OrdinaryITPostAd

ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম

ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম জানলে বিজ্ঞাপনের ফলাফল কতটা বদলে যেতে পারে, তা অনেকেই প্রথমে বুঝতে পারেন না। ঠিক মানুষকে টার্গেট করলে কম খরচে বেশি রিচ ও কনভার্সন পাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেই কিভাবে।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
এই গাইডে ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে কীভাবে নিজের ব্যবসার জন্য টার্গেটেড অডিয়েন্স তৈরি করবেন। নতুন হোন বা অভিজ্ঞ মার্কেটার, সহজ ভাবে সবকিছু বুঝতে পারবেন। কয়েক মিনিট সময় দিলেই বিজ্ঞাপনের পারফরম্যান্স বাড়ানোর কার্যকর কৌশলগুলো জেনে নিতে পারবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম

ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, কিন্তু সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না? তাহলে সমস্যাটা অ্যাডে না, সমস্যাটা অডিয়েন্সে। কাস্টম অডিয়েন্স হলো সেই চাবিকাঠি, যেটা দিয়ে আপনি ঠিক সেই মানুষগুলোর কাছে পৌঁছাতে পারবেন যারা আপনার পণ্য বা সেবায় আগ্রহী। একটু মনোযোগ দিয়ে পড়লেই বুঝবেন, ব্যাপারটা আসলে অতটা কঠিন না। চলুন ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম জেনে নেই।

প্রথমে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করুন, তারপর যান business.facebook.com বা সরাসরি Ads Manager-এ। বাম দিকে মেনুতে "Audiences" অপশনটা খুঁজে বের করুন। এটা না পেলে উপরের সার্চ বারে "Audiences" লিখে সার্চ করুন, ঠিকই চলে আসবে।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
এরপর বামের মেটা আইকনে মাউসের কার্সর ধরুন বা ক্লিক করুন।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
এর নিচের মত অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেন এখান থেকে "Audiences" লেখাই ক্লিক করুন।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
তারপর "Creat a custom audiences" এ ক্লিক করুন।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
এই অংশটা একটু মজার। ফেসবুক আপনাকে জিজ্ঞেস করবে-আপনি কোথা থেকে অডিয়েন্স বানাতে চান? আপনার কাছে কয়েকটা অপশন থাকবে, যেমন-Website (ওয়েবসাইট ভিজিটর), Customer List (আপনার নিজের কাস্টমার ডেটা), App Activity বা Facebook/Instagram এর এনগেজমেন্ট। আপনার ব্যবসার ধরন বুঝে সঠিক সোর্সটা বেছে নিন। এখানে "Video Audiences" সেট করে দেখানো হয়েছে। সেম ভাবে আরো অপশনগুলো আপনি সেট করতে পারবেন।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
এখানে "Meta sources" থেকে "Video" অ্যাড দেখানোর জন্য কাস্টম অডিয়েন্স সেট করা হয়েছে । নিচে যে অডিয়েন্স আপনার ভিডিও টি দেখেবে সেটি সিলেক্ট করতে হবে। তারপর "Done" এ ক্লিক করুন।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
এরপর কোন কোন কাস্টম অডিয়েন্স টার্গেট করবেন তা সিলেক্ট করুন ও সময়,অডিয়েন্স নাম ইত্যাদি দিয়ে "Creat Audiences" এ ক্লিক করুন।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
তারপর যেই ভিডিওটি অ্যাড হিসেবে কাস্টম অডিয়েন্স কে দেখাবেন সেটি সিলেক্ট করে "Confirm"এ ক্লিক করুন।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
এর সবকিছু ঠিক থাকলে তা চেক করে নিয়ে "Creat audiences" এ ক্লিক করুন।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
তারপর কাস্টম অডিয়েন্স রেডি হয়ে গেলে "audiences" ও "Viewer" অপশন থেকে আপনার সেট করা কাস্টম অডিয়েন্স কে কে দেখেলো ও তার Availability চেক করতে পারবেন।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
কাস্টম অডিয়েন্স একবার ঠিকমতো বানাতে পারলে আপনার বিজ্ঞাপনের খরচ কমবে, আর ফলাফল বাড়বে। অনেকেই শুধু বুস্ট বাটন চেপে টাকা নষ্ট করেন, কিন্তু আপনি যদি এই পদ্ধতিতে এগোন-তাহলে খেলাটাই আলাদা হয়ে যাবে।

