অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2019/12/signal-boost.html

আপনার স্মার্টফোনের সিগন্যাল বুস্ট করুন - 2G থেকে 4G?

আপনার এলাকায় কি মোবাইলের সিগন্যাল খুব দুর্বল? ঠিকমত টাওয়ার পায় না? মোবাইল ফোনের সিগন্যাল বুস্ট করতে চাচ্ছেন? ধরুন আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কলে আছেন কিংবা ধরুন আপনি আপনার প্রিয়তমা/প্রিয়তমের সাথে প্রেমময় গল্পে মশগুল! এমন সময় বিপ বিপ কলড্রপ হয়ে গেলো! এমনও হতে পারে,আপনি ওইপাশের ব্যক্তির কথা শুনতে পাচ্ছেন, কিন্তু আপনার কথা উনি শুনতেই পাচ্ছেন না!


চন্দ্রজয়ের ৫০ বছর অতিক্রান্ত হলেও আমরা কিন্তু এখনো এই বিরক্তিকর কলড্রপিং থেকে সম্পূর্ণ রূপে বের হয়ে আসতে পারি নি। যদিও বর্তমানে কলড্রপিং এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, কিন্তু এখনো প্রচুর ক্ষেত্রে কল ড্রপিং হতে দেখা যায়! যেমন চলন্ত গাড়ি বা ট্রেনে কল ড্রপিং একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। একইভাবে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কল সিগন্যাল পাওয়া যেন সোনার হরিণ! তাই আজকের পোস্টিতে আমি আপনাদের সাথে সে সকল বিকল্প উপায় শেয়ার করতে যাবো, যার মাধ্যমে আপনি কোন রকম কলড্রপ ছাড়া-ই বা লো-সিগনালেও আপনজনের সাথে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন! তাহলে আসুন- শুরু করি!

কেন ফোন সিগন্যাল লো হয়ে যায়?

আপনারা যারা ১৯৯০ সাল হতে মোটামুটি ২০০৭-০৮ এর মোবাইলের ব্যবহারী, তারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন তখনকার ফোনের সাথে এক একটি ছোটখাটো এন্টেনা লাগানো থাকতো! বর্তমানের ফোনগুলোতে কিন্তু সেই এন্টেনা ব্যবহার করতে হয় না - এর ডিফল্ট বুস্টিং কানেক্টিভিটির কারণে। তাও যানবাহনে যাত্রা পথে আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, যখন এক এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় প্রবেশ করছেন হুট করে আপনার কল ড্রপ হচ্ছে। এর কারণ হলো, আমার মোবাইল সর্বদা নিকটবর্তী টাওয়ারের সাথেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করে, তাই এলাকা বদল করলে টাওয়ার সিগনালও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চেঞ্জ হওয়াতে কলড্রপ হয়। আবার লক্ষ্য করে থাকবেন, ঈদ বা বড় কোন উৎসবের সময় এক জনের কল আরেক জনের কাছে চলে যায় অথবা ফোন করলেও কানেকশন পাওয়া কষ্টের হয়, ভাগ্যক্রমে কানেকশন ঠিক হলেও দেখা যায় কলড্রপ হয়। এর কারণ হলো, ঈদ বা বড় উৎসবগুলোর সময় প্রতিটি টাওয়ারকেই অতিরিক্ত ফোনকলের চাপ সামাল দিতে হয়। মোবাইল টাওয়ার এত কলকে ম্যানেজ করতে হিমশিম খায় এবং ফলশ্রুতিতে এই দুর্গতির সম্মুখিন হতে হয় আমাদের।

পরিত্রাণের উপায়

নিশ্চয় এই সমস্যার সমাধান হিসেবে আমি আপনাদের বলবো না- জানলার পাশে বসে কথা বলুন কিংবা উঁচু জায়গায় বা ছাদে গিয়ে কথা বলুন! আমি আপনাদের কাছে সকল স্মার্ট সলিউশনই হাজির করবো আজ।

