অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/12/numonia.html

বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ - বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয়

বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ গুলো জেনে রাখলে আপনি খুব সহজেই নিউমোনিয়ার শনাক্ত করা যায়। বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ না জানার কারণে অনেকেই জটিল সমস্যার মুখোমুখি হন।বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ গুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

পেজ সূচিপত্র: বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ - বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয়

বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ - বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয়: উপস্থাপনা

বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ এবং বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয় কি? তা নিচে সবিস্তারে বর্ণনা করা হবে। বড়দের নিউমোনিয়ার লক্ষণ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য শেষ পর্যন্ত আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন। মনে রাখবেন নিউমোনিয়া রোগে শুধুমাত্র শিশুরাই আক্রান্ত হয় না বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে। 

বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ - বড়দের নিউমোনিয়ার লক্ষণ

নিউমোনিয়া শুধু শিশুদের হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। বড়দেরও নিউমোনিয়া হতে পারে। বড়দের নিউমোনিয়া হলে সাধারণত যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পায় সেগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। চলুন দেখে নেয়া যাক বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ বা বড়দের নিউমোনিয়ার লক্ষণ সমূহ।

জ্বর হওয়া। নিউমোনিয়া রোগের যেসকল লক্ষণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি লক্ষণ হলো জ্বর হওয়া। জ্বর হওয়া নিউমোনিয়ার প্রাথমিক একটি লক্ষণ। সাধারণত নিউমোনিয়া হলে জ্বর হয়ে থাকে। তাই জ্বরের সাথে যদি অন্যান্য উপসর্গ মিলে যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে রোগী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

কাশি ও শ্বাসকষ্ট হওয়া। নিউমোনিয়ার অন্যতম আরেকটি লক্ষণ হলো কাশি ও শ্বাসকষ্ট হওয়া। নিউমোনিয়া হলে সাধারণত কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মত লক্ষণ গুলো দেখা যায়। সুতরাং কাশি এবং শ্বাসকষ্ট নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম।
অস্থিরতা। কোন ব্যক্তি যখন নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় তখন তিনি অস্থিরতায় ভোগেন। তাই অস্থিরতা হলো নিউমোনিয়া রোগের অন্যতম আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। বিভিন্ন কারণবশত শরীরের অভ্যন্তরে অস্থিরতার সৃষ্টি হতে পারে। 

সাধারণত যে সকল কারণে অস্থিরতা বোধ হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়া। তাই এ ধরনের লক্ষণ কারো মাঝে দেখা গেলে অবশ্যই তার উচিত হবে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা। অস্থিরতা বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ গুলোর মাধ্যমে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ। 

খাবারে অরুচি হওয়া ও বমি বমি ভাব। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর খাবারে অরুচি হয় এবং বমি বমি ভাব হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে বমিও হতে পারে। তাই খাবারে অরুচি ও বমি বমি ভাব লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। বিশেষ করে অরুচি ও বমি বমি ভাব এর সাথে যদি উপর উল্লেখিত লক্ষণগুলো পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই আপনাকে সাবধান হতে হবে। এবং রেজিস্টার ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

পেটে ব্যথা। নিউমোনিয়া হলে পেট ব্যথা দেখা দিতে পারে। কেননা পেট ব্যাথা নিউমোনিয়ার অন্যতম একটি লক্ষণ। নিউমোনিয়ার পেট ব্যথা সাধারণত তলপেট থেকে শুরু করে উপর উপর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যদি সমস্ত পেটে অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা অনুভূত হয় তাহলে অবশ্যই আপনার উচিত হবে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা। 

কেননা সমগ্র পেটে যন্ত্রণাদায় ব্যথা নিউমোনিয়ার অন্যতম একটি লক্ষণ। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে বা অন্যান্য কারণে পেট ব্যথা হলে সাধারনতা উপরের দিকে হয়ে থাকে। কিন্তু নিউমোনিয়ার পেটের ব্যথা সমগ্র পেট জুড়ে বিস্তৃত থাকে। সমগ্র পেটে ব্যথা হওয়া বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ। বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয় কি? সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হয়েছে। 

শ্বাস নেয়ার সময় বুকের নিচের অংশ ভিতরে ঢুকে যাওয়া। নিউমোনিয়ার প্রকোপ অত্যাধিক হলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বুকের নিচের অংশ ভেতরের দিকে প্রবেশ করতে পারে। যদি এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখতে পান তাহলে তৎক্ষণাৎ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। কেননা শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ করার সময় বুকের নিচের অংশ ভিতর দিকে ঢুকে যাওয়া মারাত্মক নিউমোনিয়ার লক্ষণ। 

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে যদি যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করানো হয়, তাহলে যে কোন সময় রোগীর মৃত্যু হতে পারে। তাই অবশ্যই আপনাকে সমাধান থাকতে হবে এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে, কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে যেতে হবে।

খিঁচুনি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া প্রকোপ যদি বেড়ে যায় তাহলে খিচুনি হতে পারে। খিচুনি হওয়া অশনি সংকেত। তাই যদি কোন নিউমোনিয়া রোগীর খিচুনির মত লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখবেন নিউমোনিয়া রোগে খিচুনি কিন্তু খুবই মারাত্মক খারাপ একটি লক্ষণ। খিচুড়ি বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। 

