বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম
বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম জানতে চান? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। অনেকেই প্রথমবার ক্রিপ্টো থেকে টাকা তুলতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কোথায় ক্লিক করবেন, কীভাবে নিরাপদে টাকা আনবেন-এসব নিয়ে থাকে নানা প্রশ্ন।
এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া সহজ ভাষায় দেখানো হয়েছে, যাতে নতুনরাও কোনো ঝামেলা ছাড়াই বুঝতে পারেন। পাশাপাশি থাকছে প্রয়োজনীয় সতর্কতা, চার্জ সংক্রান্ত তথ্য এবং সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলার কার্যকর পরামর্শ।
পেজ সূচিপত্রঃ বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম
- বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম
- বাইনান্স অ্যাকাউন্ট খোলা এবং ভেরিফাই করার সহজ উপায়
- আপনার USDT বা ডলারকে সঠিক ওয়ালেটে নিয়ে আসুন
- Binance P2P ট্রেডিং আসলে কীভাবে কাজ করে
- বিকাশ পেমেন্ট নেয় এমন ভালো বায়ার খুঁজে পাওয়ার টিপস
- ধাপে ধাপে USDT সেল করে বিকাশে টাকা তোলার প্রক্রিয়া
- P2P ট্রেডে স্ক্যাম এড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
- কত রেট পাবেন, ফি কত লাগবে আর কত সময় লাগে
- বিকাশ ছাড়া অন্য উপায়ে টাকা উইথড্র করার অপশন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম
বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়মগুলো আসলে খুব সোজা, কিন্তু
আপনাকে ধাপে ধাপে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে যাতে কোনো ঝামেলা না হয়।
প্রথমে আপনার বাইনান্স একাউন্টে লগিন করে নিন। লগিন করার পর নিচের ইমেজ এর মত
"P2P Order" বা বামের ৩ লাইন অপশনে ক্লিক করুন।
নিচে আপনার বাইনান্স প্রোফাইলের একটি পেজ চলে আসবে। এখানে "Shotcut" বা
"Recommend" সেকশনে "Add Funds" অপশন দেখতে পাবেন, ওখানে ক্লিক করবেন নিচের ইমেজ
এর মত।
তারপর নিচের ইমেজ এর মত একটা পপ আপ উইন্ডো আসবে এখানে "P2P Trading" এখানে ক্লিক
করুন।
"P2P Trading" এ ক্লিক করার পর নিচের মত একটা "P2P" পেজটি ওপেন হবে। এখানে লক্ষ্য
করবেন বামে উপরে "Buy" ও "Sell" দেখা যাবে। যেহেতু আপনি বিকাশে টাকা উইথড্র করবেন
সেক্ষেত্রে "Sell" এ ক্লিক করে রাখবেন এবং বামে মার্ক করা "BDT" সিলেক্ট করে
রাখবেন যা নিচের ইমেজ এর মত দেখাবে।
এর পর নিচের ইমেজ এর একটা বিশ্বস্ত "Buyers" খুঁজে নিবেন ডলার রেট এবং রেটিং দেখে
তারপর "Sell" এ ক্লিক করবেন।
"Sell" এ ক্লিক করার পর আপনি যে বিকাশ নম্বরে টাকা উইথড্র করবেন নিচে "Add
Bkash" এ ক্লিক করে আপনার বিকাশ নম্বরটি অ্যাড করে নিবেন।
"Add bkash" এ ক্লিক করলে নিচের মত একটা উইন্ডো আসবে যেখানে আপনার বিকাশ
নাম্বার ও " অপশনাল রেফারেস্ন" লিখে দিবেন তারপর "Confirm" এ ক্লিক করবেন।
তারপর আবার "P2P Trading" থেকে "Sell" অপশনে ক্লিক করে আপনি যে ডলার বা অন্য
কারেন্সি থেকে বিকাশে টাকা নিবেন সেটি অ্যামাউন্ট লিখে দিন ও "Place Order" এ
ক্লিক করুন। মনে রাখবেন অবশ্যই আপনার "Fundding Account" এ সমপরিমাণ ডলার বা
