জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম
জমি কেনা মানে তো শুধু টাকা খরচ করে একটা জায়গা পাওয়া না, এটা আসলে আপনার
সঞ্চয় আর স্বপ্নের একটা বড় অংশ। আজকের এই আর্টিকেলে জমির দলিল যাচাই করার সঠিক
নিয়ম ধাপে ধাপে সবকিছু খুলে বলব যেন আপনি নিজেই চেক করতে পারেন চলুন, শুরু করি।
পেজ সূচিপত্রঃ জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম
- জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম
- জমির খতিয়ান আর পর্চা কীভাবে চেক করবেন সহজে
- নামজারি বা মিউটেশন পর্চা যাচাই না করলে কী সমস্যা হতে পারে
- খাজনার দাখিলা দেখে বুঝবেন জমির ট্যাক্স কতদিনের হালনাগাদ
- রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলের আসল কপি যাচাই করার নিয়ম
- অনলাইনে eporcha.gov.bd থেকে জমির মালিকানা যাচাই করুন
- জমির ম্যাপ আর নকশা মিলিয়ে দেখার গুরুত্ব কেন
- জাল দলিল চিনবেন কীভাবে - কয়েকটা সাধারণ টিপস
- আইনজীবী বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়া কেন জরুরি
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম
জমি ক্রয়ের আগে দলিলগুলো যাচাই করাটা আসলে পুরো ব্যাপারটার মেরুদণ্ড, কারণ এটাই
জমির মালিকানার একমাত্র লিখিত প্রমাণ। অনেকে শুধু বিক্রেতার দেওয়া কাগজ দেখে খুশি
হয়ে যান, কিন্তু সঠিক নিয়ম না মানলে পরে বছরের পর বছর মামলায় ঘুরে টাকা আর শান্তি
দুটোই যায়। তাই ধাপে ধাপে যাচাই করুন এভাবেঃ
- বিক্রেতার কাছ থেকে অবশ্যই অরিজিনাল রেজিস্ট্রিকৃত দলিল চেয়ে নিন, ফটোকপি বা স্ক্যান কপিতে কখনোই বিশ্বাস করবেন না।
- দলিল খুলে মৌজার নাম, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, বিক্রেতার পুরো নাম ও ঠিকানা আর স্বাক্ষর সবকিছু খুঁটিয়ে মিলিয়ে দেখুন।
- পূর্ববর্তী মালিকদের সব দলিল (চেইন অফ টাইটেল) ভালো করে পর্যালোচনা করুন যাতে বোঝা যায় জমিটা সত্যিই বিক্রেতার কাছে এসেছে কি না।
এরপর আরও কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আছে যা বাদ দিলে চলবে না, কারণ জাল দলিলের
ঘটনা তো আমাদের দেশে নিত্যনৈমিত্তিক। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে বালাম বহিতে
দলিলের এন্ট্রি, তারিখ, ভলিউম নম্বর, স্বাক্ষর আর অফিসিয়াল সিল ঠিক আছে কি না
নিশ্চিত করুন। দলিলের স্ট্যাম্পের মান, কাগজের গুণগত মান আর রেজিস্ট্রি ফি সব
যাচাই করুন। যদি উত্তরাধিকার সূত্রে দলিল হয় তাহলে হেবা, উইল বা উত্তরাধিকার
সার্টিফিকেটসহ সব কাগজপত্রও চেক করা জরুরি। এভাবে বিস্তারিত যাচাই করে নিলে
জালিয়াতির ঝুঁকি অনেক কমে যায় আর আপনি নিশ্চিন্ত মনে জমি কিনতে পারেন।
জমির খতিয়ান আর পর্চা কীভাবে চেক করবেন সহজে
জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম এর একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো
জমির খতিয়ান ও পর্চা যাচাই করা। খতিয়ান আসলে সরকারি রেকর্ডে জমির মালিকানা, দাগ
নম্বর, পরিমাণ আর অন্যান্য বিবরণ লেখা থাকে। বিক্রেতা যে পর্চা দেখাচ্ছেন, সেটাতে
