বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই ক্ষতিকর প্রোগ্রামগুলো আমাদের অজান্তেই কম্পিউটার বা ডিভাইসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলোকে চুরি করতে পারে বা নষ্ট করতে পারে।
তাই সঠিক অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা আমাদের মূল্যবান ডেটা সুরক্ষিত রাখতে পারি। এই আর্টিকেলে আমরা ভাইরাসের ধরন লক্ষণ এবং প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব তাই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পেজ সূচিপত্রঃ বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
- বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
- কম্পিউটার ভাইরাস কি
- কম্পিউটার ভাইরাস কি কি ক্ষতি করে
- কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
- কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হলে কি করা উচিত
- কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা
- কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার ও কি কি
- জনপ্রিয় পাঁচটি কম্পিউটার ভাইরাস
- কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাস
- শেষ কথাঃ বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম জানা থাকলে আমরা খুব সহজেই ক্ষতিকর ফাইলগুলো চিনতে পারি এবং সিস্টেমকে সুরক্ষিত রাখার প্রস্তুতি নিতে পারি। কম্পিউটার ভাইরাস হলো ক্ষতিকর প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং নিজেকে ছড়িয়ে দেয়। তারপর এগুলো বিভিন্ন কাজ করতে পারে যেমনঃ এই ভাইরাসগুলো সিস্টেম ধ্বংস করতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে দিতে পারে বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। তাই ভাইরাসের নাম ও তাদের বৈশিষ্ট্য জানা থাকলে সঠিক সতর্কতা নেওয়া সহজ হয়। প্রযুক্তির এই যুগে কেবল সফটওয়্যার নয়, ব্যবহারকারীর সচেতনতাও ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বিশ্বের সেরা ১০টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম ও পরিচিতি দেওয়া হলোঃ
১) MyDoom (২০০৪)
MyDoom ভাইরাসটি ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস হিসেবে পরিচিত। এটি ইমেইল এবং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি আক্রান্ত হওয়া কম্পিউটারের বিভিন্ন ফাইল ধ্বংস করতে পারে খুব সহজে। এই ভাইরাসটি প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছে। ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া এটি নিজের কপি অন্য কম্পিউটারে পাঠায়, ফলে এই ভাইরাস দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। MyDoom ভাইরাসটি প্রমাণ করে যে ইমেইল ভাইরাস কত দ্রুত ক্ষতি করতে পারে।
২) ILOVEYOU (২০০০)
ILOVEYOU ভাইরাসটি ফিলিপাইন থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ভালোবাসার বার্তার ছদ্মবেশে ইমেইল এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটারে প্রবেশ করেছিল। এটি ৪৫ মিলিয়নের বেশি উইন্ডোজ কম্পিউটার আক্রান্ত করেছিল। এই ভাইরাসটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল যেমনঃ ছবি, ডকুমেন্ট এবং অডিও মুছে দিত। ILOVEYOU দেখিয়েছে যে ব্যবহারকারীর অজানতেই কেবল একটি ইমেইলও বিশাল ক্ষতি করতে পারে।
৩)WannaCry (২০১৭)
WannaCry একটি ভয়াবহ র্যানসমওয়্যার যা ১৫০টির বেশি দেশে ৩,০০,০০০ এর বেশি কম্পিউটার লক করে দিয়েছিল। এটি কম্পিউটারের ফাইলকে এনক্রিপ্ট করে এবং মুক্তির জন্য মুক্তিপণ দাবি করত। WannaCry দ্রুত বিশ্বজুড়ে ব্যবসা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল এবং এটি দেখিয়েছে যে র্যানসমওয়্যার কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
