OrdinaryITPostAd

মিলাদুন্নবী পালনের বিধান - ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল

ইসলামে মিলাদুন্নবী পালনের বিধান ও ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল নির্দিষ্ট রয়েছে। সেই দলিলের বাহিরে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের কোনো সুযোগ নেই। আপনি যদি মিলাদুন্নবী পালনের বিধান ও ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল সম্পর্কে না জেনে থাকেন তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য। কারণ, এই পোস্টে মিলাদুন্নবী পালনের বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মদিনে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হয়ে থাকে। কিন্তু ঈদে মিলাদুন্নবী পালন সম্পর্কে ইসলামে নির্দিষ্ট দলিল ও বিধান রয়েছে। সেই বিধানের বাহিরে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করলে সেটি ইসলামী বিধিবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে। তাই পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে হলে সব মুসলিমকেই মিলাদুন্নবী পালনের বিধান মেনে চলতে হবে। এই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনারা মিলাদুন্নবী পালনের বিধান ও ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে জানতে পারবেন। 

পোস্ট সূচিপত্র - মিলাদুন্নবী পালনের বিধান ও দলিল সম্পর্কে জানুন

ঈদে মিলাদুন্নবী কবে পালিত হয়?

সমগ্র বিশ্ব জাহানের জন্য মানব মুক্তির দূত হিসাবে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১২ই রবিউল আউয়াল এই পৃথিবীতে আগমন করেন। তার দুনিয়াতে আগমনের এই ঐতিহাসিক দিনটিকে বিশ্বে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসাবে পালন করা হয়। পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে যথাযথ ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হয়। যদিও নবী-রাসূল ও সাহাবাদের যুগে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হতো না। 

কিন্তু হিজরী চতুর্থ বর্ষের মাঝামাঝি সময় থেকে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করার প্রচলন ঘটে। কালক্রমে বিভিন্ন জাতির হাত ধরে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করার সেই রীতি এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা ইসলামের দৃষ্টিতে কতটা যৌক্তিক? সেই বিষয়গুলো সুস্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে আজকের এই পোস্টে মিলাদুন্নবী পালনের বিধান এবং ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল আপনাদের সামনে তুলে ধরব। তাই মনোযোগ সহকারে পোস্টটি পড়তে থাকুন। 

ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল 

ইসলামের প্রতিটি আদেশ নিষেধ ও বিধিবিধান উপযুক্ত দলিল অনুযায়ী পালন করতে হয়। ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করার ক্ষেত্রে আমাদের আলেম সমাজের মধ্যে ভিন্ন মত লক্ষ্য করা যায়। অনেকে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করাকে বিদআত বলে মনে করে থাকেন। পোস্টের এই অংশে চলুন ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল গুলো উপলব্দ্ধি করার মাধ্যমে আমরা জানার চেষ্টা করি, ঈদে মিলাদুন্নবী কিভাবে পালন করা শরীয়তসম্মত হবে।
  • ১নং দলিল: মহন আল্লাহ নবীজির আগমন সম্পর্কে পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন, " হে প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের ঘটনা, যখন আমি আম্বিয়ায়ে কেরামগণের নিকট থেকে এইভাবে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, যখন 'আমি তোমাদেরকে কিতাব এবং হিকমত' অর্থাৎ নবুয়ত দান করবো, অতঃপর তোমাদের কাছে এক মহান রাসূলের আগমন ঘটবে যিনি এসে তোমাদের প্রত্যেকের নবুয়তের সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা সকলে অবশ্যই অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনবে এবং সর্বোত্তমভাবে তাঁকে সহযোগিতা প্রদান করবে। তোমরা কি এ কথার অঙ্গীকার করছো এবং এই অঙ্গীকারে কি চির অটল থাকবে? সমস্ত নবীগণ সমস্বরে উত্তর দিলেন- হ্যাঁ, আমরা অঙ্গীকার করলাম। মহান আল্লাহ তায়ালা তখন বললেন- তোমরা পরস্পর সাক্ষী থেকো এবং আমিও তোমাদের সাথে মহাসাক্ষী হয়ে রইলাম। (সূরা আল-ইমরান ৮১ থেকে ৮২ নং আয়াত)। এই আয়াতের মাধ্যমে নবীজি যে, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব তা মহান আল্লাহ অন্যান্য নবীদের সামনে তাঁর (রাসূলের) দুনিয়াতে আগমনের পূর্বেই জানিয়ে দেন। 
  • ২নং দলিল: আবু কাত্বাদাহ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, "রাসূল (সাঃ) কে সোমবারের গুরুত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাব দেন, এই দিনেই আমি জন্ম লাভ করেছি, এই দিনেই আমার উপর পবিত্র কুরআন নাযিল হয়"। (মুসলিম- ২৬৪০ নং হাদিস) তাইতো এই দিনের গুরুত্বকে আরও ফুটিয়ে তোলার জন্য রাসূল (সাঃ) সোমবার দিনে রোজা রাখতেন এবং অন্যকেও রোজা রাখতে উৎসাহিত করতেন। 
  • ৩ নং দলিল: হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়ত প্রাপ্তির পর নিজের জন্মদিনের ভিত্তিতে নিজের আকিকা নিজেই আদায় করেন। (বাইহাকী)
  • ৪ নং দলিল: একদিন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কিছু লোক নিয়ে নিজ ঘরে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের জন্ম-বৃত্তান্ত তুলে ধরে আনন্দ উৎসব করছিলেন এবং তাঁর প্রশংসাবলী আলোচনা করার পাশাপাশি দরুদ শরীফ পাঠ ও সালাম পেশ করছিলেন। এমন সময় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম সেখানে উপস্থিত হয়ে এই অবস্থা দেখে বললেন, "হে উপস্থিতি! তোমাদের সকলের জন্য আমার শাফায়াত অবধারিত হয়ে গেলো।" (ইবনে দাহ্ইয়া কৃত আত তানভীর ফী মওলেদী বশীরিন নাযীর]। যদিও এই উদ্ধৃতিকে অনেকের দুর্বল হাদিস বলে অভিহিত করেন। তবুও এটি ঈদে মিলাদুন্নবীর পক্ষে একটি দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হবে। আশা করি প্রধান প্রধান ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিলগুলো আপনারা জেনে নিলেন। 

ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের বিধান 

আপনারা ইতোমধ্যে ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল সমূহ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে ঈদে মিলাদুন্নবী যে নীতিতে পালন করা হচ্ছে তা আমাদের শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক। ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের বিধান সম্পর্কিত একটি কোরআনের আয়াত হলো, "বলুন হে নবী! যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহকে ভালবাসো, তবে আমার অনূসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের যাবতীয় পাপ ও অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সূরা আল ইমরান, আয়াত- ৩১)
এই আয়াত থেকে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ ইসলামের প্রতিটি বিষয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করা নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং রাসূল যেভাবে সোমবারে রোজা রাখার মাধ্যমে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করত, আমরাও ঠিক একই পদ্ধতিতে তাকে অনুসরণ করে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করব। তবেই কেবল আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে আমাদের পূর্ববর্তী গোনাহগুলো মোচন করতে পারব। অতএব, আপনারা ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের বিধান জেনে ফেললেন। 

কিভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা উচিত

এতক্ষণ পর্যন্ত পোস্টটি পড়ে নিশ্চয়ই আপনারা ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের বিধান ও ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিস্তৃত ধারণা পেয়েছেন। হক্কানী আলেম ও ইসলামী বিধি বিধান অনুযায়ী কিভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করলে সেটি শরীয়তসম্মত হয় এবার সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী জেনে নিন।
  • ঈদে মিলাদুন্নবীর আয়োজনে কোনো প্রকার আলোকসজ্জা, শোভাযাত্রা, গান বাজনার আয়োজন করা যাবে না। বরং সীমিত পরিসরে ইসলামী আচার অনুষ্ঠান যেমন: হামদ্ নাত, গজল, আজান, রচনা, বক্তৃতা ইত্যাদি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে। ঈদে মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ক সেমিনার ও আলোচনা সভা আয়োজন করা যেতে পারে। সেখানে যেন কেবল রাসূলের জীবনী নিয়েই আলোচনা করা হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
  • ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে, অনাথ, এতিম, অসহায়দের খাবার দান করার মত মহৎ কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • ঈদে মিলাদুন্নবীর যে সকল আয়োজন আমাদের শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক সেসমস্ত প্রোগ্রামকে এড়িয়ে চলুন।
  • বিদায় হজ্বের ভাষণে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছিলেন, "হে আমার অনুসারীরা! যতদিন তোমরা আমার জীবনাদর্শ ও মহাগ্রন্থ আল কুরআনকে আঁকড়ে রাখতে পারবে, ততদিন পর্যন্ত কেউ তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে পারবেনা"। তাঁর বিদায় হজ্বের এই বক্তব্য মানবজাতির জন্য এতটাই প্রযোজ্য ও কার্যকরী যে, তাঁর এই শেষ বাণী অনুযায়ী আমল করলে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম হব। তাই তাঁর দেখানো পদ্ধতিতেই আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করব।
  • ব্যক্তিগতভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা সর্বোত্তম উপায় হলো, সোমবার দিনে রোজা রাখা এবং বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা। পোস্টের আগের অংশ থেকে আপনারা ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল এবং মিলাদুন্নবী পালনের বিধান পুনরায় দেখে নিতে পারেন। 

শেষে কিছু কথা 

প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, এই সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকলে আপনারা নিশ্চিতভাবেই ঈদে মিলাদুন্নবীর দলিল গুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার পাশাপাশি, মিলাদুন্নবী পালনের বিধানসমূহও পূর্ণাঙ্গভাবে জানতে পেরেছেন। মিলাদুন্নবী পালনের বিধান সকলকে জানাতে চাইলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন। সর্বোপরি এই পোস্টটি পড়ে আপনারা কতটা উপকৃত হলেন তা জানাতে পারেন। এছাড়াও ইসলামিক আরও আপডেটেড পোস্ট পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। @23891

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url