গুগল এনালাইটিক্স ফোর কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি
গুগল এনালাইটিক্স ফোর কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি শিখুন একদম সহজ ভাষায়,
ধাপে ধাপে।ওয়েবসাইটে কোন বাটনে ক্লিক করছে, কোন লিংকে যাচ্ছে বা কোন অ্যাকশন
নিচ্ছে-সবই এবার নজরে রাখুন। শুরুতে জটিল লাগলেও সঠিক সেটআপ জানলে কাজটা
সহজ।
Google Analytics 4-এ Custom Event তৈরি থেকে শুরু করে ডেটা যাচাই পর্যন্ত পুরো
প্রক্রিয়াটি থাকছে এক জায়গায়। ভুল সেটআপের কারণে ডেটা হারানোর ঝুঁকি এড়িয়ে সঠিক
ট্র্যাকিং করতে পারবেন সহজ কয়েকটি ধাপে। চা হাতে, চলুন সেটিং দেখে নিই!
পোস্ট সূচিপত্রঃ গুগল এনালাইটিক্স ফোর কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি
- গুগল এনালাইটিক্স ফোর কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি
- GA4-এ কাস্টম ইভেন্ট কেন ট্র্যাক করবেন
- Google Analytics 4-এ ইভেন্ট কীভাবে কাজ করে
- কাস্টম ইভেন্ট সেটআপ করার আগে যা জানা দরকার
- GA4-এ কাস্টম ইভেন্ট তৈরি করার সহজ নিয়ম
- Google Tag Manager দিয়ে ইভেন্ট ট্র্যাকিং সেটআপ
- ওয়েবসাইটের বাটন ক্লিক ট্র্যাক করার পদ্ধতি
- ফর্ম সাবমিশন ও অন্যান্য অ্যাকশন ট্র্যাক করা
- GA4-এ কাস্টম ইভেন্টের রিপোর্ট দেখার নিয়ম
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
গুগল এনালাইটিক্স ফোর কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি
গুগল এনালাইটিক্স ফোর কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি নিয়ে অনেকেই একটু ভয়ে
ভয়ে থাকেন, তাই না? মনে হয় যেন কোডিং জানা কেউ ছাড়া এই কাজ করাই যাবে না।
কিন্তু সত্যি বলতে, আপনি যদি একবার বেসিক জিনিসগুলো বুঝে ফেলেন, তাহলে দেখবেন এটা
আসলে ততটা কঠিন না। আমি নিজেও যখন প্রথম শুরু করেছিলাম, একদম হাবুডুবু খাচ্ছিলাম।
ইউনিভার্সাল অ্যানালিটিক্সে আমরা যেভাবে ইভেন্ট ট্র্যাক করতাম, GA4 তে সেই পুরনো
সিস্টেমটা পুরোপুরি বদলে গেছে। আগে ক্যাটাগরি, অ্যাকশন, লেবেল দিয়ে একটা কাঠামো
বানাতে হতো। এখন সবকিছু ইভেন্ট-বেসড। প্রতিটা ক্লিক, স্ক্রল, ভিডিও প্লে-সবকিছুই
একটা করে ইভেন্ট হিসেবে গণ্য হয়। আসুন দেখে নেই ধাপে ধাপে GA4 ইন্টারফেস থেকে
তৈরি করা সেটআপ ও ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি।
প্রথমে আপনার সঠিক মেইল দিয়ে জ্ঞগুল এনালাইটিক্স এ লগিন করে নিবেন। তারপর নিচের
