অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/09/somba-itihas.html

আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস - আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া

আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস যদি আমরা ভালভাবে লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাবো যে, আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস এর সাথে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর ওফাত সম্পর্কিত।কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আখেরি চাহার সোম্বায় অসুস্থ হওয়ার পরে মৃত্যুবরণ করেন। আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস ও আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া নিচে তুলে ধরা হলো।

পেজ সূচিপত্র: আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস - আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া

আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস - আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া: উপস্থাপনা

আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস এবং আখেরী চাহার সোম্বা দিবস পালন করার ব্যাপারে ইসলামিক স্কলারদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, আখেরি চাহার সোম্বার ব্যাপারে ইতিহাস প্রচলিত রয়েছে তা সঠিক ইতিহাস নয় বরং এটি ভুল ইতিহাস। তারা বলেন যে প্রচলিত ইতিহাস হাদিসের বিরুদ্ধে। এবং আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া বলতে কোন দোয়া নেই। 

পক্ষান্তরে যারা আখেরি চাহার সোম্বা দিবস পালন করেন তারা এই দিবস পালন করাটা সওয়াবের কাজ মনে করে থাকে। আখেরি চাহার সোম্বার সঠিক ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হবে। তাই আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন। 

আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস

আখেরি চাহার সোম্বা এই বাক্যটি মূলত আরবি এবং ফার্সি ভাষার মিশ্রিত একটি বাক্য। এই বাক্যের প্রথম শব্দ আখেরি আরবি শব্দ যার অর্থ শেষ। চাহার শব্দের অর্থ চতুর্থ, আর সোম্বা শব্দের অর্থ হলো বুধবার। অর্থাৎ সফর মাসের শেষ বুধবার কে বলা হয় আখেরি চাহার সোম্বা।

অনেকেই দিবসটিকে প্রতিবছর শুকরিয়া দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। তবে ভারতীয় উপমহাদেশে এই দিবসটি 'আখেরি চাহার সোম্বা' নামে অভিহিত করা হয়। আখেরি চাহার সোম্বা দিবসটি পালন করা জায়েজ কিনা? বা আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া পাঠ করা যাবে কিনা? সে সম্পর্কে পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে। নিচে আখেরি চাহার সোম্বা সম্পর্কিত হাদিস গুলো তুলে ধরা হলো।
আয়েশা রাঃ. বলেন, রাসূল (সা.) যখন আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেলে তিনি বললেন, তোমরা আমার ওপর ৭ মশক পানি ঢালো, যেন আমি আরাম বোধ করি এবং লোকদের মাঝে গিয়ে উপদেশ দিতে পারি। তখন আমরা এভাবে তাঁর দেহে পানি ঢাললাম। এর পর তিনি মানুষের কাছে বেরিয়ে যেয়ে তাদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করলেন এবং তাদেরকে উপদেশ প্রদান করলেন। (সহীহ বুখারী-৪/১৬১৪, ৫/২১৬১)

আখেরি চাহার সোম্বা এর সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি ঘটনা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর মাসের শেষের দিকে কোন এক রাত্রিতে বাকিউল গারকাদ নামক কবরস্থানে গিয়ে মৃত ব্যক্তিদের জন্য মোনাজাত করেন সেখান থেকে ফিরে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনি বুঝতে পারেন যে এই অসুস্থতার কারণেই তিনি মৃত্যুবরণ করবেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাকিউল গারকাদ নামক স্থানে মৃত ব্যক্তিদের জন্য মোনাজাত করতে গিয়েছিলেন সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সালামের মুক্ত ক্রীতদাস হিবা উপস্থিত ছিলেন। হিবা বলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আমাকে বললেন যে আল্লাহ তায়ালা আমাকে দুইটি বিষয় এর মধ্যে যেকোনো একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা দিয়েছেন।

একটি ভালো পৃথিবীর সকল ধন-ভান্ডার এর চাবিএবং দীর্ঘজীবন আর অপরটি হলো জান্নাত। হিবা বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে বললাম যে আপনি প্রথমটি পছন্দ করেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে আমি ইতোমধ্যে দ্বিতীয়টি পছন্দ করেছি। 

যাই হোক সে কবরস্থান থেকে ফিরে আসার পর তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কোনো ওষুধেই সুস্থ হচ্ছিলেন না। কিন্তু একদিন সকালবেলা তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং তিনি তার আদরের নাতিদ্বয় হাসান ইমাম হোসেনকে সাথে নিয়ে দুপুরের খাবার খান এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেন।

