Ordinary IT https://www.ordinaryit.com/2019/09/Facebook-account-safe.html

ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার ১০ উপায়


বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেকেরই ফেসবুক এ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাবার ঘটনা শোনা যাচ্ছে। ফলে আমাদেরকে অনেক রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার এ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার জন্য কোন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার না হলেও চলবে। একটু সর্তকতা ও কিছু নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেই আপনার এ্যাকাউন্ট আপনি নিজেই নিরাপদে রাখতে পারবেন। কিছু উপায় বা পদ্ধতি নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো। নিম্নোক্ত উপায় বা পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার এ্যাকাউন্ট নিরাপদে থাকতে পারগ

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড

আপনার এ্যাকাউন্টকে নিরাপদে রাখতে সবার আগে যেটি দরকার তা হল একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড,যাতে করে কেউ যেন আপনার আইডিতে ঢুকে সহজেই কোন তথ্য আপনার আইডি থেকে খুঁজে বের করতে কিংবা চুরি করতে না পারে। আমরা অনেক সময় নিজের সুবিধার্তে সহজ পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকি, কিন্তু না এটা আপনারা কখনই করবেন না। আর মনে রাখবেন আপনার পাসওয়ার্ডটি যেন ক্যারেক্টার,সংখ্যা এবং এলফাবেট দিয়ে জটিল একটি পাসওয়ার্ড হয়ে থাকে যেন হ্যাকাররা আপনার আইডিটি সহজেই হ্যাক করতে না পারে। এজন্য বলছিলাম  যে আপনার পাসওয়ার্ডটি যেন কমপ্লেক্স বা জটিল হয়। এর ফলে আপনার আইডিটি অনেক বেশি সিকিউর বা নিরাপদ হবে।

নামসহ সকল তথ্য সঠিক দিতে হবে

আপনার এ্যাকাউন্ট সিকিউর রাখার দ্বিতীয় উপায় হল আপনার আইডির সকল তথ্য সঠিক হতে হবে। কারণ কখনো কোন কারণে যদি আপনার আইডি হ্যাক হয় তাহলে যেন আপনি আপনার আইডির জন্য ফেসবুকের কাছে রিপোর্ট করে আপনার ইনফরমেশনগুলো ভ্যালিডেড করার জন্য আপনাকে যে পেপারসগুলো যেমনঃ আইডি নাম,পাসওয়ার্ড দেওয়া হয় এগুলো ভ্যারিফাই করে যেন আপনি আপনার এ্যাকাউন্টটি ফেরত আনতে পারেন সেজন্য আপনাকে অবশ্যই সঠিক নাম বা তথ্য ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোন নাম যেমনঃ মেঘহীনা আকাশ, রংধনু এসব ব্যবহার করলে আপনার এ্যাকাউন্টটিকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পরবে।

টু স্টেপ ভ্যারিফিকেশন

টু স্টেপ ভ্যারিফিকেশন হচ্ছে আপনি যখন আপনার ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া এ্যাকাউন্টে লগইন করতে যাবেন তখন আপনার ঐ ফেসবুক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া এ্যাকাউন্ট থেকে আপনার ফোনে একটা এসএমএস পাঠানো হবে উক্ত এসএমএসে একটা কোড পাঠানো হবে। যার কোড হবে ওটিপি (OTP) অর্থাৎ ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (one time password)। এই পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনারা লগইন করবেন। আমার মনে হয় টু স্টেপ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে আপনার আইডিটি অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে।

অ্যাপ বা ওয়েবসাইট পারমিশন

ফেসবুক কিংবা অন্যান্য সাইট দিয়ে আমরা যখন লগইন করতে যাই তখন ফেসবুকে লগইন করতে অ্যাপ ব্যবহার করতে হয়। আর এজন্য আমরা যে অ্যাপটি ব্যবহার করব তার পারমিশন আছে কিনা তা চেক করে নিতে হয়। অর্থাৎ আপনারা লক্ষ্য করে দেখতে পারেন যে অ্যাপগুলো  ট্রাস্টেড কিনা যদি ট্রাস্টেড বা প্রয়োজনীয় হয় তাহলে শুধুমাত্র সেই অ্যাপগুলোকেই অ্যাপ্লাই করুন আর অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো রিমুভ করে দিন।

হাইড লগইন ইনফরমেশন (Hide Log in Information)