৪) Stuxnet (২০১০)
Stuxnet একটি অত্যন্ত জটিল ওয়ার্ম যা বিশেষভাবে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রের সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি শুধু কম্পিউটারের সাধারণ ফাইল নয়, এটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কন্ট্রোল সিস্টেমও ক্ষতিগ্রস্ত করত। Stuxnet প্রমাণ করেছে যে আধুনিক ভাইরাস শুধু কম্পিউটার নয়, বড় প্রযুক্তি অবকাঠামোও ধ্বংস করতে পারে।
৫)Conficker (২০০৮)
Conficker ভাইরাসটি উইন্ডোজ কম্পিউটারকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। এটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ত এবং কম্পিউটারের ফাইল ও নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করত। ভাইরাসটি ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া নতুন ফাইল ডাউনলোড করতে পারত। এই Conficker প্রমাণ করে যে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভাইরাস কত দ্রুত ছড়াতে পারে।
৬)Code Red (২০০১)
Code Red ভাইরাসটি মাইক্রোসফ্টের IIS সার্ভার লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। এটি সার্ভারের কন্ট্রোল নিয়ে ওয়েবসাইট বন্ধ করত। ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে হাজার হাজার ওয়েব সার্ভারকে অচল করেছিল। Code Red দেখিয়েছে যে সার্ভারের নিরাপত্তা বজায় রাখা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
৭)Melissa (১৯৯৯)
Melissa ভাইরাসটি মূলত ইমেইল এর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটি ব্যবহারকারীর ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে নিজে নিজে নতুন ইমেল পাঠাত। এই ভাইরাসটি দ্রুত অফিস ও কর্পোরেট নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে প্রচুর ক্ষতি করেছিল। এই Melissa ভাইরাস প্রমাণ করে যে ইমেইল সংযোগ হল ভাইরাসের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম।
৮) Sasser (২০০৪)
Sasser ভাইরাসটি উইন্ডোজ কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের দুর্বলতা ব্যবহার করে ভাইরাস ছড়াত। এটি সিস্টেম ক্র্যাশ করে দিত এবং কম্পিউটারকে স্লো করে দিত। এই ভাইরাসের কারণে অনেক কম্পিউটার সার্ভিস অচল হয়ে গিয়েছিল। Sasser দেখিয়েছে যে অপারেটিং সিস্টেম আপডেট না রাখলে ভাইরাস সহজেই প্রবেশ করতে পারে।
৯) Zeus Trojan (২০০৭)
Zeus Trojan মূলত ব্যাংকিং তথ্য ও ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চুরি করতে ব্যবহৃত হত। এটি ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া লগইন তথ্য সংগ্রহ করে হ্যাকারদের কাছে পাঠাত। Zeus দেখিয়েছে যে ভাইরাস কেবল কম্পিউটারকে নয়, ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক তথ্যকেও বিপদে ফেলতে পারে।
১০)Nimda (২০০১)
Nimda ভাইরাসটি ইমেইল, ওয়েবসাইট এবং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ত। এটি কম্পিউটারের ফাইল পরিবর্তন ও মুছে দিতে দিতে পারতো। Nimda ভাইরাসটি প্রমাণ করে যে ভাইরাস একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করলে খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে যেতে পারে।
কম্পিউটার ভাইরাস কি
কম্পিউটার ভাইরাস হলো একটি ক্ষতিকর প্রোগ্রাম বা কোড, যা একবার কার্যকর হলে নিজের কপি তৈরি করে অন্য ফাইল বা প্রোগ্রামের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে। এই ভাইরাসগুলো সাধারণত একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি করা হয় যেমনঃ কম্পিউটারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করা, বা অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষতি করা।
এগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়াতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ উপায় হলো ইন্টারনেট, পেনড্রাইভ, ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট এবং ডাউনলোড করা সফটওয়্যার। যখন ভাইরাস কোনো কম্পিউটারে প্রবেশ করে তখন এটি ধীরে ধীরে সিস্টেমের ফাইল এবং প্রোগ্রামের মধ্যে নিজেকে ছড়িয়ে দেয়। ফলে কম্পিউটার চলার গতি ধীরগতিতে কাজ করতে শুরু করে, ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কখনও কখনও গুরুত্বপূর্ণ ডেটা হারিয়ে যেতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
৭টি সেরা ফ্রী এন্টিভাইরাস ডাউনলোড করে নিন
সহজভাবে বলতে গেলে কম্পিউটার ভাইরাস হলো ডিজিটাল জগতের একটি রোগ, যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই কম্পিউটারকে আক্রমণ করে এবং সিস্টেমের কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করতে পারে। সঠিক সচেতনতা এবং নিরাপদ ব্যবহার না থাকলে, এটি আপনার ডেটা ও সফটওয়্যারকে দীর্ঘদিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
কম্পিউটার ভাইরাস কি কি ক্ষতি করে
বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম এবং এগুলো কম্পিউটার ভাইরাস কি কি ক্ষতি করে সেটি জানলে আমরা বুঝতে পারব কেন এগুলো আমাদের ডিভাইসের জন্য এত ভয়াবহ ও বিপজ্জনক হতে পারে। একটি শক্তিশালী ভাইরাস কেবল ফাইল নষ্ট করে না বরং এটি আপনার পুরো কম্পিউটার সিস্টেমকে কর্মহীন করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে যা আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের জন্য বড় ধরনের হুমকি। কম্পিউটার ভাইরাস কি কি ক্ষতি করতে তার প্রধান বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলঃ
১) ফাইল নষ্ট ও ডেটা চুরিঃ ভাইরাসের প্রধান কাজ হলো কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো মুছে ফেলা বা সেগুলোকে এমনভাবে পরিবর্তন করা যাতে আপনি আর সেগুলো ব্যবহার করতে না পারেন। এছাড়া অনেক ভাইরাস ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যেমনঃ পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক একাউন্টের ডিটেইলস চুরি করে হ্যাকারদের কাছে পাঠিয়ে দেয় যা অনেক বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ধরণের ডেটা চুরির ফলে আপনার গোপনীয়তা নষ্ট হয় এবং আপনার ডিজিটাল আইডেন্টিটি অন্যের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় যা থেকে বাঁচা অত্যন্ত জরুরি।
২) সিস্টেমের গতি কমানো ও হার্ডওয়্যারের ক্ষতিঃ ভাইরাস কম্পিউটারের প্রসেসর এবং র্যামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে যার ফলে কম্পিউটার অস্বাভাবিক ধীর গতির হয়ে যায় এবং ঘন ঘন হ্যাং করার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিছু জটিল ভাইরাস হার্ডডিস্ক বা বায়োস সেটিংসে পরিবর্তন এনে হার্ডওয়্যারের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে যা মেরামত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি আপনার ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের আয়ু কমিয়ে দেয় এবং অপারেটিং সিস্টেমকে বারবার ক্রাশ করতে বাধ্য করে যার ফলে আপনার সময় ও অর্থ উভয়ই অপচয় হয় ।
১) ফাইল নষ্ট ও ডেটা চুরিঃ ভাইরাসের প্রধান কাজ হলো কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো মুছে ফেলা বা সেগুলোকে এমনভাবে পরিবর্তন করা যাতে আপনি আর সেগুলো ব্যবহার করতে না পারেন। এছাড়া অনেক ভাইরাস ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যেমনঃ পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক একাউন্টের ডিটেইলস চুরি করে হ্যাকারদের কাছে পাঠিয়ে দেয় যা অনেক বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ধরণের ডেটা চুরির ফলে আপনার গোপনীয়তা নষ্ট হয় এবং আপনার ডিজিটাল আইডেন্টিটি অন্যের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় যা থেকে বাঁচা অত্যন্ত জরুরি।
