পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি প্লাটফর্ম
ওয়েবসাইট খোলার ০৭ নিয়ম-মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি প্লাটফর্ম সম্পর্কে অনেকেই
জানেনা যার কারণে পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে অনেকে অনেক বাধার
সম্মুখীন হয়। তাই আজকের আর্টিকেলে এ বিষয়ে কথা বলবো।
বর্তমানে অনেকেই পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাই। কিন্তু ফ্রি প্ল্যাটফর্ম
সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা না থাকায় তারা এটি সহজে করতে পারেনা। তাই এই বিষয়ে
বিস্তারিত জানতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে আসুন।
পেজ সূচিপত্রঃ পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি প্লাটফর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত
- পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি প্লাটফর্ম
- পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কি
- পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কেন বানানো উচিত
- ফ্রি প্লাটফর্ম ব্যবহার করার সুবিধা
- পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে কি কি থাকবে
- নতুনদের জন্য কোন প্লাটফর্ম ভালো
- পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে SEO দরকার কিনা
- পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট ব্যবহার করার সুবিধা
- পোর্টফলিও ওয়েবসাইট থেকে কাজ পাওয়ার উপায়
- শেষ কথা
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি প্লাটফর্ম
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি প্লাটফর্ম যেগুলো বর্তমানে
অনেক জনপ্রিয় হয়ে গেছে। অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার রা এই ধরনের টুলস গুলো ব্যবহার
করে তাদের নিজের দক্ষতা এবং কাজ উপস্থাপন করছে। এই পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি
করার জন্য পাঁচটি ফ্রী প্লাটফর্ম গুলো হল Carrd, Strikingly, Canva, Wix, Notion।
বর্তমানে এই টুলস গুলো ব্যবহারের দিক দিয়ে অনেক জনপ্রিয়।
Carrd
Carrd এইটা একটা অনলাইন প্লাটফর্ম হলেও এই ওয়েবসাইট হল একটি সহজ ও হালকা ওয়েব
বিল্ডার। বর্তমানে বহু নতুন ফ্রীল্যান্সাররা এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে তাদের
কাজকে সহজ করে নিতে। এই বিল্ডার পোর্টফলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে অন্যতম।
ফ্রীল্যান্সারদের জন্য বিল্ডার অনেক সুবিধাজনক কারণ এতে ড্রাগ অ্যান্ড ড্রপ এর
সুযোগ আছে আর অত্যাধুনিক টেমপ্লেট আছে।
Strikingly
Strikingly এই ওয়েবসাইট এর সব থেকে বড় সুবিধা হল যে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে
রেডিমেড টেমপ্লেট দিয়ে পোর্টফলিও ওয়েবসাইট বানানো যায়। এই বিল্ডারের মাধ্যমে
On-Page পোর্টফলিও ওয়েবসাইট বানানোর সুবিধা আছে। এইজন্য এই ওয়েবসাইট অনেক বেশি
ব্যবহারযোগ্য। প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ এর ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে কাজ করে থাকে।
Canva
Canva এইটা আমরা অনেকেই জানি। কারণ এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আমরা অনেক কাজ করি
থাকি। বিশেষ করে ফ্রীল্যান্সাররা তাদের লোগো বানানোর জন্য এই ওয়েবসাইট ব্যবহার
করে থাকে। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করি।
Wix
Wix এইটা এক ধরনের শক্তিশালী ওয়েবসাইট। এইটার মাধ্যমে অনেক কাজ খুব অল্প সময়ের
মধ্যে করা যায়। নতুন ফ্রীল্যান্সাররা তাদের শত শত কাজ এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে করে
থাকে। এতে কাজ করে অনেক মজা পাওয়া যায়।
Notion
