বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম
বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম কি? প্রশ্নটি
স্বাভাবিকভাবে আপনার মনে জাগবে। উত্তপ্ত না হয়ে, আতঙ্কিত না হয়ে আজকের এই
আর্টিকেলটি পড়ুন। আমরা আপনাকে ধাপে ধাপে দেখাবো কিভাবে আপনি আপনার প্রাপ্য
রিফান্ড পাবেন।
শুধু তাই নয়, আমরা আলোচনা করব কিভাবে ভবিষ্যতে এই সমস্যা এড়ানো যায় এবং আপনার
অর্থ ও সময় সুরক্ষিত রাখা যায়। এই সম্পর্কে জানা আপনার নাগরিক অধিকার। আর এই
জ্ঞানী পাড়ে আপনাকে যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার মুখোমুখি হতে।
পেজ সূচিপত্রঃ বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম
-
বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম
-
ডুপ্লিকেট বিল চিহ্নিতকরণ ও সমস্যার সমাধান
- বিদ্যুৎ বিলের প্রমাণ সংরক্ষণ করা
-
বিদ্যুৎ বিলের সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ
-
বিলের অভিযোগ দাখিল এর প্রক্রিয়া
-
বিদ্যুৎ বিল রিফান্ড আবেদনের ধাপসমূহ
-
বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত তদন্ত ও সমাধান প্রক্রিয়া
-
বিদ্যুৎ বিল রিফান্ডের ধরন ও সময়সীমা
-
উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ
- শেষ কথাঃ বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম
বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম
বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনি হয়তো জানেনই না। এক মাসে একই বাড়ির জন্য দুটি বিদ্যুৎ বিল পেয়ে হতবাক। ডুপ্লিকেট বিল নামের এই যন্ত্রণার শিকার অনেক গ্রাহক হয়ে থাকেন। এর ভুল বা ডাটা এন্ট্রি ত্রুটিতে এমন হতে পারে। কিন্তু চিন্তার কোন কারণ নেই। বিদ্যুৎ বিল রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম স্পষ্ট এবং আপনি সহজেই আপনার অতিরিক্ত পরিশোধিত টাকা ফেরত পেতে পারেন। শর্ত একটাই আপনাকে সঠিক পদ্ধতি জানতে হবে এবং একটু ধৈর্য ধরতে হবে। প্রথমেই আপনার কাজ হবে ডুপ্লিকেট নিশ্চিত করা ও প্রমাণ জমা করা।
আপনি যে বিউটি ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছেন তার রশিদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং এর লেনদেন রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। এটি আপনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এরপর দ্রুত আপনার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির স্থানীয় অফিসের গ্রাহক সেবা শাখায় সরাসরি যোগাযোগ করুন। আপনার অভিযোগ সুস্পষ্ট ভাবে লেখা একটি আবেদন পত্র জমা দিন। প্রথম বিলের পেমেন্ট প্রমান সংযুক্ত থাকবে। তাদের একটি অভিযোগ নম্বর নিশ্চিত ভাবে নিয়ে নিন।
আরো পড়ুনঃ জাতীয় পরিচয়পত্র যেভাবে সংশোধন করবেন
এটি পরবর্তীতে ফলো আপের জন্য জরুরী। যদি স্থানীয় অফিস দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে উচ্চতার কর্তৃপক্ষের দিকে যান। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির জোনাল অফিস হেড অফিস বা এমনকি বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে লিখিত অভিযোগ পাঠাতে পারেন। অনলাইনেও সহযোগিতা পেতে পারেন। কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফেসবুক পেজ বা হেল্পলাইন ব্যবহার করুন।
ডুপ্লিকেট বিল চিহ্নিতকরণ ও সমস্যার সমাধান
বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার প্রত্যেকটি নিয়ম জানার আগে আপনাকে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে যে বিলটি সত্যি ডুপ্লিকেট কিনা। ডুপ্লিকেট বিল বলতে বোঝায় একই গ্রাহক একাউন্ট নম্বর। একই মিটার নম্বর এবং একই বিলিং মাসের জন্য দুটি পৃথক বিল। এই বিল দুটির পরিমাণ একই বা ভিন্ন হতে পারে। ধরুন আপনি জানুয়ারি মাসের বিল ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছেন। তারপর আবারো ফেব্রুয়ারিতে আপনি আরেকটি বিল পেলেন। যাতে বিল্ডিং সাইকেল লেখা আছে। জানুয়ারি মাস এটি একটি পরিষ্কার ডুপ্লিকেট বিল।
