অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2019/12/sandeep-maheshwari-interview-tips.html

সন্দীপ মহেশ্বরীর সেরা জব ইন্টারভিউ টিপস - আপনার জয় সুনিশ্চিত

আপনি কি নতুন চাকরী প্রার্থী অথবা আপনি কি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন  জব ইন্টারভিউয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার স্বীকার? তবে আজকের লিখাটি পড়ে আপনার জীবনের মোড় ঘুরে যেতে পারে। আজকের লিখাতে আমরা খুঁজে বের করবো সে সকল কারণ যার জন্য চাকরির ইন্টারভিউতে বার বার তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হতে হয়। একই সাথে আমরা এই তিক্ত অভিজ্ঞতা কি করে রূপান্তর করা যায় মিষ্ট প্রাপ্তিতে তার উপায়ও বের করবো। তাহলে আসুন শুরু করা যাক!

আসলে সমস্যাটা কোথায়?

প্রতিটি ইন্টারভিউয়ের পূর্বে আমাদের মাঝে ২ ধরনের যেকোন একটি মনোভাব সৃষ্টি হয়। এগুলো হলো-
  • নেতিবাচক ভাবনা
  • তথাকথিত ইতিবাচক ভাবনা

নেতিবাচক ভাবনা

চাকরির ইন্টারভিউ এর পূর্বে আপনার কি কখনো এরূপ মনে হয়েছে, "আরে ইন্টারভিউ তো এমনেই দিতে যাচ্ছি। গত ৪টি ইন্টারভিউ এতো ভালো করে দিলাম তাও হলো না, এটা আবার কেমনে হবে? আসলে আমার ভাগ্যেই চাকরী নেই।"

এরূপ নেতিবাচক চিন্তাভাবনা যদি আপনার মাঝে থাকে তবে এখনই সতর্ক হোন। কারণ এরূপ মনোভাব আপনাকে সামনে কখনই আগাতে দিবে না, উল্টো আপনাকে পিছনে ঠেলে দিবে।

তথাকথিত ইতিবাচক ভাবনা

আপনি হয়তবা বিভিন্ন মোটিভেশনাল বই পড়ে বা ভিডিও দেখে পুরো চাংগা হয়ে গেলেন আর মনে মনে বলতে লাগলেন- 'এবার চাকরী আমার হবেই হবে। আজ সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরবোই!' কিন্তু কাজের বেলা দেখা গেল আপনি পুনরায় লাভ করলেন সেই পুরাতন তিক্ত অভিজ্ঞতা। কেন জানেন?

কারণ, আপনি কেবল নিজেকে পজিটিভ চিন্তায় ভরিয়ে তুলেছেন কিন্তু কর্ম করেন নি! এরূপ পজিটিভ চিন্তাভাবনা কেবল মাত্র আপনার কনফিডেন্ট বাড়াতে পারে, কিন্তু কনফিডেন্টই কিন্তু চাকরী প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না। আপনি চাকরীর প্রস্তুতিই নিলেন না অথচ আপনি অনেক কনফিডেন্ট, তবে চিন্তা করে দেখুন, ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনি আপনার কনফিডেন্টের জোরে কিইবা বলবেন যখন আপনি প্রশ্ন রিলেটেড কিছুই জানেন না!
এরূপ অবাস্তব কল্পনা কিভাবে আপনাকে নেতিবাচকতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা আপনি নিজেও বুঝবেন না! অবাস্তব কল্পনা করতে করতে আপনার কনফিডেন্ট এতই বেড়ে যাবে যে আপনি তখন ধরেই বসে থাকবেন চাকরীটা আপনার হয়েই গেছে। ফলে তখন আপনি কল্পনা করতে বসবেন চাকরীটা পেলে আপনি কি করবেন না করবেন তা নিয়ে!

আপনি হয়ত ভাববেন চাকরীটা পেলে ধার-দেনা শোধ করবো, বাবাকে আর চাকরী করতে দিবো না, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাবো, ছোট বোনের বিয়ে দিবো ইত্যাদি ইত্যাদি। আর যতই আপনার প্রত্যাশা বাড়তে থাকবে একই সাথে বাড়তে থাকবে ভয়ও। কিসের ভয় জানেন?

আপনার মনে তখন ভয় জাগবে, যদি চাকরীটা না হয় তবে কেমনে আমি ধার-দেনা শোধ করবো, কেম্লনে বাবাকে আর চাকরী করতে মানা করবো, কেমনে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাবো, কেমনে ছোট বোনের বিয়ে দিবো ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ এরূপ 'Unrealistic Wishful Thinking ' করে আপনি দিনকে দিন কেবল পিছনের দিকেই আগাচ্ছেন। যে সময়টা আপনার চাকরীর প্রস্তুতির জন্য দেওয়ার কথা সে সময়টা আপনি দিচ্ছেন নিজের চিন্তাতেই!
এবার ভেবে দেখুন, দুনিয়াতে কি এমন কোন চাকরীদাতাকে খুঁজে পাবেন যিনি তার নিজের কোম্পানির লাভ বাদ দিয়ে আপনার লাভের চিন্তা করবে? চাকরীদাতার কি আসে যায় আপনার সমস্যা নিয়ে? কি আসে যায় আপনি খেতে পারছেন নাকি পারছেন না?

