অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/04/romjan-quran.html

রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ০৭টি ফজিলত জেনে নিন

আপনারা কি রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। আজকে আমরা আলোচনা করব রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে।

তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নিই, রমজানে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত কতটুকু এ বিষয়ে।

সূচিপত্রঃ রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত

রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত

কোরানের প্রত্যেকটা আয়াতে রয়েছে যেমন বিশ্বমানবতার এবং মুক্তির বার্তা,  ঠিক তেমনই বিশ্বাসীদের জন্য লক্ষ-কোটি সওয়াব ও পুরস্কার ঘোষণা পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতে রয়েছে। রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত হচ্ছে অন্যান্য দিনের তুলনায় দ্বিগুণ। রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে  বিশিষ্ট আলেম ডা. মাওলানা মোস্তাক আহমেদ মিজান বিন রমজান বয়ান শ্রুতি লিখন করেছিলেন।

আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত

হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উম্মতদের কাজ কম আর সম্মানী অনেক। এই উম্মতকে কালামুল্লাহ বা আল-কুরআন দান করেছিলেন আল্লাহ তায়ালা। এটা স্বয়ং আল্লাহতায়ালার কথা ছিল। হযরত মূসা (আ.) একটা নির্ধারিত সময়ে আল্লাহর সাথে কথা বলতেন। আর এই উম্মতের জন্য আল্লাহর সাথে কথা বলার সুযোগ রয়েছে যখন খুশি তখন।

আরো পড়ুনঃ রমজানে ওমরাহ প্যাকেজ 2022

হযরত আলী (রাঃ) বলতেন, আমার আল্লাহর সাথে কথা বলার যখন ইচ্ছা হতো তখনই কোরআন তেলোয়াত শুরু করে দিতাম। কেননা কুরআন তিলাওয়াতের মাঝেই আছে আল্লাহর সাথে কথা বলার সুযোগ।

কুরআন খতমের সহজ পদ্ধতি

রমজান মাস ছাড়া এমন মানুষ খুবই কম আছে যারা কুরআন খতম দেয়। তাছাড়া আমরা চাইলেই দু'মাসের মধ্যে কুরআন একবার হলেও খতম করতে পারি। প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় 1-২ পৃষ্ঠা করে আমরা চাইলেই পারি। এটাতে সময় ও ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগবে না। প্রতি ওয়াক্তে যদি আপনি দুই পৃষ্ঠা করে পড়েন তারপরেও দিনে এক পারা করে হয়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ রমজানের রোজার সময় কখন সহবাস করা যাবে জেনে নিন

এভাবে যদি আপনি পড়ে থাকেন তাহলে প্রতি মাসে একবার খতম করা খুবই সহজ। তাছাড়া আমরা কাজের সময় ছোট ছোট সূরা গুলো মনে মনে বলতে পারি। অফিসে যাওয়ার সময় বা বিভিন্ন কাজে গাড়িতে যাবার সময় কোন কাজ থাকেনা, সেসময় আমরা মনে মনে ছোট ছোট সূরা গুলো চাইলেই পড়তে পারি, বা দেখে দেখে ও পড়তে পারি।

রমজানে কুরআন কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত ১০ গুন সওয়াব

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন, আল্লাহর কিতাব থেকে যে ব্যক্তি একটা অক্ষর তেলাওয়াত করবে, তার বিনিময়ে সে ব্যক্তি একটা করে নেকী পাবে। আর রমজান মাসে সেই একটা নেকেট বদলে হবে ১০ গুণ সওয়াব। একটা অক্ষর বলতে -আলিফ-লাম-মীম সবগুলোই না, এরমধ্যে আলিফ একটা অক্ষর, মিম একটা অক্ষর এবং একটা অক্ষর মিম।

কোরআন শরীফের একটা অক্ষর পড়লে সর্বনিম্ন নেকি মেলে ১০ টা। আমাদের সবারই সূরা ফাতিহা মুখস্ত। আমরা চাইলে আমাদের কর্ম ব্যস্ততার মাঝে সুরা ফাতেহা পাঠ করতে পারি। সে ক্ষেত্রে আমাদের কাজ কামের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না এবং খুব সহজেই আমরা অনেক সওয়াব অর্জন করতে পারব। এরকম সুযোগ আমাদের কারোরই ছাড়া উচিত নয়।

রমজান কোরআন তেলাওয়াতের মাস

রমজান মাস হচ্ছে কোরআন তেলাওয়াতের মাস। রমজান মাসে যে ব্যক্তি কুরআন কে নিজের আবশ্যক মনে করবে কুরআন অনুযায়ী চলাচল করবে, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আছে অগণিত বরকত ও নিয়ামত। কুরআনুল কারিম তেলাওয়াতের উদ্দেশ্য যদি তার কাছে উপদেশ গ্রহণ করা হয, আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া এবং শাস্তির ব্যাপারে ভয় গ্রহণ করে, তাহলে তার মুক্তির জন্য কুরআনই যথেষ্ট। রমজান মাসের কোরআন তেলাওয়াত করলে আল্লাহ দ্বিগুণ সওয়াব দেবেন।

কোরআন তিলাওয়াত কারির বিশেষ বৈশিষ্ট্য

আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে তার উদ্দেশ্যে নবী (স:) বলেন, সে ব্যক্তির উদাহরণ হল তার লেবুর মতো স্বাদ ভালো, সুগন্ধি ও ভালো। খেজুরের মতো স্বাদ ভালো কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই, সেটা হল মুমিন ব্যক্তির উদাহরণ।

আরো পড়ুনঃ রোজা রেখে রমজান মাসে ওজন কমানোর 7 উপায়

আবার ফুলের মত মন ভালো কিন্তু সাদ্ব তিক্ত সেটা হল কুরআন তিলাওয়াত কারী পাপী ব্যাক্তির উদাহরণ। আবার কুরআন তিলাওয়াত করে না এমন ব্যক্তির উদাহরণ হল মাকাল ফলের মত যার কোন সুগন্ধ নেই এবং স্বাদ ও তিক্ত।

কুরআন তিলাওয়াতে দারিদ্রতা দূর হয়

সূরা ইখলাস হলো মানুষের পরীক্ষিত আমল। সবারই এই সূরা মুখস্ত আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই সূরা পড়লে অভাব দূর করে দেয়। সাহল ইবনে সায়েদী রাদি আল্লাহ তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর অপর এক ব্যক্তি দারিদ্র্যের জন্য অভিযোগ করেছিলেন, উত্তরে বলেন, তুমি যখন ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং সূরা ইখলাস একবার পড়বে। সে ব্যাক্তি কিছুদিন সেই আমল করেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই তার দারিদ্রতা দূরীভূত হয়ে যায়।(কুরতুবীঃ ২০/১৮৫)

শেষ কথাঃ রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত

আপনি কি রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আজকের এই পোষ্ট টি আপনার জন্য। রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পুরো পোস্টটি পড়ুন। রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে সবার আগে জানতে হলে আমাদের সাথেই থাকুন। কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পুরো আর্টিকেলটি ভালভাবে পড়ুন, আশা করি সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পারেন।

আজ আর নয়, রমজানে কুরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে আপনার কোন কিছু যদি জানা থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আশা করছি আপনার উত্তরটি দিয়ে দিব। তাহলে আমাদের আজকের রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল আমাদের পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?