চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার ৬ টি উপায়
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা আমাদের চেহারার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চোখের নিচের কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল আমাদের বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখায়।
এই সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমনঃ অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি বা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার। তবে সুখবর হলো, সঠিক যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে এই কালো দাগ কমানো সম্ভব।
পেজ সূচিপত্রঃ চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায়
- চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায়
- চোখের নিচে কালো দাগ কেন হয়? প্রধান কারণগুলো জানুন
- চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায়
- চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে কোন খাবার ও ভিটামিন কার্যকর?
- পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে কেন?
- চোখের নিচে কালো দাগ কমাতে কার্যকর আই ক্রিম ও জেল ব্যবহারের নিয়ম
- চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে শসা, আলু ও গোলাপজলের ব্যবহার
- ভুল অভ্যাসের কারণে চোখের নিচে কালো দাগ বেড়ে যায় যেসব কারণে
- কত দিনে চোখের নিচে কালো দাগ কমে? বাস্তবসম্মত ধারণা
- শেষ কথাঃ চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায় অনুসরণে করণীয়
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায়
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায়গুলো মূলত আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক স্কিন কেয়ারের ওপর নির্ভর করে। আমাদের চোখের চারপাশের ত্বক শরীরের অন্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা ও সংবেদনশীল। তাই সামান্য অবহেলা, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করলে সেখানে দ্রুত কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া অনেক সময় রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে না হলে চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর এটি ঠিক করার জন্য আমাদের শুধু বাইরের কসমেটিক্স প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেই এই সমস্যা সম্পূর্ণ ঠিক হয় না। তাই ভেতর থেকে শরীরকে সুস্থ রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর শরীর সুস্থ থাকলে ত্বকও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে পায়।
এছাড়া নিয়মিত প্রাকৃতিক উপাদান যেমন শসা, অ্যালোভেরা, আলুর রস বা ঠান্ডা চা-ব্যাগ ব্যবহার করলে চোখের নিচের ত্বক সতেজ হয় এবং কালো দাগ ধীরে ধীরে হালকা হতে শুরু করে। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে এইগুলো সেরা। আর এইগুলো ধারাবাহিকভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ডার্ক সার্কেল অনেকটা কমানো সম্ভব। নিচে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার উপায় গুলো পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলঃ
১) পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
চোখের নিচে কালো দাগ কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালে শরীরের কোষগুলো নিজেকে পুনর্গঠন করার সুযোগ পায়। আর ঘুমের সময় রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে, যা চোখের চারপাশের ত্বককে ভালো রাখে। তাছাড়া নিয়মিত রাত জাগা বা ঘুম কম হলে ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং ডার্ক সার্কেল আরও স্পষ্ট দেখা দেয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই জরুরি।
২) পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান
চোখের নিচের ত্বক সুস্থ রাখতে সঠিক খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার খেতে হবে কারণ এই খাবারগুলো ত্বকের পুষ্টি জোগায় এবং কালো দাগ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারে ফল, সবুজ শাকসবজি, ডিম, বাদাম ও পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা উচিত। এর পাশাপাশি পাশাপাশি শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই প্রতিদিন কম করে ৭-৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে তাহলে ত্বক উজ্জ্বল থাকবে।
৩) প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় ব্যবহার
চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় ভালোই কাজ করে এবং এটি নিরাপদ। যেমন শসার টুকরো বা ঠান্ডা চা-ব্যাগ চোখের ওপর রাখলে ফোলাভাব কমে এবং ত্বক ঠান্ডা হয়। এছাড়া কাঁচা আলুর রস বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ত্বক পুষ্টি পায় এবং ধীরে ধীরে কালচে ভাব হালকা হতে শুরু করে। এসব উপায় নিয়মিত ও ধৈর্য ধরে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এইসব প্রাকৃতিক উপাদানে সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকে, তাই এগুলো নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়।
চোখের নিচে কালো দাগ কেন হয়? প্রধান কারণগুলো জানুন
চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের সমস্যা নয় বরং এটি আমাদের শরীর ও জীবনযাপনের বিভিন্ন পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিতও হতে পারে। আমাদের চোখের চারপাশের ত্বক খুবই পাতলা এবং সংবেদনশীল তাই সামান্য অবহেলাতেই সেখানে কালচে ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক সময় আমরা শুধু বিভিন্ন কসমেটিক্স ব্যবহার করে সমস্যাটি ঢাকার চেষ্টা করি, কিন্তু আসল কারণ না জানলে স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই কেন এই কালো দাগ হয়, তার প্রধান কারণগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। নিচে সহজ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো তুলে ধরা হলোঃ
১) বংশগত কারণ
চোখের নিচে কালো দাগ অনেক সময় পরিবারে জেনেটিক্যালি থাকে। অর্থাৎ বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের যদি এই সমস্যা থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই ধরনের কালো দাগ ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে। আর এই বংশগত দাগকে পুরোপুরি দূর করা কঠিন, তবে নিয়মিত যত্ন, পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক পুষ্টি এবং ঘরোয়া প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে এই দাগগুলো কিছুটা হালকা করা যায়।
২) অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঘুমের অভাব
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও চোখের চারপাশের ত্বক ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। ঘুমের অভাবে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়, ফলে চোখের নিচের রক্তনালীগুলো আরও ফুটে ওঠে এবং কালো দাগ তৈরি হয়। বিশেষ করে রাত জেগে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করলে এই সমস্যাটি হয় তাছাড়া মানসিক চাপ এই সমস্যা বাড়ায়। তাই নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম, রাতের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ কমানো অত্যন্ত জরুরী কারণ এগুলো চোখের নিচের ত্বককে সতেজ রাখে এবং কালো দাগ কমাতে সাহায্য করে।
৩) দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা
কম্পিউটার, মোবাইল বা টিভির স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকলে চোখের চারপাশে চাপ পড়ে এবং রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়। এতে চোখের নিচের অংশে গাঢ় ছায়ার মতো দাগ তৈরি হয়। যারা পড়াশোনা বা ডিজিটাল কাজের জন্য সারাদিন স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ডার্ক সার্কেলের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাইনিয়মিত বিরতি নেওয়া, চোখকে বিশ্রাম দেওয়া এবং স্ক্রিন থেকে দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায়
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায়গুলো অত্যন্ত নিরাপদ কারণ এগুলোতে কোনো রাসায়নিক উপাদান থাকে না এবং এগুলো ত্বকের সংবেদনশীলতা রক্ষা করে। প্রাকৃতিক উপাদানগুলো চোখের চারপাশের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় এবং ক্লান্ত চোখকে শান্ত করতে জাদুর মতো কাজ করে যা আপনি ব্যবহারের সাথে সাথেই অনুভব করতে পারবেন। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে কিছু প্রধান ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায় নিচে বর্ণনা করা হলোঃ
চোখে
১) শসার টুকরো ও আলুর রসের ব্যবহারঃ ঠান্ডা শসার টুকরো চোখে অন্তত দশ মিনিট দিয়ে রাখলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের ফোলা ভাব এবং কালো দাগ কমাতে সরাসরি সাহায্য করে থাকে। এছাড়া আলুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে যা নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চোখের নিচের জেদি কালো দাগগুলো খুব দ্রুত হালকা হতে শুরু করে। প্রতিদিন অন্তত একবার এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করলে চোখের চারপাশের চামড়া অনেক বেশি টানটান ও উজ্জ্বল হয় যা আপনার চেহারায় একটি উজ্জল ভাব নিয়ে আসবে এবং আপনাকে সুন্দর দেখাবে।
২) গোলাপজল ও অ্যালোভেরা জেলঃ গোলাপজলে তুলো ভিজিয়ে চোখের ওপর দিয়ে রাখলে তা ত্বককে শীতল করে আর অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে শুষ্কতা দূর করে । কারণ অ্যালোভেরা জেলের ভিটামিন ই চোখের নিচের শুষ্কতা দূর করে দাগ কমাতে সাহায্য করে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করা সবথেকে ভালো কাজ করে কারণ এটি সারা রাত ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগায় এবং ডার্ক সার্কেল সরাতে কাজ করে। তাছাড়া গোলাপজল ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে এবং চোখের ক্লান্তি দূর করে যা দীর্ঘ সময় কাজ করার পর আপনার চোখের নিজের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত ভালো একটি ঘরোয়া উপায় হিসেবে পরিচিত।
৩) ঠান্ডা টি ব্যাগ ব্যবহারের সুবিধাঃ গ্রিন টি বা সাধারণ চায়ের লিকারের ঠান্ডা টি ব্যাগ চোখের ওপর রাখলে এর ক্যাফেইন রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে এবং চোখের কালো ভাব দ্রুত কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করলে চোখের নিচের কালো দাগ যেমন কমে তেমনি চোখের চারপাশের কুঁচকানো চামড়াও ধীরে ধীরে সুন্দর হয়ে ওঠে যা আপনার চেহারার আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়।
চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে কোন খাবার ও ভিটামিন কার্যকর?
চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও ভিটামিন আপনার শরীরকে ভেতর থেকে প্রস্তুত করে যা বাইরের যত্নের চেয়েও বেশি ভালো এবং দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল দিয়ে থাকে। পুষ্টির অভাবে অনেক সময় চোখের চামড়া ফ্যাকাসে হয়ে যায়। তাই সঠিক ডায়েট চার্ট অনুসরণ করা এই সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । চোখের নিচে কালো দাগ কমাতে কোন খাবার ও ভিটামিন গুলো ভালো কাজ করে তা নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলঃ
১) ভিটামিন C ও ভিটামিন E এর গুরুত্বঃ ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরি করতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন ই ত্বকের কোষগুলোকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করে যার ফলে চোখের নিচের কালো দাগ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। তাই প্রতিদিন লেবু, আমলকী এবং বাদাম জাতীয় খাবার খেলে আপনার ত্বকের এটি ভেতর থেকে কাজ করে এবং ডার্ক সার্কেল হওয়া প্রায় অনেকটাই কমে দায়। এই ভিটামিনগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা চোখের চারপাশের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে আপনাকে সতেজ দেখাবে।
২) আয়রন সমৃদ্ধ খাবার ও ওমেগা-৩ঃ বিভিন্ন সময় রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের অভাবে চোখের নিচে কালচে ভাব দেখা দেয় তাই পালং শাক, কচু শাক এবং ডাল জাতীয় খাবার নিয়মিত গ্রহণ করা ডার্ক সার্কেল কমানোর জন্য জরুরি। এছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত সামুদ্রিক মাছ বা তিসি বীজ খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং চোখের নিচের ফোলা ভাব ও দাগ দ্রুত কমে যায়। সবসময় মনে রাখবেন শরীরের ভেতরের ঘাটতি পূরণ করলে চোখের নিচে কালো দাগ হওয়ার মূল কারণটি দূর হয় যা আপনাকে দীর্ঘদিন সুস্থতা এবং একটি দাগহীন নিখুঁত চেহারা উপহার দিতে সাহায্য করবে।
৩) পর্যাপ্ত পানি পানের প্রয়োজনীয়তাঃ শরীরে পানির অভাব হলে চোখের নিচের চামড়া বসে যায় এবং হাড়ের নিচের ছায়া কালো দাগ হিসেবে ফুটে ওঠে তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা অপরিহার্য। প্রচুর পানি পান করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায় যা আপনার চোখের নিচের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করে। পানি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে এবং চোখের চারপাশের পাতলা চামড়াকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে কালো দাগগুলো আর নতুন করে ফিরে আসার সুযোগ পায় না এবং আপনার চেহারা সতেজ থাকে।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে কেন?
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে কেন তার মূল কারণ হলো ঘুমের অভাব আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালনে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায় এবং ত্বককে ফ্যাকাসে করে তোলে। যখন আমরা কম ঘুমাই তখন চোখের নিচের রক্তনালীগুলো বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে যা পাতলা চামড়ার নিচ থেকে কালচে ছোপের মতো দেখায়। আবার ঘুমের অভাব শরীরের কর্টিসল লেভেল বাড়িয়ে দেয় যা ত্বকের টিস্যুগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ডার্ক সার্কেলকে আরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। এছাড়া ঘুমের অভাবে চোখ সারাক্ষণ ক্লান্ত থাকে যার ফলে চোখের চারপাশের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সেখানে পানি জমে চোখের নিচ ফোলা শুরু হয়। এইগুলো ঠিক রাখতে দৈনিক অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি যা আপনার চোখের কালো দাগ দূর করার সবথেকে সহজ উপায়।
চোখের নিচে কালো দাগ কমাতে কার্যকর আই ক্রিম ও জেল ব্যবহারের নিয়ম
চোখের নিচে কালো দাগ কমাতে কার্যকর আই ক্রিম ও জেল ব্যবহারের নিয়মগুলো সঠিকভাবে জানলে আপনি খুব দ্রুত কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাবেন এবং চোখের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। তবে চোখের চারপাশের চামড়া অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়ার কারণে আই ক্রিম প্রয়োগের সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যাতে কোনো ধরণের ক্ষতি না হয়। চোখের নিচে কালো দাগ কমাতে কার্যকর আই ক্রিম ও জেল ব্যবহারের নিয়ম গুলো দেওয়া হলঃ
