অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/06/loan.html

ব্যাংক ঋণ পাওয়ার উপায় - বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় ২০২২

আমাদের মধ্যে অধিকাংশই লোকই ব্যাংক ঋণ পাওয়ার উপায় - বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার সঠিক উপায় জানি না ৷ তাই, সঠিকভাবে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার উপায়  জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

নিশ্চয়ই আপনার বা আপনাদের মনে, ব্যাংক লোন কি? ঋণ নেবার পূর্বে অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা আবশ্যক? ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার উপায় এবং বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার সঠিক উপায় প্রভৃতি প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায় ৷ চলুন তাহলে দেরি না করে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক-

ব্যাংক লোন কি?

ব্যাংক লোন হল ব্যাংক দ্বারা ঋণগ্রহীতাকে সুদের বিনিময়ে টাকা প্রদান করা। এক্ষেত্রে, ব্যাংকে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময় পরে সুদসহ ঋণকৃত টাকা পরিশোধ করতে হবে। এজন্য প্রথমেই আপনাকে  ব্যাংকে ঋণ পাওয়ার উপায় জানতে হবে।  ব্যাংক ঋণ দেওয়ার কারণ হচ্ছে সুদ গ্রহণ বা অর্জন।

ঋণ নেবার পূর্বে অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা আবশ্যক

ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পূর্বে প্রথমেই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে আপনি কোন ব্যাংকের শর্তগুলো পালন করতে সক্ষম। যে ব্যাংকের শর্তগুলো আপনার কাছে সহজ মনে হবে সেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিবেন। এবং সাথে সাথে খেয়াল রাখবেন আপনি কি উদ্দেশ্যে  ঋণ নিবেন তা ভালোভাবে সিলেক্ট করা।

কি প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণ নিবেন, ব্যাংক ঋণের শর্তাবলী, যে ব্যাংক থেকে ঋণ সেই ব্যাংকের  সুদের হার কত ও ব্যাংক ঋণের সুবিধা - অসুবিধা প্রভৃতি বিষয় জানা আবশ্যক। আশা করি, উপরোক্ত বিষয়গুলো আপনাকে বা আপনাদেরকে ব্যাংক ঋণ নিতে বা পেতে সাহায্য করবে।

ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার উপায়

ব্যাংকের ঋণ নেওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমেই বাছাই করতে হবে আপনি কোন উপায়ে ব্যাংকে ঋণ নিবেন। তাই, আপনাদের সুবিধার্থে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলোঃ

  • যাবতীয় ব্যক্তিগত সংক্রান্ত ঋণ 
  • ব্যবসা বাণিজ্য সংক্রান্ত ঋণ 
  • বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত ঋণ 
  • গাড়ি ক্রয় সংক্রান্ত ঋণ
  • চিকিৎসা সংক্রান্ত
  • পড়াশোনা সংক্রান্ত
  • কৃষিকাজ  সংক্রান্ত
  • প্রবাস সংক্রান্ত
  • বেকার সংক্রান্ত ঋণ
  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ
  • বিবাহ  সংক্রান্ত ঋণ
  • শিল্প-কারখানার জন্য ঋণ
  • যে কোন দুর্যোগে তাৎক্ষণিক সংক্রান্ত  ঋণ

উপরে প্রদত্ত ঋণ সোর্স গুলো থেকে যে কোন একটি  বাছাই করতে হবে। পরবর্তী ধাপে, আপনাকে বা আপনাদেরকে বাছাইকৃত ব্যাংক থেকে ঋণ নিবেন। সুতরাং আশা করি, আপনি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার উপায় জানতে সক্ষম হয়েছেন।

ব্যাংক ঋণের শর্তাবলী

ব্যাংক ঋণ পাওয়ার অন্যতম উপায় হল  ব্যাংক প্রদত্ত শর্তাবলী পূরণ করা। কেননা ব্যাংক আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে ঋণ দিয়ে থাকে। তাই, ব্যাংক ঋণ নেওয়ার আগে প্রথমেই জেনে নিবেন কি কি শর্ত আপনি মানতে পারবেন এবং আপনি যে সকল ব্যাংকের শর্তগুলো পূরণ   করতে পারবেন সে সকল ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করবেন। যাতে পরবর্তীতে কোন সমস্যার সম্মুখীন না হন।

