OrdinaryITPostAd

গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের জাম খাওয়ার ১০টি উপকারিতা

জাম খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। জাম, জামের বিচি, জামের পাতা ও জামের ছালে ঔষুধি গুনাগুন আছে। জাম খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাগুলোতে জাম ব্যবহার করা হয়। আজ আমরা জানব গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা আছে কি না। অথবা গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়া যাবে কি না।
চলুন আর দেরি না করে জেনে নেই গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা, গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়া যাবে কি ও গর্ভবতী মায়ের জাম খাওয়ার উপকারিতা কি।

পেজ সূচীপত্রঃ গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়া যাবে কি

হ্যাঁ! গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়া যাবে। কারণ জামে আছে প্রচুর পরিমান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রচুর পরিমান পুষ্টি, যা গর্ভস্থ বাচ্চার বিকাশ ও সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। 

গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা | গর্ভবতী মায়ের জাম খাওয়ার উপকারিতা

একজন গর্ভবতী মায়ের ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য জাম খুবই উপকারী একটি ফল। নিচে গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা ও গর্ভবতী মায়ের জাম খাওয়ার উপকারিতা বর্ণনা করা হল-
  • জাম এমন একটি ফল যা ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, আয়রন, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত। জামে থাকা এই ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
  • জামে পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমান বেশী আছে যা গর্ভবতী মাকে শক্তি দেবে এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে।
  • একজন গর্ভবতী মহিলা নিয়মিত জাম খেলে ইরিটেটেবল বাওয়েল সিনড্রোম মোকাবেলায় সহায়তা করবে। এবং ডায়রিয়া এবং আলসারের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।
  • জামে ভিটামিন এ থাকে যা শিশুদের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • জামে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়া থাকে যা দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা প্রতরোধ করে। আর গর্ভাবস্থায় জাম খেলে মুখের স্বাস্থ্য বজায় থাকে।
  • জামে উচ্চ ম্যাগনেসিয়াম আছে যা অকাল প্রসব এড়াতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। এবং ভ্রুণের সম্পূর্ণ বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করে।

আপনি গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু জাম খেতে পারবেন? | গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা

একজন গর্ভবতী মহিলার ও শিশুর সকল স্বাস্থ্যকর উপকারিতা দেয় জাম। জাম দিনে ২ বারের বেশী খাওয়া উচিত না। জাম প্রতিদিন মাঝারি পরিমান ২ বাটির বেশী খাবেন না। আপনার ডায়েট চার্টে জাম যুক্ত করার আগে ডায়েটিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

গর্ভবতী মায়ের জাম খাওয়ার সময় কি ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করবেন?
একজন গর্ভবতী মায়ের জাম খাওয়ার সময় যে ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত তা হল-
  • জাম খাওয়ার সাথে সাথে দুধ পান করা যাবে না।
  • একজন গর্ভবতী মায়ের যদি ডায়বেটিস থাকে তাহলে খুব বেশী জাম খাওয়া যাবে না। কারণ জাম হাইপোগ্লাইসেমিক প্রভাব ফেলে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

গর্ভবতী মহিলার খাওয়ার জন্য কিভাবে জাম নির্বাচঅন করবেন? | গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভবতী মহিলার জন্য জাম খুবই প্রয়োজনীয় একটি ফল। এটি সকল ধরনের সমস্যার সমাধান করে। জাম গর্ভবতী মায়ের ও গর্ভস্থ শিশু উভয়ের জন্যই খুবই উপকারী। কিন্তু গর্ভবতী মায়ের জন্য জাম বাসায় আনার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে বাছায় করে নিতে হবে। চলুন দেখে নেই নিয়ম গুলো কি।
  • ক্ষতিগ্রস্থ, বিকৃত, বর্ণহীন বা অদ্ভুত দেখতে জাম সবসময় এড়িয়ে চলুন।
  • জাম ঘরের তাপমাত্রায় ২ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। তাই জাম বাসায় নিয়ে নেট ব্যাগে করে ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। জাম ফ্রিজে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে।
  • জাম যদি পাকা না হয় এবং শক্ত হয় তাহলে সেই জাম নিবেন না।

