OrdinaryITPostAd

ফাইভার নতুন সেলার লুকানো র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর

ফাইভার নতুন সেলার লুকানো র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর এটি সেই গোপন ভাষা, যা ফাইবারের অ্যালগরিদম এর সাথে কথা বলতে শেখায়। আপনি হয়তো সকল দৃশ্যমান নিয়ম মেনে চলেছেন, কিন্তু তবুও কেন আপনার গিগ সার্চের তলানিতে পড়ে আছে? সেই সম্পর্কে জানুন।

ফাইভার-নতুন-সেলার-লুকানো-র‍্যাঙ্কিং-ফ্যাক্টর

কারণ দৃশ্যমান মেট্রিকের আড়ালে কাজ করে কিছু অদৃশ্য নিয়ম। যা সরাসরি কখনোই বলা হয় না। এই লুকানোর ফ্যাক্টর গুলোই নির্ধারণ করে আপনি আলোর দিকে উঠবেন, নাকি অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যাবেন। চলুন সেই গোপন কোডটি ভেঙ্গে সাফল্যের পথকে সহজ করি। 

পেজ সূচিপত্রঃ ফাইভার নতুন সেলার লুকানো র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর

ফাইভার নতুন সেলার লুকানো র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর

ফাইভার নতুন সেলার লুকানো র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর সম্পর্কে এখন অনেকেই জানার আগ্রহ প্রকাশ করছে। আপনি কি ফাইভারে নতুন সেলার হিসেবে প্রোফাইল বানিয়েছেন। আকর্ষণীয় গিগ তৈরি করেছেন আবার প্রতিযোগিতামূলক দামও রেখেছেন। কিন্তু কোন অর্ডার আসছে না। সার্চ রেজাল্টে আপনার গিগ একেবারে তলানিতে। হতাশ হচ্ছেন, বিশ্রাম নিন সমস্যাটি আপনার দক্ষতায় নয়, সমস্যাটি লুকিয়ে আছে  ফাইবারে সেই লুকানোর রেংকিং ফ্যাক্টরে। যা সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কখনো কিছু বলা হয় না। এগুলো হলো অদৃশ্য চাবি। 

যা দিয়ে আপনি খুলে দিতে পারেন সাফল্যের একটি দরজা। ফাইবারের রেংকিং এলগরিদম কেবল রিভিউ রেস্পন্সি রেট বা অর্ডার সংখ্যার গাণিতিক সমীকরণ নয়, এটি একটি জটিল, গতিশীল প্রাণী যা প্রতিমুহূর্তে হাজারো ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে। বিশেষ করে একজন নতুন সেলারকে এটি একটু ভিন্ন চোখে দেখে। একপ্রকার ট্রায়াল পিরিয়ডে রাখে। এই সময়ে আপনি যদি শুধু দৃশ্যমান ফ্যাক্টরগুলোতে প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই হোঁচট খাবেন। আপনার আসল লড়াই হবে সেইসব লুকানো র‍্যাংকিং ফ্যাক্টরের সাথে। যেগুলো নিয়ে কেউই আলোচনা করেনা। 

আরো পড়ুনঃ ইউটিউব শর্টস থেকে ইনকাম না আসার ১০ টা আসল কারণ

কিন্তু সেগুলো আপনার গিগকে হয় উপরে তুলবে নয়তো অন্ধকারে লুকিয়ে ফেলবে। ফাইবার অ্যালগরিদম ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে পছন্দ করে। আপনি কি টানা ৩০ দিন সক্রিয় আছেন? আপনি কি প্রতি সপ্তাহে একটি করে নতুন গিগ আপলোড করছেন? আপনি কি প্রতিটি মেসেজ এর জবাব এক ঘন্টার মধ্যে দিচ্ছেন? এই ছোট ছোট ধারাবাহিক কাজ গুলো অ্যালগরিদমকে বলে আপনি সিরিয়াস এবং পেশাদার। হঠাৎ করে ১০ টি অর্ডার করা তারপর ১৫ দিন নিষ্ক্রিয় থাকার চেয়ে, প্রতিদিন অর্ডার করা অনেক বেশি কার্যকর আপনার র‍্যাঙ্কিং এর জন্য। 

