OrdinaryITPostAd

ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ

ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ কী, কেন এটি ঘটে এবং কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন-এসব বিষয় সহজ ভাষায় জানুন। রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল, কিন্তু শরীর যেন এক ইঞ্চিও নড়ছে না? এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে, আর তা সত্যিই ভয়ের হতে পারে।
ঘুম এর মধ্যে হঠাৎ শরীর অবশ হয়ে যাওয়া সত্যিই ভয়ের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম ও ক্লান্তি কীভাবে এই সমস্যার পেছনে কাজ করে, তা সহজ ভাষায় এই আর্টিকেলে তুলে ধরা হয়েছে, চলুন জেনে নেই।

পেজ সূচিপত্রঃ ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ

ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ

ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। এটা হলে মনে হয় শরীর একদম অবশ হয়ে গেছে, কথা বলতে পারছেন না, কিন্তু মাথা পুরোপুরি জেগে আছে। নিচে যে সাতটা কারণ দেওয়া আছে, প্রত্যেকটার পাশে সহজ ভাষায় ছোট করে বুঝিয়ে দিলাম। এগুলো পড়লে আপনি সহজেই ধরতে পারবেন কেন এমন হয়।

  • পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা ঘুমের অভাবঃ যখন রাতে ঘুম কম হয় বা একেবারে ঘুমানোই হয় না, তখন মস্তিষ্কের ঘুম-জাগরণের সুইচগুলো ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে ঘুমের REM পর্যায়টা হঠাৎ করে জেগে ওঠার সময় মিশে যায় এবং শরীর অসাড় হয়ে পড়ে।
  • অনিয়মিত ঘুমের রুটিন, যেমন শিফটের কাজ বা জেট ল্যাগঃ ঘুমের সময়টা যদি প্রতিদিন বদলে যায়-রাতে কাজ, দিনে ঘুম, বা দেশ-বিদেশ ঘুরে সময়ের তফাত-তাহলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িটা বিগড়ে যায়। এতে ঘুমের গভীরতা কমে আর বোবায় ধরার ঝুঁকি বাড়ে।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা PTSD-এর মতো সমস্যাঃ মনের ভেতর যদি অনেক চাপ, ভয় বা পুরনো ট্রমা থাকে, তাহলে রাতে ঘুমের সময় মস্তিষ্ক আরও সজাগ থাকে। এই অতিরিক্ত সজাগতা ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে এবং প্যারালাইসিসের মতো ঘটনা ঘটায়।
  • নারকোলেপসি বা অন্যান্য ঘুমের ব্যাধিঃ নারকোলেপসি হলো এমন একটা অসুখ যেখানে ঘুম হঠাৎ করে আসে এবং REM ঘুম খুব তাড়াতাড়ি শুরু হয়। একইভাবে অন্যান্য ঘুমের সমস্যা থাকলে স্লিপ প্যারালাইসিস প্রায়ই দেখা দেয় কারণ ঘুমের পর্যায়গুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না।
  • চিৎ হয়ে শোয়াঃ পিঠের উপর চিৎ হয়ে শুলে শ্বাস-প্রশ্বাসের রাস্তা একটু চাপা পড়ে এবং মস্তিষ্কের কাছে ঘুমের সিগন্যালটা আলাদাভাবে যায়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে এই অবস্থায় বোবায় ধরার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যায়।
  • জেনেটিক কারণ বা পরিবারে এমন সমস্যা থাকাঃ যদি আপনার বাবা-মা বা ভাই-বোনেরও এই সমস্যা থাকে, তাহলে জিনের কারণে আপনারও হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এটা পুরোপুরি বংশগত হতে পারে, ঠিক যেমন অনেক অসুখ হয়।
  • কিছু ওষুধ বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহারঃ কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ, ব্যথার ওষুধ বা নেশার জিনিস (যেমন অ্যালকোহল বা মাদক) ঘুমের গঠন বদলে দেয়। এগুলো ছাড়া বা বেশি খেলে মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে স্লিপ প্যারালাইসিস হতে পারে।

এগুলো সাধারণ কারণ। যদি আপনার বারবার হয়, তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলে ঘুমের অভ্যাস ঠিক করলে অনেকটা কমে যায়।

