কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো

কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো সে বিষয় সম্পর্কে এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাই কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো তা জানার জন্য প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।চলুন দেখে নেয়া যাক, কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো?

পেজ সূচিপত্র: কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো

উপস্থাপনা

অনেকেই বাবা দিবস পালন করে থাকে। তবে কিভাবে বাবা দিবস পালন করার প্রচলন এলো এই ব্যাপারে অনেকেই জানে না। এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়লে কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো, সেই বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। তাই বাবা দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন। 

কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো

কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো এই বিষয়ে অনেক ঘটনা পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক এই ঘটনাগুলো থেকে বিশ্ব বাবা দিবস সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। বাবা দিবস শুরু হওয়ার পেছনে যে সকল ঘটনা পাওয়া যায় সেই ঘটনাগুলো থেকে জানা যায় যে, বিশ্ব বাবা দিবস ১৯১০ সালে শুরু করা হয়। 

বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপনের পেছনে যে ঘটনাকে সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করা হয্‌ সেই ঘটনাটি হলো: ওয়াশিংটন শহরের বাসিন্দা সোনোরা লুইস সর্বপ্রথম বিশ্ব বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।সোনোরা লুইসের মা সন্তান জন্মদানের সময় মৃত্যুবরণ করেন। সোনোরা লুইস সহ তার ছয় ভাই বোনকে বাবা যথোপযুক্ত আদর এবং স্নেহ দিয়ে বড় করেন। 

১৯০৯ সালে কোন এক গির্জায় গিয়ে তিনি মা দিবস সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি জানতে পারেন যে সারা বিশ্বের প্রতিবছর মায়েদেরকে সম্মান জানানোর জন্য এবং তাদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য মা দিবস পালন করা হয়। তিনি ভাবলেন যে, মায়ের জন্য যদি এরকম একটা দিবস থাকতে পারে তাহলে পিতার জন্য কেন নয়? অর্থাৎ বাবাদের জন্যও একটি বিশ্ব বাবা দিবস থাকা উচিত।

সেই ধারণা থেকেই তিনি ১৯১০ সালে বাবা দিবস পালন করার ঘোষণা করেন। তিনি কিছু ধর্ম যাজকের নিকটে বাবা দিবস পালন করার স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এবং তিনি দাবি করেন যে, বিশ্ব মা দিবসের মতো বিশ্ব বাবা দিবস থাকাও বাঞ্ছনীয়। সেখানকার অনেক ধর্ম যাজক তার এই মত বেশ পছন্দ করেন। এবং সেই বছরেই তারা সর্বপ্রথম বাবা দিবস পালন করেন। 
এরপরে কয়েক বছর ধরে তারা এই দিবসটি পালন করে আসছিলেন। তাদের পাশাপাশি আরো অনেক মানুষ এই দিবসটি পালন করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। যদিও অনেক মানুষ বাবা দিবসের কথা শুনে হাসাহাসি করত এবং তারা মনে করত যে এই ধরনের দিবস পালন করা নিতান্তই বাতুলতা। অর্থাৎ তখন পর্যন্ত বাবা দিবস অনুষ্ঠানিকভাবে পালন করার কোন সম্ভাবনা ছিল না। 

কিন্তু ১৯৬৬ সালে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি: জনসন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে বাবা দিবস পালন করা উচিত। তখন বাবা দিবস পালন করার কনসেপ্ট টি জনগণের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যারা বাবা দিবস পালন করতে অনিচ্ছুক ছিল তারাও এই দিবসটি পালন করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। কেননা যেহেতু প্রেসিডেন্ট নিজে এই দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তাহলে অবশ্যই এই দিবসের গুরুত্ব রয়েছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি: জনসনের সিদ্ধান্ত ছিল প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালন করা হবে। এরপর থেকে প্রেসিডেন্টের সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবারে বাবা দিবস পালন করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বাবা দিবস পালন করাকে আইনে পরিণত করেন তখন তার বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়। কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো? আশা করি তা জানতে পারলেন। 

এবং বিশ্বের বহু দেশ এই দিবসটি পালন করার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে। এরপরে ধীরে ধীরে বাবা দিবস আন্তর্জাতিক দিবসে রূপ লাভ করে। বৈশ্বিকভাবে বাবা দিবস পালন করার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবারে বাবা দিবস পালন করা হয়। বাবা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পেপার পত্রিকা বিশেষ বিশেষ প্রতিবেদন ছাপে। 