দেখানো ইমজের মত বাম সাইডের নিচের সেটিংস বাটনে ক্লিক করবেন।
![]() |
| Sources: https://www.youtube.com/watch?v=YP0fVeyRr-s |
সেটিংস এ ক্লিক করার পর "Ädmin" অপশন দেখতে পাবেন সেখানে ক্লিক করবেন।
![]() |
| Sources: https://www.youtube.com/watch?v=YP0fVeyRr-s |
এরপর "Admin Pannel" এ থাকা অবস্থায় "Data Display" সেকশন থেকে "Event" অপশনে
ক্লিক করবেন।
![]() |
| Sources: https://www.youtube.com/watch?v=YP0fVeyRr-s |
এবার নিচের মত একটা উইন্ডো আসবে এখানে "Creat Event" এ ক্লিক করবেন।
![]() |
| Sources: https://www.youtube.com/watch?v=YP0fVeyRr-s |
এরপর ইভেন্টনেম এ "Page View" দিয়ে "View more option" এ ক্লিক করবেন।
![]() |
| Sources: https://www.youtube.com/watch?v=YP0fVeyRr-s |
এবার "Custom event name" ও "Matching Condition" নিচের ইমেজের মত সঠিকভাবে ফিল
করে "Save" বাটনে ক্লিক করুন।
![]() |
| Sources: https://www.youtube.com/watch?v=YP0fVeyRr-s |
এরপর সামারি দেখে নিয়ে "Creat" এ ক্লিক করুন।
![]() |
| Sources: https://www.youtube.com/watch?v=YP0fVeyRr-s |
![]() |
| Sources: https://www.youtube.com/watch?v=YP0fVeyRr-s |
কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং শুধু টেকনিক্যাল একটা কাজ না, এটা আসলে আপনার ইউজারদের
বিহেভিয়ার বোঝার একটা জানালা। কে কোথায় আটকে যাচ্ছে, কোন বাটনে সবচেয়ে বেশি
ক্লিক পড়ছে, কোন কন্টেন্ট মানুষ শেষ পর্যন্ত পড়ছে-এসব প্রশ্নের উত্তর আপনি এখান
থেকেই পেয়ে যাবেন। আর একবার এই ডেটা হাতে চলে এলে, আপনার মার্কেটিং
সিদ্ধান্তগুলো আর অনুমানের উপর নির্ভর করবে না। শুরুতে জটিল মনে হলেও একবার হাত
পাকিয়ে গেলে GA4 কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং আসলে একটা মজার খেলার মতো হয়ে যায়।
ছোট ছোট ইভেন্ট দিয়ে শুরু করুন, একটা একটা করে টেস্ট করুন, আর দেখতে থাকুন
কীভাবে আপনার ডেটা আস্তে আস্তে অর্থবহ হয়ে উঠছে। মনে রাখবেন, পারফেক্ট সেটআপের
চেয়ে শুরু করাটাই বেশি জরুরি-বাকিটা সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে।
GA4-এ কাস্টম ইভেন্ট কেন ট্র্যাক করবেন
GA4-এ কাস্টম ইভেন্ট কেন ট্র্যাক করবেন, এই প্রশ্নটা আসলে অনেকের মনেই ঘুরপাক
খায়। ডিফল্ট রিপোর্ট তো এমনিতেই আছে, তাহলে বাড়তি ঝামেলা নেওয়ার দরকার কী?
