ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম
সেরা মার্কেটপ্লেস নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং বিড করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে।
আমরা কমবেশি সবাই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানি কিন্তু এটা জানি না যে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে বিড করতে হয়।প্রফেশনাল ভাবে অ্যাকাউন্ট খুলে বিড করতে পারলে ক্রেতারা অর্ডার করতে আগ্রহী হয়। চলুন বিস্তারিতভাবে আজকে এই বিষয়ে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম
- ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম
- ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে
- ফ্রিল্যান্সিং এ বিডিং কাকে বলে
- ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার উপায়
- পাঁচটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো
- কেন ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নিবেন
- ফ্রিল্যান্সিং করতে কি দক্ষতা প্রয়োজন
- ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের জনপ্রিয় কাজগুলি
- ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য কেমন ল্যাপটপ দরকার
- কিভাবে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করবেন
- কিভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হবেন
- কি করলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ব্যর্থতা আসে
- লেখকের মন্তব্য
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যারা নতুন তাদের জন্যই আজকে এই লেখা যে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে অবশ্যই আগে ইমেইল ঠিকানা থাকতে হবে। এরপর পছন্দমত যেকোনো একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস বেছে নিতে হবে। যেমন ফাইবার, আপ ওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডটকম, পিপল পার আওয়ার, গুরু ডট কম এগুলো জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সারদের এইসব মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট আছে এবং এখান থেকে তারা লাখ লাখ টাকা আয় করছে ক্রেতাদের বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে।
তাই নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য উপদেশ যে সর্বপ্রথম কাজ শুরু করার আগে এসব মার্কেটপ্লেসে একটি করে একাউন্ট তৈরি করে রাখা উচিত।যেমন উদাহরণ হিসেবে ফাইবার মার্কেটপ্লেসে কিভাবে একাউন্ট খুলতে হবে দেখে নেওয়া যাক। সর্বপ্রথম একটি ইমেইল ঠিকানা তৈরি করে নিতে হবে এবং ফাইবার লিখে সার্চ দিয়ে ফাইবার মার্কেটপ্লেসে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
প্রবেশ করার পর ডান পাশের উপরের দিকে বিকাম আ সেলার নামে একটি আইকন রয়েছে ওইখানে ক্লিক করে ইমেইল ঠিকানা চাইবে সেটা কন্টিনিউ করে প্রবেশ করতে হবে।
এরপর পার্সোনাল ইনফো নামে একটি ইন্টারফেস আসবে যেখানে প্রোফাইল নেম, ডিসপ্লে নেম, প্রোফাইল পিকচার, ভাষা, দক্ষতা ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য পূরণ করে কন্টিনিউ চাপতে হবে
