নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ
নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ কি শুধুই ভাগ্যের উপর
নাকি এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কৌশলগত মানসিক ও কারিগরি ভুল। ইউটিউব এখন
শুধু একটি বিনোদনের মাধ্যমই নয়, এটি একটি লক্ষ্য মানুষের কাছে পৌঁছানোর সেতু।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা শুধু কারণই চিন্তা করবো না। বরং প্রতিটি কারণের
প্রেক্ষিতে বাস্তবসম্মত বিস্তারিত ও কার্যকরী সমাধানও তুলে ধরব। আপনার চ্যানেল
যদি ঠিকমতো বাড়তে না চায়, তাহলে এটি আপনার জন্য পথ নির্দেশকও হতে পারে।
পেজ সূচিপত্রঃ নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ
-
নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ
-
অস্পষ্ট চ্যানেল নীতি ও বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতার অভাব
-
ভিডিওর মান ও উৎপাদন দক্ষতার দুর্বলতা
-
অকার্যকর টাইটের থাম্বনেইল ও এসইও জ্ঞানের অভাব
-
নিয়মিত তা ও ধৈর্যের মারাত্মক অভাব
-
কমিউনিটি গড়ে না তোলা ও দর্শকের সাথে সংযোগীনতা
-
প্রতিযোগিতা বিশ্লেষণ ও বাজার গবেষণা না করা
-
নতুন দর্শক টার্গেটিং এবং স্থানীয় করণের অভাব
-
ভিডিওর দৈর্ঘ্য ও গঠন সম্পর্কে অসচেতনতা
-
শেষ কথাঃ নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ
নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ
নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ এর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অসাধারণ ভুল। অনেক নতুন ক্রিয়টর মনে করেন তারা যদি বিভিন্ন ধরনের ভিডিও বানান, তাহলে বেশি দর্শক আকৃষ্ট হবে। বাস্তবতা ঠিক উল্টো। আপনি যখন সবকিছু বানান ইউটিউব বুঝতে পারে না আপনার চ্যানেলটি আসলে কাদের জন্য। ফলে সঠিক দর্শকের কাছে ভিডিও পৌঁছায় না। আর দর্শকরাও বিভ্রান্ত হয়। তারা রান্নার ভিডিও দেখে সাবস্ক্রাইব করে। কিন্তু পরের সপ্তাহে আপনার গেমিং ভিডিও দেখে আগ্রহ হারায়। একটি সুনির্দিষ্ট নিশ বেছে নিন।
আপনার আগ্রহ এবং দক্ষতা যেখানে সেখানেই ফোকাস করুন। যেমন শুধু বাংলাদেশের পর্যটন স্থান, সহজ ইলেকট্রনিক্স রিপেয়ার টিউটোরিয়াল বা মজাদার বাংলা রান্না। এটি দর্শকদের আপনার থেকে কি আশা করতে হবে তা নির্ধারণ করে দেবে এবং এলগরিদম সহজেই আপনার কনটেন্ট সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে। অনেকেই ভিডিও আপলোড করা কেই শেষ ধাপ মনে করেন। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেল মানে শুধু ভিডিও আপলোড করাই নয়। এটি একটি কমিউনিটি করে তোলা।
আরো পড়ুনঃ পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম
প্রায়ই এই প্রচার ও সম্পৃক্ততায় ঘাটতি রয়েই থাকে। আপনি ভিডিও বানালেন কিন্তু
সেটি শেয়ার করলেন না। দর্শকদের কমেন্টের জবাব দিলেন না। ইউটিউবের কমিউনিটি ট্যাব
বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ আপনার উপস্থিতি নেই। এর ফলে দর্শকরা শুধু দর্শক
থাকবে না। তারা আপনার কমিউনিটির অংশ হয়ে উঠবে এবং আপনার চ্যানেলের জন্য
এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করে থাকবে।
অস্পষ্ট চ্যানেল নীতি ও বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতার অভাব
নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেলে প্রতিদিন ভিডিও আপলোড করার পরও গ্রো না হওয়ার কারণ এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং প্রাথমিক সমস্যাটি হলো চ্যানেলের জন্য একটি স্পষ্ট নীতি না থাকা। অনেক নতুন ক্রিয়টর শুরুতে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও বানান। যেমন আজকে একটি রেসিপি ভিডিও, পরের দিন একটি কমেডি স্ক্রিপ্ট, পরের দিন গেমিং ভিডিও। এই অসামাজস্যটা দর্শকদের বিভ্রান্ত করে। একজন দর্শক আপনার রেসিপি ভিডিও দেখে সাবস্ক্রাইব করলো। কিন্তু পরের সপ্তাহে যখন সে আপনার চ্যানেলে এসে দেখবে আপনি এখন গেমিং ভিডিও বানাচ্ছেন।
তখন তার আগ্রহ অনেকটা হারিয়ে যায়। ইউটিউব এর অ্যালগরিদমও আপনার চ্যানেলকে নির্দিষ্ট কোন শ্রেণীতে ফেলতে পারে না। ফলে সঠিক দর্শকের কাছে আপনার ভিডিওগুলো পৌঁছায় না। এই নীতি বিহীন অবস্থা সরাসরি দর্শক ও অ্যালগরিদম উভয়কেই প্রভাবিত করে। নির্দিষ্ট নীতি বাছাই করা মানে শুধু একটি বিষয় আটকে থাকা নয়। বরং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য দর্শকের কথা মাথায় রেখে কন্টেন্ট তৈরি করা। যেমন আপনার নীতি হতে পারে বাংলাদেশে বাজেট ভ্রমণ, সহজ বাংলা রান্না বা ফটোগ্রাফি টিউটোরিয়াল।
এই স্পষ্টতা দর্শকদের মনে আপনার চ্যানেলের একটি পরিচয় তৈরি করবে। তারা জানবে আপনার চ্যানেল থেকে তারা কি আশা করতে পারে। ধারাবাহিকতা শুধু বিষয় নয় ভিডিও আপলোডের সময়সূচীতেও থাকা জরুরী। যখন দর্শকরা বুঝতে পারে যে আপনি নিয়মিত নির্দিষ্ট মানের কনটেন্ট দিচ্ছেন। তখন তারা আপনার চ্যানেলের উপর আস্থা রাখে এবং লয়াল কমিউনিটি তৈরি হয়। এটি ধীরে ধীরে নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেলে বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। স্থায়ী বৃদ্ধির ভিত্তে স্থাপন করে।
ভিডিওর মান ও উৎপাদন দক্ষতার দুর্বলতা
আজকের প্রতিযোগিতাময় ইউটিউব এ দর্শকরা উচ্চ মানের কনটেন্ট পছন্দ করে থাকেন। যদি আপনার ভিডিওর অডিও কোয়ালিটি খারাপ হয়, ভিডিও ফুটেজ ঝাপসা বা কম আলোতে তোলা হয় এবং সম্পাদনা অগোছালো বা জ্যামিতিক হয়। তাহলে দর্শকরা প্রথম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভিডিও ছেড়ে চলে যাবে। গরে ৩০ সেকেন্ডের বেশি তারা দেখবে না। ইউটিউব এর অ্যালগরিদম এই অডিয়েন্স রিটেনশন রেট কে খুব গুরুত্ব দেয়। যদি রিটেনশন রেট কম হয়, অ্যালগরিদম ধরে নেবে আপনার ভিডিও ভালো নয় এবং সেটিকে আর দর্শকের সামনে উপস্থাপন করবে না।
এভাবেই নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল হয়ে দাঁড়ায় প্রাথমিক প্রযুক্তিগত দুর্বলতা। এই সমস্যার সমাধানের জন্য বড় বাজেটের প্রয়োজন নেই। বরং দরকার সচেতনতা। একটি বেসিক রিং লাইট ভালো আলোর ব্যবস্থা করতে পারে। আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরা যদি ভাল হয়, তাহলে তা দিয়ে অনেক উন্নতমানের ভিডিও তৈরি করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অডিও একটি বেসিক লেয়ার মাইক্রোফোন কিনে নিন।
যা সরাসরি ফোনে লাগিয়ে ব্যবহার করা যায়। এটি আপনার অডিওর মান রাতারাতি বদলে দেবে। এডিটিং এর জন্য ক্যাপ কার্ড, রিভিং সি রেজাল্ট বা ফিলম্বারের মত ফ্রি ও ব্যবহারে সহজ সফটওয়্যার শেখা শুরু করুন। ভিডিও শুরুতে একটি শক্তিশালী হূক দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে ফেলা এবং একটি গতিশীল পেশিং বজায় রাখা শিখুন। এতে করে আপনার চ্যানেলের সমস্যা দূর করতে ভিডিওর প্রাথমিক মান নিশ্চিত করাটাই আবশ্যক।
অকার্যকর টাইটেল থাম্বনেইল ও এসইও জ্ঞানের অভাব