কিন্তু ভাবুন তো, আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসছে, অথচ আপনি
জানেনই না তারা আসলে কী করছে সাইটে ঢুকে। এটা অনেকটা দোকানে ক্রেতা আসছে দেখতে
পাওয়া, কিন্তু তারা কোন র্যাক ঘুরে দেখছে সেটা না জানার মতোই। ডিফল্ট
ইভেন্টগুলো আপনাকে শুধু সারফেস লেভেলের তথ্য দেয়-কতজন পেজ দেখল, কতক্ষণ থাকল।
কিন্তু বিজনেসের আসল প্রশ্নগুলোর উত্তর এখানে মেলে না। কতজন মানুষ প্রাইসিং পেজে
গিয়ে "Buy Now" বাটনে ক্লিক করে থেমে গেল? কতজন চেকআউটের মাঝপথে গিয়ে ফিরে এলো?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একমাত্র কাস্টম ইভেন্টই দিতে পারে।
কাস্টম ইভেন্ট আপনাকে আসলে একটা গল্প বলে-আপনার ভিজিটর কোথা থেকে এসে, কী দেখে,
কোথায় আটকে গিয়ে চলে যাচ্ছে। এই গল্পটা বুঝে ফেললে আপনি আর অন্ধকারে ঢিল
ছুড়বেন না। কোন ফিচারটা কাজ করছে, কোনটা মানুষ পাত্তাই দিচ্ছে না-সবকিছু স্পষ্ট
হয়ে যায় চোখের সামনে। এছাড়া মার্কেটিং টাকার হিসাবেও কাস্টম ইভেন্ট বিশাল কাজে
দেয়। কোন ক্যাম্পেইন থেকে আসা মানুষ আসলেই ফর্ম সাবমিট করছে, আর কোনটা শুধু
ক্লিক খেয়ে চলে যাচ্ছে-এই তথ্য জানা থাকলে বিজ্ঞাপনের বাজেট কোথায় ঢালবেন সেই
সিদ্ধান্তটাও অনেক সহজ হয়ে যায়।
টাকা নষ্ট করার সুযোগ তখন আর থাকে না। সবচেয়ে বড় কথা, কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং
আপনাকে ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, অনুমানের উপর ভরসা করতে হয় না।
ব্যবসা চালাতে গিয়ে "মনে হয়" বা "মনে হচ্ছে" বলে চলা যায় না বেশিদিন। সংখ্যা
আর প্রমাণ লাগে, আর সেই প্রমাণটাই আপনাকে জোগান দেয় সঠিকভাবে সাজানো কাস্টম
ইভেন্ট।
Google Analytics 4-এ ইভেন্ট কীভাবে কাজ করে
আপনি যখনই ওয়েবসাইটে ঢোকেন, প্রতিটা কাজই আসলে একটা করে ইভেন্ট। পেজ লোড হওয়া
একটা ইভেন্ট, স্ক্রল করা একটা ইভেন্ট, এমনকি একটা লিংকে ক্লিক করাও ইভেন্ট। আগের
সিস্টেমে যেভাবে পেজভিউ আর ইভেন্টকে আলাদা করে দেখা হতো, এখানে সেই সীমারেখাটাই
মুছে গেছে। সবকিছু এক ছাতার নিচে। প্রতিটা ইভেন্টের সাথে কিছু প্যারামিটার জুড়ে
থাকে, যেগুলো আসলে সেই ইভেন্ট সম্পর্কে বাড়তি তথ্য বহন করে। ধরুন কেউ একটা ভিডিও
প্লে করল-এখানে শুধু "video_start" ইভেন্টটাই যথেষ্ট নয়, সাথে ভিডিওর নাম,
দৈর্ঘ্য, কোন পেজে হয়েছে-এসব প্যারামিটার হিসেবে যুক্ত হয়ে যায়। আর ঠিক এই
জায়গা থেকেই গুগল এনালাইটিক্স ফোর কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি আপনার কাজে
আসে, কারণ আপনার বিজনেসের জন্য কোন প্যারামিটার জরুরি সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হয়।