এর পরবর্তী ধাপে প্রফেশনাল ইনফো নামে একটি ইন্টারফেস আসবে যেখানে পেশা, যে বিষয়ে কাজ করতে চান সেটার দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা সেই সাথে সার্টিফিকেটের তথ্য দিয়ে পূরণ করে কন্টিনিউ চাপতে হবে। অবশ্যই প্রতিটি রিকোয়ারমেন্ট পূরণ করার পর পাশেই দেখবেন এড নামে একটি বাটন রয়েছে এটিতে চাপ দিয়ে যোগ করবেন।
এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে আপনার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একটি অ্যাকাউন্ট। এভাবে প্রত্যেকটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একটি করে অ্যাকাউন্ট রাখা উচিত। তাদের নিয়মানুযায়ী এই প্রধান তথ্য গুলি পূরণ করে দিলেই হবে।
এরপরে আসি বিড করার নিয়ম নিয়ে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ক্রেতারা তাদের প্রজেক্টে কাজ করানোর জন্য ফ্রিল্যান্সার খোঁজে। তাদের প্রজেক্টের চাহিদার সাথে যদি আপনার দক্ষতা মিলে যায় তাহলে আপনি একটা আবেদন করতে পারেন যেখানে আপনি তাদের কাজ কিভাবে এবং কতটুকু সবার মধ্যে করে দিতে পারবেন এই বিষয়গুলো উল্লেখ করে আবেদন করাকে বিড বলা হয়। বিড করার জন্য অবশ্যই প্রোফাইলটাকে সুন্দরভাবে সেটআপ করতে হবে। এরপর বিড করতে হলে কানেক্টের প্রয়োজন হয় এবং এটি হলো একটি ভার্চুয়াল কারেন্সি যেটির মাধ্যমে বিড করা হয়।
চলুন জেনে নেই, ফাইবার মার্কেটপ্লেসে কিভাবে বিড করতে হয়। এখানে বিড করার মূল পদ্ধতি হচ্ছে গিগ তৈরি করতে হবে। গিগ হচ্ছে মূলত আপনার কাজের বিবরণ যেখানে আপনি কি ধরনের সেবা দিবেন, আপনার কাজের মূল্য, ডেলিভারির সময়সীমা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা থাকবে। এই গিগ দেখেই ক্রেতারা পছন্দমত প্যাকেজ অনুযায়ী আপনাকে অর্ডার দিবে।
প্রথমে ফাইবার মার্কেটপ্লেসে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে মাই বিজনেস অপশনে যেতে হবে।এরপরে গিগ বলে একটি অপশন আসবে সেটিকে বাছাই করতে হবে। বাছাই করার পরে দেখবেন ডান পাশে ক্রিয়েট আর নিউ গিগ অপশন আসে,ওইখানে ক্লিক করে একটি গিগ তৈরি করে নিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সার ডটকম থেকে উপার্জন করার উপায়
গিগ এর পরবর্তী ইন্টারফেসটি হলই আসল যেখানে গিগ টাইটেল, প্রাইজিং, মেটা ডাটা এবং ট্যাগ সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। গিগ তৈরির ক্ষেত্রে কিওয়ার্ড রিসার্চ করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার যে বিষয়ে দক্ষতা আছে সেই বিষয় নিয়েই খুব স্পষ্টভাবে এতে তৈরি করতে হবে। ধরুন আপনি একজন কনটেন্ট রাইটার তাহলে গিগ টাইটেলে প্রথমে সে কথাটি স্পষ্টভাবে বলতে হবে।
অবশ্যই গীগ তৈরি করার সময় এসইও এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং অবশ্যই এটিকে খুব সময় নিয়ে যত্ন সহকারে তৈরি করতে হবে। ফাইবারে বিড করতে হলে গিগ ছাড়া কোন বিকল্প নেই। তাই গিগ তৈরি করার সময় অনেক মনোযোগী হতে হবে। প্রতিটা কথায় স্পষ্টতা থাকতে হবে।
গিগ তো তৈরি করে ফেললাম এখন ক্রেতারা এই গিগ কিভাবে খুজে পাবে। এর জন্য অবশ্যই গিগ টিকে এসইও বান্ধব হতে হবে। এর মানে হচ্ছে কিওয়ার্ড রিসার্চে সচেতন হতে হবে এবং সুন্দর করে পোর্টফোলিও জমা দিতে হবে। এই এসইও এর কারণে গিগটা সার্চ রেজাল্টের প্রথমেই দেখা যাবে।
