OrdinaryITPostAd

বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন

বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়াটা ঠিকভাবে জানলে ঘরে বসেই ফর্ম পূরণ, তথ্য যাচাই আর আবেদন সাবমিট করা অনেক সহজ হয়ে যায়। চলুন জেনে নেই কিভাবে।
বিধবা-ভাতা-বা-বয়স্ক-ভাতার-জন্য-অনলাইনে-আবেদন
আজকের এই পোস্টে কী কী কাগজ লাগবে, কোথায় কী দিতে হবে সব ধাপ সহজভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছি, যেন প্রথমবারেই ঝামেলা ছাড়া আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন। শুধু মোবাইল বা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট লাগবে।

পেজ সুচিপত্রঃ বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন

বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে

যদি আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ এই সরকারি সাহায্যটা নিতে চান, তাহলে এখন আর পুরনো দিনের মতো অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরার দরকার নেই। বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করাটা আজকাল খুবই সহজ হয়ে গেছে, শুধু একটা স্মার্টফোন বা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট থাকলেই চলে। প্রথমে আপনার ব্রাউজার খুলে https://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication এই লিংকে চলে যান। সেখানে 'নতুন আবেদন' অপশনটা চাপুন, তারপর 'কার্যক্রম' থেকে হয় বয়স্ক ভাতা নয় বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা সিলেক্ট করুন।

NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে যাচাই করুন এটা মিলে গেলে আপনার নাম, ঠিকানা, পরিবারের তথ্য, বার্ষিক আয় আর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (নগদ বা বিকাশ) সব ধাপে ধাপে ভরতে হবে। মনে রাখবেন, সব তথ্য একদম সঠিক দিন, কারণ একটু ভুল হলেই আবেদন আটকে যেতে পারে। পুরো ফর্মটা পূরণ করতে ১৫থেকে ২০ মিনিটের বেশি লাগবে না, তবে ধৈর্য ধরে একবার চেক করে নিন যাতে কোনো ভুল না থাকে।
বিধবা-ভাতা-বা-বয়স্ক-ভাতার-জন্য-অনলাইনে-আবেদন
ফর্ম পূরণের পর সাবমিট বাটনে চাপ দিলেই আপনার আবেদনটা সিস্টেমে চলে যাবে আর একটা ট্র্যাকিং আইডি পেয়ে যাবেন। সাথে সাথে ফর্মটা প্রিন্ট করে নিন এটাই আপনার প্রধান দলিল। এবার প্রিন্ট কপিটা নিয়ে আপনার এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার বা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে যান, তাদের সই আর সুপারিশ নিয়ে নিন। তারপর সব কাগজপত্র যেমন NID কপি, বিধবাদের ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যু সনদ বা স্বামী পরিত্যক্তার প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি সাথে নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জমা দিন। 

অফিসাররা যাচাই-বাছাই করে দেখবেন, সব ঠিক থাকলে আপনার নাম লিস্টে উঠবে। এই অংশটা একটু সময় নিতে পারে, কিন্তু আপনি চাইলে অনলাইন ট্র্যাকিং করে প্রতিদিন চেক করতে পারেন। অনেকে ভুল করে দ্বিতীয়বার আবেদন করেন, সেটা একদম করবেন না, কারণ একটা আবেদনই যথেষ্ট। আবেদন মঞ্জুর হলে টাকা সরাসরি আপনার নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে আসবে, মাসের নির্দিষ্ট তারিখে এসএমএসও পাবেন। 

যদি কোনো সমস্যা হয় যেমন সাইটে ঢুকতে না পারা বা NID যাচাইয়ে আটকে যাওয়া তাহলে সরাসরি উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন, তারা সাহায্য করবেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটা ঘরে বসে করতে পারলে অনেক ঝামেলা বাঁচে, বিশেষ করে গ্রামের বয়স্ক মানুষ বা বিধবাদের জন্য। তাই সময় নষ্ট না করে এখনই শুরু করে দিন, কারণ আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে পরের বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আপনার আবেদন সফল হোক, এটাই কামনা করি।

কারা এই দুটো ভাতার জন্য যোগ্য, আর কারা নয়?