প্রোফাইল ভিজিটর থেকে ক্লায়েন্টে রূপান্তরের রহস্য

ফাইবার অ্যালগরিদম শুধু আপনার গিগে ভিজিটর সংখ্যায় দেখে না, বরং দেখে সেই ভিজিটরকে আপনি কতটা দক্ষতার মাধ্যমে ক্লায়েন্টে রূপান্তর করতে পারছেন। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধরে নিন আপনার গিগে দিনে প্রায় ৫০ জন মানুষ আসে কিন্তু মাত্র একজন অর্ডার দেয়। আবার অন্য একজন সেলারের পেজে দিনে ৩০ জন মানুষ আছে কিন্তু তার মধ্যে পাঁচজনই অর্ডার দেয়। অ্যালগরিদম দ্বিতীয় সেলারকে বেশি প্রাধান্য দেবে। কারণ তার কনভারসেশন রেট অনেক বেশি।

সরাসরি এই লুকানো বিষয়টি সরাসরি আপনার গিগের ফার্স্ট র‍্যাংকিং এ প্রভাবিত করে। এই কনভারসেশন রেট বাড়ানোর জন্য আপনাকে আপনার গিগ পেজটিকে একটি অনবদ্য সেল পিচে পরিণত করতে হবে। আপনার গিগের টাইটেল, ডেসক্রিপশন এবং গ্যালারি এমন ভাবে সাজাতে হবে যাতে ভিজিটর দেখা মাত্রই বুঝতে পারে আপনি তার সমস্যার সঠিক সমাধান দিতে পারবেন। গিগের মূল দামটি অনেক আকর্ষণীয় করে তৈরি করুন। যাতে ক্লায়েন্ট সহজেই আকর্ষিত হয়। কেন এখনই অর্ডার করবেন এই প্রশ্নের উত্তর আপনার গিগ ডেসক্রিপশনে পরিষ্কারভাবে দিতে হবে। 

অবশ্যই মনে রাখবেন এলগরিদম আপনার পৃষ্ঠায় ইউজারদের অবস্থানকাল ট্রাক করে থাকে। যদি কেউ দ্রুত পেজ ছেড়ে চলে যায় এটি নেগেটিভ সেকেন্ড হিসেবে ধরা হয়। তখন তার এনগেজমেন্ট কমে যায়। এছাড়াও একটি ইউনিক সেলিং পয়েন্ট আপনার গিগকে অনেকটা উপরে তুলে নিয়ে যেতে পারে। তাই অবশ্যই একটি ইউনিক সেলিং পয়েন্ট খুঁজে বের করুন এবং সেটিকেই সামনে নিয়ে আসুন। এই সামগ্রিক প্রচেষ্টায় আপনাকে সেই গোপন রেংকিং এর খেলায় এগিয়ে রাখবে।

বার্তা প্রেরণ ও প্রাক বিক্রয় কথোপকথনের শক্তি

ফাইবারে শুধু গিগ তৈরি করলে হয় না। আপনাকে একজন দক্ষ কমিউনিকেটর হতে হবে। ফাইবার অ্যালগরিদম সরাসরি আপনার ইনবক্সে হওয়া কথোপকথন গুলো বিশ্লেষণ করেনা। কিন্তু এটি ট্র্যাক করে যে আপনি কত দ্রুত জবাব দিচ্ছেন এবং সেই কথোপকথন শেষ পর্যন্ত অর্ডারে রূপান্তরিত হচ্ছে কিনা। আপনার রেসপন্সর এবং রেসপন্স টাইম একটু প্রকাশ্য ম্যাট্রিক হলেও, কথোপকথনের গুণগত একটি ফাইভারে লুকানো র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে ধরা হয়। যখন কোন সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট আপনার কাছে বার্তা পাঠান। তখন এটি শুধু একটি প্রশ্নই হয়ে ওঠে না। 

এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ হয়ে ওঠে। আপনার জন্য আপনার উত্তর শুধু তথ্য সমৃদ্ধি নয়, পেশাদার এবং প্ররোচনামূলক হওয়া উচিত। সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের নাম ধরে সম্মোধন করুন। তার সব প্রশ্নের পরিষ্কারভাবে এবং সহজ উত্তর দিন এবং তাকে পরবর্তী স্টেপ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। আপনি যদি কনভারসেশনের মাধ্যমেই তার আস্থা অর্জন করতে পারেন তাহলে অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই উচ্চ কনভারসেশন রেট অ্যালগরিদম কে ইতিবাচক সিগন্যাল দেয়। 