নিউমোনিয়া যখন প্রচন্ড আকার ধারণ করে তখনই কেবল খিঁচুনি হতে পারে। নিউমোনিয়া রোগের মারাত্মক একটি লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। সুতরাং খিচুনির মত লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে অবহেলা করা যাবে না।

নিউমোনিয়া রোগের কারণ

বড়দের নিউমোনিয়া রোগ হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে বিভিন্ন কারণে বয়স্ক ব্যক্তিরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে তবে সাধারণত যে সকল কারণে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে সেই কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
আপনি যদি নিউমোনিয়া রোগ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চান তাহলে সাবধানতার বিকল্প নেই সাবধানতা অবলম্বন করলে খুব সহজেই নিউমোনিয়া রোগ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায়। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক নিউমোনিয়া রোগের কারণ সমূহ। বড়দের নিউমোনিয়ার লক্ষণ এবং বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয় কি? সে বিষয় সম্পর্কে এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

নিউমোনিয়া রোগের কারণ সমূহ:
  • ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস ও ফাঙ্গাশ জনিত কারণে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে।
  • শরীর ও ফুসফুস দুর্বল হলে।
  • স্ট্রোকের সমস্যা থাকলে।
  • সংক্রমণের কারণে

বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয়

ছোট হোক বা বড় হোক নিউমোনিয়া হলে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। সচেতন থাকলে আপনি খুব সহজেই নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে পারবেন। নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করার জন্য যে বিষয়গুলো অতীব জরুরি সেগুলো নিচে তুলে হলো। 

সাবান দিয়ে হাত ধৌত করা। পরিবারের সকলকে অবশ্যই নিয়মিত সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধৌত করতে হবে। বাইরে থেকে এসে প্রথমে অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে সম্পূর্ণ হাত জীবন মুক্ত করে নিতে হবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা। নিউমোনিয়া হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। শরীরকে হাইড্রেট রাখতে পানি পানির কোন বিকল্প নেই। বিশেষ করে রোগাক্রান্ত অবস্থায় অবশ্যই শরীর হাইড্রেট রাখতে হবে। আর শরীর হাইড্রেট রাখার একমাত্র উপায় হল পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা। এবং স্যূপ জাতীয় খাবার গ্রহণ করা। তাই নিউমোনিয়া হলে অবশ্যই আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

লেবু ও মধুর শরবত খাওয়া। নিউমোনিয়া হলে সাধারণত কাশি হয়ে থাকে আর কাশি হওয়ার কারণ হলো ফুসফুসের জমে যাওয়া শ্লেষ্মা। তাই ফুসফুসের শ্লেষ্মা যদি বের করে ফেলা যায় তাহলে নিউমোনিয়ার প্রভাব কমে আসবে। শ্লেষ্মা বাইরে বের করে নিয়ে আসার জন্য অন্যতম উপকরণ হতে পারে মধু এবং লেবুর শরবত। বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ সমূহ উপরে তুলে ধরা হয়েছে।

আপনি যদি নিয়মিত মধু এবং লেবুর শরবত গ্রহণ করেন তাহলে বুকে জমে থাকা কফ খুব সহজেই বাইরে বের হয়ে আসবে। যা নিউমোনিয়া নিরাময়ের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয় কাজ সমূহের মধ্যে অন্যতম করণীয় কাজ হলো লেবু ও মধুর শরবত খাওয়া। 

অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করা: কাশি হলে সাধারণত রোগীরা কাশির সিরাপ সেবন করে থাকে। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে, কাশি হলো এমন একটা প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর ফুসফুসের শ্লেষ্মা বের করে দিতে চেষ্টা করে। তাই কাশির সিরাপ ছাড়াই চলতে পারলে ভালো। কিন্তু কাশির মাত্রা বেশি থাকলে হালকা ডোজে সিডাটিভ কাশির সিরাপ সেবন করতে পারেন। অথবা লেবু ও মধুর মিশ্রণ পান করতে পারেন। বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয় কাজ গুলোর মধ্যে আরেকটি অন্যতম কাজ হলো রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক সেবন না করা। 
হলুদ সেবন করা। হলুদকে বলা হয় প্রাকৃতিক এন্টি সেপটিক। তাই হলুদ সেবন করলে খুব সহজেই আপনি নিউমোনিয়া রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। শ্বাসকষ্ট অনুরোধ করার জন্য এবং নিউমোনিয়ার প্রভাব কমানোর জন্য প্রাচীনকাল থেকেই হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হলুদ সেবন করার মাধ্যমে নিউমোনিয়া রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বড়দের নিউমোনিয়ার লক্ষণ এবং বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয় কি? আশা করি তা ইতোমধ্যেই জানতে পেরেছেন। 

বড়দের নিউমোনিয়ার লক্ষণ - বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয়: উপসংহার

বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয় কি? সে সম্পর্কেও পড়েছে সকল তথ্য তুলে ধরা হলো আপনি যদি সেই তথ্যগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পারেন তাহলে নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ থেকে মুক্তি পাবেন। বড়দের নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ বা বড়দের নিউমোনিয়ার লক্ষণ গুলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। ১৬৪১৩

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?