OrdinaryITPostAd

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির নিয়ম

ওয়েবসাইট গুগলে দ্রুত ইনডেক্স পদ্ধতিঅ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির নিয়ম জানা থাকলে প্রডাক্ট প্রমোট করে আয় করা সম্ভব। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য অ্যামাজন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং নিরাপদ আমার মনে হয়। এই কাজটা করার জন্য আমাদের একটা ওয়েব পেজ তৈরি করতে হবে।

অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনার অ্যামাজন একটা অ্যাকাউন্ট তৈরি থাকতে হবে। অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরে কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের পেজ তৈরি করবেন সেটা আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটা জেনে নিব।

পেজ সূচিপত্রঃ অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির নিয়ম

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির নিয়ম

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির নিয়ম জানার আগে আপনাকে অ্যামাজনে গিয়ে "Amazon associates" পেজে সাইন আপ করতে হবে। অ্যামাজন এক্সেসরিজ পেজে যেতে এখানে ক্লিক করুন। অ্যামাজন এক্সেসরিজ পেজে যাওয়ার পরে উপরের দিকে সাইন আপ বাটন দেখতে পাবেন, তখন আপনাকে সাইন আপ বাটনে ক্লিক করতে হবে। সাইন আপ বাটনে ক্লিক করার পরে আপনাকে "Create a new account" অপশনে ক্লিক করতে হবে। তারপর অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য আপনার কাছে একটা ফর্ম চলে আসবে। সাইন আপ করার জন্য সেই ফর্মটি পূরণ করুন সঠিক তথ্য দিন।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
সাইন আপ করার সময় ইমেইল, মোবাইল নম্বর চাইবে। সকল তথ্য ঠিকভাবে দেওয়ার পরে অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া যদি পেমেন্টের মাধ্যমে চায় তাহলে সেগুলো পরে দেওয়াই ভালো। সবকিছু ঠিক থাকলে তারা আপনাকে ইমেইলে কনফার্ম করবে। ইমেইলটি দেখতে কেমন ধারণা পেতে নিচে দেওয়া স্ক্রিনশট এর ছবিটি দেখতে পারেন।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
তারপরে আপনাকে সেলার সেন্টার ওয়েবসাইটে যেতে হবে, সোলার সেন্টার ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন। তারপর উপরের দিকে থাকা সাইন আপ বাটনে ক্লিক করুন। তারপর সেখানে আপনার ইমেল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নিন।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
লগইন করার পরে মেনু থেকে "add product" এ ক্লিক করতে হবে। তারপর সেখান থেকে প্রোডাক্ট এড করতে পারবেন এবং সেখান থেকে ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে পারবেন। বিস্তারিত বুঝতে নিচের স্ক্রিনশটটা দেখতে পারেন।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
এরপর আপনাকে অ্যামাজনে নির্বাচন করা প্রোডাক্ট একটি ল্যান্ডিং পেজে দেখাতে হবে। তার জন্য আপনাকে একটা ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করতে হবে। ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করতে আপনি ব্লগার বা গুগল সীট ব্যবহার করতে পারেন। আজকে আমরা ব্লগার দিয়ে ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করার নিয়ম জানবো। প্রথমে এই লিংকে ক্লিক করে ব্লগারে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করুন। ব্লগারের ওয়েবসাইট তৈরি করতে "Create a new blog" বাটনে ক্লিক করুন। তারপর আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের নাম লিখতে বলবে, নাম লেখার পর আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন লিখে দিন। তারপর আপনার ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি হয়ে যাবে।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