১) কখন আই ক্রিম ব্যবহার করবেন ও পরিমাণঃ আই ক্রিম ব্যবহারের সবথেকে ভালো সময় হলো রাতে ঘুমানোর আগে কারণ এই সময় ত্বক বিশ্রামে থাকে এবং উপাদানের পুষ্টিগুলো গভীরে কাজ করার সুযোগ পায়। তাই মটর দানার মতো সামান্য পরিমাণ ক্রিম দুই চোখের নিচের জন্য যথেষ্ট কারণ অতিরিক্ত ক্রিম লাগালে তা চোখের ভেতরে গিয়ে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে যেটা আমরা কেউই চায়না। একটা লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে যারা নিয়মিত রাতে নিয়ম মেনে আই ক্রিম ব্যবহার করেন তাদের চোখের নিচের চামড়া অনেক বেশি টানটান ও উজ্জ্বল থাকে যা তাদের সতেজ দেখাতে সাহায্য করে।
২) আঙুল দিয়ে লাগানোর পদ্ধতি ও ব্যবহারের সংখ্যাঃ হাতের আঙ্গুল ব্যবহার করে একদম হালকা চাপে চোখের চারপাশের ক্রিম লাগানো উচিত যাতে পাতলা চামড়ার ওপর কোনো বাড়তি চাপ না পড়ে। প্রতিদিন অন্তত দুইবার অর্থাৎ সকালে একবার এবং রাতে একবার আই ক্রিম ব্যবহার করলে চোখের নিচের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং কালো দাগগুলো দ্রুত ফ্যাকাশে হতে শুরু করে। ক্রিমটি লাগানোর সময় চোখের নিচের দিকে আলতো করে ম্যাসাজ করলে তা ফোলা ভাব কমানোর পাশাপাশি চোখের চারপাশের দাগ দূর করতেও ভালো কাজ করে থাকে।
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে শসা, আলু ও গোলাপজলের ব্যবহার
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে শসা, আলু ও গোলাপজলের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো চোখের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি ত্বকের রঙের উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে কালচে ভাব দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে যা আপনি ব্যবহারের কিছু দিনের মধ্যেই অনুভব করতে পারবেন। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে শসা, আলু ও গোলাপজলের ব্যবহার সহজ ভাবে নিচে দেওয়া হলঃ
১) শসার টুকরো ও আলুর রসের প্রয়োগঃ গোল করে কাটা ঠান্ডা শসার টুকরো বা আলুর রস তুলায় ভিজিয়ে চোখের ওপর ১৫ মিনিট রাখলে তা চোখের চারপাশের কালো দাগ দ্রুত হালকা করতে সাহায্য করে। কারণ আলুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট চোখের জেদি ডার্ক সার্কেল সরাতে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে এবং শসা ত্বককে শীতল রেখে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চারবার এই ঘরোয়া প্যাকটি ব্যবহার করলে চোখের চারপাশের চামড়া অনেক বেশি নরম ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে যা আপনাকে সুন্দর দেখাবে।
২) গোলাপজলের বিশেষ কার্যকারিতাঃ গোলাপজলে ভেজানো কটন প্যাড চোখের ওপর ১০ মিনিট দিয়ে রাখলে তা চোখের লালচে ভাব দূর করে এবং ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহযোগিতা করে থাকে। তাই যাদের চোখ দীর্ঘ সময় কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তাদের জন্য গোলাপজল হলো সেরা একটি প্রাকৃতিক সমাধান যা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই কাজ করে। আর নিয়মিত এই গোলাপজল ব্যবহারে চোখের নিচের রক্ত প্রবাহ সচল থাকে এবং এটি ডার্ক সার্কেল ফিরে আসা রোধ করে আপনার চোখের উজ্জ্বলতা স্থায়ী করতে অনেক ভালো কাজ করে।
ভুল অভ্যাসের কারণে চোখের নিচে কালো দাগ বেড়ে যায় যেসব কারণে
ভুল অভ্যাসের কারণে চোখের নিচে কালো দাগ বেড়ে যায় যেসব কারণে সেগুলো শনাক্ত করা এবং এড়িয়ে চলাই সমস্যা সমাধানের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি ধাপ। আমরা অনেক সময় না বুঝেই দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু কাজ করি যা আমাদের চোখের চারপাশের সংবেদনশীল চামড়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কালো দাগকে আরও জেদি ও শক্তিশালী করে তোলে। আর কেবল দামি কসমেটিক্স পণ্য ব্যবহার করে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। যদি আমরা আমাদের জীবন যাপনের ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো পরিবর্তন না করি। নিজে কিছু প্রধান ভুল অভ্যাসগুলো বর্ণনা করা হলোঃ
১) পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া ও স্ক্রিন টাইমঃ প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের অভাব চোখের রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে যার ফলে চোখের নিচে কালচে ছাপ বা ডার্ক সার্কেল স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এছাড়া একটানা মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশি ক্লান্ত হয়ে যায় এবং চোখের চারপাশের চামড়া কুঁচকে গিয়ে কালো দাগের সৃষ্টি হয় যা দেখতে অস্বস্তিকর। তাই বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা চোখের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সবথেকে বড় শর্ত যা আমাদের সবাইকে মেনে চলতে হবে।
১) পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া ও স্ক্রিন টাইমঃ প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের অভাব চোখের রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে যার ফলে চোখের নিচে কালচে ছাপ বা ডার্ক সার্কেল স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এছাড়া একটানা মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশি ক্লান্ত হয়ে যায় এবং চোখের চারপাশের চামড়া কুঁচকে গিয়ে কালো দাগের সৃষ্টি হয় যা দেখতে অস্বস্তিকর। তাই বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা চোখের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সবথেকে বড় শর্ত যা আমাদের সবাইকে মেনে চলতে হবে।
২) চোখ ঘষা ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবঃ চোখে ময়লা পড়লে বা চুলকালে জোরে জোরে ঘষার অভ্যাস ত্বকের নিচে রক্তনালীগুলোকে ছিঁড়ে ফেলে যার ফলে চোখের নিচে স্থায়ী কালো দাগ তৈরি হতে পারে। ধূমপান এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে শরীরের কোলাজেন নষ্ট হয়ে যায় যার ফলে চোখের চামড়া ঝুলে পড়ে এবং ডার্ক সার্কেল আরও বেশি গভীর ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যা আমাদের চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা এবং ক্ষতিকর নেশাজাতীয় দ্রব্য বর্জন করা চোখের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এবং কালো দাগ দূর করতে সবথেকে কার্যকর একটি পদক্ষেপ।
কত দিনে চোখের নিচে কালো দাগ কমে? বাস্তবসম্মত ধারণা
কত দিনে চোখের নিচে কালো দাগ কমে তা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনার দাগের গভীরতা এবং আপনি কতটা নিয়মিত ও ধৈর্যের সাথে ঘরোয়া বা চিকিৎসাগত যত্ন নিচ্ছেন তার ওপর। ডার্ক সার্কেল যেহেতু একদিনে তৈরি হয় না তাই এটি দূর হতে সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় নিতে পারে যদি আপনি আপনার জীবনযাত্রায় সঠিক পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে যারা নিয়মিত ঘুমের পাশাপাশি প্রাকৃতিক প্যাক ব্যবহার করেন তারা দুই সপ্তাহের মধ্যেই চোখের উজ্জ্বলতা ফিরে পাওয়ার প্রাথমিক ফলাফল দেখতে শুরু করেন যা অত্যন্ত ভালো একটি লক্ষণ। তবে অবশ্যই ফল পাবার ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখুন এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন কারণ চোখের নিচের স্পর্শকাতর চামড়া ঠিক হতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয় যা আপনাকে ধৈর্য ধরে মেনে নিতে হবে।
শেষ কথাঃ চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায় অনুসরণে করণীয়
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায়গুলো সফল করতে হলে নিয়মিত যত্ন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। কারণ এটি আমাদের সুন্দর রাখবে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপাদানের সঠিক ব্যবহারই পারে আপনার চোখের হারানো উজ্জ্বলতা চিরতরে ফিরিয়ে দিতে। তাই সচেতন হোন এবং নিজের চোখের নিজের কালো দাগের প্রতি যত্নশীল হোন কারণ সুস্থ চোখই পারে আপনার ব্যক্তিত্বকে সবার সামনে আরও আত্মবিশ্বাসী করে ফুটিয়ে তুলতে। 250464




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url