রাসুল সাল্লালাহ সালামের শাস্ত্রে সকলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় এবং সকলেই নিজেদের সাধ্যমত দান-খয়রাত করে আনন্দ উদযাপন করতে থাকে। যদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সন্ধ্যার দিকে অবস্থান করেন কিন্তু তিনি সুস্থ হওয়ার কারণে সকলই খুশি হয়েছিলেন। 

উপরে যে ঘটনা তুলে ধরা হলো সেটাই আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস। এখন প্রশ্ন হল যে আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা যাবে কিনা বা আগে চার সময় কোন বিশেষ আমল রয়েছে কিনা? নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস - আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া: বিদাতসমুহ


অনেকেই আখেরি চাহার সোম্বার ঘটনাটির নিয়ে বড় বাড়াবাড়ি করে। এবং আখেরি চাহার সোম্বা পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বেদাত করে আগের জলসা সম্বলিত গুলো যেগুলো সচরাচর ঘটে থাকে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো। 

  • আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস - আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া:  বিদাত ১। সফর মাসকে অশুভ বলা। বিদাতিরা সফর মাসে আখেরি চাহার সোম্বা হওয়ার কারণে সফর মাসকে অসম্ভব মনে করে। কোন দিন বা কোন জায়গাকে অশুভ মনে করা ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী কেননা কোন জায়গা বা কোন স্থান কখনওই অসীম হতে পারে না এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেন: "কোন অশুভ অযাত্রা নেই, কোন ভুত প্রেত বা অতৃপ্ত আত্মা নেই এবং সফর মাসের অশুভত্বের কোন অস্তিত্ব নেই।" [বুখারী ৫/২১৫৯, ২১৬১, ২১৭১, ২১৭৭]
  • আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস - আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া:  বিদাত ২। সফর মাসের প্রথম রাতে নামাজ আদায় করা। যেন আখেরি চাহার সোম্বা কে কেন্দ্র করে বিরোধী কর্মকান্ড করে তাদের অন্যতম আরেকটি বেদআত হলো সফর প্রথম রাতে সালাত আদায় করা। তারা মনে করে যে কেউ যদি সফর মাসের প্রথম রাত্রিতে মাগরিবের পরে অথবা এশার নামাজের পরে চার রাকাত নামাজ আদায় করে এবং নির্দিষ্ট কিছু সূরা দোয়া পাঠ করে তাহলে সে বিপদ থেকে রক্ষা পাবে। অথচ এ ধরনের কোন বিষয়ে কোরআন এবং হাদীসে উল্লেখ করা নেই। এগুলো তাদের মনগড়া তা তা বেদআতের অন্তর্ভুক্ত। 
  • আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস - আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া:  বিদাত ৩। সফর মাসের শেষ বুধবার। সফর মাসের শেষ বুধবার নিয়ে অনেক জাল জয়ীফ হাদিস রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সালাম কবে অসুস্থ হয়েছেন সে ব্যাপারে অনেক হাদিস থাকলেও সুস্পষ্টভাবে কথা শেষ বুধবারের কথা উল্লেখ করা নেই। তাই এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা কখনই উচিত হবে না।

আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া

আখেরি চাহার সোম্বার দোয়া বলতে কোন দোয়া কোরআন এবং হাদীসে নেই। আপনি যদি আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া হিসেবে কোন দোয়া কোথাও দেখতে পান তাহলে বুঝবেন যে তার কোরআন এবং হাদিসের বাইরে কোনো বিষয়। কেননা যেখানে আখেরি চাহার সোম্বা এর কোন অস্তিত্ব নেই সেখানে আখেরি চাহার সোম্বার দোয়া থাকার কোন প্রশ্নই আসে না।
কিন্তু যারা কুরআন হাদিসের তোয়াক্কা কমই করে এবং বিভিন্ন বেদাতে লিপ্ত তারা নিজেদের মতো করে আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া আবিষ্কার করেছে আপনি যদি তাদের দেখানো নিয়ম অনুসারে সেই দোয়া পাঠ করেন তাহলে সেই দোয়া পাঠ করার কারণে আপনার পাম হবে কেননা যে কোরআন এবং হাদীসে নেই তা পালন করা গুনাহের কাজ। 

আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস - আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া: শেষ কথা

আখেরি চাহার সোম্বা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে আশা করি আপনিও উপরোল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছেন যে আখেরি চাহার সোম্বা কী এবং কুরআন-হাদিসে আখেরি চাহার সোম্বা সম্পর্কে কি বলা হয়েছে। যাইহোক উপরোল্লিখিত আলোচনা যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে এই আর্টিকেলটি বন্ধু বান্ধবের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন। ১৬৪১৩

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?