এখন প্রশ্ন হলো, GA4 নিজে থেকে কোন ইভেন্টগুলো ধরে ফেলে? পেজভিউ, স্ক্রল, সাইট
সার্চ, আউটবাউন্ড ক্লিক-এই কয়েকটা মৌলিক ইভেন্ট সিস্টেম নিজেই কালেক্ট করে নেয়।
আপনাকে কোনো কোড লিখতে হয় না, কোনো সেটআপও করতে হয় না। শুধু এনহ্যান্সড
মেজারমেন্ট অপশনটা অন রাখলেই চলে। কিন্তু আসল মজা শুরু হয় যখন আপনার নিজস্ব
বিজনেস লজিক অনুযায়ী ইভেন্ট বানাতে হয়। ফর্ম সাবমিশন, নিউজলেটার সাইনআপ, পিডিএফ
ডাউনলোড-এসব তো আর গুগল আগে থেকে জানে না আপনার সাইটে কী গুরুত্বপূর্ণ।
তাই এখানে আপনাকেই ঠিক করতে হয় কোন অ্যাকশনটা ট্র্যাক করা দরকার, আর কীভাবে
সেটাকে GA4 পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হয়। একটা মজার ব্যাপার হলো, প্রতিটা ইভেন্টের
একটা নির্দিষ্ট নাম থাকে, আর এই নামকরণেই আসলে অনেকটা কাজ নির্ভর করে। এলোমেলো
নাম দিলে পরে রিপোর্ট দেখতে গিয়ে মাথা ঘুরে যাবে। তাই স্নেক কেস ফরম্যাটে সহজ,
স্পষ্ট নাম রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ-যাতে ছয় মাস পরেও রিপোর্টে চোখ বুলিয়ে সহজেই
বুঝে ফেলা যায় কোন ইভেন্ট আসলে কী বোঝাচ্ছে।
কাস্টম ইভেন্ট সেটআপ করার আগে যা জানা দরকার
কাস্টম ইভেন্ট সেটআপ করার আগে যা জানা দরকার, সেটা না জেনে সরাসরি কাজে নেমে
পড়লে পরে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। অনেকেই উত্তেজনার চোটে সোজা GTM বা GA4 খুলে
বসে যান, আর পরে দেখেন ডেটা ভুল আসছে, বা একই ইভেন্ট দুইবার ফায়ার হচ্ছে। তাই
একটু সময় নিয়ে প্রস্তুতির কাজটা আগে সেরে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে পরে অনেক
মাথাব্যথা কমে যায়। সবার আগে আপনাকে ঠিক করতে হবে, আসলে কী জানতে চান আপনি। শুধু
"মানুষ ক্লিক করছে" জানলে তো চলবে না, বরং কোন ক্লিক আপনার বিজনেসের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ সেটা স্পষ্ট থাকতে হবে। ধরুন আপনার একটা ই-কমার্স সাইট আছে-সেখানে
"Add to Cart" বাটনের ক্লিক জানাটা যতটা জরুরি, ফুটারের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনের
ক্লিক ততটা নয়।
অগ্রাধিকার ঠিক করে নিলে অযথা ডেটা জঞ্জাল থেকে বাঁচবেন। এরপর আসে নামকরণের
প্রশ্ন। ইভেন্টের নাম, প্যারামিটারের নাম-এগুলো আগে থেকে একটা নিয়মে বেঁধে নিন।
কেউ একদিন "form_submit" লিখবে, আরেকদিন "formSubmit" লিখবে-এভাবে চললে রিপোর্টে
গিয়ে দেখবেন একই কাজের জন্য দুইটা আলাদা এন্ট্রি বসে আছে। শুরুতেই একটা ছোট শিট
বানিয়ে রাখুন, যেখানে সব ইভেন্টের নাম আর প্যারামিটার লিস্ট করা থাকবে। গুগল
ট্যাগ ম্যানেজার ব্যবহার করবেন নাকি সরাসরি কোডে GA4 ইভেন্ট বসাবেন, এই
সিদ্ধান্তটাও আগে নিয়ে নেওয়া ভালো। ডেভেলপার হাতের কাছে না থাকলে GTM অনেক বেশি