ঘুমের অভাব কেন বোবায় ধরার প্রধান কারণ

আসলে সবচেয়ে বড় কারণটা হলো পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। যখন আপনি রাতে মাত্র পাঁচ-ছয় ঘণ্টা বা তারও কম ঘুমান, তখন মস্তিষ্কের ঘুমের স্বাভাবিক চক্রটা একেবারে এলোমেলো হয়ে যায়। আমরা সবাই জানি যে ঘুমের একটা বিশেষ ধাপ আছে, যাকে বলে REM স্টেজ-এই সময়ে শরীরের পেশিগুলো ইচ্ছে করে অবশ হয়ে থাকে যাতে স্বপ্ন দেখার সময় হাত-পা ছুড়ে ফেলে বিছানা থেকে পড়ে না যাই। কিন্তু ঘুম কম হলে এই অবস্থাটা ঠিকমতো শেষ হয় না। ফলে ঘুম ভাঙার পরেও শরীরটা কিছুক্ষণের জন্য সেই অবশ অবস্থায় আটকে থাকে, অথচ মন পুরোপুরি জেগে উঠে চারপাশ দেখতে পায়।

এজন্যই অনেকে হঠাৎ জেগে উঠে দেখে নড়াচড়া করতে পারছে না, বুকের ওপর ভারী চাপ অনুভব করছে। যারা রাত জেগে পড়াশোনা করে, অফিসের ডেডলাইন মেটাতে ঘুম কমিয়ে দেয় বা সারাদিনের কাজের চাপে রাতে ঘুমাতে পারে না, তাদের মধ্যে এই সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আমার নিজের এক বন্ধু যে প্রায়ই রাত জেগে কাজ করে, সে বলে যে ঘুম কম হলেই পরের দিন সকালে এমন হয়।
আসলে ঘুমের অভাব শুধু শরীরকে ক্লান্ত করে না, মস্তিষ্কের সেই সূক্ষ্ম সমন্বয়টাও নষ্ট করে দেয় যা ঘুমের বিভিন্ন ধাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই যদি আপনি লক্ষ করেন যে ঘুম কম হলেই বোবায় ধরছে, তাহলে বুঝবেন এটাই মূল কারণ। নিয়মিত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করলে অনেক সময় এই সমস্যাটা নিজে থেকেই কমে যায়, কারণ শরীর তখন আবার তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।

অনিয়মিত ঘুমের রুটিন আর শিফটের কাজের প্রভাব

অনিয়মিত ঘুমের রুটিন আজকাল অনেকের দৈনন্দিন জীবনের সাথে মিশে গেছে, বিশেষ করে যারা বিভিন্ন শিফটে কাজ করেন তাদের মধ্যে। ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ হিসেবে এই অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচী খুবই বড় একটা ভূমিকা পালন করে। যখন প্রতিদিনের ঘুমানোর সময় একেক দিন একেক রকম হয়, তখন শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি পুরোপুরি গোলমাল হয়ে যায় এবং ঘুমের বিভিন্ন স্তর সঠিকভাবে চলতে পারে না। যারা নাইট শিফট করে বা দিন-রাতের ঘুমের রুটিন বারবার বদলাতে বাধ্য হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা অনেক বেশি দেখা যায়।

উদাহরণস্বরূপ, আমার এক বন্ধু কল সেন্টারে রাতের ডিউটি করে। সে প্রায়ই বলে যে শিফটের কারণে ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়ে গেলে পরের দিন বোবায় ধরার অভিজ্ঞতা বেড়ে যায়। জেট ল্যাগ বা হঠাৎ করে ঘুমের সময় পরিবর্তন হলেও একই রকম প্রতিক্রিয়া হয়, কারণ মস্তিষ্ক তখন REM এবং নন-REM ঘুম এর মধ্যে সঠিক সমন্বয় রাখতে পারে না।

স্ট্রেস, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কীভাবে বাড়ায় এই সমস্যা

মানসিক চাপ আর উদ্বেগ আজকাল আমাদের জীবনের এমন অংশ হয়ে গেছে যে অনেকেই বুঝতেই পারে না এটা কতটা বড় ক্ষতি করছে ঘুমের ওপর। যখন অফিসের টেনশন, পরীক্ষার প্রেশার বা বাড়ির ঝামেলা সারাদিন মাথায় ঘুরপাক খায় তখন রাতে শুয়েও মন শান্ত হয় না। ফলে ঘুমের গুণগত মান একেবারে খারাপ হয়ে যায়। স্ট্রেস হরমোন যেমন কর্টিসল বেড়ে গেলে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট হয়, বিশেষ করে REM স্টেজে সমস্যা বাড়ে। ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ এর মতো ঘটনা ঘনঘন ঘটতে থাকে।

