীরে ধীরে আর শক্ত করে সেলাই দিতে হয় যাতে ছিঁড়ে না যায়। আমার একবার
হাতে সেলাই করে বানিয়েছিলাম একটা পুরানো শার্ট থেকে, দেখে মনে হয়েছিল মেশিনের
কাজের চেয়েও বেশি ব্যক্তিগত আর উষ্ণ লাগছে।
নতুনরা যদি ভয় পান তাহলে ছোট কুশন দিয়ে শুরু করুন, আর সেলাইয়ের পর কভারটা উল্টিয়ে
ভেতরের সিমগুলো পরিষ্কার করে নিন এই ছোট ট্রিকগুলোই কাজটাকে প্রফেশনাল লেভেলে
নিয়ে যায়। এভাবে ধাপে ধাপে এগোলে শেষে যখন কুশন ঢুকিয়ে দেখবেন, মনটা ভরে যাবে যে
নিজের হাতে কিছু সুন্দর তৈরি করেছি।
সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের আইডিয়া যা দেখলে মুগ্ধ হয়ে যাবেন
সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের আইডিয়া যা দেখলে মুগ্ধ হয়ে যাবেন সেগুলো নিয়ে ভাবলে তো
মনে হয় এই কাজটা শুধু সেলাই নয়, একটা সৃজনশীল খেলা। আমি যখন পুরান জামাকাপড় থেকে
কভার বানাই, তখন প্রথমেই চেষ্টা করি লেস বা পুরানো ফিতা দিয়ে বর্ডার তৈরি করতে
যেমন একটা সাদামাটা কটনের টুকরোর চারপাশে হালকা লেস লাগিয়ে দিলে দেখতে একদম
রোমান্টিক আর নরম লাগে। আরেকটা প্রিয় আইডিয়া হলো প্যাচওয়ার্ক, অর্থাৎ বিভিন্ন
রঙের ছোট ছোট টুকরো জোড়া দিয়ে একটা মোজাইকের মতো ডিজাইন।
পুরানো জিন্সের সাথে ফুল প্রিন্টের কুর্তি মিক্স করে দিলে মডার্ন লুক আসে, আবার
শাড়ির পাড় কেটে লাগিয়ে দিলে ঐতিহ্যবাহী স্টাইল হয়ে যায়। এসব ডিজাইন করতে গেলে সময়
কোথা দিয়ে চলে যায়, আর শেষে যখন সোফায় বসিয়ে দেখি, মনে হয় বাজারের দামি কভারের
চেয়েও অনেক বেশি আকর্ষক। আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলে বোতাম, ফ্রিঞ্জ বা ছোট ছোট বিডস
লাগিয়ে দিতে পারেন, যা কভারটাকে একেবারে ইউনিক করে তোলে।
আমি একবার পুরানো শার্টের কলার অংশ কেটে ফ্রন্টে লাগিয়ে দিয়েছিলাম, সাথে কয়েকটা
ছোট বোতাম দেখে সবাই জিজ্ঞেস করেছিল কোথায় কিনেছি। স্ট্রাইপড কাপড় নিলে ক্লাসিক
লুক, আবার জ্যামিতিক প্রিন্ট নিলে মডার্ন ফিল আসে। এই আইডিয়াগুলো নিয়ে খেলতে গেলে
আপনার নিজের সৃজনশীলতাও বেরিয়ে আসে, আর ঘরের সাজটা একদম ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। যারা
প্রথমবার চেষ্টা করছেন তারা ছোট ছোট ডিজাইন দিয়ে শুরু করুন, ধীরে ধীরে জটিলতা
বাড়ান এতে মজাও বাড়বে, আর ফলাফল দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না।
ঠিকঠাক মাপে কভার তৈরি করার ছোট ছোট ট্রিক
ঠিকঠাক মাপে কভার তৈরি করার ছোট ছোট ট্রিক জানা থাকলে পুরো সেলাই প্রক্রিয়াটা
অনেক সহজ হয়ে যায় এবং শেষে যখন কুশন ঢুকিয়ে দেখবেন, তখন মনটা একদম ভরে যায়।
পুরানো জামাকাপড় দিয়ে সুন্দর কুশন কভার সেলাই করা যখন করবেন, তখন মাপের
ব্যাপারটা খুব সেনসিটিভ কুশন ঢোকানোর সময় যেন টাইট না লাগে সেজন্য সবসময় ১ থেকে ২
ইঞ্চি অতিরিক্ত কাপড় রাখুন। আমি সবসময় আসল কুশনটা রেখে মাপ নিই, তারপর চক দিয়ে
লাইন টেনে কাটি, যাতে পরে কোনো অসুবিধা না হয়।