কোন সেনসিটিভ ইনফরমেশন আপনারা ফেসবুক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যবহার করবেন না। সেনসিটিভ ইনফরমেশন বলতে এখানে বুঝিয়েছি আপনার ফোন নাম্বার, ইমেইল অ্যাড্রেস যেগুলো দিয়ে আপনার ফেসবুক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া এ্যাকাউন্ট খোলা আছে সেগুলো অনলিমি বা প্রাইভেছি দিয়ে হাইড করে রাখবেন যেন হ্যাকাররা আপনার এ্যাকাউন্ট সহজেই হ্যাক করতে না পারে।

 অচেনা লিঙ্কে (Link) ক্লিক না করা

আপনারা কখনই কোন অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। এমনও হতে পারে যে আপনি অচেনা কোন লিঙ্কে ক্লিক করলেন আর হ্যাকাররা সেই লিঙ্ক থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করে আপনার আইডিটি হ্যাক করল। এজন্য আমার মতামত অনুযায়ী আপনি অপরিচিত কোন লিঙ্কে ক্লিক না করলে আপনার আইডিকে অনেক বেশী সিকিউর রাখতে পারবেন।

 রিমুভ প্রিভিয়াস লগইন

পূর্বে যেসকল ডিভাইসে লগইন করেছেন সেগুলো থেকে লগ আউট করতে হবে। এটা করার জন্য ফেসবুক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াতে অপশন আছে আপনারা সেটিংসে গিয়ে প্রিভিয়াসলি লগইন করা ডিভাইসগুলোকে লগ আউট করে দিন সেই সাথে সেশনগুলোকে কিল করবেন যেন অন্যকেউ আপনার ডিভাইসে গিয়ে লগইন করতে না পারে।

অন্যকারো ডিভাইস থেকে ফেসবুক লগইন না করা

অন্যকারো ডিভাইস হতে পারে আপনার ফ্রেন্ডের পিসি কিংবা ফোন  থেকে ফেসবুক লগইন করবেন না যদি না আপনার ফ্রেন্ড বিশ্বস্ত না হয়। তা না হলে এমন হতে পারে যে স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে আপনার ফ্রেন্ড আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক করতে পারে।

ফেসবুকে দাদাগিরি না করা

আমরা অনেকেই মনে করি যে সোশ্যাল মিডিয়াতে মারামারি,গালিগালাজ করলে হয়তো কেউ আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কিন্তু না আপনার ভাবনা সম্পুর্ণ ভুল, কারন আপনি তো সোশ্যাল মিডিয়ার প্রত্যেককে চিনেন না তাইনা? অনেক সময় এমন হতে পারে আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে কাউকে গালি দিলেন আর তিনি আপনার কোন একটি লিঙ্ক যেকোন মাধ্যমে কপি করে আপনার আইডির ক্ষতি করল তখন ব্যাপারটি অন্য রকম দেখাবে। তাই আপনার বা আমার প্রত্যেকের উচিত ফেসবুক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াতে কাউকে গালি না দেওয়া।

প্রো (Professional) হ্যাকার ভাড়া করা

প্রো মানে প্রফেশনাল। কোন ব্যক্তি যদি একজন প্রফেশনাল হ্যাকারকে ভাড়া নিয়ে তার এ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে বলে আর হ্যাকার যদি উক্ত ব্যক্তির আইডি হ্যাক করে বলে দেয় যে তার এ্যাকাউন্ট কতটা সিকিউর বা নিরাপদ তাহলে উক্ত ব্যক্তি নিশ্চিন্ত থাকবে এজন্য যে তার আইডিতে কোন সমস্যা নেই। তাই মাঝে মধ্যে আপনারাও প্রফেশনাল হ্যাকার ভাড়া করে দেখতে পারেন যে আপনাদের এ্যাকাউন্ট কতটা নিরাপদ।
আমার মনে হয় উক্ত আর্টিকেলটির বর্ণনা দিয়ে আমি আপনাদেরকে ফেসবুক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার এ্যাকাউন্ট নিরাপদে রাখার জন্য ভালো কয়েকটি পদ্ধতি বা উপায় শেয়ার করতে পেরেছি। উক্ত আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করতে ভুলবেন না।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

সর্বশেষ আপডেটেড অফার পেতে চান?

অর্ডিনারি আইটি কী?