আপনি যদি দারুণ ভিডিও বানান কিন্তু মানুষ এটি খুজে না পায়, তাহলে ভিউ আসবে না। এখানে মূল ভূমিকা পালন করে টাইটেল, থাম্বনেইল এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অথবা এসইও। নতুনদের একটি সাধারণ ভুল হল টাইটেল শুধু ভিডিওর সাধারণ নাম দেওয়া। যেমন রান্না বা ভ্রমণ এই ধরনের টাইটেল প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা পূর্ণ এবং সার্চে ওঠে না। বরং টাইটেল হতে হবে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড সমৃদ্ধ এবং আকর্ষণীয়। যেমন ১০০ টাকায় বানানো যাবে রাজধানীর সেরা চিকেন বার্গার। থাম্বনেল হল আপনার ভিডিওর বিজ্ঞাপনের পোস্টার দুর্বল।
ঝাপসা বা ক্লিক বেইট থাম্বনেল আকর্ষণ করে না। থাম্বনেইলে স্পষ্ট টেক্সট উজ্জ্বল রং এবং একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু আকর্ষণীয় দৃশ্য থাকা উচিত। এস ইওর ক্ষেত্রে ভিডিওর ডেসক্রিপশন খালি রাখা, ট্যাগ না দেওয়া বাবুল ট্যাগ দেওয়া মারাত্মক ভুল। ডেসক্রিপশনে ভিডিওর সারমর্ম গুরুত্বপূর্ণ লিংক এবং প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। ট্যাগ হিসেবে শুধু ভিডিও না দিয়ে ভিডিও নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কিত ট্যাগ দিন। এসইও কে উপেক্ষা করলে আপনার চ্যানেল কখনোই আবিষ্কৃত হবে না।
নিয়মিত তা ও ধৈর্যের মারাত্মক অভাব
নতুন ইউটিউবারের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার বিভিন্ন কারণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষকে হতাশ করে এবং চ্যানেল ছাড়িয়ে দেবার দিকে ঠেলে দেয়। তা হল ইউটিউব একটি ম্যারাথন ১০০ মিটার স্প্রিন্ট নয়। অনেক নতুন ইউটিউবার প্রথমে মাসে দুই তিনটি ভিডিও দিয়ে ভেবেই বসে থাকেন যে তাদের চ্যানেল ভাইরাল হয়ে যাবে বা হাজার হাজার সাবস্ক্রাইবার চলে আসবে। যখন তা হয় না তখন তারা হতাশ হয়ে ভিডিও বানানো কমিয়ে দেন বা একেবারে বন্ধ করে দেন। ইউটিউব এ অ্যালগরিদম নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য ক্রিয়েটরদের পছন্দ করে।
আপনি যদি অনিয়মিত হন তাহলে এলগরিদম আপনার চ্যানেলকে গুরুত্ব দেবে না। দর্শকরাও আপনার চ্যানেল ভুলে যাবে। সফলতা ধৈর্যের খেলা। একটি বাস্তবসম্মত আপলোড সিডিউল তৈরি করুন। যা আপনি দীর্ঘমেয়াদী ধরে রাখতে পারবেন। সপ্তাহে একটি ভিডিও নিয়মিত দেওয়া। মাসে ১০ টি ভিডিও দিয়ে পরে দুই মাস নিষ্ক্রিয় থাকার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। প্রথম ভিডিওতে খুব কমই ভিউ ছিল। অনিয়মিততা হচ্ছে চ্যানেল বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় শত্রু। ধৈর্য ধরুন, নিয়মিত থাকুন এবং সময় দিন আপনার চ্যানেলকে বেড়ে উঠতে।
কমিউনিটি গড়ে না তোলা ও দর্শকের সাথে সংযোগহীনতা
নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ শুধু কনটেন্ট এর সীমাবদ্ধই নয়। এর একটি সামাজিক দিক রয়েছে। ইউটিউব শুধু একটি ভিডিও আপলোড করার প্লাটফর্মে নয়। এটি একটি কমিউনিটি। অনেক নতুন ক্রিয়াটার ভিডিও আপলোড করেই দায়িত্ব শেষ মনে করেন। তারা কমেন্টের জবাব দেন না। কমিউনিটি ট্যাব ব্যবহার করেন না। সামাজিক মাধ্যমে তাদের চ্যানেলের জন্য আলাদা উপস্থিতি গড়ে তোলেন না। এই সংযোগহীনতা চ্যানেলকে নিছক একটি ভিডিও লাইব্রেরীতে পরিণত করে।