অনেক সময় কম্পিউটার সিস্টেমের ত্রুটির কারণে বা মিটার ভুল করে এক মাসে দুবার ব্রিডিং নিয়ে ফেলেন। তখনও এমন হয়। তাই প্রথমে বিলের কপি গুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। আপনার পূর্বের পেমেন্ট স্টেটমেন্ট খুঁজে বের করুন। সেখানে যদি একই মাসের বিলের পেমেন্টের প্রমাণ থাকে, তাহলে দ্বিতীয় বিলটি নিঃসন্দেহে ডুপ্লিকেট এই পর্যায়ে আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
সেটি হলো আনুমানিক বিল যদি আপনার মিটার রিডিং নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গড় হিসাব করে একটি আনুমানিক বিল তৈরি করে। পরের মাসে সঠিক রিডিং নিয়ে তারা বিল সমদর্শ করে। সে ক্ষেত্রে দুটি বিল ভিন্ন ভিন্ন রিডিং ও তারিখ দেখাতে পারে। যা ডুবলিকেট নয়। কিন্তু যদি দুটি মিলে একই রিডিং একই তারিখ এবং একই মাসের জন্য হয়ে থাকে। তখনো নিয়মটি অনুসরণ করতে হবে।
বিদ্যুৎ বিলের প্রমাণ সংরক্ষণ করা
বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার আর প্রথম শর্ত হল আপনার প্রমাণ গুলোর সঠিক সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। আপনি যখন প্রথম বিলটি পরিশোধ করেন, তখন সেই লেনদেনের একটি প্রমাণ তৈরি হয়। এই প্রমাণ ছাড়া আপনি কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে পারবেন না যে, আপনি ইতিমধ্যে বিল পরিশোধ করেছেন। সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হলো ব্যাংকের মাধ্যমে পরিষদের স্লিপ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
যদি আপনি অনলাইন ব্যাংকিং মোবাইল ফিনান্স বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে থাকেন। তাহলে লেনদেনের একটি আইডি স্লিপ অবশ্যই সংরক্ষণ করুন এবং পরিষদের পরিমাণ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। যদি আপনি নগদ অর্থ দিয়ে সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসে বা নির্দিষ্ট কোন এজেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করে থাকেন।
তাহলে আপনাকে একটি রিসিভ বা রশিদ দিতে হবে। সেই রশিদটি ভালোভাবে রাখুন। অনেক সময় মানুষ রশিদ হারিয়ে ফেলে বা ফেলে দেয়। বিল সংরক্ষণ করুন যেখানে গ্রাহক মাস ইউনিট অংক। যদি আপনার কাছে আগের মাসের বিল থাকে রাখুন। এই সমস্ত কাগজপত্র কম্পিউটার বা মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখুন।
বিদ্যুৎ বিলের সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ
বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার প্রত্যেকটি নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল সরাসরি আপনার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করা। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য বেশ কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে। যেমন ডেসকো ডিপিডিসি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ইত্যাদি। প্রথমে আপনার এলাকার কোন কোম্পানির অধীনে আপনি সেটি নিশ্চিত হন।
এরপর সরাসরি সেই কোম্পানির সেবা কেন্দ্র জোনাল অফিস বা গ্রাহক সেবা শাখায় যান। সঙ্গে নিন আপনার সমস্ত প্রমাণ ডুপ্লিকেট বিলের কপি পূর্বের বিল পরিশোধের রশিদ বা ব্যাংক স্ট্রিপ এবং আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি অফিসে গিয়ে শৃঙ্খলার সাথে আপনার সমস্যাটির ব্যাখ্যা দিন। উদ্বেগ বা রাগ প্রকাশ না করে।
বরং যুক্তিসঙ্গত ভাবে বলুন যে আপনি একই মাসের বিল দুইবার পেয়েছেন এবং ইতিমধ্যে একটি পরিশোধ করেছেন। আপনার প্রমাণ পত্র গুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেখান। তারা সাধারণত অভিযোগটি গ্রহণ করবেন এবং একটি অভিযোগ নম্বর দেবেন। এই অভিযোগ নম্বরটি আপনাকে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ পরবর্তীতে অভিযোগ অবস্থায় জানতে না তা দেখতে পারেন।
বিলের অভিযোগ দাখিল এর প্রক্রিয়া
বিদ্যুৎ বিল রিফান্ড পাওয়ার নিয়মের অধীনে অনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শুধু মুখে বললেই হবে না আপনাকে লিখিতভাবে বা ডিজিটাল প্লাটফর্মে অভিযোগ দাখিল করতে হবে। প্রতিটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিলের পদ্ধতি আছে। আপনি সরাসরি অফিসে গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে পারেন। এই অভিযোগ পত্রে আপনার নাম, ঠিকানা, গ্রাহক নম্বর, মিটার নম্বর, সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ পূর্বের পেমেন্ট এর তথ্য ও আপনার দাবি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