ক্রেতারা যখন কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ দিবে তখন গিগের টাইটেল এবং ডেসক্রিপশনে সে কিওয়ার্ড যদি সঠিক পরিমাণে থাকে তাহলে আপনার ক্রেতার ভিউ পাবে এবং ক্রেতা আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। তখন খুব প্রফেশনালি তাদের চাহিদাগুলো বুঝতে হবে। এরপর আপনার গিগ এ দেওয়ার সময়সীমা অনুযায়ী ক্রেতাকে তার অর্ডার ডেলিভারি দিতে হবে এবং তার সাথেই আলোচনা করে পেমেন্ট মেথড বাছাই করে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে
ফ্রিল্যান্সিং শব্দটার সাথে সবার আগে যে কথাটি আসে সেটা হল ঘরে বসে আয় করা। যেকোনো একটি বিষয়ে দক্ষ হয়ে বিভিন্ন ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে যে অর্থ উপার্জন করা হয় সেটিকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়। এই কাজের সুবিধা হল মুক্তভাবে কাজ করা যায়। এখানে অফিসের মতো কোনো ধরা বাধা সময় নেই। এখানে নির্দিষ্ট কোন কোম্পানির হয়ে কাজ করতে হবে না।
পছন্দমত বিভিন্ন ক্রেতাদের সাথে আলোচনা করে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যায়। এই কাজের সবথেকে বড় সুবিধা হল এটি যে কোন জায়গায় বসে করা যায় এবং নিজের ইচ্ছে মত যেকোনো সময় করা যায়। এটি মূলত স্বাধীনভাবে কাজ করার একটি স্থান।
ধরুন আপনি একজন কনটেন্ট রাইটার। আপনি বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলে গিগকে সঠিকভাবে সাজিয়ে প্রাসঙ্গিক কাজ খুঁজে নেওয়ার মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের সেবা দিতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে ঘরে বসেই ডলার আয় করতে পারবেন। এই সেক্টর এ কাজ করাটা খুবই আরামদায়ক যদি আপনি আপনার কাজের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পারেন। একবার এই কাজের সফল হতে পারলে ঘরে বসেই লাখ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।
ফ্রিল্যান্সিং এ বিডিং কাকে বলে
একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ পাওয়ার জন্য অবশ্যই ক্রেতাদের প্রজেক্টে বিড করা উচিত। এটি মূলত একটি আবেদন প্রক্রিয়া যেখানে ক্রেতা তার প্রোজেক্ট প্রকাশ করার পর ফ্রিল্যান্সার যদি তার দক্ষতা, সময়সীমা, কাজের মূল্য ইত্যাদি সব বিষয় যদি পছন্দ হয় তাহলে ফ্রিল্যান্সার একটি কভার লেটার এর মাধ্যমে তার কাজের বিবরণ ক্রেতার সামনে তুলে ধরবে।
ক্রেতারো যদি সেই ফ্রিল্যান্সারের কাজের বিবরণের সাথে তার প্রোজেক্টের কাজ মিলে যায় তাহলে চুক্তিভিত্তিক সেই ফ্রিল্যান্সারকে কাজের জন্য নিয়োগ দেবে এবং চুক্তি অনুসারে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মূল্য প্রদান করবে। এটি আসলে এক ধরনের চাকরি যেখানে আবেদন করতে হয়। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটিকে বলা হয় বিড করা।
এই বিড করাটা বিভিন্ন পদ্ধতিতে হতে পারে। যেমন একটি হলো ঘন্টাভিত্তিক চুক্তি আরেকটি হলো নির্ধারিত মূল্য ভিত্তিক চুক্তিতে কাজ করা। ক্রেতার প্রজেক্টে ঘন্টা ভিত্তিক কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সপ্তাহ শেষে কত ঘন্টা কাজ করা হলো সেই অনুযায়ী মূল্য পাওয়াটাই হচ্ছে এই ঘন্টা ভিত্তিক চুক্তি কাজের আওতায় পড়ে। ধরুন একটি প্রজেক্ট এর জন্য তিন ঘন্টা কাজ করবেন এবং প্রতি এক ঘন্টায় মূল্য হচ্ছে এক ডলার, তাহলে সপ্তাহ শেষে আপনি ক্রেতার কাছে মোট ২১ ডলার অর্থ পাবেন।