১) Wi-fi Calling বা VoIP

উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টত আমরা বুঝতে পারছি, আমাদের মূল সমস্যা হলো মোবাইল টাওয়ারের সমস্যা। এখন আমরা যদি মোবাইল টাওয়ার ব্যবহার না করে অন্যভাবে কল পাস করি তাহলে আমাদের আর চিন্তাই থাকে না। এই কথা চিন্তা করে বিভিন্ন মোবাইল প্রোভাইডার বর্তমানে Wi-fi Calling সিস্টেম এড করছে তাদের মোবাইলগুলোতে। এর মাধ্যমে আপনি iOS বা Android এর মধ্যমে ওয়াই-ফাই সংযোগে কল করতে পারবেন।
বর্তমানে যে সকল মোবাইল ফোনে Wi-fi Calling অপশানটি নেই, তারা বিভিন্ন মোবাইল এপস যেমন- ফেসবুক মেসেঞ্জার, স্কাইপি, ডিউ ইত্যাদি ব্যবহার করেও এই সুবিধা নিতে পারেন।

সুবিধা :

  • এইভাবে কলিং করাকে বলা হয় Voice Over Internet Protocol (VOIP)। আপনার ওয়াইফাই সংযোগ যদি নিরবিচ্ছিন্ন থাকে তবে এই প্রক্রিয়ায় কল ড্রপিং এর কোন সম্ভাবনাই নেই তেমন।
  • উপরন্তু এই প্রক্রিয়ায় আপনি Full HD কোয়ালিটির ভয়েস শুনতে পারবেন।
Note: এই ব্যবস্থায় আপনাকে ওয়াইফাই জোনের ভেতরে থাকতে হবে৷ ওয়াইফাই জোন থেকে বের হলে কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

২) Network Extender ব্যবহার

আপনার মোবাইল যদি পুরাতন মডেলের হয় অর্থাৎ এতে যদি ওয়াই-ফাই ব্যবস্থা না থাকে তবে আপনি একটি ম্যাজিক বাক্স ব্যবহার করতে পারেন যাকে বলে-Femtocell / Microcell / Network Extender। এটি আপনার ফোন কলকে সাধারণ ফোন কলের মতো টাওয়ার থেকে টাওয়ারে পাস করে না। এর মাধ্যমে আপনার ফোন কল প্রথমে টাওয়ারে যাবে এবং সেখান থেকে তা ইন্টারনেট গেটওয়ে দিয়ে অন্য ব্যক্তির নিকট যাবে।

সুবিধা :

  • যেহেতু ফোন কল টাওয়ার টু টাওয়ার পাস হয় না, ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাস হয়, তাই কল ড্রপিং এর সম্ভাবনা নেই।

Note: এই পদ্ধতিতে প্রতি মাসে ডাটা চার্জ হিসেবে একটি বাড়তি অংক গুণতে হয় ব্যবহারকারীকে। তাই আপনার যদি মোবাইলে একান্তই ওয়াইফাই সুবিধা না থাকে, তবেই আপনি এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন। নচেৎ আমাদের পরামর্শ থাকবে আপনি উপরের ১নং সলিউশনটি ফলো করুন।

৩) Signal Booster ব্যবহার করা

আপনি যে এলাকায় থাকেন সেখানে যদি ওয়াইফাই বা মোবাইল ডাটা কোনটির মাধ্যমেই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হওয়া সম্ভব না হয়, তবে শেষ রক্ষাকবচ হিসেবে আছে Signal Booster। এটি আপনার মোবাইল ফোনের সিগনালকে বুস্টিং এর মাধ্যমে বিবর্ধিত করে সবচেয়ে কাছের টাওয়ারে প্রেরণ করে।

Note: এই পদ্ধতিতে এলাকায় অন্তত একটি (কম সিগনাল হলেও) টাওয়ার থাকতে হবে৷ এলাকায় কোনরূপ মোবাইল টাওয়ার না থাকলে এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ সম্ভব নয়!

এতক্ষণের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সব সুবিধাদি পর্যালোচনা করে আপনাদের জন্য আমাদের সুপারিশ থাকবে, ওয়াই-ফাই কলিং বা ভিওআইপি ব্যবহার করার। কারণ এটি একদিকে অর্থসাশ্রয়ী, অপরদিকে এতে বাড়তি ঝক্কি ঝামেলা নেই। আজ এই পর্যন্ত। অনেক অনেক শুভ কামনা।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

সর্বশেষ আপডেটেড অফার পেতে চান?

অর্ডিনারি আইটি কী?