এরপর ব্লগারের মেনু থেকে page অপশনে যাওয়ার পরে "Create a new page" বাটনে ক্লিক করে পেজ তৈরি করতে পারবেন। তৈরি করার আগে অবশ্যই একটা ভালো থিম ব্যবহার করবেন ওয়েবসাইটে। থিম তা বেশি অ্যানিমেশন যুক্ত এবং বেশি ভারী কোড দিয়ে তৈরি হবে না।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
একদম সাদামাটা একটা থিম ব্যবহার করুন, যাতে ভিজিটররা পেজে ঢোকার পরে তাদের নজর সরাসরি প্রোডাক্ট এর ওপর যায়। থিম টা কিভাবে ডিজাইন করবেন সেটার অনুমান পেতে নিচের ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট টা দেখতে পারেন, তাহলে ভালো ধারণা পাবেন।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
এরপর ব্লগারে গিয়ে একটা নতুন পেজ খুলতে হবে উপরে দেখানো নিয়ম অনুযায়ী। অ্যামাজনে যেতে এখানে ক্লিক করুন। এরপর আমাজনে গিয়ে আপনি যে প্রোডাক্টটির প্রমোশন করতে চাচ্ছেন সেটার ছবি ডাউনলোড করে নিন। ছবি ডাউনলোড করার জন্য ছবিটির ওপরে ক্লিক করে ধরে রাখুন। তারপরে একটা মেনু আসবে, সেখান থেকে ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করে ছবিটি ডাউনলোড করুন। বিস্তারিত বোঝার জন্য নিচে দেওয়া স্ক্রিনশটটা দেখুন।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
এরপর আরেকটি ইমেজ আপনাকে download করতে হবে। Sell লোগো বা লেখা বোঝা যাবে এমন একটি ইমেজ ডাউনলোড করুন। ইমেজগুলো ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করতে পারেন। এই ইমেজটা ডাউনলোড করার প্রসেসর সেই আগের ইমেজটা ডাউনলোড করার প্রসেসের মতো একই। কি ধরনের sell বাটন ইমেজ ডাউনলোড করবেন বুঝতে নিচে দেওয়া ইমেজটি দেখতে পারেন।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
তারপরে এইগুলো ডাউনলোড করার পরে। পেজ লেখার জায়গায় গিয়ে দুইটি ছবি আপলোড করে দিন। ছবি আপলোড করতে ইমেজ আপলোড টুলের উপর ক্লিক করুন। এরপর "Upload from computer" অপশনে ক্লিক করুন এবং আপনারা ডিভাইস থেকে এক ছবিটি সিলেক্ট করুন। এরপর "Done" বাট অনেক ক্লিক করুন। ব্যাস আপনার ছবি আপলোড করা শেষ। আপলোড করার নিয়ম নিচে দেখানো স্ক্রিনশটে দেখে নিন। প্রোডাক্ট এর ছবি উপরে দিবেন এবং সেল বাটন সবার নিচে দিবেন। প্রোডাক্ট এর বর্ণনা গুলো মাঝে দেবেন।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
এরপর আমাজনে গিয়ে মেনু থেকে SiteStripe অপশন থেকে প্রোডাক্ট এর লিঙ্ক কপি করে এনে ব্লগারের মধ্যে দিতে হবে। কিভাবে SiteStripe অপশন থেকে লিঙ্ক কপি করবেন নিচের স্ক্রিনশটে দেখানো হয়েছে। 
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
Source:- amzwatcher.com
সেই লিংক নিয়ে গিয়ে ব্লগারের মধ্যে যেই বাটনটি অ্যাড করেছিলেন ইমেজের মাধ্যমে সেটার মধ্যে দিতে হবে। দেওয়ার জন্য সেই বাটন ইমেজটির ওপর ক্লিক করুন। তারপর লিঙ্ক অ্যাড করার টুলের ওপর ক্লিক করতে হবে নিচে দেখানো স্ক্রিনশটের অনুযায়ী। লিংক যুক্ত করা টুলে ক্লিক করার পরে আপনার কাছে একটি বক্স আসবে সেখানে লিঙ্ক দেয়ার জায়গা আছে সেখানে লিঙ্ক দিয়ে দিন। তারপর এপ্লাই বাটনে ক্লিক করে কাজ শেষ করুন। লিংক দেওয়ার পরে আপনার কাজ শেষ। এবার শুধু পাবলিশ বাটনে ক্লিক করতে হবে। পাশে থাকা পাবলিশ বাটনে ক্লিক করে পোস্টটি পাবলিশ করলেই আপনার কাজ শেষ। বুঝতে সমস্যা হলে নিচে দেখানোর স্ক্রিনশটটা দেখতে পারেন।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিংয়ের-জন্য-ল্যান্ডিং-পেজ-তৈরির-নিয়ম
পাবলিশ করার পরে আপনার পেজটি সফলভাবে তৈরি হয়ে গেছে। এবার এখান থেকে কেউ যদি আপনার লিংকে ক্লিক করে প্রোডাক্ট অর্ডার করে তাহলে সেখান থেকে আপনি কমিশন পাবেন এবং ইনকাম করতে পারবেন। 

অ্যাফিলিয়েট ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করার আগে যেইসব বিষয় জানা দরকার