শরীর যখন ঘুমের অবশ অবস্থায় থাকে তখন মনটা জেগে উঠে আরও বেশি ভয় পায়, যেন বুকের ওপর কেউ চেপে বসেছে। আমার নিজের এক আত্মীয় যে চাকরির চাপে সারাদিন উদ্বিগ্ন থাকে, সে বলে যে যতদিন টেনশন বেশি থাকে ততদিন বোবায় ধরার সমস্যাটা বেড়ে যায়। এমনকি যাদের প্যানিক অ্যাটাক বা PTSD আছে তাদের ক্ষেত্রে তো এটা আরও সাধারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মানসিক চাপ কমাতে না পারলে ঘুমের সাথে সাথে হ্যালুসিনেশনও শুরু হয়-যেন ঘরে কেউ ঢুকেছে বা কোনো ছায়া দেখা যাচ্ছে। তাই যদি আপনি লক্ষ করেন যে স্ট্রেস বাড়লেই এমন হয়, তাহলে বুঝবেন এটাই একটা বড় কারণ। ছোট ছোট অভ্যাস যেমন রাতে মেডিটেশন করা বা দিনের টেনশন কমানোর চেষ্টা করলে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যায়।

চিৎ হয়ে ঘুমালে বোবায় ধরা কেন বেশি হয়

অনেকেই লক্ষ করেছেন যে ঘুম এর মধ্যে বোবায় ধরছে সমস্যাটা চিৎ হয়ে শুলে বেশি হয়। বিশেষ করে যারা পাশ ফিরে ঘুমান তাদের তুলনায় চিৎ অবস্থায় শোয়া মানুষের এই অভিজ্ঞতা বেশি। ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ এখানে শরীরের অবস্থানের সাথে জড়িত। চিৎ হয়ে শুলে মাধ্যাকর্ষণের কারণে বুকের ওপর একটা স্বাভাবিক চাপ পড়ে, শ্বাস-প্রশ্বাসও একটু ভারী হয়ে যায়। ফলে REM ঘুমের সময় শরীরের পেশিগুলো যে অবশ হয়ে থাকে সেটা জেগে ওঠার পরও সহজে ছাড়তে চায় না।
আমার এক চেনা লোক যে সবসময় চিৎ হয়ে ঘুমায়, সে বলে যে পাশ ফিরে শোয়ার চেষ্টা করলে এই সমস্যাটা অনেক কমে গেছে। আসলে এই ভঙ্গিতে ঘুমালে মস্তিষ্ক আর শরীরের মধ্যে সেই সূক্ষ্ম সমন্বয়টা একটু বেশি এলোমেলো হয়, বিশেষ করে যাদের ঘুমের চক্র আগে থেকেই একটু দুর্বল। তাই যদি আপনারও এমন হয় তাহলে রাতে পাশ ফিরে শোয়ার অভ্যাস করলে দেখবেন অনেকটা স্বস্তি পাবেন।

নারকোলেপসি বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার সাথে যোগসূত্র

কখনো কখনো এই সমস্যাটা নারকোলেপসি বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। নারকোলেপসিতে মানুষ হঠাৎ করে দিনের বেলায়ও ঘুমিয়ে পড়ে এবং ঘুমের স্বাভাবিক চক্র একেবারে গুলিয়ে যায়। স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ঘুম এর মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতের ঘুম ভালো হয় না। ফলে বোবায় ধরার মতো ঘটনা বারবার ঘটতে থাকে এবং অনেক সময় হ্যালুসিনেশনও হয়। যাদের এই ধরনের ঘুমের ব্যাধি আছে তাদের জীবনযাত্রাও অনেক প্রভাবিত হয়।
 দিনের বেলায় ক্লান্তি লাগে এবং কাজে মন বসে না। ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ এই অবস্থাগুলো হলে সাধারণ উপায়ে সারে না। তাই যদি বারবার এমন হয় তাহলে অবশ্যই স্লিপ স্পেশালিস্টের কাছে যাওয়া উচিত যাতে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায়।

বংশগত কারণ আছে কি না জেনে নিন

ঘুম এর মধ্যে বোবায় ধরেছে এমন ক্ষেত্রে বংশগত কারণ আছে কিনা এটা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। সত্যি কথা বলতে কি, বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে যে এই সমস্যায় কিছুটা জেনেটিক প্রভাব থাকতে পারে। যদি আপনার পরিবারে বাবা, মা, ভাই বা বোনের এই সমস্যা থাকে, তাহলে আপনারও এটা হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে এটা পুরোপুরি বংশগত রোগ নয়, বরং এক ধরনের প্রবণতা বলা ভালো।

