অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/03/saban.html

শাবান মাসের ফজিলত - শাবান মাসের দোয়া - শাবান মাসের রোজা

আসুন আমরা এই নিবন্ধন থেকে শাবান মাসের ফজিলত এবং শাবান মাসের দোয়া জেনে নেই। শাবান মাসের গুরুত্ব এবং ফজিলত যেমন অনেক ঠিক তেমন শাবান মাসের রোজা রাখলে অনেক সোয়াব।

 ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাবান হচ্ছে অষ্টম মাস, যা রমজানুল মোবারক ও রজব মাসের মাঝে এসে থাকে।   শাবান মাসের ফজিলত অনেক ।শাবান আরবি শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে বেরিয়ে যাওয়া, ছড়িয়ে পড়া ইত্যাদি। এ মাসকে শাবান শব্দ দ্বারা নামকরণ প্রসঙ্গে হাফেজ ইবনে হাজার (রাহ.) বলেন, ‘আরবের লোকেরা এ মাসে পানি সংগ্রহের জন্য বসতি ছেড়ে বেরিয়ে যেতো, তাই এ মাসকে শাবান শব্দ দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে, যার মাঝে বেরিয়ে যাওয়ার অর্থ রয়েছে। অথবা এ শব্দ দ্বারা নামকরণের এই কারণ হতে পারে যে, রজব মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ হওয়ার দরুন সবাই নিজের এলাকায় অবস্থান করতো। আমরা এখন শাবান মাসের ফজিলত সম্পর্কে জানব।
পেজ সূচিপত্রঃ

 শাবান মাসের ফজিলতঃ

বিভিন্ন হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় হজরত মুহাম্মদ (সা.) পবিত্র রজব ও শাবানে রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। রমজানে অধিক ইবাদতের জন্য সময়-সুযোগ বের করতেন। মানসিকভাবে তৈরি হতেন। আর এ কারণেই তিনি পবিত্র শাবানের দিন, তারিখ গুরুত্বসহকারে হিসাব রাখতেন। তাহলে বুজতেই পারছেন যে শাবান মাসের ফজিলত অপরিসীম।হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূল (সা.) পবিত্র শাবানের (দিন, তারিখ হিসাবের) প্রতি এত অধিক লক্ষ্য রাখতেন যা অন্য কোনো মাসের ক্ষেত্রে রাখতেন না (সুনানে আবু দাউদ ১/৩১৮)। অনেক হাদিসেই বর্ণিত হয়েছে-হজরত মুহাম্মদ (সা.) পবিত্র শাবানের চাঁদের দিন, তারিখের হিসাব রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। সুতরাং পবিত্র শাবান মাসের দিন-তারিখের হিসাব রাখাটাই সুন্নত এবং মুমিনদের করণীয়। পবিত্র শাবান মাসে অধিকহারে নফল রোজা রাখা উত্তম। এ প্রসঙ্গে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত উন্মে সালামা (রা,) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি হজরত নবী করিম (সা.) শাবান ও রমজান ব্যতীত দুই মাস একাধারে রোজা রাখতে দেখিনি। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.)কে শাবান মাসের মত এত অধিক (নফল) রোজা রাখতে আর দেখিনি। এ মাসের অল্প কিছুদিন ব্যতীত বরং বলতে গেলে সারা মাসটাই তিনি নফল রোজা রাখতেন (জামি তিরমিযী ১/১৫৫)।
পবিত্র শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, অর্থাৎ পনের শাবান রাত হচ্ছে পবিত্র শবেবরাত, ভাগ্য রজনী, এ রাতের অশেষ ফজিলত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। বছরের শ্রেষ্ঠ পাঁচটি রজনীর অন্যতম এ রাত। এ রাতের করণীয় সম্পর্কে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন-পনের শাবান রাতে (শবেবরাত) তোমরা জেগে থেকে ইবাদত কর এবং পরদিন রোজা রাখ।
শাবান মাসের ফজিলত বলে শেষ করা যাবে না। শাবান মাসের দোয়া আমাদের সকলের জানা উচিত। শাবান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে জানা থাকলে আমাদের সকলের এবাদত বন্দেগী করার মানসিকতা বৃদ্ধি পাবে।