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করার আগে জানতে হবে  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে। এখানে আপনি অন্যের প্রোডাক্ট প্রমোট করবেন এবং আপনার লিংক থেকে কেউ প্রোডাক্ট কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। এই কাজটা করার জন্য অ্যামাজনের সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কোন ধরনের প্রোডাক্ট সেল করবেন সেটাও আগে থেকে ভেবে রাখতে হবে। এইসব বিষয়ে আগে থেকে ভালোভাবে বুঝে নেওয়া দরকার, যাতে ল্যান্ডিং পেজ কার্যকর হয়।

এরপরে জানতে হবে একটি ভালো ল্যান্ডিং পেজে কি কি থাকা দরকারি। পেজটি অবশ্যই মোবাইল ফ্রেন্ডলি, দ্রুত লোড হবে এবং সহজ নেভিগেশন যুক্ত হবে। প্রোডাক্টের সুবিধা-অসুবিধা, রিভিউ,  বর্ণনা এবং একটি শক্তিশালী cta বাটন থাকা জরুরী। এসিও সম্পর্কের ধারণা থাকতে হবে, যাতে গুগল থেকে ট্রাফিক আসে পেজের মধ্যে। এছাড়া অ্যামাজনের নিয়ম ব্যবহার করে ডিসক্লেয়ার ব্যবহার করতে হবে এবং ভুল সব তথ্য দেওয়া যাবে না।

প্রোডাক্ট রিভিউ বা বর্ণনা লেখার সঠিক পদ্ধতি

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট  ল্যান্ডিং পেজে প্রোডাক্ট রিভিউ বা বর্ণনা করার সময় সহজ, পরিষ্কার এবং তথ্যভিত্তিক ভাষা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে একটি আকর্ষণীয় হেডলাইন এবং ছোট ছোট ইন্ট্রো লিখতে হবে।, যাতে ভিজিটররা বুঝতে পারে প্রোডাক্টটি কি কাজে লাগবে। এরপর প্রোডাক্টের ফিউচার, ব্যবহার এবং বিশেষ দিকগুলো বুলেট বা ছোট প্যারায় তুলে ধরতে হবে। চেষ্টা করবেন বাস্তব অভিজ্ঞতার মতো করে লিখতে, যাতে লেখাগুলো বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। অতিরিক্ত এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়া একদমই ঠিক না।
এরপর রিভিউকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তুলতে প্রোডাক্টের কিছু অসুবিধা এবং সীমাবদ্ধতা তুলে ধরতে হবে, এর ফলে বিশ্বাস বাড়ে। এইগুলোর পাশাপাশি হাই কোয়ালিটির ছবি এবং প্রোডাক্টের সাথে অন্য প্রোডাক্ট এর তুলনা করলে ভিজিটররা আরো ভালোভাবে বুঝতে পারে। রিভিউ এবং বর্ণনা শেষে cta বাটন দিতে হবে। এসিও মাথায় রেখে কিওয়ার্ড ব্যবহার করা দরকার, তবে জোর করে না। সর্বশেষে উপসংহার লিখে ভিজিটরকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে হবে। এইসব পদ্ধতি মাথায় রেখে প্রোডাক্ট রিভিউ বা বর্ণনা লেখলে কনভার্সন বাড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

