OrdinaryITPostAd

জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলতের বিস্তারিত জেনে নিন

প্রিয় পাঠক আজকের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করব জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে। জিলহজ মাস মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র মাস। এই মাসে অনেক গুলো আমল রয়েছে যা একজন মুমিন হিসেবে সকলের আদায় করা উচিত। তাই আজকের এই পোস্টে আমরা জানাবো জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত এর ফজিলত সম্পর্কে।

আপনি যদি জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে চান তাহলে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। তো চলুন জেনে আসি জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে।

পেজ সূচিপত্রঃ জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত

জিলহজ মাসের রোজা কেন রাখা হয়

জিলহজ মাস হল ইসলামী ক্যালেন্ডারের 12 তম মাস। এটি মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস কারণ এই মাসে বিশ্বের সকল মুসলিমগণ হজ পালন করে থাকেন। জিলহজ মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখ হজ পালন করার নির্ধারিত সময়। এই মাসেই মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল আযহা পালন করা হয়। আমরা এই পোস্টে জানব জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে।

আরো পড়ুনঃ সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৩

চারটি সম্মানিত মাসের মধ্যে জিলহজ মাস একটি। এবং আরবি ক্যালেন্ডার এর সর্বশেষ মাস জিলহজ মাস। এই মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা (কোরবানির ঈদ) পালনের মাধ্যমে বিশ্বের সকল মুসলমান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য এবং হযরত ইব্রাহিম (আ) ও হযরত ইসমাইল (আ) এর স্মৃতি বহন করে।

হযরত ইব্রাহিম (আ) এর কোরবানির ইতিহাস মানুষকে ত্যাগের শিক্ষা দেয়। শিক্ষা দেয় যে একজন প্রকৃত মুমিন তার সবকিছু আল্লাহর খুশির জন্য আল্লাহর রাস্তায় ত্যাগ করে দিতে পারে। হযরত ইব্রাহিম (আ) এর পুরো পরিবারের আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ কে আল্লাহ তা'আলা হজ বলে ঘোষণা করেছে। আর এই প্রতিটি ঘটনা ঘটেছিল জিলহজ মাসে। তাই জিলহজ মাসে মুসলমানগন হজ পালন ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা পালন করে থাকে।

জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত

আমরা এই পোস্টে আলোচনা করছি জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে। যারা এই পোস্টটি পড়ছেন তারা নিশ্চয়ই জিলহজ মাসের রোজা করতে চান এবং এর ফজিলত সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই পোষ্ট টি আপনার জন্য। সম্পূর্ণ পড়লে জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে জানতে পারবেন।

হজের মাস হল জিলহজ মাস। জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১৩ তারিখ এই 6 দিন হজের মূল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই মাসের অনেকগুলো ঘটনা রয়েছে যেগুলো হযরত ইব্রাহিম (আ) আল্লাহ তালা কে খুশি করার জন্য করেছিলেন। তাই আল্লাহ তাআলা পুরো মুসলিম জাতিকে শিক্ষা দিয়েছে একজন মুমিন আল্লাহ তাআলার খুশির জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, অতঃপর যে কেউ এই মাসগুলোতে হজ করা স্থির করে তার জন্য হজের সময় স্ত্রী সম্ভোগ অন্যায় আচরণ কলহবিবাদ বিধেয় নহে। তোমরা উত্তম কাজে যা কিছু করো আল্লাহ তারা জানেন এবং তোমরা পাথেয়র ব্যবস্থা করবে, আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পথ। হে বোধসম্পন্ন ব্যাক্তিগন তোমরা আমাকে ভয় করো। (সূরা বাকারা আয়াতঃ ১৯৭)

আরবি ক্যালেন্ডার বারটি মাস এর মধ্যে চারটি (জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব) মাস আল্লাহ তাআলার কাছে অনেক প্রিয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা 12 টি, যা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী সেইদিন থেকে চালু আছে যেদিন আল্লাহ তা'আলা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ, এটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। (সূরা তাওবাহ, আয়াতঃ ৩৬)

আরো পড়ুনঃ ঈদুল আযাহা ২০২৩ কত তারিখে

জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার পর থেকে 9 তারিখ পর্যন্ত দিনে রোযা রাখা এবং রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা একজন মুসলমান হিসেবে করা উচিত। যেমন নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত আল্লাহ তাআলার জিকির তাওবা ইস্তেগফার ইত্যাদি বেশি বেশি করে করা। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, জিলহজ মাসের প্রথম 10 দিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট অন্য দিনের ইবাদত থেকে বেশি প্রিয়। প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার মত আর প্রতিটি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদত এর মত।(তিরমিজি)

 রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, "আমার প্রতি আযহার দিন অর্থাৎ 10 জিলহজ ঈদ পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আল্লাহ এই মতের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। তখন এক ব্যক্তির জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর নবী বলেন, যদি আমার কোরবানি করার সামর্থ্য না থাকে কিন্তু আমার কাছে এমন উট বাকরি আছে যার দুধ পান করা বা মাল বহন করার জন্য তা পালন করি আমি কি তা কুরবানী করতে পারব? আল্লাহর নবী বলেন, না বরং তুমি তোমার মাথার চুল ও গফ কেটে ফেলো এবং নাভির নিচের চুল পরিষ্কার করো। এগুলোই আল্লাহর নিকট তোমার কুরবানী"

৯ জিলহজ আরাফার দিন নফল রোজা রাখা সুন্নত। তবে হাজী সাহেবদের জন্য এই রোজা প্রযোজ্য নয়। নবীজী বলেন," আরাফার দিনে রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে আল্লাহ তাআলা রোজাদারের বিগত এক বছরের গুনহা এবং সামনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন"।(তিরমিজি)

জিলহজ মাসের রোজা নিয়ত

নিয়ত অর্থ হল মনে মনে সংকল্প করা। জিলহজ মাসের রোজার নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে করতে হবে এমনটা নয় অন্তরের দৃঢ় সংকল্প কে নিয়ত বলা হয়। মুখে বলা জরুরী নয়। নিয়ত করা একান্তই নিজের মনের বিষয়। আপনি মনে মনে আল্লাহ তায়ালাকে বলবেন আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য আপনি নফল রোজা রাখছেন এভাবে ও নিয়ত করা যায়।

আরো পড়ুনঃ ২০২৩ সালের রমজানের ক্যালেন্ডার

এমনকি আপনি রমজান মাসে যেভাবে নিয়ত করেন সেভাবে ও নিয়ত করতে পারেন কিন্তু রমজান মাসের জায়গায় নফল বলতে হবে কারন এটা তো রমজান মাস নয়। কারণ নিয়ত বিষয়টা একান্তই ব্যক্তিগত মনের বিষয়। মনে মনে সংকল্প করা নিয়ত।

শেষ কথাঃ জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত

উপরে জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা যারা জিলহজ মাসের রোজা করতে চান তারা উপরে বিষয়গুলো ভালোমতো পড়ে নিন সব কিছু আলোচনা করা হয়েছে। জিলহজ মাসের রোজা রাখার ফজিলত রয়েছে সবকিছু।

এতক্ষন আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম পোস্ট আরও করতে আমাদের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েব সাইট নিয়মিত ফলো করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url