২) সিস্টেমের গতি কমানো ও হার্ডওয়্যারের ক্ষতিঃ ভাইরাস কম্পিউটারের প্রসেসর এবং র্যামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে যার ফলে কম্পিউটার অস্বাভাবিক ধীর গতির হয়ে যায় এবং ঘন ঘন হ্যাং করার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিছু জটিল ভাইরাস হার্ডডিস্ক বা বায়োস সেটিংসে পরিবর্তন এনে হার্ডওয়্যারের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে যা মেরামত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি আপনার ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের আয়ু কমিয়ে দেয় এবং অপারেটিং সিস্টেমকে বারবার ক্রাশ করতে বাধ্য করে যার ফলে আপনার সময় ও অর্থ উভয়ই অপচয় হয় ।
কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো যদি আমরা শুরুতেই চিনতে পারি তবে বড় ধরণের ক্ষতির হাত থেকে আমাদের মূল্যবান ডেটা রক্ষা করা সম্ভব হবে। ভাইরাস আক্রান্ত কম্পিউটার সাধারণত কিছু অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে যা সাধারণ অবস্থায় হওয়ার কথা নয় এবং এগুলো খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিচে এমন বিষয়গুলো ভালোভাবে তুলে ধরা হলোঃ
১) অস্বাভাবিক ধীরগতি ও ঘন ঘন হ্যাংঃ যদি দেখেন আপনার কম্পিউটার আগের চেয়ে অনেক বেশি স্লো হয়ে গেছে এবং কোনো কারণ ছাড়াই সফটওয়্যারগুলো লোড হতে সময় নিচ্ছে তবে বুঝবেন এটি ভাইরাসের আক্রমণ হয়েছে। বিশেষ করে এই ভাইরাস ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে থাকে যার ফলে প্রসেসর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না এবং পুরো সিস্টেম জ্যাম হয়ে যায়। তাছাড়া আপনার মাউস বা কিবোর্ড যদি মাঝে মাঝে কাজ করা বন্ধ করে দেয় তবে এটি ভাইরাসের একটি অন্যতম বড় সংকেত যা আমাদের অবহেলা করা একদমই উচিত নয়।
২) পপ-আপ মেসেজ ও অচেনা ফাইলের উপস্থিতিঃ কম্পিউটার স্ক্রিনে যদি বারবার অকেজো বিজ্ঞাপন বা পপ-আপ মেসেজ আসতে থাকে তবে বুঝতে হবে সেখানে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস সক্রিয় রয়েছে যা আপনার বিরক্তির কারণ হবে। এছাড়া অনেক সময় ডেক্সটপে বা ফোল্ডারের ভেতরে এমন কিছু ফাইল বা শর্টকাট দেখা যায় যা আপনি নিজে তৈরি করেননি এবং এই ফাইলগুলো ভাইরাস বিস্তারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এছাড়া কম্পিউটার নিজে থেকেই রিস্টার্ট নেওয়া বা প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়্যার ওপেন হতে বাধা দেওয়া ভাইরাসের লক্ষণ যা আপনার পিসির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
১) অস্বাভাবিক ধীরগতি ও ঘন ঘন হ্যাংঃ যদি দেখেন আপনার কম্পিউটার আগের চেয়ে অনেক বেশি স্লো হয়ে গেছে এবং কোনো কারণ ছাড়াই সফটওয়্যারগুলো লোড হতে সময় নিচ্ছে তবে বুঝবেন এটি ভাইরাসের আক্রমণ হয়েছে। বিশেষ করে এই ভাইরাস ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে থাকে যার ফলে প্রসেসর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না এবং পুরো সিস্টেম জ্যাম হয়ে যায়। তাছাড়া আপনার মাউস বা কিবোর্ড যদি মাঝে মাঝে কাজ করা বন্ধ করে দেয় তবে এটি ভাইরাসের একটি অন্যতম বড় সংকেত যা আমাদের অবহেলা করা একদমই উচিত নয়।
