OrdinaryITPostAd

আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা যাবে কিনা তার বিস্তারিত

আখেরি চাহার সোম্বা গোসলের দোয়া নিচে উল্লেখ করা হবে। চাইলে আপনি নিম্ন বর্ণিত আখেরি চাহার সোম্বা গোসলের দোয়া, মুখস্ত করে নিতে পারেন। যাইহোক আসুন দেখে নেয়া যাক, আখেরি চাহার সোম্বা গোসলের দোয়া। 

পেজ সূচিপত্র: আখেরি চাহার সোম্বা গোসলের দোয়া

ভূমিকা

আখেরি চাহার সোম্বা পালন করার ব্যাপারে ইসলামিক স্কলারদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। মূলধারার ওলামায়ে কেরামগণ মনে করেন যে, আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা বৈধ নয়। পক্ষান্তরে সুন্নি পন্থী ওলামায়ে কেরামের মতামত হল আখেরি চাহার সোম্বা করা যায়। 

যাইহোক, আখেরি চাহার সোম্বা কি? এবং তা পালন করা যাবে কিনা? সেই বিষয়ে সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হবে। আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে বিশেষ কোনো গোসল রয়েছে কিনা, থাকলে এর দোয়া কি সেই বিষয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। 

তাই আপনি যদি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়েন, তাহলে আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন। যাইহোক আসুন দেখে নেয়া যাক, আখেরি চাহার সোম্বা পালন করার বিধান। 

আখেরি চাহার সোম্বা কি

আখেরি চাহার সোম্বা গোসলের দোয়া তুলে ধরার পূর্বে, আখেরি চাহার সোম্বা কি? সে বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেয়া উচিত। তাই আপনি যদি নিম্ন বর্ণিত তথ্যগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েন তাহলে, আখেরি চাহার সোম্বা কি? তা জেনে নিতে পারবেন। 

“আখেরী চাহার শোম্বা” এই বাক্যটি দুইটি বিদেশি শব্দ দ্বারা গঠিত।  একটি হলো “আখেরি” আর দ্বিতীয় শব্দটি হল “চাহার শোম্বা”। “আখেরি” এই শব্দটি আরবি শব্দ এই শব্দের অর্থ হলো সর্বশেষ। এবং “চাহার শোম্বা” শব্দটি ফারসি শব্দ এর অর্থ হলো: বুধবার। সুতরাং “আখেরী চাহার শোম্বা” বাক্যটির  অর্থ হল  শেষ বুধবার। 

আখেরী চাহার শোম্বা সম্পর্কিত একটি ঘটনা রয়েছে। বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১১ হিজরির শুরুর দিকে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অসুস্থতার সকলে বিচলিত হয়ে পড়েন।  অন্যান্য সময়ের অসুস্থতার চেয়ে এই অসুস্থতা ছিল বেশ গুরুতর। এত গুরুতর অসুস্থ তিনি ইতোপূর্বে হননি ফলে, মুসলিম  সমাজের মাঝে  শোকের ছায়া নেমে আসে। 
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই ধরনের অসুস্থতা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে লাগলো।  এমনকি একপর্যায়ে তিনি এতটাই অসুস্থ হলেন যে, ইমামতি করতে পারছিলেন না।  এমতাবস্থায়  হঠাৎ করে  সফর মাসের ২৮ তারিখ রোজ বুধবার  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।  এবং তিনি  নামাজের ইমামতি করেন। 

হঠাৎ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাম সুস্থ হয়ে ওঠায় মুসলিম সমাজে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগলো।  সকলেই এতটাই খুশি হয়ে গেল যে কেউ কেউ তার ধন-সম্পদ  বিলি করতে শুরু করল। আবার কেউ কেউ গোলাম আজাদ সহ আরো বিভিন্ন ভাবে আনন্দ করতে লাগলো। এক কথায়  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুস্থতায় পুরো মুসলিম কমিউনিটি  আনন্দিত হয়েছিল। 

বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, আবু বকর (রা:) ৫০০০ দিরহাম দান করেন। হযরত ওমর (রা:) ৭০০০ দিরহাম আর ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু  দান করেন ১০০০০ দিরহাম। এদিকে হযরত আলী (রা:) ৩০০০ দিরহাম দান করেন, আর আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ১০০ উট দান করে দেন।