যা মানুষ সাবস্ক্রাইব করে থাকতে চায় না দর্শকরা চায় নিজেকে একটি কমিউনিটির অংশ মনে করতে। আপনার দর্শকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। প্রতিটি ভিডিওর কমেন্টে যতটা সম্ভব রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করুন। ধন্যবাদ জানান, প্রশ্নের উত্তর দিন। তাদের মতামত জিজ্ঞাসা করুন। কমিউনিটি ট্যাব ব্যবহার করে পোল ছবি বা সংক্ষিপ্ত আপডেট শেয়ার করুন।
আরো পড়ুনঃ উইন্ডোজ ১১ এর নতুন ৮টি ফিচার সম্পর্কে জানুন
ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে আপনার ইউটিউব কনটেন্ট এর সাথে সম্পর্কিত একটি পেজ বা প্রোফাইল রাখুন এবং সেখানে আপনার দর্শকদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করুন। যখন দর্শকরা দেখে যে আপনি তাদের গুরুত্ব দিচ্ছেন, তখন তারা আপনার চ্যানেলের প্রতি লয়াল হয় এবং আপনার ভিডিও শেয়ার করে নিয়মিত দেখতে থাকে। এই লয়াল কমিউনিটি চ্যানেলের গ্রোথের সমস্যা ধীরে ধীরে পরাজিত করে চ্যানেলের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
প্রতিযোগিতা বিশ্লেষণ ও বাজার গবেষণা না করা
আপনি হয়তো একটি নির্দিষ্ট নিশে ভিডিও বানানো শুরু করলেন। কিন্তু আপনার এলাকায় ওই নিশ ইতি মধ্যে কতজন বড় ক্রিয়টার আছেন তারা ব্যবহার করে ফেলেছেন। তারা কি ধরনের কনটেন্ট বানান। তাদের শক্তি, দুর্বলতা কি এসব সম্পর্কে আপনার কোন ধারনাই নেই। আপনি যা ভাবছেন তা হয়তো দর্শকরা চায়না। অথবা আপনি যা দিচ্ছেন তা ইতিমধ্যে আরো ভালোভাবে অন্য কেউ দিয়েছে। অন্ধের মত কনটেন্ট তৈরি করলে সফল হওয়া কঠিন।
আপনার নিশের শীর্ষ পাঁচ থেকে দশ জনপ্রিয় ক্রিয়েটর কে গভীরভাবে এনালাইসিস করুন পর্যবেক্ষণ করুন। দেখুন তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও গুলোর টাইটেল, থাম্বনেল, ভিডিও স্ট্রাকচার কি ধরনের। সেই ভিডিও গুলোর কমেন্ট পড়ে দেখুন। দর্শকরা কোন কোন বিষয়ে পছন্দ করছে। বা কি অভাব অনুভব করছে।
ইউটিউব সার্চ বার ব্যবহার করে দেখুন আপনার বিষয়ে মানুষ কোন কোন কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করছে। গুগল ফ্রেন্ডস দেখুন কোন বিষয়ে চাহিদা বাড়ছে এই গবেষণা থেকে আপনি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পেতে পারেন। প্রথমত আপনার কনটেন্ট এর জন্য গ্যাপ বা শূন্যতা খুঁজে পাবেন। যা আপনি পূরণ করতে পারবেন। সকল সমস্যা দূর করতে প্রতিযোগিতা নয় প্রতিযোগিতার কাছ থেকে শেখা টাই জরুরী।
নতুন দর্শক টার্গেটিং এবং স্থানীয় কারণের অভাব
অনেক নতুন ক্রিয়েটর তাদের কনটেন্ট কারা দেখবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোন ধারণা রাখেনি না। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি বাংলাদেশী দর্শকদের জন্য বাংলায় রান্নার ভিডিও বানান। কিন্তু আপনার টাইটেল ট্যাগ ও ডেসক্রিপশন শুধু ইংরেজিতে রাখেন। তাহলে আপনার স্থানীয় দর্শকরা আপনার ভিডিও খুজে পাবে না। আবার আপনি যদি আন্তর্জাতিক দর্শকদের টার্গেট করেন।
কিন্তু আপনার কন্টেন্টের বিষয়বস্তু বা রেফারেন্স গুলো স্থানীয় একটি ছোট গ্রুপ ছাড়া অন্য কেউ বুঝতে পারে না। সে ক্ষেত্রেও সমস্যা হয় না। আপনার ভিডিওটি কার জন্য হলে সেটিকে সঠিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে পারেনা। এর সমস্যা সমাধানে আপনাকে স্থানীয়করণ এবং টার্গেটিং এর দিকে গভীর মনোযোগ দিতে হবে। প্রথমেই ঠিক করেন আপনি কাদের জন্য ভিডিও বানাচ্ছেন।
