অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2019/12/job-interview-tips.html

৭+ চাকরির ভাইভা টিপস | চাকরির ইন্টারভিউ টিপস

চাকরির ইন্টারভিউর প্রশ্ন উত্তর নয় বরং কিছু সেরা চাকরির ইন্টারভিউ টিপস নিয়ে সাজানো হয়েছে এই পোস্টটি। কখনো কি কাউকে বলতে শুনেছেন, "এত ভালো চাকরির ইন্টারভিউ দিলাম, তাও কেন তার চাকরি হয় নি?" অথবা, আপনি নিজেই কি এই সমস্যার ভুক্তভোগী? তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্যই। এইরূপ প্রশ্নের সমাধান কিন্তু আমাদের মধ্যেই রয়েছে।


আপনি শুনলে অবাক হবেন, চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনি যে সকল প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন তা আপনার চাকরিদাতাকে কেবল ৭% প্রভাবিত করে এবং আপনার কথোপকথনের বিষয় (টপিক) চাকরিদাতাকে প্রভাবিত করে কেবল মাত্র ৩৮%। বাকি ৫৫% যে ব্যাপারগুলো আপনার চাকরিদাতাকে প্রভাবিত করে, তার সাথে কথোপকথনের কোনই সম্পর্ক নেই। এই বিষয়গুলো সম্পূর্নভাবে নির্ভর করে-
  • আপনার মুখভঙ্গি
  • আপনার দেহভঙ্গি
  • আপনার হাবভাব বা আচরণ
এই তিনখানা বিষয় সুপ্তভাবে আপনার চাকরিদাতাকে প্রভাবিত করে। তাই এই তিনটি বিষয়ে যদি আপনি দক্ষ না হন তবে আপনার প্রস্তুতি কিন্তু ওই ৪৫% (৭%+৩৮%) এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। বাকি ৫৫% যা দিয়ে আপনি আপনার চাকরিদাতাকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রসন্ন করবেন সেই প্রস্তুতি কিন্তু বাকিই রয়ে গেল। তাই যেকোন চাকরির ইন্টারভিউতে জয়ী হতে এই ৫৫% কিন্তু কোনভাবেই হেলাফেলা করা যাবে না।

চলুন তাহলে দেখে নিই এমন ৭টি কিলার চাকরির ইন্টারভিউ টিপস যার মাধ্যমে আপনি আপনার চাকরিদাতাকে খুব সহজেই প্রসন্ন (impress) করতে পারবেন।

নিজেকে উদারভাবে মেলে ধরুন | চাকরির ভাইভা টিপস

ইন্টারভিউতে প্রশ্নকর্তার সামনে কখনোই হাত গুটিয়ে ভাঁজ করে বসবেন না বা হাত ভাঁজ বুকের কাছে নিবেন না। এইরূপ দেহভঙ্গি দ্বারা আপনার চাকরিদাতার মস্তিষ্কে সংকেত যাবে যে, - আপনি নিজেকে গুটিয়ে রাখতেই অধিক পছন্দ করেন, অন্যদের মাঝে নিজেকে তুলে ধরার ইচ্ছা আপনার নেই, যা একটি কোম্পানির কমিউনিকেশনকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য যথেষ্ট।
তাই-
  • ইন্টারভিউ চেয়ারে পিঠ সোজা করে শান্তভাবে বসুন।
  • হাত দুইটি রাখবেন চেয়ারে হাতলে মেলে।
  • ভুলেও চেয়ারে হেলান দিয়ে আলসেমী ভংগিমায় বসবেন না।
  • পায়ের পাতা থাকবে সোজা ; ভুলেও এক পা অপর পায়ের উপর রাখবেন না।

প্রশান্ত মনে বসুন | চাকরির ইন্টারভিউ টিপস

চাকরির ইন্টারভিউ চেয়ারে বসে আপনি যদি শার্টের বোতাম নিয়ে বা টাই নিয়ে টানাটানি করেন বা হাতের আংটি বার বার ঘষেন অর্থাৎ যদি এইরূপ মুদ্রাদোষ প্রদর্শন করেন তবে আপনার চাকরীদাতা আপনাকে নার্ভাস ভাববে এবং আপনার ইন্টারভিউ ভালো করে না নিয়েই আপনাকে ছেড়ে দিতে পারে।
তাই, জব ইন্টারভিউ চেয়ারে বসে ধীরে ধীরে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে নজর দিন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে করুন। এতে আপনার হার্টবিট ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং আপনি প্রশান্ত মনে ইন্টারভিউয়ের সম্মুখিন হতে পারবেন।