Notion এই প্লাটফর্ম সাধারনত নোট এবং প্রোজেক্ট এর মতো কাজ গুলোর ম্যানেজমেন্ট
টুলস হলেও এইটার পেজ পাবলিশ করে পোর্টফলিও ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। যারা বেশি
কনটেন্ট বেশি লিখে আবার তৈরি করে এইটা তারা বেশি ব্যবহার করে।
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কি
পোর্টফোলিও অর্থ আপনার নিজের পরিচয়, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত তথ্য আর
ওয়েবসাইট বলতে বুঝাচ্ছে সেই তথ্যগুলো যে ওয়েবসাইটে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হবে।
এটি একটি এমন ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট যেখানে আপনি আপনার কাজের দক্ষতা এবং আপনার
কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সকল তথ্য সেখানে আপনি তুলে ধরতে পারবেন। এটা সাধারণত
আপনার পরিচয় বহন করে। পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট হলো আপনার নিজের পরিচয় তৈরি করে
একটা ওয়েবসাইট বানানো। এখানে আপনার বিভিন্ন রকমের কাজের দক্ষতা এবং ধরন সম্পর্কে
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা থাকে।
যেখানে একজন পাঠক পড়লে আপনার কাজের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানতে পারবে।
কারণ এখানে আপনার আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা থাকবে। আপনি কি
সকল বিষয়ের উপরে পারদর্শী সেটা এই ওয়েবসাইটের মধ্যে সুন্দরভাবে তুলে হয়। এটাকে
সাধারণত একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বলা যেতে পারে। কারণ এখানে আপনি নিজেকে
প্রদর্শন করতে পারবেন ক্লায়েন্টের কাছে। ক্লাইন্ট আপনার কাজের ধরন এবং দক্ষতা
দেখে আপনাকে বেছে নিবে তার নিজের কাজ করানোর জন্য। এই প্রোফাইলের ওয়েবসাইট এর
মাধ্যমে আপনার একটি স্থায়ী পরিচয় তৈরি হয়ে যাবে। সুতরাং পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট
একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট বলে আমি মনে করি।
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কেন বানানো উচিত
বর্তমানে অনলাইন জগতে কাজ পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই আপনার কাজের গুনাগুন এবং দক্ষতা
সম্পর্কে একটা প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। কারণ ক্লাইন্টরা আপনার কাজের ধরন এবং
কাজের সফলতা দেখে আপনাকে কাজ দেয়। সেজন্য পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট অনেক
গুরুত্বপূর্ণ। পোর্টফোলিও থাকলে সহজে ক্লায়েন্ট আপনাকে বিশ্বাস করতে পারবে।
পরবর্তীতে যেয়ে দেখা যাবে আপনি অনেক কাজ পেতে পারেন। এই পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট সাধারণত ক্লায়েন্টদের বিশ্বাস তৈরি করে আপনার উপর। কারণ
যখন কোন ক্লায়েন্ট আপনার কাজের সফলতা দেখে তখন সে আস্থা পায় তার নিজের কাজের
জন্য।
আরও পড়ুনঃ
১১টি বাংলাদেশের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট।
পরে সে সকল ক্লাইন্ট আপনাকে বিভিন্ন রকমের কাজ দেয়। এভাবে করে আপনার কাজ
পাওয়ার সুযোগ ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভালো ভালো প্রেজেন্টেশনের সুযোগ
পাওয়া যায় সে সকল ক্লায়েন্টের কাছ থেকে। পোর্টফোলিও থাকলে অন্যান্য সকল
ফ্রিল্যান্সারদের তুলনায় আপনার আলাদা পরিচয় তৈরি হয়। এতে ক্লাইন্ট ধারণা
করতে পারে যে আপনি কতটা প্রফেশনাল নিজের কাজের প্রতি। এই পোর্ট ফুলের ওয়েবসাইট
খুব সহজে শেয়ার করা যায়, যেখানে যে কেউ আপনার কাজের রিভিউ দেখতে পারে। তাই
আমি মনে করি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট বানানো প্রতিটি ফ্রিল্যান্সারের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ। এতে তাদের প্রফেশনাল ইমেজ তৈরি হয়।