তারপর সেই দর্শকদের ভাষা আগ্রহ এবং সার্চ প্যাটার্ন অনুযায়ী আপনার মেটা ডাটা তৈরি করে থাকুন। ভিডিওর ভাষা ও বিষয়বস্তু সেই দর্শকদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে হবে। এই ভুল টার্গেটিং চ্যানেলকে বৃদ্ধি দরজার কাছে পৌঁছাতেই দেয় না। সঠিক টার্গেট দর্শক চিহ্নিত করতে পারলে তাদের চাহিদা মেটাতে পারলে তারা আপনার চ্যানেলে আটকে থাকবে এবং নিয়মিত দর্শকে পরিণত করতে থাকবে।
ভিডিও দৈর্ঘ্য ও গঠন সম্পর্কে অসচেতনতা
নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার বিভিন্ন কারণের মধ্যে প্রায়ই লুকিয়ে থাকে ভিডিও দৈর্ঘ্য এবং অভ্যন্তরীণ গঠনের ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে। অনেক নতুন ইউটিউবার ভাবেন ভিডিও যত দীর্ঘ হবে তত ভালো। কারণ এতে ওয়াচ টাইম বাড়বে। অথবা তারা ভাবেন খুব ছোট ভিডিও ইউটিউব শর্টসের জন্য ভালো। উভয় ধারণায় আংশিক সত্য কিন্তু সম্পূর্ণ সত্য নয়। ইউটিউব আসলে এমন ভিডিও কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে, যা দর্শকদের পুরো সময়টা ধরে রাখতে পারে। তাই যদি আপনার ২০ মিনিটের ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ কথা গুলো বলে ফেলতে দশ মিনিট লাগে।
তাহলে দর্শকরা পাঁচ মিনিটের মাথায়ই চলে যাবে। ফলে গড় দর্শন সময় কমে যাবে। যা নেতিবাচক সংকেত আবার ইউটিউব শট ৬০ সেকেন্ডের কম ভিডিও গুলোকে বলা হয়। সম্পূর্ণ আলাদা অ্যালগরিদমে এই ভিডিও গুলো কাজ করে। যেখানে দ্রুততা ভিজুয়াল শখ এবং তাৎক্ষণিক ইনগেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি মূল চ্যানেলের দীর্ঘ ভিডিওর কন্টেন্টকে কেটে শর্টস বানান, তাহলে তা কাজ নাও করতে পারে।
আরো পড়ুনঃ ইউটিউব শর্টস থেকে ইনকাম না আসার ১০ টা আসল কারণ
সমাধান হলো প্রতিটি ভিডিওর জন্য তার কন্টেন্ট অনুযায়ী আদর্শ দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। কিন্তু তার গঠন হতে হবে নিয়মিততার দর্শনীয়। সরাসরি মূল বক্তব্য অপ্রয়োজনীয় অংশ এডিট আউট নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ দূর করতে ভিডিওকে দর্শকের সময়ের মূল্য দিতে হবে। সময় নষ্ট করলে চলবে না।
শেষ কথা নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ
নতুন ইউটিউবার দের চ্যানেল গ্রো না হওয়ার কারণ নিয়ে এই ব্যাপক আলোচনা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার চ্যানেলের স্থবিরতা কোন একক ব্যর্থতার ফল নয়। বরং তা কৌশলগত কারিগরি এবং মানসিক এই তিনটি স্তরের সম্মিলিত ঘাটতি প্রকার। আমরা দেখেছি কিভাবে একটি অস্পষ্ট নীতি, দুর্বল প্রোডাকশন মান, এসইওর অভাব এবং অস্থিরতা চ্যানেলের বৃদ্ধির পথে পাথর হয়ে দাঁড়ায়। একই সাথে কমিউনিটি করে না তোলা প্রতিযোগিতা না বুঝে চলা এবং নিজেকে ক্রমাগত না করা। এই সমস্ত বাধা অপেরা নয়।
প্রতিটি কারণের একটি সুস্পষ্ট সমাধান রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট নীতি বেছে নিন। দর্শকের ভাষায় কথা বলুন। শেখা কখনো বন্ধ করবেন না এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধৈর্য ধরুন। ম্যারাথন স্প্রেন্ট নয়, আজকের বড় ক্রিয়েটর দের চ্যানেল ও একসময় শূন্য থেকে শুরু করেছিল। চ্যানেল গ্রোথ একটি জটিল পাজল নয়। বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া। যা বোঝা শেখা এবং প্রয়োগের মধ্য দিয়েই আয়ত্ত করা যায়। আপনার যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রয়োজন একাগ্রতা ও ধারাবাহিকতা। সাফল্য অবশ্যই আসবে।




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url