আপনার স্বাক্ষর ও তারিখ দিতে ভুলবেন না। আপনার কাছে রাখুন। যাতে সেখানে অফিসের গ্রহণকারী কর্মচারীর স্বাক্ষর ও সিল থাকে। এছাড়াও প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন বা ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করা যায়। অনেক কোম্পানির নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েব সাইটে গ্রাহক অভিযোগ নামে একটি তথ্য ও লিখে জমা দিতে পারেন। এটি নম্বর জেনারেট হবে পদ্ধতি হলো কোম্পানির সাধারণত বিলের রশিদের লেখা থাকে।
ফোনে আপনার অভিযোগ নথিভুক্ত করালে আপনাকে একটি অভিযোগ নম্বর দেবে। বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম সঠিকভাবে পালনের জন্য এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রক্রিয়া শুরু করে। জরুরী কারণ এটি একটি রেকর্ড তৈরি করে এবং কোম্পানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দিতে বাধ্য করে।
বিদ্যুৎ বিল রিফান্ড আবেদনের ধাপসমূহ
বিদ্যুৎ বিল রিফান্ড পাওয়ার নিয়মের মূল অংশই হল সঠিকভাবে রিফান্ডের জন্য আবেদন করা। শুধু অভিযোগ করলেই রেফারেন্স চলে আসে না। আপনাকে স্পষ্টভাবে রিফান্ড চেয়ে আবেদন করতে হবে। আপনার লিখিত অভিযোগ পত্রেই বা আলাদা একটি আবেদনপত্রে আপনি নির্দিষ্ট ভাবে লিখবেন যে একটি ডুপ্লিকেট বিল পরিশোধের কারণে আপনি অতিরিক্ত টাকা জমা দিয়েছেন। সেজন্য আপনি সেই টাকা ফেরত চান। আবেদনে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করুন।
যাতে তারা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে পারে। যদি আপনি নগদ রিফান্ড চান, সেটা উল্লেখ করতে পারেন। তবে ব্যাংক ট্রান্সফারই নিরাপদ আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন। এগুলো হল ডুপ্লিকেট বিলের ফটোকপি পূর্বের বিল পরিশোধের ব্যাংক স্লিপ এর ফটোকপি।
আরো পড়ুনঃ বিআরটিসি বা বাংলাদেশ রেলওয়ে চাকরির অনলাইন আবেদন পদ্ধতি
আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্যের কপি আবেদন পত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিন। জমা দেওয়ার পর একটি রিসিপ্ট নিশ্চিত হয়ে নিন। কর্তৃপক্ষ সাধারণত বিষয়টি তদন্ত করে এবং প্রমাণ পেলে ডিফান্ডের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগতে পারে, তাই অবশ্যই ধৈর্য ধরুন।
বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত তদন্ত ও সমাধান প্রক্রিয়া
আপনার কাছ থেকে রিফান্ড এর আবেদন পাওয়ার পর বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির দায়িত্ব হল বিষয়টি তদন্ত করা। ডুপ্লিকেট হলে রেফান্ড পাওয়ার নিয়ম শুধু গ্রাহকের জন্যই নয়। কোম্পানির জন্য একটি নির্দেশ এটা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারা প্রথমে তাদের বিলিং সিস্টেম চেক করে দেখে যে আসলেই একই গ্রাহকের একই মাসের জন্য দুটি বিল জেনারেট হয়েছে কিনা। তাদের একাউন্ট বিভাগে চেক করে যে আপনার কাছ থেকে প্রথম বিলের টাকা তাদের একাউন্টে জমা হয়েছে কিনা। যদি সবকিছু আপনার দাবির সাথে মিলে যায়।
তাহলে তারা রিফান্ড মঞ্জুর করে। তদন্ত শেষে কোম্পানি আপনাকে একটি লিখিত নোটিশ বা মৌখিক ভাবে ফলাফল জানাবে। যদি তারা আপনার দাবি সঠিক বলে প্রমাণ পায়। তাহলে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে রিফান্ডের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তারা হয় আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করবে। অথবা আপনাকে নগদ অর্থ দেবে। অনেক সময় তারা পরবর্তী মাসের বিল থেকে এই বাড়তি টাকা বাদ দিয়ে দিতে পারে। আপনি যদি সম্মত হন তাহলে সেটাও একটি সমাধান।
বিদ্যুৎ বিল রিফান্ড এর ধরন ও সময়সীমা
বিদ্যুৎ বিল রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম মেনে আপনি যখন আবেদন করবেন তখন রিফান্ড কিভাবে এবং কত দিনে পাবেন সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা খুবই জরুরী। সাধারণত রিফান্ড দুভাবে দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথমটি হলো নগদ অর্থ প্রদান। যেখানে আপনাকে সরাসরি টাকা দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি এখন তুলনামূলক কম দেখা যায়। দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো ব্যাংক ট্রান্সফার আপনি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দিলে কোম্পানি সরাসরি সেখানে টাকা জমা করে দেয়।