সরকারের এই দুটো ভাতা আসলে সেইসব মানুষের জন্য যারা সত্যিকার অর্থে অসহায় আর আর্থিকভাবে দুর্বল, যাদের নিজের কোনো নিয়মিত আয় নেই বা খুবই কম। বয়স্ক ভাতার ক্ষেত্রে পুরুষদের বয়স কমপক্ষে ৬৫ বছর পূর্ণ হতে হবে আর মহিলাদের ৬২ বছর, সাথে সাথে তাদের বার্ষিক গড় আয় ১০ হাজার টাকার নিচে থাকতে হবে। এর মানে হলো যারা গ্রামে ছোটখাটো জমিতে চাষ করে খান বা একেবারে ভূমিহীন, শারীরিকভাবে অক্ষম, যাদের কোনো পেনশন বা অন্য সরকারি সুবিধা নেই, তারাই মূলত এই ভাতার জন্য যোগ্য। 

আর বিধবা ভাতায় যোগ্য হবেন সেই মহিলারা যাদের স্বামী মারা গেছেন বা অন্তত দু’বছর ধরে স্বামী পরিত্যাগ করে চলে গেছেন বা নির্যাতন করে ছেড়ে দিয়েছেন, বয়স ১৮ বছরের উপরে, আয় একইভাবে খুবই কম আর কোনো অন্য ভাতা পান না। এখানে অগ্রাধিকার পান যারা একা, অসুস্থ, ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে লড়াই করছেন বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন মূলত যারা সত্যি সত্যি দুস্থ আর সমাজের শেষ সারিতে পড়ে আছেন, তাদের জন্যই এই সুবিধাটা রাখা হয়েছে যাতে বয়সের ভারে বা স্বামীহারা হয়ে একেবারে রাস্তায় না পড়তে হয়। 
অন্যদিকে যারা এই ভাতার জন্য যোগ্য নন, তারা মূলত যাদের আয় একটু ভালো, শহরে ব্যবসা ও বাণিজ্য করেন, চাকরি-বাকরি করেন বা অন্য কোনো সরকারি পেনশন ও ভাতা পান তারা সরাসরি বাদ পড়বেন, কারণ সরকার চায় সীমিত টাকাটা সত্যিকারের প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছাক। যেমন ধরুন কোনো বয়স্ক লোকের যদি ছেলে ও মেয়েরা ভালো চাকরি করে আর তাকে সাপোর্ট দেয়, বা তার বাড়ি জমি ব্যাংক ব্যালেন্স থাকে যা থেকে মাসিক আয় হয়, তাহলে তার আবেদন প্রায় নিশ্চিতভাবে বাতিল হয়ে যাবে। 

একইভাবে বিধবা ভাতায় যদি কোনো মহিলা নিয়মিত অন্য কোনো ভাতা পান বা স্বামী ছেড়ে যাওয়ার প্রমাণ না থাকে, অথবা তার আয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার উপরে হয়, তাহলে তিনি যোগ্য হবেন না। অনেকে ভাবেন যে একটু সামান্য আয় হলেও চলবে, কিন্তু আসলে সিলেকশন কমিটি খুব কড়াভাবে যাচাই করে ভুল তথ্য দিলে পরে ঝামেলায় পড়তে পারেন, তাই সত্যি কথা বলাই ভালো। যদি আপনার অবস্থা সীমান্তে থাকে বা সন্দেহ হয়, তাহলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে একবার জেনে নিন, কারণ এই ভাতাটা যাদের সত্যিকার দরকার তাদের জন্যই রাখা, যাতে সঠিক মানুষটা সাহায্যটা পায়।

অনলাইন আবেদনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?

অনলাইনে ভাতার আবেদন করতে গেলে অনেকেরই মাথায় প্রথম প্রশ্ন আসে যে আসলে কী কী কাগজ লাগবে। আগে থেকে সব ঠিক করে না রাখলে মাঝপথে বেশ বিরক্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করার সময় সবচেয়ে আগে দরকার হয় জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) স্পষ্ট ছবি বা অরিজিনাল কপি। সাথে পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি দু থেকে তিন কপি প্রস্তুত রাখুন।
বিধবা-ভাতা-বা-বয়স্ক-ভাতার-জন্য-অনলাইনে-আবেদন
বিধবা ভাতার জন্য অতিরিক্তভাবে স্বামীর মৃত্যু সনদ অথবা স্বামী পরিত্যক্তা বা নিগৃহীতা মহিলা হিসেবে প্রত্যয়নপত্র লাগবে। বয়স্ক ভাতার ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ যদি থাকে তাহলে সেটাও সাথে রাখা ভালো। আর একটা খুব জরুরি জিনিস হলো সচল মোবাইল নম্বর যেটা আপনার নগদ, বিকাশ বা রকেট অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত আছে। 

ফর্ম সাবমিট করার পর প্রিন্ট কপি নিয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড মেম্বারের সই ও সুপারিশ নেওয়ার জন্যও কাগজপত্র লাগবে। তাই সবকিছু নতুন ও সঠিক অবস্থায় গুছিয়ে রাখলে পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়। একটু যত্ন নিলে পরে আর কোনো সমস্যা হবে না।

ধাপে ধাপে অনলাইনে আবেদন করবেন কেমন করে?