অ্যাডস ম্যানেজার খুলে অডিয়েন্স সেকশনে যান

প্রথম কাজটা একদম সহজ। আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করুন, তারপর ব্রাউজারে যান business.facebook.com-এটাই হলো আপনার মূল কন্ট্রোল প্যানেল। এখান থেকেই আপনি আপনার পুরো বিজ্ঞাপনের দুনিয়া পরিচালনা করবেন। পেজটা খোলার পর বাম পাশে একটা মেনু দেখতে পাবেন। সেখানে একটু নিচের দিকে স্ক্রল করলেই "Audiences" অপশনটা চোখে পড়বে। যদি সরাসরি খুঁজে না পান, তাহলে একদম চিন্তা নেই-উপরের সার্চ বারে শুধু "Audiences" লিখুন, সাথে সাথে চলে আসবে।

Audiences পেজে ঢুকলে আপনি দেখবেন আগে থেকে তৈরি করা কোনো অডিয়েন্স থাকলে সেগুলো লিস্ট আকারে সাজানো আছে। একদম নতুন হলে পেজটা ফাঁকা থাকবে-এটা স্বাভাবিক, ঘাবড়াবেন না। এই পেজটাই হলো আপনার শুরুর জায়গা, এখান থেকেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত অডিয়েন্স তৈরির পুরো প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

নতুন কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে ক্লিক করুন

Audiences পেজে ঢোকার পর উপরের দিকে তাকান-একটা নীল রঙের "Create Audience" বাটন দেখতে পাবেন। ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম হলো এই বাটনটাই আপনার আসল দরজা, এখান থেকেই পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাটনে ক্লিক করলে একটা ছোট ড্রপডাউন মেনু নামবে, যেখানে তিনটা অপশন দেখাবে। সেই তিনটা অপশন হলো-Custom Audience, Lookalike Audience আর Special Ad Audience। আপনাকে এখানে "Custom Audience" সিলেক্ট করতে হবে। এই অপশনটাই আপনাকে সুযোগ দেবে নিজের মতো করে, নিজের ডেটা দিয়ে একটা নির্দিষ্ট অডিয়েন্স গড়ে তুলতে।
Custom Audience সিলেক্ট করার পর একটা নতুন উইন্ডো বা পপআপ খুলবে। সেখানে ফেসবুক আপনাকে জিজ্ঞেস করবে-আপনি কোন সোর্স থেকে অডিয়েন্স বানাতে চান। এই ধাপটা মনোযোগ দিয়ে দেখুন, কারণ সঠিক সোর্স বেছে নেওয়াটাই ঠিক করে দেবে আপনার অ্যাড আসলে কতটা কার্যকর হবে।

অডিয়েন্স বানানোর জন্য কোন সোর্স ব্যবহার করবেন

Custom Audience অপশনে ক্লিক করার পর ফেসবুক আপনাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করবে-আপনার অডিয়েন্সের সোর্স কোথা থেকে আসবে। অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম অনুযায়ী এই সোর্স নির্বাচনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কারণ এটা ঠিক করে দেয় আপনার বিজ্ঞাপন আসলে কার কাছে পৌঁছাবে। ভুল সোর্স বেছে নিলে পুরো ক্যাম্পেইনটাই মাঠে মারা যেতে পারে। ফেসবুক মূলত কয়েকটা সোর্স অপশন দেয়-Website, Customer List, App Activity, আর Facebook/Instagram Engagement। যদি আপনার ওয়েবসাইট থাকে এবং পিক্সেল সেটআপ করা থাকে, তাহলে "Website" সোর্সটা বেছে নিন।

এটা দিয়ে আপনি সেই মানুষগুলোকে টার্গেট করতে পারবেন যারা আগে আপনার সাইটে এসেছিলেন কিন্তু কিছু কেনেননি। আর যদি আপনার কাছে পুরনো কাস্টমারদের ইমেইল বা ফোন নম্বরের লিস্ট থাকে, তাহলে "Customer List" অপশনটা আপনার জন্য সোনার খনি। এই লিস্ট আপলোড করলে ফেসবুক নিজেই মিলিয়ে দেখবে কারা ফেসবুকে অ্যাক্টিভ আছেন। আর যদি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম পেজে ভালো এনগেজমেন্ট থাকে, তাহলে "Engagement" সোর্সটাও দারুণ কাজ করে-যারা আপনার পোস্টে লাইক বা কমেন্ট করেছেন, তাদের নিয়েই অডিয়েন্স বানানো যায়।

ওয়েবসাইট ভিজিটর দিয়ে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার উপায়

