OrdinaryITPostAd

হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট রিকভার করার সঠিক পদ্ধতি

হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট রিকভার করার সঠিক পদ্ধতি জানতে চাইছেন? চিন্তার কিছু নেই। অনেকেই ভুল পদক্ষেপ নিয়ে নিজের অ্যাকাউন্ট আরও ঝুঁকিতে ফেলেন। সঠিক নিয়ম মেনে এগোলে হারানো জিমেইল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
এই আর্টিকেলে সহজভাবে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। কোন তথ্য লাগবে, কী ভুল এড়িয়ে চলবেন, সবকিছুই জানতে পারবেন এক জায়গায়। অ্যাকাউন্ট হারিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলে এখনই দেখে নিন প্রয়োজনীয় নির্দেশনাগুলো।

পেজ সূচিপত্রঃ হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট রিকভার করার সঠিক পদ্ধতি

হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট রিকভার করার সঠিক পদ্ধতি

সকালে উঠে ফোন হাতে নিলেন, আর দেখলেন জিমেইলে ঢুকতে পারছেন না। পাসওয়ার্ড দিচ্ছেন, কিন্তু "Wrong password" আসছে বারবার। বুকটা ধক করে উঠলো, তাই না? এই অনুভূতিটা যে পায়নি, সে সত্যিই ভাগ্যবান। অনেক সময় আমরা নিজেরাই পাসওয়ার্ড ভুলে যাই, আর ভাবি হ্যাক হয়ে গেছে। তাই প্রথমে শান্ত মাথায় ভাবুন-সম্প্রতি পাসওয়ার্ড বদলেছিলেন কিনা। 

আপনার ফোনে বা ব্রাউজারে সেভ করা পাসওয়ার্ড একবার চেক করুন। যদি সত্যিই অন্য কেউ একাউন্টে ঢুকে পাসওয়ার্ড বদলে দিয়ে থাকে, তাহলে Google আপনার রিকভারি ইমেইল বা ফোনে একটা নোটিফিকেশন পাঠিয়ে থাকবে। চলুন ধাপে ধাপে জেনে নেই  হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট রিকভার করার সঠিক পদ্ধতি।

প্রথমে যে কোন ব্রাউজার থেকে গুগলে "Google Account Recovery" লিখে সার্চ করুন ও নিচের ইমেজ এর মত প্রথম লিংকটিতে ক্লিক করুন।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
তারপর নিচের দেখানো ইমেজ অনুযায়ী "Recover Your Goggle Account or Gmail" এখানে ক্লিক করুন।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
আপনার যে জিমেইল টি হ্যাক হয়েছে বা রিকভার করতে চান সেটি লিখুন।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
এবার আপনার মেইল এর পাসওয়ার্ড টি লিখুন। যদি হ্যাকার তা পরিবর্তন করে ফেলে বা আপনার পাসওয়ার্ড দিলে সেটিতে লগিন না হয়, তাহলে "Try Another Way" এখানে ক্লিক করুন।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
যদি আগে থেকে রিকভারি ফোন নম্বর বা ব্যাকআপ ইমেইল যোগ করা থাকে, তাহলে আপনার কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। Google ওই নম্বরে একটা OTP পাঠাবে অথবা ব্যাকআপ ইমেইলে একটা লিংক দেবে।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
এরপর আপনার রিকভারি ফোন নাম্বারে নিচের মত একটি বার্তা আসবে। এখানে গগুল এটি আপনি কিনা তা যাচাই করার জন্য পরীক্ষা করবে। এখানে "Yes I'ts me" তে ক্লিক করবেন।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
এখানে পূর্বে ডেস্কটপে যে নম্বরটি এসেছিল ঠিক ওই নম্বরে আপনাকে ক্লিক করতে হবে।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
তারপর সরাসরি "Update password"এর একটা উইন্ডো ওপেন হবে। অবশ্যই পাসওার্ড আপডেট করে নিবেন এই ধাপে।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
তারপর একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে "Save Password"এ ক্লিক করবেন।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
এবার নিচের ইমেজে আপনি দেখতে পাবেন কোন কোন ডিভাইসে আপনার মেইলটি লগিন হয়ে আছে। এখানে আপনার অপরিচিত কোন ডিভাইস দেখলেই বু্যবেন সেটি হ্যাকার এর বা অন্য আননোন ডিভাইস। তারপর "Change Password" এ ক্লিক করবেন সাথে সাথে এই ডিভাইসগুলো থেকে আপনার মেইল লগআউট হয়ে যাবে।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
তারপর নিচের ইমেজ এর মত "Continue to your google account" এ ক্লিক করবেন।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
এভাবেই নিচের ইমেজ এর মত আপনার হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট ফেরত পাবেন।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি

একটা কথা মাথায় রাখবেন-জিমেইল একাউন্ট শুধু একটা ইমেইল না। এর সাথে আপনার Google Drive, YouTube, Google Pay সহ আরো অনেক কিছু জুড়ে আছে। তাই এটাকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আজই একবার আপনার Security সেটিংস চেক করুন-বিপদ আসার আগেই সতর্ক থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

জিমেইল হ্যাক হয়েছে বুঝবেন যেভাবে

লক্ষণ ১-পাসওয়ার্ড হঠাৎ কাজ করছে নাঃ আপনি নিজে পাসওয়ার্ড বদলাননি, অথচ বারবার "Wrong password" দেখাচ্ছে-এটাই সবচেয়ে বড় সংকেত। হ্যাকার একাউন্টে ঢুকে প্রথম কাজ হিসেবে পাসওয়ার্ড বদলে দেয়, যাতে আপনি আর ঢুকতে না পারেন। এই মুহূর্তে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত রিকভারি প্রক্রিয়া শুরু করুন। সময় যত যাবে, ক্ষতি তত বাড়বে।

লক্ষণ ২-অপরিচিত জায়গা থেকে লগইনের নোটিফিকেশনঃ Google আপনাকে ইমেইল বা SMS-এ জানায় যদি নতুন কোনো ডিভাইস বা অপরিচিত লোকেশন থেকে আপনার একাউন্টে লগইন হয়। আপনি যদি এমন কোনো নোটিফিকেশন পান যেটা আপনি নিজে করেননি, তাহলে বুঝবেন অন্য কেউ আপনার একাউন্টে ঢুকেছে। এই নোটিফিকেশনকে কখনো স্প্যাম ভেবে ইগনোর করবেন না-এটাই Google-এর দেওয়া সবচেয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা।

লক্ষণ ৩-Sent বক্সে এমন ইমেইল যা আপনি পাঠাননিঃ একাউন্টে ঢুকতে পারলে প্রথমেই Sent Mail ফোল্ডারটা চেক করুন। যদি দেখেন এমন কিছু ইমেইল পাঠানো হয়েছে যেগুলো আপনি পাঠাননি-বিশেষ করে অপরিচিত লিংক বা সন্দেহজনক কন্টেন্ট-তাহলে বুঝবেন হ্যাকার আপনার একাউন্ট ব্যবহার করে স্প্যাম বা ফিশিং মেইল ছড়াচ্ছে। এটা শুধু আপনার জন্য না, আপনার কন্টাক্ট লিস্টের সবার জন্যও বিপজ্জনক।
লক্ষণ ৪-একাউন্টের তথ্য বদলে গেছেঃ Settings-এ গিয়ে দেখুন রিকভারি ইমেইল, ফোন নম্বর বা একাউন্টের নাম বদলে গেছে কিনা। হ্যাকার এই তথ্যগুলো বদলে দেয় যাতে আপনি রিকভারি করতে না পারেন এবং সে দীর্ঘদিন একাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে। এছাড়া Filters ও Forwarding সেটিংসও একবার দেখুন-অনেক সময় হ্যাকার আপনার সব ইমেইল অন্য একটা ঠিকানায় ফরওয়ার্ড করে রাখে, আপনি টেরও পান না।

লক্ষণ ৫-Google থেকে সন্দেহজনক অ্যাক্টিভিটির সতর্কবার্তাঃ Google নিজেই কখনো কখনো আপনাকে সরাসরি সতর্ক করে দেয় যদি আপনার একাউন্টে অস্বাভাবিক কোনো কার্যকলাপ ধরা পড়ে। এই ধরনের ইমেইল বা নোটিফিকেশন পেলে সাথে সাথে সেটাকে গুরুত্ব দিন। অনেকে ভাবেন এটা হয়তো ভুল অ্যালার্ট-কিন্তু Google সাধারণত কারণ ছাড়া এই সতর্কবার্তা পাঠায় না।