ফ্রি প্লাটফর্ম ব্যবহার করার সুবিধা
ফ্রী প্লাটফর্ম ব্যবহার করার কারণ মূলত সবার পক্ষে শুরুতে টাকা খরচ করে কাজ শুরু
করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ফ্রি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কাজ করা অনেক সহজ এবং
নিরাপদ। এই সকল প্লাটফর্মে কাজ করতে গেলে কোন টাকা খরচ করা লাগে না। ফ্রিতে
এক্সেস পাওয়া যায় এ সকল প্লাটফর্মে। সবথেকে বড় সুবিধা হল কোডিংয়ের ঝামেলা
থাকে না। কারণ কোডিং সব থেকে কঠিন একটা কাজ যা অনেক ফ্রিল্যান্সার শুরুর দিকে কাজ
ছেড়ে দেয়। এক্ষেত্রে এখানে কোন কোডিং এর সমস্যা নেই। কোডিং বাদেই ওয়েবসাইট
তৈরি করা যায়। এবং সে সকলের সাইট খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাড়াতাড়ি তৈরি করা
যায়।
আমি নিজেই ব্লগার একাউন্ট ব্যবহার করি। সেখানে কোন কোডিং এর প্রয়োজন হয় না, যার
ফলে এটা ব্যবহার করা অনেক আরামদায়ক। তবে আমি এখানে একটি আশ্চর্য জিনিস খেয়াল
করেছি সেটা হল টেমপ্লেট। এখানে টেমপ্লেট আগে থেকেই ইন্সটল করা থাকে এবং বিভিন্ন
ধরনের টেমপ্লেট থাকে। আপনি যখন যেটা পছন্দ করবেন সেটা ব্যবহার করতে পারবেন এখানে
কোন ধরা বাধা নেই। এভাবে করে শুরুতে যদি ফ্রি প্লাটফর্ম ব্যবহার করেন তাহলে
পরবর্তীতে যে চাইলে আপনি পেইড ভার্সানো ব্যবহার করতে পারবেন টাকা পে করে। সুতরাং
আমি মনে করি প্রতিটা নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য ফ্রিতে কিছু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার
করা উচিত।
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে কি কি থাকবে
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে সর্বপ্রথম যে জিনিসটা বেশি খেয়াল করে ক্লাইন্টরা সেটা হল
আপনার কাজের যোগ্যতা। তারপরে আসে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা, এভাবে করে ক্লাইন্ট আপনার
প্রোফাইলে ঢুকে আপনার কাজের এক্টিভিটি সম্পর্কে শুরুতে ধারণা নেয়। তারপরে যদি
তাদের কাজের সাথে আপনার দক্ষতা মিলে যায় তাহলে ভাগ্যক্রমে আপনি কাজ পেতে পারেন।
শুরুতে আপনার একটি সুন্দর ছবি থাকতে হবে এবং ছবির নিচে একটা সহজ এবং প্রফেশনাল
বায়ো দিতে হবে। তারপরের অংশে আপনি দক্ষতা সম্পর্কে আলোচনা করবেন অর্থাৎ কোন কোন
কাজে আপনি পারদর্শী সে সকল কাজের নাম গুলো ভালোমতো করে ধারাবাহিকভাবে সাজাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ
অন পেজ SEO কিভাবে করতে হয়।
তারপর দক্ষতা অনুযায়ী যে সকল কাজ আপনি সম্পূর্ণ করেছেন সেগুলোর তালিকা সুন্দর মত
করে তুলে ধরতে হবে। লাইনটা মূলত আপনার কাজের তালিকা ভালোমতো করে অনুধাবন করে। এটি
একমাত্র অংশ যেখানে ক্লাইন্টরা আন্দাজ করে যে আপনি তাদের জন্য কাজ করতে পারবেন
কিনা। এরপরে আপনার কাজের অভিগত সম্পর্কে কিছু বর্ণনা দিতে হবে যেখানে আপনি
বিশেষভাবে তুলে ধরবেন সে সকল ক্লায়েন্টদের নাম, যাদের কাজ আপনি অতীতে করে
দিয়েছেন। পরবর্তী দেশের আপনাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু তথ্য দিতে হবে
অর্থাৎ আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য কোন ইমেইল কিংবা নাম্বার সেখানে যুক্ত করতে
হবে। এতে ক্লাইন্টরা আস্থা পাই যে আপনার কাজের ধরন প্রফেশনাল কিনা। সেজন্য আমাদের
সর্বপ্রথম জানতে হবে পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি
প্লাটফর্ম সম্পর্কে।
নতুনদের জন্য কোন প্লাটফর্ম ভালো
যারা নতুন ফ্রিল্যান্সার তাদের উচিত ভালো এবং সহজ প্লাটফর্ম ব্যবহার করা। কারণ
একই সাথে তারা সে প্লাটফর্মে কাজও করতে পারবে এবং সেখান থেকে কাজ শিখতে পারবে।
সেজন্য আমি মনে করি নতুনদের জন্য সহজ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে ইন্টারফেস থাকে খুবই সহজ, এতে করে তারা এই প্লাটফর্ম