তার নাম স্পষ্টভাবে আছে কি না, জমির পরিমাণ দলিলের সাথে মিলছে কি না, আর জমিটা
কোন সিরিজের খতিয়ান (সিএস, এসএ, আরএস, বিএস) এসব খুঁটিনাটি মিলিয়ে দেখতে হয়।
অনেক সময় শুধু একটা খতিয়ান দেখে মানুষ সন্তুষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু পুরনো খতিয়ানে
অন্য কারো নাম থাকলে পরে বড় ঝামেলায় পড়তে হয়।
আপনার ব্রাউজার থেকেe-porcha.com ওয়েবসাইটে
যান নিচের স্কিনশটের মত পেজ দেখতে পাবেন।
এবার সার্ভে খতিয়ান এ ক্লিক করে বিভাগ সিলেক্ট করুন।
তারপর আবার আপনার জেলা সিলেক্ট করুন।
এরপর উপজেলা/থানা নির্বাচন করুন।
এরপর খতিয়ান এর ধরণ নির্বাচন করুন সি এস বা আর এস বা এস এ।
এরপর মৌজা নম্বর দিন নিচের ইমেজ এর মত।
তারপর খতিয়ান এর তালিকা ঘরে জমির খতিয়ান নম্বর দিন নিচের ইমেজ অনুযায়ী।
খতিয়ান পাওয়া গেলে সেই নামের উপর ক্লিক করা মাত্রই নিচের মত একটা উইন্ডো আসবে
যেখানে জমির পরিমাণ, দাগ নং ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া থাকবে।
এবার "বিস্তারিত দেখুন" এখানে ক্লিক করলে নিচের মত আরো একটা উইন্ডো আসবে যেখানে
প্রিন্ট এ ক্লিক করে তথ্যটির খসড়া কপি বের করে নিতে পারবেন।
এখানে বিক্রেতার নাম, জমির বিস্তারিত বর্ণনা আর অন্যান্য তথ্য দেখে নিন। যদি
অনলাইনে না পান বা সন্দেহ হয়, তাহলে সরাসরি এসি ল্যান্ড অফিসে গিয়ে খতিয়ানের
সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করুন। অনলাইনটা প্রাথমিক চেকের জন্য ভালো, কিন্তু অফিসিয়াল
কনফার্মেশন ছাড়া পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়। তৃতীয়ত, শুধু বর্তমান খতিয়ান
দেখলেই চলবে না।
আগের সব সিরিজের খতিয়ান মিলিয়ে দেখুন যাতে বোঝা যায় জমির মালিকানা কীভাবে
হাতবদল হয়েছে। নামজারি বা মিউটেশন হয়েছে কি না সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি
মিউটেশন না হয়ে থাকে, তাহলে জমি কেনার পরও আপনার নামে খাজনা দিতে বা অন্য কাজ
করতে সমস্যা হবে। তাই ধাপে ধাপে সব যাচাই না করে জমি কেনা মোটেও উচিত নয়।
নামজারি বা মিউটেশন পর্চা যাচাই না করলে কী সমস্যা হতে পারে
নামজারি বা মিউটেশন পর্চা যাচাই না করে জমি কিনলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জমিটা
আপনার নামে সরকারি খাতায় নামানোই যাবে না। বিক্রেতার নামে যদি মিউটেশন না হয়ে
থাকে, তাহলে আপনি খাজনা দিতে গেলেও তহশীল অফিসে আটকে যাবে, কারণ রেকর্ডে এখনো
পুরনো মালিকের নামই থাকবে। এর ফলে জমির ওপর আপনার আইনি অধিকার প্রমাণ করতে গিয়ে
বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হবে, আর সেই সঙ্গে মামলার খরচ তো আছেই।
অনেকে ভাবেন "পরে নামজারি করে নেব", কিন্তু বাস্তবে বিক্রেতা যদি সহযোগিতা না
করে বা অন্য কোনো উত্তরাধিকারী দাবি করে বসে, তাহলে পুরো জমিটাই ঝুঁকিতে পড়ে
যায়। আমি অনেকের কাছেই শুনেছি, এই একটা ভুলের কারণে লাখ লাখ টাকা দিয়ে কেনা জমি
শেষ পর্যন্ত শুধু কাগজে থেকে গেছে, বাস্তবে ভোগ করা যায়নি। এছাড়া ব্যাংক থেকে