২) পপ-আপ মেসেজ ও অচেনা ফাইলের উপস্থিতিঃ কম্পিউটার স্ক্রিনে যদি বারবার অকেজো বিজ্ঞাপন বা পপ-আপ মেসেজ আসতে থাকে তবে বুঝতে হবে সেখানে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস সক্রিয় রয়েছে যা আপনার বিরক্তির কারণ হবে। এছাড়া অনেক সময় ডেক্সটপে বা ফোল্ডারের ভেতরে এমন কিছু ফাইল বা শর্টকাট দেখা যায় যা আপনি নিজে তৈরি করেননি এবং এই ফাইলগুলো ভাইরাস বিস্তারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এছাড়া কম্পিউটার নিজে থেকেই রিস্টার্ট নেওয়া বা প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়্যার ওপেন হতে বাধা দেওয়া ভাইরাসের লক্ষণ যা আপনার পিসির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হলে কি করা উচিত
কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হলে কি করা উচিত সেটি নিয়ে ঘাবড়ে না গিয়ে ঠান্ডা মাথায় সঠিক কিছু পদক্ষেপ নিলে ভাইরাসের ঠিক করা এবং হারানো ডেটা আবার পাওয়া সম্ভব হয়। আর এই পদক্ষেপ গ্রহণ আপনার সিস্টেমকে স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে সরাসরি সহায়তা করবে এবং আপনার ক্ষতি কমিয়ে আনবে। কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হলে যে পদক্ষেপ গুলো খুব তাড়াতাড়ি নিতে হবে সেগুলো নিচে দেওয়া হলঃ
১) ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও স্ক্যানিংঃ ভাইরাসের অস্তিত্ব বুঝতে পারার সাথে সাথে কম্পিউটার থেকে ইন্টারনেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া উচিত যাতে ভাইরাসটি আপনার তথ্য অনলাইনে পাচার করতে না পারে। এছাড়া একটি শক্তিশালী ও আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে পুরো সিস্টেম ফুল স্ক্যান করা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচার প্রাথমিক ও প্রধান উপায়। আর যদি সম্ভব হয় তবে সেফ মোডে কম্পিউটার চালু করে স্ক্যান করুন কারণ এতে ভাইরাসের শক্তি কমে যায় এবং অ্যান্টিভাইরাসটি সহজে ক্ষতিকর কোড শনাক্ত করে মুছে ফেলতে পারে।
২) পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও ব্যাকআপ পরীক্ষাঃ ভাইরাস দূর করার পর আপনার সকল গুরুত্বপূর্ণ একাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। এতে হ্যাকাররা আগের চুরি হওয়া তথ্য ব্যবহার করতে পারবে না এবং আপনার একাউন্ট সুরক্ষিত থাকে। যারা নিয়মিত ক্লাউড বা বাহ্যিক হার্ডড্রাইভে ব্যাকআপ রাখেন, তারা ভাইরাস আক্রান্ত হলেও সহজেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারে। তাই নিয়মিত ডেটা ব্যাকআপ রাখা এবং অপরিচিত কোনো ইমেইল বা লিংকে ক্লিক না করা ভবিষ্যতে এই ধরনের ঝুঁকি থেকে আপনাকে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়া ব্যাকআপ পরীক্ষা করা উচিত যাতে কোনো ফাইল মুছে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি তা জানতে সাহায্য করবে, যা আপনার তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা
কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে আপনি আপনার ডিভাইসের সুরক্ষার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যা বর্তমান সাইবার নিরাপত্তার যুগে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভাইরাস তৈরি হচ্ছে ঠিক তেমনি সেগুলোকে ধ্বংস করার জন্য শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারও বাজারে আসছে যা আমাদের ডেটাকে নিরাপদ রাখছে। একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস কেবল ভাইরাস মোছে না বরং এটি ভাইরাসের আক্রমণ থেকে কম্পিউটারকে ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেয় এবং আপনার গোপনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিচে ভাইরাস ও সেগুলোর প্রতিরোধে অ্যান্টিভাইরাসের একটি তুলনা মূলক ধারণা দেওয়া হলোঃ
| ক্র. নং | ভাইরাসের নাম | সংক্ষিপ্ত পরিচিতি | প্রধান ক্ষতি | প্রতিরোধ / অ্যান্টিভাইরাস |