ব্যবহার করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। এছাড়াও টেমপ্লেট ও অগ্রিমভাবে ইন্সটল করা থাকে,
যার ফলে নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য কোন চাপ হয় না। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে সে
প্লাটফর্মের প্রতিটি অপশন ঠিক আছে কিনা।
কারণ নতুনরা এ প্লাটফর্ম থেকে ফ্রি সুবিধা নিয়ে থাকে। এই প্লাটফর্মের সবথেকে বড়
সুবিধা হল প্রয়োজনে সাহায্য পাওয়া যায়। দেখা যাচ্ছে আপনি কোন বিষয়ে আটকে
গিয়েছেন তখন এই প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে আপনি সে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যায়।
নতুনদের জন্য সবথেকে বড় সুবিধা হল এটাতে দ্রুত পাবলিশ অপশন আছে। যার ফলে কয়েক
ক্লিকে লাইভ করা যায় প্ল্যাটফর্মে। আমার পার্সোনাল মতামত অনুযায়ী আমি বলব
নতুনদের সব সময় সহজ ইন্টারফেস থাকা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা।
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে SEO দরকার কিনা
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি প্লাটফর্ম সম্পর্কে যে তথ্য
পেয়েছি সেটা থেকে জানতে পেরেছি যে কোন তথ্য SEO করা মানে গুগলের সার্চ রেজাল্টে
ভালো পজিশনে আসা। এখন আপনার পোর্টফলিও ওয়েবসাইট যদি আপনি অনেক মানুষের কাছে
পৌঁছায় দিতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই সেটা SEO করতে হবে। এতে করে আপনার
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট গুগলের প্রথম রেংকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যার ফলে নতুন
নতুন মানুষ আপনার কাজ খুঁজে পাবে গুগলে। আপনাকে অবশ্যই আপনার পোর্টফোলিও
ওয়েবসাইট প্রতিনিয়ত আপডেট করতে হবে। কারণ আপডেট করা না থাকলে সেটা ধীরে ধীরে
রেঙ্কে কমে যায়। আপনার পোর্টফোলিওতে যে ছবি থাকবে সেটাকে অবশ্যই ট্যাগ করতে হবে।
কারণ ট্যাগ করলে সেটা গুগলের সার্চে আনতে সুবিধা হয়।
এভাবে করে নতুন নতুন ক্লাইন্টরা গুগলে আপনাকে দেখতে পারবে এবং আপনার কাজের ধরন
সম্পর্কে জানতে পারবে। এরপর আপনাকে বেশি বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে অর্থাৎ
এখানে কিওয়ার্ড বলতে বোঝানো হচ্ছে আপনার কাজের সম্পর্কিত শব্দ। যেমন আপনি যদি
ভিডিও এডিং করতে পারেন তাহলে ভিডিও এডিটিং সম্পর্কিত কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
তাহলে পরবর্তীতে যদি কোন ক্লাইন্ট গুগল এ সার্চ করে তাহলে আপনাকে দিতে পারবে। SEO
করলে আপনার পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটের ট্রাফিক ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। আর এই ট্রাফিক
আসা মানে আপনার পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে ভিজিটর অনেক বেশি। এভাবে করে আপনি আপনার
পোর্টফলিও ওয়েবসাইট যদি ভালোমতো করে সেটআপ দিতে পারেন তাহলে আপনার পোর্টফোলিও
গুগলের দেখানোর সুযোগ থাকে।
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট ব্যবহার করার সুবিধা
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট ব্যবহার করার সব থেকে বড় সুবিধা হল এই পোর্টফোলিওতে আপনার
নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা থাকে। বর্তমান যুগে নিজের কাজকে হাজার
হাজার মানুষের কাছে তুলে ধরার সব থেকে বড় সুযোগ হল পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট। এখানে
শুধু কাজ পাওয়া যায় এমনটা নয় বরং নিজের পরিচয়টা তৈরি করার একটা প্লাটফর্ম।
পোর্টফলিও ওয়েবসাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি নিজেকে একজন সিরিয়াস এবং দক্ষ
মানুষ হিসেবে পরিচিতি দিতে পারবেন। পোর্টফোলিও না থাকলে যতটুকু না কাজ পাওয়া যেত