লোন নেওয়া, জমি বিক্রি করা বা এমনকি কোনো সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড়
বাধা তৈরি হয়।
যদি মিউটেশন না থাকে তাহলে জমিটা আপনার নামে না থাকায় ব্যাংক লোন দিতে চায় না,
আবার বিক্রি করতে গেলেও নতুন ক্রেতা সন্দেহ করে পিছিয়ে যায়। আর সবচেয়ে খারাপ
কথা হলো, যদি বকেয়া খাজনা থেকে থাকে বা কোনো পুরনো মামলা লুকানো থাকে, তাহলে
সরকার জমিটা নিলামে তুলে দিতে পারে। তখন আপনি কোনো কিছুই করতে পারবেন না, শুধু
টাকা গুনতে থাকবেন। তাই জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম মেনে মিউটেশন
পর্চা অবশ্যই চেক করে নিন, নইলে সারাজীবনের সঞ্চয় একটা কাগজের ভুলে নষ্ট হয়ে
যেতে পারে।
খাজনার দাখিলা দেখে বুঝবেন জমির ট্যাক্স কতদিনের হালনাগাদ
জমি কেনার সময় খাজনার দাখিলা বা ট্যাক্সের রসিদটা না দেখে কখনোই এগোবেন না,
কারণ এটাই আসলে জমির সবচেয়ে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট। দাখিলায়
বিক্রেতার নাম, জমির মৌজা-দাগ-খতিয়ানের বিবরণ আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারিখ
আর পরিমাণ দেখুন। যদি দেখেন যে গত দু-তিন বছর বা তারও বেশি সময় ধরে খাজনা দেওয়া
হয়নি, তাহলে বুঝবেন জমিটায় বড় ধরনের সমস্যা আছে। এছাড়া দাখিলা থেকে বোঝা যায়
জমিটা কোনো ব্যাংকের লোন বা হাইপোথেকেশনের আওতায় আছে কি না, কোনো বকেয়া
ট্যাক্স আছে কি না।
আমি অনেকের কাছ থেকে শুনেছি যে শুধু এই একটা কাগজ না চেক করে জমি কিনে পরে বড়
ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। যদি খাজনা বকেয়া থাকে, তাহলে সরকার চাইলে যেকোনো সময়
জমিটা নিলামে তুলে দিতে পারে, আর আপনি কিছুই করতে পারবেন না। বাস্তবে দেখা
গেছে, অনেক বিক্রেতা পুরনো বকেয়া লুকিয়ে রেখে জমি বিক্রি করে দেয়, আর ক্রেতা
পরে গিয়ে হাজার হাজার টাকা বকেয়া মিটিয়ে জমি ছাড়াতে হয়। তাই দাখিলা
নেওয়ার পর সরাসরি তহশীল অফিসে গিয়ে কনফার্ম করে নিন যে রসিদটা সত্যি কি না এবং
কোনো লুকানো বকেয়া আছে কি না। এই ছোট্ট ধাপটা মেনে চললে পরে অনেক বড় লোকসান আর
মানসিক চাপ থেকে বেঁচে যাবেন।
রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলের আসল কপি যাচাই করার নিয়ম
রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলের আসল কপি যাচাই করাটা জমি কেনার সবচেয়ে নিরাপদ
ধাপগুলোর একটা। শুধু বিক্রেতার হাতে দেওয়া কাগজ দেখে সন্তুষ্ট হলে চলবে না।
সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সরাসরি গিয়ে যে বালাম বহিতে দলিলটা রেজিস্ট্রি করা
হয়েছে, সেটা চেক করতে বলুন। দলিল নম্বর, রেজিস্ট্রি তারিখ, ভলিউম নম্বর,
পক্ষদ্বয়ের নাম ও স্বাক্ষর সবকিছু মিলিয়ে দেখুন। কাগজের মান, স্ট্যাম্পের
সত্যতা আর অফিসিয়াল সিলও খেয়াল করুন। এতে অনেক জাল দলিল ধরা পড়ে। জমি কেনার আগে
দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম মেনে চললে পরে অনেক ঝামেলা থেকে বাঁচা যায়।