মনে রাখবেন, হ্যাকিং সবসময় হঠাৎ করে বড় ধাক্কা দিয়ে আসে না। অনেক সময় ছোট ছোট লক্ষণ আগে থেকেই দেখা যায়, আমরা শুধু খেয়াল করি না। তাই মাঝে মাঝে নিজের একাউন্টের Security সেটিংস একটু চোখ বুলিয়ে দেখুন-এই ছোট্ট অভ্যাসটাই আপনাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।

লগইন না হলে প্রথম করণীয়

হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট রিকভার করার সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকলে এই মুহূর্তে আপনি সত্যিই দিশেহারা বোধ করবেন। জিমেইলে লগইন হচ্ছে না-এই পরিস্থিতিতে প্রথমেই ঘাবড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু ঠান্ডা মাথায় কাজ করাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি। একটু ধৈর্য ধরুন, কারণ সঠিক পদক্ষেপ নিলে একাউন্ট ফিরে পাওয়া অসম্ভব না।

প্রথম কাজ-"Forgot Password" অপশনে যান। লগইন পেজে গিয়ে সরাসরি "Forgot Password" বা "Try another way" অপশনে ক্লিক করুন। এটাই আপনার রিকভারির প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ দরজা। Google এখান থেকেই আপনাকে ধাপে ধাপে গাইড করবে এবং পরিচয় যাচাই করার সুযোগ দেবে। তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটা ধাপ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। দ্বিতীয় কাজ-রিকভারি ফোন বা ইমেইল চেক করুন। Google আপনার আগে থেকে দেওয়া রিকভারি ফোন নম্বর বা ব্যাকআপ ইমেইলে একটা যাচাই কোড পাঠাবে। সেই ফোন বা ইমেইলটা এখন আপনার হাতের কাছে আছে কিনা নিশ্চিত করুন।

কোড পেলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা দিয়ে ভেরিফাই করুন, কারণ এই কোডের একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। একটু দেরি হলেই নতুন কোড চাইতে হবে। তৃতীয় কাজ-পরিচিত ডিভাইস আর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। রিকভারির সময় সবসময় আপনার নিজের ফোন বা ল্যাপটপ থেকে চেষ্টা করুন। Google আপনার ডিভাইসের হিস্ট্রি আর লোকেশন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে আপনি আসল মালিক কিনা। অপরিচিত ডিভাইস বা পাবলিক ওয়াইফাই থেকে চেষ্টা করলে Google সহজে বিশ্বাস করতে চাইবে না। বাড়ির নেটওয়ার্ক আর পরিচিত ডিভাইসই এখন আপনার সবচেয়ে বড় সুবিধা।

চতুর্থ কাজ-আগের পাসওয়ার্ড মনে করার চেষ্টা করুন। Google কখনো কখনো জিজ্ঞেস করে আপনি আগে কোন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতেন। একদম নিখুঁত না হলেও চলবে, কাছাকাছি কিছু মনে থাকলেও দিয়ে দেখুন। এছাড়া একাউন্ট কবে খুলেছিলেন বা কোন ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সেভ করা ছিল কিনা সেটাও একবার চেক করুন। ছোট একটা সূত্রও অনেক সময় কাজে আসে। পঞ্চম কাজ-Google Account Help ফর্ম পূরণ করুন।

উপরের সব অপশন কাজ না করলে হতাশ হবেন না, কারণ Google-এর একটা সরাসরি সাহায্যের পথ আছে। support.google.com-এ গিয়ে Account Recovery ফর্ম পূরণ করুন এবং যতটা সম্ভব সঠিক তথ্য দিন। Google-এর টিম আপনার তথ্য যাচাই করে একাউন্ট ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। এই প্রক্রিয়ায় একটু সময় লাগতে পারে, তাই ধৈর্য রাখাটা জরুরি।

লগইন না হওয়া মানেই সব শেষ না। Google আপনাকে একাধিক পথে সাহায্য করার সুযোগ দেয়, শুধু দরকার সঠিক পদক্ষেপ আর একটু ধৈর্য। আজকের এই বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার পর টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করতে ভুলবেন না-পরেরবার যেন এই পরিস্থিতিতেই না পড়তে হয়।