আরো পড়ুনঃ শিশুর জ্বর কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়
এই ছোট ট্রিকটা না জানলে অনেক সময় কভারটা হয় ঢিলা নয়তো একদম আটকে যায়, যা দেখতে
খুব খারাপ লাগে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ট্রিক হলো কোণগুলো নিয়ে সেলাই করার সময়
কোণগুলো যেন গোল হয়ে না যায় সেজন্য সাবধানে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সেলাই দিন এবং প্রত্যেক
ধাপে থেমে থেমে চেক করুন। যদি কভারটা একটু ঢিলা হয়ে যায়, তাহলে ভেতরের দিকে ছোট
ছোট সেলাই দিয়ে টাইট করে নিন, এতে কোনো বাইরের চিহ্ন থাকে না।
আমার প্রথম কভারটা একটু ঢিলা হয়েছিল, কিন্তু এই ট্রিকগুলো শেখার পর থেকে
প্রত্যেকটা একদম পারফেক্ট ফিট হয়। এভাবে ছোট ছোট বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে কাজটা
প্রফেশনাল লেভেলে চলে যায় এবং আপনার হাতে তৈরি কভার দেখে সবাই প্রশংসা করবে।
শেষে ফিনিশিং দিয়ে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা
শেষে ফিনিশিং দিয়ে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা আসলে পুরো কাজটাকে একটা অন্য মাত্রায়
নিয়ে যায়। সেলাই শেষ হয়ে গেলে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে থেমে যান, কিন্তু সঠিক ফিনিশিং
না করলে কভারটা অনেক সাধারণ দেখায়। আমি সবসময় প্রথমে কিনারাগুলো ভালো করে ওভারলক
করে নিই বা জিগজ্যাগ স্টিচ দিয়ে লক করে দিই যাতে সুতা ছিঁড়ে না যায়। তারপর কভারটা
উল্টিয়ে ভেতরের সিমগুলো পরিষ্কার করে আয়রন করি এতে ক্রিজ চলে যায় এবং কাপড়টা একদম
স্মুথ ও নিখুঁত লাগে। এই ছোট ধাপগুলো না করলে সব পরিশ্রমটাই যেন অর্ধেক হয়ে
যায়।
ফিনিশিংয়ের এই ধাপে একটু সৃজনশীলতা দেখালে কভারটা দেখতে একেবারে দোকানের মতো বা
তার চেয়েও সুন্দর হয়ে ওঠে। আমি প্রায়ই লেস, রিবন বা ফ্রিঞ্জ লাগিয়ে বর্ডার দেই।
মেয়েদের ঘরের জন্য ছোট ফুল বা বিডস যোগ করে দিলে রোমান্টিক লুক আসে। একবার পুরানো
শাড়ির সুন্দর পাড় কেটে লাগিয়েছিলাম, সবাই জিজ্ঞেস করছিল কোথায় কিনলাম। এই ছোট ছোট
ডিটেইলসই আপনার হাতে তৈরি কুশন কভারকে অনন্য করে তোলে এবং ঘরের সাজটা একদম
ব্যক্তিগত করে দেয়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
বানানোর পর যত্ন না নিলে তো সব পরিশ্রমই বৃথা যায়, তাই আমি সবসময় ঠান্ডা পানিতে
মেশিনে ধুই আর রোদে ভালো করে শুকাতে দিই এতে বছরের পর বছর টিকে যায়। এই পুরানো
কাপড় দিয়ে শুধু কুশন কভার নয়, ব্যাগ বা টেবিল কভারও বানিয়ে নিতে পারেন, আর চাইলে
কয়েকটা একসাথে তৈরি করে গিফট দিলে সবাই অবাক হয়ে যাবে। আমার মনে হয়েছে, ছোট ছোট
জিনিস দিয়েই ঘর সাজানো যায় আর মনটাও ভরে ওঠে। এখন আপনাদের পালা, আজই আলমারি খুলে
দেখুন আর শুরু করে দিন। কেমন লাগলো পোস্টটা? কমেন্টে জানান, প্রশ্ন থাকলে বলুন।
আরও এমন তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে অর্ডিনারি আইটির সাথেই থাকুন ধন্যবাদ। 260416





অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url