অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/11/4-netar-somadhi.html

জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায় কোথায় অবস্থিত জেনে নিন

জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর হলো: জাতীয় চার নেতার মধ্যে তিনজনের সমাধি ঢাকার বনানী গোরস্থানে অবস্থিত। অপর আরেকজন জাতীয় নেতার সমাধি রাজশাহীতে অবস্থিত। জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায়? সেই বিষয় সম্পর্কে নিছে আরও তথ্য তুলে ধরা হবে। চলুন দেখে নেয়া যাক জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায়?

পেজ সূচিপত্র: জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায়?

উপস্থাপনা: জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায়?

মানুষ যখন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে পরপারে পাড়ি জমায়, তখন তার স্মৃতি হিসেবে শুধু কবরটি অবশিষ্ট থাকে। তাই অনেকেই নিজেদের প্রিয়জনদের কবর চিহ্নিত করে রাখেন। যেন পরবর্তীতে সেই কবরে গিয়ে তাঁকে স্মরণ করতে পারেন এবং তার জন্য মাগফেরাত কামনা করতে পারেন। এই আর্টিকেলটিতে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড এবং তাদের সমাধি কোথায় অবস্থিত সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। খুবই ট্রাজেডিকাল ঘটনার মধ্য দিয়ে মৃত্যু হয়েছিল জাতীয় চার নেতার। 

সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ আশ্রয়ে নির্মমভাবে জাতীয় চার নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। যা ইতিহাসের বিরল একটি ঘটনা। তারা মৃত্যুবরণ করার পরে তাদের স্মৃতি হিসেবে আমাদের সামনে শুধু কবর গুলো রয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় চার নেতার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তাদের অবদান বাঙালি জাতি কখনো অস্বীকার করতে পারবে না। 

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত, জাতীয় সব আন্দোলনে জাতীয় চার নেতার অবদান রয়েছে। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের যেসকল নেতা জনগণের মাঝে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী নেতা হিসেবে জাতীয় চার নেতার পরিচিত ছিল। আর এ কারণেই তারা তৎকালীন সময়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বারবার আন্দোলন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জেতাতে সক্ষম হয়েছেন। 

তাদের এই ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে তারা জাতীয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! স্বাধীন দেশে জাতীয় নেতাদের কারাগারের মতো নিরাপদ আশ্রয়ে নির্মমভাবে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হলো। আপনি যদি জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায় তা জানতে চান তাহলে শেষ পর্যন্ত এই আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন। 

জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায়?

জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায় তা নিচে তুলে ধরা হবে। জাতীয় চার নেতার মধ্যে  সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ মনসুর আলীর সমাধি ঢাকার বনানী কবরস্থানে অবস্থিত। আর আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের সমাধি রাজশাহীতে অবস্থিত। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাতীয় চার নেতার সমাধি স্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাদের রুহের মাগফেরাতের জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন।

ঢাকাতে অবস্থিত জাতীয় চার নেতার তিনজনের সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাগণ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। আর ঢাকার বাইরে রাজশাহীতে অবস্থিত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের সমাধিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং তার রুহের মাগফেরাতের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। জাতীয় চার নেতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে রাখা আমাদের উচিত। 
বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম যদি জাতীয় চার নেতার জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে তাহলে তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।  তাই জাতীয় চার নেতার জীবনী সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে। শুধু বছরের একদিন জাতীয় চার নেতার জিবনী বর্ণনা করলেই চলবে না। বরং কিভাবে জাতীয় চার নেতার জীবনী তরুণ প্রজন্মের মাঝে প্রচার প্রসার করা যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। 

জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায় আশা করি এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন আপনি। যদি চান তাহলে যেকোনো সময় ঢাকার বনানী কবরস্থানে গিয়ে জাতীয় নেতাদের কবর জিয়ারত করতে পারেন। তবে আপনি যদি এই মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের কবর জিয়ারত করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে রাজশাহীতে যেতে হবে। 

জাতীয় চার নেতা কারাস্মৃতি জাদুঘর কোথায়?