অন্য কারেন্সি থাকতে হবে।
অর্ডার প্লেস করার পর বায়ারকে সময় দেওয়া আর পেমেন্ট চেক করা। অ্যামাউন্ট দিয়ে
Place order করুন, আপনার বিকাশ নম্বরটা সঠিকভাবে লিখুন। বায়ার যখন টাকা
পাঠাবে তখন বিকাশ অ্যাপ খুলে রিয়েল টাইমে চেক করুন। টাকা দেখার পরই "I have
received the payment" অপশনে ক্লিক করে Confirm release করুন। এই ধাপে কখনো
তাড়াহুড়ো করবেন না, কারণ একবার রিলিজ হয়ে গেলে আর ফেরত পাওয়া যায় না।
বাইনান্স অ্যাকাউন্ট খোলা এবং ভেরিফাই করার সহজ উপায়
প্রথমে অ্যাকাউন্ট খোলার কাজটা খুব সোজা, আপনি শুধু বাইনান্সের অফিসিয়াল
অ্যাপটা গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিন অথবা ওয়েবসাইটে
গিয়ে সরাসরি যান। তারপর সাইন আপ বাটনে ক্লিক করে আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস বা
মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করুন, একটা শক্ত পাসওয়ার্ড সেট করুন আর টার্মস
অ্যান্ড কন্ডিশনসে টিক মারুন। আমি যখন প্রথমবার করেছিলাম তখন মাত্র দুই মিনিট
লেগেছিল, কোনো জটিলতা ছিল না। রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে আপনার ইমেইলে বা ফোনে
একটা ভেরিফিকেশন কোড আসবে, সেটা দিয়ে লগইন করে নিন। এভাবে অ্যাকাউন্টটা খুলে
গেলে পরের ধাপে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন।
আরো পড়ুনঃ ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায়
এবার ভেরিফাই করার অংশটা একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ না করলে P2P ট্রেডিং
বা বড় টাকা তোলার অপশন খুলবে না। অ্যাপে প্রোফাইল সেকশনে গিয়ে KYC বা
Identity Verification অপশনে ক্লিক করুন, তারপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা
পাসপোর্টের সামনের এবং পেছনের ছবি আপলোড করুন। সেলফি দিতে হবে যাতে মুখটা
স্পষ্ট দেখা যায়, আর কয়েকটা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিন। আমার ক্ষেত্রে পুরো
প্রক্রিয়াটা মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে অ্যাপ্রুভ হয়ে গিয়েছিল,
কিন্তু কখনো কখনো একদিনও লাগতে পারে। ভেরিফাই হয়ে গেলে আপনি নিশ্চিন্তে
P2P-তে যেতে পারবেন, তাই এই স্টেপটা আগে সেরে রাখুন যাতে পরে আটকে না যান।
আপনার USDT বা ডলারকে সঠিক ওয়ালেটে নিয়ে আসুন
আপনার বাইনান্স অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি
হলো আপনার USDT বা অন্যান্য স্টেবলকয়েনকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসা। বাইনান্স
থেকেও সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম অনুসরণ করতে গেলে প্রথমেই আপনাকে
Spot ওয়ালেট থেকে Funding ওয়ালেটে টাকা ট্রান্সফার করতে হবে, না হলে P2P
সেকশনে আপনার ব্যালেন্স দেখাবে না। আমি অনেককে দেখেছি এই সাধারণ ভুলের কারণে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে, তাই এই অংশটা খুব মনোযোগ দিয়ে করুন।
এখন ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়াটা খুবই সহজ। Wallet অপশনে ক্লিক করে Spot থেকে
Funding-এ যান, USDT সিলেক্ট করুন, যে পরিমাণ টাকা ট্রান্সফার করতে চান সেটা