এক্ষেত্রে কোনভাবেই অনৈতিক স্টেটমেন্ট প্রদান করবেন না এবং যেসকল ডকুমেন্টস দেখানো প্রয়োজন সেগুলোই দেখাবেন। আশা করি, উপরের আলোচনায় ব্যাংক ঋণের শর্তাবলী ভালোভাবে জানতে সক্ষম হবেন এবং আপনার কোন সমস্যা হবে না।

বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায়

বর্তমানে ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বাংলাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায়। এতে আপনার সময় অপচয় হয় না  এবং কষ্ট লাঘব হয়। চলুন তাহলে দেরি না করে বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করা যাক। এক্ষেত্রে আমরা ৪টি ধাপে বিভক্ত করতে পারি। যথাঃ

প্রথম ধাপঃ 
প্রথমেই  আপনি http://froms.mygov.bd এই লিঙ্কে ক্লিক করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

দ্বিতীয় ধাপঃ  
এরপর, সবার উপরে বাম পাশের কোণায় '' বাংলাদেশ ফরম '' লেখা বাটনটিতে ক্লিক করুন।

তৃতীয় ধাপঃ 
তারপর, '' অনলাইনে আবেদন করুন '' বাটনটিতে ক্লিক করুন।

চতুর্থ ধাপঃ 
সর্বশেষে, আপনি একটি ইন্টারফেস পাবেন যেখানে অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে। সেখান থেকে আপনি আপনার ইচ্ছামত মাধ্যমটি সিলেক্ট করে সেই মাধ্যমে অনলাইনে লোন নিতে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে ফরমটি পূরণ করুন।
উপরের আলোচনায় আশা করি, আপনি বা আপনারা অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় জানতে পেরেছেন।

 ব্যাংক ঋণের আবেদন করার করার নিয়ম

ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই  ব্যাংকে ঋণের আবেদন করার করার নিয়ম জানতে হবে। অতএব, ব্যাংকে ঋণের আবেদন করার করার নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলোঃ

  • প্রথমেই আপনাকে ব্যাংক ঋণের আবেদন ফরম এনএফ পূরণ করতে হবে।
  • এরপর, লোন নেওয়ার কারণ ভালোভাবে বুঝিয়ে বলবেন এবং আপনি কত টাকা নিবেন তা ফর্মে উল্লেখ করবেন।
  • তারপর, আপনি চেক করবেন ইনস্টলমেন্ট কিভাবে করতে হয় এবং সুদের হার কত?
  • পরবর্তীতে, আপনার ফরমটি আপনি   সাবমিট করবেন।
  • সর্বশেষে, আপনার কাছে ইন্টারভিউয়ের জন্য কল আসবে সেখানে আপনি আপনার ঋণের কারণ কি, কত টাকা  ঋণ নিবেন, কি কারনে ঋণ নিবেন প্রভৃতি প্রশ্নের জবাব দিবেন।
অতএব, উপরের আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায় যে, আপনি বা আপনারা ব্যাংক ঋণের আবেদন করার সঠিক নিয়ম জানতে পেরেছেন।

ব্যাংক ঋণের সুদের হার কত?

ব্যাংক যে ঋণ দেয় তা থেকে অতিরিক্ত যে টাকা নেয় তাকে সুদ বলে। একেক ব্যাংকে সুদের হার একেক রকম হয়। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী সব ধরনের বিনিয়োগ ও ঋণের সুদের হার করা হয় সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। কিন্তু এক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের জন্য ব্যতিক্রমী লক্ষ করা যায়। তবে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে যে কোন ব্যাংক ৯ শতাংশ থেকে কম আসবে ৯ শতাংশ থেকে বেশি আসবে না।