|---|---|---|---|---|
| ১ | MyDoom (২০০৪) | ইতিহাসের দ্রুত ছড়ানো ভাইরাস | বিশ্বব্যাপী প্রায় $38 বিলিয়ন ক্ষতি | Norton, McAfee |
| ২ | ILOVEYOU (২০০০) | ভালোবাসার বার্তা ছদ্মবেশে ছড়ানো ভাইরাস | ৪৫ মিলিয়নের বেশি উইন্ডোজ কম্পিউটার আক্রান্ত | Avast, Kaspersky |
| ৩ | WannaCry (২০১৭) | র্যানসমওয়্যার ভাইরাস | ১৫০টি দেশে ৩,০০,০০০+ কম্পিউটার লক | Bitdefender, ESET |
| ৪ | Stuxnet (২০১০) | রাষ্ট্রপৃষ্ঠপোষক সাইবার অস্ত্র | ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রের সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস | Symantec, Trend Micro |
| ৫ | Conficker (২০০৮) | উইন্ডোজ সিস্টেমে বোটনেট তৈরি | সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ ও ব্যান্ডউইথ ব্যবহার | AVG, Kaspersky |
| ৬ | Code Red (২০০১) | IIS সার্ভার লক্ষ্য করে ছড়ানো ভাইরাস | হাজার হাজার ওয়েব সার্ভার ডাউন | Norton, ESET |
| ৭ | Melissa (১৯৯৯) | ইমেলের মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাস | গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও ডেটা ক্ষতি | Avast, McAfee |
| ৮ | Sasser (২০০৪) | উইন্ডোজ দুর্বলতা ব্যবহার করে সংক্রমণ | সিস্টেম ধীরে ধীরে হ্যাং | Bitdefender, AVG |
| ৯ | Zeus (২০০৭) | ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চুরি করতে ট্রোজান হর্স | ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চুরি | Kaspersky, Symantec |
| ১০ | Nimda (২০০১) | ইমেল, ওয়েবসাইট ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ানো | নেটওয়ার্ক ও সাইট আক্রান্ত | Trend Micro, ESET |
কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার ও কি কি
কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার ও কি কি সেটি জানলে আপনি ভাইরাসের আক্রমণের ধরণ বুঝে সেটির প্রতিকার করতে পারবেন কারণ সব ভাইরাসের কাজের পদ্ধতি এক নয়। একেক ধরণের ভাইরাস একেকভাবে সিস্টেমকে আক্রমণ করে এবং সেগুলোর ক্ষতি করার উপায় ভিন্ন ভিন্ন হয় যা আমাদের নিরাপত্তার জন্য বুঝে নেওয়া জরুরি। তবে ভাইরাসের ধরন অনুযায়ী সেগুলোকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায় যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
১) ফাইল ইনফেক্টর ও বুট সেক্টর ভাইরাসঃ ফাইল ইনফেক্টর ভাইরাস সাধারণত বিভিন্ন ফাইলের সাথে যুক্ত থাকে এবং সেই ফাইল ওপেন করার সাথে সাথেই পুরো কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। অন্যদিকে বুট সেক্টর ভাইরাস সরাসরি হার্ডডিস্কের বুট রেকর্ডে আক্রমণ করে যার ফলে কম্পিউটার চালু হওয়ার সময়ই বড় ধরণের ত্রুটি দেখা দেয় যা অপারেটিং সিস্টেমকে নষ্ট করে দেয়। এই দুই ধরণের ভাইরাসই সিস্টেমের জন্য মারাত্মক হুমকি কারণ এগুলো আপনার অজান্তেই গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ও ড্রাইভের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং পুরো পিসিকে অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
২) ম্যাক্রো ও মাল্টিপার্টাইট ভাইরাসঃ ম্যাক্রো ভাইরাস সাধারণত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা এক্সেল ফাইলের মাধ্যমে ছড়ায় এবং নির্দিষ্ট কিছু কমান্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে ডেটার ক্ষতি করে যা অনেক সময় শনাক্ত করা কঠিন হয়। আর মাল্টিপার্টাইট ভাইরাস হলো সবথেকে ভয়ংকর কারণ এটি একই সাথে ফাইল এবং বুট সেক্টর উভয় স্থানেই আক্রমণ চালাতে পারে যা আপনার পিসিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে। এই আক্রমণের ক্ষমতা সম্পন্ন ভাইরাসগুলো থেকে বাঁচতে হলে শক্তিশালী ফায়ারওয়াল এবং লেটেস্ট সিকিউরিটি ব্যবহার করতে হবে তাহলে এটি আপনার জন্য সবথেকে বড় সিকিউরিটি হিসেবে কাজ করবে।