এখানে একটি গোপন কৌশল আছে, যেটি হল ফাইবার অফিসিয়ালি কন্টাক্ট মি বা কাস্টম অফার বাটনের ব্যবহারকে উৎসাহিত করে। যখন আপনি একজন ভিজিটর কে এই বাটনের মাধ্যমে সরাসরি ইনবক্সে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে একটি কাস্টম অফার তৈরি করে অর্ডার নেন। তখন ফাইবার দেখে যে আপনি প্লাটফর্মের ফিচার গুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করছেন। এটি আপনার প্রোফাইল কে একটিভ ও ইঙ্গেস্ট হিসেবে চিহ্নিত করে। তাই শুধু দ্রুত উত্তর দিলে হবে না, উত্তর দিতে হবে অনেক দক্ষতার সাথে। যাতে ক্লায়েন্টের মন জয় করা যায়। তাহলে আপনার গিগের এনগেজমেন্ট বাড়বে।

গিগ ম্যাট্রিক্সের গভীরে ক্লিক থ্রু রেট এবং আগ্রহের সূচক

আপনার গিগ সার্চ রেজাল্টে দেখা যাচ্ছে এমনটাই মনে হচ্ছে। কিন্তু দেখা যাওয়াই যথেষ্ট নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্লায়েন্টরা আপনার গিগটি ক্লিক করছে কিনা। এই ম্যাট্রিক্স টিকেই বলে ক্লিক থ্রু রেট বা সিটিআর। এটি ফাইবারের অন্যতম প্রধান একটি রেঙ্কিং ফ্যাক্টর। ধরুন ৫০ জন আপনার গিগটি সার্চ রেজাল্টে দেখল কিন্তু মাত্র পাঁচ জন এতে ক্লিক করলো তাহলে এর সিটিআর ১০%। এখন অন্য একজন সেলারের দেখল ১০০ জন দেখল ক্লিক করলো ১৫ জন তার সিটিআর ১৫%। 

স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় সেলারের গিগকে বেশি গুরুত্ব দেবে। কারণ এটি ব্যবহারকারীদের জন্য বেশি আকর্ষণ করে তুলেছে। আপনার গিগে সিটিআর বাড়ানোর জন্য আপনাকে কাজ করতে হবে থাম্বনেল এবং টাইটেল এর উপর। ফাইভার সার্চ রেজাল্টের প্রথমেই চোখে পড়ে আপনার গিগের থাম্বনেল ছবি এবং টাইটেল। থাম্বনেলটি হতে হবে চমৎকার কোয়ালিটির, প্রাসঙ্গিক এবং দেখতেই যেন অন্যান্য হয়। টাইটেলটি হতে হবে কিওয়ার্ড। 

ফাইভার-নতুন-সেলার-লুকানো-র‍্যাঙ্কিং-ফ্যাক্টর

কিন্তু শুধু কিওয়ার্ড স্টাফিং নয়, টাইটেল এর মধ্যে ক্লায়েন্টের সমস্যার সমাধান বা লাভের ইঙ্গিত থাকতে হবে। যেমন আমি করব এর চেয়ে আপনি পাবেন। এই ফরমেটে টাইটেল লিখলে বেশি কার্যকর এবং আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আপনার গিগটি যত বেশি ক্লিক পাবে ফাইবার অ্যালগরিদম ততোই মনে করবে যে আপনার গিগটি রিলিভেন্ট এবং আকর্ষণীয়। এই লুকানো আগ্রহের সুযোগটি আপনাকে সার্চের শীর্ষে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। 