আরেকটি উপায় আছে, সেটি হল নির্ধারিত মূল্যভিত্তিক চুক্তি, যেখানে পুরো প্রজেক্ট এর জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করা যায় এবং ক্রেতা যদি সেই প্রস্তাবে রাজি হয় তাহলে সেই চুক্তিতে কাজ শেষ হয়ে মূল্য পাওয়া যায়। এটি মাইলস্টোন এর উপরেও নির্ভর করে। যেমন প্রতিটি প্রজেক্টে কাজ শেষ করার জন্য কিছু ধাপ সম্পন্ন করে যেতে হয়।
যদি ফ্রিল্যান্সার সেই প্রত্যেকটি ধাপ সম্পন্ন করে ক্রেতার নিকট বুঝিয়ে দেয় এবং তা যদি ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জন করে তাহলে সেই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় মাইলস্টোন এবং এর পরেই মূল্য প্রদান করা হয়। মূলত এটির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার ও ক্রেতার মধ্যে একটি সুন্দর সম্পর্ক ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে ।এটি ফ্রিল্যান্সিং ভবিষ্যৎ কে আরও সম্ভাবনাময় করে তোলে।
ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার উপায়
প্রশ্ন হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পারলেও এর মাধ্যমে টাকা আয় করার উপায় কি? হ্যাঁ এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে হলে অবশ্যই আপনার যেকোনো একটি বিষয় দক্ষ হতে হবে। অনেক রকম কাজ রয়েছে যেমন ডেভেলপার, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, এসইও এক্সপার্ট, কনটেন্ট রাইটিং, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ট্রান্সলেটর ইত্যাদি। প্রথমত আপনার আগ্রহ অনুযায়ী যেকোনো একটি বিষয়ে খুব ভালোভাবে দক্ষ হতে হবে। কোন বিষয়ে দক্ষ হবেন, সেটি নির্ভর করবে কোন বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে।
এই কাজ করতে হলে অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে। কাজের প্রতি যতই আগ্রহী ও পরিশ্রমী হওয়া যাবে, পারিশ্রমিক তত বেশি বেড়ে যাবে। ধরুন কেউ প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা কাজ করছে এবং কেউ 20 ঘন্টা কাজ করছে। অবশ্যই আয়ের ক্ষেত্রেও এর পার্থক্য দেখা যাবে। কারণ যতই কাজের প্রতি মনোযোগী হবে ততই ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন এবং দক্ষতার সাথে কাজটির সম্পন্ন করতে পারলে ক্রেতা দের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে এবং পরবর্তিতে আপনার থেকেই সেবা নিতে চাইবে।
ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য অবশ্যই একটি ভালো প্লাটফর্ম বেছে নিতে হবে। সবথেকে জনপ্রিয় হলো আপওয়ার্ক, ফাইবার, ফ্রিল্যান্সার ডটকম ইত্যাদি। এইসব প্ল্যাটফর্মে রেটিং অনেক ভালো তাই অনেক ভালো ভালো ক্রেতা এখান থেকে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। এই কাজ করতে হলে অবশ্যই ধৈর্যশীল এবং কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রথম প্রথম ক্রেতা আসবেনা, তাই অবশ্যই ধৈর্য হারালে চলবে না এবং সময় নিয়ে নিজের দক্ষতার উপর মনোযোগী হতে হবে এবং উন্নত মানের পোর্টফলিও তৈরি করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
পাঁচটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো
ফ্রিল্যান্সিং কাজের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের ক্রেতা পাওয়া যায় এবং আয় করার সুযোগ অনেক বেশি থাকে। চলুন জেনে নেই, পাঁচটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো কি?