সোর্স সিলেক্ট করার পেজে গেলে প্রথমেই "Website" অপশনটা চোখে পড়বে। এটা সিলেক্ট করলে ফেসবুক আপনার পিক্সেলের সাথে কানেক্ট হয়ে যাবে এবং জিজ্ঞেস করবে-আপনি কোন ধরনের ভিজিটরদের টার্গেট করতে চান। এখানে আপনি চাইলে বলতে পারবেন গত ৭, ১৪, ৩০ বা ১৮০ দিনের মধ্যে যারা সাইটে এসেছেন, শুধু তাদের নিয়ে অডিয়েন্স বানাতে। এরপর আরেকটু গভীরে যেতে পারবেন। শুধু সাইটে আসা না, বরং নির্দিষ্ট কোনো পেজ ভিজিট করেছেন এমন মানুষদেরও আলাদা করে টার্গেট করা যায়। ধরুন, কেউ আপনার "প্রাইসিং" পেজে গেছেন কিন্তু কেনেননি-এই মানুষটা আসলে আগ্রহী, শুধু একটু ঠেলা দরকার।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
সব সেটআপ করা হয়ে গেলে নিচে একটা নাম দেওয়ার জায়গা পাবেন। অডিয়েন্সের নাম এমনভাবে দিন যেন পরে দেখলেই বুঝতে পারেন এটা কোন ক্যাম্পেইনের জন্য-ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম মেনে সঠিক নামকরণ করলে পরে একাধিক ক্যাম্পেইন ম্যানেজ করার সময় অনেক ঝামেলা কমে যায়।

ইমেইল লিস্ট আপলোড করে অডিয়েন্স বানান

আপনার কাছে যদি পুরনো কাস্টমারদের ইমেইল বা ফোন নম্বরের একটা লিস্ট থাকে, তাহলে সেটা আসলে একটা লুকানো সম্পদ। Customer List অপশনে গিয়ে সেই লিস্টটা একটা CSV ফাইল আকারে আপলোড করুন। ফেসবুক নিজেই সেই ডেটা স্ক্যান করে মিলিয়ে দেখবে কারা ফেসবুকে অ্যাক্টিভ আছেন। ফাইল আপলোড করার আগে একটু খেয়াল রাখবেন০লিস্টে যেন ভুল বা পুরনো ইমেইল না থাকে। যত পরিষ্কার ডেটা, তত বেশি ম্যাচ পাবেন। আর ম্যাচ যত বেশি, আপনার অডিয়েন্স তত শক্তিশালী হবে। একটা নোংরা লিস্ট দিয়ে ভালো অডিয়েন্স বানানো যায় না, এটা মাথায় রাখুন।

আপলোড হয়ে গেলে ফেসবুক কিছুটা সময় নেবে ডেটা প্রসেস করতে। এই অডিয়েন্সটা সবচেয়ে বেশি কাজে আসে যখন আপনি পুরনো কাস্টমারদের নতুন কোনো অফার বা প্রোডাক্ট দেখাতে চান। যারা আগে একবার কিনেছেন, তারা আবার কেনার সম্ভাবনা অনেক বেশি০এই মানুষগুলোকে টার্গেট করাটা সত্যিই বুদ্ধিমানের কাজ।

পেজ বা ভিডিও দেখা থেকে অডিয়েন্স গড়ুন

আপনার ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম পেজে যদি নিয়মিত কন্টেন্ট দেন, তাহলে সেই এনগেজমেন্টটাকে কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। যারা আপনার পোস্টে লাইক দিয়েছেন, কমেন্ট করেছেন বা ভিডিও দেখেছেন-এই মানুষগুলো আসলে আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি আগ্রহী। ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম অনুযায়ী এই এনগেজড মানুষগুলোকে আলাদা করে টার্গেট করাটা সবচেয়ে স্মার্ট কাজগুলোর একটা। Engagement সোর্স সিলেক্ট করলে ফেসবুক আপনাকে আরও ভেঙে জিজ্ঞেস করবে-আপনি কোন ধরনের এনগেজমেন্ট থেকে অডিয়েন্স বানাতে চান। 
ভিডিও ভিউ থেকে বানাতে চাইলে এমনকি বলতে পারবেন-যারা ভিডিওর ২৫%, ৫০% বা ৭৫% দেখেছেন, শুধু তাদের নিয়ে অডিয়েন্স বানান। যে মানুষ আপনার ভিডিওর অর্ধেকটা দেখেছেন, সে কিন্তু এমনি এমনি দেখেননি। এই ধরনের অডিয়েন্স দিয়ে রিটার্গেটিং করলে ফলাফল অনেক ভালো আসে। কারণ এরা আগে থেকেই আপনাকে চেনেন, আপনার কন্টেন্ট দেখেছেন-তাই এদের কাছে বিজ্ঞাপন দেখালে সেটা অপরিচিত লাগে না। একটু পরিচিত মুখের বিজ্ঞাপনই মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে।