প্লাটফর্মের সাথে আচরণ ফাইবার কে আপনি কতটা ফ্রেন্ডলি নিলেন 

এটি খুব কম আলোচিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফাইভার নতুন সেলার লুকানো র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর। ফাইবার চায় যে আপনি শুধু তার প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ক্ষান্ত হবেন না, বরং তার নীতি, ফিচার এবং সম্প্রদায়ের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকবেন। প্রথমত ফাইবারের টার্ম অফ সার্ভিস এবং কমিউনিটি গাইডলাইন মেনে চলা। কোন প্রকার স্প্যাম, কপি পেস্ট বার্তা বা প্লাটফর্ম থেকে কন্টাক্ট তথ্য নেওয়ার চেষ্টা না করা।

এসব কাজ করলে আপনি শুধু ওয়ার্নিং পাবেন না, আপনার র‍্যাংকিং ধীরে ধীরে অনেক নিচে নেমে যাবে। ফাইবারের নিজস্ব ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ফাইবার স্টুডিওর মাধ্যমে গিগ ভিডিও তৈরি করা। ফাইবার ব্লগে সেলারের সাফল্যের গল্প পড়া বা এমনকি অংশ নেওয়া। ফাইবার নিউ সেলার অরিজিনারে অংশগ্রহণ করলে এটি আপনার প্রোফাইলের জন্য একটি ইতিবাচক প্রভাব হতে পারে। কারণ এটি দেখায় যে আপনি পেশাদারিত্ব উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। 

তৃতীয়ত কখনো ফাইবারের বাইরে পেমেন্ট নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া যাবে না। অ্যালগরিদম নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড এর জন্য কথোপকথন স্ক্যান করে এবং এটি সনাক্ত করলে আপনার একাউন্টের উপর নেগেটিভ প্রভাব পড়ে। সহজ পথে আপনি যদি সাইবার কে আইটেম বন্ধু হিসেবে ভাবেন, তাকে আপনি সম্মান করেন এবং তার সাফল্য আপনার সাফল্য ভাবেন। তাহলে ফাইবারের অ্যালগরিদম ও আপনাকে সমর্থন করবে।

গিগের জীবন চক্র এবং আপডেটের কৌশল

প্রতিটি দিকের একটি জীবন চক্র থাকে। লঞ্চ, গ্রোথ পিক এবং ডিক্লাইন ফেজ নতুন সেলার রা প্রায়ই একটি গিগ তৈরি করে। সেটিকে অবহেলা করেন, কিন্তু এটি একটি বড় ভুল। আপনার গিগ গুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আপডেট একটি শক্তিশালী রেকিং ফ্যাক্টর তৈরি করে। ফাইভার অ্যালগরিদম ফ্রেশ এবং আপটুডেট কনটেন্টকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আপনি যদি তিন মাস আগের গিগে কোন আপডেট না করে থাকেন তবে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। গিগ আপডেট করার মানে এই নয় যে, শুধু রিফ্রেস বাটন ক্লিক করা। 

আরো পড়ুনঃ পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম

বরং গিগের কন্টেন্টের উন্নতি করা। আপনার গিগ ডেসক্রিপশনে নতুন তথ্য যোগ করা ইত্যাদি কে বোঝায়। আপনার পোর্টফোলিওতে নতুন এবং আরো উন্নত কাজের নমুনা যোগ করুন। গিগের প্যাকেজগুলো সহজ করুন। হয়তো নতুন একটি সার্ভিস এড করতে পারেন বা দাম পরিবর্তন করতে পারেন। বাজার চাহিদা অনুযায়ী এমনকি গিগের মেটা টাইটেল বা ডেসক্রিপশনের কিওয়ার্ড ও নির্দিষ্ট সময় পর পর রিভিউ করুন। এসব কাজ অ্যালগরিদমকে দেখায় যে, আপনি এই গিগটির প্রতি সক্রিয় এবং ক্লায়েন্টদের সর্বোচ্চ মানের সার্ভিস দিতে চান। 

নিচের দিকের ম্যাট্রিক্স অর্ডার কমপ্লিশন এবং ডেলিভারির সময় 

ফাইবার সেলার ড্যাশবোর্ডে কিছু ম্যাট্রিক্স সব সময় চোখের সামনেই থাকে। যেমন অর্ডার কমপ্লিশন রেড, অন টাইম ডেলিভারি এবং অর্ডার রিটেনশন রেট মেট্রিক্স। এগুলো কিভাবে আপনার সামগ্রিক ফাইভার নতুন সেলার লুকানো র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর কে প্রভাবিত করে তা অনেকেরই অজানা প্রায়। আপনার অর্ডার কম্প্লিশন রেট ৯০% এর নিচে নামতে দেওয়া যাবে না। কারণ এটি দেখায় আপনি কতটা নির্ভরযোগ্য। 