অফিসে গিয়ে যদি দেখেন দলিলের এন্ট্রি সঠিকভাবে নেই বা কোনো অসংগতি আছে, তাহলে
আর এগোবেন না। প্রয়োজনে সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করে নিন। বিশেষ করে যদি দলিলটা
অনেক পুরনো হয়, তাহলে আগের মালিকদের দলিলও যাচাই করা উচিত। এভাবে পুরোপুরি
নিশ্চিত না হয়ে কখনোই জমির টাকা দিয়ে দেবেন না, কারণ একবার টাকা চলে গেলে পরে
ফেরত পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়।
অনলাইনে eporcha.gov.bd থেকে জমির মালিকানা যাচাই করুন
এখনকার সময়ে জমির মালিকানা যাচাই করা আগের মতো ঝামেলার নয়, কারণ সরকারি
ওয়েবসাইট গিয়ে e-porcha.com খুললেই
মিনিটখানেকের মধ্যে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রথমে ব্রাউজারে সাইটটা ওপেন করুন,
তারপর ‘খতিয়ান অনুসন্ধান’ অপশনে ক্লিক করে মৌজার নাম, খতিয়ান নম্বর আর দাগ
নম্বর দিন। সিএস, এসএ, আরএস বা বিএস যেকোনো সিরিজের খতিয়ান সার্চ করা যায়।
সার্চ করার পর পর্চাটা পুরোপুরি দেখতে পাবেন বিক্রেতার নাম, জমির পরিমাণ,
শ্রেণি, আর কোনো নোটিশ বা বিরোধ আছে কি না সব লেখা থাকবে।
আমি নিজে অনেকবার এভাবে চেক করেছি, দেখেছি যে বিক্রেতা যা বলছে তার সঙ্গে
অনলাইন রেকর্ড মিলছে কি না তা খুব সহজেই বোঝা যায়। তবে এই অনলাইন যাচাইটা শুধু
প্রাথমিক ধাপ, পুরোপুরি নির্ভর করবেন না। যদি দেখেন বিক্রেতার নামের সঙ্গে মিল
নেই বা জমির পরিমাণে অসংগতি আছে, তাহলে আর এগোবেন না।
আরো পড়ুনঃ নতুন ল্যাপটপ ক্রয়ের গাইডলাইন
আর যদি সব মিলে যায়, তাহলেও এসি ল্যান্ড অফিসে গিয়ে সার্টিফাইড কপি নিয়ে
কনফার্ম করে নিন। কারণ অনলাইনে কখনো কখনো আপডেট দেরিতে হয়, বা পুরনো কোনো মামলা
লুকিয়ে থাকতে পারে। এই ছোট্ট অনলাইন চেকটা করলে পরে অনেক বড় ঝামেলা এড়ানো যায়,
বিশেষ করে যারা দূরে থেকে জমি কিনতে চান তাদের জন্য তো এটা খুবই সুবিধাজনক।
জমির ম্যাপ আর নকশা মিলিয়ে দেখার গুরুত্ব কেন
জমির ম্যাপ আর নকশা মিলিয়ে দেখা জমি কেনার ক্ষেত্রে খুবই জরুরি একটি বিষয়, কারণ
কাগজে-কলমে যা লেখা থাকে বাস্তবে অনেক সময় তার সাথে মিল থাকে না। বিক্রেতারা
প্রায়ই দলিলে বেশি পরিমাণ জমি দেখিয়ে কম জমি বুঝিয়ে দেন বা সীমানা নিয়ে পরে
ঝগড়া বাঁধান। জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম এর মধ্যে ম্যাপ ও নকশা
যাচাই করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এসি ল্যান্ড অফিস থেকে মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করে জমিতে সরেজমিন গিয়ে পিলার,
রাস্তা, খাল এবং আশেপাশের জমির সীমানা সবকিছু মিলিয়ে দেখলে তবেই নিশ্চিত হওয়া
যায় যে আপনি যে জমিটা কিনছেন সেটার আসল অবস্থান ও পরিমাণ দলিলের সঙ্গে মিলছে কি
না। এই যাচাই না করলে পরবর্তীতে অনেক বড় আর্থিক ক্ষতি এবং আইনি জটিলতায় পড়তে
হয়।
জাল দলিল চিনবেন কীভাবে - কয়েকটা সাধারণ টিপস
জাল দলিল চেনার জন্য কিছু সাধারণ কিন্তু খুবই কার্যকর টিপস মেনে চললে অনেক বড়