অডিয়েন্সের নাম রাখুন আর কতদিন রাখবেন সেট করুন

সব সেটআপ শেষ হলে ফেসবুক আপনাকে একটা নাম দিতে বলবে। এই নামটা ছোট্ট একটা কাজ মনে হলেও আসলে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদি এখনই গুছিয়ে না রাখেন, তাহলে পরে পাঁচটা ক্যাম্পেইন চালানোর সময় কোনটা কোনটা সেটা বুঝতেই মাথা ঘুরে যাবে। নাম দেওয়ার সময় একটু স্মার্ট হন। যেমন "Website Visitors-Last 30 Days" বা "Email List-June 2026" এই ধরনের নাম দিলে পরে দেখলেই বুঝতে পারবেন এটা কোন অডিয়েন্স। আর Retention বা সময়সীমার অংশে আপনি ঠিক করবেন-এই অডিয়েন্স কতদিনের ডেটা ধরে রাখবে, সেটা ৭ দিন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত সেট করা যায়।
ফেসবুক-অ্যাডস-ম্যানেজারে-কাস্টম-অডিয়েন্স-তৈরি-করার-নিয়ম
সময়সীমাটা ঠিক করার সময় একটু ভেবে নিন আপনার ব্যবসার ধরন কেমন। ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার নিয়ম মেনে সাধারণত ৩০ দিনের উইন্ডো বেশিরভাগ ব্যবসার জন্য ভালো কাজ করে। তবে যদি আপনার প্রোডাক্টের দাম বেশি হয় এবং কাস্টমার সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেন, তাহলে ৬০ বা ৯০ দিনের উইন্ডো রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তৈরি অডিয়েন্স অ্যাড সেটে যোগ করে চালু করুন

অডিয়েন্স তৈরি হয়ে গেলে এখন সেটাকে কাজে লাগানোর পালা। নতুন একটা ক্যাম্পেইন বানান বা পুরনো কোনো ক্যাম্পেইন এডিট করে Ad Set লেভেলে যান। সেখানে "Audience" সেকশনে গেলে "Custom Audiences" নামে একটা ফিল্ড দেখতে পাবেন-এখানেই আপনার তৈরি করা অডিয়েন্সটা সার্চ করে সিলেক্ট করুন। অডিয়েন্স সিলেক্ট করার পর একটু খেয়াল করুন-ডানদিকে "Audience Definition" বক্সে দেখাবে আপনার অডিয়েন্সের আনুমানিক সাইজ কত। এই সংখ্যাটা খুব কম হলে অ্যাড ঠিকমতো ডেলিভার হবে না, আর খুব বেশি হলে টার্গেটিং দুর্বল হয়ে যাবে। একটা মাঝামাঝি, সুনির্দিষ্ট অডিয়েন্স সাইজই সবচেয়ে ভালো ফল দেয়।
সব ঠিকঠাক মনে হলে বাকি সেটআপ-বাজেট, শিডিউল, অ্যাড ক্রিয়েটিভ-সব গুছিয়ে "Publish" বাটনে চাপ দিন। ব্যস, আপনার অ্যাড এখন সেই নির্দিষ্ট মানুষগুলোর কাছে পৌঁছাতে শুরু করবে যাদের আপনি চেয়েছিলেন। এতদিন হয়তো অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছিলেন, এবার থেকে একদম লক্ষ্য ঠিক করে মারবেন।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

সত্যি বলতে, ফেসবুক অ্যাডস নিয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে যান শুধুমাত্র সঠিক অডিয়েন্স না বানানোর কারণে। টাকা খরচ হয়, রেজাল্ট আসে না, আর মনে হয় ফেসবুক অ্যাড বোধহয় কাজ করে না। আসলে কাজ করে-শুধু সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হয়। কাস্টম অডিয়েন্স একবার ঠিকমতো বুঝে গেলে আপনার পুরো বিজ্ঞাপনের খেলাটাই বদলে যাবে। প্রতিটা টাকা তখন সঠিক জায়গায় খরচ হবে, আর ফলাফল দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাবেন। শুরুতে একটু সময় লাগবে ঠিকই, কিন্তু একবার রপ্ত হয়ে গেলে এটা আপনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠবে।

তাই আর দেরি না করে আজই অ্যাডস ম্যানেজার খুলুন আর প্রথম কাস্টম অডিয়েন্সটা বানিয়ে ফেলুন। ভুল হলেও সমস্যা নেই-ভুল থেকেই শেখা হয়। আর একবার শিখে গেলে এই জ্ঞানটা আপনার কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url