কোনো কারণে অর্ডার ক্যান্সেল হলে তা আপনার রেটিং কে নষ্ট করার পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাট্রিক্স থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। অন টাইম ডেলিভারি শুধু ক্লায়েন্টকে খুশি রাখে না, ফাইবার অ্যালগোরিদমকেও খুশি রাখে। যেসব সেলার নিয়মিত সময়মতো ডেলিভারি দেন, তাদেরকে ফাইবার টপ রেটেড বা লেভেল টু সেলার হওয়ার জন্য অগ্রাধিকার দেয়। ডেলিভারি দেওয়ার সময় একটু দ্রুত দেওয়ার চেষ্টা করুন। এটি আর্লি ডেলিভারি হিসেবে চিহ্নিত হবে। 

ফাইভার-নতুন-সেলার-লুকানো-র‍্যাঙ্কিং-ফ্যাক্টর

যা একটি অতিরিক্ত পজিটিভ সিগন্যাল। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অর্ডার রিটেনশন রেট। মানে একই ক্লায়েন্ট আপনার কাছ থেকে পুনরায় অর্ডার দিচ্ছেন কিনা, এটি সরাসরি আপনার সার্ভিসের মান এবং ক্লায়েন্ট সম্পর্কের শক্তির প্রতিফলন উচ্চ রিটেনশন রেট অ্যালগোরিদম কে বলে আপনি অসাধারণ কাজ করছেন। এই ম্যাট্রিক্স গুলোর যত্ন নেওয়া মানে, আপনি শুধু সংখ্যাগুলোই বাড়াচ্ছেন না। আপনি ফাইভারের চোখে একজন আদর্শ সেলার এর মর্যাদা পাচ্ছেন।

গিগের বাইরে থেকে আসা ভিজিটরের মূল্য 

আপনি কি কখনো ফেসবুক, লিংকডিন, টুইটার বা আপনার ব্যক্তিগত ব্লগ থেকে ফাইবারে আপনার গিগে লোক পাঠিয়ে থাকেন। যদি না করে থাকেন তাহলে আপনি একটি শক্তিশালী রেংকিং সেক্টরকে উপেক্ষা করেছেন। ফাইবার অ্যালগরিদম শুধু তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে কাজ করেনা, বরং বাইরের সোর্স থেকে আসার ট্রাফিক কেউ মূল্যায়ন করে। যখন আপনি বাইরে জায়গা থেকে আপনার দিকে ট্রাফিক নিয়ে আসেন। 

তখন এটি দুটি জিনিস বুঝতে সাহায্য করে, প্রথমত আপনার গিগের ম্যানুয়াল মার্কেটিং ভালো আছে। দ্বিতীয়তঃ আপনি শুধু ফাইবারের উপর নির্ভরশীল নন। আপনার নিজস্ব নেটওয়ার্ক আছে। এই বাহ্যিক ট্রাফিকের নাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধু ক্লিক বাড়ানোর জন্য আপনি বট বা ফেক ট্রাফিক ব্যবহার করেন। তবে এটি ধরা পড়বে এবং আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য এটি বিপদজনক হয়ে উঠবে। 

কিন্তু যদি আপনি আপনার পেশাদার নেটওয়ার্ক থেকে প্রকৃত সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের আপনার দিকে পাঠান এবং তারা আপনার গিগটি দেখে, তখন এটি অ্যালগরিদম এর জন্য একটি পজিটিভ সিগনাল। তাদের কারো যদি অর্ডার ও হয় তাহলে তো কথাই নেই। এমনকি যদি অর্ডার নাও হয়, তবুও প্রকৃত মানুষের ভিজিট এবং ইন্টারেস্ট ফাইবারকে আপনার গিগের ইলেভেন সি সম্পর্কে নিশ্চিত করে। 