Google Recovery Page ব্যবহার

জিমেইলে লগইন করতে পারছেন না? সরাসরি accounts.google.com/signin/recovery এই লিংকে চলে যান। এটাই Google-এর অফিশিয়াল রিকভারি পেজ এবং এখান থেকেই আপনার একাউন্ট ফিরে পাওয়ার আসল যাত্রা শুরু হয়। অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা লিংকে যাবেন না-সেগুলো আপনার তথ্য চুরির ফাঁদ হতে পারে। পেজটা খোলার পর প্রথমেই আপনার জিমেইল অ্যাড্রেসটা টাইপ করুন। Google তখন আপনাকে কয়েকটা অপশন দেবে-রিকভারি ফোনে কোড পাঠানো, ব্যাকআপ ইমেইলে লিংক পাঠানো, অথবা অন্য কোনো উপায়ে পরিচয় যাচাই করা। যেটা আপনার কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে সহজ সেটাই বেছে নিন।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটা ধাপ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। Google আপনাকে হয়তো জিজ্ঞেস করবে-আগের পাসওয়ার্ড কী ছিল, একাউন্ট কবে খুলেছিলেন, বা সাধারণত কোন ডিভাইস থেকে লগইন করতেন। এই প্রশ্নগুলো দেখে ঘাবড়াবেন না, কারণ Google শুধু নিশ্চিত হতে চাইছে যে আপনিই আসল মালিক। যতটুকু মনে আছে ততটুকু সৎভাবে দিন-একদম নিখুঁত না হলেও চলবে। 

একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা-রিকভারি পেজ ব্যবহার করার সময় অবশ্যই আপনার নিজের ডিভাইস আর পরিচিত ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করুন। কারণ Google আপনার ডিভাইস আর লোকেশনের ইতিহাস দেখে বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে। পাবলিক ওয়াইফাই বা অন্যের ফোন থেকে চেষ্টা করলে Google সহজে বিশ্বাস করতে চাইবে না, আর রিকভারি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যেতে পারে।

পুরনো পাসওয়ার্ডের গুরুত্ব

আপনি কি জানেন, একটা পুরনো পাসওয়ার্ড মনে থাকলে একাউন্ট রিকভারি অনেকটাই সহজ হয়ে যায়? অনেকে ভাবেন পাসওয়ার্ড বদলে ফেললে পুরনোটার আর কোনো দরকার নেই। কিন্তু হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট রিকভার করার সঠিক পদ্ধতিতে এই পুরনো পাসওয়ার্ডটাই আপনার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। Google এটাকে আপনার পরিচয় যাচাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে ব্যবহার করে। Google রিকভারি প্রক্রিয়ায় প্রায়ই জিজ্ঞেস করে-"আপনি কি আগে যেকোনো একটা পাসওয়ার্ড মনে করতে পারেন?" এই প্রশ্নটা আসে কারণ Google বুঝতে চায় আপনি সত্যিই সেই একাউন্টের মালিক কিনা। 

হ্যাকার হয়তো নতুন পাসওয়ার্ড জানে, কিন্তু আপনার পুরনো পাসওয়ার্ডের ইতিহাস সে জানে না। তাই এই তথ্যটা আপনার পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। পুরনো পাসওয়ার্ড হুবহু মনে না থাকলেও হতাশ হবেন না। Google শুধু দেখতে চায় আপনি একাউন্টের সাথে কতটা পরিচিত-একটু কাছাকাছি উত্তর দিলেও অনেক সময় কাজ হয়। তাই মাথা ঠান্ডা রেখে যতটুকু মনে আছে সেটাই দিন। ভুল দেওয়ার ভয়ে একদম চুপ থাকার চেয়ে চেষ্টা করাটা অনেক বেশি কার্যকর। 

এই বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার পর একটা কাজ করুন-পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার শুরু করুন। Google Password Manager বা Bitwarden-এর মতো টুলগুলো আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করে রাখে। পাসওয়ার্ড বদলালে পুরনোটাও কিছুদিন সেখানে রেখে দিন। পরে দরকার হলে খুঁজে পাবেন, আর এই ধরনের বিপদে আর দিশেহারা লাগবে না।

