অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/05/notun-votar-ID.html

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম ২০২২

একজন নাগরিকের জন্য ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সনদ। একটি ভোটার আইডি কার্ড একজন নাগরিকের একটি দেশের পরিচয় পত্র। একজন মানুষ কোন দেশের নাগরিক ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে জানা যায়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেমনঃ সিম কার্ড রেজিস্ট্রেশন, বিভিন্ন চাকরির জন্য , পাসপোর্ট তৈরির জন্য , এছাড়া বর্তমানে ভ্যাকসিন দেয়ার কারণে ভোটার আইডি কার্ড প্রয়োজন। আজকের এই পোস্টে জানতে পারবেন নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম।

আপনার বয়স যদি ১৮ বছর বা তার বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনি নতুন ভোটার আইডি কার্ড এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই পোস্ট টি পড়ে আরো জানতে পারবেন অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম। আরো জানতে পারবেন অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম ২০২২।

পোস্ট সূচিপত্রঃ

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম

নতুন ভোটার আইডি কার্ড  আবেদন করার প্রক্রিয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমানে আপনার বয়স যদি ১৮ বছর বা তার বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনি নতুন ভোটার আইডি কার্ড এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশ এ ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড আবেদন করার শেষ হলে একটি নতুন পিডিএফ পাবেন। পিডিএফ টি প্রিন্ট করতে হবে। এর সাথে আরও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিলেই কয়েক দিনের পরে বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া শেষ করে আপনার নতুন ভোটার আইডি কার্ড পেয়ে যাবেন। নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিচে বিস্তারিত বলা হবে।

ভোটার আইডি কার্ড এর জন্য আবেদন করার নিম্নলিখিত যোগ্যতা থাকতে হবেঃ

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
  • আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
  • পূর্বে জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য আবেদন করেননি এমন ব্যক্তি হতে হবে

ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য যা প্রয়োজন|নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম ২০২২

জাতীয় পরিচয় পত্র বা নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য প্রথমে আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে যা পূর্বেই বলা হয়েছে। আবেদন শেষে একটি পিডিএফ পাওয়া যাবে। সেটির সাথে আরো কিছু কাগজপত্র সংযুক্ত করে উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য যে সকল কাগজপত্র লাগবে তারেক লিস্ট নিচে দেয়া হল ।

  • অনলাইনে আবেদন করা ফর্ম এর প্রিন্ট কপি।
  • এসএসসি অথবা সমমানের সার্টিফিকেট এর প্রিন্ট কপি(বয়স প্রমাণের জন্য)
  • জন্ম সনদ(বাংলা অথবা ইংরেজি)
  • বাবা-মা এর আইডি কার্ডের ফটোকপি(অবশ্যই লাগবে)
  • বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি(ঠিকানা প্রমাণের জন্য)
  • ভাড়া বাড়িতে থাকলে বাড়ি ভাড়ার রশিদ
  • হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ(ঠিকানা প্রমাণের জন্য)
  • মোবাইল নম্বর
  • ব্লাড গ্রুপ এর প্রমাণ পত্র

প্রিয় পাঠক, অনলাইন আবেদন ফরম এর সাথে উপরিউক্ত কাগজপত্র একসাথে সংযুক্ত করে উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিলেই আপনার আবেদনটি জমা হয়ে যাবে। আমরা এখন দেখব অনলাইনে কিভাবে আবেদন করবেন।

অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন

অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা হল আপনি বাড়িতে বসে আবেদন করতে পারবেন এবং ভুল হবার সম্ভাবনা খুব কম থাকবে। ওয়েব সাইটে যাওয়ার পর নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করলে, খুব সহজে অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ অনলাইনেই মিলবে জাতীয় পরিচয় পত্র

ধাপ ১|নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম

অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ডের আবেদন করার জন্য আপনার মোবাইল অথবা ল্যাপটপ থেকে প্রথমে আপনাকে নির্বাচন কমিশন এর ওয়েবসাইট services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে যেতে হবে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন services.nidw.gov.bd

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর এরকম একটি ইন্টারফেস আসবে। এখন আবেদন করার জন্য Get started বাটনে ক্লিক করতে হবে। এটি ইংলিশে করা আছে তাই Get started দেখা যাচ্ছে। বাংলায় থাকলে আবেদন করুন লেখা উঠবে।

এখন উপরের মত একটি পেজ আসবে। এখানে আপনারা পুরো নাম ইংরেজিতে দিতে হবে। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে আপনার জন্ম নিবন্ধন অনুসারে এখানে ইংরেজি নামটি দিবেন এবং জন্মতারিখ দেবেন। এখানে ভুল নাম বা ভুল জন্ম তারিখ দিলে পরবর্তী তে আর সংশোধন করার উপায় নেই।

এখন উপরের পেজটি আসবে। এখানে আপনার মোবাইল নাম্বার দিতে হবে এবং আপনার মোবাইলে 6 ডিজিটের ওটিপি আসবে।

এখন উপরের এই পেজটি আসবে এখানে আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে  Continue করলে আপনার একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে। আপনাকে অবশ্যই ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড টি মনে রাখতে হবে। পরবর্তীতে যখন কোন কিছু এডিট করার প্রয়োজন হবে তখন ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড  লাগবে লগ ইন করার জন্য।

ধাপ ২|নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম

প্রথম ধাপে আমরা আলোচনা করেছি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার নিয়ম নিয়ে। এখন আমরা দেখব কিভাবে প্রোফাইল এডিট করবো। একাউন্ট তৈরি করার পর নিচের ছবির মত একটি ইন্টারফেস আসবে।