শাবান মাসের দোয়াঃ

শাবান মাসের দোয়া আমাদের জন্য অধিকতর তাৎপর্য পর্ব। রাসূল (সা.) রজবের চাঁদ উঠলে দোয়া করতেন
 'আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শাবান ওয়া বালি্লগনা রামাদান' অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।' আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন ' এ কথার অর্থ হচ্ছে- রমজান পর্যন্ত আমাদের জীবন দান করুন। যেন আমরা রমজান মাস পেয়ে অধিক হারে ইবাদত বন্দেগি, রোজা, তারাবি, লাইলাতুল কদরের ইবাদত, ইতিকাফ ইত্যাদির মাধ্যমে মহান পবিত্র রমজান মাসের ফজিলত লাভে ধন্য হই। এ জন্য পবিত্র রজব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর রমজানের চাঁদ দেখা পর্যন্ত উপরে উল্লেখিত দোয়াটি পাঠ করা সুন্নত বা মুস্তাহাব। যেহেতু পবিত্র রমজান মাস বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ মাস, সেহেতু পূর্ব থেকেই এ মাসের ইবাদত-বন্দেগির জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটাই একজন মুমিনের কর্তব্য। হজরত রাসূল (সা.)-এর উপরোক্ত দোয়া-ই প্রমাণ করে তিনি পবিত্র রজব মাস শুরু থেকেই রমজানের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকতেন। তাহলে বুঝা যাচ্ছে শাবান মাসের দোয়া যেটাকে বলছি সেটা মূলত রজব মাস থেকে শুরু হয়।
শাবান মাসের ফজিলত অনেক বলে আমরা সব সময় দোয়া দরুদ ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে থাকার চেষ্টা করব। শাবান মাসের দোয়া বেশি বেশি পাঠ করবো.

শাবান মাসের রোজাঃ

রাসুল(সাঃ) এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। শাবান মাসের রোজা মুসলিম ধর্ম প্রাণ সকল মানুষের জন্য সুন্নত। শাবান মাসের ফজিলত যেমন অপরিসীম ঠিক তেমন শাবান মাসের দোয়া,আমল মুমিন মুসলমানের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ হাদিস থেকে প্রতিয়মান হয় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ও সুন্নাহ হলো এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা।

শাবান মাসের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসঃ

 শাবান মাসের ফজিলত এবং শাবান মাসের গুরুত্ব নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর হাদিস রয়েছে। আসুন আমরা শাবান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আরো জানিঃ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের প্রতিটি আমলের সওয়াব দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়। পুণ্যকর্মের সওয়াব দশগুণ থেকে সাতশ’ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, তবে রোজা ব্যতীত। কারণ রোজা আমার আর আমিই এর প্রতিদান দিই। [সহিহ বোখারি ও মুসলিম]
নফল ইবাদতের মধ্যে রোজা অন্যতম। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জনের জন্য, ফরজ-ওয়াজিব নয়- এমন রোজা পালনকেই নফল রোজা বলা হয়। নফল রোজার অনেক বড় ফজিলত ও সওয়াব রয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ! কি অভাবনীয় সুযোগ। মহিমান্বিত শাবান মাস চলছে। মাহে রমজানের আগমনি বার্তা নিয়ে আসে শাবান মাস। তাহলে আমরা বুজতেই পারছি শাবান মাসের ফজিলত অনেক যার গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা চেষ্টা করব শাবান মাসের রোজা রাখার।

শাবান মাসের ফজিলত কেন ঐতিহাসিকঃ

ইসলামি ইতিহাসেও শাবান মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। মুসলমানদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনা এ মাসে ঘটেছিল। 
১.কেবলা পরিবর্তন। মদীনায় হিজরতের পর মুসলমানরা কিছু দিনের জন্য বাইতুল মাকদিসের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করে। আল্লাহ তায়ালা পুনরায় কাবা শরীফকে মুসলমানদের জন্য কেবলা নির্ধারণ করেন এ মাসে। 
২. ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান জিহাদের হুকুম এ মাসে নাজিল হয়। দীর্ঘ সময় মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর জিহাদের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ আসে এ মাসে ।
শাবান মাসের ফজিলত কেন ঐতিহাসিক তা আমরা জানলাম । 

শাবান মাসের ফজিলত ও রোজা সম্পর্কে আরও জানুনঃ

কোনো ব্যক্তি যদি অসুবিধা কিংবা প্রয়োজনবশত শাবান মাসের রোজা রাখতে না পারে, তাহলে সে রমজান মাসের পর রোজা রাখবে। তবে শাবান মাসের রোজা পরবর্তী সময়ে পালন করা ফরজ কিংবা ওয়াজিব নয়। সাহাবি ইমরান ইবনে হোসাইন থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ মাসের মধ্যভাগে কিছুদিন রোজা রেখেছিলে? সে বলল, না। রাসুল (সা.) বললেন, তুমি তার পরে রমজানের রোজা শেষ করে দুদিন রোজা রাখবে।’ [সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৪২]

আমরা এ নিবন্ধন থেকে শাবান মাসের ফজিলত, শাবান মাসের দোয়া শাবান মাসের রোজা সম্পর্কে জানলাম। আমরা চেষ্টা করব শাবান মাসের প্রত্যেকটি আমল ভালোভাবে পালন করার। আপনারা কিভাবে শাবান মাস অতিবাহিত করবেন আমাদের সেটা কমেন্ট বক্সে জানান।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?