একটি পারফেক্ট ল্যান্ডিং পেজের প্রধান উপাদান গুলো

পারফেক্ট ল্যান্ডিং পেজের প্রধান উপাদান গুলো হচ্ছে পরিষ্কার হেডলাইন, আকর্ষণীয় প্রোডাক্ট ইমেজ, সহজ ও তথ্যভিত্তিক বর্ণনা এবং বিশ্বাসযোগ্য রিভিউ। অবশ্যই প্রোডাক্ট এর মূল ফিউচার ও ব্যবহার পরিষ্কার ভাবে দেখাতে হবে। পাশাপাশি তুলনামূলক উদাহরণ দিলে ভিজিটর সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। Seo অপটিমাইজ কনটেন্ট, দ্রুত লোডিং স্পিড এবং মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ডিজাইন এড়িয়ে যাওয়া ভালো, যাতে ভিজিটররা শুধু প্রোডাক্টের ওপর ফোকাস করতে পারে। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির নিয়ম গুলোর মধ্যে এইগুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট লিংক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট লিংক ব্যবহারের নিয়ম হচ্ছে আগে থেকে Amazon associates একাউন্ট থেকে জেনারেট করা ইউনিক লিংক ব্যবহার করতে হবে। এই লিংক কোন প্রোডাক্টে ব্যবহার করলে, কেউ সেই লিংক ক্লিক করে প্রোডাক্ট কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। লিংক সঠিকভাবে বোঝাতে হবে ভাঙ্গা বা পরিবর্তিত করবেন না। কোথায় লিংক দিয়েছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ-ব্লগ, ল্যাডিং পেজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোডাক্টের সাথে সম্পর্কিত রেখে দিতে হবে। লিংক দেওয়ার সময় amazon এর নীতিমালা মেনে চলা উচিত।
অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-লিংক-ব্যবহারের-সঠিক-নিয়ম
অ্যাফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করার জন্য ডিসক্লোজার দেওয়া বাধ্যতামূলক, তার মানে ভিজিটর কে জানাতে হবে যে এটা অ্যাফিলিয়েট লিংক। লিংক সংক্ষিপ্ত বা ক্লিন করার জন্য bitly ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অ্যামাজনের নীতি ভাঙ্গ করলে হবে না। লিংক কখনো ইমেইলে বা ডাউনলোড ফাইলে লুকিয়ে রাখা উচিত না। এছাড়া একই প্রোডাক্ট এর জন্য একাধিক ভুল লিংক ব্যবহার না করে, একটা সঠিক লিংক ব্যবহার করা উচিত। নিয়ম মেনে কাজ করলে অ্যাকাউন্টও সেভ থাকে এবং আই ও বাড়ে।

ভিজিটর কে কাস্টমারে পরিবর্তন করার উপায়

ভিজিটর কে কাস্টমার এ পরিবর্তন করার জন্য প্রথমে তাকে প্রোডাক্টের সুবিধা সম্পর্কে ভালো ভাবে বোঝাতে হবে। পরিষ্কার এবং সহজভাবে প্রোডাক্টের উপকারিতা বোঝাতে পারলে ভিজিটরকে কাস্টমার করা যায়। পেজে ঢুকে সে বুঝতে পারে যেন যে এই জিনিসটা তার কাজে লাগবে। ভালো ছবি, ছোট ছোট তথ্য এবং সহজ ভাষার লেখা ব্যবহার করলে বিশ্বাস বাড়ে। পাশাপাশি সত্যি রিভিউ বা ব্যবহারের মতামত দিলে বিশ্বাস আরো বেশি বাড়ে। পেজ তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে পেজ যেন দ্রুত লোড হয় এবং মোবাইলে ভালো দেখা যায়। এইভাবে এইসব পদ্ধতি গুলো মেনে কাজ করলে ভিজিটরকে কাস্টমার এ পরিবর্তন করা যায়। 

আয় বাড়ানোর জন্য ল্যান্ডিং পেজ অপটিমাইজেশন টিপস

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির নিয়ম জানাটা যেমন জরুরি ঠিক তেমনি আয় বাড়ানোর জন্য ল্যান্ডিং পেজ অপটিমাইজেশন করাটাও জরুরি। লেন্ডিং পেজ অপটিমাইজেশন করার জন্য বেশ কিছু টিপস রয়েছে তার মধ্যে হচ্ছে পেজের গতি এবং ডিজাইন ঠিক করতে হবে। পেস্ট দ্রুত লোড না হলে ভিজিটর চলে যায়, তাই হালকা থিম এবং কম ইমেজ ব্যবহার করা উচিত পেজের মধ্যে। বর্তমান বিশ্বের মানুষ বেশিরভাগ মোবাইল ব্যবহার করে তাই পেজ মোবাইলে ভালো দেখা যাবে এমন করে ডিজাইন করতে হবে। 

পেজের মধ্যে লেখাগুলো ছোট ছোট ভাবে সাজিয়ে লিখতে হবে যাতে দেখতে সুন্দর লাগে। পাশাপাশি চোখে পড়ার মতো CTA বাটন রাখতে হবে। এছাড়া নিয়মিত পেজ আপডেট করা জরুরী কারণ পুরানো তথ্য দেখলে ভিজিটররা বিশ্বাস হারায়। SEO ভালোভাবে করলে google থেকে ফ্রী ট্রাফিক আসে পেজের মধ্যে। এই কারণে পেজের মধ্যে সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো রেখে দিলে পেজটা দেখতে আরো পরিষ্কার লাগে এবং এর ফলে ভিজিটররা প্রোডাক্ট কেনার আগ্রহ দেখায়। তাই এইসব টিপস গুলো মাথায় রেখে কাজ করলে ভালো হবে।