লিখুন এবং Confirm বাটনে চাপ দিন। ট্রান্সফার হয়ে গেলে Funding ওয়ালেটে গিয়ে
একবার চেক করে নিন যে USDT এসেছে কি না। এই ধাপটা সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে আপনি
নিশ্চিন্তে P2P ট্রেডিং-এর জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন এবং বিকাশে টাকা তোলার
পুরো প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে।
Binance P2P ট্রেডিং আসলে কীভাবে কাজ করে
Binance P2P ট্রেডিং আসলে পিয়ার টু পিয়ার মানে দুইজন সাধারণ ইউজারের মধ্যে
সরাসরি কেনাবেচার ব্যবস্থা। আপনি যদি USDT বিক্রি করতে চান তাহলে একজন বায়ার
আপনার কাছ থেকে কয়েন কিনবে আর তার বদলে বিকাশে টাকা পাঠাবে। বাইনান্স এখানে
মাঝখানে এসক্রো সার্ভিস দেয়, অর্থাৎ আপনার USDTটা লক করে রাখে যতক্ষণ না
বায়ার টাকা দিয়ে কনফার্ম করে। এতে কোনো পক্ষই ঠকতে পারে না। আমি যখন প্রথমবার
এটা ব্যবহার করেছিলাম তখন ভেবেছিলাম খুব জটিল হবে, কিন্তু আসলে এটা ব্যাংকের
ট্রান্সফারের মতোই সহজ, শুধু ক্রিপ্টো আর টাকার মধ্যে সেতু তৈরি করে
দেয়।
এখন প্রক্রিয়াটা দেখুন, Trade সেকশনে গিয়ে P2P অপশনে ক্লিক করুন, Sell বাটন
চাপুন, কয়েন হিসেবে USDT আর কারেন্সি হিসেবে BDT সিলেক্ট করুন। তারপর পেমেন্ট
মেথড ফিল্টারে বিকাশ বেছে নিন। বায়ারদের লিস্ট দেখা যাবে, তাদের কমপ্লিশন রেট
আর রেটিং চেক করে একজনকে বেছে নিয়ে অর্ডার প্লেস করুন। বায়ার টাকা পাঠালে
আপনি বিকাশ অ্যাপে চেক করে "I have received the payment" বলে কনফার্ম করুন,
তাহলেই বাইনান্স আপনার USDT বায়ারের কাছে ছেড়ে দেবে। পুরোটা ১০-১৫ মিনিটের
মধ্যে শেষ হয়ে যায় আর বাইনান্সের এই এসক্রো সিস্টেমের কারণে নিরাপত্তাটা অনেক
বেশি।
বিকাশ পেমেন্ট নেয় এমন ভালো বায়ার খুঁজে পাওয়ার টিপস
P2P সেকশনে অনেক বায়ারের অফার দেখতে পাবেন, কিন্তু সবাই একই রকম নির্ভরযোগ্য
নয়। বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করতে
চাইলে আপনাকে খুব সতর্কতার সাথে বায়ার নির্বাচন করতে হবে। ফিল্টার অপশনে
বিকাশ সিলেক্ট করুন, তারপর যাদের Completion rate ৯০ শতাংশের উপরে, অন্তত
কয়েকশো ট্রেড সম্পন্ন করা এবং Verified ব্যাজ আছে তাদেরকে বেছে নিন। আমি নিজে
সবসময় ৫০০+ ট্রেড করা বায়ারদের প্রাধান্য দিই।
এছাড়া বায়ারের রেটিং, কতদিন ধরে অ্যাকাউন্ট চালাচ্ছে এবং তার আগের কমেন্টগুলো
একবার দেখে নিন। যারা খুব বড় অ্যামাউন্টের অর্ডার নেয় তাদের থেকে প্রথম দিকে
দূরে থাকুন। ছোট অ্যামাউন্ট দিয়ে শুরু করলে ঝুঁকি কম থাকে এবং ধীরে ধীরে আপনি
ভালো বায়ার চিনতে শিখে যাবেন। এভাবে করলে পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক নিরাপদ ও সহজ
হয়ে যায়।
ধাপে ধাপে USDT সেল করে বিকাশে টাকা তোলার প্রক্রিয়া
প্রথমেই বাইনান্স অ্যাপ খুলে নিচের দিকে Trade অপশনে যান, তারপর P2P তে ক্লিক
করুন। উপরের দিকে Sell বাটন দেখতে পাবেন, সেটাতে চাপ দিন। এরপর From এ USDT
সিলেক্ট করুন এবং To এ BDT বেছে নিন। Payment method এর ফিল্টারে বিকাশ
সিলেক্ট করে অ্যাপ্লাই করুন। এতে শুধু বিকাশে পেমেন্ট দেয় এমন বায়ারদের