১) ফাইল ইনফেক্টর ও বুট সেক্টর ভাইরাসঃ ফাইল ইনফেক্টর ভাইরাস সাধারণত বিভিন্ন ফাইলের সাথে যুক্ত থাকে এবং সেই ফাইল ওপেন করার সাথে সাথেই পুরো কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। অন্যদিকে বুট সেক্টর ভাইরাস সরাসরি হার্ডডিস্কের বুট রেকর্ডে আক্রমণ করে যার ফলে কম্পিউটার চালু হওয়ার সময়ই বড় ধরণের ত্রুটি দেখা দেয় যা অপারেটিং সিস্টেমকে নষ্ট করে দেয়। এই দুই ধরণের ভাইরাসই সিস্টেমের জন্য মারাত্মক হুমকি কারণ এগুলো আপনার অজান্তেই গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ও ড্রাইভের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং পুরো পিসিকে অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
২) ম্যাক্রো ও মাল্টিপার্টাইট ভাইরাসঃ ম্যাক্রো ভাইরাস সাধারণত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা এক্সেল ফাইলের মাধ্যমে ছড়ায় এবং নির্দিষ্ট কিছু কমান্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে ডেটার ক্ষতি করে যা অনেক সময় শনাক্ত করা কঠিন হয়। আর মাল্টিপার্টাইট ভাইরাস হলো সবথেকে ভয়ংকর কারণ এটি একই সাথে ফাইল এবং বুট সেক্টর উভয় স্থানেই আক্রমণ চালাতে পারে যা আপনার পিসিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে। এই আক্রমণের ক্ষমতা সম্পন্ন ভাইরাসগুলো থেকে বাঁচতে হলে শক্তিশালী ফায়ারওয়াল এবং লেটেস্ট সিকিউরিটি ব্যবহার করতে হবে তাহলে এটি আপনার জন্য সবথেকে বড় সিকিউরিটি হিসেবে কাজ করবে।
জনপ্রিয় পাঁচটি কম্পিউটার ভাইরাস
জনপ্রিয় পাঁচটি কম্পিউটার ভাইরাস বা ইতিহাসের সবথেকে আলোচিত ভাইরাসগুলো সম্পর্কে জানলে আপনি বুঝতে পারবেন যে এই ছোট ছোট প্রোগ্রামগুলো বিশ্বজুড়ে কতটা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। এই ভাইরাসগুলো কেবল সাধারণ ব্যবহারকারী নয় বরং বড় বড় সরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সার্ভারও নষ্ট করে দিয়েছিল যা সাইবার নিরাপত্তার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
১) আই লাভ ইউ ও মেলিসা ভাইরাসঃ ২০০০ সালে আই লাভ ইউ নামক ভাইরাসটি একটি সাধারণ ইমেইল লিংকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মাত্র কয়েক দিনে বিশ্বের কোটি কোটি কম্পিউটারের ক্ষতি করেছিল যা ছিল অবিশ্বাস্য। আর মেলিসা ভাইরাসটিও একইভাবে ইমেইল লিস্ট ব্যবহার করে নিজেকে ছড়িয়ে দিত এবং বড় বড় কোম্পানির ইমেইল সার্ভারগুলো জ্যাম করে দিয়ে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছিল। এই ভাইরাসগুলো মানুষের আবেগ এবং কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে ছড়িয়ে পড়ে যা আমাদের অপরিচিত লিংকে ক্লিক করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হতে শেখায় এবং নিরাপত্তা বাড়ায়।
২) কোড রেড ও কনফ্লিকারের তাণ্ডবঃ কোড রেড ভাইরাসটি সরাসরি মাইক্রোসফট সার্ভারে আক্রমণ করে লাখ লাখ ওয়েবসাইটকে ডাউন করে দিয়েছিল যা সেই সময়ে ইন্টারনেটে বড় ধস নামিয়েছিল। আর কনফ্লিকার ভাইরাসটি উইন্ডোজের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় এক কোটি কম্পিউটারে সংক্রমণ ঘটিয়েছিল যা আজও অন্যতম বড় সাইবার আক্রমণ হিসেবে পরিচিত। আমাদের এই ধরণের শক্তিশালী ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে হলে অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট রাখা এবং আনভেরিফাইড কোনো সোর্স থেকে কোন ফাইল ডাউনলোড না করাই হলো সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ যা আপনার ডিভাইস সুরক্ষিত রাখবে।