আমি দেখেছি যে যাদের ফ্যামিলিতে এই অভিজ্ঞতা আছে, তাদের মধ্যে ঘুমের অভাব বা স্ট্রেস বাড়লেই বোবায় ধরার সমস্যা বেশি দেখা যায়। জেনেটিক ফ্যাক্টরের পাশাপাশি পরিবারের একই রকম জীবনযাত্রা এবং ঘুমের অভ্যাসও এর সাথে জড়িত থাকতে পারে। তাই যদি আপনার পরিবারে কারো এমন হয়, তাহলে ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা এবং স্ট্রেস কমানোর দিকে বিশেষ খেয়াল রাখলে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ওষুধপত্র, অ্যালকোহল আর লাইফস্টাইলের ভূমিকা

কিছু ওষুধ খাওয়ার কারণেও ঘুমের এর মধ্যে বোবায় ধরেছে এমন সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ বা ADHD-এর ওষুধ যারা নিয়মিত খান, তাদের ক্ষেত্রে এটা বেশ সাধারণ। এছাড়া রাতে অ্যালকোহল খেলেও এই সমস্যা বাড়ে। অনেকে ভাবেন অ্যালকোহল ঘুম আনতে সাহায্য করে, কিন্তু আসলে এটা ঘুমের গভীরতা নষ্ট করে এবং পরবর্তীতে REM স্টেজে বিঘ্ন ঘটায়। আমাদের দৈনন্দিন লাইফস্টাইলও এর সাথে অনেকখানি জড়িত।

রাতে বেশি চা-কফি খাওয়া, ঘুমাতে যাওয়ার আগে লম্বা সময় ধরে মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখা, ধূমপান করা-এসব অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে একেবারে এলোমেলো করে দেয়। আমার এক বন্ধু বলে, রাতে ফোনে সিরিজ দেখতে দেখতে ঘুমালে পরের দিন সকালে প্রায়ই বোবায় ধরে। তাই এসব অভ্যাস পরিবর্তন করলে অনেক সময় এই সমস্যা নিজে থেকেই কমে যায়।

বোবায় ধরার সাথে যুক্ত অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি

যদিও বোবায় ধরা নিজে থেকে কোনো মারাত্মক রোগ নয় বা সরাসরি শরীরের কোনো ক্ষতি করে না, তবু যখন এটা খুব ঘনঘন হয় তখন এর প্রভাব দিনের জীবনযাত্রায় পড়তে শুরু করে। অনেকে সকালে উঠেই ক্লান্তি অনুভব করেন, সারাদিন মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না, কাজে ভুল হতে থাকে। এছাড়া মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, ছোটখাটো বিষয়ে রেগে যান বা হতাশ লাগে। আসলে বারবার এমন অভিজ্ঞতা হলে ঘুমের মান খারাপ হয়ে যায়, ফলে শরীর আর মন দুটোই ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আমার এক পরিচিত যে প্রায়ই বোবায় ধরত, সে বলে যে এটা চলতে চলতে তার দিনের এনার্জি একেবারে কমে গিয়েছিল এবং মাঝে মাঝে ডিপ্রেশনের মতো অনুভূতি হতো।
গবেষণায়ও দেখা গেছে যে যাদের এই সমস্যা নিয়মিত হয় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে, ঘুমের অন্যান্য সমস্যা যেমন ইনসমনিয়া দেখা দেয় এবং দীর্ঘদিন চললে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ পড়ে। তাই যদি আপনার ক্ষেত্রেও এটা বারবার ঘটে, তাহলে শুধু বোবায় ধরা নয়, এর পেছনের ক্লান্তি আর মেজাজের সমস্যাগুলোকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

আসলে বোবায় ধরা খুবই সাধারণ একটা ঘুমের সমস্যা, কিন্তু আমরা অনেকেই এটা নিয়ে অহেতুক ভয় পাই বা কুসংস্কারের জালে আটকে থাকি। জেনে রাখলে ভয় অনেক কমে যায় আর ছোট ছোট লাইফস্টাইলের পরিবর্তন করলেই এটা বেশিরভাগ সময় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যদি আপনারও এমন হয়, তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত ঘুমের রুটিন মানার চেষ্টা করুন। ভালো ঘুম হলে সারাদিনের এনার্জিও ফিরে পাবেন। এমন আরো লাইফস্টাইল ভিত্তিক কন্টেন্ট পেতে অর্ডিনারি আইটির পেজকে ফলো দিয়ে রাখুন। শুভ রাত্রি, আর স্বপ্ন দেখুন শান্তিতে। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url