আজকাল আর অফিসে গিয়ে লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করার দরকার নেই, ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে খুব সহজে সরকারি ভাতার আবেদন করা যায়। প্রথমে আপনার ব্রাউজার খুলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চলে যান https://dss.bhata.gov.bd/online-application বা https://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication এই লিংকে। সেখানে স্পষ্ট করে 'নতুন আবেদন' বাটনে ক্লিক করুন, তারপর ‘ভাতা কার্যক্রম’ অপশন থেকে হয় বয়স্ক ভাতা নয়তো বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা সিলেক্ট করুন।

এরপর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে ‘যাচাই করুন’ বাটনে চাপ দিন সিস্টেম আপনার তথ্য মিলিয়ে নেবে। যদি সব মিলে যায়, তাহলে পরের ধাপে নাম, ঠিকানা, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বার্ষিক আয়ের হিসাব, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মোবাইল নম্বর আর নগদ-বিকাশের অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ সবকিছু খুব যত্ন করে পূরণ করুন। প্রত্যেকটা ফিল্ডে যা লিখছেন সেটা NID বা বাস্তবের সাথে একদম মিলিয়ে নিন, কারণ একটু ভুল হলেই আবেদন আটকে যেতে পারে। 

পুরো ফর্মটা পূরণ করতে সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ মিনিট লাগে, তাই তাড়াহুড়ো না করে দু’বার চেক করে নিন। ফর্ম পূরণ শেষ হলে ‘সাবমিট’ বাটনে চাপ দিলেই আপনার আবেদন সিস্টেমে চলে যাবে আর সাথে সাথে একটা ট্র্যাকিং আইডি দেখাবে যেটা নোট করে রাখুন। এবার ফর্মের পুরোটা প্রিন্ট করে নিন এটাই আপনার প্রধান দলিল। প্রিন্ট কপিটা নিয়ে এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার বা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে যান, তাদের সই আর সুপারিশ নিয়ে নিন। তারপর সব কাগজপত্র সাথে নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জমা দিতে হবে। 

অনেকে ভুল করে একই সাথে দু’বার আবেদন করে ফেলেন, সেটা একদম করবেন না। যদি সাইটে ঢুকতে সমস্যা হয় বা NID যাচাইয়ে আটকে যায়, তাহলে কাছের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে কম্পিউটার অপারেটরের সাহায্য নিন। পুরো প্রক্রিয়াটা ধৈর্য ধরে করলে খুব সহজেই আবেদন সম্পন্ন হয়ে যাবে, আর পরে অনলাইনেই ট্র্যাকিং করে দেখতে পারবেন আপনার আবেদন কোন অবস্থায় আছে। সময় নষ্ট না করে এখনই শুরু করে দিন, কারণ আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে পরের বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ফর্ম পূরণের সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

অনেক সময় ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে মানুষ ছোটখাটো ভুল করে ফেলে যেগুলো পরে অনেক বড় সমস্যা তৈরি করে। এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললে আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করার ফর্মে সবচেয়ে সাধারণ ভুলটা হয় জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা জন্মতারিখ ভুলভাবে লেখায়, যা সিস্টেমে যাচাইয়ের সময় আটকে দেয়। এ ছাড়া নামের বানানে একটা অক্ষরও যদি এদিক-ওদিক হয় তাহলে পরে আবেদন বাতিল হয়ে যায়, তাই NID কার্ডটা সামনে রেখে একদম হুবহু টাইপ করুন।
বিধবা-ভাতা-বা-বয়স্ক-ভাতার-জন্য-অনলাইনে-আবেদন
দ্বিতীয় বড় ভুলটা হয় আয়ের তথ্য নিয়ে। অনেকে ভাবেন যে আয় একটু কম লিখলে ভাতা পাওয়া সহজ হবে, কিন্তু সত্যি না বললে পরে যাচাইয়ে ধরা পড়লে পুরো আবেদনই বাতিল হয়ে যায়। বার্ষিক আয়ের হিসাবটা বাস্তবের সাথে মিলিয়ে লিখুন চাষাবাদ, ছোট ব্যবসা বা অন্য কোনো আয় থাকলে সেটা লুকাবেন না। একইভাবে পরিবারের সদস্য সংখ্যা আর ঠিকানা ভুল লেখাও খুব কমন ভুল। উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রামের নাম পুরোপুরি সঠিক না হলে পরে অফিস থেকে ফিরিয়ে দেয়। তাই ফর্ম পূরণের আগে সব তথ্য একটা কাগজে লিখে নিয়ে তারপর টাইপ করলে ভুল কম হয়। 
তৃতীয় যে ভুলটা প্রায়ই দেখা যায় সেটা হলো মোবাইল নম্বর আর ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্যে। নগদ বা বিকাশের নম্বর যদি ভুল দেন তাহলে ভাতার টাকা আসবে না। আর ছবি আপলোড করার সময় সাইজ বা ফরম্যাট ভুল হলে ফর্ম সাবমিটই হয় না। সবচেয়ে ভালো হয় ফর্ম পূরণ শেষ করে সাবমিটের আগে পুরোটা দু থেকে তিনবার পড়ে দেখা। যদি একটুও সন্দেহ হয় তাহলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে কাউকে দিয়ে করিয়ে নিন। এভাবে সাবধানে করলে আবেদন একবারেই ঠিকঠাক হয়ে যাবে আর পরে আরেকবার নতুন করে শুরু করার ঝামেলা থাকবে না।

