OrdinaryITPostAd

কোরবানির নিয়ম কানুন - গরু, ছাগল কোরবানির নিয়ম

কোরবানির নিয়ম কানুন সম্পর্কে না জেনে থাকলে আপনি সঠিক পন্থায় কোরবানি করতে পারবেন না। তাই কুরবানী দেওয়ার পূর্বে অবশ্যই কোরবানির নিয়ম কানুন সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। নিচে কোরবানির নিয়ম কানুন সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হবে।
কোরবানির নিয়ম কানুন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে এরপরে কুরবানী দেওয়া উচিত। আপনি যদি কোরবানির নিয়ম কানুন সঠিকভাবে না জেনে কোরবানি করতে চান, সে ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সামান্য ভুল হয়ে গেলে কোরবানি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। তাই অবশ্যই আপনাকে কোরবানির নিয়ম কানুন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে এর পরে কোরবানি দিতে হবে।

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপরে কোরবানি ওয়াজিব। যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান হানাফী মাযহাব অনুসরণ করে থাকে, তাই কুরবানী দেওয়াকে আমরা ওয়াজিব হিসেবেই ধরে নেই। হুট করে বাজার থেকে একটি পশুর ক্রয় করে নিয়ে এসে কোরবানি দিলেই কিন্তু কোরবানি আদায় হয়ে যাবে না। বরং পশু ক্রয় করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে বিশেষ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। 

এছাড়া সকল ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। যাই হোক কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত সমূহ কোরবানির দোয়া, ছাগল, গরু এবং উট কোরবানি দেওয়ার বিশেষ নিয়ম কানুন সমূহ সম্পর্কে এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। তাই আপনি যদি, কোরবানির নিয়ম কানুন সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে চান সেক্ষেত্রে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগের সাথে পড়তে থাকুন। 

কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত:
  • সাবালক হওয়া: নাবালকের উপরে কুরবানী ফরজ নয়। সে যত সম্পদের মালিকই হোক না কেন।
  • সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া: কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার আরেকটি অন্যতম শর্ত হলো কোরবানি দাতাকে সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে। পাগল কিংবা মস্তিষ্ক বিকৃত ব্যক্তির উপরে কোরবানি ওয়াজিব নয়
  • স্বাধীন হওয়া: কোরবানি দাতাকে অবশ্যই স্বাধীন হতে হবে। বন্দি বা দাস দাসীর উপরে কোরবানি ওয়াজিব নয়। 
  • মুকিম হওয়া: কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার যে সকল শর্ত রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম আরেকটি হলো মুকিম হওয়া। মুকিম মানে হলো স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া। কেননা মুসাফির ব্যক্তির উপরে কোরবানি ওয়াজিব নয়। 
  • নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া: আপনি যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন কেবল তখনই আপনার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে। 

কোরবানির দোয়া: اَللَّهُمَّ إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ اِبْرَاهِيْمَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ - إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ - بِسْمِ اللهِ اَللهُ اِكِبَر - اَللَّهُمَّ مِنْكَ وَ لَكَ

বাংলা উচ্চারণ: উচ্চারণ- ইন্নি ওয়াঝঝাহতু ওয়াঝহিয়া লিল্লাজি ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা আলা মিল্লাতি ইবরাহিমা হানিফাও ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। লা শারিকা লাহু ওয়া বি-জালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা।

ছাগল কোরবানির নিয়ম

আপনি যদি ছাগল কোরবানি দিতে চান, এক্ষেত্রে আপনাকে ছাগল কোরবানির নিয়ম কানুন সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিতে হবে। ছাগল কোরবানির নিয়ম হলো ছাগল একাকি কোরবানি দিতে হবে। গরু, উট বা মহিষের মত ভাগে ছাগল কুরবানী দেয়ার কোন বিধান নেই। ছাগল কুরবানী দেওয়ার জন্য বিশেষ বিশেষ কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমত, আপনি যে ছাগলটি কোরবানির জন্য বাছাই করেছেন সেই ছাগলটি অবশ্যই সুস্থ ও হৃষ্ট-পুষ্ট হতে হবে। এবং ছাগলের বয়স ন্যূনতম এক বছর হতে হবে। 
ছাগলে যেন কোন ধরনের রোগ বালাই না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোরবানির উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ছাগলের শরীরে কোন জন্য ধরনের খুঁত যেন না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ ছাগলের সিং যেন ভাঙ্গা না হয়, লেজ যেন কাটা না হয় এবং ছাগল যেন সুস্থ দৃষ্টিশক্তির অধিকারী হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। কেননা মহান আল্লাহ তা'আলা উৎকৃষ্ট পশু ছাড়া কোরবানি কবুল করেন না। 