১) আই লাভ ইউ ও মেলিসা ভাইরাসঃ ২০০০ সালে আই লাভ ইউ নামক ভাইরাসটি একটি সাধারণ ইমেইল লিংকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মাত্র কয়েক দিনে বিশ্বের কোটি কোটি কম্পিউটারের ক্ষতি করেছিল যা ছিল অবিশ্বাস্য। আর মেলিসা ভাইরাসটিও একইভাবে ইমেইল লিস্ট ব্যবহার করে নিজেকে ছড়িয়ে দিত এবং বড় বড় কোম্পানির ইমেইল সার্ভারগুলো জ্যাম করে দিয়ে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছিল। এই ভাইরাসগুলো মানুষের আবেগ এবং কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে ছড়িয়ে পড়ে যা আমাদের অপরিচিত লিংকে ক্লিক করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হতে শেখায় এবং নিরাপত্তা বাড়ায়।
২) কোড রেড ও কনফ্লিকারের তাণ্ডবঃ কোড রেড ভাইরাসটি সরাসরি মাইক্রোসফট সার্ভারে আক্রমণ করে লাখ লাখ ওয়েবসাইটকে ডাউন করে দিয়েছিল যা সেই সময়ে ইন্টারনেটে বড় ধস নামিয়েছিল। আর কনফ্লিকার ভাইরাসটি উইন্ডোজের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় এক কোটি কম্পিউটারে সংক্রমণ ঘটিয়েছিল যা আজও অন্যতম বড় সাইবার আক্রমণ হিসেবে পরিচিত। আমাদের এই ধরণের শক্তিশালী ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে হলে অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট রাখা এবং আনভেরিফাইড কোনো সোর্স থেকে কোন ফাইল ডাউনলোড না করাই হলো সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ যা আপনার ডিভাইস সুরক্ষিত রাখবে।
কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাস
কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে প্রথম দিকের ভাইরাসগুলো কোনো ক্ষতি করার জন্য নয় বরং কেবল গবেষণার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল যা পরবর্তীতে বিপজ্জনক রূপ নেয়। ১৯৭১ সালে তৈরি হওয়া 'ক্রিপার' নামক প্রোগ্রামটিকে বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার ভাইরাস হিসেবে গণ্য করা হয় যা কেবল স্ক্রিনে একটি মেসেজ দেখাত এবং নিজেকে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে কপি করত।
এরপর ১৯৮৬ সালে Brain নামক প্রথম পিসি ভাইরাস তৈরি হয়েছিল যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পাকিস্তানের দুই ভাই এবং এটি মূলত সফটওয়্যার পাইরেসি ঠেকানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে ভাইরাসের গঠন অনেক বেশি জটিল হয়েছে এবং বর্তমানের ভাইরাসগুলো সরাসরি তথ্য চুরি ও আর্থিক জালিয়াতির মতো অপরাধের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে যা আমাদের ডিজিটাল জীবনে এক বড় চ্যালেঞ্জ।
শেষ কথাঃ বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
যদি আপনি বিশ্বসেরা ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম এবং তাদের কাজের ধরন সম্পর্কে জানেন, তাহলে আপনার কম্পিউটার অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে। ভাইরাস ডিজিটাল যন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হলেও, নিয়মিত সচেতনতা এবং আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করে এই ঝুঁকি অনেকটা কমানো যায়। তবে সবচাইতে মেইন বিষয় হলো ইন্টারনেটে কাজ করার সময় সতর্ক থাকা খুবই জরুরী এবং অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকাও উচিত। এভাবে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডেটা, ফাইল এবং কম্পিউটার সবসময় নিরাপদ ও সঠিকভাবে কাজ করবে। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে আপনি আপনার ডিজিটাল জীবনকে সহজেই সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। 250464

.webp)


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url