অনলাইন সাবমিটের পর কী করতে হবে?

ফর্ম সাবমিট করার সাথে সাথে স্ক্রিনে একটা ট্র্যাকিং আইডি বা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর দেখাবে, সেটা অবশ্যই কোথাও লিখে বা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন কারণ পরে এটি দিয়েই আপনার আবেদনের অবস্থা চেক করতে পারবেন। এরপর পুরো ফর্মটা প্রিন্ট করে নিন এটাই আপনার হাতে থাকা মূল দলিল। প্রিন্ট কপিটা নিয়ে সরাসরি আপনার এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার বা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে যান, তাদের সাথে কথা বলে ফর্মে সই আর সুপারিশ নিয়ে নিন, কারণ এই সুপারিশ ছাড়া আবেদনটা অফিসে জমা দিলে তারা গ্রহণই করবে না। 

সই নেওয়া হয়ে গেলে সব কাগজপত্র যেমন NID কপি, ছবি, বিধবাদের ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যু সনদ বা প্রত্যয়নপত্র সাথে নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে চলে যান এবং জমা দিয়ে আসুন। অফিসাররা আপনার তথ্য যাচাই ও বাছাই করবেন, প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে দেখবেন, তারপর লিস্টে নাম উঠলে আপনাকে এসএমএস করে জানিয়ে দেবে। 

এই পুরো প্রক্রিয়াটা একটু সময় নিতে পারে, তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন আর মাঝে মাঝে অনলাইনে ট্র্যাকিং করে দেখুন কোন অবস্থায় আছে। যদি কোনো সমস্যা হয় বা কাগজপত্রে কিছু আটকে যায় তাহলে সরাসরি উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন, তারা সাহায্য করবেন। একবার জমা দিলে আর চিন্তা করবেন না, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ভাতা মঞ্জুর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ভাতা মঞ্জুর হলে টাকা কীভাবে পাবেন?

আবেদন একবার মঞ্জুর হয়ে গেলে আর কোনো ঝামেলা থাকে না, টাকা এখন খুব সহজে পাওয়া যায়।
সরকার সবকিছু আধুনিক করে ফেলেছে তাই হাতে হাতে নেওয়ার দিন শেষ। বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর যখন লিস্টে নাম উঠে যায় তখন প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে সরাসরি আপনার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যায়, যেমন নগদ, বিকাশ বা রকেট। এসএমএসও আসে যাতে আপনি জানতে পারেন কখন টাকা এসেছে এবং কত টাকা এসেছে।
বিধবা-ভাতা-বা-বয়স্ক-ভাতার-জন্য-অনলাইনে-আবেদন
কোনো ক্যাশ কাউন্টারে যাওয়ার দরকার নেই, শুধু আপনার অ্যাকাউন্ট সচল রাখলেই চলে। এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় বাঁচে আর ঝুঁকি কমে। যদি কোনো মাসে টাকা না আসে তাহলে অনলাইন ট্র্যাকিং করে দেখুন বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে একবার ফোন করে জেনে নিন। অনেকে ভুল করে অ্যাকাউন্ট নম্বর আপডেট করতে ভুলে যান, তাই মাঝে মাঝে চেক করে নিন। এভাবে মাসের পর মাস নিয়মিত টাকা পেলে সত্যি অনেক স্বস্তি হয়, বিশেষ করে যাদের অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন, সবকিছু ঠিক থাকলে টাকা ঠিক সময়ে চলে আসবে।