তৃতীয় আরেকটি প্রচলিত ব্যবস্থা হল অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ পরবর্তী মাস বা মাস গুলোর বিলের বিপরীতে ক্রেডিট হিসেবে জমা করে দেওয়া। অর্থাৎ আপনার পরবর্তী বিল থেকে এসে বাড়তি টাকা কেটে নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন হল রিফান্ড পেতে কত দিন সময় লাগতে পারে। রিফান্ড পাওয়ার নিয়মের আনুষ্ঠানিক কাঠামো অনুযায়ী কোম্পানির উচিত ৭ থেকে ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা।
তবে এটি প্রক্রিয়ার জটিলতা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়ম এবং আপনার কাগজপত্রের সম্পূর্ণতার উপর নির্ভর করে। যদি সব প্রমাণ স্পষ্ট ও যথাযথ হয় তাহলে দ্রুত সমাধান মিলতে পারে। আপনার দায়িত্ব হলো নিয়মিত ফলোআপ করা। আপনি যদি দেখেন যে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও, কোন অগ্রগতি নেই। তাহলে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সাথে অবশ্যই যোগাযোগ করতে হবে। আপনার অভিযোগ নম্বরটি সবসময় হাতের কাছে রাখবেন।
উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ
বিদ্যুৎ বিল রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম অনুসরণ করার পরও যদি স্থানীয় অফিস বা গ্রাহক সেবা আপনার সমস্যার সমাধান না করে, তাহলে আপনাকে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের দিকে এগোতে হবে। প্রতিটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি একটি কর্পোরেট অফিস বা প্রধান কার্যালয় থেকে থাকে। আপনি সরাসরি সেখানে লিখিত অভিযোগ পাঠাতে পারেন। তাদের কাছে আপনার পুরো কেসের বিস্তারিত বিবরণ স্থান অফিসে আপনার দেয়া অভিযোগের নম্বর এবং সমস্ত প্রমাণের কপি সংযুক্ত করুন। সাধারণত শাখা অফিসের চেয়ে দ্রুত ও কার্যকর ভাবে বিষয়টি দেখেন।
আরো পড়ুনঃ এনজিও চাকরির বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ অনলাইনে আবেদন
এছাড়া আপনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের শরণাপন্ন হতে পারেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ অভিযোগ পাঠানো যায়। তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসে। যা আপনার সমস্যা সমাধানের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে। এই ধাপটিতে আপনাকে একটু বেশি অধ্যবসায় ও কাগজপত্র সচেতন হতে হবে। কিন্তু এটি প্রায়ই চূড়ান্ত ফল বয়ে আনে।
শেষ কথাঃ বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম
বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম বিষয়ে এই বিস্তারিত আলোচনা থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে রুটি বা ব্যবস্থা জনিত সমস্যা। আপনার নাগরিক অধিকারকে স্তব্ধ বাধা গ্রস্থ করতে পারেনা। সার্ভারে গালতি বা ভুল হতেই পারে। কাগজপত্র হারাতে পারে। কিন্তু আপনার সংরক্ষিত প্রমাণ আর আইনসম্মত দাবী জানানোর দৃঢ় তাই হল আপনার প্রধান শক্তি। আমরা দেখেছি কিভাবে ধৈর্য ও পদ্ধতির সাথে এগিয়ে প্রথমে স্থানীয় অফিসে তারপর উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে এবং শেষ পর্যন্ত আইনের সহায়তা নেওয়ার মাধ্যমে আপনি ফেরত পেতে পারেন।
তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ অনেক বেশি জরুরী। তাই বিল পরিশোধের রশিদ সংরক্ষণ, বিলের জন্য যাচাই এবং ডিজিটাল পেমেন্টের রেকর্ড রাখার মত সহজ সর্তকতা গুলোই আপনাকে এই যন্ত্রণাদায়ক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে দেবে না। আপনার এই সচেতনতা ও অধিকার জানার ক্ষমতা কেবল আপনার অর্থই বাঁচায় না। বরং সেবা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে। আপনার যুক্তিসঙ্গত দাবি জানানোর এই সাহসী পাড়ে একটি দায়িত্বশীল ব্যবস্থা গঠনে সহায়তা করতে।




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url