ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি সঠিক জায়গাতেই এসেছেন। প্রবাসে সন্তান লেখাপড়া করছে এসব প্রয়োজনে আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রয়োজন হয়।
কিন্তু এই প্রক্রিয়া অনেকের কাছে জটিল ও বিভ্রান্তিকর মনে হয়। তবে চিন্তা কোনো কারণ নেই। আজকের আর্টিকেলে ব্যাংক একাউন্ট থেকে আপনি বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম সম্পর্কে জানাবো। যা এই প্রক্রিয়াকে আপনার জন্য সহজ করবে।
পেজ সূচিপত্রঃ ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
-
ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
-
বিদেশে টাকা পাঠানোর বিভিন্ন পদ্ধতি ও তাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
-
ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি
-
সিফট ট্রান্সফার পদ্ধতির বিস্তারিত ধাপ
-
বিদেশে টাকা পাঠানোর জন্য আবশ্যকীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টেশন
-
বিভিন্ন দেশে টাকা পাঠানোর সময় খরচ ও ফি কাঠামো বোঝা
-
অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানোর সুবিধা ও পদ্ধতি
-
রেমিটেন্স সার্ভিস ব্যবহারের নির্দেশিকা
-
টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্য ভিত্তিক নিয়মকানুন
-
শেষ কথাঃ ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম সম্পর্কে প্রত্যেকটি প্রবাসীর জন্য জেনে থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোকে অনেকে একটি দুর্বোধ্য ও জটিল প্রক্রিয়া মনে করেন। কিন্তু সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতি নিলে এটা একটি সহজ কাজে পরিণত হতে পারে। সন্তানের পড়ালেখার খরচ, বিদেশে চিকিৎসা ব্যবসায়িক লেনদেন বা আত্মীয়-স্বজনের কাছে আর্থিক সহায়তা যেকোনো প্রয়োজনে ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা পাঠানোর জন্য জানতে হবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কারণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক আদান প্রদানের প্রটোকল মেনে চলে এ প্রক্রিয়াটি হবে ঝামেলা মুক্ত। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ প্রেরণের উদ্দেশ্য ও ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা। আপনি কি শিক্ষা খরচ, চিকিৎসা বাবদ পরিবারের বর্ষের ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য টাকা পাঠাচ্ছেন। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রক্রিয়া ভিন্ন।
আরো পড়ুনঃ বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম
উদাহরণস্বরূপ শিক্ষার্থীর জন্য টাকা পাঠাতে তার ভর্তি কনফার্মেশন লেটার, ফ্রি স্ট্রাকচার এবং পাসপোর্ট, ভিসার কপি লাগবে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী লেনদেনের জন্য ইন ভয়েস বা বিল অফ লিডিং এর মতো বাণিজ্যিক দলিল জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে সেলফিন একাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। এর জন্য প্রথমে আপনাকে সার্চ করতে হবে সেলফিন। তারপর সেলফিন অ্যাপটি ইন্সটল করে নিতে হবে।
সেলফিন অ্যাপটি ইন্সটল করা হয়ে গেলে প্রথমে আপনাকে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে। তারপর আপনার নাম্বার এবং পিন কোড দিয়ে লগইন করতে হবে।
লগইন করার পর আপনার সামনে একটি ইন্টারফেস আসবে। ইন্টারফেসটি আসার পর দেখবেন এখানে রেমিটেন্স নামে একটি বাটন থাকবে।
সেই বাটনে ক্লিক করে আপনার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিয়ে এবং এমাউন্টের জায়গায় টাকা এমাউন্ট বসিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করবেন।
এই প্রক্রিয়া গুলো অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই সেলফিন একাউন্টের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠাতে পারবেন।
বিদেশে টাকা পাঠানোর বিভিন্ন পদ্ধতি ও তাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বিদেশে টাকা প্রেরণের একাধিক পদ্ধতি রয়েছে। প্রতিটি পদ্ধতির রয়েছে নিজস্বতা, সীমাবদ্ধতা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্র। সবচেয়ে প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি হলো ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেরন। যা মূলত আলতো ব্যাংক শিফট ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এই পদ্ধতিতে সরাসরি তার ব্যাংক শাখায় গিয়ে অথবা অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর কৌশল গুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে সুরক্ষিত বলে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে বড় অংকের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে।
তবে এর সাথে জড়িত হতে পারে কিছুটা বেশি ফি এবং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে দুই থেকে পাঁচ কার্য দিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। দ্বিতীয় একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো রেমিটেন্স সার্ভিস। প্রধান কারী প্রতিষ্ঠান যেমন ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মালিগ্রাম বা রিয়াল এর সেবা গ্রহণ করা। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল দ্রুততা। প্রেরিত টাকা প্রাপক মিনিট কিংবা ঘণ্টার মধ্যেই সংগ্রহ করতে পারে। তবে এটি তুলনা মূলকভাবে বেশি হতে পারে এবং সাধারণত একটি সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে টাকা পাঠানো যায়।
ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি
ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই শুরু হয় প্রস্তুতির পালা। এই প্রস্তুতি না নিয়ে কাজ শুরু করলে পরবর্তীতে নানা জটিলতা ও সময় খেপনের সম্মুখীন হতে হবে। প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো প্রাপকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ করা। শুধু নাম ও অ্যাকাউন্ট নম্বর যথেষ্ট নয়। আপনার ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া সফল করতে।
প্রাপক ব্যাংকের নাম, ঠিকানা, কোড প্রাপকের সম্পূর্ণ অ্যাকাউন্ট নম্বর সঠিক ভাবে
জানতে হবে। একটি অক্ষরের ভুলও টাকা ভুল ঠিকানায় চলে যেতে পারে বা ফেরত আসতে পারে।
আপনাকে টাকা প্রেরণের উদ্দেশ্য বা রেমিটেন্সের ক্যাটাগরি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ
করতে হবে। এটি শুধু ফরম পূরণের জন্যই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক নিয়ম
অনুযায়ী এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিফট ট্রান্সফার পদ্ধতির বিস্তারিত ধাপ
শিফট পদ্ধতিতে ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশ টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া হলো আন্তর্জাতিক মানের এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রোটোকল আসলে একটি নিরাপদ বার্তা আদম প্রদানের নেটওয়ার্ক। যা ব্যাংক গুলোকে টাকা প্রেরণের নির্দেশনা পাঠায়। প্রথম ধাপে আপনাকে আপনার ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করতে হবে এবং একটি ফর এক্স রেমিটেন্স অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
এই ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য প্রাপকের তথ্য প্রেরণকৃত অর্থের পরিমাণ মুদ্রার ধরন এবং টাকা ব্যবহারের উদ্দেশ্য উল্লেখ করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে আপনাকে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সাধারণত প্রয়োজন হয় আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, টিআইএন সার্টিফিকেট। প্রাপকের ব্যাংক তথ্য নিশ্চিত কারি ডকুমেন্টস এবং প্রেরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কিত প্রমাণপত্র।
বিদেশে টাকা পাঠানোর জন্য আবশ্যকীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টেশন
ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া মেনে সফল ভাবে লেনদেন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে জোগাড় করে রাখা উচিত। এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো। প্রথম এবং প্রধান কাগজপত্র হলো আপনার পরিচয় প্রমাণের দলিল। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্ট এর কপি অবশ্যই দরকার। যদি ব্যাংক কোনো প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে ট্রেড লাইসেন্স সংগঠনের দলিল ও কর্পোরেট কর্ণধারের পরিচয় পত্র জমা দিতে হবে।
আয় ও কর সংক্রান্ত দলিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইড লাইন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার
প্রেরণের জন্য ট্যাক্সপেয়ার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া এবং টিআইএন সার্টিফিকেট জমা
দেওয়া বাধ্যতা মূলক। এর পাশাপাশি প্রেরিত টাকার বৈধ উৎস প্রমাণের জন্য
প্রাসঙ্গিক দলিল যেমন স্যালারি স্লিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট। যেখানে আয় দেখাচ্ছে বা
ব্যবসায় আয় ব্যয় হিসেবে বিবরণী জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।
বিভিন্ন দেশে টাকা পাঠানোর সময় খরচ ও ফি কাঠামো বোঝা
ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম জানার পাশাপাশি এর সাথে জড়িত খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা জরুরী। যাতে অপ্রত্যাশিত কোন ফি আপনার হিসাব নিকাশে বিশৃঙ্খলা তৈরি না করতে পারে। এই খরচের মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রেরক ব্যাংকের ফি মধ্যবর্তী ব্যাংকের ফি এবং প্রাপক ব্যাংকের ফি প্রেরক ব্যাংকের ফি আবার স্থির বা প্রেরণকৃত অর্থের শতকরা হারে হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ প্রতিদিন ১০০০ টাকা ইনকাম করুন
বাংলাদেশের ব্যাংক গুলো সাধারণত একটি ফ্ল্যাট সার্ভিস চার্জ এবং টেলি গ্রাফিক
ট্রান্সফার চার্জ নাই। অনলাইন বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে করলে ফি কিছুটা কমতে
পারে। মধ্যবর্তী ব্যাংকের ফি হলো সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তির জায়গা। যেহেতু সরাসরি
আপনার ব্যাংকের এবং প্রাপক ব্যাংকের মধ্যে করে সেপ্টেন্ড ব্যাংকিং সম্পর্ক নাও
থাকতে পারে। তাই একবার একাধিক মত হতে ব্যাংক ব্যবহার করে শিফট বার্তা পৌঁছানো
হয়।
অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানোর সুবিধা ও পদ্ধতি
ডিজিটাল ব্যাংকিং যুগে ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হয়েছে। অনলাইন প্লাটফর্মের কল্যাণে বাংলাদেশের অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক এখন তাদের ইন্টারনেট বা মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানোর সুবিধা দিয়ে থাকে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সুবিধা ও সময় সাশ্রয়। আপনি বাড়ি বা অফিসে বসে যে কোন সময় এই লেনদেন শুরু করতে পারেন। ব্যাংকিং ঘন্টার উপর নির্ভরশীল থাকতে হয় না। এছাড়া অনেক ব্যাংক শাখায় যাওয়ার চেয়ে অনলাইনে কম সার্ভিস চার্জ আদায় করে।
পদ্ধতিটি বেশ সোজা। প্রথমে আপনাকে আপনার ব্যাংকের অনলাইন অ্যাপে লগইন করতে হবে এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সফার বা ফরেন রেমিটেন্স এর মত কোন মেনু খুজে বের করতে হবে। সেখানে প্রবেশ করলে আপনাকে একটি ইলেকট্রনিক্স ফ্রম পূরণ করতে বলা হবে। এই ফর্মটিও শাখার কাগজের ফর্ম এর মতই। যেখানে প্রাপকের ব্যাংকের বিআইসি কোড একাউন্ট নম্বর প্রাপকের নাম ও ঠিকানা এবং প্রেরণের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করতে হবে।
রেমিটেন্স সার্ভিস ব্যবহারের নির্দেশিকা
যখন গতি প্রাথমিক বিবেচনায় এবং প্রেরণের পরিমাণ তুলনা মূলকভাবে ছোট। তখন রেমিটেন্স সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলো একটি চমৎকার বিকল্প। এই পদ্ধতিতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। আপনার ব্যাংক একাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা পাঠানো ছাড়াও আপনি নগদ টাকা বা ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এসব প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে টাকা পাঠাতে পারেন।
ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানিগ্রাম রিয়াল এক্সপ্রেস মানি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান
বিশ্বব্যাপী তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই সেবা দিয়ে থাকে। প্রক্রিয়াটি
অত্যন্ত দ্রুত ও সহজ। প্রথমে আপনি একটি প্রেরণ ফর্ম পূরণ করবেন। যাতে প্রাপকের
নাম দেশ এবং প্রেরণের পরিমাণ উল্লেখ থাকবে। প্রাপককে সনাক্ত করার জন্য একটি গোপন
প্রশ্ন ও উত্তর নির্ধারণ করা হয়। অথবা একটি এম টি সি এন জেনারেট হয়।
টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যভিত্তিক নিয়ম কানুন
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গুলো ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রেরণের উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি ও নিয়ম নির্ধারণ করে থাকে। কারণটির সহজ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রিত প্রবাহ এবং অর্থ পাচার রোধ করা। শিক্ষা খাতের জন্য টাকা পাঠানো সবচেয়ে সাধারণ এবং তুলনামূলক সহজ একটি ক্যাটাগরি। এখানে বার্ষিক বা সেমিস্টার ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে টাকা পাঠানো যায়।
আরো পড়ুনঃ ২০টি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং শেখার প্রতিষ্ঠান
আবশ্যকীয় কাগজপত্রের মধ্যে পড়ে শিক্ষার্থীর ভর্তি কনফার্মেশন লেটার ফি
স্ট্রাকচার এবং শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট ও ভিসার কপি অনেক ব্যাংক অনলাইনেই এই
কাগজপত্র আপলোড এর সুবিধা দেয়। চিকিৎসা উদ্দেশ্যে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়ম
কিছুটা করাকরি হতে পারে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠাতে সাধারণত বিদেশি
হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত আনুমানিক খরচের বিবরণী চিকিৎসকের সুপারিশ এবং রোগী
পাসপোর্ট মেডিকেল ভিসার কপি প্রয়োজন হয়।
শেষ কথাঃ ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম রপ্ত করার একটি প্রয়োজনীয় আর্থিক দক্ষতা। যা ভবিষ্যতে আপনার বারবার কাজে লাগবে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নিয়ে আপনার পরবর্তীতে আরও দক্ষতার সাথে লেনদেন প্রয়োজন হতে পারে। প্রথম টিপস হলো প্রাপকের সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং তথ্য এটি নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করুন। এতে ভবিষ্যতে আবার টাকা পাঠাতে গেলে তথ্য হারানো বা ভুল করার ঝুঁকি থাকবে না। দ্বিতীয়ত আপনি যদি নিয়মিত ভাবে বিদেশে টাকা পাঠান, তাহলে আপনার ব্যাংকের সাথে কথা বলে।
একটি স্ট্যান্ডিং ইন্সট্রাকশন বা রেফারিং ট্রান্সফার অ্যারেঞ্জমেন্ট করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি অনেক ব্যাংকের সুবিধা দেয়। যাতে আপনাকে বারবার একই কাগজপত্র জমা দিতে না হয়। তৃতীয় বৈদেশিক মজুরের রেট ওঠানামা সম্পর্কে সচেতন হন। আশা করা যায় যে এই আর্টিকেলটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়ার সম্পর্কে আপনার সকলে দূর করতে পেরেছে এবং ভবিষ্যতে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পাদন করতে সক্ষম হবেন। আপনার লেনদেন সাশ্রয় নিরাপদ ও দ্রুত হোক।




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url