রিকভারি তথ্য বদলে গেলে করণীয়

ধরুন আপনি রিকভারি পেজে গেলেন, কিন্তু দেখলেন আপনার ফোন নম্বর বা ব্যাকআপ ইমেইল বদলে গেছে। এই মুহূর্তটা সত্যিই অনেক ভয়ের-কারণ মনে হয় রিকভারির শেষ দরজাটাও বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু আসলে এখনো কিছু পথ খোলা আছে, শুধু জানতে হবে কোথায় যেতে হবে। হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট রিকভার করার সঠিক পদ্ধতি এই পরিস্থিতিতেও আপনাকে সঠিক পথ দেখাবে। রিকভারি তথ্য বদলে গেলে Google আপনাকে অন্যভাবে পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। এখানে আপনার পুরনো পাসওয়ার্ড, একাউন্ট খোলার তারিখ বা আগে ব্যবহার করা ডিভাইসের তথ্য কাজে আসে। 

Google মূলত দেখতে চায় আপনি একাউন্টের সাথে কতটা পরিচিত-তাই যতটুকু মনে আছে সব সৎভাবে দিন। একটু একটু করে সঠিক তথ্য দিলে Google আপনাকে বিশ্বাস করবে। রিকভারি পেজে একটা অপশন কাজ না করলে হাল ছেড়ে দেবেন না। "Try another way" বাটনে ক্লিক করলে Google আপনাকে আরো কয়েকটা বিকল্প উপায় দেখাবে। প্রতিটা অপশন একটু আলাদাভাবে আপনার পরিচয় যাচাই করার চেষ্টা করে। তাই ধৈর্য ধরে একটার পর একটা অপশন চেষ্টা করতে থাকুন। আপনি যে ফোন বা ল্যাপটপ থেকে নিয়মিত জিমেইল ব্যবহার করতেন, সেটা থেকেই রিকভারির চেষ্টা করুন। 
Google সেই ডিভাইসের লগইন হিস্ট্রি চেনে, তাই পরিচিত ডিভাইস থেকে চেষ্টা করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অন্যের ফোন বা নতুন ডিভাইস থেকে চেষ্টা করলে Google সহজে বিশ্বাস করতে চাইবে না। এই একটা বিষয় মাথায় রাখলেই রিকভারি অনেকটা সহজ হয়ে যায়। সব অপশন চেষ্টা করার পরেও যদি একাউন্ট ফিরে না পান, তাহলে support.google.com-এ গিয়ে সরাসরি Google-এর সাপোর্ট টিমের সাহায্য নিন। সেখানে একটা বিস্তারিত ফর্ম পূরণ করতে হবে-একাউন্টের তথ্য, আগের কার্যকলাপ এবং সমস্যার বিবরণ দিয়ে। Google-এর টিম সেটা যাচাই করে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করবে। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক দিন সময় লাগতে পারে, তাই একটু ধৈর্য রাখুন।

একাউন্ট ফেরত পাওয়ার পর করণীয়

একাউন্টে ঢোকার পরপরই একটা শক্তিশালী নতুন পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ডে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা আর বিশেষ চিহ্ন-সব মিলিয়ে দিন। "123456" বা আপনার জন্মতারিখ দিয়ে পাসওয়ার্ড রাখবেন না, এগুলো হ্যাকারের কাছে শিশুর খেলা। একটা জটিল কিন্তু আপনার কাছে মনে রাখার মতো পাসওয়ার্ড বেছে নিন। Security সেটিংসে গিয়ে 'Manage devices" অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে দেখবেন কোন কোন ডিভাইস থেকে আপনার একাউন্টে লগইন আছে। অপরিচিত বা সন্দেহজনক ডিভাইস দেখলে সাথে সাথে সেগুলো থেকে সাইন আউট করে দিন। হ্যাকার হয়তো এখনো আপনার একাউন্টে ঢুকে বসে আছে-এই কাজটা তাকে বের করে দেবে।
হ্যাক-হওয়া-জিমেইল-একাউন্ট-রিকভার-করার-সঠিক-পদ্ধতি
Settings-এ গিয়ে দেখুন রিকভারি ফোন নম্বর আর ব্যাকআপ ইমেইল ঠিক আছে কিনা। হ্যাকার যদি সেগুলো বদলে দিয়ে থাকে, তাহলে এখনই আপনার নিজের তথ্য দিয়ে আপডেট করুন। এছাড়া Forwarding সেটিংসও একবার চেক করুন-হ্যাকার আপনার ইমেইল অন্য কোথাও ফরওয়ার্ড করে রাখলে সেটা বন্ধ করুন। এই কাজটা না করলে আপনার ইমেইল এখনো হ্যাকারের কাছে যেতে থাকবে। এটা এখন আর অপশনাল না, এটা বাধ্যতামূলক। টু-ফ্যাক্টর চালু থাকলে পাসওয়ার্ড জানলেও শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে কেউ ঢুকতে পারবে না। 