তার থেকে বেশি কাজ পাওয়া যায় যদি আপনার পোর্টফোলিও থাকে ওয়েবসাইটে।
আমার একটা পার্সোনাল ব্লগার ওয়েবসাইট আছে সেখানে আমার পোর্টফোলিও যুক্ত করা আছে।
যার ফলে যদি কেউ আমার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তাহলে সেখানে আমার পোর্টফলিও দেখে
জানতে পারবে যে আমি কিরকম প্রকৃতির কাজ করে থাকি। এছাড়াও আপনি আপনার পোর্টফলিও
ওয়েবসাইটের লিংকটা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পোস্ট করে কিংবা শেয়ার করে
আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আনতে পারবেন। পরবর্তীতে যেয়ে ক্লায়েন্টের সাথে আপনার
একটা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। এভাবে করে ধীরে ধীরে আপনার সামান্য পোর্টফোলিও
ওয়েবসাইট একটা নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করতে সাহায্য করবে।
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট থেকে কাজ পাওয়ার উপায়
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার পর সেটাকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখতে হবে, সেটা আমরা
যে পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি প্লাটফর্ম পাবো সবটাতে
করতে পারব। অর্থাৎ সেখানে প্রতিনিয়ত কনটেন্ট তৈরি করতে হবে এবং সেগুলো বিভিন্ন
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শেয়ার করতে হবে। ধীরে ধীরে সেই ওয়েব সাইটে ট্রাফিক
আসা শুরু করবে। এভাবে করে যখন আপনার ওয়েবসাইট ধীরে ধীরে উপরে উঠবে তখন আপনার কাজ
পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এছাড়াও আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পোস্ট তৈরি
করতে হবে এবং ভিতরে তথ্যগুলো আপডেট করতে হবে। ক্লাইন্ট যখন কোন কাজ দিবে তখন সে
কাজটা সুন্দর করে তাকে পরিপূর্ণ করে দিতে হবে।
এতে করে ক্লায়েন্ট আপনাকে ভালো রিভিউ দিবে। এই রিভিউ আপনাকে পরবর্তীতে আরও দশটা
কাজে নিয়ে এসে দিবে। কারণ ক্লায়েন্টের রিভিউ বিশ্বাস তৈরি করে। সোশ্যাল
মিডিয়ার মাধ্যম ছাড়াও ক্লায়েন্টকে ইমেইলও লিংক সরাসরি শেয়ার করতে হবে। এতে
করে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে ক্লায়েন্টের কাছে। কাজ পাওয়ার আরেকটা বড় ধাপ হল
ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে যোগদান করতে হবে। সে মার্কেটপ্লেসে আপনার লিংকগুলো
প্রতিনিয়ত দিতে হবে, এভাবে করে আপনি প্রচুর পরিমাণে ক্লায়েন্ট পাবেন। সুতরাং
আমি মনে করি উপরের সকল পদ্ধতি এবং কৌশল মেনে কাজ করলে পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট থেকে
কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
শেষ কথা
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ৫টি সেরা ফ্রি প্লাটফর্ম সম্পর্কে আমি
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন কৌশল এবং পদ্ধতি
বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি যেগুলো একজন ফ্রিল্যান্সার পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট
তৈরি করেও প্রচুর পরিমাণে কাজ পাবে। এখানে এমন কিছু তথ্য দেওয়া আছে যেগুলো একজন
নতুন ফ্রিল্যান্সার থেকে শুরু করে একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের কাছেও অনেক
গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে আমি মনে করি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট বলে না বরং সকল ধরনের
ওয়েবসাইট তৈরি করে একজন ফ্রিল্যান্সার টাকা ইনকাম করতে পারে, যদি তার কাজ করার
দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা থাকে। 260207









অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url