প্রথম মার্কেটপ্লেসটির নাম হল ফাইবার যেখানে ক্রেতারা তুলনামূলক কম খরচে ফ্রিল্যান্সারদের কে পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, ক্রেতাদেরকে সার্ভিস দেওয়ার জন্য এখানে একটি বড় টিম সবসময় কাজ করে। বর্তমানে লক্ষ লক্ষ ক্রেতা ও ফ্রিল্যান্সাররা এই প্লাটফর্মের সাথে যুক্ত। মূলত ফ্রিল্যান্সাররা তাদের গিগের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার পায়। এখানে সার্ভিস ক্যাটাগরি গুলো অনেক সুন্দর ও সহজ ভাবে সাজানো যাতে যে কেউ দেখে সহজে বুঝতে পারে এবং এখানে পেমেন্ট খুব সহজেই পাওয়া যায় ও ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই কারণ ফাইবার টিম থেকেই পেমেন্টটি তারা সংরক্ষণ করে রাখে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইন থেকে টাকা আয়ের উপায়
এরপরে আসি আপওয়ার্কের বিষয় যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজ খুঁজে পাওয়াটা অনেক সহজ এবং ক্রেতারাও সহজেই সরাসরি বিডিং সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের কাঙ্খিত ফ্রিল্যান্সারদের কে খুঁজে পায়। এই প্লাটফর্মে কোন রকম খরচ ছাড়াই কাজ শুরু করা যায় এবং বেতনের পরিমাণটাও ভালোই থাকে। বিডিং সিস্টেমের কারণে ট্র্যাক করে সহজেই ঘন্টা অনুযায়ী কাজ পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন পেমেন্ট মেথড সাপোর্ট থাকার কারণে সহজেই অর্থ উঠিয়ে নেওয়া যায়।
ফ্রিল্যান্সার ডটকম মার্কেটপ্লেসে অসংখ্য ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করছে এবং ক্রেতারাও সহজে তাদের পছন্দমত ফ্রিল্যান্সার বেছে নিতে পারে। এই প্লাটফর্মে বেডিং সিস্টেমের মাধ্যমে কাজের পরিধি অনেক বেশি থাকে। এই প্লাটফর্মে ক্রেতাদের জন্য একটি সুবিধা রয়েছে যেটি হল সার্ভিস নেওয়ার জন্য তাদেরকে বারবার লগইন করতে হয় না। এটির আরেকটি বিশেষ সুবিধা হল এই মার্কেটপ্লেসের একটি টিম সব সময় কাজ করে ক্রেতার পক্ষ হয়ে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক ফ্রিল্যান্সার খুঁজে দেয়।
আরেকটি মার্কেটপ্লেস এর নাম হলো গুরু যেখানে ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোস্ট করে এবং ফ্রিল্যান্সাররা তাদের দক্ষতা অনুযায়ী quote প্রদান করে। ক্রেতার সেটি পছন্দ হলে সে ফ্রিল্যান্সারকে বেছে নিয়ে কাজ দেয় এবং ফ্রিল্যান্সার সেই কাজ সম্পন্ন করলে ক্রেতার অনুমোদন সাপেক্ষে পেমেন্ট দেওয়া হয়। এই মার্কেটপ্লেসে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, এখানে এখানে কোন কাজ সম্পন্ন করতে হলে অন্যদের সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে যেটিকে বলা হয় ওয়ার্করুম। এ মার্কেটপ্লেসেও পেমেন্ট নিয়ে কোনরকম সমস্যা হয় না।
পিপুল পার আওয়ার মার্কেটপ্লেস কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এটি নতুনদের জন্য অনেক সহজ এবং এখানে গীগ তৈরির মাধ্যমে বিডিং প্রক্রিয়ায় কাজ পেতে পারে। এখানে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে অন্যান্য মার্কেটপ্লেস দের তুলনায় কম তাই নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি একটি দারুন মার্কেটপ্লেস হতে পারে।ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিয়ে দ্রুত এসব মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করা উচিত।
কেন ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নিবেন
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম সম্পর্কে জানার আগে অবশ্যই জানতে হবে যে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নেওয়া উচিত কিনা। আমি মনে করি, যদি আপনি দক্ষ হয়ে থাকেন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা পছন্দ করেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হতে পারে। আমি আগেই বলেছি এখানে কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই এবং কারোর আওতায় কাজ করতে হয় না। আপনি নিজের পছন্দমত কাজ এবং সময় বেছে নিয়ে তার সম্পন্ন করে আয় করতে পারবেন তাও ঘরে বসে।
