OrdinaryITPostAd

হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া - হায়েজ অবস্থায় আমল ও নিষিদ্ধ কাজ

হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা এ বিষয়ে অনেকে জানতে চান। সেজন্য ইন্টারনেটে সার্চ করে থাকেন হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা একটি লেখে তাই যারা ইন্টারনেটে সার্চ করে আমাদের এখানে এসেছেন তাদের বলব সঠিক জায়গায় এসেছে। চলুন আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে জেনে নিন হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা এ বিষয়ে বিস্তারিত।

হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা

হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা হায়েজ অবস্থায় কুরআন ধরা যাবে কিনা হায়েজ অবস্থায় কুরআন শোনা যাবে কিনা হায়েজ অবস্থায় আমল হায়েজ অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ হায়েজ অবস্থায় কায়দা পড়ার বিধান এ সকল বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে তাই যারা এই সকল বিষয়ে জানতে চান তারা আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। 

পেজ সূচিপত্রঃ হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা 

হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা - হায়েজ অবস্থায় কুরআন ধরা 

হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা বা হায়েজ অবস্থায় কুরআন ধরা যাবে কিনা এই ব্যাপারে যদি জানতে চান তাহলে বলবো অবশ্যই যাবেনা। হায়েজ মানে মাসিক বা পিরিয়ড আর যখন মাসিক বা পিরিয়ড হয় তখন শরীর পবিত্র থাকে না। আর অপবিত্র অবস্থায় কখনো কুরআন পড়া বা কুরআন ধরা যায় না। তবে হায়েজ অবস্থায় আপনি সকল ধরনের সূরা কালেমা তেলাওয়াত করতে পারেন। 

আরো পড়ুনঃ রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ০৭ টি ফজিলত জেনে নিন 

এবং কোরআন শরীফ তেলাওয়াত শুনতে পারবেন। তবে কুরআন ধরতে বা পড়তে কোনোটাই পারবেন না। আপনার যখন হায়েজ এর সময় শেষ হয়ে যাবে এবং তার পর পবিত্র হওয়ার পর কোরআন ধরতে এবং পড়তে পারবেন। আশা করছি বুঝতে পারলেন হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা এবং হায়েজ অবস্থায় কুরআন ধরা যাবে কিনা। 

হায়েজ অবস্থায় কুরআন শোনা যাবে কিনা

আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন হায়েজ অবস্থায় কুরআন ধরা এবং তেলাওয়াত করা যায় না। কিন্তু এটা অনেকে জানেনা যে হায়েজ অবস্থায় কুরআন শোনা যাবে কিনা। আপনার যদি হায়েজ মাসিক বা পিরিয়ড হয় তাহলে তখন আপনি নামাজ রোজা এবং কোরআন পরতে পারবেন না তবে অন্য কেউ যদি কুরআন তেলাওয়াত করে তাহলে আপনি কুরআন তেলাওয়াত শুনতে পারবেন এতে কোনো বিধি নিষেধ নেই।  

কারণ আম্মাজান হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) আমার কোলে হেলান দিয়ে কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করতেন এবং আমি তখন কোরআন তেলাওয়াত শুনতাম কিন্তু তখন আমি হায়েজ অবস্থায় ছিলাম। (সহিহুল বুখারি হাদিস ২৯৭. সহিহ মুসলিম হাদিস ৫৮০) এখন হয়তো আপনারা বুঝতে পারলেন হায়েজ অবস্থায় কুরআন শোনা যাবে কিনা। 

হায়েজ অবস্থায় আয়াতুল কুরসি পড়া যাবে 

হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা তা আপনারা জানতে পেরেছেন কিন্তু অনেক মহিলা রয়েছে যারা ঘুমানোর পর জ্বিন বা শয়তান ভয় দেখায় সেজন্য তারা ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমায় কিন্তু হায়েজ অবস্থায় আয়াতুল করসি পড়া যাবে কিনা এ ব্যাপারে অনেকে বুঝতে পারেন না। হায়েজ অবস্থায় আয়াতুল কুরসি পড়তে পারবেন এতে করে কোনো সমস্যা নেই। 