কারাস্মৃতি জাদুঘর পুরান ঢাকায় অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত। অর্থাৎ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যেই সেলে জাতীয় চার নেতাকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয় সেই সেলগুলোই মূলত জাতীয় চার নেতা কারাস্মৃতি জাদুঘর। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় চার নেতা কারাস্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। তবে এখন পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ জাতীয় চার নেতা কারাস্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য পুরোপুরিভাবে উন্মুক্ত করতে পারেনি। 

২০১৬ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করলে জাতীয় চার নেতা কারাস্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত জাতীয় চার নেতা কারাস্মৃতি জাদুঘর পুরোপুরিভাবে দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত করা হয়নি। জাতীয় চার নেতা কারাস্মৃতি জাদুঘর যত দ্রুত সম্ভব জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত। 

এতে করে তরুণ প্রজন্ম জাতীয় চার নেতা সম্পর্কে জানতে পারবে। আর সেইসাথে তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। আশা করি খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন জাতীয় চার নেতা কারাস্মৃতি জাদুঘর জনসাধারনের জন্য পুরোপুরিভাবে উন্মুক্ত করবেন। জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায়? সে বিষয়ে সম্পর্কে তেমন থেকে উপরে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। 

জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের নির্মম ইতিহাস

জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করার অন্যতম কারণ হলো তৎকালীন সময়ের অবৈধ সামরিক সরকারের অযাচিত ভীতি। তৎকালীন সময়ের সামরিক সরকার প্রধানের অন্তরে এ ধরনের ভীতি জন্মেছিল যে, যদি জাতীয় চারনেতা জীবিত থাকে তাহলে যেকোনো সময় তারা জনসমর্থন যুগিয়ে ক্ষমতা দখল করতে পারে। সেই ভীতি থেকেই তৎকালীন অবৈধ সামরিক সরকার জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে।

মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় এই চার নেতার অবদান অনস্বীকার্য তারা সারাজীবন রাজনীতি করেছেন। বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে সরকার গঠন করা হয়েছিল মুজিবনগর সরকার সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় এই জাতীয় চার নেতা ছিলেন। এমনকি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও জাতীয় চার নেতা মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় জাতীয় চার নেতার সাথে যে কোন বিষয়ে পরামর্শ করতেন এককথায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন জাতীয় এই চার নেতা। ১৯৭৫ সালের পনেরই আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করার পরে ১৮ আগস্ট জাতীয় চার নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পরে তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় নেতা সেসময় প্রবাসে চলে যান। আবার অনেকে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। সেই সময় সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা বলতে জাতীয় শুধুমাত্র জাতীয় চার নেতা অবশিষ্ট ছিলেন। আর সেকারণেই তৎকালীন অবৈধ সরকারের রোষানলের শিকার হন জাতীয় চার নেতা। 

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জানু ঝানু এই চার প্রবীণ রাজনীতিবিদকে প্রচন্ড ভয় পেতে শুরু করে তৎকালীন সময়ের অবৈধ সরকার। পরবর্তীতে সেই ভীতি এমনভাবে গ্রাস করে যে, সেই অবৈধ সরকার শেষ পর্যন্ত জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায় তা উপরে তুলে ধরা হয়েছে। 

উপসংহার: জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায়?

আপনি যদি এই আর্টিকেলটি পুরোপুরি ভাবে মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় এতক্ষণে জেনেছেন জাতীয় চার নেতার সমাধি কোথায় অবস্থিত। প্রতিবছর নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে জাতীয় চার নেতার মৃত্যু দিবস উপলক্ষে জেলহত্যা দিবস পালন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও সারাদেশে যথাযথ সম্মানের সহিত জেলহত্যা দিবস পালন করা হচ্ছে। 
শুধু দিবস পালন করেই কর্তব্য শেষ হয়ে যায় না। জাতীয় চার নেতার জীবনী থেকে অনেক কিছুই শিক্ষা গ্রহণ করার রয়েছে। আমাদের উচিত হবে জাতীয় চার নেতার বর্ণাঢ্য জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। আপনি যদি জাতীয় চার নেতার জীবনী সম্পর্কে গবেষণা করেন তাহলে মুক্তিযুদ্ধের অনেক কিছুই জানতে পারবেন। কেননা জাতীয় চার নেতা এবং বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। ১৬৪১৩

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?