কিন্তু  ঋণগ্রহীতা সময় মত সুদ দিতে না পারলে অতিরিক্ত ২ শতাংশ যোগ করা হবে। মোট  ৯ শতাংশ +  শতাংশ = ১১ শতাংশ হবে। ব্যাংক ঋণ নেওয়ার আগে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে ব্যাংক সুদের ব্যাপারে জেনে নিবেন কেননা বাংলাদেশ ব্যাংক  সুদের হার  নির্ধারণ করে থাকে।

উপরে সুদের হার সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য অতি সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই আশা করি, আপনি বা আপনারা ব্যাংক ঋণের সুদের হার সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যাদি জানতে সক্ষম হয়েছেন।

ব্যাংক ঋণের সুবিধা - অসুবিধা

ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ঋণের সুবিধা - অসুবিধা উভয় দিক লক্ষ্য করা যায়। অতএব, ব্যাংক ঋণের সুবিধা - অসুবিধা দিক তুলে ধরা হলোঃ
ব্যাংক ঋণের সুবিধাঃ 
  • কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।
  • বেকারত্ব নিম্নমুখী।
  • আত্মনির্ভরশীল হওয়া।
  • অর্থনৈতিক উন্নয়ন বৃদ্ধি।
  • নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
  • স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে।
  • আপনাকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলে।
  • বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণে সাহায্য করে।


ব্যাংক ঋণের অসুবিধাঃ
সবকিছুরই উপকারী ও অপকারী দিক আছে। ঠিক তেমনি ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে অসুবিধা রয়েছে। ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া থাকে। ওই নির্দিষ্ট সময় পার হলে চড়ামূল্যের সুদ দিতে হয়। এমনকি আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া অতিরিক্ত অনেক চার্জ বা সুদ যুক্ত করে দেয়। তাছাড়া অনেক ব্যাংকে আপনার মূল্যবান মূলধন বন্ধক রাখতে হয়। ইসলাম ধর্মে, ব্যাংক ঋণ দেওয়া ও নেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক ঘৃণীত অপরাধ। তাওবা ব্যতীত এর গুনাহ মাফ হয় না। সর্বোপরি, ব্যাংক ঋণের সুবিধা - অসুবিধা দিকগুলো উপরে ফুটে উঠেছে।

বাংলাদেশের সেরা ২০টি  ঋণী ব্যাংক

বাংলাদেশের ঋণ নেওয়ার জন্য অনেক ব্যাংক রয়েছে এদের মধ্যে সেরা ২০টি ঋণী ব্যাংক নিম্নরূপঃ
  • বাংলাদেশ ব্যাংক
  • এশিয়ান ব্যাংক
  • জনতা ব্যাংক
  • গ্রামীণ ব্যাংক
  • ইসলামিক ব্যাংক
  • সোনালী ব্যাংক 
  • ডাচ বাংলা ব্যাংক
  • ব্রাক ব্যাংক লিমিটেড
  • অগ্রণী ব্যাংক
  • সিটি ব্যাংক
  • রুপালী ব্যাংক
  • আল - আরাফা ব্যাংক
  • প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড
  • ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড
  • বেসিক ব্যাংক লিমিটেড
  • বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • পূবালী ব্যাংক  লিমিটেড
  • প্রাইম ব্যাংক  লিমিটেড
  • ন্যাশনাল ব্যাংক  লিমিটেড
  • আইএফআইসি ব্যাংক  লিমিটেড

মূলকথাঃ ব্যাংক ঋণ পাওয়ার উপায়  -  বাংলাদেশে অনলাইনে পাওয়ার উপায়

আমাদের এই পোস্টটিতে ব্যাংক লোন কি? ঋণ নেবার পূর্বে অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা আবশ্যক? ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার উপায় এবং বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তাই, আশা করি যে, আপনি বা আপনারা ব্যাংক ঋণ পাওয়ার উপায় জানতে সক্ষম হয়েছেন।

আর আমাদের আজকের পোস্টটি পড়ে আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি আপনার ফেসবুক মেসেঞ্জারে শেয়ার করতে পারেন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ৷  ধন্যবাদ ।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?