সহজ পথ।
কিন্তু ওয়েবসাইট যদি খুব কমপ্লেক্স হয়, বা রিয়েল-টাইম ডেটা লাগে খুব
নির্ভুলভাবে, তাহলে কোড লেভেলে বসানোই ভালো। দুটো পথেরই নিজস্ব সুবিধা-অসুবিধা
আছে, আপনার সাইটের ধরন বুঝে বেছে নিতে হবে। ডেটা লেয়ারের ধারণাটাও একটু বুঝে
নেওয়া দরকার এই পর্যায়ে। ওয়েবসাইটের কোড আর GTM এর মাঝখানে একটা সেতুর মতো কাজ
করে এই ডেটা লেয়ার। এখান দিয়েই তথ্য চলাচল করে, যেমন কোনো প্রোডাক্টের নাম,
দাম, বা ইউজারের কোনো অ্যাকশন। এটা না বুঝলে পরে অ্যাডভান্সড ট্র্যাকিং সেটআপ
করতে গিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়বেন।
আরেকটা জিনিস মাথায় রাখা জরুরি-গুগল এনালাইটিক্স ফোর কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং
পদ্ধতি ঠিকভাবে কাজ করার জন্য টেস্টিং এনভায়রনমেন্ট আলাদা রাখাটা কতটা
গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি লাইভ সাইটে গিয়ে টেস্ট করলে ভুল ডেটা আপনার আসল রিপোর্টে
ঢুকে যেতে পারে। তাই GTM এর প্রিভিউ মোড বা আলাদা একটা টেস্ট প্রপার্টি ব্যবহার
করে আগে সবকিছু যাচাই করে নেওয়াটাই নিরাপদ পথ।
GA4-এ কাস্টম ইভেন্ট তৈরি করার সহজ নিয়ম
GA4-এ কাস্টম ইভেন্ট তৈরি করার সহজ নিয়ম জানা থাকলে পুরো কাজটাই অনেক সহজ হয়ে
যায়। প্রথমে GTM এ ঢুকে একটা নতুন ট্রিগার বানান-কোন অ্যাকশনে ইভেন্ট ফায়ার হবে
সেটা এখানে ঠিক করে দিতে হয়। যেমন কেউ একটা বাটনে ক্লিক করলে, বা কোনো ফর্ম
সাবমিট করলে। ট্রিগার বানানোর পর আসে ট্যাগের পালা। GA4 ইভেন্ট ট্যাগ বেছে নিন,
তারপর আগের সেটআপ করা কনফিগারেশন ট্যাগের সাথে যুক্ত করে দিন। ইভেন্টের একটা
পরিষ্কার নাম দিন, যাতে পরে রিপোর্টে গিয়ে গুলিয়ে না ফেলেন।
দরকার হলে প্যারামিটার যোগ করুন-কোন পেজ থেকে হলো, কী নিয়ে ছিল ইভেন্টটা, এসব
ছোট ছোট তথ্য। এতে পরে অ্যানালাইসিস করা সহজ হয়ে যায়। GTM এর ভ্যারিয়েবল
দিয়ে এই কাজটা সহজেই করা যায়। প্রিভিউ মোডে টেস্ট করে নিন, আর GA4 এর DebugView
এ গিয়ে চেক করুন ইভেন্ট ঠিকমতো আসছে কিনা। এই ছোট্ট যাচাইটা বাদ দিলে পরে ডেটা
নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়তে হতে পারে।
Google Tag Manager দিয়ে ইভেন্ট ট্র্যাকিং সেটআপ
Google Tag Manager দিয়ে ইভেন্ট ট্র্যাকিং সেটআপ করাটা আসলে যতটা কঠিন মনে হয়,
ততটা না। শুরুতে GTM এ গিয়ে একটা ট্রিগার বানিয়ে নিন-কোন অ্যাকশনে ইভেন্ট চালু
হবে সেটাই এখানে ঠিক করে দিতে হয়। বাটন ক্লিক, ফর্ম সাবমিশন, বা স্ক্রল ডেপথ-যা
প্রয়োজন সেটা বেছে নিন। এরপর একটা GA4 ইভেন্ট ট্যাগ তৈরি করুন, আর সেটাকে আপনার