তালিকা দেখাবে। এবার লিস্ট থেকে একজন ভালো বায়ার বেছে নিন। যাদের Completion
rate ৯০% এর উপরে এবং অনেকগুলো সফল ট্রেড আছে তাদের প্রাধান্য দিন।
অ্যামাউন্ট যত টাকার USDT বিক্রি করতে চান সেটা লিখুন, আপনার বিকাশ নম্বর
সঠিকভাবে দিন এবং Place Order বাটনে ক্লিক করুন। অর্ডার প্লেস হওয়ার পর
বায়ারকে ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয় টাকা পাঠানোর জন্য। বায়ার টাকা পাঠানোর পর
তাড়াতাড়ি আপনার বিকাশ অ্যাপ খুলে চেক করুন যে টাকা এসেছে কি না। পুরো টাকা
অ্যাকাউন্টে দেখার পর নিশ্চিত হয়ে চ্যাট অপশনে গিয়ে "I have received the
payment" লেখা বাটনে ক্লিক করুন।
কখনোই টাকা না দেখে রিলিজ করবেন না। শেষ ধাপে Confirm release বাটনে চাপ
দিলেই আপনার USDT বায়ারের কাছে চলে যাবে এবং ট্রেড সফলভাবে সম্পন্ন হবে। পুরো
প্রক্রিয়াটা সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। আমি প্রতিবার
সবকিছুর স্ক্রিনশট নিয়ে রাখি যাতে কোনো সমস্যা হলে প্রমাণ দেখাতে পারি।
P2P ট্রেডে স্ক্যাম এড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
P2P ট্রেড করার সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয় কারণ এখানে স্ক্যামের ঝুঁকি
অনেক বেশি। বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম মেনে চলতে গেলে
এই সতর্কতাগুলো না মানলে আপনার টাকা হারানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই
প্রতিটি ধাপে ধৈর্য ধরে চেক করুন আর তাড়াহুড়ো একদম করবেন না। সবচেয়ে বড় নিয়ম
হলো বিকাশে টাকা না দেখা পর্যন্ত কখনো USDT রিলিজ করবেন না। বায়ার যদি বলে
“আমি আগে টাকা দিচ্ছি, আপনি আগে রিলিজ করুন” তাহলে একদম শুনবেন না।
অনেক স্ক্যামার এই কথা বলে আপনাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। নিজে বিকাশ অ্যাপ
খুলে ব্যালেন্স চেক না করে কোনোভাবেই Confirm release বাটনে চাপ দেবেন না
আরেকটা সাধারণ ফাঁদ হলো ফেক স্ক্রিনশট। বায়ার ছবি পাঠিয়ে বলবে টাকা পাঠিয়ে
দিয়েছি, কিন্তু আসলে কিছুই আসেনি। তাই সবসময় নিজের অ্যাপে গিয়ে রিয়েল টাইমে
চেক করুন।
চ্যাটের বাইরে কোনো হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য অ্যাপে যোগাযোগ করতে চাইলে সেটাও
এড়িয়ে চলুন। শেষ কথা, ২এফএ চালু রাখুন, পাসওয়ার্ড শক্ত রাখুন, ছোট অ্যামাউন্ট
দিয়ে প্র্যাকটিস করুন আর প্রত্যেক ট্রেডের স্ক্রিনশট আর চ্যাট হিস্ট্রি সেভ
করে রাখুন। এসব মেনে চললে P2P ট্রেড অনেক নিরাপদ হয়ে যায় আর আপনি ঝুঁকি ছাড়াই
বিকাশে টাকা তুলতে পারবেন।
কত রেট পাবেন, ফি কত লাগবে আর কত সময় লাগে
P2P মার্কেটে রেট সাধারণত লাইভ মার্কেট রেটের খুব কাছাকাছি থাকে। বেশিরভাগ
সময় এটা ১ শতাংশের মতো কম বেশি হয়। বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র
করার নিয়ম সঠিকভাবে মেনে চললে আপনি যথেষ্ট ভালো রেট পেতে পারবেন যদি সঠিক
বায়ার বেছে নেন। আমি দেখেছি ভালো বায়ারদের কাছে বিক্রি করলে রেট অনেক সময়
মার্কেট প্রাইসের চেয়ে ভালোও পাওয়া যায়। ফি-এর ক্ষেত্রে Binance P2P
বিক্রেতার জন্য খুব সুবিধাজনক। সাধারণত সেলারদের কোনো ফি দিতে হয় না।