পেজ মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন হওয়া যে সমস্ত কারণে জরুরী

যেহেতু আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বের মানুষ বেশিরভাগ মোবাইল ব্যবহার করে তাই পেজ মোবাইলে ভালোভাবে দেখাবে এমন ভাবে তৈরি করা খুব জরুরী। যদি আপনার ল্যান্ডিং পেজ মোবাইল ফ্রেন্ডলি না হয় তাহলে ভিজিটররা থেকে বের হয়ে যাবে। তাই পেজ এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে ছোট স্ক্রিনেও ভালো ভাবে ও পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। লেখা পড়তে সুবিধা হবে, বাটন চাপতে সুবিধা হবে এবং ছবি ঠিক ভাবে বসাতে হবে। পেজ দ্রুত লোড হওয়ার বিষয়টা ভালোভাবে দেখতে হবে, কারণ মোবাইল ডেটায় এটা সব সময় দ্রুত গতিতে কাজ করে না। এই সমস্ত বিষয়গুলো ঠিক থাকলে ডিজিটাল রা পেজের মধ্যে বেশি সময় থাকবে, ফলে বিক্রির সুযোগ বাড়ে। 
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে google মোবাইল ফ্রেন্ডলি পেজকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাই মোবাইল ফ্রেন্ডলি পেজ গুলো সহজে সার্চে চলে আসে। মোবাইলে যদি পেজ ধীরে ধীরে চলে বা ডিজাইন ভেঙ্গে যায় তাহলে ভিজিটরদের অভিজ্ঞতা খারাপ হয় এবং তারা আর ফিরে আসে না। ভিজিটর যখন সহজে সবকিছু বুঝতে পারে তখন তারা খুব সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই মোবাইল ফ্রেন্ডলি পেজ শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য না বরং আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটা অনেক বড় অবদান রাখে। তাই আমাদের উচিত এই সমস্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে পেজকে সাজিয়ে তোলা। তাই অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির নিয়ম গুলোর এটা অন্যতম।

নতুনদের জন্য অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার গাইড

নতুনদের জন্য অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য একটা অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। একাউন্ট তৈরির সময় সকল তথ্য গুলো চেক করে নেয়া ভালো, যাতে কোন ভুল হলে সেটা ধরে ফেলা যায় এবং সেটা ঠিক করে দেওয়া যায়। অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরে একটা ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হয় যাতে আপনি কি ধরনের প্রোডাক্ট প্রমোট করতে চাচ্ছেন বোঝাই। এরপরে সেই ক্যাটাগরি অনুযায়ী যেসব প্রোডাক্ট বেশি বিক্রি হয় সেগুলো বেছে নিতে হবে। তারপর সেই সব প্রোডাক্টগুলোর অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরি করে নিতে হবে, তারপর সেই লিংকটা ব্যবহার করতে হবে।
নতুনদের-জন্য-অ্যামাজন-অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিং-শুরু-করার-গাইড
এরপর একটা ব্লগ ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করে সেখানে প্রোডাক্ট রিভিউ, সুবিধা-অসুবিধা এবং ব্যবহার অভিজ্ঞতা সহজ ভাষায় লিখতে হবে। পাশাপাশি প্রোডাক্টের বর্ণনার মাঝে বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করতে হবে। নতুনদের জন্য seo বিষয়টা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেজটি সঠিকভাবে seo না হলে গুগল সার্চে আসবে না, এর ফলের নতুন ভিজিটর পেজে আসবে না। তাই পেজের মধ্যে কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। এই সমস্ত বিষয়গুলো মেনে নতুনরা কাজ করলে তারা তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সফল হয়ে যেতে পারে।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

আজকের আর্টিকেলে আমরা অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারলাম এবং এটা কিভাবে করতে হয় সেই সম্পর্কেও ধারণা পেলাম। এই কাজটা করে ঘরে বসে থেকে ইনকাম করা যায় এবং নিজের অবস্থান উন্নত করা যায়। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যারা বেকার, তাদের এই সমস্ত কাজগুলো করা উচিত। এর ফলে তাদের আর্থিক অবস্থা উন্নত হবে। আশা করি আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে। এতক্ষণ সময় নিয়ে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন, আপনার সুস্থতা কামনা করি। 260305

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url