আগে থেকে বানানো কনফিগারেশন ট্যাগের সাথে জুড়ে দিন। এই ট্যাগেই ইভেন্টের নাম
বসবে, তাই নামটা সহজ আর অর্থবহ রাখুন।
দরকার মনে হলে ভ্যারিয়েবল ব্যবহার করে বাড়তি তথ্য যোগ করুন-কোন পেজে হলো, কোন
বাটনের টেক্সট ছিল, এসব। এতে পরে ডেটা বিশ্লেষণ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। সব
বসানোর পর প্রিভিউ মোডে ঢুকে টেস্ট করে নিন। ট্রিগার আর ট্যাগ ঠিকঠাক কাজ করছে
কিনা, সেটা নিজের চোখে দেখে তবেই পাবলিশ করুন। এই ধাপটা স্কিপ করলে পরে ভুল ডেটা
নিয়ে বসে থাকতে হতে পারে।
ওয়েবসাইটের বাটন ক্লিক ট্র্যাক করার পদ্ধতি
ওয়েবসাইটের বাটন ক্লিক ট্র্যাক করার পদ্ধতি জানা থাকলে ইউজার কোথায় বেশি
ইন্টারেস্ট দেখাচ্ছে সেটা সহজেই বোঝা যায়। এই কাজের জন্য গুগল এনালাইটিক্স ফোর
কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর উপায়, আর শুরুটা করতে হয় GTM
দিয়ে একটা ক্লিক ট্রিগার বানিয়ে। প্রথমে GTM এ গিয়ে "Click-All Elements" বা
"Click-Just Links" ট্রিগার বেছে নিন। যে বাটনটা ট্র্যাক করতে চান, তার ক্লাস বা
আইডি দিয়ে কন্ডিশন সেট করে দিন, যাতে শুধু সেই নির্দিষ্ট বাটনেই ইভেন্ট ফায়ার
হয়।
এরপর একটা GA4 ইভেন্ট ট্যাগ বানান, ইভেন্টের নাম দিন "button click" এর মতো
স্পষ্ট কিছু।প্যারামিটার হিসেবে বাটনের টেক্সট বা পেজের লোকেশন যোগ করে দিলে পরে
রিপোর্টে বিস্তারিত দেখতে পাবেন। সব সেট করার পর প্রিভিউ মোডে টেস্ট করে নিন,
বাটনে ক্লিক করে দেখুন ইভেন্টটা ঠিকমতো ফায়ার হচ্ছে কিনা। ঠিক থাকলে পাবলিশ করে
দিন, ব্যস কাজ শেষ।
ফর্ম সাবমিশন ও অন্যান্য অ্যাকশন ট্র্যাক করা
ফর্ম সাবমিশন ও অন্যান্য অ্যাকশন ট্র্যাক করা অনেক ওয়েবসাইট মালিকের কাছে
সবচেয়ে জরুরি একটা কাজ, কারণ এখান থেকেই আসল লিড আসে। কেউ যখন নিউজলেটার সাইনআপ
করে বা কন্টাক্ট ফর্ম পূরণ করে, সেই মুহূর্তটাই আসলে বিজনেসের জন্য সবচেয়ে দামি।
এই কাজটা ঠিকভাবে করার জন্য গুগল এনালাইটিক্স ফোর কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি
খুবই নির্ভরযোগ্য একটা পথ, আর GTM দিয়ে এটা করা যায় বেশ সহজে। GTM এ "Form
Submission" ট্রিগার বেছে নিন প্রথমে। এই ট্রিগার তখনই কাজ করবে যখন কেউ ফর্মের
সাবমিট বাটনে ক্লিক করবে বা এন্টার চাপবে। চাইলে নির্দিষ্ট ফর্মের আইডি দিয়ে
কন্ডিশনও বসিয়ে দিতে পারেন, যাতে শুধু সেই ফর্মেই ইভেন্ট ফায়ার হয়।
এরপর একটা GA4 ইভেন্ট ট্যাগ বানান, নাম দিন "form_submit" এর মতো কিছু স্পষ্ট
শব্দে। ফর্মের নাম বা পেজের লোকেশন প্যারামিটার হিসেবে যোগ করলে পরে কোন ফর্ম
কতটা কাজ করছে সেটাও বুঝতে পারবেন সহজেই। এভাবেই কিন্তু ফাইল ডাউনলোড, ভিডিও