ছেলেদের পাশাপাশি চাইলে নারীরাও এখন ফ্রিল্যান্সার হতে পারে। এই কাজে বাহিরে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই নারীরা তাদের সংসারের কাজ সামলিয়ে নিজে উপার্জনক্ষম হওয়ার জন্য ফ্রিল্যান্সিং করতে পারে। অনেকেই চাকরি বা পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য ফ্রিল্যান্সিং করে থাকে। আবার অনেক মানুষই ফ্রিল্যান্সিং তাকে প্রফেশনাল হিসেবে নিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছে এবং অনেক বেকার মানুষও চাকরি না পেয়ে ফ্রিল্যান্সিং দিয়েই আর্থিকভাবে সচল হচ্ছে।
ফ্রিল্যান্সিং করতে কি দক্ষতা প্রয়োজন
ফ্রিল্যান্সার হতে হলে অবশ্যই আগে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এটি ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং এর কোন মূল্য নেই। যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং ইত্যাদি যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে খুব ভালোভাবে দক্ষতা থাকা দরকার। তা না হলে, ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলেও সফল হওয়া যাবে না। কারণ ক্রেতারা কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হলেই পরবর্তীতে আবার অর্ডার দিবে। আর অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য একটি ভাল মডেলের ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকা প্রয়োজন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে অবশ্যই ইংরেজি বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হলে অধিকাংশই সব বিদেশি ক্রেতা থাকে। আপনি যদি ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ না হন তাহলে ক্রেতার চাহিদা বুঝতে পারবেন না এবং যোগাযোগ ব্যাঘাত ঘটবে, যেটি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের জন্য একটি হুমকিস্বরূপ।
বেশি বেশি অর্ডার পেতে হলে ক্রেতাদের সাথে পরিপূর্ণভাবে যোগাযোগ করতে হবে যেটা ইংরেজি ভাষায় প্রয়োজন। তাই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস একাউন্ট খোলা ও বিড করার আগে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দক্ষ হয়ে এবং ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হয়ে এই যাত্রা শুরু করা উচিত।
ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের জনপ্রিয় কাজগুলি
ধরুন আপনি এমন এক বিষয় নিয়ে কাজ শিখেছেন যেটির আসলে ফ্রিল্যান্সিং বাজারে তেমন কোন চাহিদা নেই, তাহলে সব পরিশ্রমী বৃথা যাবে। তাই সর্বপ্রথম নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের দক্ষতা হওয়ার আগে ফ্রিল্যান্সিং বাজারে কোন কোন কাজের চাহিদা আছে সেটা একটু গবেষণা করে নেওয়া দরকার।
যেমন বর্তমানে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার, কন্টেন্ট রাইটিং, এআই ডেভেলপার ইত্যাদি কাজের চাহিদা প্রচুর। কারণ প্রায় প্রতিটা কোম্পানি বা সংস্থা তাদের সেবা বাড়ানোর জন্য বিষয়টিকে অনলাইন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর অনলাইন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সব সেক্টরের সাহায্য ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়।
তাই প্রথমে আপনি ফ্রিল্যান্সিং বাজারের কাজের চাহিদা সম্পর্কে একটু রিসার্চ করবেন। তারপর যে বিষয়ে নিয়ে আপনি একটু আগ্রহ পাচ্ছেন সেই বিষয়টিকে বাছাই করুন এবং সেই অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করুন। পাশাপাশি অবশ্যই ইংরেজি বিষয়টা নিয়েও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। মনে রাখবেন সময়ের সাথে সাথে চাহিদার পরিবর্তন হয়, তাই নিজেকে সেভাবে আপডেট করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য কেমন ল্যাপটপ দরকার