সরকারি এবং বেসরকারি টেলিভিশনগুলো বাবা দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বিশেষ করে বেসরকারি টেলিভিশন গুলো বাবা দিবসের বিশেষ তারকাদের সাথে আড্ডার ব্যবস্থা করে থাকেন। এবং অনেক টেলিভিশন বাবা দিবস উপলক্ষে টক শো এর আয়োজন করে থাকে। মোট কথা বাংলাদেশে বাবা দিবস পালন করা একটি ট্রাডিশনে পরিণত হয়েছে। 

বড় বড় সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সকলেই বাবা দিবস পালন করে থাকে। বাবা দিবস উপলক্ষে অনেকেই তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করে থাকেন। চাইলে আপনিও বাবা দিবস উপলক্ষে আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবা দিবস সম্পর্কে স্ট্যাটাস দিতে পারেন। 

বাবা দিবসে বাবার জন্য দোয়া

বাবা দিবসে বিভিন্ন ধরনের মূল্যহীন অনুষ্ঠান আয়োজন করে তেমন কোনো লাভ নেই। বরং আপনি যদি বাবা দিবসে আপনার বাবার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেন তাহলে তা তার জন্য এবং আপনার জন্য উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। বিশেষ করে আপনার বাবা যদি মৃত্যুবরণ করে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার উচিত হবে বাবা দিবসে তার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা। 
তবে সন্তান হিসেবে শুধু বাবা দিবসে বাবার জন্য দোয়া করা সমীচীন নয়। সন্তান হিসেবে বাবার জন্য সারা বছরের প্রতি দিনই দোয়া করতে হবে। আর যদি বাবা জীবিত থাকে তাহলে অবশ্যই তাদের খোঁজখবর নিতে হবে খেদমত করতে হবে। আপনি যদি বাবা দিবসের আপনার বাবার জন্য দোয়া করেন তাহলেই বাবা দিবস সার্থক হবে। 

বাবা দিবসের তাৎপর্য

বাবা দিবস তখনই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে যখন আপনি বাবা দিবসে আপনার বাবাকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন। যদি আপনার বাবা জীবিত থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে বাবা দিবসে তাকে সন্তুষ্ট করতে হবে। এখন কথা হল সারা বছর যদি আপনি আপনার বাবার সাথে খারাপ আচরণ করেন তাহলে কিন্তু কখনোই তিনি বাবা দিবসে আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারবে না। 

কেননা সেদিন আপনি যতই তাকে উপহার দেন না কেন সারা বছর যদি তার সাথে ভালো ব্যবহার না করা হয় তাহলে শুধুমাত্র বাবা দিবসের সামান্য উপহারে তাকে কখনোই আপনার প্রতি স্নেহবৎসল করে তুলবে না। তাই আপনি যদি বাবা দিবসে আপনার বাবাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন তাহলেই বাবা দিবস তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। 

আর আপনি তখনই বাবা দিবসে আপনার বাবাকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন যখন আপনি সারা বছর তার জন্য ভালো কাজ করে যাবেন। সুতরাং বাবা দিবসের তাৎপর্য হলো বাবাকে সন্তুষ্ট করা। অনেকেই রয়েছে যারা শুধুমাত্র বাবা দিবসে বাবার খোঁজ খবর নেয়। এমনটি করা কখনোই উচিত হবে না। বাবা দিবস মানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে সারা বছর বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে কিনা। 
বাবা দিবস মানে দায়বদ্ধতা, যে বাবার যাবতীয় হক আদায় করা হয়েছে কিনা। তাই বাবা দিবসের শুধুমাত্র একদিন বাবার খোঁজ খবর নেওয়া তার পছন্দের খাবার রান্না করে দেওয়া তার পছন্দ করা জায়গায় ভ্রমণ করতে নিয়ে যাওয়া কখনোই বাবা দিবসের উদ্দেশ্য নয়। বাবা দিবসে তখনই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে যখন আপনি পুরোপুরি ভাবে আপনার বাবাকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন। 

উপসংহার

কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো, আশা করি তা জানতে পেরেছেন। কেননা বাবা দিবস সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তথ্যবহুল গুরুত্বপূর্ণ এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই সকলের সাথে শেয়ার করবেন। আপনি যদি এই আর্টিকেলটি আপনার বন্ধু বান্ধবের সাথে শেয়ার করেন তাহলে তারাও জানতে পারবে কিভাবে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদযাপন করা শুরু হলো? ১৬৪১৩

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url