প্লে, বা নিউজলেটার সাবস্ক্রিপশনের মতো অন্যান্য অ্যাকশনও ট্র্যাক করা যায়। শুধু
ট্রিগারের ধরনটা বদলে দিলেই হবে। সব শেষে প্রিভিউ মোডে টেস্ট করে নিশ্চিত হয়ে
নিন, তারপর পাবলিশ করুন।
GA4-এ কাস্টম ইভেন্টের রিপোর্ট দেখার নিয়ম
GA4-এ কাস্টম ইভেন্টের রিপোর্ট দেখার নিয়ম জানা থাকলে আপনার সব পরিশ্রম আসলে
কাজে লাগে। ইভেন্ট সেটআপ করে ফেললেই তো কাজ শেষ না, সেই ডেটা কোথায় গিয়ে কীভাবে
দেখবেন সেটাও জানা দরকার। প্রথমে GA4 তে ঢুকে বাঁদিকের মেনু থেকে "Reports" এ
যান, তারপর "Engagement" সেকশনের ভেতরে "Events" অপশনে ক্লিক করুন। এখানে গিয়ে
দেখবেন আপনার সব ইভেন্টের লিস্ট চলে এসেছে, কতবার প্রতিটা ইভেন্ট ঘটেছে সেটাও
দেখা যাবে। কোনো নির্দিষ্ট ইভেন্টের বিস্তারিত দেখতে চাইলে সেই ইভেন্টের নামের
উপর ক্লিক করুন। এতে ইউজার কাউন্ট, ইভেন্ট কাউন্ট, আর সেই ইভেন্টের সাথে জুড়ে
থাকা প্যারামিটারগুলোও চলে আসবে চোখের সামনে।
নতুন সেট করা ইভেন্ট রিয়েল টাইমে দেখতে চাইলে "Realtime" রিপোর্টে যান। এখানে
গিয়ে ইভেন্টটা ট্রিগার করুন, আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটা রিপোর্টে ভেসে উঠতে
দেখবেন। এই অংশটা আসলে সবচেয়ে মজার, কারণ নিজের চোখে ডেটা আসতে দেখার একটা আলাদা
তৃপ্তি আছে। চাইলে "Explore" সেকশনে গিয়ে কাস্টম রিপোর্টও বানাতে পারেন, যেখানে
নিজের মতো করে ইভেন্ট আর প্যারামিটার সাজিয়ে বিশ্লেষণ করা যায়। এটা একটু
অ্যাডভান্সড লেভেলের কাজ, কিন্তু একবার শিখে ফেললে ডেটা থেকে অনেক গভীর ইনসাইট
বের করা সম্ভব হয়ে যায়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
GA4 কাস্টম ইভেন্ট ট্র্যাকিং প্রথমে যতটা ভয়ের মনে হয়, বাস্তবে ততটা না। আমি
নিজেও যখন প্রথম শুরু করেছিলাম, GTM এর ইন্টারফেস দেখে একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলাম।
কিন্তু কয়েকটা ইভেন্ট নিজে হাতে বানানোর পর বুঝলাম, এটা আসলে লজিকের খেলা, জাদু
কিছু না। আপনার কাছে আমার একটাই পরামর্শ-একসাথে সবকিছু করতে যাবেন না। একটা
ইভেন্ট দিয়ে শুরু করুন, ভালো করে টেস্ট করুন, তারপর পরেরটায় যান।
তাড়াহুড়ো করে অনেক ইভেন্ট বসিয়ে ফেললে পরে গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
ডেটা নিজে থেকে কিছু বলে না, আপনাকেই সেটার মানে খুঁজে বের করতে হয়। তাই শুধু
ইভেন্ট সেটআপ করেই থেমে থাকবেন না, নিয়মিত রিপোর্ট দেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ধীরে ধীরে দেখবেন, আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে এমন সব ইনসাইট পেয়ে যাচ্ছেন, যা আগে
কখনো ভাবেননি। 260416












অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url