 এখন আমরা Profile Details এ ক্লিক করব।  Profile Details ক্লিক করার পর নিচের ছবির মত ইন্টারফেস আসবে 

এখন edit বাটনে ক্লিক করলে নিচের ছবির মত একটি স্ক্রীন আসবে

এখানে আমাদের তিন ধরনের ইনফরমেশন দিতে হবে পার্সোনাল ইনফরমেশন, আইডেন্টিফিকেশন ইনফর্মেশন , অ্যাড্রেস। এ সকল ইনফরমেশন দেওয়ার জন্য এডিট বাটনে ক্লিক করব এরপর নিচের মতো ইন্টারফেস আসবে।

এখানে আপনার নাম বাংলায়, আপনার জন্ম তারিখ , ব্লাড গ্রুপ , বাবা মার ইনফর্মেশন, সহ যাবতীয় যত ইনফরমেশন আছে সবকিছু পূরণ করতে হবে। একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে কিছু কিছু ঘরে লাল স্টার দেয়া রয়েছে সে গুলো অবশ্যই পুরন করতে হবে। 

এখানে আপনার সকল ইনফরমেশন দিয়ে এরপর Identification Information এ চলে যাবেন যেমনটি নিজের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন।

এখানে আপনার পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা , ড্রাইভিং লাইসেন্স নাম্বার , পাসপোর্ট নাম্বার, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে পূরণ করে নিবেন।

এরপর Address ট্যাব এ যাবেন। যেমনটি নিচের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন।


এখানে আপনার স্থায়ী ঠিকানা অস্থায়ী ঠিকানা ইত্যাদি উল্লেখ করবেন। আরেকটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ আপনি আপনার স্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হবেন নাকি অস্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হবেন এটি আপনাকে টিক দিয়ে দিতে হবে যেমনটি উপরে দেখতে পাচ্ছেন।

উপরের সকল ইনফরমেশন দেয়া হয়ে গেলে Next বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।

এখন উপরের মত একটি ইন্টারফেস আসবে। এখানে ডকুমেন্টস আপলোডের কথা বলা হয়েছে কিন্তু অনলাইনে আপনার কোন ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে না । এখন Next বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।

এখন উপরের মত একটি ইন্টারফেস আসবে। এখানে সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড এর আবেদন জমা হয়ে যাবে।

এখানে, ধাপ 2 এ আমরা দেখেছি অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে প্রোফাইল এডিট করবো।

ধাপ ৩|নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম এ এই ধাপে আমরা আলোচনা করব, আপনি অনলাইনে আবেদন করার পরে একটি পিডিএফ পাবেন। সেটি মূলত একটি আবেদন ফরম। এটি নিয়ে এখন আলোচনা করব ।

আপনি যে আবেদন ফরম টি পেলেন সেখানে কিছু অংশ খালি থাকবে সেখানে একজন সনাক্তকারী আইডি কার্ড নম্বর দিতে হবে এটি হতে পারে আপনার পিতা মাতা বার নিকট আত্মীয়।

আরো পড়ুনঃ অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নিয়ম।

এরপর, আবেদন ফরমের সাথে কিছু ডকুমেন্ট যুক্ত করতে হবে যা পূর্বে আলোচনা করেছি। আপনাদের সুবিধার্থে এখানে আবার দিয়ে দিচ্ছি।

  •  অনলাইনে আবেদন করা ফর্ম এর প্রিন্ট কপি।
  • এসএসসি অথবা সমমানের সার্টিফিকেট এর প্রিন্ট কপি(বয়স প্রমাণের জন্য)
  • জন্ম সনদ(বাংলা অথবা ইংরেজি)
  • বাবা-মা এর আইডি কার্ডের ফটোকপি(অবশ্যই লাগবে)
  • বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি(ঠিকানা প্রমাণের জন্য)
  • ভাড়া বাড়িতে থাকলে বাড়ি ভাড়ার রশিদ
  • হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ(ঠিকানা প্রমাণের জন্য)
  • মোবাইল নম্বর
  • ব্লাড গ্রুপ এর প্রমাণ পত্র

    আবেদন ফর্ম এবং উপরিউক্ত কাগজপত্র সঠিকভাবে একসাথে করে, আপনার নিকটস্থ উপজেলা নির্বাচন অফিস এ জমা দিতে হবে। নির্বাচন অফিস উক্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সব ইনফরমেশন ঠিক থাকলে পরবর্তীতে আপনার সাথে তারা যোগাযোগ করবে।

    ধাপ ৪ বায়োমেট্রিক প্রদান

    আপনার আবেদনটি যাচাই বাছাই শেষ হলে নির্বাচন অফিস আপনার বায়োমেট্রিক ইনফর্মেশন নেয়ার জন্য নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে বলবে। এর দশ পনেরো দিন পর আপনার আবেদনটি যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুমোদিত হলেই আপনার মোবাইলে এসএমএস পাবেন, এবং অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্রের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

    আরো পড়ুনঃ স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করুন। অনলাইনে স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করুন

    মন্তব্যঃ

    প্রিয় পাঠক, আজকে আমরা আলোচনা করলাম নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম ২০২২। আরো আলোচনা করেছি, অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম নিয়ে এবং অনলাইনে কিভাবে আবেদন করবেন সেই বিষয় নিয়ে।

    আশা করি উপরের ধাপগুলো মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনি খুব সহজেই নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম আয়ত্ত করতে পারবেন এছাড়াও এখানে বুঝতে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ভিডিওতে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে । 

    এছাড়াও কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন।

    পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে নিচের বাটন গুলোতে ক্লিক করে।

    পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

    0 Comments

    দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

    অর্ডিনারি আইটি কী?