মূলত রাসূলুল্লাহ (সা:) এর সুস্থতা স্মরণ করার জন্যই আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা হয়ে থাকে। যদিও অল্প কয়েক ঘন্টা পরেই অর্থাৎ ২৯ সফর তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবং তার কয়েকদিন পরে অর্থাৎ ১২ই রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম মৃত্যু বরণ করেন।

আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা যাবে কিনা

আখেরি চাহার সোম্বা গোসলের দোয়া পাঠ করতে হবে কিনা? বা আদৌ আখেরি চাহার সোম্বার জন্য নির্দিষ্ট কোন গোসল রয়েছে কিনা? সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আর্টিকেলটির এই অংশে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তো আসুন দেখে নেয়া যাক, আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা যাবে কিনা?

পূর্বেই বলা হয়েছে যে, আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা যাবে কিনা? তা একটি বিতর্কিত বিষয়। আপনি যখন কোন আমল করতে যাবেন তখন অবশ্যই আপনাকে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, সেই আমলটি কুরআন এবং হাদিস কর্তৃক প্রমাণিত কিনা? যদি এমন কোন আমল থাকে, যা কোরআন এবং হাদিস কর্তৃক প্রমাণিত নয় তাহলে সেই আমল করা যাবে না।

কেননা, পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের নির্দেশের বাহিরে যদি কোন আমল করা হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এই ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে যে,  রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, "কেউ যদি এমন কোন আমল করে, যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত"। (বুখারী ২৬৯৭) সুতরাং কোন আমল করতে চাইলে অবশ্যই তা কোরআন হাদিস কর্তৃক প্রমাণিত হতে হবে। 
এখন প্রশ্ন হল আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা কি কুরআন এবং হাদিস সম্বলিত কোন আমল? একথা স্পষ্ট যে, আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা কোরআন এবং হাদিসের কোন নির্দেশ নয়। বা পূর্ববর্তী সাহাবীগণ, তাবেঈ বা তাবেতাবেঈ এ ধরনের কোন আমল করেন নি। বরং বহু বছর পরে শিয়াদের মাধ্যমে এ ধরনের আমলের প্রবর্তন ঘটে। 

সুতরাং একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা যাবে না। এছাড়া, ইসলাম দিবস কোন ধর্ম নয়। তাই জন্মদিন, মৃত্যু দিবস, অসুস্থতা দিবস পালন করার কোন সুযোগ ইসলামে নেই। সুতরাং আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা যাবেই না বরং যারা পালন করে তাদেরকে সতর্ক করতে হবে। 

আর যেখানে, আখেরি চাহার সোম্বা পালন করারই কোন বিধান নেই সেখানে, আখেরি চাহার সোম্বার জন্য গোসলের দোয়া অনুসন্ধান করা নিতান্তই বা বাতুলতা। মূলত আখেরি চাহার সোম্বার গোসল বলতে কোন গোসল নেই। তবে গোসল করার সময় আপনি কিছু দোয়া পাঠ করতে পারেন। গোসল করার সময় যে সকল দোয়া পাঠ করা যেতে পারে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হয়েছে। 

আখেরি চাহার সোম্বা গোসলের দোয়া

আখেরি চাহার সোম্বা না পালন করারই কোন বিধান নেই সেখানে সেই দিবসের জন্য বিশেষ গোসল করার বিধান একেবারেই পরিত্যাজ্য। তাই আখেরি চাহার সোম্বা গোসলের দোয়া বলতে কোন দোয়া নেই। তবে গোসল করার দোয়া রয়েছে। আপনি যখনই গোসল করবেন তখন নিম্ন বর্ণিত দোয়াটি পাঠ করতে পারেন। 

গোসলের দোয়া - ১ : 

اَشْهَدُ اَنْ لَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ

গোসলের দোয়া - ২ : 

اَللَّهُمَّ اجْعَلْنِىْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِىْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ

শেষ কথা

আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা যাবে কিনা সেই বিষয়ে সম্পর্কে এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি আখেরি চাহার সোম্বার জন্য নির্দিষ্ট কোন গোসল রয়েছে কিনা সেই বিষয়ে সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। এবং আর্টিকেলটির শেষের অংশে আখেরি চাহার সোম্বা গোসলের দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে। 
আখেরি চাহার সোম্বা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ এই আর্টিকেলটি আশা করি আপনার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। যদি গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে সকলের সাথে শেয়ার করবেন। ১৬৪১৩

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url