হাতের ভংগিমা ঠিক করুন | চাকরির ভাইভা টিপস

  • ইন্টারভিউ চেয়ারে বসে হাত মুষ্টবদ্ধ করে না রেখে হাতের তালু খুলে রাখুন, এটি বিশ্বস্ততার প্রতীক।
  • কথোপকথনের সময় নিজেকে বুঝাতে নিজের হাতের তালু দিয়ে নিজের ডান বুক স্পর্শ করুন, এটি নির্দেশ করে আপনি ব্যতিক্রমী।
  • তাছাড়াও আপনি এক হাতের আঙ্গুলগুলো অপর হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে ঢুকিয়ে রাখতে পারেন, এটি আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

ইন্টারভিউয়াকে অনুকরণ করুন | চাকরির ইন্টারভিউ টিপস

মানুষের একটি সহজাত ধর্ম হলো সে নিজের আচার আচরণকে অধিক ভালোবাসে এবং অন্যের মধ্যে যদি নিজের গুণাবলি দেখতে পায় তবে তার সাথে কথা বলতে আন্তরিকতা বোধ করে।
তাই ইন্টারভিউ চেয়ারে বসে-
  • ইন্টারভিউয়ারকে ১০ সেকেন্ড পর্যবেক্ষণ করে তার আচার আচরণ লক্ষ্য করুন।
  • এরপর তার স্টাইলেই হাত নেড়ে কথা বলতে চেষ্টা করুন।
  • ইন্টারভিউয়ার যে ভয়েসে কথা বলে ঠিক একই ভয়েসে কথা বলুন।
সতর্কতাঃ 
এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখবেন, আপনার কথাবার্তায় যেন আপনার অভিনয় ধরা না পড়ে, অতিরিক্ত ভুলভাল অনুকরণে আপনার অভিনয় ধরা পড়লে হাসির কারণও বনে যেতে পারেন।

চোখে চোখ রেখে কথা বলুন | চাকরির ভাইভা টিপস

এই ট্রিক্সটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জব ইন্টারভিউ চেয়ারে বসে যদি আপনি নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন তবে তা আপনার অক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ধরা দিবে৷ সর্বদা ইন্টারভিউয়ারের চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন।  যদি অনেক ইন্টারভিউয়ার থাকে তবে সকলের দিকেই চোখ ঘুরিয়ে কথা বলবেন, তবে অধিক ফোকাস দিবেন তার চোখের দিকে যিনি আপনাকে প্রশ্ন করছেন।
মনে রাখবেন-
'চোখে চোখ রেখে কথা বলা আপনার আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বস্ততার প্রতীক।'

ছোট ছোট ভুলগুলো ঠিক করুন

  • ইন্টারভিউ চেয়ারে বসে কখনই নাকে আংগুল দিবেন না।
  • কখনই কপাল বা নাক চুলকাবেন না। 
এই সব বদ অভ্যাস কোন ইন্টারভিউয়ারই পছন্দ করেন না। তাই এখনই এসব মুদ্রাদোষ ঠিক করুন।

জব ইন্টারভিউয়ারের সাথে হাত মেলান | চাকরির ভাইভা টিপস

শুনতে অবাক লাগলেও এই টিপসটি খুবই কাজের। ইন্টারভিউ শেষে চেয়ার ছাড়ার সময় হাত বাড়িয়ে দিন ইন্টারভিউয়ারের নিকট। তার হাত ধরুন, ২ সেকেন্ড যাবত হাত মেলান, ভদ্রভাবে হাসুন এবং ধন্যবাদ দিন।

এরূপ হাত মেলানোর ফলে আপনার চাকরীদাতার মনে আপনার প্রতি আন্তরিকতার সৃষ্টি হবে এবং আপনি রুম ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেও চাকরীদাতার মস্তিষ্কে আপনার কথা রয়ে যাবে দীর্ঘ সময় ধরে। এভাবে চাকরীদাতার মনে আপনি পজিটিভলি স্থান করে নিতে পারেন।
আপনি যদি উপরে বর্ণিত ৭টি কিলার চাকরির ইন্টারভিউ টিপস যত্ন সহকারে ফলো করেন, তবে নিশ্চিতভাবেই আশা করা যায়, আপনার আগামী ইন্টারভিউ আপনার জন্য দারুণ কিছু নিয়ে আসতে চলেছে। আপনার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?