ছাগল জবাই করার সময় অবশ্যই বাম কাতে শোয়াতে হবে এবং কোরবানির দোয়া পাঠ করতে হবে। এরপরে বিসমিল্লাহ বলে জবেহ করা শুরু করতে হবে। ছাগলের ঘাড়ের দুইটি রোগ ভালোভাবে কেটে দিতে হবে। ধারালো ছুড়ি দিয়ে যবেহ সম্পন্ন করতে হবে। এবং কোরবানীকৃত ছাগলের মাংস নির্ধারিত হারে গরিব দুঃখীকে বিলিয়ে দিতে হবে। 

গরু কোরবানির নিয়ম

গরু কোরবানির নিয়ম কানুন সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কোরবানি করা হয় গরু। গরুর দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় অনেকেই ভাগে কুরবানী দিয়ে থাকেন। ভাগে কুরবানী দেওয়া যেতে পারে এতে কোন সমস্যা নেই তবে কোরবানি একাকী দেয়া উত্তম।

ভাগে কুরবানী দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনজন, পাঁচজন অথবা সাতজন মিলে গরু ক্রয় করে তা কোরবানি করতে হবে। গরু কোরবানি দেয় আর তেমন বিশেষ কোন নিয়ম নীতি নেই উপরে উল্লেখিত কোরবানির নিয়ম কানুন কানুন অনুসরণ করেই খুব সহজেই আপনি গরু কোরবানি দিতে পারবেন। 

তবে কোরবানির ছাগলের মত গরু নির্বাচন করার ক্ষেত্রেও আপনাকে বিশেষ কিছু বিষয়ে মাথায় রাখতে হবে আর সেগুলো হলো: কোরবানির পশু জনন সম্পূর্ণ সুস্থ ও হৃষ্ট-হয়। কোরবানির পশুতে যেন কোন ধরনের খুঁত না থাকে। একেবারে নিখুঁত এবং উৎকৃষ্ট মানের গরু কোরবানির জন্য বাছাই করতে হবে। যদি কুরবানী করেন সেক্ষেত্রে কোরবানি করার পরে সর্বপ্রথম কোরবানির গোষ্ঠাগুলোকে সমানভাবে ভাগে ভাগ করে সকলের মাঝে বন্টন করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে কম বেশি করার কোন সুযোগ নেই। 

উট কোরবানির নিয়ম

বাংলাদেশের সাধারণত গরু ছাগল এবং মহিষ কুরবানী করা হয়ে থাকে। আর মধ্যপ্রাচ্যে উট এবং দুম্বা সবচেয়ে বেশি কোরবানি দেওয়া হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশেও কোথাও কিছু উট কোরবানি দেওয়া হয়। যাই হোক মূলত কোরবানির বিধি-বিধান সকল পশুর ক্ষেত্রে একই। তাই ইতোমধ্যেই উপরে উল্লেখিত কোরবানির নিয়ম কানুন সকল প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। 
দুম্বা এবং উটের মধ্যে পার্থক্য শুধু এইটুকুই যে, দুম্বা কোরবানিতে কোন অংশীদার বা শরীক সরাসরি যুক্ত হতে পারেনা। পক্ষান্তরে উটের ক্ষেত্রে তিনজন পাঁচজন বা সাতজন ভাগে কুরবানী দেওয়া যায়। অন্যান্য কোরবানির পশুর মতো উটও হতে হবে উৎকৃষ্ট মানের এবং নিখুত। কোন ধরনের খুঁত যুক্ত উট কোরবানির জন্য নির্বাচন করা সমীচীন নয়। 

কোরবানির শরিকের নিয়ম

কোরবানির নিয়ম কানুন সমূহ সম্পর্কে ইতোমধ্যেই উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নিচে কোরবানির শরিকের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো। কোন কোন উলামায়ে কেরাম বলে থাকেন যে, ভাগে কুরবানী দেওয়া বৈধ নয়। বরং পশু তা যত দামি বা যত বড়ই হোক না কেন তা একজনের পক্ষ থেকে কুরবানী দিতে হবে। পক্ষান্তরে অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতে গরু মহিষ এবং উট কোরবানি করার ক্ষেত্রে অংশীদারে কোরবানি করা যায়। এতে কোন সমস্যা নেই। 

যুগে যুগে যত ইসলামিক স্কলার এসেছেন তাদের প্রায় সকলেই গরু মহিষ কিংবা উটের ক্ষেত্রে সাত ভাগে কুরবানী দেওয়া বৈধ বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন। যাইহোক আপনি যদি অংশীদারিত্বের সাথে কোরবানি করতে চান সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ৩ জন ৫ জন কিংবা ৭ জন একত্রিত হয়ে কুরবানী করতে হবে। 
তবে ভাগে কোরবানি করার ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সকলের নিয়ত যেন সহিহ হয় কেননা কোন একজন শরিকের নিয়তে যদি গোলমাল থাকে সে ক্ষেত্রে সকলের কুরবানী বাতিল বলে গণ্য হবে। আর এ কারণেই সামর্থ্য থাকলে একা একা কোরবানি দেওয়াই উত্তম। ১৬৪১৩

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url