আরো পড়ুনঃ শবে কদরের রাতে স্ত্রী সহবাস করা যাবে কিনা জেনে নিন 

কারণ যে সকল আয়াতের দোয়ার অর্থ রয়েছে সেগুলো সূরা হায়েজ অবস্থায়ও পড়তে পারবেন। আর যে সকল আয়াতের দোয়ার অর্থ নাই সেগুলো হায়েজ অবস্থায় দোয়ার উদ্দেশ্যেও পড়া জায়েজ নয়। অতএব আপনি শয়তান এর ভয়ের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য হায়েজ অবস্থায় আয়াতুল কুরসি পড়তে পারবেন। এখন চলুন জানা যাক হায়েজ অবস্থায় আমল সম্পর্কে। 

হায়েজ অবস্থায় আমল

হায়েজ অবস্থায় কি কি আমল করা যায় যারা জানতে চান তাদের বলছি হায়েজ অবস্থায় আপনি কোরআন তেলাওয়াত কোরআন ধরা নামাজ আদায় করা এবং রোজা রাখা বাদে অন্য অন্য এবাদত গুলো করতে পারবেন। উপরে আপনাদের জানিয়ে দিয়েছি হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা সহ আরো কিছু বিষয়ে। এখন জেনে নিন হায়েজ অবস্থায় আমল গুলো কি কি? অর্থ্যাৎ হায়েজ অবস্থায় যেসব আমল করতে পারবেন সেগুলো হলো। 

১। বেশি বেশি যত খুশি ইস্তেগফার করতে পারবন। 

২। যত খুশি দোয়া এবং যিকির করতে পারবেন।

৩। হায়েজ অবস্থায় আমল হলো বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা 

৪। হায়েজ অবস্থায় আমল হলো জান্নাত নিয়ে চিন্তা করা কারণ আপনি যদি জান্নাত নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে আপনি এবাদত যে করতে হবে সেটা বুঝতে পারবেন।

৫। জাহান্নাম নিয়ে চিন্তা করা জাহান্নামে কেমন শাস্তি হবে এগুলো যদি ভাবেন তাহলে আপনি খারাপ কাজ করতে পারবেন না।

৬। অন্য কেউ কোরআন তেলাওয়াত করলে তা শুনতে পারেন।

৭। হায়েজ অবস্থায় বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে।

হায়েজ অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ

অনেকে হায়েজ অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ গুলো কি তা না জানার কারণে হায়েজ অবস্থায় অনেক ভুল কাজ করেন যা জায়েজ নয় তাই আপনাদের জানা প্রয়োজন হায়েজ বা মাসিক অবস্থায় কোন কোন কাজ গুলো করা যাবে না। তো চলুন জেনে নিন হায়েজ অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ কোনগুলো। 

১। নামাজ পড়া যাবে না

২। কোরআন ধরা বা পড়া যাবে না। 

৩। রোজার সময় হলে রোজা রাখা যাবে না। 

আরো পড়ুনঃ মাসিকের ব্যাথা কমানোর ৫ টি উপায় - মাসিকের ব্যাথা কমানোর ৪ টি ওষুধ 

৪। হায়েজ অবস্থায় কোরআন শেখানো যাবে না।

৫। হায়েজ বা মাসিক অবস্থায় কোরআন এর আয়াত বা অক্ষর লেখা যাবেনা।

৬। হায়েজ অবস্থায় স্বামী স্ত্রী সহবাস করা যাবে না।

হায়েজ অবস্থায় কায়দা পড়ার বিধান 

হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা এই অংশ থেকেই বুঝতে পেরেছেন হায়েজ অবস্থায় কায়দা পড়ার বিধান সম্পর্কে। হায়েজ অবস্থায় যেহুতু কোরআন পড়া জায়েজ নই তাই হায়েজ অবস্থায় কায়দা ও পড়া যাবে না আর কেউ যদি হায়েজ অবস্থায় কায়দা পড়ে তাহলে এটা পাপ হবে। তাই বলা যায় হায়েজ অবস্থায় কায়দা পড়ার একটাই বিধান সেটা হলো হায়েজ অবস্থায় কায়দা পড়া নিষিদ্ধ। আল্লাহ সকল কে ইসলামের সকল বিধি বিধান সঠিক বুঝার তৌফিক দান করুন।

হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনাঃ শেষ কথা 

আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পারলেন হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা হায়েজ অবস্থায় কুরআন ধরা যাবে কিনা হায়েজ অবস্থায় কুরআন শোনা যাবে কিনা হায়েজ অবস্থায় আমল হায়েজ অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ হায়েজ অবস্থায় কায়দা পড়ার বিধান এ সকল বিষয়ে। তারপরেও যদি কোন বিষয়ে জানার থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন এবং এরকম আরো তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ফলো করুন ধন্যবাদ। ২৩৩৫৭ 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url