নিজেকে আরো প্রশ্ন করুন, এতো এতো চাকরী প্রার্থী থাকতে অফিস অন্যদের বাদ দিয়ে কেন কাওসারকেই নির্বাচিত করবে চাকরিটার জন্য? আপনার কাছে এমন কি বাড়তি স্কিল আছে যার জন্য কোম্পানি আপনার থেকে বাড়তি ফায়দা লাভ করতে পারে? আছে কি এই উত্তরগুলো আপনার কাছে? চলুন এবার সমস্যার সমাধান বের করি-

নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করা শিখুন

আপনি যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবেন চাকরী পাওয়া কিংবা না পাওয়া আপনার হাতে নেই ততই আপনি সমাধানের দিকেই অগ্রসর হবেন। বিশ্বাস করুন, আপনার যদি যোগ্যতা থাকে তবে দুনিয়ার সকল প্রতিষ্ঠানেই আপনার চাকরী হতে বাধ্য। তাই চাকরী পাওয়া কিংবা না পাওয়া নিয়ে চিন্তা করা বাদ দিয়ে নিজের চাকরীর প্রস্তুতিতে ফোকাস দিন। এতে আপনার সময় বাঁঁচবে, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা বাড়বে।

নিজের ব্যাপারে নয়, কোম্পানির লাভের ব্যাপারে ভাবুন

পূর্বেই বলেছি কোম্পানি নিজের লাভ দেখেই চাকরী দেয়, আপনার লাভ ক্ষতি তাদের মুখ্য বিষয় নয়। তাই কোন কোম্পানিতে চাকরীর ইন্টারভিউয়ের আগে ওই কোম্পানি সম্পর্কে ভালো করে রিসার্চ করুন, তাদের ওয়েবসাইট ঘেটে তাদের উৎপাদন সম্পর্কে জানুন, তাদের লাভ-ক্ষতির ধারনা নিন, তাদের চাকরী করতে কি কি যোগ্যতা লাভ করা জরুরী তা বের করুন! সর্বোপরি কোম্পানি আপনার থেকে কিভাবে লাভবান হবে তা বের করুন। এরূপ করার ফলে আপনার আত্মবিশ্বাস এর সাথে সাথে দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে। এরূপ চিন্তাকেই বলে প্রকৃত পজিটিভ চিন্তা ভাবনা।

তারপর ইন্টারভিউয়ের মুখোমুখি হোন

এখন জব ইন্টারভিউতে গিয়ে আপনি দেখবেন সেই দুই প্রকার লোক -
  • যাদের একদল নেতিবাচক চিন্তায় ডুবে আছে, এদের চাকরি পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। 
  • আরেক দল লোক, যারা নিজেদের অন্ধবিশ্বাস এর উপর ভর করে এসেছে ইন্টারভিউ দিতে কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই- এরাও শেষ কালে তিক্ততা পাবেই।
কিন্তু একমাত্র আপনিই আছেন যার মধ্যে না আছে নেতিবাচক চিন্তা, না আছে অন্ধবিশ্বাস। আপনার মনে থেকেই এই ধ্বনি উঠে আসবে, "এখানে আমি কোন অন্ধবিশ্বাস নিয়ে আসি নি। এই চাকরীর জন্য যতটুকু পূর্বপ্রস্তুতি নেয়ার সব আমি নিয়েছি, যতটুকু রিসার্চ করার দরকার ততটুকু আমি করেছি, যতটুকু সময় ও শক্তি ব্যয় করার দরকার আমি তা করেছি। এখন আমাকে চাকরি দিলে তা আমার জন্যও ভালো, কোম্পানির জন্যও ভালো।

আর যদি আমাকে তারা বাছাই করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা আমার জন্য তো ভালোই কারণ আমি যে প্রস্তুতি নিয়েছি এতোদিনে আমি তো পাক্কা খেলোয়াড় হয়ে গেছি, কিন্তু কোম্পানি তাদের নিজেদের মাথায় নিজেই কুড়াল মারলো আমাকে চয়ন না করে।"
আর যখন আপনি চাকরী পেয়ে যাবেন তখন এমনভাবেই চাকরী করুন, এমন ভাবে নিজের ১০০% ঢেলে দিন যাতে কোম্পানি আপনার কারনে এমন উন্নতি করে যা তারা কল্পনাও করতে পারে না। তখন আপনাকে যদি কোন কারনে চাকরি ছাড়তেই হয়, তবুও আপনার মনে এই কনফিডেন্স থাকবে 'আমাকে যে কোন কোম্পানিই ডেকে পাঠাক না কেন আমার চিন্তা নেই। দরকার হলে আমি ১ মাস ফ্রি সার্ভিস দিবো। কারণ আমার কর্ম, আমার পরিশ্রমের উপর আমার ভরসা আছে আমি কাউকে কখনো ঠকায় নি, আমিও কভু ঠকবো না।'

একেই বলে প্রকৃত বিশ্বাস, প্রকৃত সাফল্য। যখন আপনি আর দশ জনের মতো চাকরী ভিক্ষা চাইতে নয়, চাকরীদাতাকে আপনার কর্ম অফার করতে যাচ্ছেন! আপনার জয়ধ্বনি আর কেউ নামাতে পারবে না! আপনার জয় সুনিশ্চিত।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

সর্বশেষ আপডেটেড অফার পেতে চান?

অর্ডিনারি আইটি কী?