জাম খাওয়ার উপকারিতা | গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা

  • জাম ফল ডায়বেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। জামে থাকা অ্যান্টি-ডায়াবেটিক প্রোপার্টিজ-এর কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। জাম রক্তে ​​শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে যা স্টার্চ ও চিনিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মানব শরীরে  শক্তির যোগান দেয়।
  • জামে অধিক পরিমানে ক্যালসিয়াম, লোহা, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন-সি আছে যা মানব শরীরে হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে। জামে প্রচুর পরিমান পুষ্টি থাকায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
  • আয়রন অ্যানিমিয়া এবং জন্ডিসকে নিরাময় করে, আর জামে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন।তাই যাদের শরীরে আয়রনের প্রয়োজন তারা জাম খেতে পারেন।
  • জামে ম্যালিক এসিড (malic acid), গ্যালিক এসিড (galic acid), অক্সালিক এসিড (oxalic acid) এবং ট্যানিনস (tannins) এর মত যৌগ আছে যা অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল, অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়া, অ্যান্টি-ইনফেক্টিভ এবং গ্যাস্ট্রো থেকে রক্ষা করে। তাই জাম খেলে শরীরের বিষাক্ত ইনফেকশন দূর করে।
  • জামে থাকা প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি হাই লেভেল ও সাধারণ সিজিনাল সমস্যার সাথে যুদ্ধ করে দেহে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। স্কিনের জন্য ভিটামিন সি খুবই উপকারী।
  • গবেষণায় জানা গেছে, জামে আছে কেমো প্রটেক্টিভ (camo protective) বৈশিষ্ট্য। জামের এই নির্যাস বৈশিষ্ট্য শরীরকে নির্যাস ক্যান্সার হওয়া থেকে রক্ষা করে।
  • জামে থাকা অ্যালজিনিক এসিড (alginic acid) বা অ্যালজিট্রিন (algitrin), অ্যান্থোসিয়ানিন (anthocyanin) এবং অ্যান্থোসায়ানাডিনস (anthocyanidin) পুষ্টি যা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে ও শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস-সমৃদ্ধ যা অক্সিডেশন (oxidation) প্রতিরোধ করে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও জামে পটাশিয়াম আছে যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করে।

জাম গাছের ছালের উপকারিতা | গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা

জাম ও জামের বিচির মত জাম গাছের ছাল ও খুবই উপকারী। জাম গাছের ছালে রয়েছে ঔষুধী গুনাগুন। নিচে জাম গাছের ছালের উপকারিতা বর্ণনা করা হল।
  • শরীরের কোথাও ক্ষত হয়েছে কিন্তু সেই ক্ষত তাড়াতাড়ি পুরে উঠছে না, তাহলে সেখানে জামের ছাল মিহি গুড়া করে ক্ষত স্থানে দিন। দেখবেন তাড়াতাড়ি ক্ষত পুরে গিয়ে ঘা সেরে উঠেছে।
  • যদি কারও রক্ত পায়খানা হয় তাহলে জাম গাছের ছাল রস করে ১-২ চামচ ছাগলের দুধে মিশিয়ে খেতে দিন, তাহলেই দেখবেন রক্ত পায়খানা বন্ধ হয়ে গেছে।
  • যেসকল বাচ্চাদের পেটের সমস্যা আছে। পেটের সমস্যার জন্য শরীর ভালো থাকে না তাদের জন্য ৫ থেকে ৬ গ্রেণ মাত্রায় জাম গাছের ছাল গুড়া করে ৫ থেকে ১০ ফোঁটা গাওয়া ঘি ও অল্প পরিমান চিনি দিয়ে মিশিয়ে খাওয়ান দেখবেন বাচ্চার শরীর স্বাস্থ্য ভালো হয়েছে।
  • যাদের দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে, তারা জাম গাছের ছাল গুড়া করে সেটা দিয়ে দাঁত মাজলে উপকার পাবেন। কিন্তু এতে দাঁতে ছোপ পড়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু ২-১ দিন পর পর মাজলে এই দাগ হবে না। অনেকে বৃদ্ধ বৈদ্য এর সঙ্গে পাতার গুড়াও সমান ভাবে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

শেষ কথাঃ গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা

বন্ধুরা, আজ আমরা গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছি। আমরা সকলেই জানি জাম একটি মৌসুমি ফল। আর জাম পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। জাম খেলে যেমন উপকার পাওয়া যায় তেমনি ভাবে জামের কিছু অপকারিতা ও আছে। যা আমরা আমাদের এই গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা, গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়া যাবে কি ও গর্ভবতী মায়ের জাম খাওয়ার উপকারিতা পোস্টটিতে আলোচনা করেছি।
আশাকরি আমাদের এই গর্ভকালীন জাম খাওয়ার উপকারিতা, গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়া যাবে কি ও গর্ভবতী মায়ের জাম খাওয়ার উপকারিতা পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং এই পোস্টের মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হবেন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
2 জন কমেন্ট করেছেন ইতোমধ্যে
  • Admin
    Admin ১৭ জুন

    good

  • Admin
    Admin ১৭ জুন

    good

মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url