পুরো ফি বায়ারের উপর চাপানো হয়, তাই আপনি যখন USDT বিক্রি করবেন তখন ফি কাটা
যাবে না। এটাই P2P-কে অন্যান্য মেথডের চেয়ে আকর্ষণীয় করে তোলে। সময়ের কথা
বললে, একটা পুরো ট্রেড সাধারণত ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। বায়ার
যদি দ্রুত পেমেন্ট করে তাহলে ১০ মিনিটেরও কম সময় লাগতে পারে। তবে বড়
অ্যামাউন্ট হলে একাধিক ছোট ট্রেড করে করলে নিরাপদ হয় এবং সময়ও ভালোভাবে
ম্যানেজ করা যায়।
বিকাশ ছাড়া অন্য উপায়ে টাকা উইথড্র করার অপশন
বাইনান্স P2P-তে বিকাশ ছাড়াও আরও কয়েকটা সহজ অপশন আছে যেগুলো দিয়ে আপনি USDT
বিক্রি করে টাকা তুলতে পারবেন। সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো নগদ এবং রকেট। P2P সেকশনে
গিয়ে Payment method ফিল্টারে Nagad বা Rocket সিলেক্ট করলেই সেইসব বায়ার
দেখাবে যারা এই দুটো ওয়ালেটে পেমেন্ট নেয়। বাইনান্স থেকে সহজে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম জেনে আমি নিজে কয়েকবার নগদ দিয়ে টাকা
তুলেছি, প্রক্রিয়াটা বিকাশের মতোই সহজ এবং সময়ও একই রকম লাগে। তবে লিমিট চেক
করে নেবেন কারণ নগদ আর রকেটের দৈনিক লিমিট বিকাশের চেয়ে কিছুটা আলাদা হতে
পারে।
আরেকটা ভালো অপশন হলো সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা তোলা। P2P-তে ব্যাংক
ট্রান্সফার ফিল্টার করে অনেক বায়ার পাবেন যারা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
নম্বরে টাকা পাঠিয়ে দেয়। এখানে আপনাকে অ্যাকাউন্ট নম্বর, অ্যাকাউন্ট
হোল্ডারের নাম এবং ব্যাংকের নাম সঠিকভাবে দিতে হয়। টাকা এলে ব্যাংক অ্যাপ বা
এসএমএস অ্যালার্ট চেক করে Confirm release করুন। এই মেথডটা বড় অ্যামাউন্টের
জন্য বেশি সুবিধাজনক কারণ ব্যাংক ট্রান্সফারের লিমিট সাধারণত অনেক
বেশি।
এছাড়া কিছু লোক থার্ড পার্টি এক্সচেঞ্জার বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার
করে টাকা তুলে থাকে। তবে আমার মতে এটা একটু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ বাইনান্সের
এসক্রো প্রোটেকশন থাকে না। যদি একান্তই অন্য কোনো উপায় লাগে তাহলে শুধু
বিশ্বস্ত এবং রিভিউ ভালো এমন সার্ভিস ব্যবহার করুন। সব মিলিয়ে P2P-ই সবচেয়ে
সহজ এবং নিরাপদ, বাকিগুলো শুধু বিকল্প হিসেবে রাখুন।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
এই আর্টিকেলটি লিখতে গিয়ে আমি নিজেও মনে করেছি যে বাইনান্স থেকে বিকাশে টাকা উইথড্র করার নিয়ম আসলে খুব সহজ, শুধু ধৈর্য আর সাবধানতা লাগে। ছোট অ্যামাউন্ট দিয়ে শুরু
করুন, স্ক্যামের ফাঁদে পা দেবেন না আর প্রতিটা ধাপ নিজে চেক করে নিন। যদি কোথাও
আটকে যান তাহলে কমেন্টে জিজ্ঞাসা করুন, আমি যতটা পারি সাহায্য করব। সেফ থাকুন,
স্মার্ট থাকুন আর আপনার টাকা নিরাপদে বিকাশে তুলুন। গাইডটা কাজে লাগলে একটু শেয়ার
করে দিলে অন্যদেরও উপকার হবে। এমন আরও তথ্যমূলক কন্টেন্ট পেতে অর্ডিনারি আইটির
পেজ ফলো দিয়ে রাখুন। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেয। 260416












অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url