Google Authenticator বা SMS ভেরিফিকেশন-যেকোনো একটা এখনই চালু করুন। এই একটা পদক্ষেপ আপনার একাউন্টকে আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি নিরাপদ করে দেবে। আপনার জিমেইলের সাথে কোন কোন থার্ড পার্টি অ্যাপ সংযুক্ত আছে সেটা একবার দেখুন। Settings থেকে "Security"তারপর 'Third-party apps with account access"-এ গিয়ে অপরিচিত বা অব্যবহৃত অ্যাপগুলোর অ্যাক্সেস বাতিল করুন। হ্যাকার কোনো ক্ষতিকর অ্যাপ যুক্ত করে রাখলে সেটা এখানেই ধরা পড়বে। পরিচিত অ্যাপ ছাড়া বাকি সবকিছু রিমুভ করে দিন।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির নিয়ম

হ্যাক হওয়া জিমেইল একাউন্ট রিকভার করার সঠিক পদ্ধতি জানার পাশাপাশি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করাটাও সমান জরুরি। দুর্বল পাসওয়ার্ড মানে হলো আপনার বাড়ির দরজা খোলা রেখে ঘুমানো-যেকেউ ঢুকে পড়তে পারে। তাই একটু সময় নিয়ে এখনই একটা শক্তপোক্ত পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। "12345" বা "password" টাইপের পাসওয়ার্ড হ্যাকারের কাছে রীতিমতো উপহার। আপনার পাসওয়ার্ড কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ অক্ষরের হওয়া উচিত। যত লম্বা পাসওয়ার্ড, হ্যাক করতে তত বেশি সময় লাগে-এটা যত সহজ সত্য, তত বেশি কার্যকর।

একটা ভালো পাসওয়ার্ডে থাকবে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা আর বিশেষ চিহ্ন। যেমন-Sky#2024blue! এই ধরনের পাসওয়ার্ড মনে রাখাও সহজ, ভাঙাও কঠিন। শুধু অক্ষর বা শুধু সংখ্যা দিয়ে পাসওয়ার্ড রাখলে সেটা দুর্বলই থাকে। জন্মতারিখ, নিজের নাম বা ফোন নম্বর দিয়ে পাসওয়ার্ড রাখা মানে হ্যাকারের কাজ আধাআধি করে দেওয়া। এই তথ্যগুলো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সহজেই বের করা যায়। পাসওয়ার্ড হবে এমন কিছু যেটা শুধু আপনি জানেন, অন্য কেউ অনুমান করতে পারবে না।

একই পাসওয়ার্ড সব জায়গায় ব্যবহার করলে একটা হ্যাক হলে সব একসাথে যাবে। জিমেইল, ফেসবুক, ব্যাংক-প্রতিটার জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড রাখুন। মনে রাখতে কষ্ট হলে Google Password Manager বা Bitwarden ব্যবহার করুন-এগুলো আপনার হয়ে সব মনে রাখবে। পাসওয়ার্ড তৈরি করাটা একবারের কাজ না। প্রতি তিন থেকে ছয় মাসে একবার পাসওয়ার্ড বদলানোর অভ্যাস করুন। এই ছোট্ট অভ্যাসটাই আপনার ডিজিটাল জীবনকে অনেক বেশি নিরাপদ রাখবে।