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম, ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কেমন দক্ষতা প্রয়োজন এর সবই তো জানলাম কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং করার যে মাধ্যম ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা মোবাইল এগুলো কেমন হতে হবে সেগুলোও তো জানা প্রয়োজন। কেমন মডেলের ল্যাপটপ দরকার সেটি নির্ভর করে ফ্রিল্যান্সার কি বিষয় নিয়ে কাজ করছে।
ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং বা এন্ট্রি লেভেলের কাজ নিয়ে যারা ফ্রিল্যান্সিং করছে তাদের জন্য সাধারণ মডেলের ল্যাপটপ ঠিক আছে। এসব ল্যাপটপের ব্যাটারি ক্ষমতা ভালো হওয়া প্রয়োজন। বাজারে বেশ কিছু ল্যাপটপ রয়েছে যেমন Asus,HP,Dell ইত্যাদি এগুলো নেওয়া যেতে পারে।
কোডিং সেক্টর যেমন গেম ডেভেলপার, ওয়েব ডেভেলপার, অ্যাপ ডেভেলপার ইত্যাদি বিষয়ে যারা কাজ করতে চাচ্ছেন তাদের ল্যাপটপ এর প্রসেসর ভালো মডেলের হওয়া বেশি প্রয়োজন এবং স্টোরেজ দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সাধারনত core i5,core i7 মডেলের প্রসেসর এবং RAM,ROM,SSD এসব স্টোরেজের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কিন্তু যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনিং বা ভিডিও এডিটিং নিয়ে কাজ করতে চায় তাদের জন্য জিপিউ ভালো হওয়া দরকার। জিপিউ হচ্ছে Graphics Processing Unit(GPU) যেটা দিয়ে উচ্চমানের গ্রাফিক্স ডিজাইনিং ও ভিডিও এডিটিং সম্পর্কিত কাজ করা সম্ভব। কারণ এগুলোর জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ বা টুলের সহযোগিতা নিতে হয় তাই জিপিউ এবং ভালো প্রসেসর প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ম্যাকবুক হতে পারে বেশ ভালো একটি ল্যাপটপ।
কিভাবে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করবেন
আমরা তো জানি যে ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে একটি ভালো মডেলের ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ এর প্রয়োজন। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে এখন মোবাইলের মাধ্যমেও ফ্রিল্যান্সিং করা যাচ্ছে এবং অনেকেই বেশ ভালো পরিমানে আয় করছে। এখন অনেকে ই কনটেন্ট ক্রিয়েশন এই পেশাটাকে বেছে নিয়ে ফেসবুক,ইউটিউব, টিক টক এর মাধ্যমে আয় করছে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবসা করা যাচ্ছে এই মোবাইলের মাধ্যমে সার্ভিস দিয়ে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর কিছু কাজ যেমন পেজ ক্রিয়েট করা, পেজ ম্যানেজ করা, পোস্ট সিডিউল করা ইত্যাদি এসব কাজ মোবাইল দিয়ে করা যায়। অনলাইন মডারেটর নামে একটি পোস্ট রয়েছে, প্রায় প্রত্যেকটি অনলাইন ব্যবসা এই মডারেটরদেরকে খোজে চাকরি দেওয়ার জন্য। এই কাজটাও মোবাইল দিয়ে করা সম্ভব এবং সম্পূর্ণরূপে ঘরে বসে কাজ করা যায় শর্তসাপেক্ষে। ফ্রিল্যান্স কন্টেন্ট রাইটিং ও মোবাইল দিয়ে করা সম্ভব। তবে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব কিন্তু একটু কষ্টকর তাই আমি মনে করি একটি স্থায়ী ফ্রিল্যান্সে ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে সাহায্য নিতে হবে।
কিভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হবেন
ফ্রিল্যান্সিং এর যাত্রা তো শুরু করা গেল কিন্তু একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে কি কি গুন থাকা উচিত সেটা নিয়েও ভাবতে হবে। সর্বপ্রথম নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে খুব ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সর্বপ্রথম ফ্রিল্যান্সিং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এবং নিজের আগ্রহ অনুযায়ী একটি বিষয় বাছাই করে সেটা নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। প্রয়োজনে কোর্স করা যায় এবং নিয়মিত সেই বিষয়ে অনুশীলন করতে হবে। মনে রাখতে হবে পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই।