ধরনের প্রতারণা থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব। প্রথমেই দলিলের কাগজের গুণগত মান,
স্ট্যাম্পের রঙ, তারিখ এবং স্বাক্ষরের সত্যতা ভালো করে পরীক্ষা করুন। জমি কেনার
আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে এসব ছোট ছোট অসংগতি সহজেই চোখে
পড়ে। এরপর দেখুন রেজিস্ট্রি তারিখটা সরকারি ছুটির দিনে কি না, অফিসিয়াল সিল ঠিক
আছে কি না, বিক্রেতার NID-এর সাথে দলিলের নাম ও বানান মিলছে কি না। সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ হলো আগের মালিকদের দলিলগুলো (চেইন অফ টাইটেল) না দেখে কখনোই শুধু
শেষ দলিল দেখে বিশ্বাস করবেন না।
আইনজীবী বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়া কেন জরুরি
নিজে যতই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দলিল, খতিয়ান, খাজনা আর ম্যাপ চেক করুন না কেন, একজন
অভিজ্ঞ আইনজীবী বা ভূমি বিশেষজ্ঞের সাহায্য না নিলে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়া
যায় না। কারণ তাদের চোখে এমন অনেক ছোটখাটো জটিলতা ধরা পড়ে যা সাধারণ মানুষের
পক্ষে বোঝা খুব কঠিন যেমন পুরনো কোনো মামলা লুকিয়ে আছে কি না, জমিটা কোনো
ব্যাংকের লোনের আওতায় আছে কি না, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কোনো বিরোধ চলছে কি না,
বা দলিলের চেইন অফ টাইটেলে কোনো গোপন ত্রুটি আছে কি না।
আমি অনেকের কাছ থেকে শুনেছি যে নিজে সবকিছু ঠিকঠাক দেখে জমি কিনলেও পরে একটা
ছোট্ট লিগ্যাল গ্যাপের কারণে বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয়েছে। আইনজীবী শুধু
যাচাই করেন না, তিনি আপনাকে সঠিক পরামর্শও দেন মিউটেশন কীভাবে করবেন, কোন
কাগজপত্র লাগবে, বায়না দলিলে কী কী শর্ত রাখবেন সবকিছু। ফি একটু লাগে ঠিকই,
কিন্তু সেই টাকা পরে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দেয়। তাই কেনার আগে যতই
আত্মবিশ্বাসী হোন, একবার অন্তত একজন বিশ্বস্ত আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে নিন, এতে
মানসিক শান্তিটা অনেক বেশি পাবেন।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
জমি কেনা কোনো সাধারণ লেনদেন নয়, এটা আপনার সারাজীবনের সঞ্চয় আর স্বপ্নের একটা
বড় অংশ। তাই উপরের সবকিছু যত্ন করে চেক করুন, তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত
নেবেন না। প্রত্যেক এলাকায় কিছু না কিছু আলাদা নিয়ম থাকতে পারে, তাই স্থানীয়
অফিস বা অভিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে নিলে আরও নিশ্চিন্ত থাকবেন। সঠিক যাচাই
করে জমি কিনুন, যাতে পরে কোনো আফসোস না হয়। নিরাপদে কিনুন, শান্তিতে ভোগ করুন
আর কোনো প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। এমন আরও তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে
অর্ডিনারি আইটির সাথেই থাকুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ধন্যবাদ। 260416













অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url