প্রতিযোগিতার বিশ্লেষণ এবং অন্যের সাফল্য থেকে শেখা 

ফাইবারে সাফল্য পাওয়ার অর্থ হলো প্রতিযোগিতাকে বুঝে তাকে মোকাবিলা করা। কিন্তু শুধু প্রতিযোগিতা করলেই হবে না, বরং গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। এটি একটি লুকানো রেংকিং ফ্যাক্টর যদিও এটিকে অনেকেই বিশেষভাবে বিবেচনায় নেন না। আপনার নিজ বা টপ রেটেড প্রতিযোগীদের গিগ গুলো খুঁজে খুজে দেখুন তাদের গিগের টাইটেল, ডেসক্রিপশন, ইমেজ প্যাকেজিং মূল্য এবং রিভিউগুলো পড়তে থাকুন। 

তারা কিওয়ার্ড হিসেবে কি ব্যবহার করেছে। তারা তাদের ইউএসবি ঠিক কিভাবে উপস্থাপন করছে। তাদের রিভিউতে ক্লাইন্টরা কোন বিশেষ গুণের প্রশংসা করছে। এই বিশ্লেষণ থেকে আপনি বাজারের ফাঁক খুঁজে পাবেন। হয়তো সবাই উচ্চ মূল্যের সার্ভিস দিচ্ছে। কিন্তু মধ্যবিত্ত বাজারের জন্য কোন ভালো সার্ভিস প্রোভাইডার নেই। অথবা সবাই শুধু লোগো ডিজাইন করছে। কিন্তু লোগোর সাথে মোশন গ্রাফিক্স ভিডিও দিচ্ছে না। 

আরো পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট SEO অ্যানালাইসিস করার নিয়ম জানুন

এই ফাঁকগুলো পূরণ করেই আপনি দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবেন। ফাইবার অ্যালগরিদম নতুন এবং ইউনিক অফার কে পছন্দ করে। কারণ এটি প্লাটফর্মের বৈচিত্র বাড়ায় এবং গ্রাহকদের বেশি অপশন দেয়। তবে সতর্ক থাকুন, কখনো প্রতিযোগীর গিগ বা কনটেন্ট কপি করবেন না। এটি কপিরাইট লংঘন এবং ফাইবারের কঠোর নীতির বিপরীত। আপনার কাজ হল অনুপ্রেরণা নেওয়া, নকল করা নয়।

শেষ কথা ফাইবার নতুন সেলার লুকানোর রেংকিং ফ্যাক্টর 

ফাইভার নতুন সেলার লুকানো র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর গুলোকে আপনাকে আয়ত্ত করতে হবে। যা পর্দার আড়ালে থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। এই ফ্যাক্টর গুলো হলো কনভার্শন রেড, কৌশল, প্রাক বিক্রয়, যোগাযোগ, ক্লিক থ্রু রেট, প্রথম অর্ডারের গুরুত্ব, প্লাটফর্ম বন্ধুত্ব, গিগ আপডেট, ম্যাট্রিক্স ম্যানেজমেন্ট, বহিরাগত ট্রাফিক, প্রতিযোগিতা বিশ্লেষণ, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক এবং সর্বোপরি ধৈর্য ও স্থিতিশীলতা। এই লুকানো নিয়মগুলো জানা এবং প্রয়োগ করার মধ্যে রয়েছে আপনার সাফল্যের সূত্র। এগুলো কোনো জাদুর কাঠি নয়, বরং পেশাদারী সূক্ষ্ম কৌশল। 

আজ থেকে এই কৌশলগুলো নিয়ে কাজ করা শুরু করে দিন। এগুলো বিষয় নিয়ে সময় দিন। এটিকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুন। তারপর পরবর্তীতে ধাপে যান। অবশ্যই মনে রাখবেন ফাইবার অ্যালগরিদম কোন শত্রু নয়। এটি একটি সিস্টেম আর যে এই সিস্টেমের ভাষা শিখবে, সেই এই সিস্টেমের রাজা হবে। যদিও ফাইবারে নতুন সেলার হিসেবে লড়াইটা সহজ নয়। কিন্তু এটি অসম্ভব কিছু নয়। সবগুলো মানলেই চলবে না। লুকানোর সকল ফ্যাক্টর রেংকিং সম্পর্কে জানতে হবে। আপনার যাত্রা শুভ হোক।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url