এই সেক্টরে সফল হওয়ার জন্য অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। যদি লোকাল মার্কেটে কাজ পাওয়া যায় তাহলে সমস্যা নেই কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের সাথে কাজ করার জন্য অবশ্যই ইংরেজি ভাষা বোঝা ও বলার দক্ষতা থাকতে হবে নইলে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটবে এবং ক্রেতাও অর্ডার দিতে আগ্রহী হবে না।
আরও পড়ুনঃ কিভাবে ফাইবার মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলবেন
অবশ্যই প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকতে হবে যেমন কম্পিউটারের সাধারণ জ্ঞান থাকলেই হবে। অনলাইন ব্রাউজিং সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে যাতে যে কোন সমস্যায় সেখান থেকে সাহায্য নেওয়া যায়। যেই সেক্টরে কাজ করছেন, সেই সেক্টরের ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব ভিডিও, ব্লগ, বিভিন্ন কমিউনিটিতে সচল থাকতে হবে কারণ এখান থেকে অনেক সমস্যার সমাধান এবং লোকাল মার্কেটে কাজ পাওয়া যায়।
পরিশ্রম ও ধৈর্য সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার মূল চাবিকাঠি। যত বেশি সময় দেওয়া হবে, সফলতা তত বেশি কাছে আসবে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রথম প্রথম কাজ আসবে না কিন্তু তাই বলে ধৈর্য হারালে চলবে না। নিজের কাজের প্রচার এবং পোর্টফোলিওর ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে এবং ধৈর্য ধরে থাকতে হবে। একবার দক্ষতার সাথে কোন ক্রেতাকে সেবা দিলে পরবর্তীতে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না।ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ধৈর্য ধরে কাজ শুরু করে দিতে হবে।
কি করলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ব্যর্থতা আসে
সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার কারণগুলো তো জেনে গেলাম এখন সাবধানে থাকতে হবে যে কি কি কারণ উপেক্ষা করলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আর ব্যর্থতা আসবে না। আগেই বলেছি ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তো ফ্রিল্যান্সিংয়ে ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে কম দক্ষতা নিয়ে কাজ শুরু করা। প্রচারের জন্য কাজ পাওয়া গেলেও ক্রেতাকে যথাযথভাবে সেবা না দিলে পরবর্তীতে আর কাজ আসবে না। তাই অবশ্যই বুঝে শুনে দক্ষ হয়ে তবে কাজ শুরু করা উচিত।
আরেকটি বিষয় হলো ধৈর্য ও পরিশ্রম কম দেওয়া। নিজের দক্ষতার উপর যদি যথাযথভাবে পরিশ্রম না করা হয় তাহলে ফ্রিল্যান্সিং এ ব্যর্থতা আসবেই। তাই যথেষ্ট সময় দিয়ে ধৈর্যের সাথে নিজের কাজকে অনুশীলন করা উচিত। প্রথম প্রথম ক্রেতা নাও আসতে পারে তাই বলে ধৈর্য হারালে চলবে না। নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং বিভিন্ন প্লাটফর্মে নিজের কাজের প্রচার করতে হবে। এভাবে ধৈর্য ও সময় দিলে একসময় ফ্রিল্যান্সিং থেকেই একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি হয়ে যাবে।
লেখকের মন্তব্য
সর্বশেষে একটা কথাই বলবো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বিড করার নিয়ম সম্পর্কে জেনে ধৈর্য,দক্ষতার সাথে কাজ শুরু করে দেওয়া উচিত। ঘরে বসে, স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্সিং ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। অবশ্যই নারীদের জন্য এটি একটি অপার সম্ভাবনাময় এবং উপার্জনক্ষম হওয়ার একটি সুযোগ। 251118










অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url