2-Step Verification চালু করার উপায়

শুধু একটা পাসওয়ার্ড দিয়ে আজকের দিনে একাউন্ট সুরক্ষিত রাখা প্রায় অসম্ভব? হ্যাকাররা এখন এতটাই চালাক যে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই তারা ঢুকে পড়তে পারে। কিন্তু 2-Step Verification চালু থাকলে পাসওয়ার্ড জানলেও শুধু সেটা দিয়ে কেউ ঢুকতে পারবে না। এটা আপনার একাউন্টের সামনে একটা দ্বিতীয় তালা লাগিয়ে দেওয়ার মতো।

আপনার জিমেইল খুলুন, উপরে ডান কোণে প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করুন, তারপর "Manage your Google Account"-এ যান। সেখান থেকে "Security" ট্যাবে ক্লিক করুন। একটু নিচে স্ক্রল করলেই "2-Step Verification" অপশনটা দেখতে পাবেন। সেটায় ক্লিক করুন আর শুরু করুন। 2-Step Verification চালু করতে Google আপনার ফোন নম্বর চাইবে। সেই নম্বরে একটা OTP আসবে, সেটা দিয়ে ভেরিফাই করলেই হয়ে যাবে। এরপর থেকে যখনই নতুন কোনো ডিভাইস থেকে লগইন হবে, আপনার ফোনে একটা কোড আসবে। সেই কোড ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবে না-মনকি পাসওয়ার্ড জানলেও না।
SMS-এর চেয়েও বেশি সুরক্ষার জন্য Google Authenticator অ্যাপ ব্যবহার করুন। Play Store বা App Store থেকে অ্যাপটা ডাউনলোড করুন, তারপর Security সেটিংস থেকে Authenticator অ্যাপ অপশনটা বেছে নিন। অ্যাপটা প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একটা নতুন কোড তৈরি করে, যেটা ইন্টারনেট ছাড়াও কাজ করে। এটা SMS-এর চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। 2-Step Verification চালু করার সময় Google আপনাকে কিছু Backup Code দেবে। 

এই কোডগুলো কোথাও নিরাপদে লিখে রাখুন-ফোন হারিয়ে গেলে বা নম্বর বদলালে এই কোড দিয়ে একাউন্টে ঢুকতে পারবেন। এই কোডগুলো কাউকে দেখাবেন না বা অনলাইনে সেভ করবেন না। এটা আপনার শেষ ভরসার চাবি। 2-Step Verification চালু করতে পাঁচ মিনিটও লাগে না, কিন্তু এই পাঁচ মিনিটের কাজটা আপনার একাউন্টকে বছরের পর বছর সুরক্ষিত রাখবে। আজই করুন-কাল করবো ভেবে ফেলে রাখবেন না।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

সত্যি বলতে, জিমেইল হ্যাক হওয়াটা এখন আর শুধু টেক-স্যাভি মানুষদের সমস্যা না। যে কেউ, যেকোনো সময় এই বিপদে পড়তে পারেন-আপনি, আমি, আমাদের পরিবার, যে কেউ। তাই এটাকে "আমার সাথে হবে না" ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি চাই আপনি এই লেখাটা পড়ে শুধু তথ্য নিয়ে চলে না যান। আজই একবার আপনার Google একাউন্টের Security সেটিংস খুলুন, দেখুন 2-Step Verification চালু আছে কিনা, রিকভারি তথ্য ঠিক আছে কিনা। পাঁচ মিনিটের এই ছোট্ট কাজটা ভবিষ্যতের অনেক বড় মাথাব্যথা থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে।

ডিজিটাল দুনিয়ায় আপনার জিমেইল একাউন্ট অনেকটা আপনার বাড়ির মূল দরজার মতো। দরজায় তালা না দিলে যেমন যে কেউ ঢুকে পড়তে পারে, তেমনি দুর্বল পাসওয়ার্ড আর কোনো ভেরিফিকেশন ছাড়া একাউন্ট রাখলে হ্যাকারের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই নিজের ডিজিটাল নিরাপত্তাটা নিজেই নিশ্চিত করুন।

শেষমেশ একটাই কথা-বিপদ আসার আগেই সতর্ক থাকুন। এই লেখাটা যদি আপনার একটুও কাজে এসে থাকে, তাহলে আপনার পরিচিতদের সাথেও শেয়ার করুন। কারণ আপনার একটা শেয়ার হয়তো কারো বড় বিপদ ঠেকিয়ে দিতে পারে। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url