OrdinaryITPostAd

আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ সালের কত তারিখে জানুন

আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ কয় তারিখে জানতে চান? আপনাকে আমাদের এই আর্টিকেলে স্বাগতম। যারা আখেরি চাহার সোম্বা পালন করে থাকেন সাধারণত তারা আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে রাখতে চাই। এই আর্টিকেলে আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

আপনি যদি আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেল জুড়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন। তাহলে চলুন দেরি না করে আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

পেজ সূচিপত্রঃ আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪

আখেরি চাহার সোম্বা কাকে বলে?

ইসলাম ধর্মে বেশ কিছু ধর্মীয় আচরণ অনুষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান গুলো হল ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতর। তবে আরো বেশ কিছু ধর্মীয় উৎসব রয়েছে যেগুলো বেশকিছু মুসলিম পালন করে থাকে আবার বেশ কিছু মুসলিম পালন করে না। যেহেতু এ বিষয়গুলো ইসলাম ধর্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত তাই আমাদের সকলকেই আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।

আরো পড়ুনঃ আখেরি চাহার সোম্বা এর ইতিহাস - আখেরি চাহার সোম্বা এর দোয়া

আরবি এবং ফার্সি দুইটি ভাষা মিলে আখেরি চাহার সোম্বা এই বাক্যগুলো তৈরি করা হয়েছে। চলুন আমরা এই শব্দগুলোর বাংলা মানে কি তা জেনে নেই। কারণ আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ আখেরি চাহার সোম্বা এর বাংলা অর্থ কি এ সম্পর্কে কোন ধারণা রাখেনা। আপনাদের সুবিধার্থে বলে রাখি আখেরি শব্দের অর্থ হলো শেষ।

ফারসি শব্দ চাহার শব্দের অর্থ হলো সফর মাস এবং অন্য আরেকটি ফার্সি শব্দ সোম্বা শব্দের অর্থ হলো বুধবার। তাহলে আখেরি চাহার সোম্বা এই তিনটি শব্দের অর্থ আমরা জানতে পারি সফর মাসের শেষ বুধবার। অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ মৃত্যুর পূর্বে প্রচন্ড পরিমাণে অসুস্থ হয় এরপরে হঠাৎ সফর মাসের শেষ বুধবারে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই দিনটি উপলক্ষেই আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা হয়।

আখেরি চাহার সোম্বা কবে পালিত হবে

আমরা সকলেই জানি যে হিজরি বর্ষ প্রতিবছর ১৫ দিন করে পিছিয়ে যায়। সেহেতু কখনোই একই দিনে আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা হয় না। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখুন আরবি মাসগুলো সম্পন্ন চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই সফর মাসের যখন চাঁদ দেখা যাবে সাধারণত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সফর মাসের শেষ বুধবার হবে আখেরি চাহার সোম্বা।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ তারিখে আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হবে। কারণ এটি হলো সফর মাসের শেষ বুধবার। এরপরেই সফল মাস শেষ সাধারণত তাই নিয়ম অনুযায়ী এই দিনেই আখেরি চাহার সোম্বা মুসলিমগণ পালন করে থাকেন। অনেকের কাছে এই দিনটি অনেক বেশি আনন্দের একটি দিন। কারণ দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরে প্রিয় নবী সাঃ এই দিনটিতে সুস্থ হয়েছিলেন।

তবে বেশিরভাগ আলেমগণ এবং মুসলিমগণ এই তিনটি পালন করা সম্পূর্ণ বিদআত মনে করে থাকে। কারণ সাহাবায়ে একেরাম অথবা তার পরে দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটি পালন করার কোন প্রচলন ছিল না। হঠাৎ করেই মুসলিমদের মাঝে তৈরি করার জন্য এবং বিদাআত এর প্রচলন বেশি ঘটানোর জন্য সাধারনত এই দিনটি পালন করা শুরু হয়।

আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ কত তারিখে

প্রতিবছর একই দিনে আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা হয় না। যখন সফর মাসের চাঁদ আকাশে দেখা যাবে সাধারণত তখন আপনি নির্ধারণ করতে পারবেন সফর মাসের শেষ বুধবার কয় তারিখ হবে। যদি চাঁদ না দেখা যায় তাহলে তো সফর মাসের গণনা শুরু হবে না। তাই আপনাকে প্রথমে সফল মাসের চাঁদ এর উপনির্ভর করতে হবে। তাহলে চলুন আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ কত তারিখে? জেনে নেওয়া যাক।

আরো পড়ুনঃ আখেরি চাহার সোম্বা কি - আখেরি চাহার সোম্বা মানে কি

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে ২০২৩ সালের আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ তারিখে। সাধারণত এই দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ পালিত হবে আগস্ট মাসের ৩১ তারিখে। যদিও এটি সম্পূর্ণ চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। যদি চাঁদ দেখা না যায় তাহলে দু একদিন আগা-পিচা হতে পারে।

প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনারা আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ কত তারিখে পালন করা হবে এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনার সুবিধার্থে বলে রাখি যে এই তারিখ পরিবর্তন হতে পারে কারণ যেহেতু চাঁদ দেখার উপর সম্পূর্ণভাবে মাস শুরু হওয়া এবং শেষ হওয়া নির্ভর করে তাই। তবে আগে থেকেই এ বিষয়গুলো জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

আখেরি চাহার সোম্বার দিন করণীয়

অনেকের কাছেই আখেরি চাহার সোম্বা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের এই দিনে বেশ কিছু করণীয় রয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে দেখা যায় অনেক নামধারী মুসলিম এই দিনটিতে গান-বাজনা সহ বিভিন্ন ধরনের উৎসব নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তবে আপনাকে বলে রাখি এগুলো সম্পূর্ণভাবে হারাম এবং বিদআত।

সিরাতের বিভিন্ন কিতাব থেকে জানা যায় যে, রাসুল সাঃ বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পরে সফরের শেষ বুধবার সাময়িকভাবে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেন। এরপরে তিনি সকালবেলা উঠে প্রথমে গোসল করেন তারপরে তার দুই নাতি হযরত হাসান এবং হুসাইন রাঃ এর সাথে দুপুরের খাবার খান। সাধারণত এই ঘটনা দেখে সাহাবায়ে একেরাম সহ মদিনা বাসীরা সকলেই অনেক বেশি খুশি হয়ে যায়।

সেই দিনে মদিনাতে আনন্দের বন্যা হয়ে যায়। এই আনন্দকে কেন্দ্র করেই বর্তমান সময়ের মুসলমানরা এই দিনটা আখেরি চাহার সোম্বা হিসেবে পালন করে থাকে। এ সকল দিনের তেমন কোন গুরুত্ব নেই ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে। অথবা কোরআন এবং হাদিসেও এই দিন সম্পর্কে কোন ধরনের কথা উল্লেখ করা নেই বললেই চলে।

রাসুলের সাঃ আদর্শ আমাদের মনে করিয়ে দেয়। রাসুল সাঃ এর ইন্তেকাল আমাদের কষ্ট দেয়। তাই এ বিশেষ দিনগুলোতে আমাদের উচিত আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করা এবং আমরা যেন পরকালে এবং শেষ বিচারের দিন আমাদের শ্রেষ্ঠ নবীর শাফায়েত পেতে পারি সেই জন্য দোয়া করা। যদি আপনি চান তাহলে অবশ্যই রোজা পালন করতে পারেন।

আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ঃ শেষ কথা

প্রিয় বন্ধুগণ আজকের এই আর্টিকেলে আখেরি চাহার সোম্বা কাকে বলে? আখেরি চাহার সোম্বা কবে পালিত হবে? আখেরি চাহার সোম্বা ২০২৪ কত তারিখে? আখেরি চাহার সোম্বার দিন করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যেহেতু এই দিনটি আমাদের ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত তাই অবশ্যই আমাদেরকে উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত।

আরো পড়ুনঃ আখেরি চাহার সোম্বার দিন করণীয় - আখেরি চাহার সোম্বা আমল সমূহ

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও ইসলামিক আর্টিকেল গুরু পড়তে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন। কারণ আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত এ ধরনের তথ্যমূলক আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি। ২৫৪২৭

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url