সাধারণ সমস্যা আর তার সমাধান

অনলাইনে ভাতার আবেদন করতে গিয়ে অনেক মানুষই নানা রকম ছোট বা বড় সমস্যার সম্মুখীন হন। কখনো ওয়েবসাইট খুলতেই চায় না বা লোড হয়ে আটকে যায়। আবার NID নম্বর দিয়ে যাচাই করার সময় 'তথ্য পাওয়া যায়নি' বলে এরর দেখায়। কেউ কেউ ফর্ম পূরণ শেষ করেও সাবমিট করতে পারেন না, ছবি আপলোড হয় না বা মোবাইল নম্বর যাচাইয়ে সমস্যা হয়। এছাড়া চেয়ারম্যান-মেম্বারের সই নেওয়ার পর অফিসে জমা দিতে গিয়ে কাগজপত্র নিয়ে গণ্ডগোল দেখা দেয়। 
এসব সমস্যা বিশেষ করে প্রথমবার চেষ্টা করা মানুষদের ক্ষেত্রে খুব সাধারণ। এই সমস্যাগুলো সমাধান করা খুব কঠিন নয় যদি সঠিকভাবে চেষ্টা করা হয়। প্রথমে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে অন্য ব্রাউজারে চেষ্টা করুন। 

বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করার সময় যদি এখনও সমস্যা থাকে তাহলে সরাসরি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে অপারেটরের সাহায্য নিন। আর যদি NID যাচাই বা অন্য কোনো তথ্যে আটকে যায় তাহলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা দ্রুত সমাধান করে দেন। ধৈর্য ধরে ধাপে ধাপে এগোলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যা মিটে যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (যা অনেকেই জানতে চান)

এই ভাতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো মানুষ করে তার মধ্যে প্রথমটা হলো আবেদনের সময়সীমা কতদিন সাধারণত প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসের দিকে অনলাইন আবেদন শুরু হয় এবং কয়েক সপ্তাহ চলে, তবে সবসময় অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করে নেওয়া ভালো কারণ তারিখ বদলাতে পারে। আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো অনলাইন না করে সরাসরি উপজেলা অফিসে গেলে হয় কি না এখন আর সেটা সম্ভব নয়, অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যাতে সবকিছু স্বচ্ছ থাকে এবং ভুল কম হয়। 

টাকা কবে থেকে পাবেন এটা নিয়েও অনেকে জানতে চান, যদি আবেদন মঞ্জুর হয়ে লিস্টে নাম উঠে যায় তাহলে সাধারণত পরের মাস থেকেই মাসিক ভাতা অ্যাকাউন্টে চলে আসে এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে এসএমএস পাবেন। আর যদি কাগজপত্রে কোনো সমস্যা হয় বা আবেদন বাতিল হয় তাহলে কী করবেন এক্ষেত্রে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে কারণ জেনে নিয়ে প্রয়োজনে আবার নতুন করে আবেদন করতে পারবেন, তবে সব তথ্য সঠিক রাখলে এমন ঝামেলা খুব কমই হয়। এসব প্রশ্নের উত্তর জেনে নিলে আবেদনের পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ লাগে আর অযথা চিন্তা কমে।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

আসলে এই লেখাটা লিখতে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে যে সরকারি ভাতার এই সুবিধাটা কতজনের জীবনে সত্যিকারের একটা ছোট্ট আলো হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যারা বয়সের ভারে বা স্বামীহারা হয়ে একা লড়াই করছেন তাদের কাছে। আমি নিজে দেখেছি অনেক দাদা দাদি, চাচি ও ফুপু এই ভাতার টাকাটা পেয়ে কত স্বস্তি পান, কখনো ওষুধ কেনেন, কখনো নাতি-নাতনির জন্য ছোট্ট কিছু কিনে দেন, আবার কখনো শুধু মনে শান্তি পান যে একটা নিয়মিত সাহায্য আসছে। 

তাই যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যোগ্য হন, তাহলে দয়া করে আর দেরি করবেন না, আজই অনলাইনে আবেদনটা করে ফেলুন একটু সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত এটা আপনার অধিকার, আর সেটা নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় কাজ। যদি কোনো ধাপে সমস্যা হয় তাহলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে একবার গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, তারা সাহায্য করবেই। 

আর হ্যাঁ, এই পোস্টটা যদি আপনার কাজে লাগে তাহলে আপনার গ্রুপে বা পরিচিতদের মাঝে একটু শেয়ার করে দিন, যাতে যারা সত্যি দরকারি তারা সুবিধাটা নিতে পারেন। আপনাদের সবার আবেদন সফল হোক, ভাতা নিয়মিত পান, আর সুস্থ-শান্তিতে থাকুন এটাই আমার আন্তরিক কামনা। কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে অন্যরাও উপকৃত হবে। (260416)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url